রেখো তোমার বাহুডোরে

পর্ব - ১২

🟢

শুক্রবারের জুমার নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরেছে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা। তুরুলা বাহিনী আজ দোতলার পাশ বারান্দায় গোল হয়ে বসে পরিকল্পনা করছে বিকেলে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার। একেক জন একেক রকম জায়গার নাম বলছে, এই নিয়েই চরম আলোচনা এই দিকে।

অন্যদিকে ড্রয়িংরুমে বড়রা উপস্থিত। কান্তা মির্জা কি নিয়ে যেন আলোচনা করবেন। বাড়ির ছোটদের এখনো সেসব আলোচনায় গুরুত্ব না দিলেও প্রভাকর,রাত আর আবির্ভাব,আনান উপস্থিত থাকতে হয় সেসব আলোচনায়৷ তেমনি আজও ব্যতিক্রম হলো না। সবার উপস্থিতি লক্ষ্য করে কান্তা মির্জা আবির্ভাবকে জিজ্ঞেস করলো...

"আবির্ভাব বাবা। তিয়াসকে তোর কেমন লাগে?"

ভ্রু কুঁচকে এলো রাতের। কথার ধরন মোটেও সুবিধার লাগছে না ঘাড় ঘুরিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো আবির্ভাব আর বড়মার দিকে। আবির্ভাব স্বাভাবিক ভাবেই বললো...

"ভালোই তো লাগে। ইন্দু নিঃসন্দেহে একটা ভালো মেয়ে।"

আনান জিজ্ঞেস করলো...

"তা বড়মা হঠাৎ এই প্রশ্ন? "

কান্তা হাসি মুখে বললো...

"বলছি সবই। "

এককোনায় দাঁড়িয়ে মিশি আর লিয়ানা ভয়ে ভয়ে তাকাচ্ছে রাতের গম্ভীর মুখশ্রীর দিকে। বারবার নিজেদের স্বামীকে ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করছে কিছু একটা। কিন্তু আয়ুশ আর আলভি বুঝতেই পারছে না তাদের ইশারা।

কান্তা এবার সরাসরি আবরার মির্জাকে বললো...

"তিয়াসকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তোমরা সবাই অনুমতি দিলে আমি আবির্ভাব আর তিয়াসের বিয়ের বিষয়টা এগিয়ে নিতে পারি। আবির্ভাবেরও তিয়াসকে পছন্দ। "

কান্তা মির্জার শান্ত সজ্জল কথাটা যেন এক প্রকার আত'সবাজির ন্যায় প্রভাব ফেললো উপস্থিত সকলের মাঝে। সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো আবরার আর আশরাব। আবির্ভাব, আনানের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। ঘাড় কাত করে রাতের দিকে তাকাতেই দেখলো ছেলেটা ঠিক আগের মতোই নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে৷ কিন্তু তার কপালের পাশের ফুলে উঠা রগ আর মুষ্টিবদ্ধ হাত দেখেই আত্মা কেঁপে উঠলো আবির্ভাবের। আল্লাহর হাজার স্মরণ করতে করতে বললো....

"মাগো। তুমি নিজ হাতে নিজের ছেলের বিপদ ডেকে আনলা।"

বলেই আবির্ভাব এক ছুটে পালাতে গেলেই আনান তার বাহু চেপে ধরে বিরবির করে বললো...

"পালাচ্ছিস কোথায় গাধা। এভাবে পালালে রাত ভাই ভাববে তুই-ই আসল কাণ্ডারি। সোজা গিয়ে ভাইয়ের পা চেপে ধর ভাই, আর কোনো উপায় নেই বাঁচার। "

আবির্ভাব যেন তাই করলো। ছুটে গিয়ে রাতের সামনে হাটু গেড়ে বসে ঘনঘন করে বলতে লাগলো...

"ভাই, আমাকে মাফ করে দে।আমি এসবের কিচ্ছু জানি না বিশ্বাস কর। ভাই একটু বুঝ.."

