রেড সিগনাল ছাড়িয়েছে। কিন্তু থেমে রয়েছে তটের বাইক। পেছন থেকে গাড়ির হর্ণ পেয়ে স্তম্ভিত ফিরলো তটের। দ্রুত নিজের বন্ধু মহলকে বললো...
"বাইক সাইডে লাগা দ্রুত।"
বলেই নিজেও রাস্তার সাইডে বাইক থামালো। প্রহরও দ্রুত নেমে এগিয়ে যেতে যেতে বললো...
"দোস্ত,ঐ বিধবা মেয়ের কাছে কেন যাচ্ছিস তুই?"
তট বিরক্ত হয়ে বললো...
"শাট আপ। আমার ভাই বেঁচে আছে এখনো। "
বাকি পাঁচজনই কিছু বুঝতে পারছে না, তটের পিছু পিছু হাঁটছে। এতক্ষণ হেঁটে গেলেও কাছাকাছি যেতেই লক্ষ্য করলো ইন্দুর হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা। লোকগুলো এমন ভাবে ঢেকে রেখেছে যে দূর থেকে দেখলে কেউই বুঝার সাধ্য নেই এখানে কি হচ্ছে। মেয়েটা কাঁদছে নীরবে,এই দৃশ্য চোখে পড়তেই তট এবার দ্রুত দৌড়ে গেলো তাদের কাছে। তাকে এগিয়ে আসতে দেখেই ইন্দু ঘোর হতে উচ্চারণ করলো..
"ত্ তট ভাইয়া? "
পাশের লোকগুলো ইন্দুর দৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করতেই দেখলো পাঁচ ছয়টা ছেলে তাদের দিকেই তেড়ে আসছে। তা দেখেই দ্রুত লোকগুলো উল্টো দিকে পালালো ইন্দুকে ছেড়েই।
তট এগিয়ে গিয়ে ইন্দুর হাত পায়ের বাঁধন খুলতে খুলতে আতঙ্কিত কন্ঠে বললো...
"কি হয়েছে তিয়াস? এখানে কি করে এলি তুই?"
ইন্দু এবার বাধ ভেঙে কান্না শুরু করলো। বেঞ্চ ছেড়ে উঠলো না। তটের বন্ধুরা দৌড়ে গেছে লোকগুলোকে ধরার জন্য।
তট হাটু ভাজ করে ইন্দুর সামনে বসে আদুরে হাতে তার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললো..
"কি হয়েছে বল আমায়? ওরা কারা,এখানে এভাবে কেন তুই, বল?"
ইন্দু কেঁদেই চলেছে,একটা প্রশ্নেরও উত্তর দিচ্ছে না। তট তাকে স্বাভাবিক করার জন্য বললো...
"আচ্ছা, কান্না বন্ধ কর,কিচ্ছু হয়নি, আমরা আছি তো। বাড়ি চল আয়।"
প্রহররা ফিরে এলো...
"পালিয়েছে রাসকেলগুলো। ধরতে পারিনি। কি হয়েছে? "
তট বললো...
"আচ্ছা বাদ দে,পরে দেখে নেবো ওদের ঠিক। তিয়াস, বোন আমার কান্না থামা, তোর শ্বাস কষ্ট হবে তো এবার। বাড়ি চল? সব ঠিক আছে। "
ইন্দু এবারও কিচ্ছু বললো না,কেঁদেই যাচ্ছে বসে বসে। তট কত করে বোঝাচ্ছে মেয়েটাকে, তবুও সে নিজের জায়গা থেকে নড়ছে না,কিছু বলছেও না।
---------
ট্রাফিক সিগনালে আটকেছে রাতের কালো রঙের রোলস রয়েস গাড়িটি। ঠোঁটের কোনে মিষ্টি হাসি, তিয়াসকে না জানিয়েই আজ তাকে আনতে যাচ্ছে। সকালের লিয়ানার কথা গুলো মাথায় আসতেই পুলকিত হলো রাত। তার তিয়াসও তাকে নিজের অন্তঃকোনে ধীরে ধীরে জায়গা দিচ্ছে। মেয়েটার ঠোঁটের কোনের সেই মিষ্টি হাসিখানা সব সময় চোখে ভাসে রাতের, তাহা ছাড়া মনে হয় না রাতের বেঁচে থাকা সম্ভব হবে৷
কিছু একটা মনে পড়তেই গাড়ির ডেস্ক থেকে ফোনটা বের করে কল লাগালো নিজের পরিচিত এক কুমারপাড়ার লোককে। একটা মাটির চুলা কিনতে, কিন্তু ফোন করেই জানতে পারলো ইতোমধ্যেই আশরাব মির্জাও সেই লোকের থেকে একটু আগেই একটি চুলা কিনে নিয়ে গেছে। রাত কল রেখে প্রশান্তিময় হাসলো,
হঠাৎই গাড়ির গ্লাসে ঠকঠক আওয়াজ পেয়ে গ্লাস নিচে নামালো রাত।ছোট্ট একটা পথশিশু দাঁড়িয়ে, হাতে ছোট্ট একটা ঝুড়িতে অনেকগুলো গাজরা।মেয়েটি মিষ্টি হেঁসে বললো...
