রেখো তোমার বাহুডোরে

পর্ব - ১

🟢

মধ্য রাস্তায় আকষ্মিক কোনো নারীর আগমনে উচ্চ গতিতে চলতে থাকা গাড়িটি হঠাৎ ব্রেক কষলো তড়িৎ গতিতে।তবে খুব একটা উপায় করে উঠতে পারলো না। অসতর্কা বসত গাড়িটির ধাক্কায় পিচ ঢালা রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে একটি মেয়ে।

ফ্লাইট ছাড়তে আর ঠিক মতো আধ ঘন্টাও সময় বাকি নেই রাতের। এর মধ্যেই এই অযাচিত ঘটনায় সে খনিক বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে গাড়ি থেকেই সামনে তাকালো। পাশ থেকে আনানও বিরক্ত নিয়ে গাড়ি থেকে নামতে নামতে একটিবার রাতের মুখ দর্শন করে বললো...

" তুই গাড়িতেই থাক ভাই,আমি দেখছি।"

ততক্ষণে পেছনের গাড়িতে থাকা আবির্ভাবও নেমে ছুটে এলো সামনে।

পাশ থেকে আরেকটি মেয়ে, আরজু ছুটে এসে পড়ে যাওয়া মেয়েটিকে উঠাতে লাগলো। ঠিক তখনই গাড়ির কাচ ভেদ করে এক জোড়া সুনিপুণ আঁখিতে আটকে গেলো স্বয়ং মৃগাঙ্ক মির্জা রাত মেয়েটির সম্পূর্ণ মুখ মন্ডল স্পষ্ট হতেই চোখ বড় বড় করে তাকালো রাত। আনমনেই মুখ ফুটে অস্ফুটস্বরে বেরিয়ে এলো কয়েকটি শব্দ..

" এ তো সেই.. তিয়াশ।"

মধ্য রাস্তায়,কিছুটা সোরগোলই লেগে গেলো বলতে গেলে। মেয়েটিকে কোনো মতে তুলে ধরে আরজু উদ্বিগ্ন কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো...

"ইন্দু, তুই ঠিক আছিস?"

ইন্দু নামের মেয়েটির দিক বিদিক ঘুরছে।আশপাশে তাকিয়ে কি খুঁজছে হয়তো সে নিজেও বুঝে উঠতে পারছে না।

এদিকে আনান বেশ কিছুটা বিরক্ত হয়েই মেয়ে দুটিকে বলে উঠলো..

"সমস্যা কি তোমাদের? রাস্তা ঘাটে চলাচল করতে পারো না ঠিক মতো? আর একটু হলেই তো বড়সড় কিছু হয়ে যেতো।"

গাড়ি থেকে নেমে এসেই রাত সরাসরি ইন্দু নামের মেয়েটির সামনে দাঁড়ালো। কিছুটা কোমল আর চিন্তিত কন্ঠে বললো..

"Are you okey Tiyash?"

নাহ, এই এত জনের এতো কথাতেও ইন্দুর ভাবগতির পরিবর্তন হলো না। হঠাৎই রাস্তায় এক পাশে ছিটকে পড়া ব্যাগ থেকে বিকট শব্দে বেজে উঠলো মুঠোফোন। ইন্দু ব্যস্ত গতিতে ছুটে সেই ফোন রিসিভ করে কানে তুললো।ওপাশ থেকে কিছু অপ্রত্যাশিত শব্দ শুনেই চোখের কোটর থেকে গড়িয়ে পড়লো দু ফোটা পানি। হুট করেই মেয়েটা হাটু ভেঙে রাস্তায় বসে পড়লো। গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে কাঁদতে লাগলো সে। আরজু দৌড়ে গিয়ে জাপ্টে ধরলো ইন্দুকে৷ তার অস্তিত্ব বুঝতেই ইন্দু বেসামাল হয়ে আরজুর বাহু আঁকড়ে ধরে চিৎকার করে বলে উঠলো..

"আরজু, লিমা আন্টি আর নেই।"

বলতে বলতেই আবার গলা ফাটিয়ে কান্না করতে লাগলো ইন্দু৷

এদিকে আনান, আবির্ভাব, রাত অবাক হয়ে দেখছে কি হচ্ছে আসলে।আজানের ধ্বনি কানে আসতেই আবির্ভাব নড়েচড়ে উঠলো।দ্রুত গিয়ে বললো..

"আনান , তুই রাত ভাইকে নিয়ে এয়ারপোর্ট চলে যা দ্রুত।আমি এই দিকটা সামলে নিবো।"

আনান সম্মতি দিয়ে একবার ইন্দুদের দিকে তাকিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো।কিন্তু রাত সেই আগের মতোই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তার তিয়াশের দিকে। আবির্ভাব লক্ষ্য করতেই রাতকে টেনে গাড়িতে উঠাতে উঠাতে বললো..

