ভার্সিটি ক্যাম্পাসের এককোনে একটা বাইকে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে এলমা খান। পড়নে ব্ল্যাক সুট। ঠোঁটে টকটকা কালছে খয়েরী লিপস্টিক, বাম ভ্রু এর কোনায় একটি গোল রিং।কোঁকড়ানো চুলগুলো ঘাড় সমান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
সামনেই শানে বাঁধানো গাছের নিচে বসে অহি। নীরবতা ছাড়িয়ে এলমা বলে উঠলো...
"তিয়াস, হুট করেই কোথা থেকে উদয় হলো এই মেয়েটা। আমার সব প্ল্যান ভেস্তে দিলে তো সর্বনাশ। একে যে করেই হোক সরাতে হবে রাতের জীবন থেকে। "
অহি উত্তর দিলো...
"তুই প্যারা নিস না। মেঝো মা আর তট ভাই ঠিক এই তিয়াসকে সরিয়ে ফেলবে। "
"তোর মেঝো মাের উপর বিশ্বাস নেই। যা করার আমরাই করবো। "
"কিভাবে? "
এলমা বাকা হেঁসে বললো....
"তুরগ লাহোর। একে কবে কাজে লাগাবো আমি? "
অহি চোখ বড় বড় করে বললো...
"মানে? তুরগ লাহোর, রাত ভাইদের য'ম শত্রু। এলমা প্লিজ এসব করিস না। বাজে ভাবে ফেঁসে যাবো আমরা। রাত ভাইয়ের ট্যালেন্ট সম্পর্কে তোর ধারনা নেই। নো এলমা..."
এলমা পাত্তাই দিলো না অহির কথায়। কল দিলো তুরগ লাহোরের নম্বরে....
------
রাত আর আনান অফিসে গেছে। আবির্ভাবও হসপিটালে। তুরুলা বাহিনী বাকিদের আজ ভার্সিটিতে যাওয়ার কথা থাকলেও অহি ছাড়া তেমন কেউই গেলো না। উদ্দেশ্য একটাই। রাত বলে গিয়েছে তার তিয়াস আজ রেস্টে থাকবে, কাল থেকে কলেজ যাবে। তাই ইন্দুও আজ বাড়িতেই। ইতোমধ্যেই ইন্দুর সাথে রাতের মা সাবিহা ছাড়া বাড়ির বাদ বাকি কর্তীদের সঙ্গে ভাব জমে গেছে। এমন কি বাড়ির কর্তারাও টুকটাক কথা বলেছে তার সাথে। সাবিহা আর তট এড়িয়ে চলে ইন্দুকে। তাদের এমন ভাব ভঙ্গি দেখে আশরাব মির্জা গতকাল রাতে একান্তে সাবিহাকে বুঝিয়েছে যাতে ইন্দুর প্রতি একটু সদয় হয়। কিন্তু সাবিহার এক কথা। সে কোনো ভাবেই তার ছেলের জন্য রিস্ক নিতে চায় না। আশরাব মির্জা প্রতিত্তোরে বললো...
"রাত তো বললো একটা সপ্তাহ একটু খেয়াল করতে তিয়াসকে। এরপরই না হয় বুঝে শুনে সীদ্ধান্ত নেবে। "
আশরাব মির্জা ইচ্ছে করেই রাতের বলা বাকি কথাটা এড়িয়ে গেলেন। সাবিহা যে সেগুলো শুনলে কেমন রিয়েক্ট করতে পারে তা খুব ভালোভাবেইজানা আছে তার। এর থেকে ভালো আপাতত কিছু কথা তাদের চার ভাই এর মধ্যেই থাক। সাবিহা ইচ্ছে না থাকা শর্তেও বললেন...
