বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায়৷ অস্ত নিলো সূয্যি মামা।সেই সময় মাত্র নতুন ফ্ল্যাটটায় প্রবেশ করলো আরজু তার আম্মুকে নিয়ে। আরজুর আম্মু আফরোজা বেগম বেশ প্রাণোচ্ছল একজন মহিলা, যা প্রথম সাক্ষাতেই বুঝে গেছে আবির্ভাব। বেশ ভাবও হয়েছে তার সাথে। আবির্ভাব দুহাত ভর্তি ব্যাগপত্র নিয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকতে ঢুকতে একবার আরজুর দিকে তাকালো। মেয়েটার মনে কি চলছে তা বেশ বুঝতে পারছে আবির্ভাব, মনে মনে বললো..
"মেয়ে মানুষ অতিরিক্ত বুদ্ধিমতি হলে এই এক সমস্যা, সব কিছুতেই খটকা।"
মনের কথাখানা আরজুর মুখে ফুটতে বেশ একটা সময় লাগলো না। এই যে এক্ষুনি ইন্দুকে বলে বসলো...
"ইন্দু? আমার সন্দেহ হচ্ছে। এত সুন্দর, গোছালো ফ্ল্যাটটা মাত্র দু হাজার টাকা ভাড়া?"
ইন্দু মাত্রই ছোট আকারের ডায়নিং টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি তুলে খাচ্ছিলো। আরজুর কথায় বিষম খেলো মেয়েটি। সেই আবার আরজুই গিয়ে ইন্দুকে শান্ত করলো। ইন্দু ঘন এক শ্বাস ফেলে বললো...
"এই দিকে এমনই ভাড়া হয় আরজু। আর এই ফ্ল্যাটের মালিক শখের বসেই বিল্ডিংটা দিয়েছে তাই এত কমেই ভাড়া দেয়। এই আরকি। "
আরজুর সন্দেহ গেলো না৷ বললো...
"তাই বলে সব কিছু আগে থেকেই এতো গোছালো? সোফা, টেবিল, ফ্রিজ, খাট সবই তো আগে থেকেই আছে। "
এবার আবির্ভাব হেঁসে বললো...
"আরেহ,,ইন্দু বললো না,,ফ্ল্যাটের মালিক অনেক সৌখিন, তাই সব সময়ই এসব টুকটাক জিনিস দিয়ে সাজিয়ে রাখে। "
ইন্দু নীরবে হাসলো। কড়ি এতক্ষণ আফরোজা বেগমের পাশে বসে থাকলেও এবার উঠ এসে ইন্দুর পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করে বললো...
"এই তিয়াস,আরজুকে কি বলে দেবো, আবির্ভাব ভাই যে কাল এসব জিনিস নিজে গিয়ে কিনে এনে গুছিয়েছে? "
ইন্দু কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই আফরোজা বেগম হেঁসে জিজ্ঞেস করলেন..
"কি নিয়ে ফিসফিস হচ্ছে দুজনার মধ্যে? "
কড়ি হেঁসে উত্তর দিলো...
"তেমন কিছুই না আন্টি, বলছিলাম যে তোমার একটা ছেলে থাকলে আমি তাকে বিয়ে করে নিতাম,,তুমি এতো সুইট, আমার তোমার কাছেই থেকে যেতে ইচ্ছে করছে। "
আফরোজা বেহম চমৎকার হাসলেন।আরজু মুগ্ধ নয়নে দেখলো সেই হাসি৷ তার মা টা যে বহুকাল এভাবে হাসে না। বাবার পর নিবিড় ভাই-ই ছিলো আফরোজা বেগমের এক মাত্র হাসির কারণ। কিন্তু সেও তো....
নীরবে চোখের কোনের জল মুছলো আরজু৷ ইন্দুর নজরে পড়তেই সে এসে পেছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরলো আরজুর। আহ্লাদী স্বরে বললো...
