রেখো তোমার বাহুডোরে

পর্ব - ২

🟢

দরজায় ঠকঠক আওয়াজ পেতেই ক্যানভাসে আকা ছবি খানা দ্রুত ঢেকে নিজ কক্ষে এসে দরজা খুলে দিলো। সাথেই ভেসে উঠলো আবির্ভাবের তটস্থ মুখখানা। রাত স্বাভাবিক ভাবেই বললো..

"ভেতরে আয়। "

আবির্ভাব ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়ালো। তার ভাব ভঙ্গি দেখে রাত বিছানায় বসতে বসতে বললো...

"সেইম এজ বলে আমি তোকে আর আনান কে বাকিদের থেকে একটু বেশিই ক্লোজ ভাবি। সো যদি মনে হয় যে তুই কোনো দোষ করিস নি তাহলে চিল মুডে থাকতে পারিস। "

কথা খানা শুনেই আবির্ভাব একগাল হেঁসে এবার ছুটে গিয়ে রাতের বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে পড়লো। আচ্ছন্ন কন্ঠে বললো...

"বল কি বলবি। "

রাত ধীরে সুস্থে পায়ের উপর পা রেখে বললো...

"বাড়িতে অনেক দিন বিয়ে লাগে না। "

" হ্যা রে ভাই। আসলেই অনেকদিন বিয়ে খাই না।"

"খুব শীগ্রই খাবি, যদি এখন আমায় হেল্প করিস। "

" তুই শুধু বলেই দেখ না রাত ভাই। আমি নিজের কলিজা হাজির করবো। "

"তোর কলিজা লাগবে না আমার। শুধু কালকের মেয়ে গুলোর ব্যপারে বল। "

কথা খানা শুনেই আবির্ভাব শোয়া থেকে উঠে বসলো। ভ্রু কুঁচকে বললো..

" ভাই তুই কি এখনো ওদের উপর রেগে? দেখ ভাই ওদের কিছু করিস না, ওরা ইচ্ছে করে গাড়ির সামনে পড়ে নি। এমনিতেই অনেকটা টেনশনে ছিলো। "

রাত ভ্রু কুঁচকে ফিরে তাকালো আবির্ভাবের দিকে। বললো...

"টেনশনে ছিলো মানে? খুলে বল ভাই। "

"দেখ, ওদের পরিচিত একজন হসপিটালে ছিলো, তার কাছেই তারাহুরো করে যাচ্ছিলো আরজুরা। তবে খুব একটা লাভ হলো না, ওরা পৌঁছানোর আগেই ভদ্র মহিলা মারা যায়। পেটের একদম ভেতরেই লেগেছিলো ছু'রির পোঁচ টা। আমি নিজেও চেক করেছিলাম।"

"আর তিয়াশ? ওর ভাব ভঙ্গি কেমন?

" কে তিয়াশ?

" যে গাড়ির সামনে পড়ে গেছিলো।

"ওহ, ওর নাম তো তিয়াশ নাহ, ওর নাম ইন্দু। সে খুবই ভেঙে পড়েছিলো।মহিলা টি হয়তো ওর মা। "

" চল, হসপিটালে চল। ওকে খুঁজে পাওয়া খুব জরুরী।"

রাতের ভাব দেখে আবির্ভাব হালকা চেচিয়ে বললো...

"মানে টা কি ভাই, তুই মাত্র এলি, আর এক্ষুনি বেরিয়ে যাবি? তাও আবার ওদের খুঁজতে?

" হ্যা, চল, হসপিটাল থেকে রোগীর ডিটেইলস নিলেই হয়ে যাবে। "

" থাম ভাই। তোর হসপিটাল যাওয়া লাগবে না। "

রাত ফিরে তাকালো আবির্ভাবের দিকে। চোখ গুলো ছোট ছোট করে ভার কন্ঠে বললো...

