রেখো তোমার বাহুডোরে

পর্ব - ৭

🟢

চিন্তারা এক দিকে আর একদিকে বহু পরিচিত স্বপ্নের মোনালিসা। রাতের চোখের মনি জোড়ায় তিক্ততা ছড়িয়ে যাচ্ছে। রাগটা আসলেই আজ দু দিনের মাথায়ই তিয়াসের উপর পড়ছে। কিন্তু তিয়াস কি করে তুরগ লাহোরকে চিনবে? তিয়াসকে বাড়িতে আনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটাই তো ছিলো রাতের পরিকল্পনা। এর মধ্যে কোনো ভাবে কি আরেকটা গেইম শুরু হয়ে গেছে? নাকি শুধু শুধুই সন্দেহের তীর যাচ্ছে তিয়াসের উপর। আনান, আবির্ভাব দুজনই বুঝতে পারছে রাতের মনের অবস্থা। ভেবে চিন্তে এবার আবির্ভাব নাকোচ করে বললো..

"নাহ, ইন্দু হতেই পারে না তুরগের দলের কেউ। ওর কাছে তো ফোনও নেই, যোগাযোগ করে কিভাবে?"

আনান এবার আবির্ভাবের দিকে তাকিয়ে বললো..

"সেদিন এক্সিডেন্টের সময় ওদের কাছে ফোন ছিলো। তিয়াসকে কল দিয়েছিলো কেউ একজন হসপিটাল থেকে। "

"সেটা আরজুর ফোন। তিয়াসকেও লিমা আন্টি ফোন কিনে দেওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু তিনি তো.. "

চুপ হয়ে গেলো আবির্ভাব। আনান এবার সরাসরি রাতের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো...

"যদি তিয়াসই হয়, তাহলে কি করবি রাত ভাই?বের করে দিবি ওকে?"

রাতের কপালের রগ গুলো স্পষ্ট ফুলে উঠলো। বলিষ্ঠ বা হাত দিয়ে টেবিলের উপর একটি থাবা দিয়ে হিসহিসে কন্ঠে বললো...

"প্রয়োজনে হাত- পা ভেঙে ঘর বন্ধি করে রাখবো আজীবন, তাও আমি ওকে ছাড়তে পারবো না। ও একদিনে নয়, আমার অস্তিতে মিশে আছে বহুকাল আগে থেকেই।তিয়াসকে হারানো আর নিজের মস্তিষ্কে গু'লি চালানো সমান। "

পাগলামো গুলো খুব চোখে পড়ার মতোই রাতের। বাড়ির কারোর সামনে এরকম রুপটা দেখলে যে কেউই বুঝে যাবে এই মৃগাঙ্ক মির্জা কতটা অবসেন্স ইন্দুকে নিয়ে। আনান কথা ঘুরিয়ে বললো...

"আচ্ছা বাদ দে। রেস দিবি? "

সাথে সাথেই আবির্ভাব ভয়ে জুবুথুবু হয়ে বললো..

"নো ব্রো, আমি নেই। "

তার কথায় তোয়াক্কা না করে রাত বললো..

"বাইক বের কর। "

বলেই উঠে চলে গেলো বাইরে রাত। এদিকে আনান কিটকিটিয়ে হেঁসে আবির্ভাবের দিকে তাকিয়ে বললো....

"লাস্ট হইস চল,,রাত ভাই বলেছে মানে রেস তো তোকে দিতেই হবে।"

বলেই আবির্ভাবের কাধ চেপে ধরে চেম্বার থেকে বের হতে লাগলো আনান। আবির্ভাব পারছে না ভয়ে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলতে। কাদো কাঁদো মুখ করে বললো...

"ভাই, তোরা কু' ত্তার মতো বাইক চালাস। "

আনান হেঁসে বললো...

"আমারে কু'ত্তা কইলি মাইনা নিলাম, রাত ভাইরে বললে তুই পটি খাস, আমাগো রাত ভাই বাইকিংয়ে টাইগার।"

"হ তোরা একটা কু'ত্তা আর একটা বাঘ মিলা আমার মতো ইঁদুররে খাইয়া দিস৷ "

আনান লজ্জা পাওয়ার মতো অভিনয় করে বললো..

