আমার প্রিয়তা

পর্ব - ২৯

🟢

আমি রুমে চলে এলাম শাড়ী গুলো নিয়ে।সাদিক বসে আছে নাস্তা না করে।

আমার হাতে শাড়ী দেখে বলল বাহ শাড়ী পেয়ে গেলে মা থেকে।

---হুম। নাস্তা না করে বসে আছো কেন?

---আমি তো শাড়ী পছন্দ করিনা।

---সমস্যা নেই এটা তোমার জন্য না।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম চোখ ছোট করে তারপর বললাম

---আমার জানা মতে ছেলেরা তো শাড়ী পছন্দ করে?

---এত ছেলেদের কে জানার কী দরকার ছিল তোমার?

--অসভ্য।

---আমাকে জানলেই হবে শুধু,বুঝলে?

বিড়বিড় করে বলল খালি ছেলেদের নিয়ে বিশ্লেষণ হাহ্।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসলাম,,,,

ও জিজ্ঞেস করলো কেন হাসছি কিন্তু আমি কিছুই বললাম না।

আমি কাপড় ভাজ করে করে আলমারিতে রাখছিলাম,,,,

আবার কাপড় নিতে পেছনে ফিরতেই চমকে গেলাম সাদিক কে দেখে। ওকে আমে এত কাছে দেখে একটু পিছালাম এ কী ও এক পা এগিয়ে আসলো, ঢোক গিললাম বাবুরে কী করলাম আমি আবার?

আলমারি তে পিঠ ঠেকে গেলো।ওর চোখের দিকে তাকাতে না পেরে নিচে তাকালাম।

ও আঙুল দিয়ে আমার মুখ তুলে বলল

---কী ভাবছিলে বলো না প্লিইজ?

ওর চাহনি তে মুগ্ধ হয়ে ক্ষীণ স্বরে বললাম

---তুমি তো সবই বুঝো এটাও বুঝে নাও।

কী ঘোরে চলে গেলাম চুপচাপ এভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলাম কিচ্ছুক্ষণ।

তারপর আমি সরে গিয়ে বললাম এসো নাস্তা করে নাও।

ও প্রথমে আমার মুখের সামনে তুলে ধরলো খাবার। আমার সংকোচ হলেও একটু হেসে খেয়ে নিলাম।এবার ও আমার দিকে তাকিয়ে রইলো বুঝলাম ও আমার থেকে আশা করছে।

আমার দিকে ভ্রু নাচিয়ে বলল

"স্ত্রীর মুখে লোকমা তুলে দেওয়া সাদকা"

আমি তো একটু সওয়াব কামাতেই পারি প্রতিদিন? কি দিবেনা?

আমি হেসে বললাম

----দিব।

যাই হোক গোসল করে এসে আয়নায় দাঁড়ালাম চুল শুকাচ্ছিলাম, আয়নায় দেখি জনাব এর হাতে বই কিন্তু তাকিয়ে আছে আমার দিকে।

আমি না ফিরে বললাম

----তোমার না শাড়ী পছন্দ না? তো এদিকে কী?

ও হাতে ইশারা করলো সুন্দর লাগছে না।

---কী,,,?

---উহু,,,একটু ও ভাল লাগছে না, এদিকে এসো।

আমি মুড নিয়ে গেলাম ওর সামনে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললাম কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো আমার সময় নেই।

---ওরেহ বাবা কী মুড! না জানি সুন্দর লাগছে বললে কী করতো।

----হাহ্। আমি জানি তুমি মিথ্যে বলছো।

----আচ্ছা আমার সামনে বসো।তবে উল্টো ঘুরে।

----কেন?

