আমার প্রিয়তা

পর্ব - ১৯

🟢

ফুফির সাথে পাকঘরে এসে দাঁড়িয়ে আছি উনি আমাকে কিছু করতে দিচ্ছেন না।

তাই বললাম অন্তত টেবিল সাজিয়ে দেই।

এবার রাজি হলো।

ফুফি দেখলাম শুধু ভর্তা না মাছ,মাংস,সবজি,চিংড়ি সব করেছে।ফুফি আগে থেকেই দিলদার ব্যক্তি জানা ছিল কিন্তু আমার জন্য এতকিছু করলেন অবাক হচ্ছি।আমি আর ফুফি কথা বলছিলাম কিন্তু কেউ আমাদের লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে সেটা আমি বুঝতে না পারলেও ফুফি বুঝতে পেরেছে,,,,

ফুফি বলে উঠলো

----কি ব্যাপার আর্জেন্ট সাহেব? আপনি সিঁড়ি থেকে উঁকিঝুঁকি না করে এখানেই এসে দাঁড়াতে পারেন।

সাদিক এর আওয়াজ শোনা গেল

----মা আমি তো দেখছিলাম তুমি মনে হয় আজ অনেক রান্না করেছ??

আমি অবাক হলাম ফুফি পেছনে না তাকিয়েই সাদিকের সাথে কথা বলল,,,,,

তার মানে সাদিক সত্যিই উঁকি দিচ্ছিল।আমি হাসলাম মুখ টিপে।

টেবিলে খাবার দিচ্ছিলাম ডাইনিং এর সামনে ও এসে দঁড়িয়েছে আর আমাকে মুড নিয়ে দেখছে একটু একটু।

তারপর ফুফা, সাবিল,সাদিক আর সাহের ও এসেছে ও আমার বয়সের কাছাকাছি আর সাবিল ইফাদের।সবার সাথে হালকা পাতলা কথা বলে খেতে বসলাম। আমি একেবারে গুটিশুটি মেরে বসেছি ওড়না কে পেঁচিয়ে হিজাবের মত পড়ে কারণ ফুফির ঘরে সব ছেলে কেমন যেন লজ্জা লাগছে আমি চেয়েছিলাম আগে ছেলেরা খেয়ে নিলে আমি ফুফির সাথে পরে খেয়ে নিব কিন্তু ফুফি জোর করে এখনই খেতে বসালেন।আমার অনেক আনইজি লাগছিল কিন্তু খাবারের সময় কেউ কথা বলল না চুপচাপ খাচ্ছে সবাই।এক আধবার সাদিকের সাথে চোখাচোখি হল বদজাত টা আমার সামনেই বসেছে ওর একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম খেতে খেতে সবার দিকে চোখ বুলিয়ে মিটমিট করে হাসছে মনে হল যেন ওর এই পরিবেশ টা খুব ভাল লাগছে।

ফুফির সাথে সব গুছিয়ে দিয়ে আমি বললাম

----ফুফি এত কিছু করার দরকার ছিল না সামান্য করলেই হতো।

আজ আপনি আমাকে খুব সুন্দর কিছু কথা উপহার দিয়েছেন যেটা আমি আজীবন মনে রাখব আর হ্যা আমিও আপনাকে কিছু বলতে চাই।

ফুফি হাসি মুখে বলল কি??

---নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত (সূরা আছর-২)

কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পর কে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।(আছর-৩)

ফুফি আমার দিকে আশ্চর্য হয়ে তাকালেন।আমি বললাম এটা আপনার রিটার্ন গিফ্ট।

এরপরেই ঘরে চলে এলাম।

মা বলল

----তোর ফুফি তো অনেক রান্না করেছে দেখি।

----তোমাদের কে যা দিয়েছে তার চাইতে ও বেশি খাবার করেছে।

---তাই নাকি?