"ছিহ, অ'শ্লীল"

---------------

সময়টা রাত ন'টার কাছাকাছি। মির্জা বাড়ির চার কর্তা যে যার রুমে বসে আরাম করছে। চার কর্তী আর আরশি ড্রয়িং রুমে টিভি দেখছে আর ছেলে মেয়েদের মধ্যে প্রভাকর আর কুঞ্জর স্টাডি রুমে দৃশ্য আর কল্পকে পড়ানোয় ব্যস্ত। আবির্ভাব, আনান, রাত এখনো ফিরে নি বাড়িতে। আর বাদ বাকিরাও যে যার মতো রুমে, কেউ পড়ছে আবার কেউ ফোনে ব্যস্ত নয়তো অন্য কিছু।

ইন্দু নিজ কক্ষে থাকা স্টাডি টেবিলে বসে গত কয়েক দিনের পড়া গুলো রিভিউ করে নিচ্ছে। লিমা আন্টির হঠাৎ মৃ'ত্যুর পর তেমন একটা সময়ই দিতে পারেনি সে। বেশ অনেকক্ষণ পড়ালেখার পর কানে বাজলো মাউথ অরগ্যান এর আওয়াজ৷ সুরের মাধুরী শুনে ইন্দু উঠে দাঁড়ালো। বই বন্ধ করে বেরিয়ে এলো রুম থেকে। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই চোখে পড়লো বড়দের উপর। তাকে দেখেই কান্তা হাসলেন। সেই প্রেক্ষিতে ইন্দুও একটু হাসলো। কান্তা জিজ্ঞেস করলো...

"কিরে, কিছু লাগবে তোর?"

ইন্দুকে দেখেই সাবিহা মুখ ঘুরিয়ে নিলো। ইন্দু হেঁসে বললো...

"না বড় আম্মু। মাউথ অরগ্যানের আওয়াজ শুনে বের হলাম। কে বাজাচ্ছে? "

"ওহ, এই ব্যাপার? ছবি বাজায় এটা, তুইও যা না। ঐ যে ঐ পাশে স্টোর রুমের আগের রুমটায় আছে ও। "

"আচ্ছা "

বলেই কান্তার দেখিয়ে দেওয়া রুমে ছুটলো ইন্দু। কাঙ্ক্ষিত রুমে গিয়ে পেয়েও গেলো ছবিকে। কাঠের একটি চেয়ারে বসে চোখ বন্ধ করে আপন সুরে বাজাচ্ছে সে। পুরো ঘরটায় আলো বলতে শুধু ছবির সামনে টেবিলে রাখা একটি মোমবাতি। যার দরুন আবছা আবছা ছবির হাত আর মুখের কিছু অংশ ছাড়া তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

প্রথমে মুগ্ধ চোখে সেদিকে তাকিয়ে থাকলেও যখন ছবি মাউথ অরগ্যান বাজানো থামিয়ে চুপচাপ চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো, তখনই হঠাৎ ইন্দুর ভয় হতে লাগলো। চারদিকে একবার তাকাতেই হগা ছমছম করে উঠলো। ভয়ে রুমটা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধত হতেই দরজার সাথে বারি লেগে শব্দ হয়ে উঠলো।

সাথে সাথেই চোখ খুললো ছবি। হাত বাড়িয়ে রুমটার লাইট জ্বালাতেই দরজার পাশে ইন্দুকে দেখে ডাকলো...

"তিয়াস, তুই এখানে? "

ইন্দু ফিরে তাকালো ছবির দিকে। উত্তর দিলো...

"সুর শুনে এসেছিলাম। কিন্তু তুমি এভাবে এরকম অন্ধকারে বসে ছিলে কেন? "

হাসলো ছবি, উঠে এসে ইন্দুর মাথায় হাত রেখে বললো..

"ভয় পেয়েছিলি? "

"একটু "

"আয় ভেতরে আয়। এটা হলো আমাদের বাড়ির ছোট্ট একটা কামরা যেখানে শুধু গানের চর্চা হয়। "

"তোমরা গানও গাও? "

"হ্যা। মাঝে মধ্যে মন চাইলে সবাই মিলে একটা ধরে আরকি। "

ইন্দু চোখ বুলালো পুরো রুমটায়। চারদিকের সব কিছুতেই সাদা কাপর দিয়ে ঢাকনা দেওয়া। সেসব দেখে ছবিকে জিজ্ঞেস করলো...

