রেখো তোমার বাহুডোরে

পর্ব - ১৪

🟢

ভালোবাসায় প্রত্যাশা থাকতে নেই। কথাটি সত্য হলেও আবির্ভাব আজ একটু খানি প্রত্যাশা হয়তো করেই ফেলছে। জীবনের এই সাতাশটা বছর কতটা প্রফুল্লতায় কেটেছে তার তা সবাই জানে। রাত ভাইয়ের চেয়ে মাত্র চার মাসের ছোট সে, আর আনানের থেকে দেড় মাসের বড়। সমবয়সী হিসেবে ওরা দুজনই যেন আবির্ভাবের সকল কর্মের জানান সাথী। তিনজনের একসাথেই পড়াশোনা, ইউকে থেকে পিএইচডি সব হলো। সেই সময়ে স্বল্প পরিসরের এক বিদেশিনির প্রেম প্রস্তাবেও রাজি হয়েছিলো আবির্ভাব, কিন্তু ঐ যে মনের মিল হইলো না যেথায় সেথায় প্রেম টিকে থাকা দুষ্কর।

আবির্ভাবের বরাবরই চটপটা স্বভাবের মানুষ পছন্দ, ঠিক করেও রেখেছিলো এইবার একজন প্রাণোচ্ছল নারীর আগমন ঘটবে তার জীবনে, কিন্তু মন কি আর তার মস্তিষ্কের কথা শুনলো? মন তো গিয়ে থামলো এক গম্ভীর মানবীর সামনে।

আরজুর মন মস্তিষ্ক জুড়ে রয়েছে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, চার দিক বিবেচনা করে কাজ করে মেয়েটা, আবির্ভাব যে সহজে তার মনের দারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারবে না তা বেশ জানে, কিন্তু তবুও তো আবির্ভাব প্রত্যাশা করে, আরজু একটিবার তাকে গ্রহন করুক, আবির্ভাব তাকে জনমের খুশি এনে দেবে। কিন্তু তা আর হলো কই।

মনের আড়ালে কথাগুলো রেখে দরজার আড়াল থেকেই দেখতে লাগলো স্নিগ্ধময়ী মানবীকে। আরজু মাত্রই গোসল নিয়েছে। ভেজা চুলগুলো পিঠময় ছড়িয়ে। আবির্ভাব যেন দূর থেকেই সেই কন্যার মোহে পড়েছে৷ নীরব দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে আরজুকে। ব্যাগ থেকে একটি ডায়েরী বের করে সেথায় কোমল চিত্তে চুমু খেলো আরজু। তারপর সেটি টেবিলে রেখে আরো কিছু টুকটাক জিনিস সাজিয়ে রাখতে লাগলো নিজের রুমে। তারপরই ছোট্ট একখানা ফ্রেমে বাঁধানো ছবি বের করলো সে। পেছনে বেশ অনেকটা দূরে থাকার কারনে আবির্ভাব স্পষ্ট ছবিটা বুঝতে পারলো না, তবে এটুকুই বুঝলো এটা একটা লোকের ছবি। আরজু নীরবে সেই ছবিখানা নিজের বুকে জড়িয়ে ধরলো, আপন চিত্তেই বিরস কন্ঠে বলে উঠলো...

"আমায় তুমি ক্ষমা করে দিও, আমি পারিনি তোমার কথা রাখতে, পারিনি আম্মুকে তোমার নীড়ে রেখে আসতে, ক্ষমা করে দিও তুমি।"

আবির্ভাব বাঁধা দিলো না,,অপেক্ষা করলো আরজু নিজে থেকে ফিরে আসার। হয়তো নিজের বাবাকে খুব মিস করছে সে। আরজু নিজ থেকেই ছবিখানা রেখে দিয়ে দরজার কাছে আসলো, আবির্ভাবকে দেখে বললো...

"আপনি? "

আবির্ভাব আলতো হেঁসে বললো...

