ওর চোখ দেখে ভয় পেলাম,,,,,,
এভাবে তাকিয়ে আছে কেন?এটা ভাবতেই ও হাত তুলে দাঁতে দাঁত চেপে বলল
---এক থাপ্পড় দিবো।
আমি কুঁচকে গেলাম, এ কী ও আমাকে মারতে চাইছে কেন?নিচে তাকিয়ে আছি আমি, এতো দেখি আমার কল্পনা কেও হার মানাবে।
ও আবার বলল,,,
---ডাক্তার সাহেব কে বিয়ে করতে পারলেনা না?আহারে খুব শখ ছিল ডাক্তারের বউ হবে তাই না?
আমি ওর দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললাম
----তুমি আজকেও আমার সাথে ঝগড়া করবে?
---হ্যাঁ তো?
---তো মানে? কেন ঝগড়া করবে?
---ঝগড়াটের সাথে ঝগড়া না করে কি করবো?
আমি রেগে বললাম
---আমি না কি তুমি ঝগড়াটে ভেবে দেখো।
সাদিক একটু থেমে বলল
----আচ্ছা এক মিনিট না মানে ঝগড়া না করে কী করতে বলছিলে?
বলেই আমার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে তাও দুষ্টু হাসি দিয়ে।
আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,,
----কথা বলবে এমনি।
ও বলল
----উফ! কি বোরিং রে বাবা।আমার কথা বলতে ভাল লাগে না।তার চেয়ে ঝগড়ায় ভাল।আর ঝগড়া তে তো,,,,,,
আমি ওকে হঠাৎ করেই ঝাপটে ধরলাম ও চুপ হয়ে গেল।
আমি ঝাপটে ধরে কাঁদো গলায় বললাম
----কেন এমন করলে?আমার জান বের হয়ে গিয়েছিল, এভাবে কেউ গাড়ি চালায়?
সাদিক ও এক হাতে আমাকে নিজের সাথে চেপে ধরলো।
একটু পর আমাকে সরিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
---সরি! আই এম রিয়্যালি সরি!
আমার এক হাত ওর হাতে নিয়ে চুমু খেয়ে বলল
---কী করবো বলো? আমি কিছুই ভাবতে পারছিলাম না। আমার শুধু তোমার চেহেরায় মনে পড়ছিল কিভাবে যেতে দিই বলো তোমাকে?
ভেবেছিলাম আগে তোমার পরিবারে গিয়ে জানাবো তারপর আমার বাসায় বলবো।
এইবার ওর চোখে দেখতে পেলাম আমার প্রতি জমে থাকা গভীর ভালবাসা।
----আমার মাথায় শুধু তুমিই ঘুরছিলে তাই বাস টা কখন এত কাছে চলে এলো বুঝতেই পারিনি।
ও অন্যদিকে চোখ সরিয়ে চোখের পানি মুছে নিল।
আবার বলল,,,
যাই হোক তুমি সামনে আছো এর চেয়ে ভাল আর কী হতে পারে?
আমি মন খারাপ করে জিজ্ঞেস করলাম
----খুব ব্যাথা পেয়েছো না? তাও আমার কারণে?
---আরেহ না,,,ব্যাথা তো তোমাকে দেখেই ভুলে গিয়েছিলাম সেদিন।
---কোনদিন?
---ঐ যে হস্পিটালে গেলে।
---কীভাবে।
---কীভাবে জানিনা তো,,,তবে ব্যাথা চলে গিয়েছিল।
আমার হঠাৎ মনে পড়াই বললাম
--- এই একটা কথা বলো তো ঐ দিন কি তুমি আমাকে অবাস্তব মনে করেছিলে?
ও একটু হেসে বললো
---হুম।
----তাই তো বলি এত করুণ ভাবে তাকিয়েছিলে পরে আবার সেই রাগী দৃষ্টি।
---হুম।
দেখলাম সাদিক লজ্জা পাচ্ছে।আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি তারপর বললাম
----এতো রাগ করো কেন আমার সাথে? রাগী চোখে তাকাও খালি।
---যদি চোখের ভাষা পড়ে ফেলো তাই।
---আচ্ছা?তা কী এই চোখের ভাষা যেটা আমাকে পড়তে দাওনা?
