এক রহস্যময় অতীত, নিরাপত্তাহীন এক তরুণীর জীবনসংগ্রাম এবং তাকে ঘিরে ধীরে ধীরে জন্ম নেওয়া গভীর প্রেম, সুরক্ষা আর পারিবারিক বন্ধনের গল্প। একই সঙ্গে এতে রয়েছে আবেগ, রহস্য, ট্রমা এবং শক্তিশালী ফ্যামিলি ডাইনামিক্সের মিশেল।
"রেখো তোমার বাহুডোরে" গল্পটি লেখিকা অভ্রায়ীনি ঐশি -এর অনুমতিক্রমে ১৯ মে ২০২৬ তারিখে গল্পের বাহার-এ প্রকাশিত হয়েছে।
📖 গল্প সম্পর্কে
“রেখো তোমার বাহুডোরে” ইন্দু এবং রাতকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি আবেগঘন পারিবারিক কাহিনি। অল্প বয়স থেকেই ইন্দুর জীবন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। নিজের চারপাশের মানুষদের সহজে বিশ্বাস করতে না পারলেও সময়ের সঙ্গে সে মির্জা পরিবারের সবার কাছে আপন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রাতের উপস্থিতি তার জীবনে ভিন্ন এক গুরুত্ব তৈরি করে। রাত তাকে কখনো করুণা করেনি, বরং সবসময় সম্মান এবং স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছে। একসময় তাদের সম্পর্কের ভেতরে অদৃশ্য এক টান জন্ম নিতে শুরু করে। কিন্তু অতীতের কিছু রহস্য এবং বর্তমানের কিছু বিপদ তাদের জীবনকে সহজ থাকতে দেয় না। নানা সংকটের মধ্যেও পরিবার একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি দেখায়। ভালোবাসার পাশাপাশি গল্পে রয়েছে বন্ধন, দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের ছোঁয়া। শেষ পর্যন্ত এটি এমন এক কাহিনি, যেখানে মানুষ নিজের ঠিকানা খুঁজে পায় প্রিয়জনের বাহুডোরেই।
✍️ লেখক পরিচিতি
অভ্রায়ীনি ঐশি বাংলা রোমান্টিক, পারিবারিক ও রহস্যঘন গল্প রচনার জন্য পাঠকমহলে সুপরিচিত। তাঁর গল্পে ভালোবাসা, আবেগ, বিশ্বাস এবং সম্পর্কের জটিল দিকগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে ফুটে ওঠে। তিনি সাধারণ প্রেমের গল্পকে রহস্য, উত্তেজনা এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে নতুন মাত্রা দিতে পছন্দ করেন। তাঁর লেখায় শক্তিশালী চরিত্র, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং আবেগঘন পরিস্থিতির উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। পারিবারিক বন্ধন, আত্মত্যাগ এবং সম্পর্কের গভীরতা তাঁর কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে হাস্যরস, খুনসুটি এবং হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্তও তাঁর গল্পকে প্রাণবন্ত করে তোলে। ডার্ক রোমান্স থেকে রোমান্টিক কমেডি—বিভিন্ন ঘরানায় তিনি সমান স্বাচ্ছন্দ্যে লেখালেখি করেন। চরিত্রের অনুভূতি ও মানসিক পরিবর্তনকে বাস্তবধর্মীভাবে উপস্থাপন করা তাঁর অন্যতম শক্তি। আবেগ, রহস্য এবং ভালোবাসার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর গল্পগুলো পাঠকের মনে দীর্ঘসময় প্রভাব ফেলে। বৈচিত্র্যময় কাহিনি নির্মাণ ও সাবলীল গল্প বলার দক্ষতার মাধ্যমে তিনি বাংলা গল্পপ্রেমীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
📝 সম্পাদকীয় মন্তব্য
সব মানুষ ভালোবাসা খোঁজে না, কেউ কেউ খোঁজে নিরাপদ একটি জায়গা। “রেখো তোমার বাহুডোরে” এমনই এক গল্প, যেখানে সুরক্ষা এবং মমতা ভালোবাসার আগেই এসে দাঁড়ায়। ইন্দুর জীবন অনিশ্চয়তা আর ভয় দিয়ে ঘেরা। তার চারপাশে অনেক মানুষ থাকলেও খুব কম মানুষই সত্যিকারের তার পাশে দাঁড়িয়েছে। সেই শূন্য জায়গাটিই ধীরে ধীরে পূরণ করতে শুরু করে রাত। গল্পটি কোনো তাড়াহুড়োর প্রেমের গল্প নয়; বরং ধীরে ধীরে বিশ্বাস জন্ম নেওয়ার গল্প। এখানে পরিবার শুধু পার্শ্বচরিত্র নয়, গল্পের অন্যতম শক্তি। কিছু সম্পর্ক রক্তের সূত্রে গড়ে ওঠে, আর কিছু সম্পর্ক তৈরি হয় যত্ন আর দায়িত্ববোধ থেকে। এই কাহিনিতে সেই দুই ধরনের সম্পর্কই সমান গুরুত্ব পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত “রেখো তোমার বাহুডোরে” মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কখনো কখনো একটি নিরাপদ আশ্রয়।