"এই পাগলি মেয়ে, কাদছিস কেন তুই? আন্টি তো এখন থেকে তোর কাছেই থাকবে। দেখ কত খুশি আন্টি। "
আরজু ভাঙা গলায় বললো....
"নিবিড় ভাইয়ের কথা খুব মনে পড়ছে রে ইন্দু। সে থাকলে কখনোই আম্মুকে এখানে নিয়ে আসতে দিতো না।"
"সে থাকলে তো তোকেও বাড়ি ছাড়তে হতো না আরজু। এসব ভেবে লাভ আছে এখন? প্লিজ তুই নিজেকে শক্ত কর। জীবন তো এক দিকে থেমে থাকে না। তুই না বলেছিলি, আন্টিকে নিয়ে আসলে ঐ বাড়ির কথা মন থেকে ভুলে যাবি?"
আরজু উপরনিচ মাথা ঝাকালো।ইন্দু বললো...
"তাহলে আবার ওসব মনে করে কাঁদছিস কেন বোকা মেয়ে। থাম এবার। "
আবির্ভাব এগিয়ে এলো...
"আপনাদের আবার কি হলো ম্যাডাম?"
ইন্দু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আলতো হাসলো। বললো....
আরজু চিন্তা করছে পুরো ফ্ল্যাটটা কিভাবে গোছাবে এখন।কাজের চিন্তায় কান্না করছে গাধিটা।"
মুখ থেকে কথাটা বের হতে দেরি। হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকলো তুরুলা বাহিনী। হাতে অনেকগুলো ব্যাগপত্র। সায়র এসে বললো...
"গায়েজ,ঘর গোছানোর জন্য আমরা আজাইরা তুরুলা বাহিনী চলে এসেছি।"
সবাইকে দেখে আরজু অবাক,জিনিস পত্র দেখে হা হয়ে গেলো সে।বললো....
"তোমরা সবাই ঘর গোছাবে মানে?? আর এসব কেন? আমি তো একাই পারতাম। "
ছায়া বললো...
"আরজু বেইবি,, আমরা একা আসিনি। আরেকজনও এসেছে। ঐ যে..."
ছায়ার ইশারাকৃত জায়গায় তাকাতেই দেখলো কান্তা মির্জা কুশল বিনিময় করছে আফরোজা বেগমের সাথে। মিনিট খানেকের মধ্যেই দুজনের ভাব একদম জমে ক্ষীর।আবির্ভাবও অবাক তার মা কে দেখে। জিজ্ঞেস করলো...
"মা? তুমি এখানে? "
কান্তা হেঁসে বললো..
"হ্যা, আরজুর আম্মুকে নিতে এলাম৷ "
আরজু এবার জিজ্ঞেস করলো...
"আম্মুকে কোথায় নিবেন এখন আন্টি?"
কান্তা উত্তর দিলো...
"আমাদের বাড়িতে। "
সাথে সাথেই আরজু বাঁধা দিয়ে বললো..
" না না আন্টি। আম্মুকে এখন আর কোথাও নেওয়া লাগবে না, মাত্র এলো,জিরিয়ে নিক একটু। "
কান্তা মির্জা এবার কড়া স্বরে বললো...
"মুখে মুখে তর্ক আমার একদম পছন্দ নয় মেয়ে। যা বলছি শুনো। সন্ধ্যা হয়েছে। তোমরা সবাই মিলে ঘরটা গুছিয়ে নাও, তোমাদের মাঝে আপা শুধু শুধু বিরক্ত বোধ করবে। এর থেকে ভালো আমিই সাথে করে নিয়ে যাই,কিছুক্ষণ গল্পগুজব করি। কাজ শেষ হলে সবার সাথে আমাদের বাড়িতে যাবে, আজকের ডিনার ওখানেই করবে তারপর আপাকে নিয়ে ফিরবে৷ একরাতের জন্য রান্নাবান্নার বাড়িতে ঝামেলা করো না।"
আরজু এবার মিনমিনিয়ে বললো...