"রাত ভাই, ডোন্ট ওয়ারি।আমি সামলে নিচ্ছি এইটা। তোর ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে ভাই। দ্রুত যা।"

রাতকে টেনেটুনে গাড়িতে বসালেও রাতের নজর আটকে রইলো ইন্দুর পানে।রাত উঠতেই আনান দ্রুত গাড়ি ছাড়লো এয়ারপোর্টের দিকে।

আবির্ভাব এগিয়ে গেলো আরজু আর ইন্দুর দিকে। হাটু গেঁড়ে বসে জিজ্ঞেস করলো...

" হেই, ঠিক আছো তোমরা। কোনো সমস্যা? "

আরজু ইন্দুকে সামলে নিতে নিতে রাতের দিকে হালকা তাকিয়ে বললো...

" আমি সামলে নেবো, আপনি আসতে পারেন। "

পরপরই ইন্দুকে সামাল দেওয়ার চেষ্টায় নিমগ্ন হলো আরজু...

" ইন্দু প্লিজ একটু থাম। এভাবে কাঁদলে হবে না ইন্দু, আমাদের হসপিটাল পৌঁছাতে হবে তো। "

ইন্দু হয়তো বুঝতে পারলো আরজুর কথা। চোখ মুছে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো আরজুর হাত ধরে। তাদের কথা শুনে আবির্ভাব বলে উঠলো...

" তোমরা কোন হসপিটাল যাবে আমায় বলো।সমস্যা না হলে আমি পৌছে দিচ্ছি তোমাদের। "

আরজু একটু ভাবলো, আদেও এভাবে যাওয়া উচিৎ হবে তাদের। কিন্তু পরক্ষণেই আবার ইন্দুর অবস্থা দেখে বললো..

" এভার কেয়ার হসপিটাল। "

" চলো "

বলেই আবির্ভাব ইন্দু আর আরজুকে নিয়ে রওনা দিলো হসপিটালের উদ্দেশ্যে।

-----

মির্জা ভিলার সুবিশাল দরজায় কারো আগমনের আভাস পেতেই ড্রয়িং রুমের সোরগোল একটু থামলো। সবাই সেদিকে একবার দৃষ্টি দিয়ে একে অপরের দিকে তাকালো। উদ্দেশ্য একটাই, কে কার আগে কাকে বলতে পারে..

"তুই যা.."

তবে মুখ থেকে সেই কথা কারোরই বের হতে পারলো না তার আগেই রাজকীয় সিঁড়ির দোরগোড়া থেকে ভেসে এলো এক ষাঁড় কন্ঠ। কিন্তু একটু পার্থক্য আছে, এই ষাঁড় কোনো সাধারণ ষাঁড় নাহ,এই ষাঁড়ের মুখ দিয়ে হাম্বা শব্দ বের হলো না, বের হলো...

"হ্যালোওওও গায়েজ, হায় হায় সালাম ভাই লোগ। আজকের তিড়িং বিড়িং এ আপনাদের জন্য থাকছে ক্যারাম খেলা, আর আমাদের তিড়িং বিড়িং ক্যারামের বিশেষত্ব হলো এই ক্যারামে মাত্র চার জন নহে লা, এই ক্যারাম খেলায় অংশ নিয়েছে অগনিত তুরুলা। বাট বাট বাট, হুট করেই খেলার মাঝখানে মির্জা ভিলার দরজায় কে যেন করাঘাত করলো আর তুরুলা বাহিনি খুবই আকর্ষণ নিয়ে তাকিয়ে আছে কে কাকে আইলসামি থেকে বের করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে। কিন্তু আজকে সকল তুরুলা বাহিনিকে অবাক করে দিয়ে মির্জা ভিলার দরজা খুলে দিবে স্বয়ং পৃথিবী মির্জা হু হা হা। সো গায়েজ, লোটস গো উইথ মি টু সি, হু ইস নকিং দা ডোর।"

তড়িৎ গতিতে নিজের লম্বা ভাষন শেষ করে এক হাতে ক্যামেরা স্ট্যান্ডটা নিয়েই দরজার দিকে এগিয়ে গেলো পৃথিবী। দরজা খুলতেই লাগেজ হাতে দৃশ্যমান হলো মৃগাঙ্ক মির্জা রাত। তাকে দেখেই পৃথিবী দু লাফে পিছিয়ে গিয়ে বলে উঠলো...