"তুই আমাকে আটকাচ্ছিস? "

" আরে না নাহ। তোকে আটকানোর সাধ্যি আমার নেই ভাই। আমি তো তোকে সাহায্যই করছি। "

রাত কিছু না বলে দৃষ্টি আগের মতো রেখেই দু কদম এগিয়ে এলো আবির্ভাবের দিকে। তা দেখে আবির্ভাব আমতা,আমতা করে বললো...

"ইয়ে ম্ মানে আ্ আরজুর ফোন নম্বর আছে আমার কাছে। সরাসরিই যোগাযোগ করলেই হয়। "

রাতের ভ্রু জোড়া আরো কুঁচকে এলো...

"তুই তার নম্বর নিলি কেন? "

"আ্ আসলে ওদের অবস্থা তো তখন ঠিক ছিলো না। হসপিটালে আর দু একজন ছাড়া তেমন কাউকেই দেখি নি। ঐ অবস্থায় যদি কোনো হেল্প লাগতো তাই নম্বর নিয়ে নিয়েছি। পরে আর যোগাযোগ হয় নি। "

রাত ঘন এক নিঃশ্বাস ফেললো। তারপর বললো...

" কল দিবি। আর তিয়াশের খবর নিবি তুই। কি করে, কোথায় থাকে, কিসে পরে এভরিথিং। নাও গো.. "

আবির্ভাব উঠে দরজার দিকে এগোতে এগোতে বললো...

"ওকেয় ব্রো।"

দরজা দিয়ে বের হতেই তুরুলা বাহিনির সামনে পড়লো আবির্ভাব। সবাই যেন হুমড়ি খেয়ে পড়লো আবির্ভাবের উপর। কি হয়েছে, কেন ডেকেছে এসব নিয়ে। ছায়া তো আবির্ভাবকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে বললো...

" ভাই, তুই ঠিক আছিস? কোথায় বেশি লেগেছে বল? ডাক্তার ডাকবো? "

রণ ছায়াকে সরিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললো...

" ধুর, আবির্ভাব ভাই তো নিজেই ডাক্তার। ভাই তুই বল তোর কোন মেডিসিন লাগবে? সায়র ভাই এনে দিবে "

সায়র এবার কোমরে হাত গুঁজে বললো...

"ঐ, আমি কেন মেডিসিন আনতে যাবো? আমি বের হবো না, তুই যা এতো দরদ লাগলে.. "

এবার ওদের থামিয়ে কড়ি বললো...

" রাখ তো তোরা, ভাই নিজে গিয়েই মেডিসিন নিয়ে আসবে না হয়। "

এই এতক্ষণে সবার গলাকে হার মানিয়ে পৃথিবী তার ষাঁড় কন্ঠে ক্যামেরা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলে উঠলো..

"গায়েজ, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, এই মুহুর্তে তুরুলা বাহিনীর মুল আকর্ষণে রয়েছে প্রিয় ভাই আবির্ভাব। তার ঠিক কোথায় কোথায় গরম চাবুক পরেছে সেই নিয়েই তুমুল উত্তেজনা তিরিং বিরিং চ্যানেলের তুরুলা বাহিনীর মাঝে। "

এবা আবির্ভাব পৃথিবীর ক্যামেরার দিকে বারি মেরে বললো...

"শা'' থামবি তোরা? আমারে মারে নাই রাত ভাই। "

এবার সবাই চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো..

"মারে নাই? তো ডাকলো কেন? "

আবির্ভাব এবার মুখে বিশ্ব জয়ের হাসি নিয়ে কলার ঠিক করতে করতে ভাব নিয়ে বললো....

" রাত ভাই আমার থেকে হেল্প চাইতে ডেকেছে। "

সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো...

"কি? কি করে? "

আবির্ভাব এবার কন্ঠ খাদে নামিয়ে ফিসফিস করে বললো...

"হ্যা,, সিক্রেট শোন তোরা। আমার মনে হচ্ছে রাত ভাই প্রেমে পড়েছে। "

সবার চোখ যেন বল আকৃতি ধারন করলো। সাথে সাথেই সবাই মাথা ঘুরিয়ে একত্রে উচ্চ কন্ঠে ডেকে উঠলো...