ও মুখটিপে হেসে বলল
---বলা যাবে না দূর্বলতা আছে, যদি কাউকে বলে দাও।
---বলবো না কাউকে,,,
---জি না মাথায় চড়ে বসবে তখন সে।
----কে সে?
----"আমার প্রিয়তা"।
সাদিকের মুখ থেকে আজ প্রথমবার শুনলাম এই কথাটা।আমি নিশ্চুপ একেবারে।
----প্রিয়তা কে নিয়েই সব? আর আমি?আমি কি কেউ না,,,,
আমি রুমে চলে এলাম।ফুল গুলো বেড টেবিলে রেখে বিছানায় বসলাম। গহনা গুলো খুলতে শুরু করলাম। ও আস্তে আস্তে এসে আমার পাশে বসে আমার হাত দুটো ধরে বলল।
----সুবাহসাদিকের আর সাদিকসুবাহর।
আমি অভিমান করে আছি,,,,ও বলল
---সুবাহ সাদিকের খুব প্রিয় আর প্রিয় বলেই সে তার প্রিয়তা।
আমি বললাম আচ্ছা প্রিয়তা কে নিয়ে এত কীসের ভাবনা তোমার?
---বলবো সব তবে আজ না।আজ বিশ্রাম নাও, জানি খুব কষ্টে ছিলে সারাদিন।
আমি বললাম
---কীভাবে জানলে?
---জানিনা।
----আচ্ছা তুমি আমার মনের কথা কীভাবে বুঝো?আমি অবাক হয়েছি খুব।
---হয়তো তোমাকে নিয়ে বেশিই ভাবি তাই।আমি জানি তুমিও আমাকে বুঝো।
----আচ্ছা শোনো।
ওষুধ খেয়েছো? সরি আমি তোমাকে ঘুমাতে না দিয়ে শুধু কথা বলেই যাচ্ছি।
---হ্যা খেয়েছি।উফ আর কতো ঘুমাবো আমি?বিয়ে করে মানুষ ঘুমাই নাকি?বিয়ে করে তো,,,,
চোখ বড় করে ডাকলাম
----সাদিক,,,,,।
ও আমার চোখ দেখে বলল, আচ্ছা ঘুমাচ্ছি।
আমাকে মুখ বাকিয়ে ভেঙালো।আমি বললাম তুমি শোও আমি ফ্রেশ হয়ে নিই।
ও দুষ্টু হাসি দিলো। আমি সাথে সাথে বললাম আর একটা ওয়ার্ড ও না।
এরপর আমি ওয়াশরুমে চলে গেলাম কাপড় নিয়ে।
ফিরে এসে দেখি সাদিক ঘুমিয়ে পড়েছে ওকে দেখে আমার এত কষ্ট হচ্ছে। তারপর আস্তে করে পাশে গিয়ে দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম এখানে ঘুমাবো নাকি সোফায়। উঠে যেতে নিলেই চট করে হাত ধরে ফেললো আমার, আমি পিছনে ফিরে দেখলাম ও চোখ বন্ধ করেই আছে।
এর মধ্যেই বলে উঠলো
---দূরে গেলে খবর আছে কিন্তু,,,,,
আর কিছু বলল না আমি হাত ছাড়াতে চাইলাম কিন্তু ছাড়াতে পারিনি ওতটুকুতেই পাশে শুয়ে পড়লাম।ও সোজা হয়ে শুয়ে আছে আর আমি ওর দিকে পাশ ফিরে।
কতক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম সব স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছে,,,
ওকে দেখতে দেখতেই ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে উঠেই দেখি সাদিকের মুখ। ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
আমি ধড়ফড় করে বসে পড়লাম একটু পর বুঝতে পারলাম ওহ আমার তো বিয়ে হয়ে গেছে আর এটা সাদিকের ঘর।এবার বিছানার দিকে তাকালাম সাদিক মুচকি মুচকি হাসছে,,,
---হাসছো কেন হ্যা?