"অপেক্ষা করছিলাম আপনার৷ "

"ওহ,,ডাকেন নি কেন? ইশশ, অনেকক্ষণ অপেক্ষা করালাম আপনাকে। "

"সমস্যা নেই,এবার যাওয়া যাক? মা ফোন করে ফেললো দু বার। "

বলতে বলতেই ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে বেরিয়ে এলো দুজন।আরজু বললো...

"উনিও মনে হয় অপেক্ষা করছে, দেরি করিয়ে ফেললাম সবাইকে। "

আবির্ভাব টাওজারের পকেটে দু হাত গুঁজে খোলা আকাশের দিকে মুখ করে হেঁসে বললো....

"ধুর,,মায়ের ওসব অপেক্ষা-টপেক্ষা কিচ্ছু না।উনি তো ভয় পাচ্ছে। "

আরজু বুঝলো না, ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো...

"কিসের ভয়? "

আবির্ভাব তাকালো আরজুর মুখের দিকে। বললো..

"না থাক। "

আরজু এবার একটু কঠিন স্বরে বললো..

"বলুন?"

আবির্ভাব চমৎকার হেঁসে বললো...

"অধিকার দেখাচ্ছো? গুড গুড।"

আরজু মিনমিনে স্বরে বললো..

"নাহ,,ওভাবে বলতে চাইনি.।"

"মা ভয় পাচ্ছে, আপনি আমার সাথে একা আছেন সেই জন্য। খারাপ মতলবও থাকতে পারে আমার। "

আরজু বুঝতে পেরে মাথা নিচু করে ফেললো। আবির্ভাব আরজুকে অপ্রস্তুত হতে দেখে স্বাভাবিক করার জন্য বললো...

"কিন্তু আমার মা তো আর জানে না, আপনি নিজেই একটা স্পাইডারওমেন, আমাকেরই না মে'রে ফেলবেন।"

আরজু বোকার মতো প্রশ্ন করলো...

"কেন মার'বো?"

"এই যে, আমি যদি আপনার থেকে কিডনি,চোখ এসব চুরি করতে যাই। "

আরজু মুচকি হেঁসে বললো...

"কিন্তু আপনি তো হার্ট সার্জেন্ট, কিডনি চুরি করবেন কি করে?"

আবির্ভাব আড়চোখে তাকিয়ে আস্তে করে বললো...

"হার্টটাও তো চুরি করতে পারি। "

আরজু চুপ রইলো।নীরবে হাটতে লাগলো আবির্ভাবের পাশাপাশি। বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় আবির্ভাব আস্তে করে আরজুকে ফিসফিস করে বললো...

"নিজের হার্টটা একটু সাবধানে রাখবেন ম্যাডাম, কারন আমার হার্ট অলরেডি স্টোলেন, বাঁচতে হলে যখন তখন আপনার হার্টটা চুরি করে নিতেও পারি আমি। "

আরজু শুনে মুচকি হেঁসে উত্তর দিলো...

"চুরি করে লাভ নেই, মৃ'ত হৃদয় নিয়ে সবাই বাচতে পারে না। "

-----------------

পরদিন সকালে আবির্ভাব রেডি হয়ে নাস্তা করে দ্রুত গিয়ে উঠলো আরজুদের ফ্ল্যাটে। বেল বাজাতেই আফরোজা বেগম দরজা খুলে দিলো। আবির্ভাব চউড়া হেঁসে সালাম জানালো। তারপর ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো..

"আরজু- ইন্দু কোথায় আন্টি? কলেজ যাবে না? "

আফরোজা বেগম উত্তর দিলো...

"হ্যা, রেডি হচ্ছে ওরা। দু সপ্তাহ পর দুজন একসাথে পেয়ে সারারাত গল্প করে ভোরের দিকে ঘুমিয়েছে, তাই একন উঠতেও দেরি, রেডি হচ্ছেও দুজন তারাহুরো করে। "

আবির্ভাব সোফায় বসতে বসতে বিড়বিড় করে বললো..

