আমার প্রিয়তা

পর্ব - ২৪

🟢

""মানলাম আমি অজানা তোমার কাছে। তুমিও অজানা আমার কাছে।

সবকিছু খুলে বলো,হাতটা ধরে পাশে চলো।আমার সাথে তাল মিলাও।""

---হাই আল্লাহ এটা কি সাদিক এর ডায়েরী নাকি কোনো কবির??নিজেই কনফিউজড হয়ে গেলাম।

এই সিরিয়াস মুহূর্তেও ছেলেটার উদ্ভট কাজ কর্ম গুলো আমাকে হাসাচ্ছে।

আরও পড়তে ইচ্ছে হলো।

"মনটা খুব খারাপ না পাওয়ায় রয়ে গেলে তুমি হয়তো আর কখনো দেখা হলো না আমাদের,তাতে কি আমি একটা ভাল মানুষের আত্মা কে খুঁজেছি এতদিন।সব ভাল লাগায় ভালবাসা হবে এমন তো কথা নেই।"

----আবার অবাক হলাম।কেন যেন মনে হচ্ছে ও অপরিচিত কোন স্বত্তার কথা বলছে।

কিন্তু কার সাথে ওর আর দেখা হয়নি।

বেশ কিছুদিন পরের তারিখে আবার লিখেছে।

""তুমি যাকে ভালবাসো, তার সাথেই তোমার হাশর হবে।(বুখারী-৬১৭১)"

একটু চমকে উঠলাম এটা তো আমার পছন্দের একটা আয়াত।আবার পাতায় নজর দিলাম নিচে লিখা আছে,,,

"তুমি জীবনের মানে টাই বদলে দিলে, কি ভেবে ছিলাম আমি আর কি পেয়ে গেলাম।"এ কী হলো প্রিয়তা খুব হাসি পাচ্ছে নিজের উপর।

অবাক তো অনেক হয়েছি আর তোমার প্রত্যেকটা পবিত্র বাণী নিজের মনে গেঁথেছি।

তবে ভয় পেওনা বাকি দশজন প্রেমিকদের মত লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার সৌন্দর্য দেখব না। থাক না তোমার পবিত্রতা তোমারই মাঝে কারণ আমি রুপে নয় তোমার সুন্দর আত্মায় প্রভাবিত।

----অবাক হলাম সাদিকের কথায়, সব উলটা পাল্টা লাগছে ওর ডায়েরী দেখে এতটুকু বুঝতে পারলাম ও নিয়মিত লিখেনা এবং ডিটেইলস ও কিছু লিখেনি হয়তো কেউ বুঝতে না পারার জন্য।

এরপর দেখলাম আমার গত বিয়েটার তারিখ দেওয়া।

"বড্ড দেরি হয়ে গেল তোমাকে চিনতে কিছু বোঝার আগেই তুমি অন্য কারো,,,,,থাক ভাল থেকো।

----আবার পাতা উল্টালাম

"""প্লিজ দুঃখ পেয়ো না সব ঠিক হয়ে যাবে,দেখো না কেমন অবস্থায় আছি চাইলেও বলতে পারছিনা " কেঁদোনা এই যে আমি"

----এবার বুঝতে পারছি ও আমার কথায় বলছে।

"এটা আমি কি করে ফেললাম তোমাকে প্রিয়তা ডেকেই ফেললাম।বিশ্বাস করো তোমার থেকে কোন দাবি নেই আমার কিচ্ছু চাই না শুধু আমার মাধ্যমে যদি একটুখানি শান্তি পাও তুমি সেটাই আমার সার্থকতা । ""

কোথাও পড়েছিলাম

"পৃথিবীর বিলাস থেকে সাবধানে থেকো,পৃথিবীর এই বিলাশ চাকচিক্য আল্লাহর কাছে নোংরা বস্তুর শামিল।(ইবনুল মোবারক )।"

হয়তো সেই কারণেই নিজেকে রোমান্টিক ভাবে কারো সামনে প্রকাশ করতে পারিনা।নিজের বিলাসিতা জাহির করতে পারিনা।

----হ্যা এটা ঠিক লিখেছে ও সত্যিই এমন কিছু করে না।আবার মন দিলাম অন্য পাতায়।

"অনেকদিন পর তোমাকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতে পারছি ভাবতে ভাল লাগছে রোজ দেখা হয় জানতামনা উপরওয়ালা এটাও লিখেছে।আচ্ছা আমি কিন্তু শুধু একবার দেখেছিলাম তোমাকে যখন তুমি জানালার বাইরে কি যেন দেখছিলে কিন্তু তুমি কিভাবে বুঝলে?