" মেঝো মা..... "

" হচ্ছে টা কি এখানে? "

এই একটা ভারি কন্ঠ শুনেই থেমে গেলো সবাই। আবার সামনে ঘুরতেই দেখলো তাদের সামনে স্বয়ং রাত ভাই দাঁড়িয়ে। ব্যস হয়েই গেলো। আবির্ভাবের আজই যেন শেষ দিন। ভাবতেই সে বা হাত নিজের প্যান্টের উপর রেখে ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল উঁচু করে ধরে চেপে চেপে বললো....

"ইয়ে পেয়েছে খুব জোরে। আমাকে যেতে হবে গায়েজ। "

ব্যস বলেই ভো দৌড় তার। তুরুলা বাহিনীর মাথা গুলো একবার তার দিকে ঘুরে আবার ফিরলো রাতের দিকে। রাত ভ্রু উঁচু করে জিজ্ঞেস করলো...

"মা কে ডাকার কারন কি? "

সবাই একে অপরের দিকে চাইলো। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।সত্যিটা বললে যে এখানেই সবার দেহ লুটিয়ে পড়বে তা বুঝতে বাকি নেই।এবার সবার উদ্দেশ্যে ছায়ার জমজ ছবি নিজের চোখের পাওয়ারফুল চশমাটা একটু নাকেট ডগায় ঠেলে নিয়ে বললো....

" আমরা সবাই মিলে কক্সবাজার যাওয়ার অনুমতি চাইতেই মেঝো মা কে ডাকছি। ওর নাথিং ভাইয়া। "

"এই গরমে কক্স? তুই তো এতোটাও বোকা না ছবি। "

রাতের কথায় এবার ছবি আমতা আমতা করে ছায়ার দিকে আঙুল তুলে বললো...

"আ্ আসলে ভাইয়া,, ছায়াই আমাকে বলেছে গরমে কক্স যাওয়ার কথা। "

রাত কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো...

"এখন নাহ, নেক্সট উইন্টারে আমি তোদের নিয়ে যাবো কক্স। প্ল্যান ক্যান্সেল কর এখন যা। "

রাতের কথা শুনে সবার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। আফনান বলে উঠলো..

" রাত ভাই। তুই ঠিক আছিস তো? "

"আ'ম ওকেয়। যা এখন তোরা। "

তট বিড়বিড় করে বললো..

"বুঝি বুঝি ভাই। সবই বুঝি৷ "

সবাই যেতে নিয়ে পেছনে আনান রাতকে শুনিয়ে শুনিয়ে গেয়ে উঠলো...

"প্রেমে পড়েছে মন, প্রেমে পড়েছে। অচেনা এক... "

আর বাকি টুকু গাওয়ার আগেই রাত ডাকলো তাকে..

"আনান, এদিকে আয়? "

আনান ভাবলো আবির্ভাবের মতো তার থেকেও হেল্প চাইবে রাত। তাই মুখে এক গাল হাসি নিয়ে বুক ফুলিয়ে রাতের সামনে গিয়ে বললো...

"জ্বি ভাই বল? "

সাথে সাথেই রাত নিজের ডান হাত ব্যববার করে আনানের বা গালে ছোট খাটো একটা থাপ্পর লাগিয়ে দিলো। তাতেই যেন আনানের পুরো পৃথিবী ঘুরে উঠলো, আর পৃথিবীর সাথে সাথে সে নিয়েও জায়গায় 'আআআ' শব্দ করতে করতে দুই তিন পাক ঘুরে ফ্লোরে পড়লো। রাত শক্ত কন্ঠে বললো...

"গান গাইছিস ভালো। তবে থাপ্পরটা ছিলো গতকাল আমার তিয়াশের সাথে ধমকে কথা বলার শাস্তি। "

------------

"আসসালামু আলাইকুম? "

ফোনের অপর পাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠ স্বর খানা শুনেই হৃদয় জুড়িয়ে গেলো আবির্ভাবের। মিষ্টি কন্ঠের বিপরীতে যে সালামের উত্তর টুকু দেবে তাও যেন ভুলে বসেছে সে। ওপাশ থেকে আবারো প্রশ্ন এলো...

