আমার প্রিয়তা

পর্ব - ২০

🟢

আজ মাথাটা একেবারেই খারাপ সকাল থেকেই উল্টা পালটা কাজ করছি,,,,,

একটু আগে বিকালের নাস্তা বানাতে গিয়ে কি যে ভুল করলাম মিষ্টি পুয়ার গুলানো ব্যাটার এ নারিকেল কুচির বদল পেয়াজ কুচি দিয়ে দিয়েছে পুয়া ও বানিয়ে ফেলেছি শুধু তাই ই না বাবার জন্য চা করতে গিয়েছিলাম চা পাতার পানিতেই ভুলে দুধ পাওডার দিয়ে ফেলেছি পাশে রাখা মগ এ না দিয়ে।এরপর মা এসে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করলেন।

----কোন জাতের মেয়েরে তুই আজকে কি ভীনগ্রহ থেকে নেমেছিস??

যা এখান থেকে,,,,

হতবাক তো আমিও হয়েছি কি করছি এসব আমি? ভার্সিটি ও যাই নি আজ ভাল লাগছেনা।

ঘটনার সূত্রপাত হলো যখন জানতে পারলাম এহতেশাম দেশে ফিরেছেন গতকাল রাতে। আজ সকালেই বাবা কে জানিয়েছেন পাঁচদিন পর আমাদের কাবিন করা হবে যেহেতু আগে থেকেই সব ঠিকাছে আর সময়ের প্রয়োজন নেই।

গত সাতদিন যে আমার কি করে কেটেছে শুধু আমিই জানি,,,,,

আমার মনে প্রাণে চেষ্টা ছিল যেন কোনভাবেই সাদিক এর সামনে না পরি কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস ও আমার সামনে আরও বেশিই পরেছে।সেদিন ফজরের সময় দেখেছিলাম এরপরে আরও একবার দেখেছি বাড়ির উঠানে বের হয়ে।আমি মনমরা হয়ে কখনো বারান্দায় কখনো ঘরের দুয়ারে বসে দিন কাটিয়েছি কেন যেন খুব কষ্ট হচ্ছিল কাউকে বলার ও কিছু নেই।

আমি খালি ভাবছি সাদিক তো আমাকে কখনওই কিছু বলেনি যে ও আমাকে পছন্দ করে, এমন কি এটা ও তো স্বীকার করেনি যে ও ই আমাকে মেসেজ পাঠাতো তাহলে আমি কেন,,,! কেন এত জ্বলেপুড়ে মরছি?

নাকি আমিই বেশি ভাবছি। যত যাই হোক তবে ওর আর আমার সম্পর্ক টা এখন আর আগের মত নেই ওটা ওকে দেখলেই বোঝা যায়। আর এখনের যে সম্পর্ক টা আমাদের মধ্যে রয়েছে তার নাম ও আমার জানা হয়ে গেছে।

কিছুদিন আগে থেকেই আমি উপরে খুব কম উঠার চেষ্টা করি সাদিক আসার সময় হলে তো একেবারেই না কিন্তু সেদিন ভাইয়া আমাকে ডেকেছিল তাই গিয়েছি আর আসার সময় শুকনো কাপড় গুলো নামিয়ে হাতে নিলাম বৃষ্টি আসবে দেখেই তাড়াতাড়ি নামছিলাম সিঁড়ির মাঝখানেই সাদিক এর দেখা পেলাম কিন্তু কি এক বিব্রতিকর অবস্থা আমি ডানে গেলে ও ডানে বামে আসলাম তাও একই কান্ড দুই তিনবার এমনটা হওয়ার পর আমার মনে হলো ও আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু আমার অস্বস্তি দেখে আর বলল না একসময় বৃষ্টি যখন শুরু হলো আমি ওকে থামিয়ে দৌড়ে নেমে গেলাম।

নিচে নেমে হাঁপাতে লাগলাম তখন এর ব্যাপার টা বার বার পুনরাবৃত্তি হচ্ছিল আর এরপর থেকেই বুঝতে পারছি, আমাদের বর্তমান সম্পর্কটা কষ্টের এক কথায় বললে বিরহের।

আগে জানতাম না এমনও কোন সম্পর্ক থাকে।তবে অনেকেই জানে এই সম্পর্কের ও একটা আলাদা মজা আছে যার নাম

।।কষ্টের সম্পর্ক।।

আমি যখন আমার রব কে বলি,,,,

কেন এত কষ্ট হয় মনে?