---হুম।

----জোহরা সবসময় এরকম করে ওর স্বামী ও ভাল পেয়েছে।

----কেন মা তোমার স্বামী ভাল না??

বাবা হুট করেই এসে বললেন

----সারাজীবন করে গেলেও তোর মা বলবে অমুক এর জামায় বেশি ভাল।এটা বলেই বাবা নিজের রুমে চলে গেলেন।

আমি আর মা একে অপরের দিকে তাকিয়ে পেট ফাটা হাসি দিলাম।

একা একা ভাল লাগছে না আজ লুবনা ও চলে গেছে।

::::::::::::::::::

পরেরদিন ভার্সিটি থেকে ফিরে এলাম দিপ্তি ভাবি কে কল করে কিচ্ছুক্ষণ কথা বললাম। মনটা কেমন যেন ভাল নেই।

মা বললেন এহতেশাম ফোন করেছিলেন,উনি নাকি সামনের সপ্তাহে ফিরবেন আমি বললাম উনি তো তিন মাস থাকবেন বলেছিলেন এত তাড়াতাড়ি কেন আসবেন।

মা বলল

---- আমার তো সময় কাটছেনা উনি এখনও ফিরছেনা দেখে আর তোর কিনা তাড়াতাড়ি মনে হচ্ছে?

বিয়েটা সেরে গেলেই ভাল হতো।

----মা,,!!! তোমার এত তাড়া কেন আমাকে ভাগানোর??

----তুই বুঝবিনা।

-----হ্যা সেটাই এত জ্ঞানি হয়ার ইচ্ছা আমার নেই।তুমি মাঝেমধ্যে তোমার থেকে এক আধটু বণ্টন করলেই হবে।

আসলে জানি আমার বিয়ের পর আবার ভাইয়ার ও বউ ঘরে তুলতে হবে তাই মায়ের এত তাড়া,,,,

গুনে দেখলাম আড়াই মাস তো হয়েই গেছে চোখের পলকে,,,,দিন যে কিভাবে যাচ্ছে খেয়াল ই নেই।ইফাদের ও টেস্ট পরীক্ষা শেষের দিকে।

সন্ধ্যায় দেখি এলিজা আপু এসেছে বাচ্চাদের নিয়ে সেই এক গাদা নাস্তা আর মিষ্টির বক্স দেখছি ঘরে।

বিজ্ঞাপন

আমি বাচ্চাদের দেখে খুশি হলাম বাবু গুলো খুব কিউট।

ওদের নাম জিজ্ঞেস করলাম মেয়ে বাবু টা কে কোলে নিয়ে।

এলিজা বলল

----মেয়ের নাম তাইনুম আর ছেলের তাবিন।

----বাহ সুন্দর নাম।

এলিজা বলল ওদের মায়ের নাম তারিন ছিল।

শুনে খুব দুঃখ লাগলো এত সুন্দর বাচ্চাগুলো রেখে সে কিভাবে থাকছে পর পারে।

আল্লাহ নিশ্চয় এর উত্তম প্রতিদান দিবে তাকে।

মা উনাদের নাস্তা দিলেন আর আমি বাচ্চাদের নিয়ে উপরে গেলাম ভাইয়ার রুমে ভাইয়া দেখি ফোনে কথা বলছে।

আমি বললাম

----বাহ প্রেমের লাইসেন্স পেয়ে গেছো না???

বেবিদের বিছানার উপর বসিয়ে দিলাম ভাইয়া ও ফোন রেখে ওদের আদর করছেন।

ভাইয়া আর আমি একটু পর রুম থেকে বের হয়ে বারান্দায় দাঁড়ালাম দুজনের কোলেই বাচ্চা।

ভাইয়া বলল

----বাচ্চারা মন ভাল করে দেই তাইনা?