---এমনি ভাল লাগছে তাই।
---এসো নামাজ পড়ে নিই।
--চলো।
আচ্ছা এক মিনিট তুমি তো পানি লাগাতে পারবে না,,,
পবিত্র মাটি আছে এখানে?
সাদিক বলল,,,
--হ্যা আছে।
ও বারান্দায় ইশারা করলো আমি নিয়ে এলাম।যাও ফ্রেশ হয়ে এসে তাইমুম করে নাও।আচ্ছা আমি কি হেল্প করবো?
ও বলল
---একটু হেল্প করলে হবে।
আমি ওকে ওয়াশ্রুম পর্যন্ত দিয়ে আসলাম বললাম
---কি হলো পায়ে ব্যাথা পাচ্ছো?
---সকালে একটু ব্যাথা লাগে ঘুম থেকে উঠলে পরে ঠিক হয়ে যায়।
---আচ্ছা আমি তো আছি কিছু লাগলে বলো।
ও শুধু একটু হাসলো।
ওকে তৈরি করে দিয়ে সব,, আমিও নামাজ পড়তে চলে গেলাম।
"যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দিব।(ইব্রাহীম -৭)"
ভাবছিলাম এর চেয়ে সুন্দর প্রতিশ্রুতি আর কে দিতে পারে আল্লাহ্ ব্যতীত।
আমি নিচে গেলাম ভয়ে ভয়ে কেমন যেন লাগছে সাদিক না হয় আমাকে পছন্দ করে কিন্তু অন্যরা কি আমাকে মেনে নিবে?আগে অন্য ব্যাপার ছিল কিন্তু এখন সব বদলে গেছে।
আমি নিচে গিয়ে দেখলাম ফুফি নাস্তার টেবিলে একা বসে আছে।আমাকে দেখে তেমন খুশি হলো না বলল
---এত তাড়াতাড়ি উঠে গেছিস?
--জি।
---সাদিক উঠেছে?
--জি।
----আচ্ছা ওকে নাস্তা দিয়ে আয় নিজেও খেয়ে নিস।একসাথে বেড়ে দিচ্ছি।
ভয়ে ভয়ে বললাম
---ফুফি আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?
ফুফি না তাকিয়ে বললো
---হ্যাঁ।
আমি কাছে গিয়ে বললাম
--কেন?
----কি পড়েছিস এটা আজ প্রথমদিন অন্তত আজকে তো একটু বউ এর মতো সাজতেই পারতি?
---মানে?
ফুফি হেসে বলল আজকে একটা শাড়ী পড়বি তবেই তো মনে হবে আমাদের ঘরে বউ এসেছে।
ফুফি বলল উপরে চল।আমি ও নাস্তার ট্রে নিয়ে উপরে সাদিকের ঘরে দিয়ে এলাম।তারপর ফুফির রুমের সামনে দাড়ালাম।
একটু পর ফুফি আমাকে তিনটা শাড়ী দিল আর বলল
---লাল শাড়ী টা পড়বি আজ আর হ্যা এই নে তোর উপহার।
একটা লম্বাটে বক্স দিলো। বক্স খুলে দেখি এক জোরা চাঁদির নূপুর।
ফুফি বলল
----এগুলো সবসময় পড়ে থাকবি। আমার খুব শখ ছেলের বউ এর জন্য রেখেছিলাম।
আমি বললাম,,,
---কিন্তু আওয়াজ হলে যে নামাজ হবে না।আর এই ঘরে সব ছেলে তাদের কানে যাবে।
---ভয় নেই, এগুলো আওয়াজ করেনা। শুধু সুন্দর লাগে দেখতে।
আমি ফুফিকে জড়িয়ে ধরলাম।এত আপন করে নিবে ভাবিনি।