ঘর ভর্তি মানুষ আজ,সুবাহর মা এইদিনে দাওয়াত রাখে , গোপনে সাদকা করে তার মেয়ে সুবাহ আর নাতনী নাবার জন্য। নাবা তার বান্ধুবি দের আজ ঘরে দাওয়াত করেছে
তার এক বান্ধুবি জেবিন। নাবা কে ডেকে বলল,,,
---এরাই কী তোর ফুফা -ফুফি?
নাবা ওর দৃষ্টি লক্ষ্য করে তাকালো
মাঝখানের রুমে ডাইনিং এর চেয়ারে বসে আছে সুবাহ আর তার হাত ধরে স্বযত্নে ঝুকে আছে সাদিক। সুবহার হয়তো খারাপ লাগছে তাই সাদিক পরম যত্নে জানতে চাইছে।
এমন যত্ন আর ভালবাসার দৃশ্য দেখে এই প্রশ্ন করলো জেবিন।
নাবা বলল
---হ্যাঁ।
----নাইস কাপল।
---হুম, বেস্ট ওয়ান। তোরা তো কিছুই জানিস না ওরা কী চিজ।আগে আমিও জানতাম না।
---আচ্ছা! এখন তো অনেক ব্যবস্থা আছে, উন্নত চিকিৎসার যুগ বাচ্চা নিলেই তো পারতো।
----হ্যাঁ কিন্তু চিকিৎসা আধুনিক হলেও সব কিছু মুসলিম দের জন্য বৈধ না।এই ধর যেমন আই,বি,এফ এর মাধ্যমে বেবী নেওয়া জায়েজ তবে বাইরের কারো থেকে কিছুই নেওয়া জায়েজ নেই, এমনকি বাপি আর অপি চাইলে নিজেদের সন্তান ই পেতে পারে সারোগেসি (গর্ভ ভাড়া)এর মাধ্যমে।
---তাহলে,,,,, কেন?
---আমার সাদিক বাপি চাইনা এমন কিছু।উনি আল্লাহর উপর ভরষা রেখে গেছেন অবিরাম।
"আর যারা পরকাল কামনা করে এবং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা-সাধনা করে, এমন লোকদের চেষ্টা স্বীকৃত হয়ে থাকে।(সূরা বনী-ইসরাঈল : ১৯)"
এটা বাপি বলে সবসময়। তার বিশ্বাস এটাই আল্লাহ্র পরীক্ষা ছিল তার উপর।
জেবিন অবাক হয়ে বলল
---ওরা সত্যিই অসাধারণ।
আবার মুগ্ধ হয়ে নাবা আর জেবিন দূর থেকে সুবাহ সাদিক এর এই যত্নময় ভালবাসার সাক্ষী হতে থাকলো।
-------------------*------------------------
চলুন সারপ্রাইজ পার্টে:
সুবাহ: সত্যিই ওর জীবন কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল আমরা কল্পনা ও করতে পারব না।ওদের দুঃখ গুলো প্রকাশ্য কিন্তু তারপর ও বেশিরভাগ মানুষ, মানে আমারাই সু্যোগ পেলেই কথা না শুনিয়ে ছাড়িনা। আমরা সমবেদনা দেখিয়ে খুব মজা পাই এদের।আসলে কী এদের কোনো হাত থাকে এই ব্যাপারে?বার বার বাচ্চা নিয়ে জানতে চাই কথা বলতে চাই, তারা এ বিষয়ে আলাপ করলেও মন থেকে কিন্তু কষ্ট পায়।
সাদিক :এই মানুষ টা কে আমি সত্যিই খুব পছন্দ করি।
"যে ব্যাক্তি আল্লাহ্র উপর প্রবল ভাবে বিশ্বাস রাখেন।আল্লাহ্ কখনো তার ইচ্ছা অপূর্ণ রাখেন না।(ওমর ইবনুল খাত্তাব)"।
এই লোকটা এই কথাটার প্রতীক। আমি সবসময় অনুপ্রাণিত হয়েছি এই চরিত্র টা লিখার সময় কীভাবে পেলো সে এত সাহস? কতটা যুদ্ধ করে ভাল রেখেছিল তার প্রিয়তা কে? আমি তো একটু লিখতেই হিমসিম খেয়ে গেছি।
*এবার আসি মূল ঘটনায়:
আমার আম্মা দেখেছিল এই দম্পতি কে এক বিয়েতে।এত যত্নবান সম্পর্ক ছিল তাদের, আমার আম্মার ও নজরে পড়ে গেল আর জানার আগ্রহ থেকেই এই কাহিনীর উৎপত্তি।গল্পের স্বার্থে আমি কিছু স্থান,চরিত্র, সময় বদলে দিয়েছি কিন্তু গল্পের প্লট, ভালবাসা,যত্ন সবই সত্যি।
"মূল কাহিনী টা ছিল এমন:
সাদিক আর সুবহার বাগদান হয় কিন্তু যুগের বৌদলতে কেউ কাউকে দেখেনি। এরই মধ্যে হঠাৎ সুবহার অপারেশন টা করতে হয়। প্রথমবারের মতো সুবাহ কে দেখতে গিয়েছিল সাদিক তাও হাসপাতালে।
সুবাহ বলেছিল, তাদের যাত্রা এইটুকুতেই শেষ।সাদিক যেন অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হয়।
কিন্তু সাদিক বাসায় গিয়ে কী চিন্তা করে কী জানি? সবাই কে বলল সে এই মেয়েকেই বিয়ে করতে চাই।
জানিনা কীভাবে? কেমন করে ওদের বিয়েটা হয়েছিল।যুগ তখন মোটেও আধুনিক ছিল না।এতো এতো চিকিৎসা ও সহজলভ্য ছিল না।তবে সাদিকের মন/ঈমান দুইটা ই খাটি ছিল। সত্যি তাদের কোনো পালক সন্তান ও ছিলনা। তাই আমি গল্পেও এমন টা রেখেছি।গল্পে কিন্তু আধুনিকতা ছিল যেটা ঐ যুগে ছিলনা।
সাদিক এর মতো মানুষ গুলো লাখে ১০ জন আর হাজারে ১ জন পাওয়া যায়, শতক এ তাদের পাওয়া মুশকিল।
আমি এই কাহিনী আমার আম্মা থেকে অনেকবার শুনেছি গল্প লেখা কালীন ও জিজ্ঞেস করেছি আর বার বার মুগ্ধ হয়েছি।
আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কেন গল্পে সুবহার ঐ বাগদত্তা কে বদলে দিয়েছিলাম। এটা আসলে গল্পের স্বার্থেই করেছি তখন আমার এটাই ঠিক লেগেছিল।ওদের কাহিনী টা হয়তো বিয়ের পরে শুরু হয়েছিল। আমি তো বাকী টা নিজের কল্পনায় ওদের ভেবেছি। ওদের জীবন নিশ্চয় সহজ ছিল না অনেক বাধা, অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, কষ্টের বিষয় হলো আপন রা ই এ ক্ষেত্রে বেশি কষ্ট দেয়।
"আজ ওরা আর নেই ইহকাল এ"কিন্তু আল্লাহ্ নিশ্চয় ওদের জীবনের অপূর্ণতা টুকু একদিন পূরণ করে দিবেন।
আমি শুধু চেয়েছি, ওদের এই গল্পটা আমার সাথে সাথে আমার ক্ষুদ্র পাঠক সংখ্যাও মনে রাখুক।আমি ওদের না দেখে, না জেনেই ভালবাসি শ্রদ্ধা করি,ওদের জন্য দোয়া করি।
*এইবার বলি আমার কথা:
মাদ্রাসা লাইনে পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি।দ্বীনের ব্যাপারে খুব একটা জানি না, তবে জানতে চাই ইনশাআল্লাহ। তাই নিজে যা জেনেছি আপনাদের ও জানাতে চেয়েছি।আমি চাইনি আপনারা ৩ মিনিট গল্প পড়ে সময়টা ওয়েস্ট করুন। চেষ্টা করেছি যদি ঐ তিন মিনিটে দু টো আয়াত পড়ে এক টা হলেও নেকী পেয়ে যান।
আল্লাহ আমাদের কে কবুল করুক, আমিন।
আর এইবার আমাকে আপনাদের ভাল লাগা, খারাপ লাগা জানিয়ে উপকৃত করবেন যাতে পরের বার গল্পে ভুল গুলো আর না করি।রিভিউ তো দিতে পারেন না বলেছেন তাই জোর করব না।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।