অসহ্যকর রাত এবার বা হাতের কব্জি দিয়ে আবির্ভাবকে আঘাত করে বসলো। আবির্ভাব লুটিয়ে পড়লো ফ্লোরে। কান্তা মির্জা ভয়ে এগিয়ে যেতে নিলেই আবরার মির্জা তাকে বাঁধা দিয়ে বললো...

"তুমি এখন গেলে রাতের মাথা আরো গরম হয়ে যাবে। দাঁড়াও এখানে। "

রাত এগিয়ে গিয়ে আবির্ভাবের কলার চেপে ধরে গর্জে উঠে বললো...

"তুই আমার সাথে এমন বেইমানি কি করে করলি? বল? তুই তো একদম প্রথম থেকেই সবটা জানিস, তাহলে কেন করলি এমনটা? কেন তুই আমার তিয়াসের দিকে নজর দিয়েছিস?বল? "

আবির্ভাব ভয়ে গলা দিয়ে স্বর বের করতে পারছে না। আনান এগিয়ে গিয়ে আবির্ভাবকে রাতের হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো, কিন্তু তা কি আর সম্ভব? হঠাৎই সিঁড়ির দোরগোড়া থেকে নারী কন্ঠ কানে এলো...

"কি হয়েছে? আবির্ভাব ভাইয়াকে মারছেন কেন? "

রাত রক্তচক্ষু নিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো। সিঁড়ির সামনে তট আর ইন্দু দাঁড়িয়ে। রাতের চোখের দিকে তাকাতেই ইন্দু কেঁপে উঠলো। হঠাৎই রাত তার দিকে তাকিয়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো...

"তুমি এখানে কেন এসেছো? "

কথার তীব্রতায় দু কদম পিছিয়ে যেতে নিয়ে সিঁড়ির কোনার সাথে চোট লেগে পড়ে যেতে নিলেই তট দ্রুত তাকে ধরে ফেললো...

"আরেহ, পরবি তো। সাবধানে দাঁড়া। "

রাতের রাগ চরম পর্যায়ে। হঠাৎই আবির্ভাবকে ছেড়ে ইন্দুদের কাছে এসে ইন্দুর বাহু থেকে তটের হাতটা ঝাপটা মেরে সরিয়ে দিয়ে বললো...

"ছাড় ওকে। একদম ছুবি না তোরা তিয়াসকে। "

তট বুঝলো না হঠাৎ রাতের এমন আচরনের কারন। এদিকে ইন্দু ভয়ে গোলগোল চোখ করে তাকিয়ে আছে রাতের দিকে। সেদিকে দৃষ্টি রেখেই রাত আগের মতোই হুঙ্কার দিয়ে বললো...

"এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেন তুমি। যাও এখান থেকে.. "

ইন্দু ছুটলো সত্যিই। কোন দিকে ছুটলো তার নিজেরও যেন হুঁশ নেই। রাতকে কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না কেউ, এমন কি স্বয়ং আবরার মির্জাও না।

রাত এবার আবির্ভাব, তট এদের দিকে তাকিয়ে বললো...

"তিয়াসকে নিয়ে তোদের এমন সমস্যা হলে আমাকে বলতি তোরা। আমি ওকে রাখতাম না তোদের কাছে। আগেই ওকে নিয়ে আলাদা কোথাও চলে যেতাম আমি। "

আবির্ভাব ছুটে এসে আবার রাতকে বোঝাতে লাগলো...

"রাত ভাই প্লিজ একটু বুঝ, এটা শুধু মাত্রই একটা ভুল বোঝাবুঝি। ইন্দুকে আমি নিজের বোনের চোখে দেখি, অন্য কিচ্ছু না বিশ্বাস কর। তুই তো জানিসই আমি আরজুর প্রতি.... "

রাত শুনতে চাইলো না। আবারও আবির্ভাবকে ছাড়িয়ে নিয়ে ঘনঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো।

সে যেতেই কান্তা, সাবিহা দুজনই এগিয়ে এলো আবির্ভাবের কাছে। জিজ্ঞেস করতে লাগলো...

