ভাইয়্যার রুমে বসে লুডু খেলছিলাম,,,,
পাশের ঘরে সাদিক পড়াচ্ছিল ইফাদ কে,আমি ভাইয়ার সাথে পারছিলাম না হৈ হুল্লোর করছিলাম এটা নিয়ে দেখলাম দরজায় সাদিক নক করল দাঁড়িয়ে,
----ভাইয়া আসবো?
---হ্যা! আবার জিজ্ঞেস করতে হয় নাকি?
---ভাইয়া আপনি ওর সাথে খেলে মজা পাচ্ছেন না নিশ্চয় তাই না??
----হ্যা জিততে জিতিতে বোর হয়ে গিয়েছি।
আমি চেঁচিয়ে বললাম
----চিটার, আমার গুটি কেটে ফেলো খালি।
সাদিক বলল,,,
---নিজে না পারলে কিছু মানুষ অন্যকে চিটার ডাকে।
সাদিক খেলার বোর্ডে তাকিয়ে আমার গুটি চালছে, এরপর ভাইয়া চাললেন তারপর আবার সাদিক। ও আমার পক্ষ হয়ে হাড়া খেলা কেমনি যেন জিতিয়ে দিল।
এইবার ভাইয়ার মাথায় হাত।
একটুপর ভাইয়ার কল এসেছে তাই মোবাইল টা নিয়ে বারান্দায় গেলেন।
সাদিক আমার দিকে তাকিয়ে কেন যেন একটু করে হাসল।
আমি কড়া ভাবে বললাম
---কি??
----দেখলে বোকা, জিতিয়ে দিলাম।
---দরকার ছিলনা।
----হ্যা তাও ঠিক লুজার কোথাকার।
আমি বললাম
----তোমাকে গায়ে পড়ে সাহায্য কে করতে বলেছে?
ও বিষ্ময় দেখিয়ে দূরুত্ব মেপে বলল,,,
----এক হাতের চাইতেও বেশি দূরে বসে আছি, গায়ের উপর কখন পড়লাম???
আমি কিছু বলতে যাব ও আবার বলে উঠলো বিড়বিড় করে।
-----খাঁটি বাঙালি, না জানি সত্যিই গায়ের উপর পড়লে কি করেছি বলবে?
আমি চমকে উঠলাম আর ও মুচকি হেসে চলে গেল।
আমি একটু লজ্জা পেলাম মনে হয়।
:
ভালই কাটছে দিন গুলো ভাইয়া আসাতে অনেক মজা করেছি ঘরে মজার খাবার তৈরি হয়, তার উপর অনেক গুলো গিফ্ট পেয়েছি ভাইয়ার থেকে।সব গুলো দিনই যেন ভাল লাগছে প্রায় বিশ দিন হল ভাইয়া এসেছে,,আমি উপরে পড়ার টেবিলে হাতে ঐ প্যাকেট টা নিয়ে,,,,
অবাক হয়ে বসে আছি খুশির বদলে বরং মনটাই খারাপ হয়ে গেল।
একটা কার্ড আর একটা সুন্দর ফুল দিয়ে সাজানো ছোট্ট সোপিস।
কার্ডে লিখা,, প্রথম বছর থেকেই আমার তোমাকে ভাল লাগে, খুব ভদ্র আচরণ তোমার মূলত সেই কারণেই ভাল লাগার শুরু।
দেখো আমি তোমার সব জানি আর ভেবে চিন্তেই বলছি "আই লাভ ইউ"।
আমার নাম লিখা ছিল নিচে।"
আসলে প্রতি টা মেয়ের বড় হওয়ার পর থেকেই ধাপেধাপে অনেক প্রস্তাব মেলে এবং অনেকেরই আগমন ঘটে কিন্তু ছাপ ছেড়ে যায় কেবল এক বা দুজন। গল্পে কিংবা সিনামায় দু একজন কেই দেখায় কিন্তু বাস্তবে এমন টা না।
আমি গোমরা মুখে ভাবছিলাম কেন যে রিমন মন ভাংতে এলো নিজের।
আমার পক্ষ থেকে জবাব টা একেবারেই না।
আমি কার্ড টা নামিয়ে দেখলাম সাদিক দাঁড়িয়ে আছে এ অবেলায় দুপুরে ও আসেনা তবে আজ কেন এলো জানি না।
সাদিক আমাকে দূর থেকেই বলল,,
---বাহ প্রেমের প্রস্তাব??