---হুম।

ইফাদ রুম থেকে বের হয়ে বলল,,

---আমাকে একটু দাও না আপু।

---আচ্ছা নে।তবে পাঁচ মিনিট শুধু তোর পড়া ফেলে এসেছিস কিন্তু।

বাচ্চা গুলো ও খুব মিশুক কান্না করছেনা ফর্সা নাদুসনুদুস মিষ্টি দেখতে একেবারে।

ভাইয়া আমার মাথায় হাত রেখে বলল,,,

----ওদের তুই ভালবাসবি আর ওরা তোকে।

---হুম। মাথা নেড়ে জবাব দিলাম।

---আর ডাক্তার সাহেব তো আছেই।

কথাটা শুনে কেন যেন খুশি হতে পারলাম না আমার কোলে থাকা তাবিন এর হাত ধরে খেলছিলাম কিন্তু মনে একটা খারাপ লাগা ছুঁয়ে গেল।মুখটা ছোট হয়ে গেল আমার।

ভাইয়া বলল

----দোয়া করি তুই খুব সুখে থাক কিন্তু যে কোন কিছু আমাকে বলবি নিজেকে দূর্বল ভাবার কোন দরকার নেই।

----না ভাইয়া এটাই ভাল হবে সবার জন্য।এটাই ঠিক,,,,,অন্যমনষ্ক হয়ে বললাম এটাই এখন আমার ভবিষ্যৎ আর কোন মরিচীকা নয়।

ভাইয়া বলল আমি নিচে গিয়ে দেখা করে আসি,,,,,

ওদের কে কি নিয়ে যাব?

----না ভাইয়া আমি পারব।

---ঠিকাছে।

ইফাদ আমার কোলে তাইমুন কে দিয়ে রুমে চলে গেল।আমি বাচ্চা দুটো কে কোলে নিয়ে সামলাচ্ছিলাম পেছন ফিরে মাথা তুলতেই দেখি ইফাদের ঘরের আধখোলা দরজার ভেতরে বসা সাদিক আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমার কোলে বাচ্চাগুলো খেলছে আর আমার দৃষ্টি সাদিক এর দিকে।

ও টেবিলের উপর হাত রেখে এদিকে তাকিয়ে আছে চোখে মুখে একটা করুণ ভাব ফুঁটে উঠেছে বুঝলাম এতক্ষণ আমাদের বলা কথা গুলো শুনেছে।

আমার ও একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।

কোথা থেকে যেন একটা দুঃখের সুর ভেসে উঠলো।

নিচে চলে এলাম এলিজা আপু কিছুক্ষণ কথা বলে চলে গেলেন।যেতে যেতে বললেন বিয়ের প্রস্তুতি নিতে।

রাতে শুয়ে শুয়ে সব মেসেজ গুলো দেখতে থাকলাম

আমি বললাম,,

---আমি সত্যিই জানিনা তুমি আমাকে কেন প্রিয়তা বলে ভাবো,আমি তোমার যোগ্য নই। আমার ইচ্ছে করে তোমার থেকে সব জিজ্ঞেস করি কিন্তু জেনেশুনে অভয় দিতে পারব না তোমাকে। তোমাদের ঘরে ফুফির সাথে আমাকে অবাক হয়ে কেন দেখছিলে কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছি আমি।

পরেরদিন একেবারে ভোরে আমি নামাজ পড়ে উপরে উঠলাম এসময় কেউ নেই জনশূন্য কিছু কিছু মুসল্লি দেখছি,,,,

রাস্তায় হঠাৎ সাদিক কেউ দেখতে পেলাম নামাজ পড়ে আসছে ও মাথা তুলতেই আমি পিলারের সাথে লুকিয়ে বসে পড়লাম। কিছু সময় পর উঠে চলে এলাম নিচে।

আমি ওর সামনে আর পরতে চাইনা।

আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড।

সব ভুলে যাব এখন শুধু বিয়েতে মনোযোগ দিব।

বিজ্ঞাপন
আমার প্রিয়তা গল্পটি সূচনা জাফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও জাগরনী গল্প