"এখানে কি আছে? সব কিছু এরকম করে রাখা যে? "

ছবি ছোট একটা জিনিসের ঢাকনা সরিয়ে দেখালো একটি বায়া। তা দেখে ইন্দুই অবাক হয়ে বললো...

"ওমাহ বায়া? "

ছবি জিজ্ঞেস করলো...

"তুই চিনিস এটা? "

"হ্যা স্কুলে শিখানো হতো তো গান বাজনা। আমি শিখেছিলাম।আরজুও শিখতো। "

ছবি হাসলো। বললো...

"বাহ,,তাহলে তো একদিন ট্রাই দেওয়া যায় তোর সাথে। "

"এই ঘরটা ঠিক রাখা উচিৎ, চর্চার জিনিস এভাবে অবজ্ঞা করা ঠিক না।"

ছবি তাকালো চারপাশে, আসলেই সব কিছুতে কেমন ধুলোবালি জমে আছে।

"আচ্ছা কাল বিকেলে সবাই মিলে রুমটা ঠিক করবো। পারবি তো তিয়াস?"

"খুব পারবো। "

---------

ব্ল্যাক শার্টের সাথে এ্যাশ গ্রে কালারের প্যান্ট, কালো সু পরে বেরিয়ে এলো রাত। শার্টের হাতা ফোল্ড করে গ্যারেজ থেকে তার অতি প্রিয় কালোর রঙের CF moto বাইকটি বের করলো। আবির্ভাব আর আনানও নিজেদের বাইক নিয়ে যথেষ্ট সেফটি নিয়ে এলো। রাত হাতে থাকা কালো রঙের হেলমেটটা পড়তে পরতে বললো...

"চল. "

আনান রাতের দিকে একবার তাকিয়ে বললো...

"এভাবে যাবি? কোনো সেফটি নেই? "

রাত ভার কন্ঠে বললো...

"প্রয়োজন নেই। "

আবির্ভাব দুটো হ্যান্ড গ্লাভস এনে রাতের কাছে দিয়ে বললো...

"অন্তত এগুলো পড়ে নে। "

রাত আবারো ভার কন্ঠে উত্তর দিলো..

"বললাম না প্রয়োজন নেই। "

আনান বললো...

"পড়ে নে ভাই। কিছু হলে তিয়াসকে দেখবে কে। "

তিয়াস নামটা শুনে আর একটি কথাও বললো না। চুপচাপ হ্যান্ড গ্লাভস দুটো পড়ে নিয়ে বাইক স্টার্ট দিলো, এরপর বা হাতে এক ঝটকায়,হেলমেটের গ্লাসটা নামিয়ে বাইক ছুটালো অজানা গন্তব্যে। তার সাথে সাথে আবির্ভাব আর আনানও।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সোজা পথ ছেড়ে ঘুরা পথেই দীর্ঘ এক ঘন্টা পর বাড়ির সামনে এসে বাইক থামালো তিনজন। প্রথমেই রাত, তার সাথে সাথে আনান, আর তাদের প্রায় তিন মিনিট পরে এসে পৌছালো আবির্ভাব। আনান বাইক থেকে নামতে নামতে বললো...

"ইশশ আর একটুর জন্য রাত ভাইকে হারিয়ে দিতাম এবার। "

আবির্ভাব দম নিয়ে বললো...

"এহ, রাত ভাই তো আজ অনেক ধীরেই চালিয়েছে বলতে গেলে। আগের মতো চালালে ভুলেও পাশে টিকতি না। "

আনান আবির্ভাবকে হেয় করে বললো...

"থাম শা'লা,, তুই এমনিতে গোল্লায়। গার্লফ্রেন্ড টিকবে না বলে রাখলাম। "

বলেই হাসতে লাগলো আনান...

