আমার প্রিয়তা

পর্ব - ৯

🟢

পড়া নিয়ে বড় ব্যস্ততায় আছি দুদিন পর থেকেই পরীক্ষা।

আমার রুমে বসেই পড়ছি রাতের বেলায় তো আর ইফাদ এর রুমে থাকা যাই না।

মনে মনে চিন্তা করছি এই পরীক্ষা টা শেষ হলে মা-বাবা আবার আমার পিছনে পরবে। কি করে বলি চাইলে অন্তত পড়া টা তো শেষ করার সময় দিতেই পারে কিন্তু দিবে না আমাদের বাড়িতে এমনই করে মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেই।

অনেক রাত হয়ে গেছে আর পড়বনা।

""""**"""

ফজরের সময় উঠে নামাজ পড়ে বসে পড়লাম পড়তে।

ভাবলাম আজ তো নিশ্চয় সাদিক ফিরেছে,তাতে আমার কি?

না ওর সামনে একদম যাব না। আমি ওর কথা আর চিন্তা ও করবনা কিন্তু আমার যে অনেক প্রশ্ন ছিল ওকে করার।

প্রশ্ন করে কি লাভ? না আমি আর,,,,

সব বাদ দিয়ে পড়ায় মন দিলাম কিন্তু বার বার অমোনযোগী হয়ে পড়ছি।সারাদিন ইচ্ছে করেই আর উপরে যাইনি সন্ধ্যায় ও না।

পরেরদিন পরীক্ষা দিতে চলে গেলাম

পরীক্ষা শেষ করে বের হতেই আমার এক ক্লাসমেট রিমন ডাকল।

-----কেমন আছো সুবাহ? পরীক্ষা কেমন হলো?

----আলহামদুলিল্লাহ ভাল।

------এস অলওয়েজ,,,?

ওকে জিজ্ঞেস করলাম,,

---হ্যা।তোমার কেমন হলো?

---বিন্দাস,,,,(দুষ্টু হাসি দিয়ে)

---ওকে চলি এখন?

----সুবাহ একটা কথা ছিল, জানিনা কিভাবে নিবে।

----কি কথা? জানই তো আমি খুব সিক্রেট রাখতে পারি, বলে ফেলো।

ও একটু ইতস্তত ভাবে বলল,,,

----ব্যাপারটা অনেক আগের মানে কয়েকবছর পুরানো।

----তারপর?? (হাটতে হাটতে বললাম)

----আসলে আমি,,,

----আমতা, আমতা করছো কেন? কাউকে ভালবাস এইতো?

----হ্যা,,!!! এক্সেক্টলি এটাই।

কিন্তু ভয় লাগছে না শুনতে পারব না।

আমি বললাম,

---তোমার টা তুমি বল ওর টা ও বলবে। আর যদিও না বলে তাতে কি?

ও অবাক হয়ে বলল,,

----তাতে কি মানে? হার্ট এর টুকরা হয়ে যাবে।তোমরা মেয়েরা প্রপোজ করনা তাই বুঝতেও পারনা কেমন লাগে।

----দেখো না বলার অনেক কারণ থাকতেই পারে তাই বলে ভালবাসা যাবে না এমন তো না?

----কি বলছো? না পেলে বুঝি কষ্ট হবেনা?

----উউম ওটা তো জানিনা কেমন লাগে, তবে ভালবাসার নিশ্চয় কোন শর্ত নেই।

-----তাহলে যদি কাউকে না পাই, ভালবেসে কি লাভ?

----ভালবাসায় যে লাভ ক্ষতি নেই,মন ভাঙবে, কষ্ট ও লাগবে কিন্তু,,,,

বিজ্ঞাপন

----সুবাহ,,!! তুমি বুঝবে না ঐ মানুষ টা আমার না ওটা ভাবতেই কেমন লাগে।

----তাই,,? কি জানি এমন তো কখনো ভাবিনি।আচ্ছা বল এবার?

----না থাক পরে বলবো।

রিমন চলে গেল আর কিছু না বলে,ভাবলাম কি হলো আবার?

বাসায় ফিরে ঘুম দিলাম।

বিকেলে উপরে উঠে ফুল গাছে পানি দিচ্ছিলাম,সাদা কামিজ হলুদ ওড়না পড়েছি চুল গুলো খোলা রেখে।আমার মনে একটা ভয় কাজ করছে যদি সাদিক এর সাথে দেখা হয়ে যায়?

কেন যেন ভয় লাগছিল।আমি ওর সামনেই পড়তে চাইনা,মনে হচ্ছে ওর কিছু চুরি করেছি তাই সামনে যেতে পারব না।

এটা মনে পড়তেই তাড়াতাড়ি নেমে গেলাম। দ্বিতীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি, রাত প্রায় ৮ টা মা এসে বলল বাইরে ঝড়ো হাওয়া চলছে উপর থেকে কাপড় গুলো নিয়ে আই, উড়িয়ে নিয়ে গেলে আর পাব না।

আমি বললাম,,

----মা তুমি যাও না,দেখো আমি পড়ছি।

---ওমা চুলাই রান্না বসিয়েছি, একটু গেলে কি হয়? আর রাতের বেলায় তোকে কে দেখছে?