"ঠিক আছে। এই এক সপ্তাহই সই। এর মধ্যে যদি আমি ঐ মেয়ের কোনো কিছু সন্দেহজনক পাই, তাহলে কিন্তু রাতকে ঐ মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করতে হবে। "
সকালের নাস্তা সেরেই সবাই মিলে আজ বাগানের দিকে গেলো। মির্জা ভিলার সদর গেইট দিয়ে ঢুকলেই সোজা সলিং পথ গিয়ে ঠেকেছে বাড়ির সিংহ দ্বারে। সেই পথের বাম পাশেই একটু ভেতরের দিকে বড়সড় গ্যারেজ আর সামনে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হেলিপ্যাড। আর মেইন গেইটের ডানপাশে প্রথমেই একটা সুইমিংপুল, তবে সিস্টেমেটিক্যালি প্রয়োজনে পুরো পুলটি ঢেকে দেওয়াও যায়। আর প্রায়ই এটি ঢাকা থাকে। হুট করে দেখে কেউই বুঝবে না এখানে যে নিচে একটি নীল পানির সমাহার রয়েছে। আর আরেকটু ভেতরের দিকে ফুল বাগান। সেখানেই আজ পরিচর্যার কাজ চলছে তুরুলা বাহিনীর। শুরুতেই সেখানে শুধু ছেলেরা ছিলো।ছায়া-ছবি,কড়ি আর ইন্দু মায়েদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকায় একটু পরেই আসলো সেখানে। ইন্দুকে আসতে দেখেই তটের মেজাজ বিগড়ে গেলো। তক্ষুনি হাতে থাকা কাচিখানা ফেলে রেখে উঠে চলে গেলো বাড়ির ভেতরের দিকে৷ বিড়বিড় করে উচ্চারণ করলো....
"ইরিটেটিং "
ইন্দুর কানে কথাটা আসতেই হাসি মুখটা মুহুর্তেই কালো হয়ে গেলো তার। তট ভাইয়া যে তাকে সহ্য করতে পারে না তা বুঝতে পারে মেয়েটা। ইন্দুর মন খারাপ দেখে ছায়া তাকে নিয়ে সামনে যেতে যেতে বললো..
"আরেহ, তট ভাই এখনো তোকে চিনতেই পারে নি, ঠিক হয়ে যাবে, এখন চল তো। তোকে আজ বাগানটা দেখাবো৷ "
পৃথিবীর হাতে বরাবরের মতোই ক্যামেরা। তবে সে যে কাজ করছে না তা কিন্তু নয়৷ ফলোয়ারদের সাথে বকতে বকতে সেও টুকটাক কাজ করছে। সবাই মিলে আনন্দের সাথেই পুরো বাগানের আগাছা পরিষ্কার করে নিলো। তিয়াসের কথা অনুযায়ী বাগানের চারপাশে নতুন করে মসরোজ রোপনের জন্য মাটিও খুরে রাখা হয়েছে।
রোদ্রত্তাপে এই এতটা সময় কাজ করতে করতে প্রায় সবারই সারা গায়ে কাঁদা মাটি লেগে গেছে। তারওর বাগান থেকে বেরিয়ে এসে একটা জায়গায় থেমেই রণ ইন্দুর দিকে তাকিয়ে বললো..
"এখানটায় একটু বস তিয়াস। জিরিয়ে নে একটু।তারপর গোসল নিস। "
ইন্দু বাধ্য মেয়ের মতোই ফ্লোরে হাটু ভাজ করে বসে পড়লো। মৃদু বাতাস এসে গায়ে লাগায় ভালোও লাগলো একটু। বাকিরাও এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পৃথিবী ব্যস্ত ক্যামেরা হাতে বকবক করতে। হঠাৎই একটু দুর থেকে সায়র চেঁচিয়ে ডাকলো..
"তিয়াস? "
ইন্দু ফিরে তাকিয়ে বললো..
"হ্যা ভাইয়া?"
"একটা ম্যাজিক দেখবি? "
ইন্দু চোখ কুঁচকে বললো..
"ম্যাজিক? "
বলতে না বলতেই সায়র দেয়ালের পাশের একটা সুইচ অন করতেই ইন্দুর বসে থাকা জায়গাটা কেঁপে উঠলো। বুঝতে পেরেই ইন্দু উঠে দাঁড়িয়ে সরে যেতে নিবে তার আগেই ফ্লোরটা দু ভাগ হয়ে দু পাশে দ্রুত সরে যেতে লাগলো৷ ইন্দু টাল সামলাতে না পেরে পিছনে হেলে পড়লো সোজা পুলের পানিতে। সাথে সাথেই তুরুলা বাহিনী চেচিয়ে উঠলো....
"ইয়েএএ"
সবার উদ্দেশ্য যেন সফল। হুটহাট প্ল্যানগুলো আসলেই সফল হলে দারুন লাগে। পৃথিবী ও খুশিতে আত্মহারা হয়ে ক্যামেরা পুলের দিকে তাক করে বললো...