"আমার গার্লফ্রেন্ড খুবই সিনসিয়ার হবে। ও নিজেই বলবে সাবধানে বাইক চালাতে। "

আবির্ভাবের এমন কথা শুনে আনান সন্দেহি দৃষ্টিতে তাকালো আবির্ভাবের দিকে। কাধে হাত দিয়ে বললো....

"তুই প্রেম করছিস আবির্ভাব ভাই? আমাদের না জানিয়েই। রাত ভাই, আমাদের ডাক্তার প্রেম করছে, কিছু জানিস? "

আবির্ভাব এবার আমতা আমতা করে বললো...

"ওসব কিছুই না। প্রেম টেম করি না ভাই। "

রাত এবার হেলমেট খুলে এক হাতে চুল গুলো ব্যাক ব্রাশ করতে করতে বললো...

"আরজু কিন্তু খুবই বুদ্ধিমতী মেয়ে আবির্ভাব। যা করবি ভেবে চিন্তে, এমনি এমনি পটানো সম্ভব না তাকে। "

আনান এবার সুর টেনে বললো...

"ওওও, আরজু?"

আবির্ভাব বললো..

"ইয়ে মানে,, আনান ভাই। প্লিজ কিছু বলিস না ওকে। আমি চাই না ও আমার সম্পর্কে খারাপ ধারনা নিক। রাত ভাইয়ের মতো করেই আমি.... "

রাত বাইক থেকে নেমে আবির্ভাবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললো....

"তিয়াসকে আমি পটাতে যাচ্ছি না। এখন যেমন এক কথায় রাজি করিয়ে আমার কাছে নিয়ে এসেছি, তেমনি সময় হলে এক কথায় রাজি করিয়ে বিয়েও করিয়ে নেবো। রাজি না হলেও করে নেবো। ও আমার মানে আমারই, ওসব পটানো, প্রেম প্রেম ভাব, এসবে আমি নেই।অযথা সময় নষ্ট "

আনান বললো...

"প্রেম করবি না মানে? তোর উদ্দেশ্য কি তাহলে?? "

রাত সরাসরিই বললো....

" ডিরেক্ট বিয়ে, বাসর, বাচ্চা কাচ্চা।জিবন সার্থক, এটাই আমার উদ্দেশ্য। অর নাথিং "

আর এক মিনিটও দাঁড়ালো না রাত, সোজা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেলো। এদিকে তার দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো আনান আর আবির্ভাব। রাত ভাই এমন ঠোট কাটা কথা কবে থেকে বলা শুরু করলো?

------

বাড়িতে ঢুকতেই ড্রয়িং রুমে চোখে পড়লো কর্তীদের। রাত একবার তাদের দিকে তাকিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যেতে লাগলো। পেছন থেকে কান্তা বললেন...

"রাত বাবা, বাকি দুটো কোথায়? "

রাত ছোট্ট করে উত্তর দিলো..

"আসছে। "

সাবিহা এবার জিজ্ঞেস করলো...

"তারাতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আয়, খাবার বাড়ছি। "

রাত আর কিছু না বলেই চলে গেলো উপরে। নিজের রুমে না ঢুকে প্রথমেই গিয়ে থামলো ইন্দুর রুমের সামনে। দরজায় আস্তে করে দুবার কড়া নাড়লো। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে দেখতে লাগলো ইন্দু কোথায়। পেয়েও গেলো পড়ার টেবিলে। ইন্দু টেবিলেই মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। এগিয়ে গেলো রাত। নিগুঢ় দৃষ্টিতে তাকালো তার তিয়াসের স্নিগ্ধ ঘুমন্ত মুখখানার দিকে। আলতো হাসলো রাত। এই মুখখানা দেখে তার নির্দিধায় বাকিটা জীবন কেটে যেতে পারবে। হুট করেই মাথায় এলো..

এই স্নিগ্ধ মেয়েটা কি করে খারাপ হতে পারে?