"কোথাও লাগেনি তো বাবা, ঠিক আছিস তুই? "

আবির্ভাব হাফ নিঃশ্বাস ফেলে বললো...

"ঠিক আছি আমি। ভাই আমাকে ভুল বুঝলো শুধু শুধু। "

আবরার মির্জা কান্তাকে বললেন...

"তুমি আমার সাথে একবার অন্তত আলাদা করে এই বিষয়ে কথা বলতে পারতে কান্তা। "

কান্তা বুঝতে পারলো না। অপরাধী সুরে বললো...

"আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। হঠাৎ করে এমন হবে জানলে.. রাত বাবার কি হলো হঠাৎ? "

আবরার মির্জা হাফ নিঃশ্বাস ফেলে সোফায় বসলো। ধীরে সুস্থে বললো...

"তিয়াসকে যেদিন রাত বাবা নিয়ে এসেছে সেদিনই আমাদের জানিয়েছে তিয়াসকে রাত বাবা নিজের স্ত্রী এর মর্যাদা দেবে। মূলত তিয়াসকে ও ভালোবাসে। এটা আমরা বড়রা সবাই জানি।"

সাবিহা বললো..

"আমি তো এই বিষয়ে কিছুই জানি না। "

কান্তাও বললো..

"আমাকেও তো বলো নি তোমরা কেউ কিছু। "

আশরাব মির্জা সাবিহাকে বললো..

"তোমাকে জানাইনি কারন তুমি এমনিতেই তিয়াসকে পছন্দ করো না। তার উপর তিয়াস রাতের বউ হবে শুনলে আরো বেশি রিয়েক্ট করতে। "

আবরার বললো..

"হ্যা, আর কান্তা আর সাবিহা, তোমরা দুজন তো আবার সখী, পেটের কথা একে অপরকে সব বলে দাও। তাই কান্তাকেও জানাইনি আমরা কিছু। "

কান্তা এবার মিশি আর লিয়ানার দিকে তাকিয়ে অবাক কন্ঠে বললো..

"তোরাও জানতি তাহলে?"

মিশি আর লিয়ানা এবার আস্তে করে মাথা নাড়ালো। আরশি মির্জা গালে হাত দিয়ে বললো...

"দেখো কি কান্ড। এই বাড়ির বউ কিনা ওরকম একটা মেয়ে হবে? রাত বাবা কি করে পারলো এমন সীদ্ধান্তটা নিতে? "

আবরার আরশিকে বললো...

" তোর এমন বলে বেড়ানোর স্বভাব দেখেই তোকেও কিছু জানানো হয় নি। "

চুপ হয়ে গেলো আরশি মির্জা। সাবিহা বললো...

"আমি আমার ছেলের বিপদের কথা চিন্তা করেই তিয়াসকে সন্দেহ করতাম। কিন্তু এখন আমার ভুল ভেঙে গেছে। ও যে ভালো মেয়ে তার প্রমান পেয়েছি আমি। এখন যেহেতু সবটা ঠিকঠাক, তাহলে রাত আর তিয়াসের বিয়েটাই না হয় দিয়ে ফেলা যাক। "

আশরাব মির্জা বললো...

"না নাহ। রাত বারণ করেছে এখন তিয়াসকে এসবে না জড়াতে। তিয়াস এই সম্পর্কে কিছুই জানে না। রাত চাইছে না তিয়াসের ফাইনাল একৃসামের আগে এইটা নিয়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে মেয়েটার উপর। বলেছে, সময় হলে ও নিজেই বলবে বিয়ের কথা। তাই আপাতত যেন তিয়াসের সামনে কেউ এই বিষয় নিয়ে কথা না বলতে। "

রাত আবার নেমে এলো সিঁড়ি বেয়ে। কিন্তু একটিবারের জন্যও ড্রয়িংরুমের কারোর দিকে তাকালো না। তিয়াসকে ডাকতে ডাকতেই অন্যদিকে চলে গেলো।

তা দেখে সাবিহা করুন স্বরে তটের দিকে তাকিয়ে বললো...

