রেখো তোমার বাহুডোরে

পর্ব - ১৫

🟢

রজনীর প্রভাবে গ্রীষ্মের তাপ কমেছে একটু। বাস স্টপে যাত্রী ছাউনির সামনেই দাড়িয়ে আছে আবির্ভাব। চোখে মুখে কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর ভাব, মেয়েটার এতোটাও জেদ মেনে নেওয়ার মতো নয়। আরজুকে বার বার বলা হয়েছিলো টিউশন পড়ানো শেষ হলেই আবির্ভাবকে কল করতে। তা তো করলোই না, উল্টো আবির্ভাব নিজে থেকেই যখন কল করে ঠিকানা জানতে চাইলো, তখন আরজু বললো সে একা একাই চলে যেতে পারবে। তারপর ঠিক যতবার কল করা হয়েছে আরজু রিসিভ করেনি। চিন্তা হচ্ছে আবির্ভাবের। হাত ঘড়িতে আরো একবার সময় দেখে নিলো, প্রায় সাড়ে আটটা বাজে। ঠিকানা না জেনে সামনের দিকে এগোতেও পারছে না আবির্ভাব, বাস স্টপেই অপেক্ষা করছে।

মিনিট পাঁচেক পর এগিয়ে এলো আরজু। আবির্ভাবের সামনে এসে দাঁড়াতেই আবির্ভাব হালকা কর্কট কন্ঠে বললো...

"ক'টা বাজে? এতো জেদ কেন তোমার মেয়ে? একা যাবে এতটা পথ? "

আরজু স্বভাবতই বললো..

"এইতো বাস ধরলেই ঘন্টাখানেকের মধ্যে পৌঁছে যেতাম, আপনি শুধু শুধুই কষ্ট করে আসতে গেলেন। "

আবির্ভাব ভেবে পায় না, এই মেয়ে এখনো কত স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে, হাফ ছাড়লো সে। আরজুর সাথে পেরে উঠবে না তর্কে। তাই বললো...

"হয়েছে, চলো এখন। "

আরজু আর না করলো না, আবির্ভাবের সাথেই এগিয়ে যেতে লাগলো গাড়ির কাছে। আবির্ভাব এসে ফ্রন্ট সীটের দরজা খুলে দিতেই আরজু নীরবে উঠে বসলো। আবির্ভাব দরজা আঁটকে দিয়ে আশপাশে চোখ বুলিয়ে নিলো একবার। তারপর জানালার দিকে ঝুঁকে আরজুকে বললো...

"কি খাবে বলো?"

আরজু সাথে সাথেই মানা।আবির্ভাব হাফ নিঃশ্বাস ফেলে আর কিছু না বলেই দোকানের দিকে এগিয়ে গেলো। ফিরে আসলো হাতে একটা প্যাকেট আর একটা কোল্ড ড্রিংকস নিয়ে। ড্রাইভিং সীটে বসে জিনিস গুলো আরজুর হাতে দিয়ে বললো...

"আপাতত কোল্ড ড্রিংকসটা খাও। আর বাকি গুলো বাসায় নিয়ে যেও, আন্টির জন্যও নিয়েছি। "

আরজু বরাবরের মতোই নীরব। আবির্ভাবও আর কিছু না বলে গাড়ি ছাড়লো।

--------

অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়েই রাত গেলো ইন্দুর রুমে, রুমে ঢুকতেই হা হয়ে রইলো সে। বাইরে থেকে ইন্দুর পড়ার আওয়াজ ছাড়া একটা টু শব্দও শোনা যাচ্ছে না। কিন্তু রুমের মধ্যে যে এত জনের বাস তা কে জানতো। ইন্দু টেবিলে বসে আপন চিত্তেই পড়ছে, রাত পেছনে থাকায় খেয়াল করেনি ঠিক। ওদিকে খাটের উপর গোল করে বসেছে ছায়া-ছবি,কড়ি আর কুঞ্জর। খাটের সামনে নিচে ফ্লোরে পৃথিবী, সায়র,রণ,আফনান। সবার সামনেই মোবাইল,খাতা -কলম। এক নাগাড়ে মনোযোগ দিয়ে লিখেই যাচ্ছে সবাই। রাতকে খেয়াল করেই পৃথিবী বললো...

"ঐ তো রাত ভাই এসে গেছে। ওরে ওর কাজটা দিয়ে দে। "

রাত এসেছে শুনেই ইন্দু একবার পিছনে ফিরে চাইলো,সাথে সাথেই পাশে স্কেল হাতে বসে থাকা আনান ধমকের সুরে বললো...