কি এমন সুন্দরী হলে, যে এত প্রস্তাব আসে বুঝি না আমি??
নাকি নিজের পাওয়ার গুলো বলে বেড়াও???
আমি আসলে সত্যিই টেনশনে পড়েছি তাই ওকে কিছু বলিনি।
চুপ করে ভাবছি রিমন কে কি বলবো? আমার ক্লাসমেট ও, তেমন মেচিউর হয়নি যে "না "বলাটা এত সহজেই মেনে নিতে পারবে।
একটা মেয়ে আর ছেলের এই লেভেল টা কখনো মিলে না বয়স একই হলেও বোঝাপড়ায় ব্যাপক ব্যবধান। তাছাড়া সেদিন ওর কথায় বুঝেছি ও অনেক কষ্ট পাবে।
আরেকটা কথা মাথায় ঘুরছে তাহলে কি ও ই আমাকে মেসেজ করে?
এসব ভাবছি তবে সাদিক কে আর দেখতে পেলাম না তখন দরজায় ছিল।
ভার্সিটি খুললেই রিমন কে বুঝাতে হবে ব্যাপারটা।
আরও একট ব্যাপার শুরু হয়ে গেল।আমার জন্য বিবাহের প্রস্তাব।
মা আজকে ঘরে এসে বলল,,,,
----সুবাহ জরুরি কথা আছে একটা।
---কি মা?
----এই সপ্তাহে তোকে কেউ দেখতে আসবে।
---কে?
----পাত্র পক্ষ।
---কে বিয়ে করতে চাই আমাকে??
----মা বলল খুব ভাল একটা ঘর এসেছে পাত্র ডাক্তার। শুনেছি দ্বীনদার ও বেশ।
---তারপর??
----ইয়ে মানে।
বলে ফেলো মা, আমি কিছু মনে করবনা।
তুই শুনে খুশি হবি পাত্রের দুটো জমজ সন্তান আছে চৌদ্দ মাসের, স্ত্রী নাকি মেটারনাল ডেত হয়েছে।তার বোন এর কাছে আছে এখন বাচ্চা দুটো।
---আমি কেন খুশি হব? তার স্ত্রী মারা যাওয়াতে?
---আরেহ না। মানে তুই তো বাচ্চা খুব ভালবাসিস তাই আর তাছাড়া ওরাও এমন কাউকে খুঁজছে যে হবে তাদের মমতাময়ী মা।
মা চলে যাওয়ার পর এতটা খারাপ লাগছিল, আমি কয়েকবছর আগে থেকেই শুনে আসছি সব পাত্রের ই দ্বিতীয় বউ হিসেবে আমাকে খুঁজছে কারও দুটো কিংবা একটা বাচ্চা আছে আবার অনেকের বউ, বাচ্চা দুটোই আছে তারপর ও আমাকে চাই।কেউ বাচ্চা পালার জন্য আবার কেউ কেউ এখন নিজের জীবনের একাকীত্ব বাকি সময় কাটানোর জন্য আমাকে চাই।
আচ্ছা এদের মধ্যে কি কেউ কখনো আমার মনের কথা ভেবেছে?