"ভাইয়া মালা নিবেন? ভাবি খুশি হইবো, একটা মালা নিয়া যান ভাইয়া। "
পিচ্চি মেয়েটার কথায় ফিক করে হেঁসে দিলো রাত। জানালার গ্লাসে কনুই ঠেকিয়ে মুখটা একটু এগিয়ে বললো...
"সত্যিই তোমার ভাবি খুশি হবে?"
"হ্যা ভাইয়া,মাইয়া মানুষ ফুল পাইলে অনেক খুশি হয়।"
"আচ্ছা? তাহলে তো নিতেই হবে ফুল। দুটো দাও তো। "
মেয়েটা বেছে বেছে একটি মাথার আর একটি হাতে পড়ার মতো গাজরা দিলো। রাত দুটো থেকে বেছে নিয়ে মাথার গাজরাটা মেয়েটার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো...
"এটা তোমার জন্য, নাও।"
মূল্য মিটিয়ে দিয়ে সিগনাল গ্রীন হতেই আবার গাড়ি ছাড়লো রাত। একটু এগোতেই ফোন বেজে উঠলো তার। তট কল করেছে।রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তটের কন্ঠ ভেসে এলো...
"ভাইয়া, তুই কোথায়? "
"তিয়াসকে আনতে যাচ্ছি কলেজে। "
"আচ্ছা কলেজ পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না, ও পথেই আছে মোড়ের মাথায়। "
রাতের ভ্রু কুঁচকে এলো...
"ওখানে কি করছে ও?"
"একটু সমস্যা হয়েছে ভাইয়া, আমি আছি ওর সাথে। সেই কখন থেকে কেঁদেই যাচ্ছে , শ্বাসকষ্ট উঠিয়ে ফেলেছে কাঁদতে কাঁদতে। আমি থামাতে পারছি না, প্লিজ একটু তারাতারি আয়।"
ব্যস এইটুকু কথাই যেন রাতের এতক্ষনের উচ্ছাস কেড়ে নিতে যথেষ্ট ছিলো। সমস্ত ব্যকুল চিন্তা ছেড়ে গাড়ির স্পিড দ্বিগুন বাড়িয়ে নিলো। তার তিয়াস কাঁদছে, কথাটা শোনা মাত্রই রাতের হৃদপিণ্ড কাঁপছে, মাথায় হাজার প্রশ্ন কি হয়েছে তার?
ছয় মিনিটের মাথায় তটদের নীকট পৌঁছালো রাত। গাড়ি থেকে নামতে নামতেই দেখলো তট এখনো কত শান্ত ভাবে ইন্দুর মাথায় হাত বুলিয়ে, চোখের জল মুছিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। রাত ছুটে গেলো তাদের কাছে।
"তিয়াস? "
পরিচিত কন্ঠের আভাস পেতেই মুখ তুলে চাইলো ইন্দু। রাতের মুখখানা চিনে উঠতেই ছুটে গিয়ে ঝাপ্টে ধরলো সে রাতকে। নিজের একমাত্র ভরসার স্থল হিসেবে বেছে নিলো রাতের চওড়া বক্ষস্থল। নিগুঢ় কান্নায় সমর্পণ করলো নিজেকে রাতের কাছে।
সফেদ শার্ট ভেদ করে ইন্দুর চোখের পানি গিয়ে লাগছে রাতের সুস্থলি বুকে। তবুও রাত নিজের বুক থেকে ইন্দুকে সরাচ্ছে না, বরং দু হাতের আজলে আরো শক্ত করে আগলে নিয়েছে তাকে। চক্ষুদ্বয় রক্তিম আভায় পরিপূর্ণ। সেই চোখ নিয়ে তটের দিকে তাকাতেই তট সব ঘটনা খুলে বললো। সব শুনে রাত কঠিন কন্ঠে প্রশ্ন ছুড়লো...
"ওরা কোথায়? "
প্রহররা সবাই মাথা নিচু করে ফেললো, মিনমিনিয়ে বললো...