"ওরা তো যাও ভোররাতে ঘুমিয়েছে,,রাত ভাই তো ঘুমোয়ই নি। একটা রাতের ব্যপার,ওর কাছে তো যেন একটা জনম ইন্দু তার থেকে দূরে রয়েছে। "

আফরোজা বেগম জিজ্ঞেস করলো...

"তোমাকে নাস্তা দিচ্ছি বাবা, বসো."

"না না আন্টি, আমি নাস্তা করেই এসেছি। আপনি ওদের একটু তারাতারি বের হতে বলেন, ভাইয়ের অফিসে লেট হচ্ছে. "

"কার লেট হচ্ছে? "

আবির্ভাবের সংবিত ফিরলো,,আমতা আমতা করে বললো...

"না মানে, আমার লেট হচ্ছে, হসপিটাল যেতে। "

তখনি আরজু আর ইন্দু রেডি হয়ে বেরিয়ে এলো রুম থেকে। আবির্ভাবের কথা শুনে আরজু বললো...

"আপনার লেট হলে চলে যান ভাইয়া। আমি ইন্দুকে নিয়ে বাসে করে চলে যাবো। "

আবির্ভাববউঠে দাঁড়িয়ে বললো...

"নাহ,, একা যাওয়া যাবে না।রাত ভাইয়ের আদেশ, ইন্দু বাড়ির গাড়িতে করেই কলেজ যাবে আসবে। "

আরজু এবার বললো..

"ঠিক আছে আপনি তাহলে ইন্দুকে নিয়ে যান। "

ইন্দু এবার বললো...

"ইন্দুকে নিয়ে যান মানে? তুই ও যাবি আমাদের সাথেই। "

আরজু না করতেই আবির্ভাব বললো..

"ইন্দুর সাথে ইন্দুর বান্ধবীকেও যেতে হবে, রাত ভাইয়ের আদেশ,অমান্য করলে ঘোর বিপদ।"

আরজু আর মুখের উপর কিছু বলতে পারলো না। আফরোজা বেগমও বললো...

"একই জায়গায় তো যাচ্ছিস, এক সাথেই যা না আরজু। এতো আলাদা আলাদার কি দরকার। "

সবার কথায় আরজুও না করতে পারলো না।তিনজনেই বেরিয়ে এলো ফ্ল্যাট থেকে। বের হতেই দেখলো, রাস্তার ওপাড়ে রাত বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে ইন্দু আবির্ভাবকে জিজ্ঞেস করলো...

"উনি এখনো যায় নি আজ? অফিস টাইম তো আরো আগে? "

আবির্ভাব হাফ ছেড়ে বললো...

"তুই নিজেই জিজ্ঞেস করিস। "

রাত এগিয়ে এলো ওদের সামনে। ইন্দুর দিকে এক পলক তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো...

"নাস্তা করেছো?"

ইন্দু উপরনিচ মাথা ঝাকালো। তারপর জিজ্ঞেস করলো...

"আপনার কি হয়েছে?চোখ মুখ এমন লাগছে কেন?"

রাত উত্তর দিলো..

"এমনি। "

"ঘুমাননি সারারাত?"

ইন্দুর প্রশ্নে এবার আবির্ভাব ফোরন কেটে রাতকে বললো...

"নে বল এবার ওকে,,কেন ঘুমাসনি, বল বল?"

ইন্দু চিন্তিত মুখে দু পা উচু করে রাতের কপালে নিজের হাত ঠেকালো,সেই হাত আবার রাতের গলার দিকটায় ছোঁয়াতেই ঢোক গিললো রাত। দ্রুত হাতে ইন্দুর হাত খানা নিজের শরীর থেকে সরিয়ে ফেললো, মেয়েটা কি আদেও বুঝতে পারছে? তার এমন হুটহাট ছোয়ায় রাতের ইন্দ্রীয় সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যে..

