"ভালবাসি তোমায় বলবনা, মনে আছো তুমি বলবনা,
সত্যি যদি হয় ভালবাসা এসব কিছুই বলা লাগেনা।"""
ক্যাম্পাসে গ্রুপ করে গান করছিল ক্লাসমেটরা।
"দুঃখ পেলে তুমি কাঁদো, আনন্দে হাসো,,
যদি,,,,,, কাউকে ভালবাস বলনা কিছু হাই,,,,
আমি ক্লাসে বই খুলে বসে আছি আর দূর থেকে ওদের গান শুনছি।এ কেমন আজব গান??
যাই হোক ঘরে চলে এলাম, ফ্রেশ হয়ে খেতে বসেছি।
মা বললো কিরে কেমন চলছে তোর পড়া??
----হঠাৎ কেন??
---না তোর খালা তোকে বেড়াতে যেতে বলছে তাই।
---কেন?
---ওমা কারণ লাগে নাকি বেড়াতে যেতে??
---হুম লাগে।
আমি আর কিছু না বলে উঠে গেলাম কারণ আমি জানি ওরা আমার বিয়ে নিয়ে ভাবে।
প্রতিটা মেয়েই তার মা-বাবার অতিপ্রিয় হলেও কেউ আজীবন ঘরে রাখতে চাইনা।
রুমে এসে বসে আছি, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার এর সাথে চাবির রিং ঝুলছে, অভিমান নিয়ে তাকালাম।
----এই বানর আমার দিকে কি হুহ্।
দুহাত মুখে দিয়ে ভাবছি,আমি ঘরে কেন বসে আছি? কেউ কি বাইরে যেতে নিষেধ করেছে নাকি??
হাত দুটো নামিয়ে আবার তাকালাম বানর টার দিকে।
হাসি পাচ্ছে মনে হচ্ছে সাদিক ঝুলে আছে,,,
----হিহিহিহিহ।
উপরে গেলাম সন্ধ্যায়,
----আমি পড়তে বসেছি।
একটু পর
হাতে কলম নাড়াচ্ছিলাম আর ইফাদের দিকে লক্ষ্য করলাম ও কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে অংক করছে, মাঝেমধ্যে এক আধটু গাইছে।
----এই ইফাদ,,,কি শুনছিস??
---গান।
----কেন??
---অংক করতে ভাল লাগছিলনা তাই ভাইয়ার টিপ্স এপ্লাই করলাম।
----কেমন টিপস্?
----দেখো ভাইয়া আমাকে একটা এম.পি.ফোর দিয়ে গেছে, বলেছে এটা ওর অনেক আগের, ওর পছন্দের কালেকশন আছে অংক করতে ইচ্ছে না হলে ও আসা পর্যন্ত এটা দিয়ে কাজ চালাতে।
কারণ আমার তো মোবাইল নেই,তুমি আর মা ধরতেও দিবেনা তোমাদের টা।
----হুম তা তো ঠিক কিন্তু গান কেন শুনতে হবে??
---তাহলে কি না করে বসে থাকব?
---আচ্ছা কর।
আমি খালাতো বোন কে ফোন করলাম।
----লাবিনা কেমন আছিস??
আচ্ছা কাল একটু শপিং এ যাব ভাবছি।ওর সাথে একটু কথা বললাম,,,।
কথা শেষ করে দেখি ইফাদ নেই টেবিলে এম.পি.ফোর পড়ে আছে।আমি উঠে গিয়ে ওটা হাতে নিলাম।
----দেখি তো কেমন কালেকশন?
কানে গুজে প্লে করলাম।
""ভালবাসি তোমায় বলব না"""
সাথে সাথেই খুলে ফেললাম একি আবার এই গান টা? কাকতালীয় ভাবে এটাই কানে কেন যাচ্ছে আমার? আবার একটু শুনলাম
তারপর আমার টেবিলে বসে জবার কথা মনে পড়ে গেল,ও বলেছিল ভালবাসা প্রকাশ না করাই হয়ত সাদিক এর স্টাইল।
এখন আমার ও একটু একটু মনে হচ্ছে তাহলে কি,,,,?
যাক এসব নিয়ে এখন আর ভাবার সময় নেই সামনে পরীক্ষা।
"""""""::::::"""""""
পরেরদিন সকালে ভার্সিটি চলে গেলাম, পরীক্ষার রুটিন টাও দিয়ে দিল।
বাসায় গিয়ে মা কে বললাম আজ আমি বিকেলবেলা লাবিনা কে নিয়ে বের হব।নিত্যদিন এর কাজ সেড়ে বিকেলে
রেডি হয়ে বসে আছি,
হাতে ফোন নিয়ে কল এর অপেক্ষা করছি।মা পাশে এসে বলল
----তোর সাথে একটা কথা ছিল।
---হ্যা মা বলো তোমার কিছু লাগবে নাকি?
----তোর জন্য কয়েকটা প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে দুটো ভাল লেগেছে, বাকিটা দেখে শুনে,,,,,,
---মা আমার সেমিস্টার ফাইনাল কয়েকদিন পর থেকে শুরু।আমি আগামী এক মাস এসব নিয়ে ভাবতে পারব না।
----ঠিকাছে কিন্তু একমাস পর তো দেখতেই পারি?
---মা,,,আমি মলীন আবেগ নিয়ে বললাম,
কেন করছ এসব?তোমাদের কেন মনে হয় আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলেই আমি আর একা থাকব না?