মিটমিট করে হেসেছি আমি ভাগ্যিস তুমি দেখতে পাওনি।

বিজ্ঞাপন

----আমার মনে যেন হাল্কা বাতাসের আনাগোনা পেলাম ওর লিখা টা পড়ে।

এরপর একটা একটা পাতা পড়ে যাচ্ছিলাম।

""দূরে যাচ্ছি মিস করব খুব কিন্তু তোমাকে তো করতে দিব না।তাই ছোট্ট একটা গিফ্ট এনেছি।""

----মিঃ বাঁদর। পাগল একটা।মনেমনেই হাসলাম আমি।

""তুমি দু বছর পর আজ হঠাৎ মেসেজের রিপ্লাই দিলে।আমি কি এতটুকু ও বুঝিনা যে তুমি আজ ভীষণ কষ্ট পেয়েছ?

নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না এ কি করলাম আমি? সোজা তোমার সামনে চলে গেলাম?তোয়াক্কা করিনা কোন কিছুর আচ্ছা কেন এতো কাঁদছিলে বলো তো। নিজেই তোমার কাছে ধরা খেয়ে গেলাম তবে ওটা আমাকে ভাবাইনি ইচ্ছে করছিল তোমাকে টেনে ধরে বলি"এই মেয়ে চুপ একদম জানো না আমি কান্না সহ্য করতে পারিনা।""

----আমি অবাক হয়ে গেলাম। কাঁদলে ও কেউ বকা দেয়?

"""এত আরচোখে কেন দেখো আমাকে?লজ্জা নেই?আর সবসময় আমাকেই কেন রাঙাবে? এখন তো সাদা কাপড় পড়তেই ভয় লাগে।

----আমি হকচকিয়ে গেলাম তারপর লজ্জা পেলাম, আই হাই ও কিভাবে জানে?

ঢং করলে যে রং ও খেতে হয় জানোনা,হাহাহাহা।

"""কাউকে হারিয়ে ফিরে পাওয়ার আনন্দটা যত তার চাইতেও দ্বিগুন কষ্ট চোখের সামনে তাকে আবার দূরে যেতে দেখা।তুমি কি খুব খুশি?মিষ্টি এনে কষ্ট না দিলেও পারতে।

থাক দিলে দাও তোমার ই তো আমি, যা দিবে তাই নিব।"

----আমি একবার লিখাটার উপর হাত বুলালাম বুঝেছি এটা কোনদিনের কথা।

""

যখন আপনার কোনো স্বপ্ন ভঙ্গ হয়, আল্লাহ আপনার জন্য আরও সুন্দর একটা স্বপ্ন রচনা করেন; যখন আপনার অন্তরে কোনো স্মৃতি নিভু নিভু হয়ে আসে তখনই আল্লাহ অসাধারণ এক স্মৃতি নিয়ে আসেন!

হতাশ হবেন না। সবসময় ভরসা রাখুন আল্লাহর উপর।

আমি যে অপেক্ষায় আছি সেই দিনের।"

----পরের পাতায় আবার লিখেছে,,,

""এড়িয়ে যাচ্ছো?জানি সামনেও আসতে চাও না তারপর ও পড়ে যাচ্ছো, কিছুতেই তোমার অস্বস্তি হোক চাইনা আমি।""

---আমি ঠোট উল্টিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।এমন কেন তুমি?এত শীতল।

""আজ অশ্রু ধরে রাখতে পারিনি,ভাগ্যিস তুমি দেখো নি, তোমার চলে যাওয়া কেন যেন সহ্য করতে পারছিনা।সামান্য রিক্সায় তুলে বিদায় দিতেই আমার এই অবস্থা। কিভাবে থাকব আমি,,,,"

-----আমার বুকটা কাঁপছে আমি যে দেখে ফেলেছিলাম ওর অশ্রু।

ও জানে না।এতকিছু জেনে গেলাম আজ তারপরও যে কত প্রশ্ন বাকি থেকে গেল যার উত্তর কেবল সাদিকই দিতে পারবে কিন্তু জানিনা কখনো উত্তর গুলো পাওয়া হবে কিনা।

আমার চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু ঝড়ছে,ডায়েরী টা বুকে জড়িয়ে কতক্ষণ কাঁদলাম।

চোখের পানি মুছে আবার পড়তে নিলাম।

তারিখ টা ভাইয়ার আক্দ এর

""বুঝলাম কল্পনায় যেতে কোন সময় লাগেনা তাই বলে গাড়িতেই? আমাকে নিয়ে ভাবতেই পারো তবে বিয়ে অব্দি গেলে কেন?হাহাহা,,,,,,""

----এটা কি হলো? সাদিক কিভাবে জানলো ওকে নিয়ে এসব,,,,,

জিবে কামড় দিয়ে দিলাম সর্বনাশ।

বিজ্ঞাপন
আমার প্রিয়তা গল্পটি সূচনা জাফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও জাগরনী গল্প