" হে উপরওয়ালে, ইয়ে মুঝে কেয়া দেখনা পাররাহা হেয়,মুঝে মেরা সাহি নজর ওয়াপাস দে দো। "

পৃথিবীর এমন উদ্ভব আচরন গুলো খুবই স্বাভাবিক রাতের কাছে।লাগেজ হাতে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে একটু শক্ত কন্ঠে চোখ রাঙিয়ে বললো..

"পৃথিবী.... "

পৃথিবী পাত্তাই দিলো না রাতের ধমককে। সে পুনরায় নিজের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে জনগনের উদ্দেশ্যে বললো...

"গায়েজ, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, স্বয়ং মৃগাঙ্ক মির্জা এক দিনেই এবরোড থেকে ফিরে এলো। এটা কি করে সম্ভব? আর ইংলিশে, হাউ ইস ইট পসিবল ব্রো? "

রাতকে চোখে পড়তেই ড্রয়িং রুমে থাকা তুরুলা বাহিনীর বারোটি কন্ঠ একত্রে কিচেনের দিকে তাকিয়ে চেচিয়ে বলে উঠলো...

"মেঝো মা, তোমার বড় ছেলে চলে এসেছে। "

কিচেনে কর্মরত সাবিহা মির্জার কানে চেঁচানির আওয়াজ গেলেও আদতে এরা কি বলছে তা বুঝে উঠতে পারলো না। স্বভাবতই তিনিও গলা ছেড়ে বললো..

" কি বলেছিস যে কোনো একজন বল। "

এবার তুরুলা বাহিনি একে অপরের দিকে তাকিয়ে সবাই বলে উঠলো..

" আমি আগে বলবো.."

সায়র বললো..

"তোরা চুপ থাক, আমি বলবো।"

করী বলে উঠলো..

"রাত ভাইকে আমি আগে দেখেছি তাই আমি বলবো।"

করীর মাথায় গাট্টা মেরে পৃথিবী বললো..

" ভাইকে আমি দরজা খুলে দিয়েছি, তাই আমিই বলবো।"

এদের এসব ঝগড়া শুনে সাবিহা নিজেই ড্রয়িং রুমে এসে পৌছালো..

"কি হয়েছে টা কি। আবার কি নিয়ে শুরু করেছিস তোরা। "

সাবিহার কথা শেষ হতে না হতেই পৃথিবী নিজের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বললো..

"গায়েজ দেখিয়ে, আমার সাথে কত অবিচার করা হচ্ছে। রাত ভাইকে আমি দরজা খুলে দিয়েছি, আমিই তো আগে বলার কথা তাই না? "

রাতের কথা কানে যেতেই সাবিহার চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো,..

"রাত এসেছে?"

সবাই একত্রে সোফার দিকে ইশারা করতেই সাবিহা এগিয়ে গেলো রাতের দিকে।দ্রুতই রাতের কপাল গাল চেক করতে করতে বললো...

"কিরে বাবা,, তোর কি কিছু হয়েছে।শরীর খারাপ করছে? এতো তারাতারি ফিরে এসেছিস তুই। মাত্রই তো কাল গেলি।তুই তো এত দ্রুত ফিরিস না কখনো।কমপক্ষে এক সপ্তাহ তো দেরি হয়ই।

রাত নড়ে-চড়ে বসে সাবিহাকে থামিয়ে দিয়ে বললো...

" আমি ঠিক আছি মা, কিচ্ছু হয় নি।আর এমনিই ফিরে এসেছি দ্রুত৷ এখানকার অফিসে কিছু কাজ আছে। "

রাতের কথা শুনে তুরুলা বাহিনীর মধ্যে থেকে আনান বলে উঠলো...

"অফিসে আবার কিসের ইম্পর্ট্যান্ট কাজ, কই আমি তো জানি না।"

"এই কাজ তোর সাথে না। এবার কাজ টা আবির্ভাবের সাথে। কি ডাক্তার, হেল্প করবি তো?"

আবির্ভাবের বিশ্বাস হচ্ছে নাহ।রাতের আবার কি অফিসের কাজ তার সাথে? সে তো এসব বিজনেস নিয়ে কিছুই বুঝে না তেমন।,, ভেবেই অবাক হয়ে এক আঙুল নিজের দিকে ইশারা করে বললো..

"আমি?"

রাত সাথে সাথেই উত্তর দিলো..

"ইয়েস।"

এদের কথার মাঝে আফনান বলে উঠলো..

" হার্ট সার্জেন্ট হয়ে বিজনেস,, আবির্ভাব ভাই,, তুই তো দেখি ও মাই গড, ও মাই গড।"

আবির্ভাব সামনে থেকে ময়দা মাখা ক্যারামের গুটি নিয়ে আফনানের দিকে ছুড়ে মেরে বললো..