"ধরতে পারিনি ভাইয়া। "
রাতের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো, ইন্দুর চুলের ভাঁজে রাখা হাতটা মুষ্টি বদ্ধ হতে নিয়েও নিজেকে সামলে নিলো রাত, হাত খানা কোমল করে ইন্দুর চুলের ভাঁজে রাখলো। নিজের বুকে চেপে রাখলো ইন্দুকে। ইন্দুর মাথার পাশে নিজের গাল ঠেকিয়ে উষ্ণ কন্ঠে বললো...
"কান্না থামাও পাখি। কিচ্ছু হয়নি, ঠিক আছো তুমি। "
এই এতক্ষণে ইন্দু মুখ খুললো। আগের মতোই রাতের বুকে মুখ গুঁজেই কান্নারত কন্ঠে বললো....
"ও্ ওদের ফোনে ব্ বাজে ভিডিও আ্ আছে আমার।"
কি শুনলো এটা? নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না রাত। তড়িৎ গতিতে ইন্দুকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিলো সে। ভয়াতুর কঠিন দৃষ্টিখানা ইন্দুর চোখে পড়তেই কেঁপে উঠলো মেয়েটা। রাত তাকে মে'রেই ফেলবে এখন। আতঙ্কে মেয়েটা কয়েক কদম পিছিয়ে গেলো রাতের থেকে। কিন্তু পালাতে আর পারলো না, তার আগেই রাত তার বাহু চেপে ধরলো। ইন্দু ভয়ে কান্নার বেগ বাড়িয়ে দিলো। দ্রুত লাগামহীন মুখে বলতে লাগলো...
"আ্ আমার কোনো দোষ নেই বিশ্বাস করুন,আমি ইচ্ছে করে কিচ্ছু করিনি। আমি তো শুধু ঐ মেয়েটাকে..."
আর বলতে পারলো না সে, তার আগেই রাত তাকে টেনে আবার নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। কাতর কন্ঠে বললো....
"কিচ্ছু বলতে হবে না তোমায়।আমি জানি তুমি কেমন,বিশ্বাস করি তোমায়।"
এই এইটুকু কথাই যথেষ্ট ছিলো ইন্দুকে সামলে নেওয়ার জন্য। রাত তাকে বিশ্বাস করে, নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি যেন এটাই পেলো ইন্দু। নিজেও শক্ত হস্তে আশ্রয় করে নিলো রাতের বুকে। দু হাতে জড়িয়ে ধরলো রাতের দুদিক দিয়ে।
"ঐ রাসকেল গুলোকে আমার সামনে চাই ।"
রাতের শীতল হুঙ্কার শুনে ঢোক গিললো তট।আস্তে করে বললো...
"দ্রুত খুঁজে বের করবো ভাইয়া।"
তখনই একটা মেয়ে দৌড়ে এলো তাদের কাছে। ইন্দুর কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো...
"আপি,তুমি ঠিক আছো?"
ইন্দু ছেড়ে দাড়ালো রাতকে। মেয়েটাকে দেখেই দ্রুত বললো..
" আমি ঠিক আছি,,তোমার কিছু হয়নি তো?"
"চিন্তা করো না,,।"
বলতে বলতেই মেয়েটি নিজের কাঁধের স্কুল ব্যাগটি খুলে সেখান থেকে তিনটে ফোন বের করে তটের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো....
"ঐ লোকগুলোর ফোন। এখানে আপুর..."
রাত দ্রুতই ছিনিয়ে নিলো ফোনগুলো এক প্রকার।ওপেন করতে গিয়ে দেখলো লক করা ফোন।তটের একজন বন্ধু এগিয়ে এসে আস্তে করে বললো...
"আমি একবার ট্রাই করবো ভাইয়া?"
ছেলেটিকে চেনে রাত, ইথিক্যাল হ্যাকিং নিয়ে কোর্স কমপ্লিট করেছে। তার কাছে এসব ফোনের লক খোলা দু মিনিটের ব্যপার। হলোও তাই, সব গুকো ফোনের লক খুলে সন্তর্পণে রাতের হাতে তুলে দিলো, নিজে একটি ফোল্ডারেও চেক করলো না। রাত চেক করলো, একটা ফোনের গ্যালারির প্রথমেই পেয়ে গেলো কাঙ্খিত ভিডিও। ইন্দুর ঘুমন্ত মুখে বিচ্ছিরি ভাবে হাত ছুইয়েছে একটি লোক। ধীরে ধীরে সেই হাত ইন্দুর গলা-ঘাড়...
