রেখো তোমার বাহুডোরে

পর্ব - ১৯

🟢

পুরোটা পথ ইন্দু স্তব্ধ চিত্তে জানালা দুয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলো। একটি বারের জন্যও রাতের দিকে ফিরে তাকায়নি, আর না আগের মতো হাতের বাধন খোলার জন্য ছটপট করেছে। মির্জা ভিলায় এসে গাড়ি থামলো। রাত পাশ ফিরে তাকালো ইন্দুর দিকে। গাড়ি থেকে নেমে এসে ইন্দুর দিকের দরজাটাও খুলে দিলো।রাতকে দেখে ইন্দু মাথা নিচু করে ফেললো,লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে মেয়েটা ঠিক মতো তাকাতেও পারছে না তার দিকে। রাত মিটিমিটি হাসলো ইনৃদুর এমন কান্ডে। হালকা ঝুঁকে ইন্দুর হাতের বাঁধন খুলে স্কার্ফটা গলায় ঝুলিয়ে দিলো। নিজ হস্তে ইন্দুর এলোমেলো চুলগুলে কানের পেছনে গুঁজে দিতে দিতে বললো...

"আপনাকে চাইলেও আমি গায়ে হাত তুলতে পারবো না, তাই আপনার শাস্তিগুলো এমন অভিনব পদ্ধতিতেই হবে,বুঝলেন তো রাইকামিনী?"

ইন্দু চুপ করেই নেমে এলো গাড়ি থেকে। তারপর এক ছুটে বাড়ির ভেতরে। তার এমন কান্ডে রাত এবার যেন হেঁসেই ফেললো।

গাড়ি পার্ক করে বাড়িতে ঢুকতেই সাবিহা এসে চিন্তিত কন্ঠে বললো..

"তিয়াসের কি হলো রে? ছুটে গিয়ে নিজের রুমের দরজা আঁটকে দিলো,,কিছু বললোও না।"

রাত হেঁসে বললো...

"ও কিছু না মা। চিন্তা করো না তুমি,একটু পরই ঠিক হয়ে যাবে। "

বলেই রাতও নিজের রুমের দিকে চলে গেলো।

--------

পরদিন সকাল প্রায় সাড়ে সাতটা। রাত একদম ফর্মাল গেটআপে রেডি হয়ে ইন্দুর রুমের দরজায় কড়া নাড়লো। সাথে সাথেই ভেতর থেকে ইন্দুর আওয়াজ এলো...

"দরজা খোলাই আছে।"

রাত ধীর কদমে রুমে ঢুকলো। ইন্দু বিছানার উপর উপুর হয়ে শুয়ে সামনে বই রেখে পড়ছে। কেউ এসেছে ভেবে ফিরে তাকাতেই রাতকে দেখে তড়িৎ গতিতে লাফিয়ে উঠে এককোনায় গুটিশুটি হয়ে দাঁড়ালো। গতকালের কথা মনে পড়তেই শুকানো ঢোক গিললো সে। আমতা আমতা করে বললো....

"আ্ আপনি?"

রাত নীরবে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ইন্দুকে দেখে আস্তে করে বললো..

"হুম। "

ইন্দু চুপ,কি বলবে বুঝতে পারছে না। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা তড়িৎ গতিতে লাফাচ্ছে তার,থামানোর উপায় কি?

ভাবনায় বিভোর হওয়া ইন্দুর নীরবতাকে ছাড়িয়ে রাতই বললো...

"আমি বেরোচ্ছি।"

ইন্দু চুপ,রাত আরেকটু কন্ঠ উঁচু করে বললো...

"আমি বেরোচ্ছি অফিসের জন্য। "

ইন্দু ধ্যান হারালো। এদিক ওদিক তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললো..