"চুপ কর ব্যাটা। আমার ভয়ে জান যায়, রাত ভাইয়ের অফিস আর আমি দুই মেরুর উট।কেমনে কি ভাই,,"

এবার রণ গিয়ে পৃথিবী কাধে হেলে পরে ক্যামেরা নাড়িয়ে বললো..

"গায়েজ, আজকের ক্যারাম আসলেই কোনো সাধারণ ক্যারাম নয়।এ হলো কেরন মালা ক্যারাম "

এবার ছায়া এক মুঠো ময়দা রণের মুখে ছুড়ে দিয়ে বললো...

"রাখ তোগো গায়েজ গায়েজ। কাহিনী শুনি আগে। আবির্ভাব ভাই,কি করছস স্বীকার করে ফেল,নাইলে রাত ভাইয়ের হাত থেকে আমরা কিন্তু তোকে বাচাতে পারবো না।"

রাত উঠে দাঁড়ালো। কারোর কথায় পাত্তা না দিয়ে আবির্ভাবের দিকে তাকিয়ে বললো...

" ১০ মিনিট পর তুই আমার রুমে যাবি।ঠিক দশ মিনিট।"

বলেই রাত সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।

এদিকে তার পানে তাকিয়ে আবির্ভাবের ঘাম ছুটে গেলো। তা দেখে করী মিটি মিটি হেসে বললো..

" এ মা আবির্ভাব ভাই। তুই রাত ভাইকে ভয় পাচ্ছিস? "

আবির্ভাব ভেঙচি কেটে বললো..

" এহ, তুই যেন পাস না ভয়,, তাই না? "

" আমি তো ছোট, তাই ভয় পাই। "

করীর কথার তালে তালে আবির্ভাবও বলে উঠলো..

" আর আমি সমবয়সী, তাই ভয় পাই। "

এদের কথা শুনে প্রভাকর একটা দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেলে বললো..

"আর আমি তো বড় হয়েও রাতকে ভয় পাই। "

প্রভাকরের এমন কথায় ছোট্ট দৃশ্য আর কল্প একত্রে হাত তালি দিয়ে বলে উঠলো...

"বাবা কাকাইকে ভয় পায়, বাবা কাকাইকে ভয় পায়... "

এদের থামাতে প্রভাকর হালকা চেচিয়ে বললো...

"চুপ শা" লা। "

প্রভাবকের কথায় রান্নাঘর থেকে পকোরার বাটি হাতে এগিয়ে আসতে আসতে কুঞ্জর বললো..

" ওরা তোমার ছেলে হয়।"

-------

রং তুলির আবেশে বেষ্টিত একখানা চিত্রপটের দিকে তাকিয়ে আনমনেই হাসলো রাত। অর্ধপূর্ণ চিত্রটার রং শুকিয়েছে সেই কবেই। কিন্তু ছবিখানা এখনো পূর্ণ হলো না।সেথায় নিজের হাতের দু আঙুল আলতো করে বুলিয়ে নিলো রাত। দৃষ্টিতে এক রাশ মুগ্ধতা। তাহার স্বপ্নে দেখা কন্যা মুখ তার সামনে সজ্জল। সেই চিত্রপটের দিকে তাকিয়েই রাত আপন মনে কোমল কন্ঠে বলে উঠলো....

"এই পৃথিবীর সব থেকে সুখী পুরুষ হয়তো আমি তিয়াস। বহুকাল আগে যিনি মোনালিসার চিত্র একেছিলেন তিনি শুধু স্বপ্নেই মোনালিসাকে দেখেছেন, বাস্তবে বহু খুজেও তেমন কাউকে পায় নি তিনি। কিন্তু আমি আমার অঙ্কিত মোনালিসা পেয়ে গেছি। আমার তিয়াশ। আমার স্বপ্নে আসা সেই তিয়াশ, কল্পনায় আকা চিত্রের রানী,বাস্তবেও যে তোমার অস্তিত্ব খুঁজে পাবো তা ভাবনাতীত ছিলো এই মৃগাঙ্কের। আমি পেয়ে গেছি তোমায়, এবার শুধু তোমায় নিজের করে পাওয়ার অপেক্ষা।

আমাদের আবার দেখা হবে তিয়াস, কোনো এক স্নিগ্ধ বিকেলের কাঠফাটা রোদে আমি আবার তোমার উজ্জ্বল মুখখানার সাক্ষাৎ পাবো। আর সেই বিকেল খুবই নীকটে। "

রেখো তোমার বাহুডোরে গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে ঘেরা রোমান্টিক ও থ্রিলার গল্প