রাতের হাত তীব্রভাবে কাঁপছে। নিঃশ্বাসের হিসহিস শব্দ যেন সবার কানেই পৌঁছাচ্ছে। বারবার রাত নিজের রাগের সাথে যুদ্ধ করছে যেন, আর একটু যদি গভীরতা প্রকাশ পায় তাহলে লোকগুলোর কলিজা খুবলে ছিড়ে নিবে রাত। কিন্তু তেমন কিছুই আর হলো না, লোকটির হাত যখনই ইন্দুর কোমল গলায়, তখনই পাশে কিছু পড়ার শব্দ, আর লোকগুলো কে কে বলে ছুটলো সেদিকেই, এইটুকুই ভিডিও।
মেয়েটি বললো....
"ওরা প্রথমে আমাকেই কিডন্যাপ করেছিলো, কিন্তু ঐ জায়গায় পৌঁছে গাড়ি থেকে জোর করে নামাতে গেলেই আপি আমাকে বাচায়,কিন্তু ওরা তখন আপির মুখে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করে নেয়,আমাকে ধরতে পারেনি। আমি ওখানেই লুকিয়ে ছিলাম। এরপর যখন ওরা আপুর এইরকম ভিডিও করছিলো,তখন আমি অন্যদিকে ঢিল ছুড়ে মারি,ওরাও ওদিকে দেখতে যায়, আর আমি আপুর মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে নিয়ে দুজনই পালাই, কিন্তু দূরভাগ্যবসত আমি সরে পড়লেও ওরা আপুকে এখানে এসে ধরে ফেলে, আর ভিডিওটা দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে। "
তট ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো...
"তুমি ওদের ফোন গুলো নিলে কিভাবে? আর কে তুমি? "
রাত আস্তে করে ইন্দুকে জিজ্ঞেস করলো...
"তুমি ওকে চেনো?"
ইন্দু দু পাশে মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো।তারপর আস্তে করে বললো...
"ছুটির পর গেইটের সামনেই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।তখন সামনে দিয়ে ঐ লোকগুলোর গাড়িটা যাওয়ার সনয় মনে হলো ওরা কাউকে জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তাই উপায়ন্তর না পেয়ে একটা সিএনজি নিয়ে নিজেই ওদের পিছু নিই, আর তারপর তো।"
তট ভ্রু কুঁচকে একপা এগিয়ে গেলো মেয়েটার দিকে। বললো...
"ভাইয়া,, এই মেয়েটাকে আমার সন্দেহ হচ্ছে, এই মেয়ে নাম কি তোমার? বাসা কোথায়?"
মেয়েটি এক হাত দিয়ে তটকে রুখে দাঁড়িয়ে বললো...
"আরেহ আস্তে আস্তে মি.সুদৃশ মির্জা। আমাকে সন্দেহ করার কি আছে? আপি আমাকে বাঁচিয়েছে তাই আমিও আপিকে হেল্প করলাম যাস্ট, আর কিছুই না।"
তট আগের মতোই জিজ্ঞেস করলো...
"ফোন গুলো কি করে নিলে তুমি?"
" ওরা আপিকে এখানে এসে ধরার পর আমি আমাদের গার্ডদের কল দিই। তারাই এসেছে, এখন লোকগুলোকে ধরেও নিয়েছে, আর ফোন গুলো আমি নিয়ে এসেছি,কারন আপির ভিডিওটা ডিলিট করা দরকার।"
রাত তটস্থ হয়ে জিজ্ঞেস করলো...
"লোকগুলো কোথায় এখন?"
মেয়েটি উত্তর দিলো..
"আমার হেফাজতে।"
তট প্রশ্ন করলো...
"তোমার হেফাজতে মানে? এতটুকু মেয়ের হেফাজত আবার কি? কিসে পড়ো তুমি?"
" এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি,আপাতত পড়ি নাহ,কদিন পর জিজ্ঞেস করলে বলতাম কলেজে পড়ি।আর আমার হেফাজত মানে আমার ড্যাড এর হেফাজত বুঝেছেন?"
রাত পোন গুলো পকেটে নিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো...
" লোকগুলোকে আমার হাতে তুলে দাও,ওদের ব্যবস্থা আমি করবো।"
ইন্দু এবার মেয়েটার হাতের কনুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো...
"তোমার হাত কাটলো কি করে? "
" ও কেটে গেছে কিভাবে যেন৷ সমস্যা নেই আপি।বাই দা ওয়ে, আমি নদী। তুমি?"