"হ্যালো, কে বলছেন? "

এবার ধ্যান ফিরলো আবির্ভাবের। ইশশ, কি ছ্যছ'ড়ামোটাই না করছিলো সে৷ আরজু কি ভাববে এবার?..

"ওয়ালাইকুম সালাম। আবির্ভাব মির্জা বলছি। "

"সরি, আমি চিনতে পারছি না। "

"আরেহ, গতকাল যে রাস্তায় দেখা হলো, হসপিটাল নিয়ে গিয়েছিলাম তোমাদের। তুমি আরজুই তো? "

" হ্যা, আমিই আরজু। চিনতে পেরেছি ভাইয়া। "

"যাক, কেমন আছো? "

"জ্বী মোটামুটি, আপনি? "

"ভালো। তোমার সাথে যে মেয়েটা ছিলো, ইন্দু নাম যে? "

"হ্যা, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমরা ছোট বেলা থেকেই একসাথে পড়াশোনা করছি। "

"ওহ আচ্ছা। কাল যেই মহিলাটা মারা গিয়েছে উনিই কি ইন্দুর মা? "

"জ্বী না ভাইয়া। উনি ইন্দুর সম্পর্কে কেউই না বলতে পারেন, তবে এক কথায় ওয়েল উইসার। "

"মানে বুঝলাম না, "

" উনি লিমা হাসান। একজন নার্স। ইন্দুকে উনি নিজের মেয়ের মতোই আদর করতো। আর নানা ভাবে সাহায্যও করতেন উনি। আপনি এসব কেন জানতে চাইছেন ভাইয়া, আপনাকে কি কেউ...."

"আরে না নাহ,,তুমি যেমনটা ভাবছো তেমন কিছুই না। আসলে গতকাল তো আমার ভাইকে দেখেছোই তুমি। আই মিন আমার চাচাতো ভাই মৃগাঙ্ক মির্জা, সে ইন্দুর কাছে সরি বলতে চাইছেন, তাই যদি একটু যোগাযোগ করা যেত তাহলে ভালো হতো আরকি। তুমি কি ইন্দুর ঠিকানা টা দিতে পারবে? "

"দেখুন ভাইয়া। আপনাকে কতটুকু বিশ্বাস করা ঠিক হবে আমি বুঝতে পারছি না। ঠিক ভাবে চিনিও আপনাকে আমরা। তবে গতকাল আপনি আমাদের যে উপকারটা করেছেন সেই সুবাদে এতটুকুই বলছি, ইন্দুর লাইফটা এমনিতেই ঝুঁকিতে আছে। ওর আপন বলতে এক লিমা আন্টি আর আমি ছাড়া কেউই নেই। এতদিন লিমা আন্টি সামলপ এসেছেন সবটা, কিন্তু এখন উনিও নেই। ইন্দু নিতান্তই বাচ্চা সুলভ মেয়ে, আমরা সেইম এইজ হলেও সময়ের সাথে ওর থেকে হয়তো একটু বেশি ম্যাচিউরিটি আমাকে আল্লাহ দিয়ে দিয়েছেন, হয়তো পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দিয়েছেন।তাই আপাতত ইন্দুর হয়ে আমি সীদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওকে সেইফ করার দায়িত্ব আমার, এই জন্য ওর বিষয়ে আমি আর কাউকেই তেমন কিছু জানাতে চাইছি না। আর এতটুকুই বলি, আমরা দুজন এক সাথেই থাকি। আপনি প্লিজ আমাকে জোর করবেন না। আর ওর কাছে সরি চাইতে হবে না কাউকে। ও এসব মাইন্ডে নেয় না। একটু বুঝলে সুবিধা হতো ভাইয়া। "

আবির্ভাব আড় চোখে বিছানায় বসা রাতের দিকে তাকালো। রাতের ভাব ভঙ্গি খুব একটা বুঝা যাচ্ছে না। চোখের ইশারা করতেই আবির্ভাব বললো...