"হুম? আ্ আচ্ছা। "

রাত নীরবে এগিয়ে এলো। গ্রীষ্মের শেষ ভাগের তপ্ত রোদ্দুর রশ্মি ইন্দুর গালের এক পাশে পড়তেই চকচক করছে হলদেটে মুখখানা৷ রাতের দৃষ্টি আটকেছে সেখানেই। ঘন চোখের পাপড়ি গুলো বারবার ঝাপটে রাতের দিকে দেখছে,কত কৌতুহল, অপ্রস্তুত আশঙ্কায় আবৃত সেই চোখ, রাতকে যেন নীরবেই প্রশ্ন করছে, আপনি কেন এগিয়ে আসছেন?

রাতের স্বপ্নদর্শী হঠাৎ যেন আজ নতুন এক রুপে ধরা দিলো রাতের হৃদয় আখিতে।এক হাতের আঙ্গুলি দ্বারা ইন্দুর কপালে পড়া চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে মোহিত কন্ঠে উচ্চারন করলো...

"আমার লাজুকলতা।"

বৃহৎ বক্ষের এই সুপুরুষটিকে নিজের এতটা কাছে আবিষ্কার করে আজ যেন ইন্দু একটু অপ্রস্তুতই হচ্ছে। গতকালের সেই ঘটনাটাই কি এই অনুভূতির মূল কারন?

রাতের শরীরের তীব্র ঝাঁজালো পার্ফিউমের ঘ্রাণটা বেশ টানছে ইন্দুকে।চোখ তুলে একটু উপরে তাকাতেই দৃষ্টি আটকালো রাতের ঘন চাপ দাঁড়ির মাঝে পুরু ওষ্ঠে।

ইশ ইশ ইশ,এসব কি ভাবছিস তুই ইন্দু,এভাবে কেন তাকিয়ে আছিস,,ছিহ।

ভাবনাদের ওখানেই বন্ধি করে পালানোর পথ খুঁজলো ইন্দু৷ সরে যেতে নিলেই রাত দু পাশের দেওয়ালে হাত ঠেকিয়ে আটকালো ইন্দুকে। সাথে সাথেই ইন্দু চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো। রাত গোপনেই হাসলো। বা হাতের তর্জনী ইন্দুর থুতনিতে ঠেকিয়ে তার নিচু হওয়া মুখটা উপরে তুললো,যেন বাসর রাতে বউয়ের লজ্জামাখা মুখখানি দেখছে সে। তীব্র অনুভূতিকে সংযত রাখতে জানে রাত।নিজেকে সামলে বললো...

"তাকাও আমার দিকে?"

ইন্দু শুনলো না,রাত আবার বললো..

"তাকাতে বলছি। "

এইবার চোখ খুলে রাতের চোখে নিজের কম্পমান চোখ রাখলো ইন্দু...

"এত ভয় কেন ম্যাম?"

উত্তর নেই ইন্দুর দিক থেকে। রাত কন্ঠ আরেকটু শক্ত করে বললো...

"Hey baby girl, Don't be afraid okey? I know hou to control myself. কিন্তু ম্যাম,আপনি যদি আমাকে ইচ্ছে করে নিজের দিকে আকর্ষিত করেন তাহলে নিজেকে সংযত করতে কষ্ট হয়। আর আপনি যদি গতকালকের মতো কথার অমান্য হয়ে ত্যাড়ামি করেন আমার সাথে, তাহলেই এমন শাস্তি পাবেন আপনি, অন্যথায় আপনি আমার কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদ। বুঝতে পেরেছেন?"

ইন্দু কিছুই বুঝলো না ঠিক।তবুও ছোট্ট করে উত্তর দিলো..

"হুম।"

" তো এই যে আপনি স্বাভাবিক হতে পারছেন না আমার সামনে এতে আমার আরো বেশি বিরক্ত লাগছে, আর বিরক্ত লাগছে মানে আপনি আবারও শাস্তি পেতে পারেন। "

কথাটা শুনেই ইন্দু চোখ গোল গোল করে তাকালো রাতের পানে। দু হাতে নিজের পেট চেপে ঢেকে রাখলো মেয়েটা। সেই দিকে চোখ যেতেই রাত ফিক করে হেঁসে দিলো। ইন্দুও এবার বোকার মতো প্রশ্ন ছুড়লো..

"হাসছেন কেন?"