"জ্বর তো নেই, তো ঘুমান নি কেন? "

ইন্দুর প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার মতো কিছু খুঁজে পেলো না রাত। সে কি বলতে পারে যে একটা রাত তিয়াস তার থেকে দূরে আছে ভেবেই ঘুম হয়নি রাতের।

"আপনার কি শরীর খারাপ করছে?"

ইন্দুর এই প্রশ্নটার সাপেক্ষে রাত বরাবরের মতোই শীতল কন্ঠে বললো...

"কিছু হয় নি আমার। রওনা দাও তোমরা। "

তারপর রাত আরজুর দিকে তাকিয়ে বললো...

"এখন থেকে ইন্দুর সাথেই যাওয়া আসা করবে তুমিও। "

আরজু মাথা নিচু করে বললো...

"যেতে পারবো ভাইয়া, কিন্তু কলেজ শেষে আমার টিউশন আছে ওদিকে। আমি একাই আসবো। "

রাত সাথে সাথেই বললো...

"ঠিক আছে, টিউশন শেষে আবির্ভাবকে লোকেশন জানিয়ে দেবে, ও নিয়ে আসবে তোমাকে। "

আরজু হ্যা,না কিছুই উত্তর দিলো না। রাত হাতে থাকা হেলমেটটা মাথায় পড়ে নিয়ে ইন্দুর দিকে তাকিয়ে বললো...

"কলেজ শেষে অপেক্ষা করবে। আমি আসবো নিতে। "

ইন্দু সাথে সাথেই মাথা কাত করে বাইকটা দেখে রাতকে প্রশ্ন করলো...

"বাইক নিয়ে? "

রাত মুহুর্ত চুপ রইলো তারপর আস্তে করে উত্তর দিলো...

"দেখা যাবে। "

বলেই আর থামলো না রাত, চলে গেলো রাতার ওপাশে। বাইকে উঠে বসে হাতের ইশারায় আবির্ভাবকে গাড়ি ছাড়তে বললো। আবির্ভাব গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যেতেই রাতও রওনা দিলো নিজ গন্তব্যে।

-------

"ভাই, তুই অহিকে কিছু বলবি না ঐ ঘনটানার ব্যাপারে?"

আনানের প্রশ্নে রাতের কোনো হেলদোল হলো না। নীরবে ল্যাপটপে তাকিয়ে কাজ করছে। আনান আবার বললো...

"তুই এখনো চুপ থাকবি?"

"তায়ান ইফতিয়ান আমাদের কম্পানির সাথে প্রজেক্ট ফাইল করতে চায়,এই বিসয়ে জানাস নি কেন আমায়? "

আনান বুঝে গেলো রাত অহির ব্যাপারে এখন ভুলেও উত্তর দিবে না। হাফ নিঃশ্বাস ফেলে বললো...

"লোকটাকে সুবিধার মনে হচ্ছে না,,তাই একটু খোঁজ নিচ্ছি আগে। "

" স্টপিকেডেট প্রজেক্টের ফাইলটা এখনো কমপ্লিট হয়নি কেন? "

"ওটা মিস তিশার কাছে আছে। আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি। "

বলেই আনান বেরিয়ে এসে এম্প্লয়িদের ডেস্কের সামনে এসে বললো...

"মিস তিশা? আপনার ফাইলটা কমপ্লিট হয়েছে? "

তিশা নামের মেয়েটি উত্তর দিলো..

"ইয়াহ মি.আনান। "

"ওকেয়,স্যার কেবিনে ডাকছে আপনাকে। "

বলেই আনান চলে গেলো নিজের কেবিনে। এদিকে তিশা মেয়েটি দ্রুত ব্যাগ থেকে লিপস্টিক বের করে নিজের ঠোঁটে লাগাতে লাগলো গাঢ় করে। বাধা চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে হেয়ার ব্রাশ করতে লাগলো। তার পাশেই কাজ করতে থাকা দিবা নামের আরেকজন এম্প্লয়ি জিজ্ঞেস করলো...

