একটি ভেঙে যাওয়া স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে বেঁচে ওঠার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলে এই আবেগঘন কাহিনি। নিয়তির নির্মম আঘাত, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই এবং নীরব অনুভূতির গভীরতা গল্পটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
"আমার প্রিয়তা" গল্পটি লেখিকা সূচনা জাফরিন-এর অনুমতিক্রমে ১০ জুন ২০২৬ তারিখে গল্পের বাহার-এ প্রকাশিত হয়েছে।
📖 গল্প সম্পর্কে
“আমার প্রিয়তা” গল্পটি সুবাহ এবং সাদিকের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি
সামাজিক রোমান্টিক গল্প। বিয়ের দিন হঠাৎ জানা যায়, গুরুতর শারীরিক সমস্যার
কারণে সুবাহ কখনো মা হতে পারবে না। এই ঘটনা তার জীবনকে এক মুহূর্তে বদলে
দেয় এবং তাকে গভীর মানসিক আঘাতের মুখে ঠেলে দেয়। সমাজ ও আত্মীয়স্বজনদের
নানা মন্তব্য তার কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তোলে। শৈশবের চিরশত্রু মনে হওয়া সাদিকই
ধীরে ধীরে তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিনের অপ্রকাশিত
ভালোবাসা, যত্ন এবং ধৈর্যের মাধ্যমে সাদিক সুবাহর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের
সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে বিশ্বাস, সম্মান এবং নিঃস্বার্থ মমতার উপর। গল্পে দেখা
যায়, সন্তানহীনতা কোনো মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুবাহ
নিজের জীবনকে নতুনভাবে গ্রহণ করতে শেখে এবং ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি
করে। শেষ পর্যন্ত এটি এমন এক গল্প, যেখানে ভালোবাসা রক্তের সম্পর্ক বা প্রাপ্তির
মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একে অপরকে পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার মধ্যেই তার
প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।
✍️ লেখক পরিচিতি
সমকালীন বাংলা গল্পসাহিত্যের পরিচিত মুখ লেখিকা সূচনা জাফরিন প্রেম,
বিচ্ছেদ, সমাজ এবং মানবিক অনুভূতির গল্প রচনায় নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য গড়ে
তুলেছেন। তাঁর গল্পে ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, বরং বিশ্বাস, ধৈর্য এবং
আত্মমর্যাদার এক গভীর প্রকাশ। মানুষের জীবনের বাস্তব সংগ্রাম এবং
হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তুলে ধরেন। তাঁর
নারী চরিত্রগুলো সাধারণত দৃঢ়চেতা, আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন এবং জীবনের
প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। অন্যদিকে পুরুষ চরিত্রগুলোর মধ্যে
দায়িত্ববোধ, মমতা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। সামাজিক
বাস্তবতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্বপ্ন তাঁর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ
অনুষঙ্গ। রহস্য, আবেগ এবং মানবিকতার সুন্দর সমন্বয় তাঁর কাহিনিগুলোকে
আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। সহজ ভাষা ও হৃদয়ছোঁয়া বর্ণনাভঙ্গি তাঁর
লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি গল্পে নতুন আবহ ও ভিন্ন অনুভূতির ছোঁয়া
এনে তিনি পাঠকের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। ভালোবাসা, সংগ্রাম
এবং জীবনের নানা রঙে গড়ে উঠেছে লেখিকা সূচনা জাফরিনের স্বতন্ত্র গল্পভুবন।
📝 সম্পাদকীয় মন্তব্য
“আমার প্রিয়তা” সূচনা জাফরিনের লেখা একটি ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক ও রোমান্টিক উপন্যাস।
গল্পটিতে ভালোবাসার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা, ধৈর্য এবং আত্মত্যাগের মতো
মানবিক মূল্যবোধ। লেখিকা অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে একজন নারীর মাতৃত্বহীনতার বেদনা এবং
সমাজের নির্মম দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। সুবাহ চরিত্রের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, জীবনের
সবচেয়ে বড় ক্ষত নিয়েও মানুষ সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে। অন্যদিকে সাদিক চরিত্রটি নিঃস্বার্থ
ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক। গল্পে সমাজের প্রচলিত ধারণা ও
মানুষের কৌতূহলী আচরণের সমালোচনাও রয়েছে। লেখিকা দেখিয়েছেন, সত্যিকারের ভালোবাসা
শুধু প্রাপ্তিতে নয়, বরং পাশে থাকার মধ্যেও প্রকাশ পায়। ধর্মীয় বিশ্বাস, ধৈর্য এবং আল্লাহর উপর
ভরসা গল্পটির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আবেগঘন ঘটনাগুলোর পাশাপাশি গল্পে পরিবার ও আত্মীয়তার
উষ্ণ সম্পর্কও সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সব মিলিয়ে “আমার প্রিয়তা” ভালোবাসা, ত্যাগ এবং
মানসিক শক্তির এক হৃদয়স্পর্শী উপাখ্যান।