"ঐ বাড়িতে তোর কেমন লাগে রে?"
আরজুর কথায় ইন্দু মুখে হাসির রেখা টেনে বললো...
"অনেক ভালো দোস্ত। বাড়ির মানুষ গুলো এত্তো মিশুকে। কিন্তু তোকে খুব মিস করি। "
"আর রাত ভাইয়ে কেমন লাগে? "
ইন্দু স্বাভাবিক কন্ঠেই উত্তর দিলো...
"উনি একটু গম্ভীর। সবাই ভয় পায়, তবে আমি এখনো ভয় পাওয়ার মতো কারন খুঁজে পেলাম না। আর এমনিতে সুন্দরই আছে। "
আরজু আস্তে করে উত্তর দিলো..
"আচ্ছা।"
" তুই আমাকে মিস করিস না আরজু? "
ইন্দুর কোমল কন্ঠের সুরে আরজু মুখ তুলে তাকালো। বিষাদ হেঁসে বললো...
"খুব মিস করি তোকে। কিন্তু আমার কাছে থাকতে তুই নিরাপদ নস, আমি তোর ক্ষতি চাইতে পারবো না রে। "
ইন্দু ভাবলেশহীন ভাবে বললো...
"আচ্ছা আরজু, লিমা আন্টির মৃ'ত্যুর পিছনে কোনো ভাবে আমিই দায়ী নয় তো?"
আরজুর পা থেমে গেলো। স্তব্ধ নয়নে ইন্দুর দিকে তাকিয়ে বিরস এক ঢোক গিললো সে। ইন্দু দু গালে কোমল হাত দুটি রেখে বললো...
"এমন কিছুই না ইন্দু। আন্টির হায়াত এতটুকুই ছিলো, সব কিছু উপরওয়ালার ইচ্ছে। তুই নিজেকে এভাবে দায়ী করিস না। আর তদন্ত চলছেই তো, দেখিস সত্যিটা ঠিক বেরিয়ে আসবে। "
"তাই যেন হয় আরজু। "
আরজু আবার ইন্দুর হাত ধরে বেরিয়ে এলো কলেজ গেইট থেকে। কলেজ থেকে আরজুর ম্যাচ হাটা পথেই, কিন্তু মির্জা বাড়ি প্রায় এক ঘন্টার পথ।
ঐ বাড়িতে যাওয়ার পর আজ নিয়ে তৃতীয় দিন ইন্দু কলেজে এসেছে। প্রতিদিনই ড্রাইভার এনে দিয়ে গেছে তাকে। আরজুকে রাত ফোনে কড়া নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে, ছুটির পরে বাড়ি থেকে গাড়ি আসার আগে পর্যন্ত যেন ইন্দুকে একা না ছাড়ে। সেই কারনেই গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে এখন তারা।
হাত ঘড়িটায় একবার সময় দেখে নিয়ে আরজু বললো...
"কতক্ষণ লাগবে কে জানে।আমার তো লেইট হয়ে যাচ্ছে। "
ইন্দু ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো...
"তোর আবার এই সময় কি কাজ, যে দেরি হয়ে যাচ্ছে? "
"আরো দু ঘন্টার দুটো টিউশন নিয়েছি আজ থেকে। "
"আরো দুটো টিউশন? আরজু তুই পাগল হলি? একটুও জিরিয়ে নেওয়ার ফুসরতও রাখলি না? "
আরজুর কন্ঠ নিভে এলো।আস্তে করে বললো....
"ও বাড়ি থেকে আম্মুকে নিয়ে আসতে হবে রে। খুব সমস্যা হচ্ছে। তাই ভাবছি এবার টিউশনের এডভান্সটা দিলেই ছোটখাটো একটা বাসা ভাড়া নেবো। ম্যাচে আম্মুকে নিয়ে থাকা সম্ভব না। "
তখনই পাশে এসে থামলো আবির্ভাব। আরজুর কথা কানে যেতেই বললো...
"কি ব্যপার? বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা হচ্ছে যে? বেশি সমস্যা হলে আমাদের বাড়িতে চলো? "
আরজু সাথে সাথেই মানা কডে বললো...
"অসম্ভব। আমি মিটিয়ে নেবো আমার ব্যপার। "
আবির্ভাব আর আপাতত কথা বাড়ালো না এই নিয়ে। দুজনের দিকে দুটো কোল্ড ড্রিংকস এগিয়ে দিয়ে বললো...