---উফফ এতো প্রশ্ন কেন? টিচার কোথাকার।

---আচ্ছা।

আমি মুড দেখিয়ে বসলাম, ও দেখি আমার চুল নিয়ে হাতে প্যাঁচাচ্ছে আর খুলছে একটু পর ক্লান্ত হয়ে বলল, ------একটু খোপা করে দাওনা,,,

আমি মিটমিট করে হাসছি বুঝলাম খোঁপা বাধতে হিমশিম খেয়েছে।করে দিলাম।

এবার আমাকে অবাক করে দিয়ে পাশের বেড টেবিল থেকে লাল সাদা দুটো গোলাপ নিয়ে গেঁথে দিলো খোঁপায়।

ও বলল মোর প্রিয়া হবে,,,না,না "প্রিয়তা হবে এসো রাণী দেবো খোঁপায় তারার ফুল।"

----হাহাহা,,,

ও বলল এই হাসলে কেনো??

----হিটলার এসেছে ফুল সাজাতে।

ও মুখ চোখা করে বলল,,

---হোয়াট! হিটলার আমি???

--জি।

----তাহলে তুমি হিটলার এর বউ,,ঝগড়াটে একটা।

---যা ই বলো না কেনো নিজেকে ভাল প্রমাণ করতে পারবে না।

----প্রমাণ করার কী আছে আমি তো এমনিও ভাল। তুমি দিলে দিতে পারো।

---কী?

---প্রমাণ।

আবার হাসলো ফাজিল টা।

---আচ্ছা শুনো আমি চাই না তুমি এভাবে নিচে যাও।শাড়ী পড়ো সমস্যা নেই কিন্তু শুধু আমার সামনে কেমন?

---আচ্ছা জি।

ওহ কিন্তু ফুফি?

---কিছু হবেনা বলে দিও আমি মানা করেছি।

---আচ্ছা বলবো।

আমি একটা বড় ওড়না কে হিজাব করে বেধে নিচে গেলাম।

তখন ঘরে তেমন কেউ নেই।ফুফা ফুফি নাস্তার টেবিলে ছিল বুঝতে পারলাম বাকিরা চলে গেছে।ফুফি বসতে বলল আমাকে কিন্তু ফুফা উঠে চলে গেল বাইরে।আমার একটু অবাক লাগলো উনি আমার সাথে একবার কথা ও বলল না।

ফুফি আমার দিকে তাকিয়ে ছিল আমি ফুফার যাওয়া দেখা শেষ করে তাকাতেই দেখি উনাকে।

ফুফি বলল

---বস এখানে।সবাই সব কিছু একই রকম ভাবে নিতে পারে না।সময় দে ঠিক হয়ে যাবে।

---কিন্তু!

---গোলাপের সাথে কাঁটা ও থাকবে এটাই নিয়ম তাই বলে কি গোলাপের সৌন্দর্য কখনো কমে?

সুতরাং আরো অনেক কিছুই দেখবি, শুনবি কিন্তু সময় ই বলে দিবে কখন কিভাবে সামলাতে হবে।

"যে তোমার সাথে শত্রুতা করে তাকেও ভালবাসো, আর যে তোমাকে কষ্ট দেয় তার জন্যও দোয়া কর।(আবু বকর( রাঃ)।"

আমি ফুফি কে মৃদু হেসে বললাম

---হুম গোলাপ ওয়ালা যে পেয়ে গেছি।আর চিন্তা নেই।

আমি হিজাব এর প্যাঁচ খুলে ফুফিকে দেখালাম।

---ওমা গোলাপ তো দেখি পড়েই ঘুরছিস আর আমি কিনা কাঁটার কথা বলছি।

----হাহাহা

দুজনই হাসলাম।তারপর ফুফি বলল শাড়ী পড়েছিস কিন্তু এভাবে পড়ে রাখলে তো কষ্ট হবে।

----আসলে ফুফি ও চাইনা আমি শাড়ী পড়ে সবার সামনে যাই তাই এই ব্যবস্থা নিতে হলো।

---আরেহ তুই আমার মন রক্ষা করছিস?দরকার নেই একদম,ও যা বলবে তাই করিস।

"স্বামী -স্ত্রী নেককার হলে, দুজনই একই জান্নাতে থাকবে।

(সূরা-যুখরুফ-৪৩-৭০)।"

বুঝলি আগে ওর কথা রাখার চেষ্টা করবি।ভাল কথা তুই আমাকে ফুফিই ডাকবি?

