অন্ধকারাচ্ছন্ন এক প্রাসাদোপম বাড়িতে ধনী পিতার রহস্যময় মৃত্যু এবং লুকানো উইলের জটিল ধাঁধা ঘিরে এক পরিবারের গোপন কলহ, লোভ ও প্রতিশোধের কাহিনী উন্মোচিত হয়। প্রাইভেট ডিটেকটিভের তীক্ষ্ণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মানুষের অন্ধকারময় চরিত্র ও পারিবারিক সম্পর্কের গভীর জটিলতা।
সেই তমসায়-“গল্পটি লেখিকা নুসরাত জাহান লিজা -এর অনুমতিক্রমে ১৪ মে, ২০২৬ তারিখে গল্পের বাহার প্লাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে।”
📖 গল্প সম্পর্কে
“সেই তমসায়” শুরু হয় এহতেশাম আহমেদের রহস্যময় মৃত্যুকে ঘিরে। মৃত্যুর আগে তিনি একটি অদ্ভুত উইল তৈরি করে যান, যার প্রকৃত উত্তরাধিকার পেতে হলে খুঁজে বের করতে হবে আরেকটি গোপন দলিল। এই রহস্য সমাধানের দায়িত্ব এসে পড়ে সত্যসন্ধানী ময়ূখ এহসানের উপর। বিশাল প্রাসাদোপম বাড়িতে প্রবেশ করেই সে বুঝতে পারে, এখানে প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক যতটা স্বাভাবিক দেখায়, বাস্তবে ততটা নয়। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসে পুরোনো ক্ষোভ, প্রতিশোধ এবং সম্পত্তিকে ঘিরে জটিল দ্বন্দ্ব। একাধিক ব্যক্তি সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে এবং প্রতিটি নতুন সূত্র রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে। ময়ূখ ধীরে ধীরে ঘটনাগুলোর পেছনের সত্য খুঁজে বের করতে থাকে। একই সঙ্গে সে বুঝতে পারে, এই পরিবারের সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু একটি খুন নয়, বরং বহু বছরের জমে থাকা অন্ধকার। শেষ পর্যন্ত গল্পটি এমন এক সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যেখানে মানুষের লোভ এবং বিবেকের সংঘাতই সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে ওঠে।
✍️ লেখক পরিচিতি
নুসরাত জাহান লিজা মূলত রোমান্টিক, পারিবারিক এবং মানবিক সম্পর্কভিত্তিক গল্প লেখার জন্য পরিচিত একজন প্রতিভাবান লেখিকা। তাঁর গল্পগুলোতে ভালোবাসার কোমলতা, অভিমানের গভীরতা এবং জীবনের বাস্তব সংগ্রাম একসঙ্গে মিশে থাকে। মানুষের মনের গোপন অনুভূতি, সম্পর্কের উত্থান-পতন এবং না-বলা কথাগুলোকে তিনি সাবলীলভাবে গল্পে রূপ দেন। পারিবারিক বন্ধন, দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন এবং আত্মত্যাগের মতো বিষয় তাঁর লেখায় বারবার ফিরে আসে। একই সঙ্গে রহস্য, অতীতের ছায়া এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনাপ্রবাহও তাঁর গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। চরিত্রগুলোর আবেগকে বাস্তবধর্মীভাবে উপস্থাপন করার কারণে পাঠক সহজেই তাদের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করতে পারেন। তাঁর ভাষা সহজ হলেও অনুভূতির প্রকাশ গভীর ও প্রভাবশালী। বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া নানা অভিজ্ঞতা তাঁর কাহিনিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। আবেগ, সম্পর্ক এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে তিনি নিজস্ব একটি সাহিত্যধারা তৈরি করেছেন। তাঁর গল্পগুলো পাঠকদের আনন্দ, কষ্ট এবং ভালোবাসার নানা অনুভূতির মধ্য দিয়ে এক অনন্য যাত্রায় নিয়ে যায়।
📝 সম্পাদকীয় মন্তব্য
“সেই তমসায়” নুসরাত জাহান লিজার লেখা একটি রহস্যঘন পারিবারিক থ্রিলার উপন্যাস। গল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক ধনী পরিবারের কর্তার রহস্যময় মৃত্যু এবং একটি লুকানো উইলের ধাঁধা। লেখিকা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রহস্য, মনস্তত্ত্ব এবং পারিবারিক নাটককে একই সূত্রে গেঁথেছেন। ময়ূখ এহসান চরিত্রটি কাহিনির অন্যতম শক্তি, যার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রতিটি চরিত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা উদ্দেশ্য এবং দ্বন্দ্ব পাঠককে বারবার নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি করে। গল্পে শুধু খুনের তদন্ত নয়, মানুষের লোভ, ক্ষোভ এবং প্রতিশোধস্পৃহাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লেখিকা দেখিয়েছেন, পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালেও অনেক অন্ধকার সত্য লুকিয়ে থাকতে পারে। রহস্যের পাশাপাশি মানবিক আবেগ এবং চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থাও সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। কাহিনির মোড়গুলো ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়ায় পাঠকের আগ্রহ শেষ পর্যন্ত অটুট থাকে। সব মিলিয়ে এটি রহস্য, মনস্তত্ত্ব এবং পারিবারিক সংঘাতের এক আকর্ষণীয় উপন্যাস।