----আচ্ছা যাচ্ছি।

আসলে আমার না যাওয়ার কারণ মা কে বোঝাতে পারছিনা সত্যি বলতে আমি নিজেও বুঝছিনা।

মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে উঠে গেলাম, বৈশাখ ঢুকলেই ঝড়ো হাওয়ার উৎপাত শুরু হয়ে যায়।ইফাদ এর রুমের দরজা আবছা বন্ধ করা তাই আর উঁকি মারলাম না রুম টা অতিক্রম করে বড় ভাইয়ার দরজার সামনে পৌছে গেলাম তাড়াতাড়ি হাত চালিয়ে কাপড় নিচ্ছি এমন সময় বিদ্যুৎ চলে গেল, বারান্দার লাইট ও নিভে গেল সাথে রাস্তারও তবে আলো আসছে এখনও হালকা পাতলা।আমি বামপাশে বারান্দার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি বাতাস অনুভব করছি আর রাস্তা দেখছি,হাতে কাপড় নিয়ে।বাতাস আরও বেড়েই যাচ্ছে তাই আর দাঁড়ালাম না পেছনে ফিরতেই চমকে উঠলাম বারান্দার ডান প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে কেউ আস্তে আস্তে পরিষ্কার ভাবে দেখলাম সাদিক, টি শার্ট এর সাথে জিন্স পড়ে আছে সামনের চুল গুলো উড়ছে চেহেরায় কোন এক্সপ্রেশন বুঝতে পারছিনা আমার দিকেই চেয়ে আছে।আমি নিচু হয়ে ঢোক গিলে দ্রুত পা বাড়িয়ে পাশ কেটে সিঁড়িতে চলে এলাম এরপর পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি ও ঘাড় ঘুরিয়ে আমাকে দেখছে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে হয়ত আমার মতিগতি বুঝার চেষ্টা করছে।

রুমে এসে ভাবছি যেটার ভয় ছিল সেটাই হলো। আচ্ছা আমি অস্বাভাবিক আচরণ করছি কেন? নিজের সাথে সাথে সাদিক কেও আনকম্ফোর্ট ফিল করাচ্ছি। না না এমন করা উচিত না আমিও পাগলের মত জবার কথায় এসে কি সব ভাবছি।

পরেরদিন উপরে গিয়েই পড়তে বসেছি। সন্ধ্যায় পড়তে পড়তে হঠাৎ রুমে কারও অস্তিত্ব টের পেলাম সাদিক এসেছে একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেললো ক্লান্তি নিয়ে, বুঝলাম অফিস থেকে এসেছে। আমার চোখ পড়তেই নড়েচড়ে বসলাম একটু, আজ ও ধূসর রঙা শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়েছে ফরমাল ড্রেসাপ।ও ঢুকতেই রুমের বাতাসে ওর ঘ্রাণ পাচ্ছি।

ইফাদ এখনও আসেনি, সাদিক চেয়ারে হেলান দিয়ে গায়ে ফ্যান এর বাতাস লাগাচ্ছে আমি একটু একটু দেখছি তবে লুকিয়ে।

একটু পর ইফাদ এলো, সাদিক মিটমিট করে হাসছে কেন যেন আমি ওর দিকে তাকাতে গিয়ে লক্ষ্য করেছিলাম।

অনেক্ষণ পর সাদিক ইফাদ কে বলল,,,

আজকাল মানুষ রাতে একরকম দিনে আরেকরকম, পাগলের সংখ্যা বাড়ছে মনে হয়।

আবার পড়াচ্ছে,,,,

বুঝলাম গত রাতের ঘটনার কারণে বলছে।তারপর আরও একবার ওকে বলতে শুনলাম।

----ইফাদ তুই তো ভালই পড়েছিস।আমাকে মিস ও করিস নি।

----হ্যা ভাইয়া তোমার টেকনিক এপ্লাই করেছি তাছাড়া তুমি মিস করতে দিলে কই?

একটু গলা বাড়িয়ে সাদিক বলল,,,

---তাও ঠিক, আমি অবশ্য আমাকে মিস করতে দেইনা। মিস মানেই তো হাঁড়িয়ে যাওয়া, আমি যে হাঁড়ানোর দলে নই।

----রাইট ভাইয়া।

আমি শুনে রইলাম কথা গুলো তারপর চট করে সাদিক এর দিকে তাকালাম ও আমার দিকে তাকাইনি তবে ভালই বুঝতে পারছে আমি ওকে দেখছি ওর চোখে দুষ্টু ভাব ফুঁটেছে।

আমার হঠাৎ মাথায় এলো "তার মানে ও আমাকে বানর টা এজন্যই দিয়েছে, যেন আমি ওকে ভুলতে না পারি। হাউ মিন,,,,!!! ও সব সময় এমন করে আমার সাথে ধ্যাত।

আচ্ছা কিন্তু কেন? আমার মনে আবারও প্রশ্ন জন্ম নিচ্ছে,ইচ্ছে করছে ওর থেকে এক এক করে সব প্রশ্নের উত্তর নিই।

ওর দিকে তাকালাম এবার ও আমার দিকে ফিরে তাকাল, আমি গাধার মত তাকিয়ে রইলাম।কয়েক সেকেন্ড পর ও ভ্রু নাড়িয়ে ইশারা করল কি হয়েছে?

আমি চমকে গিয়ে তাড়াতাড়ি বইয়ের দিকে ফিরলাম, আসলে আমার খেয়ালই ছিলনা কখন যে ভাবনায় বিভর হয়ে,,,,

রাত্রে বিছানায় গিয়ে বানর টা কে দু চার টা ঘুষি দিলাম, খুব শখ না মিস না করানোর নে এবার মাইর খা।

দোষ করবে তোর বস্ আর মাইর খাবি তুই।

ফাজিল একটা,,,,

আবার হাসি পেল অনেক।খুব ভাল লাগছে এসব।

বিজ্ঞাপন
আমার প্রিয়তা গল্পটি সূচনা জাফরিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও জাগরনী গল্প