"ইয়াহু গায়েজ, তুরুলা বাহিনী সফল। হুহু.."
তবে সবার আনন্দ মুখ খানা বেশিক্ষন টিকলো না, যখন দেখলো ইন্দু পুলের মধ্যিখানে নীল পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। হাসি নিমেষেই বন্ধ হয়ে গেলো।
"গায়েস, নো সফল, অঘটন ঘটে গেছে... "
বলেই পৃথিবী ক্যামেরা হাতে নিয়েই ছুটলো পুলের কাছে। এদিকে রণ সায়রের দিকে তাকিয়ে বললো...
"কি করে ফেললি সায়রের বাচ্চা.. "
বলেই সেও ছুটলো। সায়র ভয়ে কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গেছে। বা হাতের চারটা আঙুল মুখে পুরে দাত দিয়ে কামড়ে বললো...
" রাত ভাই আজ আমায় মে'রেই ফেলবে। উপরওয়ালে, মুঝে বাঁচা লেনা প্লিজ।"
আফনানও দ্রুত পুল সাইড থেকে টায়ার নিয়ে এসে ঝাপ দিলো পুলে।
ছায়া আর ছবি এক সাথে দাঁড়িয়ে থাকায়...
"ছবিরে, তিয়াস ডু'বে যাচ্ছে "
বলেই ছায়া ছবির হাত ধরেই পুলে ঝাপ দিলো যার দরুন ছবিও পড়লো পুলে।
মোটামুটি সায়র আর কড়ি ছাড়া সবাই চারদিক থেকে পুলে নেমে যেতেই এবার ইন্দু পানি থেকে মাথা উঠিয়ে এক হাতে কপাল থেকে পুরো মুখের পানি সরিয়ে হেঁসে চেঁচিয়ে উঠলো..
"ইয়াহু.."
বলে। থেমে গেলো পুলে থাকা সবাই, বেখেয়ালে পৃথিবীর ক্যামেরা পানির নিচে চুবানো ছিলো। পৃথিবী ইন্দুর দিকে তাকিয়েই ভ্যবলার মতো বলে উঠলো..
"গায়েজ কি হচ্ছে এটা.."
বলেই ক্যামেরার দিকে তাকাতে নিয়ে দেখলো ক্যামেরা নেই। তখন সে আবার বলে উঠলো..
"গায়েজ, তোমরা কোথায়?"
পরক্ষনেই পানির নিচ থেকে ক্যামেরা তুলে কপালে চাপর দিয়ে বললো...
" ওহ সীট, গায়েজ তোমরাও ভিজে গেছো? "
ইন্দুর উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বাকিরা হা করে থাকলেও ইন্দুর সাথে তাল মেলালো পুলের ধারে উপরে দাঁড়িয়ে থাকা কড়ি। দু হাত তুলে সেও চেঁচিয়ে বলতে লাগলো..
"ওহ হো তিয়াস, সেই দিলি,, সেই.. "
বলতে না বলতেই তার পেছন থেকে সায়র দৌড়ে এসে কড়ির পেছনে ধাক্কা দিয়ে পুলে ফেলে নিজেও পিছলে পড়লো পুলে। এবার সাথে সাথে কড়িকে উদ্দেশ্য করে বাকি সবাই চেঁচিয়ে উঠলো..
"ওহ হো,, সেই চাশমিস, সেইইই.."
হাসিঠাট্টা থামতেই সায়র ইন্দুর দিকে তাকিয়ে বললো...
"ভয় লাগাই দিলি বোইন। কান ধরতাছি, আর জীবনেও তোর লগে এরকম ফাইজলামি করমু না।"
ইন্দু কিটকিটিয়ে হেঁসে উঠলো। রণও বললো...
"হ্যা ভাই। তিয়াস যে এত্তো ফা'জিল কে জানতো? "
ইন্দুও এবার মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলে উঠলো...
" বাহ রে,, তোমরা সবাই মিলে আমার সাথে ফাইজলামি করবা, আর আমি করলেই দো'ষ? "
এবার কড়ি হেঁসে বললো..
"তোরটা সাংঘাতিক ছিলো রে বোইন। "
পৃথিবী বললো..
"ডায়লগ মনে পইরা গেলো তুরুলাগন.. "
সবাই একসাথে জিজ্ঞেস করলো..
"কোনটা? "
এবার পৃথিবী অভিনয় করে টেনে টেনে বলতে লাগলো..