রাত হাসি থামিয়ে ধীরে সুস্থে ইন্দুর কপালের ঠিক মাঝ বরাবর একটি চুমু খেয়ে বললো..

"বি নর্মাল ওকেয়? আমি এতটাও ইম্পেশেন্ট নই হুম? আপনার প্রাণোচ্ছলতা আমায় প্রশান্তি দেয়। আবির্ভাবের সাথে কলেজ যাবেন সময় মতো হুম?"

ইন্দু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। রাত সরে এসে বললো...

"আসছি আমি, সি ইউ সুন।"

বলেই চলে গেলো রাত। সে যেতেই ইন্দু বুকে হাত দিয়ে শ্বাস ছেড়ে খাটের কোনায় বসলো। পরক্ষণেই কিছু একটা চিন্তা করে ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলো মেয়েটা।

ঠিক তখনই পৃথিবী আর সায়র এসে রুমে ঢুকলো ইন্দুকে হাসতে দেখে পৃথিবী জিজ্ঞেস করলো...

"খুশির খবরটা কি তুই আগেই পেয়ে গেছিস? "

ইন্দু জিজ্ঞেস করলো..

"কি খুশির খবর? "

পৃথিবী এবার উচ্ছসিত কন্ঠে বললো...

"এটাই যে, গতকাল রাতের তোদের গানের ভিডিওতে এক লক্ষ্য ভিউজ ছাড়িয়েছে এক রাতেই, হাজার হাজার শেয়ার হচ্ছে। আমাদের তিড়িং বিড়িং চ্যানেল এখন ভাইরাল হয়ে গেছে। ইয়াহু.."

ইন্দু বেশ খুশি হলো খবরটা পেয়ে। সায়র বললো...

"তো সেই উপলক্ষে পৃথিবী আমাদের আজ রাতে ট্রিট দিবে, রেডি থাকিস। "

----------------

আরশি মির্জা মাত্রই রান্নাঘরে এসে পৌঁছালো। নাসারন্ধ্রে চরম পর্যায়ের ঘ্রাণ এসে ঠেকতেই লম্বা করে নাক টানলো সে। বললো...

"বাহ ভাবি,দারুন সুগন্ধ বের হয়েছে তো। কি রান্না করছো তোমরা? "

সাবিহা হেঁসে উত্তর দিলো....

"পায়েস রান্না করছি তিয়াসের জন্য। চেরি,কিসমিস দিয়ে পায়েস মেয়েটার বেশ পছন্দ। "

আরশি মির্জার মুখটা ওমনিই কালো হয়ে গেলো। কান্তা হেঁসে বললো...

"তুই কি করে জানলি মেঝো?"

"কালকে আরজুর থেকে জেনে নিয়েছি তিয়াসের ব্যপারে, জানো ওর না শিল পাটায় বাটা বিভিন্ন রকম ভর্তাও পছন্দ। বাড়িতে তো সব মিক্সার গ্র্যান্ডারে করে নেওয়া হয়, শিল পাটা নেই। ভাবছি এর মধ্যে রাতের আব্বুকে দিয়ে শিল পাটা আনাবো,তারপর তিয়াসের জন্য ভর্তা বানাবো বিভিন্ন পদের। "

রাত মাত্রই সিঁড়ি দিয়ে নামছিলো। মায়েদের কথা শুনে হালকা হেঁসে ড্রয়িং এ গিয়ে বসলো। সাবিহার কথায় কান্তা হাসলেও আরশি মির্জা খুব একটা খুশি হতে পারলেন না। দাঁতে দাঁত চেপে বললো...

"তা আর কি কি জানলে তোমার তিয়াসের ব্যপারে? কোথায় থাকে,মা বাবা কে,কেমন পরিবার থেকে উঠে এসেছে এসব?"

সাবিহা হঠাৎই আনমনা হলো। ভ্রু জোড়া কুঞ্চিত করে বললো...