"নাও, যেই গরম পড়ছে। ঘামে বার বার গোসল করা লাগছে যেন। "
আরজু আর ইন্দু দুজনেই কোল্ড ড্রিংকস হাতে নিয়ে থ্যাংকস জানালো আবির্ভাবকে। ইন্দু বোতলের ছিপি খুলতে নিলেই আরজু হাত দিয়ে বাঁধা দিয়ে বললো...
"আরেকটু পরে খাইস, অনেক ঠান্ডা এটা। "
এরপর আবার আবির্ভাবের দিকে তাকিয়ে বললো...
"ইন্দুকে অতিরিক্ত ঠান্ডা কিছু দিয়েন না ভাইয়া।ওর ঠান্ডায় সমস্যা হয়। নিজে থেকে কখনোই এইসব খেয়াল রাখতে পারে না ও। "
আবির্ভাব বললো..
"আচ্ছা আমি জানিয়ে দেবো ভাইকে। চলো, গাড়ি রোদের কারনে একটু দুরেই পার্ক করেছি। "
ইন্দু এবার আরজুর দিকে তাকিয়ে বললো...
"তোর নতুন টিউশন কোথায়? "
আরজু জায়গার নাম বলতেই আবির্ভাব বললো..
"ওটা তো আমাদের যাওয়ার পথেই৷ চলো গাড়িতে করে, তোমাকেও পিক করে দেবো। "
"না ভাইয়া, আমি হেঁটেই চলে যেতে পারবো। আপনি ইন্দুকে নিয়ে যান। "
আবির্ভাব এবার একটু ধমক দিয়েই বললো...
"গাড়িতে উঠতে বলছি মেয়ে। "
আরজু আর না করতে পারলো না। গাড়িতে করেই যেতে হলো তাকে।
-------------------
"তুই নাকি এইবার জাপানের প্রোজেক্টটা ক্যান্সেল করে দিয়েছিস ভাই? "
আনানের প্রশ্নে রাতের ভাব গতির কোনো পরিবর্তন হলো না। আগের মতো করেই ফাইলের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বললো..
"হুম "
"কিন্তু কেন? তুই তো এভাবে বড় প্রজেক্ট মিস দিস না ভাই। তাও আবার কোনো রিজন ছাড়াই। "
"এই মুহূর্তে তিয়াসকে রেখে দুরে থাকাটা সম্ভব না আমার। "
আনান হা হয়ে গেলো। তিয়াসের জন্য যে রাত বিজনেস প্রজেক্ট মিস করতে পারে এটা যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না তার।অবাক কন্ঠে বললো...
"ভাই, তিয়াসের জন্য? "
"হুম "
"কিন্তু ও তো সেইফ আছে। বাড়ির সবাই তো আছেই।"
"আমি থাকতে পারবো না দূরে। "
রাতের সরাসরি উত্তরে আহাম্মক বনে গেলো আনান। ঢোক গিলে বললো....
"এই ক' দিন তুরগ লাহোর যেভাবে পেছনে লেগেছে,তিয়াস ছাড়া সন্দেহের তীর আর কারো দিকেই যাচ্ছে না। "
রাত উত্তর দিলো না। চুপচাপ ফাইল দেখায় মনোযোগ দিলো। আনানও যেন বুঝলো রাত যে এই বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাইছে না। তাই প্রসঙ্গ পালটে বললো...
" মি.রাকেশ আ্যাপোয়েন্টম্যান্ট নিয়েছে তোর। বিজনেস ডিল করতে আসবে চারটার দিকে। "
বলেই বেরিয়ে গেলো আনান। পকেটে বাজতে থাকা ফোনটা এবার কানে নিয়ে বললো..
"বলো সাঁজির মা।"
----------
তুরুলা বাহিনী মিলে গীতি চর্চা কক্ষটা খুব সুন্দর ভাবেই পরিষ্কার করলো। এখন রুমটাকে দেখে আর ভুতুড়ে মনে হয় না। বাদ্যযন্ত্র গুলোও সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখা হলো। মাঝে আবার বড় করে সবাই মিলে বসার মতো জায়গাও করা হলো নিচে ফোম, কুশন দিয়ে। সব পরিষ্কার করে যে যার মতো রুমে গেলো গোসল সাড়তে।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলো। ছোটরা প্রায় সবাই-ই বাড়িতে। বাড়ির কর্তারা ফিরিছেন আরো আগেই। এখন চার ভাই মিলে এশার নামাজ আদায় করতে মসজিদে গেছেন, মাঝেমধ্যেই চার ভাই একত্রিত হয়ে যায় এমন।
আনান আর রাত মাত্রই ফিরেছে বাড়ি। ড্রয়িং রুমে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো তট,অহি,ছায়া,রণ আর আফনান।বাকিরা যে যার রুমে। একটু পরেই হঠাৎ পৃথিবী খুশিতে আত্মহারা হয়ে নিচে নামতে নামতে চেঁচিয়ে বললো...