" ঐদিকে কিছু নাহ,, পড় তুই এদিক ফিরে। "

ইন্দু সাথে সাথেই সাপনে ফিরে গেলো আবার। রাত এগিয়ে গিয়ে দ্রুত আনানের হাতের থেকে স্কেলটা কেঁড়ে নিয়ে বললো...

"তুই ওকে মেরেছিস? "

আনান একটু ভাব নিয়ে বললো...

"আমি তিয়াসের টিউটর,পড়াচ্ছি ওকে। "

"মেরেছিস কিনা সেটা বল তুই?"

আনান সাথে সাথেই উত্তর দিলো...

"নাহ"

কিন্তু ওপাশ থেকে সায়র বলে উঠলো...

"মেরেছে ভাই, একটু আগেই তিয়াস ফিজিক্সের সূত্র বলতে পারেনি বলে আচ্ছা করে দিয়েছে ওকে আনান ভাই। কান্নাও করেছে তিয়াস। "

ব্যস, হাওয়া শেষ হয়ে গেলো আনানের৷ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পিছাতে পিছাতে বললো...

"ভাই, এই শা'লায় মিথ্যা বলছে, ট্রাস্ট আমি মারি নি। "

রাত কি আর শুনছে আনানের কথা? এগিয়ে যেতে যেতে বললো..

"ওর গায়ে হাত তোলার সাহস কে দিয়েছে তোকে? "

বলেই হাতের স্কেলটা দিয়ে আনানকে মারতে গেলেই ইন্দু পেছন থেকে হাত টেনে ধরলো রাতের। বললো...

"আরেহ কি করছেন, আমায় কেউ মারে নি। সায়র ভাইয়া মজা করছে। "

থামলো রাত, আনানের দিকে তাকিয়ে বললো..

"সত্যিই মারিস নি তো?"

আনান ভয়ে দু পাশে মাথা নাড়ালো। রাত শান্ত হলো। হাতের স্কেলটা টেবিলের কোনায় রেখে ইন্দুর দিকে ঝুঁকে বইয়ে তাকালো। বললো....

"এক্সামের আর দু মাস তিয়াস। তোমার প্রিপারেশন?"

ইন্দু আস্তে করে বললো...

"মোটামুটি।"

" হুম,,ভয় নেই, যা পারো করো, চাপ নিও না বেশি। "

ইন্দু হালকা উপর নিচ মাথা ঝাকালো।রাত ঐ ভাবেই ইন্দুর চুলের ভাঁজে আলতো এক চুমু খেয়ে বললো..

"পড়ো এখন।"

তারপর তুরুলা বাহিনীর দিকে তাকিয়ে বললো...

"কি চলছে এসব?"

ছায়া উত্তর দিলো..

"তিয়াস আর আরজুর প্র্যাক্টিকেল। "

রণ বললো...

"আমরা সবাই সব সাবজেক্ট কম্প্লিট করে নিচ্ছি, শুধু ওদের বায়োলজির চিত্র গুলো তুই আর আবির্ভাব ভাই করে দিবি। "

এদের কথা শুনে ইন্দু বললো...

"আমি বারণ করেছিলাম, আমিই একে নেবো সমস্যা নেই,শুধু শুধু ওনাদের কষ্ট দেওয়া। "

রাত হাত বাড়িয়ে ইন্দুর বায়োলজির প্র্যাক্টিকেল খাতা দুটো নিয়ে বললো...

"তুমি শুধু পড়ায় ফোকাস করো তিয়াস।আমি একে দিবো এগুলো। "

কড়ি ফোন টিপতে টিপতে বললো...

"আচ্ছা, আমি ফিডিএফ দিচ্ছি তোকে ভাই,,কোন কোন চিত্র আকতে হবে তার লিস্টের।"

রাত সম্মতি দিয়ে বাকিদের দিকে তাকিয়ে বললো...

"আবির্ভাবকেও দিয়ে দিস আরজুরটা। "

আফনান বললো...

"হুম,আরজুকে আনতে গেছে ও। আসলেই দেবো। "

রাত জিজ্ঞেস করলো...

"ন'টা বাজে এখনো ফিরেনি? "

ইন্দু উত্তর দিলো...

"আরজুর তো আটটা পর্যন্ত টিউশন পড়াতে হয়,আসতে আসতে একঘন্টার বেশি লাগবে। "

"রেগুলার এত রাত করে বাড়ি ফিরলে ও পড়াশোনা করবে টা কখন। টিউশন কমাতে বলবে তোমার ফ্রেন্ডকে। "

বলেই আর দাঁড়ালো না রাত, খাতা দুটো নিয়ে চলে গেলো রুমের বাইরে, যাওয়ার সময় সায়র বললো...