তখন আল্লাহতালা ই তো বলেন

""ইন্না মা 'আল 'উছরি ইউছরা"

নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্থি আছে(সূরা-আল ইনশিরাহ-৬)""

আজ শনিবার সাদিক এই দিনে আসেনা তাই রাতে ইফাদের ঘরে গেলাম ও দেখি খুব রেগে আছে আমি টেবিলে বসে একটা বই হাতে নিয়ে বললাম

----কি রে ইফাদ কি হলো??এত মুড অফ কেন?

----ভাল লাগছেনা খেলায় একটা টিমের সাথে ঝামেলা হয়েছে।

---তো?

---ওদের তথ্য বের করতে হবে তারপর জব্দ করা যাবে।

----ইফাদ

"গোপন তথ্য অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না।(বাকারা-২৮৩)।

বিজ্ঞাপন

---কিন্তু আপু ওরা যে আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে? শত্রুতা করে আমাদের মার খাইয়েছে??

----ওরা খারাপ করেছে বলে তোমরাও খারাপ করবে?মনে রেখ ভাল দিয়েই খারাপ কে জয় করা যায়।

""পৃথিবীতে বিবাদ -বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না।(বাকারা-৬০)""

ইফাদ মুখখানা ঝুলিয়ে বলল,,,

---ঠিকাছে করব না।

----গুড বয়।

আমি রুমে গিয়ে লাইট অফ করে শুয়ে পড়লাম আবার হুট করে মাথায় একটা চিন্তা আসতেই মোবাইল টা হাতে নিয়ে ফেবু তে ঢুকে ডক্টর এহতেশাম কে খুঁজে বের করলাম।আমি ঐ দিন উনাকে ভাল করে দেখিইনি বরং আমার তো উনার সাথে কথা বলারই ইচ্ছা ছিল না ওটা তো সাদিকের জেদে,,,,,,,

আর মাত্র চার টা দিন আছে হাতে তারপর,,,তারপর কি হবে?

আমি কি আর কখনো সাদিক কে নিয়ে ভাবতে পারব?ও কি আর আমার সামনে আসবে?আর আমি,,, আমি কি করে সারাজীবন

উফ "সারাজীবন "শব্দ টা ভাবতেই তো ভয় লাগছে। আজীবন আমি ডাক্তার সাহেবের সাথে বিবাহ বন্ধনে বেঁধে যাব।

চোখের পানি ছলছল করছে এক গভীর কষ্টে, আমি যেন ভাবতেই পারছিনা বিয়ের কথা বুক টা ফেটে যাচ্ছে।

:::::''''''''''':::::::::

পরেরদিন সকালে ভার্সিটি থেকে এলাম তিন মাস পর পর পরীক্ষা খালি, মাথাটায় খারাপ হয়।লাইফের ১২ টা বেজে যাচ্ছে আর এইখানে পরীক্ষার রুটিন কি এক অশান্তি।

বাসায় এসে বোরকা খুলছিলাম এমন সময় দেখি বাবা ঘরে ঢুকলেন একটু চিন্তিত দেখাচ্ছে কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছে সকালেও নাস্তার সময় পাইনি, যে ই হাতে ভাতের প্লেট নিয়ে পাকঘর থেকে টেবিলের দিকে গেলাম,,,,

ইফাদ ঘরে ঢুকলো তাড়াহুড়ো করে।

আমি দেখে ভাবলাম আবার কার সাথে কি করে এলো।

আস্তে করে বললাম

----কিরে কি হয়েছে??

---আপু,,,,,

ও ঢোক গিলে আবার বলল

----আপু,, সাদিক ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হয়েছে গুরুতর অবস্থা।

সবাই বলছে বাইকের সাথে বাস এর ধাক্কা লেগেছে, খুব ব্যথা পেয়েছে এখনো জানেনা কেউ কি হতে পারে ওর।

মুহূর্তেই আমার হাত থেকে ভাত এর প্লেট টা পড়ে গিয়ে ঠনঠন শব্দে চারিদিকে ভাতের দানা আর মুরগীর মাংস ছিটিয়ে একাকার হয়ে গেল।

ইফাদ বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেল,,,,,,ও অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন
আমার প্রিয়তা গল্পটি সূচনা জাফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও জাগরনী গল্প