"কিন্তু আন্টি..."
"বড়রা কিছু বললে শুনতে হয় বুঝলে? আর শুনো, ওসব আন্টি ফান্টি বাদ দাও৷ তিয়াস সহ সবাই আমাকে বড়মা বলে ডাকে, তুমিও তাই ডাকবে, আর আমিও বাকিদের মতোই তুই করেই বলবো,মনে থাকবে? "
আফরোজা বেগম, কান্তার কড়া স্বরের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হাসলেন।তার মেয়েটা সহজে কারো কথা শুনে না,চিন্তা ভাবনা করে নিজের যা ভালো মনে হয় তাই করে। কান্তা মির্জা যা হয় একটু শাসনেই রাখুক৷
আরজু না চাইতেও সৌজন্যতার খাতিরে রাজি হলো। আবির্ভাব বললো...
"তোরা কাজ শুরু কর,আমি আম্মুদের বাড়িতে দিয়ে আসি। "
যদিও দুটো বাড়িই সামনাসামনি,রাস্তার এধার আর ও ধার। তবুও আবির্ভাব বয়ষ্ক মানুষ দুটোকে একা ছাড়তে চাইলেন না রাতের বেলায়, রাস্তা পাড় হতেও তো সমস্যা হতে পারে৷
"তুই অনেক করেছিস, আর আসা লাগবে না। "
আফনানের কথা শুনে আবির্ভাব ভ্রু কুঁচকে বললো...
"আমি একশবার আসবো, তোর কি?"
আফনান হেঁসে বললো...
"আমার কিছুই না,তবে তোর ব্যন্ড বাজাবো শা'লা, লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করিস, আর আমরা বললেই কিছু না?"
আবির্ভাব চোখ গরম করে তাকালো আফনানের দিকে। ছবিও এগিয়ে এসে আফনানকে কনুই দিয়ে গুতা মেরে বললো...
"আফনাইন্না, চুপ যা। "
আবির্ভাব প্রেম করছে শুনে আরজু শুধু একবার ফিরে তাকালো আবির্ভাবের দিকে,ব্যস আর কোনো প্রতিক্রিয়াই লক্ষ্য হলো না। কিন্তু অহি অবাক কন্ঠে বললো...
" কি?? আবির্ভাব ভাই প্রেম করছে? কার সাথে, কে সেই মেয়ে? আমি তো কিছুই জানি না। "
সায়র এবার অহিকে বললো....
"তুই বাড়িতে থাকিস কতক্ষণ, যে জানবি? "
অহি বললো...
"তাও বলবি না? "
আবির্ভাব এবার বললো..
"তুই যে কত কিছু করিস আমাদের বলিস সব? আমরা জানাতাম? "
অহির থেকে উত্তরের আশা না করেই আবির্ভাব আবার বললো...
"বাদ দে, তোরা শুরু কর, আমিও আসছি। "
---------
রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে বাড়ি ফিরলল রাত ও আনান। ড্রয়িংরুমে উপস্থিত বাড়ির বড় রা। আবরার মির্জারাও টুকটাক কথা জুড়েছেন আফরোজা বেগমের সাথে। রাত গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার নিচে এলো। আসার সময় ইন্দুর রুমেও ঘুরে এলো, কিন্তু সে রুমে নেই। বাড়িটাও কেমন শান্ত শান্ত লাগছে। রাত এবার বললো...
"ওরা সবাই কোথায় আম্মু?"
সাবিহা উত্তর দিলো..
"আরজুদের ফ্ল্যাটে, ঘর গুছাবে বলে গেছে সবাই মিলে। তুই বস, আমি কফি পাঠাচ্ছি।"
রাত সাথে সাথেই নাকোচ করে বললো...