"এখানেই বসে কাজ কর না আমাদের সাথে। "

রাত উত্তর দিলো...

বিজ্ঞাপন

"আমার ডিসটার্ব হবে এখানে। "

চলে গেলো রাত। আসলেই তার সেখানে কাজের কাজ কিছুই হতো না। তার তিয়াস যতক্ষণ সামনে থাকে ততক্ষণ শুধু তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেই মন চায় যে রাতের।

------

ব্যস্ততায় দিন কাটছে সবারই, অফিসে নতুন প্রজেক্টের কারনে রাতও আজকাল তেমন সময় দিতে পারছে না ইন্দুকে। রাতে ফিরতে ফিরতেই ইন্দু ঘুমিয়ে পড়ে ততক্ষণে। তবুও রাত নিয়ম করে একবার রুমে গিয়ে দেখে আসে তাকে।

প্রায় এক সপ্তাহের ঝামেলায় নাজেহাল আনান আর রাত। মিটিং রুমে মাত্রই তৈরি করা প্রজেক্টের স্লাইড বুঝিয়ে দিচ্ছিলো রাত এম্প্লয়িদের। একটু পরেই আরো একটা মিটিং রয়েছে কম্পানি ম্যানেজম্যান্টের সাথে। টেবিলে থাকা ফোনটি বায়োব্রেট হতেই আনান তাকালো একবার। রাত ব্যস্ত দেখে সাইলেন্ট করে রাখলো ফোনটা। ফের ফোনটা বাজতেই রাত তাকালো, আননোন নম্বর দেখে সেও খুব একটা গুরুত্ব দিলো না। মিটিং এ মনোযোগ দিলো। কিন্তু একের পর এক ফোন বাজতে থাকায় রাত এবার কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে একটু সাইডে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করলো। তখনই ওপাশ থেকে পরিচিত কন্ঠ ভেসে এলো...

"হ্যালো ভাইয়া, আমি আরজু বলছি। "

রাত বললো...

"আমি মিটিং এ আছি, পরে ব্যাক করছি..."

বলেই ফোন কাটতে নিলেই আরজুর কথা কানে এলো...

"ওহ সরি ভাইয়া, ইন্দুর এই অবস্থা, আবির্ভাব ভাইও কল তুলছে না। "

রাতের কপালে চিন্তার ভাজ পড়লো। জিজ্ঞেস করলো....

"তিয়াসের কি হয়েছে? "

"ও একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে ভাইয়া, বাসে করে যাওয়াটা ঠিক হবে না, তাই ভাবলাম বাড়ি থেকে যদি কেউ আসতো একটু,,আচ্ছা আমি দেখছি করা যায়, সরি ভাইয়া..."

"আমি আসছি। "

বলেই কল কাটলো রাত। সবার দিকে তাকিয়ে বললো...

"সরি গায়েজ, আই হ্যাভ টু গো নাও৷ "

আনান জিজ্ঞেস করলো...

"ভাই, মিটিংটা? "

সাথে সাথেই রাত কর্কশ কন্ঠে বলে উঠলো...

"আমার তিয়াস অসুস্থ আনান,আমায় যেতে হবে এক্ষুনি। "

আর থামলো না রাত, বেরিয়ে পড়লো দ্রুত গাড়ি নিয়ে। কলেজের সামনে গাড়ি থামিয়ে ভেতরে এগিয়ে গেলো সে। আরজুকে ফোন করে জেনে নিলো তারা কোন রুমে আছে। তারপরই পৌঁছালো সেখানে।

কমনরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আশপাশে তাকিয়ে খোঁজার চেষ্টা করলো তার প্রাণ প্রনয়ীকে। এতো এতো মেয়ের মধ্যে খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল। পরক্ষণেই পাশ থেকে ডাক পড়লো...

"রাত ভাইয়া? "

ফিরে তাকাতেই দেখলো আরজু। সাথে সাথেই রাত প্রশ্ন ছুড়লো...

"তুমি? আমার তিয়াস কোথায়? "

"ঐ তো ইন্দু, মিঠুন স্যার আছে ওর কাছে। "

রাত এতগিয়ে গেলো আরজুর সাথে। সামনে যেতেই দেখলো ইন্দু একটা মেয়ের কাঁধে মাথা রেখে ক্লান্ততায় চোখ বুঁজে আছে। রাতের বুক কাঁপছে, ছুটে গিয়ে ইন্দুর সামনে বসে আগলে নিলো তাকে। আলতো স্বরে বলতে লাগলো...

"কি হয়েছে তিয়াস? কষ্ট হচ্ছে তোমার? আমায় বলো?"

ইন্দু ঢোক গিলে বললো..