"আহহা,নারী কি সুন্দর অভিনয় করে। অভিনয়ের জন্য নারী সেরা রেহ.."
মুহুর্তেই আবার হাসির ফোয়ারা বইলো সবার মাঝে। হাসির মাঝেই জলের ভেতরে আফনানের পকেটে থাকা ফোন বায়ব্রেট করে উঠলো। আফনান ফোন বের করতেই দেখলো " Rat vai ' নামটা জ্বলজ্বল করছে। তা দেখেই ইন্দু জিহ্বায় কামড় দিয়ে বললো..
"এই রে। তোমাদের ফোন জলে ভিজিয়ে দিলাম? "
ছায়া গা ছাড়া ভাব নিয়ে বললো..
"টেনশন নিস না, সবার ফোনই ওয়াটারপ্রুফ। "
আফনান ফোন কানে নিয়েই বললো...
"অফিসে গিয়েছিস ধরে এই নিয়ে ২০ বারের উপর কল দিয়ে ফেললি। তিয়াসের জন্য আসার সময় একটা ফোন কিনে আনিস তুই ভাই।ওর খবর ওর থেকেই নিস। "
রাত আফনানের কথায় পাত্তা না দিয়ে বললো..
"তিয়াসকে পুল থেকে উঠতে বল। ঠান্ডা লেগে যাবে ওর। "
আফনান বললো...
"কাম সারছে। তিয়াস যে পুলে তুই কেমনে জানলি ভাই? "
আফনানের কথা শুনে সায়র সন্দেহের দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাতেই দেখলো পৃথিবীর হাতে ক্যামেরা অন।সাথে সাথেই সায়র গিয়ে পৃথিবীকে পানিতে এক চুবানি দিয়ে বললো...
"শা'লা, তোর তিড়িং বিড়িং এর লাইভ রাত ভাই সিসি টিভির ফুটেজের মতো ইউজ করছে।"
পৃথিবী মুখের পানি ঝেরে খুশিতে আত্মহারা হয়ে বললো..
"রাত ভাই আমার লাইভ দেখছে? হুহু, আমার আরো একটা ভিউজ হয়ে গেলো। হ্যালো রাত ভাই, এবার থেকে তিড়িংবিড়িং চ্যানেল থেকে সারাদিন লাভ হবে ব্রো। তিয়াস ঘুমাতে গেলেও আমি ক্যামেরা ধরে দাঁড়িয়ে থাকবো তোর জন্য। "
অফিসে নিজের কক্ষে থাকা ওয়াল টিভিতে পৃথিবীর এমন আজগুবি কথা শুনে রাত ফোনে আফনানকে বললো..
"পৃথিবীর বুকে একটা লা'থি মার তো। "
"ওকে ভাই.. "
বলেই আফনান পৃথিবীর কাছে এগোতে গেলেই ফোনের ওপাশ থেকে আনানের কণ্ঠও ভেসে এলো..
"আরে আফনাইন্না। সায়র ঐ ব্যাটার কাছে আছে ওরেই বলে দে। তুই কষ্ট করে ওর কাছে যাইতে হইবো না। "
আফনান এবার সায়রের দিকে তাকিয়ে বললো...
"সায়র ভাই, রাত ভাইয়ের নাম করে তোর পাশেরটার বুকে একটা লাথি দিতে বলছে। সাইরা ফেল তারাতাড়ি। "
সায়র তো অর্ডার পেতে দেরি। কাজ শুরু করতে দেরি হয়নি। একটার নাম করে চারটা দিয়ে তবেই থেমেছে সে।
"তিয়াসকে উঠে যেতে বল? "
আফনান বাধ্য ছেলের মতো ইন্দুর দিকে তাকিয়ে বললো...
"তিয়াস, ভাই তোকে উঠে যেতে বলছে। "
ইন্দু ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এসে আফনানের থেকে ফোন নিয়ে কানে ধরেই বললো...
"হ্যালো? "
থমকে গেলো রাত। এতক্ষণের কঠোর কন্ঠস্বর এই একটা মেয়ে একটি শব্দতেই যেন আটকে গেলো সব। গলা দিয়ে কথা বের করতে পারছে না রাত। কক্ষে এসি চালু থাকা স্বর্তেও কপালের পাশ বেয়ে চিকন ঘাম ছুটলো তার। কি একটা অবস্থা। দৃষ্টি সামনে টিভি স্ক্রিনে
ওদিকে ফোনের ওপাশ থেকে রাতের কোনো প্রকার কথা শুনতে না পেয়ে ইন্দু আবারো কোমল স্বরে ডাকলো...