" না আম্মু, এখন দিও না। আমি যাচ্ছি ওখানে৷ "
এবার কান্তা ডেকে বললো...
"রাত বাবা, যাচ্ছিস যখন কাজ শেষ হলে ওদের নিয়েই ফিরিস। "
"আচ্ছা বড়মা। "
বলেই চলে গেলো রাত। আফরোজা বেগম হেঁসে বললো...
"সত্যিই আপনাদের ছেলেমেয়ে সবগুলো খুব ভালো, আমার মেয়েটা একা হাতে সবটা সামলাতে হিমসিম খেয়ে যেতো, আমাকেও তেমন কিছু করতে দেয় না। "
মিশি হেঁসে বললো...
"আরে আপা, আমাদের ছেলে মেয়ে গুলো এসব কাজ পেলে আরো আগ্রহ নিয়ে যায়। ওদের কাছে এসবও যেন নিজেদের আনন্দের মধ্যে পড়ে। যা করবে একসাথেই করে নিবে। "
সাবিহা বললো...
"হ্যা, এখন তো তিয়াসটাও যোগ হয়েছে, একদম একই রকম। "
আফরোজা বেগম বললো...
"আপনারা তিয়াস তিয়াস করছেন যে? ওর নাম তো তিয়াস না। "
লিয়ানা বললো...
"আমাদের রাত বাবা ওকে তিয়াস বলেই ডাকে, সেই থেকে আমরাও ঐ নামেই ডাকি আরকি। "
হাসলো আফরোজা। বললো..
"ওহ আচ্ছা, ইন্দু এমনিতেই খুব ভালো মেয়ে, একদম ছোট থেকে দেখছি আমি৷ কিন্তু আল্লাহ ওর ভাগ্যটা যে কেন এমন বানালো।"
--------
ফ্ল্যাটের দরজা হা করে খোলাই ছিলো। তবুও রাত দুটো টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। পৃথিবীর হাতে ক্যামেরা, রাতের দিকে ঘুরিয়েই বলে উঠলো...
"অবশেষে আমাদের রাত ভাইও এসে হাজির হলো। "
রাত পাত্তা না দিয়ে টাঔজারের পকেটে দু হাত গুঁজে গিয়ে বসলো সোফায়। জিজ্ঞেস করলো...
"কতদুর হলো তোদের? "
সায়র বললো...
"প্রায় শেষ, যাস্ট ঝাড়পোঁছ বাকি। "
সবাই একে একে এসে বসতে লাগলো সোফায়, চেয়ারে যেখানে পারছে৷ ফ্লোরে ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বলে সেখানে বসার জো নেই।
আবির্ভাব ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানির বোতল বের করে সবার জন্য আনতে লাগলো। রাত এদিক ওদিক তাকিয়ে ইন্দুকে না দেখে বললো...
"তিয়াস কোথায়? "
ছায়া পানি খেতে খেতেই আঙুল দিয়ে ইশারা করে একটু ভেতরের দিকে দেখালো। রাতও মাথা কাত করে দেখলো ইন্দু মই এর উপর থেকে আস্তে ধীরে নামছে।
"ওকে উপরে উঠিয়েছিস কেন তোরা? "
রাতের কথায় রণ সোফায় হেলান দিয়ে বললো...
"আমরা বলিনি, ও নিজেই উঠেছে ওয়ালমেট লাগানোর জন্য। "
বলতে বলতেই ইন্দু এসে পৌছালো সেখানে। ক্লান্ত চোখ দুটি ঘুরিয়ে দেখলো সোফায় বসার জায়গা নেই আর। রাত উঠতে নিয়ে বললো...
"এখানটায় এসে বসো। "
সাথে সাথেই ইন্দু বারণ করে বললো...