---না মানে।

বিজ্ঞাপন

আসলে বেশ লজ্জায় পড়ে গেলাম পরিচিত হলে এই এক ঝামেলা দেখি।

"""""::::::::::::::""""

দিনের বেলায় রান্না শেষে গেলাম উপরে সাদিক এর কাছে।

ও কি সব ফাইল দেখছে।আমি বললাম

---কি গো? কাজ শুরু করে দিলে?

---হুম,,,! কিন্তু তুমি শাবানা হলে কবে থেকে?

---কী??

----ওগো শুনছো? এমনটা বলেছিলে মনে হয়?

--- ধ্যাত,,!মোটেও না।

সাদিক মুচকি মুচকি হেসে আবার ফাইল দেখছে।

আমি শাড়ী বদলে আবার জামার সাথে হিজাব দিয়ে নিচে চলে গেলাম।

নিচে গিয়ে দেখি একটা মেয়ে আর একটা লোক ফুফির সাথে বসার ঘরে কথা বলছে। ওদের কাপড়ের ব্যাগ ও দেখতে পেলাম মনে হয় থাকবে।আমি পাকঘরে চলে গেলাম।

একটু পর বুয়ার সাথে মিলে টেবিলে খাবারের ব্যবস্থা করছিলাম

এমন সময় ফুফি উপরে গেলে মেয়েটি পুরো ঘর হেটে আমার দিকে এগিয়ে এলো

---আরেহ তুমি সুবাহ না?

আমিও এতক্ষণে চিনতে পারলাম ও আমাদের তালতো বোন হয় আবার সাদিকের চাচাতো বোন সম্পর্কে।আমরা তেমন একটা কথা কখনো বলিনি কারণ ও নিজেই কখনো মিশে নি। আমরা সমবয়সী মাঝে মাঝে আসতো ছোট থাকতে,তবে পরে আর এসেছে কি না জানিনা কারণ আমিই বের হতাম না।

যাই হোক আমি উত্তর দিলাম হাসিমুখে

---হ্যা রীতি। কেমন আছো?

---হুম ভাল।

ও আমাকে ভাল করে দেখছে হয়তো ভাবছে আমি এই ঘরে কী করছি।

ও আমাকে কিছু বলতে যাবে তখনি ওর ভাই পেছন থেকে এসে ডাক দিলো

---এই রীতি,,,,,,

বলেই থেমে গেল আমাকে দেখে।

আমি নিজেকে আরেকটু ঢেকে নিয়ে সেখান থেকে সরে যাচ্ছিলাম।

----সুবাহ? তুমি সুবাহ না??কই যাও?

আমি দাঁড়িয়ে গেলাম বড্ড রাগ হচ্ছে এই সেই লোক যে কি না বহু বছর আগে আমার হাত ধরেছিল।

আমার দাঁড়াতে ও অস্বস্তি লাগছে ছোট বেলায় এতো কিছু বুঝতাম না।নিজের মন মতো বাকি দশ জনের মতো বেড়ে উঠেছি তখন পর্দা,নামাজ,পরপুরুষ এসব ব্যাপার এ এতো জ্ঞান ছিল না কিন্তু এখন আস্তে আস্তে যখন নিজেকে বদলাতে শুরু করেছি পথে অনেক বাধাই পেতে হচ্ছে।

---জি।

----অনেক বছর পর দেখছি। কেমন আছো তুমি?