"কেন যে তখন মেয়েটাকে নিয়ে আসতে গেলি। এখন দেখ রাত আবার ওকে না বকাবকি করে। "

তট আস্তে করে বললো...

"আমরা তো জানতামই না এসব। এসেছিলাম তো অনুমতি নিতে বিকেলে ঘুরতে যাবো বলে। আমরা বললে ভাইয়া রাজি হতো না তাই তিয়াসকে দিয়ে বলাতে এনেছি। ও ভাইয়াকে এমনিই ভয় পাচ্ছিলো দেখে আমি সহ এসেছি, বাট কি থেকে কি হয়ে গেলো। "

কান্তা অপরাধবোধে বললো...

"কি ভুলটাই না করে ফেললাম আমি। "

---------

উপরের বারান্দায় গিয়ে সবার মাঝে ইন্দুকে না পেয়ে নিচে আসলো রাত। এদিক সেদিক খুজেই যাচ্ছে, কিন্তু পাওয়ার নাম নেই৷ আজ প্রথম বারের মতো নিজের এত বিশাল বাড়ির প্রতি বিরক্ত লাগছে রাতের৷ নীড়টা যদি ছোট্ট হতো, তাহলে কত সহজেই না তার তিয়াসকে খুঁজে পেয়ে যেতো সে৷

ওদিকে রাতের কন্ঠে নিজের নাম শুনে ইন্দু ভয়ে লুকিয়ে আছে করিডোরে পর্দার আড়ালে। রাত একবার তার পাশ কাটিয়ে গিয়েও খুজে পেলো না তাকে। ইন্দুর ধারনা রাত তাকে মারবে বলেই খুঁজছে এভাবে। তাই সীদ্ধান্ত নিলো রাতের সামনে পড়বে না এই মুহুর্তে ভুলেও।

ক্লান্ত রাত এদিক ওদিক খুঁজে খুঁজে গলি থেকে বেরিয়ে আসতে নিলেই চোখে পড়লো পর্দার নিচে এক জোড়া ছোট্ট গোলগাল পা। থেকে থেকে নড়তে থাকা পর্দাটা দেখে রাত যা বুঝার বুঝে নিলো। কোমরে হাত রেখে হাফ নিঃশ্বাস ফেলে হুট করেই হেঁচকা টানে পর্দার আড়াল থেকে বের করলো ইন্দুকে। তৎক্ষনাৎ জাপ্টে ধরলো নিজের বুকে তাকে। ইন্দুর মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরতেই এতক্ষণের বিদগ্ধ হৃদয়টা যেন হীম শীতল হয়ে গেলো। এই প্রশান্তি টুকুর জন্যই তো এতো করে তিয়াসকে কাছে চাওয়া রাতের।

ইন্দু খিঁচে দাড়িয়ে কাঁপছে এখনো। তার কাপাকাপি বুঝতে পেরে রাত তাকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। বললো...

"মারবো না তোমায়, ভয় পেও না। "

ইন্দু কি তবুও থামার পাত্রী? রাত নিজের থুতনি ঠেকলো ইন্দুর মাথার একপাশে। আস্তে করে বললো...

"আ'ম সরি। "

ইন্দু সেই আগের মতোই কাঁপছে। রাত এবার একটু উঁচু স্বরেই বললো...

"আরে বাবা সরি বললাম তো জান, মারবো না এখন। "

ইন্দু এবার বিরবির করে বললো...

"আ্ আপনি আমায় বকবেন.. "

"নাহ,, বকবোও না। কিচ্ছু করবো না, ভয় কমাও এবার।তখন কি বলতে এসেছিলে বলো?"

ইন্দু রাতের বুকে মাথা রেখেই জিজ্ঞেস করলো...

"আবির্ভাব ভাইয়াকে মারছিলেন কেন ?"