"বিভাবরী। "
"ওকেয় বিভা আপি,,আমাদের আবার দেখা হবে খুব শীগ্রই। "
বলেই মেয়েটা চলে যেতে নিলে রাত পেছন থেকে ডেকে উঠলো...
"দাঁড়াও। "
নদী থামলো,বিনীত কন্ঠে উত্তর দিলো...
"জ্বী ভাইয়া? "
রাত এবার তটের দিকে তাকিয়ে বললো...
"ওকে তোর সাথে নিয়ে যা।হাতের ক্ষতটা গভীর মনে হচ্ছে, আবির্ভাবকে বলিস ব্যান্ডেজ করে দিতে,আমি তিয়াসকে নিয়ে যাচ্ছি। "
তট সাথে সাথেই বলতে নিলো...
"কিন্তু ভাইয়া...."
বলতে গেলেই পেছন থেকে প্রহর তটকে চিমটি দিয়ে কানে কানে বললো...
"দোস্ত না করিস না প্লিজজজ,,মেয়েটা হেব্বি কিউট,ক্রাশ খাইয়া গেছি।নিয়া চল প্লিজ, লাইনটা করাই দিস দোস্ত।"
তট চোখ গরম করে তাকালো প্রহরের দিকে। মেয়েটাও কেমন করে যেন বলে উঠলো...
"হ্যা, হ্যা। ব্যথাও করছে অনেক। ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত আমার।"
ইন্দু মেয়েটার ক্ষত দেখে বললো....
"তট ভাইয়া নিয়ে যাবে তোমায়।"
তট আর না করতে পারলো না।রাত ইন্দুকে নিয়ে গাড়িতে উঠে রওনা দিতেই তট হাফ নিঃশ্বাস ছেড়ে বাইকে উঠে বসে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললো...
"তুমি ওর বাইকে বসো যাও।"
ইশারায় প্রহরকে দেখিয়ে দিলো।প্রহরও হেঁসে মেয়েটাকে নিজের বাইকে তুলার জন্য প্রস্তুতি নিলো।
"ঠিক আছে আমি একাই চলে যাচ্ছি। "
বলেই উল্টো দিকে হাটা ধরলেই তট গিয়ে আটকালো তাকে..
"আরেহ কোথায় যাচ্ছো মেয়ে,,ভাইয়া আমায় মে'রেই ফেলবে।"
নদী এবার বললো....
"আমি ওনাকে বিশ্বাস করি না,দেখেন কেমন গু'ন্ডাদের মতো লাগছে।"
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো প্রহর।নিজের দিকে আঙুল তুলে অবাক কন্ঠে বললো...
"আমি গু'ন্ডা?"
নদী বললো...
"তা নয়তো কি,নিজেকে দেখুন একবার। ছিহ, কাকের বাসার মতো চুল।"
প্রহর মাত্রই নিজের চুলগুলো এলোমেলো করেছিলো, যাতে নদী একটু ইমপ্রেস হয়,কিন্তু এটা কি হলো,হতে চেয়েছিলো হিরো,কিন্তু মেয়েটা তো তাকে ডিরেক্ট গু'ন্ডা বানিয়ে ফেললো।
আরেক বন্ধু এবার প্রহরের কাঁধে চাপর দিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো...
"তোর কপালে প্রেম নাই বস।"
নদী এবার তটের দিকে তাকিয়ে বললো...
"আমি গেলে আপনার বাইকেই যাবো,নাহলে একা একাই চলে যাচ্ছি। কাল আপির সাথে দেখা হলে বলে দিবো আপনি আমায় নিয়ে যান নি।"
তট ফেঁসে গেছে ডেরাকলে। বিরক্তিকর মুখ নিয়ে কিছু বলতেও পারছে না মেয়েটাকে। এই পিচ্চি তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে আল্লাহ।
"ঠিক আছে বসো।"
বলতে দেরি,নদী বাইকে উঠে পেছন থেকে তটকে জড়িয়ে ধরতে দেরি নেই।মেয়ের কান্ড দেখে তট দ্রুত বলে উঠলো...
"আরে আরেহ এভাবে বসছো কেন?"
"বাহ রে,,ধরে না বসলে যদি পড়ে যাই? তখন কি হবে?"
তট আর একটি কথাও বললো না। চিপকে বসে থাকা মেয়েটিকে নিয়েই বিরক্তকর ভাবে বাইক স্টার্ট দিলো। মনে মনে বললো....
"তটরে, তুই কোন ফ্যাসাদে পড়লি ইয়ার..।আল্লাহ আল্লাহ করে একে আবির্ভাব ভাইয়ের হসপিটালে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তারাতাড়ি মুক্ত হ তুই। "