"শুনছেন? "
এই বার আর টিকে থাকতে পারলো না রাত। হুট করেই শরীর ভেঙে পড়লো যেন তার। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা এত দ্রুত লাফাচ্ছে যেন এই এক্ষুনি বুক চিরে বেরিয়ে আসবে সে। ডান হাতে থাকা কলমটা ফ্লোরে পড়তেই আনান হাতের ফাইল চেক করতে করতে তাকালো টিভি স্ক্রীনের দিকে। তারপর নজর ঘুরিয়ে রাতের অবস্থা দেখতেই হা হয়ে গেলো সে। এ কোন রুপ দেখছে সে রাত ভাইয়ের। রাতের ফোন ধরে রাখা হাতটা থরথর করে কাঁপছে।
আনান দ্রুত গিয়ে রাতের কাঁধে হাত রেখে শুধালো..
"ভাই, কন্ট্রোল.. "
রাতের হুশ ফিরলো ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে এবার আনানের দিকে তাকিয়ে আবার দৃষ্টি দিলো টিভি স্ক্রীনে। তারপর আস্তে করে বললো..
"হুম? "
সাড়া পেতেই ইন্দু আবদারের সুরে বললো...
"মাত্রই তো নামলাম। একটু থাকি? পাঁচ মিনিট পরেই উঠে যাবো। "
"ঠিক আছে৷ যাস্ট পাঁচ মিনিটই। "
বলেই কল কেটে দিলো সে৷ নিচের দিকে তাকিয়ে ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো সে। কি হচ্ছে তার ভেতর দিয়ে।
"শুধু এই হ্যালো আর শুনছেন, এই টুকুতেই এই অবস্থা রাত ভাই।? "
আনানের কথায় রাত তাকালো না তার দিকে। নিচের দিকে তাকিয়েই চাপা কন্ঠে বললো...
"এই মেয়ে আমায় শেষ করে দিবে আনান। ও ভয়ংকরী। "
রাতের এরুপ অবস্থা দেখে কিঞ্চিৎ হাসলো আনান। কথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলো...
" মিটিং এ বসতে পারবি? নাকি সিডিউল চেঞ্জ করবো? "
রাত মুখ তুলে চেয়ে বললো..
"নাহ, বিকেলে যেতে হবে, ক্লায়েন্ট এসে গেছে? "
"হ্যা, কনফারেন্স রুমেই অপেক্ষা করছে সবাই। "
রাত উঠতে উঠতে বললো...
"চল "
মিটিং শুরু হয়েছে এখনো তিন মিনিটও হয়নি। রাতের হাতে থাকা ঘড়িতে টুট টুট করে শব্দ হতেই রাত সবার উদ্দেশ্যে.. "এক্সকিউজ মি " বলে একটু সাইডে চলে গেলো। আফনানের নম্বরে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলো ..
"তিয়াস উঠেছে? "
আফনান হাফ ছেড়ে উত্তর দিলো..
"উঠছে। "
আনান এগিয়ে এসে চাপা কন্ঠে রাতকে বললো...
"ভাই, এটা মিটিং রুম। "
রাত একবার কোনা চোখে আনানের দিকে তাকিয়ে আফনানকে বললো...
"ওর ঠান্ডা লাগলে সায়রকে ছারবো না আমি বলে দিস।"
সাথে সাথেই আফনান সায়রের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বললো...
"সায়র ভাই, তুই তো আজ গেলি। "
"আগামী এক ঘন্টা আমি মিটিং এ থাকবো। কল দিতে পারবো না। তিয়াসকে দেখে রাখবি। "
"যথাআজ্ঞা ভাই। "
কল রেখেই রাত আনানকে সরাসরি বললো...
"From now, Tiyash is my 1st priority. এটা মাথায় ঢুকিয়ে নে ভালো করে। "
বলেই আবার মিটিং এ মনোযোগ দিলো রাত। আনান তার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে আপন মনেই বিরবির করলো..
" তুই যেমন তেমন নাহ রাত ভাই, একেবারে গভীর ভাবেই ডুবলি প্রেমসাগরে। "