---ভাল।

এটা বলেই চলে আসতে চাইলাম তখনই রীতি বলল

---সো স্যাড শুনেছিলাম তোমার বিয়ে ভেঙে ছিল।

আমি কিছু বললাম না। ফুফি নিচে নামলেন ওদের কে বলল

---রীতি, রাইহান তোমরা ফ্রেশ হয়ে এসো খাবার লাগানো হয়েছে টেবিলে।

ফুফি আমাকে বলল

---তুই কি এখানে খাবি? না কী উপরে সাদিকের সাথে?

---জি উপরে।

---ঠিকাছে ওখানেই পাঠিয়ে দিচ্ছি।আর হ্যা রীতি আর রাইহান কে তো চিনিস ওরা বেড়াতে এসেছে আর রীতির একটা ইন্টার্ভিউ আছে তাই ক'দিন থাকবে।

ওরা ভাই-বোন একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে।

তারপর রীতি বলল

---চাচীমা সুবাহ উপরে কেন যাবে?

----সাদিক উপরে একা খাবে না কী তাই।

----কিন্তু ও কেন?

---ওহ তোদের বলতে ভুলে গেছি! আমিও না, সুবাহ এখন আমদের সাদিকের বউ।গতকাল ওদের বিয়ে হয়েছে।

রীতি যেন খুব বড় একটা ধাক্কা খেল।ওর মুখ মুহূর্তেই আধার হয়ে গেল।

---ক,,কবে হলো?

----গতকাল! হুট করেই হয়ে গেছে বিয়েটা, সেই অনেক কাহিনী। সাদিক অসুস্থ তোমরা তো জানোই, ও একটু সুস্থ হলেই ওয়ালিমা করে সবাইকে জানিয়ে দিব।

---কিন্তু কেন,,,!

রীতি কে চুপ করিয়ে রাইহান বলল ওহ! হঠাৎ শুনে একটু অবাক হলাম।যাক ভাল হলো।

রীতি আর না দাঁড়িয়ে ওয়াশ্রুমে চলে গেল, আর আমি উপরে।

ভাবছি রীতি কে দেখে মনে হলো বেশ কষ্ট পেয়েছে।অন্য কোন ব্যাপার আছে কী?

সাদিক তুড়ি বাজিয়ে বলল

---কী হলো কী নিয়ে ভাবছো এতো?

---না রীতি আর রাইহান ভাই এসেছে।ওরা কিছুদিন থাকবে।

---ওহ তাই নাকি।

সাদিক খেতে খেতে বলল

---ওর সামনে যাওয়ার দরকার নেই এতো।

---কার?

---কার আর ঐ গর্দভ এর।

---ছিঃ এভাবে বলো না।

---বলবো একশো বার। তোমার মনে নেই ও কি করেছিল?

আমি মুচকি হেসে বললাম আমার তো মনে আছে কিন্তু তোমার কীভাবে আছে?

---থাকবে না কেন? আমার হাতে মার খাইনি সেটাই বেশি, বড় বলে,,,,,,

ও থেমে গিয়ে আমার দিকে তাকালো।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসছিলাম।

ও বলল

---না মানে?

---কী? আচ্ছা সেদিনও তুমি আমাকেই কেন বকা দিলে? আমার কী দোষ ছিল?

সাদিক আমার হাত ধরে বলল

---তোমার কোন দোষ ছিল না।কেউ তোমাকে ডিস্টার্ব করলে দোষী তুমি কেন হবে?

বকা টা আমি ওকে দিয়েছিলাম তোমাকে না।

----ধন্যবাদ তুমি সেদিন এসেছিলে বলে।

---তোমার মত বোকা কে কতজন থেকে যে উদ্ধার করেছি তা তুমি নিজেও জানো না।

----বুঝলাম কিন্তু কেন করেছো উদ্ধার?

ও ব্যস্ততা দেখিয়ে বলল

----উম,,,জানিনা।

আমি গাল টেনে দিয়ে বললাম

----সব জানো, শো শুইট।

বিজ্ঞাপন
আমার প্রিয়তা গল্পটি সূচনা জাফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও জাগরনী গল্প