"তেমন কিছু না, আমাদের মধ্যে এরকম হয়, আবার ঠিক হয়ে যায়, ও তোমার সাথে কি আলাদা কথা বলছিলো? "

"কে? আবির্ভাব ভাই? "

"হুম "

"বলছিলো আরজুকে যাতে সামনের ফ্ল্যাটটায় আসতে রাজি করাতে পারি। আমার মনে হয় আবির্ভাব ভাই, আরজুকে ভালোবাসে। "

রাত প্রশ্ন করলো...

"সেটা বুঝো তুমি? "

"হুম, একটু একটু। "

"তোমায় কে ভলোবাসে সেটা বুঝো? "

"হুম বুঝি তো। "

রাত ভ্রু কুঁচকালো। জিজ্ঞেস করলো..

"কে?"

ইন্দুও আপন মনে বলতে লাগলো...

"লিমা আন্টি, আরজু এতদিন ছিলো। আর এখন তো এখানে বড়মা, মেঝোমা, সেজোমা ছোটমা এরপর আপুরা ভাইয়ারা সবাই ভালোবাসে, দু একজন ছাড়া।"

রাত হাসলো মনে মনে, এই মেয়েকে বললো কি আর বুঝলো কি। তবুও জিজ্ঞেস করলো...

"কে কে বাসেনা তোমায় ভালো? "

"উমম,ঐ যে অহি আপু, আরশি ফুপি আর আপনি। "

"আমি ভালোবাসি না? "

"নাহ, আপনি তো শুধু মা'রেন আর বকেন।একটুও ভালোবাসেন না আমায়। "

রাত বাঁকা হেঁসে বললো..

"তো এখন কি করছি? আদর?"

হুট করেই নিজের অবস্থানের কথা মাথায় আসতেই ইন্দু সরে যেতে চাইলো রাতের থেকে। কিন্তু রাতের হাতের শক্ত বেষ্টনী থেকে বের হওয়ার সাধ্যি নেই তার।

ইন্দু ধীর কন্ঠে বললো..

"ছাড়ুন। "

রাত এবার হেঁসে জিজ্ঞেস করলো...

"লজ্জা লাগছে এভাবে থাকতে? "

"হুম "

রাত দীঘল হেঁসে ছেড়ে দাড়ালো ইন্দুকে। ভালো করে তাকাতেই দেখলো ইন্দুর গাল দুটো লাল হয়ে গেছে। রাত এবার মুখ নামিয়ে দুষ্টু হেঁসে বললো...

"এমাহ, তোমার এতো লজ্জা? "

ইন্দু উত্তর দিলো না।চুপচাপ আবারও পালাতে লাগলো রাতের সামনে থেকে। রাত এবার আর বাঁধা দিলো না। শুধু পেছন থেকে বললো....

"বিকেলে ঘুরতে যাবো, রেডি হয়ে নিও সবার সাথে। "

ইন্দু চলে যেতেই রাতও বেরোতে নিলেই দেখলো সাবিহা, কান্তা আর তট দাঁড়িয়ে। তাদের দেখেই রাত থেমে বললো...

"তোমরা এখানে? "

সাবিহা বললো...

"ইয়ে মানে, তুই আবার তিয়াসকে বকাবকি করিস কিনা তাই দেখছিলাম। "

"তো কি দেখলে? "

তট বললো...

"দেখলাম বকাবকি করোনি। "

"আর কিছু দেখিস নি তো? "

তট দ্রুত মাথা নেড়ে বললো..

"না নাহ, আর কিচ্ছু নাহ। "

রাত এবার কান্তার দিকে তাকিয়ে বললো...

"তোমার ছেলেকে মেরেছি বলে বকবে আমাকে? "

কান্তা হালকা হেঁসে বললো...

"না রে বাবা, দোষ আমারই। "

"বাদ দাও। তিয়াস যেন কিচ্ছু বুঝতে না পারে এখন। "

তট মিনমিনিয়ে বললো...