"এখন ঠিক আছি আমি। "

তবুও রাতের যেন অস্থিরতা কমছে না। ইন্দুর মাথায়, গালে বার বার হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

"অনেকক্ষণ ধরেই বলছিলো পেটে ব্যথা করছে ওর। ভাবলাম ক্যান্টিনে গিয়ে হাবিজাবি খেয়েছে তাই এমন হচ্ছে, তবে এভাবে ব্যথা বেড়ে বমি করবে বুঝতে পারিনি। "

আরজুর কথা শুনে রাত ইন্দুকে জিজ্ঞেস করলো...

"এখনো ব্যথা করছে? "

"কমছে ধীরে ধীরে। "

সামনে থাকা একজন স্যার নাম মিঠুন,,বলে উঠলো..

"সমস্যা নেই, এসিডিটির কারনে হয়তো এমন হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে,আমি ফার্মেসি থেকে মেডিসিন এনে দিয়েছি একটা। "

রাত কৃতজ্ঞতার সহীত স্যারকে থ্যাংকস জানালো। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে ইন্দুকে ধরে উঠিয়ে বললো...

"চলো এখন। "

আরজুর দিকে তাকাতেই বললো...

"আর একটা ক্লাস শেষ করেই আমার টিউশন আছে ভাইয়া, আপনি ওকে নিয়ে যান। "

রাত সম্মতি জানিয়ে ইন্দুকেই নিয়ে রওনা হলো। বের হওয়ার সময় ইন্দু লক্ষ্য করলো আশপাশের কয়েকটা মেয়ে বারবার রাতের দিকে তাকাচ্ছে। তাদের দৃষ্টি অনুসরণ করে ইন্দুও এবার মাথা তুলে তাকালো রাতের দিকে। রাতের পড়নে ডার্ক ব্লু শার্ট,ব্ল্যাক প্যান্ট তার সাথে ব্ল্যাক কালারের হাতা কাটা কোটি। গালের চাপচাপ দাড়িগুলোর নিচে ফর্সা গলা আর বুকের কিছু অংশ উন্মুক্ত তার। ইন্দু ভ্রু কুঁচকে সেদিকে তাকাতেই রাত জিজ্ঞেস করলো...

"কি হলো? হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে? কোলে নিবো? "

ইন্দু কথাখানার উত্তর না দিয়ে বললো...

"শার্টের উপরে বোতাম দুটো খোলা রাখার কি দরকার? দেখুন মেয়েগুলো কিভাবে তাকিয়ে আছে আপনার দিকে। "

রাত আশপাশে তাকিয়ে কিঞ্চিৎ হাসলো। জিজ্ঞেস করলো...

"তো কি হয়েছে তাকিয়ে থাকলে? "

ইন্দুও এবার বিজ্ঞদের মতো বললো...

"কি হয়েছে মানে? নজর লাগলে আপনি যে কালো হয়ে যাবেন জানেন? নজর খুব খারাপ জিনিস। "

রাত হাফ নিঃশ্বাস ছেড়ে ধীর কন্ঠে উচ্চারণ করলো...

"আল্লাহ, "

রাত কি একটু বেশিই প্রত্যাশা করে ফেলেছিলো? ইন্দুর মুখ থেকে জেলাস শব্দটা শুনতে চেয়েছিলো, কিন্তু মেয়ে আছে নজর নিয়ে।

"এই নজর বাদ, তোমার খাওয়ায় কে নজর দিয়েছে বলো? অসুস্থ হচ্ছো কেন?"

"এমনিই, আজ অনেক ঝাল দিয়েই ভেলপুরি খেয়ে ফেলেছি আমি, এই জন্যই। "

"আবির্ভাবের চেম্বার থেকে চেক আপ করিয়ে যাবো, চলো৷ "

গাড়িতে উঠে বসতেই রাতের ফোন বাজলো।আনান কল দিয়েছে, ক্লায়েন্ট এসে অপেক্ষা করছে রাতের জন্য। রাত বললো...

"ক্যান্সেল কর৷ লেট হবে আমার। "

কথাটা শুনেই পাশ থেকে ইন্দু বললো...

"আপনার কাজ শেষ করেই আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েন, সমস্যা নেই।"

রাত ফোন একটু সরিয়ে বললো...

"তোমার খারাপ লাগছে না? "

" অল্প একটু, আপনি কাজ করতে করতে আমি একটু জিরিয়ে নেবো। "

রাত একটু ভাবলো, তারপর আনানকে জানালো সে আসছে।

বিজ্ঞাপন
রেখো তোমার বাহুডোরে গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে ঘেরা রোমান্টিক ও থ্রিলার গল্প