"গায়েজ, ইয়ে কেয়া হোগেয়া। মেরা তো লুঙ্গি কি তারহা কিসমত ভি খুল গেয়া। "
পৃথিবীর এমন চেচামেচি শুনে করিডোরে গল্প করতে থাকা সায়র আর কড়িও এগিয়ে এলো। আনান হেঁসে জিজ্ঞেস করলো...
"শা'লা লুঙ্গি কেমনে পরে সেটা জানিস? ঠিক মতো না পড়লে তো খুলবেই লুঙ্গি। "
রণও এবার আনানের সাথে তাল মিলিয়ে বললো...
"আনান ভাই, তুই বলছিস লুঙ্গির কথা। এই পৃথিবীর তো মাঝে মধ্যে প্যান্টের জিপ ও খোলা থাকে। "
রণের কথা শুনে সবাই ফিক করে হেঁসে দিলো। পৃথিবী এবার মুখ গোমড়া করে বললো...
"ধুর, আইলাম একখান সুখবর দিতে। তোরা করিস আমারে পচানি। "
সায়র এবার বললো...
"আহারে, এই সবাই থাম। বাবুটা কে খুশিস খবর বলতে দে। নে বল?"
পৃথিবী এবার উত্তেজিত হয়ে বললো...
"গায়েজ, তিনদিন আগে যে ভিডিওটা করেছিলাম, ঐ যে তিয়াসকে বোকা বানিয়ে পুলে ফেলা নিয়ে, ঐ ভিডিওটায় 60k+ ভিউ'স।"
সবাই এবার হাত তালি দিয়ে ওওওওউ বলে চেঁচিয়ে উঠলো। সায়র তো নিজের ক্যামেরা অন করতে করতে বললো...
"গায়েজ, আজকের ভিডিও আমার তরফ থেকে.. "
বলেই হাত টান টান করে ক্যামেরা অন করে বলতে লাগলো...
" ওয়েলকাম টু তিড়িংবিড়িং৷ আজ আপনারা পৃথিবীর বদলে সায়র মির্জার মুখ খানা দেখছেন কারন আজ পৃথিবী মির্জা খুশিতে লুঙ্গি কিনার প্ল্যানিং করতে ব্যস্ত। আর খুশির খবরটা কি জানেন? যেই পৃথিবী মির্জা আজ প্রায় দু বছর ধরে সারাদিন ভিডিও আপলোড দেওয়ার পরেও সামান্য 5k ভিউ'স উঠাতে পারেনি, সেখানে আজ আমাদের সকলের প্রিয় তিয়াসের কেরামতিতে পৃথিবী মির্জার ভিডিওতে 60 k ভিউ'স। ওহোওও.."
সায়রের এমন কথা শুনে পৃথিবী দ্রুত সায়রের হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে বললো...
"শা'লা তুই আমার প্রশংসা না করে পচাচ্ছিস বেয়া'দব?"
কড়ি এবার বললো...
"ঐ তোরা থাম। খুশির খবরটা তিয়াসকে দিতে হবে। "
"হ্যা কিন্তু তিয়াস কই? "
রণের প্রশ্নে এবার অহি উত্তর দিলো...
"তিয়াস তো তার রুমেই। কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে শুনলাম।"
মুহুর্তেই চমকালো আনান, তট আর রাত। রাত দ্রুতই অহিকে ঘুরিয়ে প্রশ্ন করলো...
"কার সাথে কথা বলছে তিয়াস?"
অহি ভান করে বললো..
"তা তো জানিনা ভাই। তবে দেখলাম খুব ফিসফিস করেই কথা বলছে। আমি তো হেটে আসার সময় শুনেছি, এতটা খেয়াল করিনি। "
রাত সাথে সাথেই উঠে দাঁড়ালো। দ্রুত গতিতে বড় বড় কদম ফেলে এগিয়ে গেলো ইন্দুর রুমের দিকে। রাতের মাথা গরম দেখে আনান বার বার পেছন থেকে বলতে লাগলো...