"কি ব্যাপার তিশা? এতো সাজগোছ? "

তিশা নিজের পরিধানরত শার্টের উপরের বোতামটা খুলতে খুলতে বললো...

"মৃগাঙ্ক স্যার কেবিনে ডাকছে আমাকে। একটু তো স্পেশাল থাকতেই হবে। আফটার অল আমি স্যারের ক্রাশ বলে কথা। "

তিশার কথা শুনে আরেকজন এম্প্লয়ি আকাশ বলে উঠলো...

"তুমি স্যারের ক্রাশ নাকি স্যার তোমার ক্রাশ?"

তিশা লাস্ট ফিনিশিং এ মুখে হালকা ফেইস পাওডার তারপর ফারফিউম দিতে দিতে বললো...

"দুটোই,আর খুব দ্রুতই মৃগাঙ্ক মির্জার বউ হবো আমি। সো,এখন থেকেই ন্যাডাম বলা প্র্যাক্টিস করো সবাই। আসছি। "

বলেই বাকা হেঁসে ফাইলটা নিয়ে হাইহিলে ঠকঠক আওয়াজ তুলতে তুলে রাতের কেবিনের দিকে এগিয়ে গেলো তিশা।

" Mey I come in, sir?"

"Yeah "

অনুমতি পেয়েই তিশা মুচকি হেসে কেবিনে ঢুকলো। নিজেকে আড়চোখে একবার দেখে নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো রাতের পাশে। একটু ঝুঁকে ফাইলটা রাতকে দেখানোর ভঙ্গিতে বললো..

"স্যার, এখানে প্রোডাক্ট ওয়াইজ জিনিসগুলো আমরা একটু..."

রাত আগের মতোই ল্যাপটপে চোখ রেখে বললো...

"ফাইল রেখে যান, আমি চেক করে নিবো। "

ব্যস, সব ইচ্ছে, মুগ্ধ করার প্রচেষ্টা ফুস হয়ে গেলো তিশার। মুখ কালো করে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ধীর কদমে চলে গেলো সে কেবিন থেকে। বের হতেই আকাশ জিজ্ঞেস করলো...

"কি তিশা? এতো তারাতারি বেরিয়ে এলে যে? "

তিশা এবার ভাব নিয়ে বললো...

" রাতে ক্যানডেল লাইট ডিনারের জন্য রেডি থাকতে বলেছে আমাকে। শুধু আমি আর মৃগাঙ্ক স্যার। "

---------------

ক্লাস শেষ হতেই ক্যান্টিনে বসে আছে ইন্দু আর আরজু। এখান থেকে মেইন গেইটের বাইরে মোটামুটি সবই দেখা যায়, তাই এখানেই রাতের জন্য অপেক্ষা করছে তারা দুজন। রাত আসলেই আরজু টিউশন পড়াতে চলে যাবে। ইন্দু বেশ খুশি, প্রথম বারের মতো বাইকে উঠবে এই ভেবেই। বার বার আরজুকে বলছে...

"ইশশ, আমার কত দিনের শখ বাইকে চরবো। আজ পুরন হচ্ছে ফাইনালি। "

বারবার এসব বলছে আর ক্যান্টিন থেকে নেওয়া ঝালমুড়ি খাচ্ছে। কিন্তু তার সকল খুশি তখনই উভে গেলো যখন দেখলো রাত বাইক নয় বরণ নিজের কালো রঙের লাক্সারিয়াস রোলস রয়েস গাড়িটি নিয়ে এসেছে। ইন্দুর মুখের দিকে তাকিয়ে আরজু ফিক করে হেঁসে ফেললো।তা দেখে ইন্দু মুখ গোমরা করে বললো...