তোমরা কি মনে কর এখন আমি খারাপ আছি?আমি তো বলব এখন এর মত ভাল আগে কখনো ছিলাম না।ভেবে দেখো কে এমন একটা মেয়েকে ভালবাসবে যে নিজেই পরিপূর্ণ না।
----আমরা তোর জন্য এমন মানুষ খুঁজছি যেন তোরা একে অপরের পরিপূরক হতে পারিস। তোর যেটা নেই সেটা ওর থাকবে আর ওর যেটা নেই সেটা তুই পূরণ করবি।দেখবি দুনিয়ার সব দুঃখ ভুলে যাবি।
আমরা কি তোর জন্য এতটুকু চাইতে পারিনা??
----প্লিজ এখন না, আমাকে সময় দাও।
----ঠিকাছে পরীক্ষার পর কথা হবে,এই ব্যাপারে।
----মুড টাই খারাপ হয়ে গেল আমার, আজ আর বের হতে ইচ্ছে করেনি,তারপরও লাবিনার জন্য বের হলাম।
খুব ঘুরাঘুরি আর মজা করেছি, শপিং করলাম, ফুচকা আর খেলাম। চলে আসার সময় কে যেন
"প্রিয়তা" বলে ডাক দিল পেছন থেকে, আমি কেন যেন ফিরে তাকালাম তাকিয়ে দেখি একটা পরিচিত মুখ,,,
সেই অতীত, আমার হবু বর যার সাথে বিয়ের কথা ছিল।
সেও হঠাৎ আমাকে দেখে হাসিমুখ বন্ধ করে ফেললো তারপর দেখলাম আমার পাশ কেটে একটা মেয়ে এগিয়ে গেল তার দিকে কোলে একটা বছর খানেক এর বাচ্চা নিয়ে।
আমি বুঝলাম সে তাদের কেই ডাকছিল।
আমি ফিরে যেতে নিলে সে আমাকে ডাক দিল।
আমার সামনে এসে সালাম দিয়ে বলল,,,
----কেমন আছেন?
---ওয়ালাইকুম আসসালাম।জ্বি ভাল আছি।
-----আপনার সাথে অনেকবার যোগাযোগ করতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি আজ হয়েই গেল??
আমি প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম
সে বলল,
----আপনি কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবেন? আসলে আমি আপনার দুঃখের সাথী হতে চেয়েছিলাম, বাসায় বহুবার বলেও মা কে রাজি করাতে পারিনি আমি।যেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আপনাকে বিয়ে করব, আমার মা নিজেকে রুমে বন্দি করে অঘটন ঘটিয়ে ফেলে, তারপর হাসপাতালে আর মায়ের অবাধ্য হতে পারনি আমি।প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন।
তার কথা গুলো আমার ভাল লেগেছে শুনে।
বললাম,,,
----আসলে আমি আপনার কথা কখনওই ভাবিনি কিংবা প্রত্যাশা করিনি ওরকম কিছু,আর ক্ষমা চেয়ে লজ্জায় ফেলবেন না।বিয়েটা হয়নি ভালই হয়েছে না হয় আমিই আজীবন লজ্জিত থাকতাম। এখন ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।একটু হেসে বললাম
তা বিয়ে করেছেন?
উনি মৃদু হেসে পেছনে থাকা মেয়েটিকে ডাকলেন।
----আমার ওয়াইফ আর আমার মেয়ে "প্রিয়তা "।
----মাশাআল্লাহ এভাবেই আপনাদের সুখী এবং সুন্দর রাখুক আল্লাহ।
চলি তাহলে।
---ধন্যবাদ। জানেন আজ অন্তরে শান্তি অনুভব হচ্ছে খুব। ভাল থাকবেন।
আমরা ঘরে ফিরলাম। আমি রুমে ঢুকে শুয়ে পড়লাম ভাবছি প্রিয়তা নামটা কে এত আপন কেন মনে হয়?
আর ঐ বাবুটা কি আজ আমার,,,,,,,,
আর ভাবলাম না।
একপাশে রাখা ঐ ড্রয়ারের সাথে ঝুলন্ত বানরের দিকে চোখ পড়ল।
ওটা কে নিয়ে এলাম আবার শুয়ে শুয়ে দেখছি মন চাচ্ছে কিল,ঘুষি দেই কয়েকটা।
----কিরে এভাবে কি দেখছিস হ্যা??
বারবার আমার চোখে পড়লে আমি তোর প্রেমে হাবুডুবু খাব ভেবেছিস নাকি??
ওটা কে দুহাতে ভরে নাকের কাছে এনে ঘ্রাণ নিলাম মিষ্টি একটা গন্ধ পাচ্ছি।
----বাহ,,, বানরের গায়ে সুগন্ধ??
কতক্ষণ হাসলাম কেন যেন ভাল লাগছে।
হঠাৎ মেসেজ এলো অনেকদিন পর
""অবশ্যই তুমি পাবে, যা তোমার কাছ থেকে চলে গেছে তার চেয়ে উওম।""
(আনফাল-৭০)।"""
প্রিয়তা ভাল থেকো।
আমি অবাক নয়নে তাকিয়ে আছি,,, আশেপাশে তাকালাম কেউ কি আমাকে দেখছে???
বানর টাকে বললাম
-----তাই নাকি???
আমার খুব খুশি খুশি লাগছে কেন যেন।
আজকাল সবকিছুতে হাসি পাই অযথা খুশি লাগে।
পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।