"রাত ভাই শান্ত হ। উল্টোপাল্টা কিছু করিস না প্লিজ।মাথা ঠান্ডা কর। "
অবস্থা বেগাতিক দেখে বাকিরাও এগিয়ে গেলো সেদিকে। এদিকে অহি কুটিল হেঁসে আস্তে করে ফোনে এলমাকে মেসেজ দিলো..
"সময় চলে এসেছে। রেডি থাকিস তোরা। এক মিনিটও যাতে এদিক সেদিক না হয়। "
মেসেজটা সেন্ড করেই অহিও ছুটলো তিয়াসের রুমের দিকে।
তিয়াসের রুমে ঢুকতেই দেখলো তিয়াস আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে ভেজা চুল গুলো মুছছে। রাত রাতে পেছন থেকে ইন্দুকে বাহু চেপে নিজের দিকে ঘোরালো। আকস্মিক এমন কান্ডে ইন্দু কিছুটা ভয় পেলো বটে। হাত থেকে তোয়ালেটা ছুটে ফ্লোরে পড়লো। রাতকে দেখে কিছুটা সস্তি পেয়ে বললো...
"ওহ, আপনি? আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম। "
বলতে বলতেই নিচু হয়ে তোয়ালেটা উঠাতে গেলে রাত আবারও তার বাহু চেপে ধরে দাঁড় করালো। ইন্দু জিজ্ঞেস করলো...
"কি হয়েছে? "
রাত সাথে সাথেই কাঠ কাঠ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো...
"কার সাথে কথা বলছিলে তুমি? "
ইন্দু স্বাভাবিক ভাবেই বললো...
"কই, কারোর সাথেই কথা বলছিলাম না তো,,রুমে তো আমি একাই ছিলাম।"
রাত এবার একটু চেচিয়েই জিজ্ঞেস করলো...
"ফোনে কার সাথে কথা বলছিলে তুমি?"
ইন্দু এবারও আগের মতো করেই উত্তর দিলো..
"ওহ ফোনে? আরজুর সাথে কথা বলছিলাম একটু। "
রাত এবার বললো...
"সত্যি করে বলো,, ফোন কোথায় পেয়েছো তুমি? "
রাতের রাগ সম্পর্কে বাড়ির সবারই ধারনা রয়েছে। ভয়ে কেউ সামনে আগাচ্ছে না। ইন্দুর প্রতি জমে থাকা সন্দেহ সত্যি হতে দেখেই তট এগিয়ে এসে বললো...
"আমি তোকে আগেই বলেছিলাম ভাইয়া। এই মেয়েটা নিশ্চয়ই কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে। ওকে কেউ পাঠিয়েছে। "
তটের কথা শুনে ইন্দু দ্রুত দু পাশে মাথা নেড়ে বললো...
"আপনি ভুল ভাবছেন ভাইয়া,, আমাকে কেউ পাঠায় নি এখানে। আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই। "
রাত সাথে সাথেই জিজ্ঞেস করলো..
"তাহলে ফোন কোথায় পেয়েছো তুমি? বলো কোথায় পেয়েছো? "
ইন্দু ভয় পাচ্ছে। রাতের চেপে রাখা বাহুতে ব্যাথা লাগছে। সেদিকে একবার তাকিয়ে ফুঁপানো কন্ঠে বললো...
"ফোন তো আবির্ভাব ভাইয়ের। "
তট বললো...
"মিথ্যা বলছো কেন তুমি। আবির্ভাব ভাই তো এখনো বাড়িতেই ফেরে নি। "
রাত সাথে সাথেই বললো...
"নাহ, উনি ফিরেছে তো। উনিই তো আমাকে ফোন দিয়ে গেলো আরজু কল দিয়েছে বলে। কথা শেষ হতেই আমি ওনার রুমে গিয়ে ফোন দিয়েও এসেছি। "
রাত এবার দরজার দিকে তাকিয়ে বললো...
"আবির্ভাব রুমে কিনা দেখ, "
সম্মতি জানিয়ে কড়ি গেলো আবির্ভাবের রুমের দিকে। মনে মনে প্রার্থনা করলো যেন আবির্ভাব রুমেই থাকে। না হলে আজ তিয়াসকে মেরেই ফেলবে রাত ভাই।
এদিকে অহি সবার অগোচরে বাকা হেঁসে ফোনে এলমা কে ছোট্ট করে একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিলো। মনে মনে বললো...
"খেলা তো এখন শুরু হবে। "
কড়ি এসে নিচু কন্ঠে জানালো..