"তুই হাসছিস? ধুর.."

আরজু হাসি থামিয়ে ইন্দুকে শান্তনা দেওয়ার মতো করে বললো...

"ভাইয়ার ইচ্ছে করছে না হয়তো। থাক বাদ দে, অন্যদিন চড়িস বাইকে তুই। "

ক্যান্টিনে ঝালমুড়ির টাকা মিটিয়ে আরজু বললো...

"চল এবার। "

রাতের সামনে আসতেই ইন্দু অভিমানে মুখ ফুলালো, কিচ্ছুটি বললো না৷ আরজু তাদের থেকে বুদায় নিয়ে চলে গেলো টিউশনের উদ্দেশ্যে। ইন্দু চুপচাপ নিজেই গাড়িতে উঠে বসলো পোছনের সীটে। রাত মীররে তাকিয়ে একবার দেখলো তার প্রাণ প্রেয়শীর ফুলানো মুখখানি। বললো...

"আমি নিতে এসেছি বলে কেউ একজন কি খুশি হয়নি?"

ইন্দু উত্তর দিলো না। চুপ করে বাইরে তাকিয়ে রইলো। রাত আবার বললো...

"এই গাড়িটায় ড্রাইভার হিসেবে মানাচ্ছে না আমায় ঠিক, সামনে এসে বসুন ম্যাম। "

অভিমান থাকলেও ইন্দু ভয় পায় রাতকে। শান্ত স্বরে বলছে, কখন আবার চিৎকার করে উঠে সেই ভয়ে আর কথা না বাড়িয়ে সামনের সীটে এসে বসলো। রাত জিজ্ঞেস করলো..

"কথা কি বলবেন না ম্যাম?"

ইন্দু উত্তর দিলো না। রাত দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে গিয়ে ইন্দুর সীটবেল্টটা বাঁধতে বাঁধতে বললো...

"সারারাত ঘুম হয়নি, তাই চোখে এমনিতেই একটু ঘোলাটে দেখছি, বারতি হেলমেটও নেই, তাই এতো রিস্ক নিয়ে আপনাকে বাইকে উঠাতে পারবো না আমি। "

ইন্দুর অভিমান আর রইলো কই। রাতের কথা শুনেই চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো...

"আপনার মাথা ব্যাথা করছে?"

রাত উত্তর না দিয়ে ফের প্রশ্ন ছুড়লো..

"রাগ কমেছে আপনার?"

ইন্দুও কম কিসে,উত্তর না দিয়ে আহ্লাদী স্বরে মাথা কাত করে বললো...

"মাথা টিপে দিই আপনার?"

রাত নীরবে তাকিয়ে রইলো ইন্দুর জিজ্ঞাসু আঁখি দুটির দিকে। যেন এখন না করলেই রাতের ঘোর অমঙ্গল হয়ে যাবে। রাত পারলোও না এতো সুন্দর একখানা সুযোগকে নাকোচ করতে। গাড়ির জানালার কাচ উঠিয়ে দিয়ে এসির পাওয়ার একটু বাড়ালো। তারপর ঝুঁকে ইন্দুর সীটবেল্টটা খুলে হেঁচকা টানে ইন্দুকে তুলে এনে নিজের কোলের উপর বসালো। তারপর সীটের পিছনে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বললো...

"যা মন চায় করুন ম্যাম,আমি সম্পূর্ণই আপনার দখলে। "

ইনৃদু প্রথমে একটু অপ্রস্তুত হলেও পরক্ষণেই রাতের এমন কথা আর কাজে ফিক করে হেঁসে দিয়ে আলতো হাতে রাতের মাথায় মাসাজ করতে লাগলো। প্রয়য়ীনির কোমল হাতের ছোয়া পেয়ে রাতও আবেশে তৃপ্তিময় হাসলো।

রেখো তোমার বাহুডোরে গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে ঘেরা রোমান্টিক ও থ্রিলার গল্প