রাত ভেবে পেলো না। বইখাতা পুরো টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়েই তার উপর মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে মেয়েটা। খোলা চুলগুলো পিঠময় ছড়ানো। কয়েকটা চুল এসে ঠেকছে মেয়েটার চোখেমুখে। রাত আস্তে করে গ্লাভস যুক্ত হাতেই ইন্দুর মুখের উপর পরা চুল গুলো সরিয়ে দিতে লাগলো। তাতেই ইন্দুর ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখতে পেলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সুদর্শন যুবককে। চোখে ঘুম থাকলেও চিনতে দেরি হলো না ইন্দুর। দু চোখ ঘুমের চোটে একবার বন্ধ করে একবার খুলে, এভাবেই আওড়ানো কন্ঠে ডেকে উঠলো...

"রাত ভাইয়া? "

রাতের বুকটা লাফিয়ে উঠলো সেই কন্ঠের তীব্রতায়। মেয়েটা কন্ঠে বি'ষের বান, রাত উত্তর দেওয়ার মতো হিতাহিত জ্ঞানটাই যেন হারিয়ে ফেললো। ইন্দু আবারো ডাকলো...

"রাত ভাইয়া? "

সংবিত ফিরতেই রাত ঢোক গিলে বললো...

"বলো বি'ষকন্ঠী.."

"আপনাকে হুট করে এতো সুন্দর লাগছে কেন?"

ইন্দুর হঠাৎ এমন এলোমেলো কথায় ভ্রু কুঁচকালো রাত। মুখ থেকে বেরিয়ে এলো....

"কি বলছো? "

ইন্দু ঘুমের চোটে চোখ বুঝলো। ওভাবে থেকেই বললো...

"হুম, অনেক সুন্দর লাগছে।"

রাত কি বলবে বুঝতে পারলো না। তবে প্রেয়শীর মুখে নিজের রূপের প্রশংসা পেয়ে বেশ ভালোই লাগছে তার।

"রাতে খেয়েছো? "

"হুমমম "

"তাহলে উঠো। বিছানায় গিয়ে ঘুমাও ঠিক করে। "

রাতের কথায় ইন্দু আস্তে করে উত্তর দিলো...

"ঘুমাচ্ছিই তো। "

রাত এবার কন্ঠ আরেকটু উঁচু করে বললো...

"এখানে না। বিছানায় গিয়ে ঠিক করে ঘুমাবে ওঠো। "

ইন্দু আধো ঘুমেই বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে উঠে দাঁড়ালো। ঘোলা চোখে একবার রাতকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পুরোটা দেখে বললো...

"আপনি বাইক চালাতে৷ পারেন? "

"হুম।"

" আমি কখনো বাইকে উঠিনি। আমায় আপনি বাইকে করে ঘুমাতে নিয়ে যাবেন? "

ইন্দুর আবোলতাবোল কথার মানে বুঝতে না পেরে রাত মুখ কুঁচকে বললো..

"কিহ?"

ইন্দু বুঝতে পেরেই বললো...

"সরি, ঘুরতে নিয়ে যাবেন? "

রাত হাপ নিঃশ্বাস ফেলে বললো...

"যাও ঘুমাও। "

ইন্দুও বাধ্য মেয়ের মতো টলতে টলতে গিয়ে ধপাস করে বিছানায় লুটিয়ে পড়লো।।

-------

এদিকে বাড়িতে ঢুকতেই আবির্ভাবের হাতে দুটো প্যাকেট দেখে কান্তা জিজ্ঞেস করলেন..

"ওখানে কি রে বাবা? "

আবির্ভাবও স্বাভাবিক কন্ঠে বললো..

"তিয়াসের জন্য কিছু গিফট নিয়েছি মা। তুমি খাবার বাড়ো, আমি তিয়াসকে এগুলো দিয়ে আসছি। বলেই সিঁড়ি ডিঙিয়ে উপরে উঠতে গেলো আবির্ভাব। কান্তা খুশি হয়ে নিজের অন্য জা' দের উদ্দেশ্যে বললেন...

" দেখলি তোরা? আমার ছেলেটা তিয়াসের জন্য গিফট নিয়ে এলো। ওর ও মনে হয় তিয়াসকে পছন্দ। যাক, আল্লাহ হয়তো আমার ইচ্ছে পূরণ করবেন এবার। "

ইন্দুর রুমের সামনে আসতেই দেখলো রাত রুমেই আছে। বিছানায় একবার ঘুমন্ত ইন্দুকে দেখে আবির্ভাব বললো..