"আবির্ভাব ভাই রুমে নেই। "
সাথে সাথেই রাতের অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ হলো ইন্দুর দিকে। ইন্দু প্রচন্ড ভয় পাচ্ছে, চোখে পানি টলমল করছে তার। সেই টলমলে, গোলগোল চোখ নিয়েই ভীত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে রাতের দিকে। কান্না জড়ানো কন্ঠে বলতে লাগলো...
"বিশ্বাস করুন,আবির্ভাব ভাই-ই ফোন দিয়ে গেছে আমাকে। আরজুর সাথেই কথা বলছিলাম। "
রাত কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই রুমে বিকট শব্দে বেজে উঠলো একটি ফোন৷ অহির মুখে ফুটলো জয়ের হাসি।
রাত, তট সহ সবার দৃষ্টি এখন বাজতে থাকা ফোনে। ইন্দুও অবাক, রুমে কার ফোন বাজছে?
শব্দের উৎস অনুযায়ী ফোনটা খুঁজে পেলো দরজার সাথে থাকা টেবিলের উপর একটি ফুলদানির ভেতরে। তট ফোনটা হাতে নিয়েই স্ক্রীনে জ্বলজ্বল করতে থাকা নামটা দেখে রাতকে দেখালো। তুরগ নামটা দেখেই রাতের কপালের রগ গুলো ফুলে উঠলো আরো। তট রিসিভ করে লাউডে দিলো ফোনটি। সাথে সাথেই ওপাশ থেকে তুরগের কন্ঠ ভেসে এলো...
"হেই তিয়াস, আর ইউ ওকেয়? একটু আগে হঠাৎ কথার মাঝে ফোন কেটে দিলে, বললে মৃগাঙ্ক মির্জা আসছে। কিছু হয়েছে? তোমাকে আবার সন্দেহ করছে না তো কোনো ভাবে? "
তিয়াস ফোনের দিকে বড়বড় চোখে তাকিয়ে হা হয়ে রইলো। এ কোন নতুন বিপদ এগিয়ে এলো তার?
রাত রাগে তটের হাত থেকে নিয়ে ফোনটা ছুঁড়ে ফেললো। ইন্দু থরথর করে কাঁপছে। তবুও বলতে নিলো...
"বিশ্বাস করুন, আমি জানিনা এসব..."
বাকি কথাটুকু আর শেষ করতে পারলো না, তার আগেই রাতের শক্তপোক্ত হাতের থাপ্পড় পড়লো ইন্দুর বা গালে। টাল সামলাতে না পেড়ে ছিটকে পড়লো সে ফ্লোরে। গালে হাত দিয়ে আর্তনাদ করে উঠলো মেয়েটা।
রাতের মেজাজ চরম পর্যায়ে। যাকে নিজের স্বপ্নের মোনালিসা ভেবে এতটা বিশ্বাস করে বাড়িতে এনেছে,শুধু মাত্র সারাটাক্ষন নিজের চোখের সামনে দেখার জন্য, আজীবনের প্রশান্তির জন্য সেই মেয়েটাই কিনা রাতের শত্রুপক্ষ? মেনে নিতে পারছে না সে, রাগে হিতাহিত জ্ঞান যেন হারিয়ে ফেলছে সে। কেন তার সাথেই এমন হলো? কেন?
ফ্লোরে ছিটকে পড়া ইন্দুর গালে আরো একটা থাপ্পর দিলো রাত। রাগে শক্ত হাতে হুট করেই গলা চেপে ধরলো ইন্দুর। হিসহিসিয়ে বললো....
" তোকে আমি নিজের প্রাণ ভেবে নিয়ে এসেছিলাম। তোকে সামনে রেখে মনের তৃপ্তি মেটাবো বলে নিয়ে এসেছিলাম। এতো মায়া, এতো মায়া মুখ তোর, আমি মৃগাঙ্ক মির্জা বুঝতেই পারিনি তোর মন এতো কুৎসি'ত। তুই আমার দূর্বলতা, এটা বুঝতে পেরে আমারই পেছনে ছু'রি মারার জন্য লেগেছিস তুই। ঐ তুরগের হয়ে কাজ করছিস, তোকে আমি ছাড়বো না। ছারবো না তোকে.."
ইন্দুর মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। বার বার দু হাত দিয়ে রাতকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে সে। কিন্তু পারছে না। দম আটকে আসছে তার, এই বুঝি প্রানপাখি তার উড়ে গেলো বলে ইন্দুবালার...