"ঠিক আছে আরজু। আমি বুঝতে পেরেছি।!"

"ধন্যবাদ ভাইয়া। "

"আর শোনো.. "

"বলুন? "

"এটা আমার নম্বর, যেকোনো প্রয়োজনে নির্দিধায় কল দিও। আমি নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবো সাহায্য করার। এই টুকু বিশ্বাস করতে পারো, আমি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আসি নি। "

"ঠিক আছে ভাইয়া। ধন্যবাদ৷ রাখছি। "

"বায়।"

কল রেখেই আবির্ভাব হাফ নিঃশ্বাস ফেলে তাকালো রাতের দিকে৷ বললো...

"বহুত ঝামেলা আছে ব্রো। বাদ দে.. "

"শাট আপ। "

"আজব,সবই তো নিজের কানেই শুনলি। নামটা ছাড়া তেমন কিছুই বললো না। আরজু খুবই সিনসিয়ার একটা মেয়ে। কোথায় থাকে, কিসে পড়ে তাও জানা অসম্ভব। "

রাত চুপ করে থেকেই আনান কে মেসেজ করে বললো তার রুমে আসতে। দু মিনিটের মাথায়,আনান এসে হাজির হলো।

"ভাই ডেকেছিস? "

রাত আবির্ভাবের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে আরজুর নম্বরটা আনানকে দিয়ে বললো...

" ১২:৩৬ বাজছে। বিকেল তিনটার মধ্যে এই নম্বরটা ট্র্যাক করে আবির্ভাবকে লোকেশন জানা। "

আনান নম্বরটা হাতে নিয়ে চিন্তিত কন্ঠে বললো...

"কি হয়েছে ভাই? ঐ তুরাগ কি আবার কোনো ঝামেলা করছে? "

রাত শক্ত কন্ঠে বললো...

"শুভ কাজে ঐ রাসকেলের নাম নিবি না আনান। যা বলেছি কর, সময় হলে সব জানতে পারবি। "

"ওকেয়। "

বলেই আনান বেরিয়ে গেলো। আবির্ভাব জিজ্ঞেস করলো...

"আমি যাবো? "

"এই সময় হসপপিটাল থেকে ডেকে আনার জন্য সরি। তবে তিনটায় তুই আবার সরাসরি আরজুর সাথে দেখা করবি। কিভাবে কি করতে হবে তা আশা করি বলে দিতে হবে না তোকে। "

"ঠিক আছে ভাই। দেখছি আমি বিষয়টা। "

বলপই আবির্ভাবও বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। রাত উঠে দরজা আটকে দিয়ে বেলকনিতে গিয়ে রেলিং এ হাত ঠেকিয়ে দাঁড়ালো। বুকের ভেতর তীব্র উথাল-পাতাল আভাস যেন রাতকে জানান দিচ্ছে, মেয়েটাকে তোর লাগবেই রাত। আগে থেকে অন্য কারো হলেও তার থেকে ছিনিয়ে আনতে হবে তাকে। তোর বুকের তীব্র কম্পন তাকে এক নজর সামনে থেকে দেখেই শুরু হয়েছিলো, আবার তার আখিতে আঁখি মিলিয়েই সেই কম্পন স্থির হবে।

আকাশ পানে তাকিয়ে রাত শীতল কন্ঠে আপন মনেই বলে উঠলো...

"এক নজর দেখেই তুমি আমার হৃদপিণ্ড ছিনিয়ে নিয়েছো তিয়াশ পাখি। আর যে সয় না তোমায় দেখার অপেক্ষা। আমি যে আর একটা মুহুর্তও নিজেকে শান্ত রাখতে পারছি না। দেখা দেও আমার অন্বেষণী, খুব শিগগির দেখা দাও আমায়।"

রেখো তোমার বাহুডোরে গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে ঘেরা রোমান্টিক ও থ্রিলার গল্প