"না নাহ, আপনি বসুন, আমি আছি। "
বলেই এগিয়ে এসে ফ্যান বরাবর উপরে মুখ তুলে দাঁড়ালো সে। রাত হাফ নিঃশ্বাস ফেলে একহাতে টান দিয়ে ইন্দুকে নিজের দু পায়ের উপর বসালো। টাল সামলাতে না পেরে ইন্দু বলতে নিলো...
"আরেহ.."
"আমিও বসেছি, তুমিও বসবে। কি অবস্থা করেছো নিজের। "
বলতে বলতেই রাত পকেট থেকে রুমাল বের করে নিজ হাতেই ইন্দুর মুখের গলার ঘাম মুছিয়ে দিতে লাগলো। ইন্দু ক্লান্ততায় নিজের শরীরের ভর এলিয়ে দিলো রাতের গায়ে। রাতের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বুজে রইলো সে।রাতের প্রশান্তি যেন ঐ টুকুতেই, মেয়েটা যে তার কাছে অস্বস্তি অনুভব করছে না সেই তো অনেক।
রাত আস্তে করে ইন্দুর কপালে লেপ্টে থাকা চুল গুলো গুছিয়ে নিয়ে খোলা চুলগুলোয় হাত খোঁপা করে দিলো। ইন্দু ক্লান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলো...
"আনান ভাইয়া আসে নি? "
রাত উত্তর দিলো..
"উহুম।"
"ওহ। "
"শরীর খারাপ লাগছে তোমার? "
রাতের কথা শুনে পৃথিবী হাঁপাতে হাঁপাতে বললো...
"ভাই, কাজ আমরা সবাই করেছি। আমদেরও একটু জিজ্ঞেস কর। "
ক্লান্ততা নিয়েও হেঁসে দিলো সবাই। ইন্দুও হাসলো চোখ বুজেই। আবির্ভাব জিজ্ঞেস করলো...
"ইন্দু, পানি দেবো তোকে? "
"হুম "
আবির্ভাব ঠান্ডা পানি অল্প একটু দিয়ে সেখানে বাকিটুকু নরমাল পানি মিশিয়ে এনে দিলো রাতের হাতে। রাত চেক করে তারপরই ইন্দুকে খেতে দিলো। তারপর সবার উদ্দেশ্যে বললো...
"তোদের কাজ শেষ হলে চল এবার।"
আরজু উত্তর দিলো...
"রুমটা ঝাড়ু দিলেই শেষ। এইটা আমি করে নিচ্ছি, তোমরা সবাই যাও তাহলে, আর কিছু করা লাগবে না। "
আবির্ভাব বললো...
"হ্যা হ্যা,,তোরা যা, আমি আরজুকে নিয়ে আসছি কাজটা শেষ করেই।"
আরজু সাথে সাথেই বাঁধা দিতে নিয়ে বললো..
"আপনিও চলে যান,,আমি একাই... "
রাত উঠে দাঁড়ালো ইন্দুকে পাঁজা কোলে নিয়ে, বললো...
"আবির্ভাবই তোমাকে নিয়ে আসবে আরজু। কথা বাড়াইও না, চল সবাই। "
বলেই ইন্দুকে নিয়েই হাটা ধরলো সে। বুঝতে পেরে ইন্দু হেসে বললো...
"আল্লাহ আপনাকে রহম করুক রাত ভাইয়া, একটুও হাটতে হাঁটতে ইচ্ছে করছিলো না। "
রাত উত্তর দিলো না। নীরবে হেঁসে আপন মনেই বিড়বিড় করলো.....
"আমার প্রিয় স্বপ্নদর্শী, আপনি চাইলে আমি সারা জীবন আপনাকে এভাবেই কোলে নিয়ে বিশ্ব পাড়ি দিতে পারবো, আপনার কোমল চরনে মৃত্তিকার স্পর্শ লাগতে দিবো না, কারন আপনি আমার প্রাণভোমরা যে, আপনাকে অবহেলা করে কি করে বাঁচার সাধ্যি যে এই মৃগাঙ্ক মির্জার নেই। "