"তুই নিজেই ওর সাথে এটা সেটা করবি। আর আমাদের বলবি যাতে ওকে না বলি,, তোর কাজেই তো ও বুঝে ফেলবে। এখন ওকে এরকম জড়িয়ে ধরেছিস, ও কি কিছু বুঝেনি? "

রাত ভ্রু কুঁচকে বললো...

"তুই নাকি কিছু দেখিস নি?"

তট বললো..

"ঐ একটুই..."

"এই যে এখন আমি তোর সাথে এত সুন্দর ভাবে কথা বলছি,তুইও আমার সাথে মজা করতে পারছিস তা শুধু মাত্র ঐ জড়িয়ে ধরার কারনেই। তাই এটাকে নিজেদের অস্ত্র হিসেবে নিতে শিখ। আর তিয়াস বোঝার কথাটা? ও এখনো ছোট আর একটু বোকাও।হয়তো শুনেছিস, আরজুকে একলা আবির্ভাব ভালোবাসে আর ওকে পুরো জাতি ভালোবাসে, এটাই তার ভালোবাসার ডেফিনেশন। "

কান্তা বললো...

"আরজুর কথাটাও জানতাম না। ইশশ,যা তা করে ফেলেছি আমি। "

"তোমার বোকা ছেলেটা এক বাঘিনীর প্রেমে পড়েছে বড়মা। খুশি হও, কারন না জানিয়েই বাড়ির সবাইকে মিষ্টি খাওয়াও, আর পছন্দ হলে নিজের হবু বউমাদেরও। "

মিশি এলো একটু আগেই। সব শুনে বললো...

"আমি বুঝি না বাপু,তোরা তিন ভাই তিনজনকে পছন্দ করে রেখে দিয়েছিস। আনান বিয়ে করছে না সাঁজির ভাই এর ভয়ে। আবির্ভাব বিয়ে করছে না নিজের প্রেমিকার ভয়ে, আর রাত তুই? কি আর বলবো। বলি তোদের এমন হাল হলে পরে যে আমাদের তট পৃথিবী এরা আটকে যাচ্ছে? "

তট এবার বললো..

"ওহ সেজোমা, তুমি এবার আমায় টানছো কেনো? ভাইয়ারা তিনজন সেরে নিক, তারপর একটা পটানোর চেষ্টা করো না হয় আমি। আর পৃথিবীর অভাব পরবে না, ওর এখন যে হারে ফ্যান ফলোয়ার বাড়ছে। ওখান থেকেই একটা তুলে আনতে পারবে ওই ষাঁড়টা। "

রাত হেঁসে চলে যেতে যেতে বললো...

"আব্বুদের বলো ব্যাংক ব্যালেন্স গুছিয়ে রাখতে। একসাথে তিন চারটে বিয়ে লাগলে তোমরা বড়রাই কুল পাবে না দেখে নিও। "

সায়র আর রণ মাত্রই এদিক দিয়ে আসছিলো। রাতের কথা শুনে সায়র চেচিয়ে বললো...

"ওহ নো ভাই। প্লিজ সবাই একদিনে বিয়ে করিস না, আমি তিন চারটা বিয়ের খাবার একটায় মানিয়ে নিতে পারবো না। প্লিজ ব্রো, অন্তত দুদিন পর পর হলেও বিয়ে করিস,তাও একই দিনে নাহ। "

রাত হেঁসে বললো...

"একসাথে করবোও না, আনান আর আবির্ভাবের বাসরঘর সাজানোর টাকা নিয়ে তবেই নিজে টাকা ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। "

রণ আর সায়রও একত্রে বলে উঠলো...

"ইনশাআল্লাহ, আমরাও তিনটা বিয়ের দাওয়াত খেতে প্রস্তুত। তট ভাই, তুই ইনো রেডি রাখিস। না হলে তোর পা'দের ঠেলায় মেয়ে পটবে না।"

রেখো তোমার বাহুডোরে গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে ঘেরা রোমান্টিক ও থ্রিলার গল্প