হয়ত ভেবেছে ""একে তো মা হতে পারবেনা এমন অকেজো মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছি ওটাই বড় কথা।"
আমি তো বহু আগে থেকেই জানি আমার আর বাকি দশ টা মেয়ের মত স্বপ্নের রাজপুত্রের সাথে বিয়ে হবে না।আমি কারও জীবনের প্রথম মানুষ হতে পারব না যদিও আমার জন্য সে ই প্রথম হবে।তাতে কি হয়ত ফুলশয্যায় বলবে তার প্রথম স্ত্রী কে কতটা ভালবাসতেন সে কিংবা তার একটাই চাওয়া যেন তার বাচ্চাদের আমি মায়ের মত ভালবাসি।
তবে আমি হতাশ ও নই নিরাশ ও নই আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস অটল তিনিই তো বলেছেন বিশ্বাসী দের জন্য পুরষ্কার আছে।
"""আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা গুলো আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি।(ইউসুফ:৮৬)।""""
প্রচন্ড মন খারাপ যাচ্ছে দুইদিন ধরে,
মা অনেক খুশি পাত্র পক্ষ যে কোন সময় খবর পাঠাতে পারে আমাকে দেখতে আসার, বাবা নাকি সব খবর নিয়ে রেখেছে আমাকে পছন্দ হলেই হল।
আমি নির্বাক কারণ মা এসে বুঝিয়েছে ভাইয়া থাকাকালীন বিয়েটা সেড়ে ফেললে ভাল হবে বাবার একটু সাহায্য করতে পারবে ও থাকলে।
এরই মধ্যে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে দু দিন পর ভার্সিটি গেলাম, আমি জানি আজ দিন টা ভাল যাবেনা আর রিমন কে সামনে আসতে দেখে আরও বেশি সিউর হলাম।
বাসায় চলে এলাম তবে আজ নিত্যদিন এর কোন কাজ ই করলাম না, গোসল, খাওয়া ঘুম কিছুই না।
উপরে গিয়ে টেবিলে মাথা রেখে শুয়ে আছি বইয়ের পৃষ্ঠা খোলা।চোখের পানি টপটপ করে পড়ছে।
রিমন বলেছে আমার মত মেয়েরা নাকি একটু সুযোগ পেলেই মাথায় উঠি,প্রথমে ভদ্রতা দেখায় নিষ্পাপ সাজি তারপর কেউ পটে গেলে এত ভাব দেখায় যেন অনেক কিছু।
ও এসব বলে কার্ড টা ছিড়ে ডাস্টবিন এ আর সোপিস টা ছুড়ে মাড়ল।
আমি কখন ঘুমিয়ে গেছি বুঝিনি।তবে বিকালে রোদের আলো পড়তেই ঘুম ভাঙল।
আমি উঠে বসতেই দেখি পাশের চেয়ারে এসে সাদিক বসলো।
আমার দিকে চেয়ে বলল,,
---মুক্তো ঝরাচ্ছিলে কেন??
---কই না তো।।
ও ইশারা করে বইয়ের দিকে দেখাল।আসলে বইয়ের পৃষ্ঠায় এখনো অশ্রু ফোটার ছাপ রয়ে গেছে।
আমি অস্ফুট হেসে বললাম
---মুক্তো তো অনেক দামি জিনিস,,,
আমি তো মূল্যহীন।
ও বলল,,,
---দামি জিনিসে প্রাইস ট্যাগ লাগেনা দেখলেই সবাই আকর্ষিত হয়,তবে সবাই তা কিনতে পারেনা।
আমরা নীরব ছিলাম এরপর জানিনা ও কি বলে চলে গেল কিন্তু মনে কথাটা গেঁথে গেল।
আজ একজন চাচী মা কে বলছিল,,,
আরেহ এত ধুমধাম করে বিয়ে না দিয়ে আকদ্ করে নিয়ে গেলেই ভাল হই,,,ছেলের ও তো আর নতুন বিয়ে না। যেহেতু সুবাহর আগে বিয়ে ভেঙেছে তাই এত তামঝাম না করাই ভাল।
আমি কথাটা আড়াল থেকে শুনে চলে গেলাম।।খুব কষ্ট হয় আমার কেন জানিনা, আমি বিয়েই করতে চাইনা।
হঠাৎ মেসেজ এলো আমি হয়ত এটাই আশা করছিলাম, তাড়াতাড়ি মোবাইল হাতে নিলাম।
""প্রিয়তা,
তুমি কি জানো কাউকে হাড়িয়ে আবার ফিরে পাওয়াতে কি আনন্দ হয়?আমি জানি, শুধুই আমি।"""
আমি আজ উওরে লিখলাম!!!
"""আজ মেঘের মত মুক্তো ঝড়াবো, আমি যে আবার হাড়িয়ে যাব।""
মেসেজ লিখে লোহার সিড়ি বেয়ে ছাদে চলে গেলাম খুব বৃষ্টি হচ্ছে তাই আজ মেঘের সাথে কাঁদব।
মনে মনে বললাম আজ তোমার প্রিয়তা কে তোমার খুঁজে নিতে হবে।