"ওহ, তিয়াস ঘুমিয়ে পড়েছে? আমি আরো ওর গিফট নিয়ে এলাম।বিকেলে তো দিতেই পারিনি, সবাই দিলো ওকে, আমি কেন বাদ যাবো? "

রাত এক হাতে টেবিলের বইখাতা গুলো গুছিয়ে রাখতে রাখতে বললো...

"রেখে দে, কাল উঠলে বলে দিস তুই।"

আবির্ভাবও সম্মতি দিয়ে ডিভানের উপর প্যাকেটগুলো রাখতে লাগলো। তখনই বিছানা থেকে আবার ইন্দু ঘুমু ঘুমু কন্ঠে ডাক দিলো...

"রাত ভাইয়া? "

রাত আর আবির্ভাব দুজনেই ফিরে তাকালো তার দিকে। ইন্দু এবার বা হাত উঁচু করে এলোমেলো ভাবে রাতকে কাছে ডাকলো। রাত এগিয়ে যেতেই জিজ্ঞেস করলো...

"কি হয়েছে? ঘুমাচ্ছো না কেন? "

ইন্দু চোখ খুললো একটু। হাতের ইশারায় রাতকে আরেকটু কাছে ডাকতেই রাত ঝুকলো তার দিকে। তখনই ইন্দু হাত দিয়ে রাতের চুলগুলো এলোমেলো করে দিতে দিতে বললো...

"সত্যিই আপনাকে খুব হ্যান্ডসাম লাগছে। "

রাত এবার একটু ধমকের স্বরে বলতে নিলো..

"এই.."

কিন্তু তার আগেই ইন্দু আবার ঠোঁট উল্টে বললো...

"এমাহ, এইবার তো আরো বেশি সুন্দর লাগছে। এইইই সুন্দরী..."

ইন্দুর এমন কথা শুনে আবির্ভাব ফিক করে হেঁসে দিলো। রাত তার দিকে চোখ গরম করে তাকাতেই মুখে হাত চেপে ধরলো আবির্ভাব। ইন্দু আবার বলতে লাগলো...

"খবরদার আপনি এইভাবে বাইরের কোনো মেয়ের সামনে যাবেন না। "

রাত প্রশ্ন করলো...

"গেলে কি হবে? "

ইন্দুও সাথে সাথে উত্তর দিলো..

"ওরাও আপনাকে সুন্দরী বলবে। "

রাত এবার চরম পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ইন্দুর খোলা চুলগুলোয় নিজে হাত খোঁপা করে দিয়ে লাইট নিভিয়ে দিয়ে বললো..

"চুপচাপ ঘুমাও। পাগলী একটা..."

দরজা ভিড়িয়ে দুজনই বেরিয়ে এলো রুম থেকে। আবির্ভাবের যেন হাসিই থামছে না।হাসতে হাসতেই বললো..

"রাত ভাই সুন্দরী।"

"তুই থামবি? ঘুমের চোটে আবোলতাবোল বকছে ও। "

"বুঝতেই পারছি বেশ। "

"মায়েদের বল আমাদের খাবারটা ছাঁদে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। আর তুই আসার সময় মিনি স্পিকারগুলো নিয়ে আসিস। "

বলেই নিজের রুমের দিকে হাটা ধরলো রাত। পাশ দিয়ে আনানও শুনে বললো..

"ওয়াহ,সেলিব্রেশন হবে মনে হচ্ছে। কিন্তু কিসের? "

আবির্ভাব হেঁসে বললো...

"আরেহ,তিয়াস রাত ভাইয়ের হেব্বি প্রশংসা করেছে। তাই ভাইকে এই প্রথম সুন্দরী উপাধি দেওয়ায় সেলিব্রেট হবে আজ।"

আনান প্যাচার মতো মুখ করে বললো...

" ওহ,ওয়েট ওয়াট?? সুন্দরী???"

আবির্ভাবও হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেয়ে বললো...

"নট অনলি সুন্দরী,, এটা হলো যে ' এইইই সুন্দরী.."

রেখো তোমার বাহুডোরে গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে ঘেরা রোমান্টিক ও থ্রিলার গল্প