"যতদূর জানি, তিয়াস ছোট বেলা থেকেই অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছে। তারপর ওর একটা নার্স আন্টির সাথে। আর এখন তো আমাদের সাথেই আছে। ওর মা বাবা নিয়ে আরজু তেমন কিছু বলেও নি,আর আমিও জিজ্ঞেস করিনি ওসব।"

মিশি কফির কাপ নিয়ে লিয়ানার কাছে দিতে দিতে বললো...

"থাক না মেঝো ভাবি। ও আগে কেমন ছিলো,কোথায় ছিলো,পরিবার কেমন এসব জেনে লাভ কি বলো? মেয়েটা এমনিতেই মিষ্টি, আগের কথা দিয়ে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। "

কান্তা তাল মিলিয়ে বললো...

"হ্যা সেটাই রে মেঝো। কথায় আছে না,জন্ম হউক যথা,তথা কর্ম হউক ভালো। "

লিয়ানা কফি তুলে দিলো রাতের হাতে। জিজ্ঞেস করলো...

"আজ এত তারাতারি যে? কোথাও যাবি? "

রাত কফির কাপে চুমুক দিয়ে বললো...

"কম্পানিতে একটু কাজের চাপ বেশি, রাতে দেরি করার চাইতে এখনই বেরিয়ে পড়াটা ঠিক মনে হলো, ছোট মা।"

লিয়ানা হালকা হেঁসে আস্তে করে বললো...

"খুব ভালো রাত বাবা। এখন থেকেই হবু বউকে একটু সময় দিতে শিখেছিস, মেয়েটাও একটু একটু চোখে হারায় তোকে।"

কফির কাপে দ্বিতীয় চুমুক দিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে লিয়ানার দিকে তাকালো রাত। বুঝতে পেরেই লিয়ানা বললো...

"রাতে তোদের ফিরতে দেরি হলেই মেয়ে একটু পরপর এসে জিজ্ঞেস করবে,রাত ভাইয়া আসেনি? রাত ভাইয়া কখন আসবে?"

বলেই হেঁসে কুটিকুটি হলো লিয়ানা। সম্পর্কে চাচি হলেও বয়সের দিক দিয়ে লিয়ানা মাত্র কয়েক বছরেরই বড়, সেই সুবাদে রাতের সাথে কিছুটা হলেও মিশুকে লিয়ানা। তার কথায় রাত হাসলো।নিচু স্বরে বললো...

"সেই ভাইয়াই তো। "

লিয়ানা বললো..

"ধুর,সবাইকে ভাইয়া বলে তাই তোকেও সম্মানের খাতিরে বলতে হয়, ও নিয়ে মন খারাপ করিস না। আচ্ছা আমি বলে দিবো যেন শুধু রাত বলে ডাকে তোকে। "

সাথে সাথেই রাত বাঁধা দিয়ে বললো..

"না নাহ ছোট মা।একদম এসব করতে যেও না। এই ক'টা দিন না প্লিজ। ওর এক্সামের আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন। আগের প্রিপারেশন কেমন তাও বুঝতে পারছি না আমি, তার উপর এখন লাস্ট মোমেন্টে এসে যদি এই বিষয়টা মাথায় ঢুকে ও আর এক্সামে মন দিতে পারবে না। আমি অনেক কষ্টে নিজেকে দূরে রাখি ওর থেকে। প্লিজ ছোটমা, বুঝো একটু। "

"ঠিক আছে, ঠিক আছে বাবা, এখন কিচ্ছু বলবো না। আমার কি করার, মেয়ে নিজেই তো তোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দিনদিন। "

রাত আর উত্তর দিলো না, মনে মনে চিন্তা করলো কয়েকটা দিন দূরেই থাকবে সে। অনুভূতি বাড়তে থাকলে রাত নিজেকে সামলানোও কষ্ট হয়ে যাবে।

লিয়ানা চলে গেলো রান্নাঘরে। পৃথিবী, সায়র আর ইন্দু তিনজন মিলেই হাসতে হাসতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলো, নাকে সুগন্ধি পেতেই ইন্দু দ্রুত এগিয়ে গেলো রান্না ঘরের দিকে। সোফায় যে রাত বসে নিবিড়ভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করছে সে দিকে খেয়ালই নেই তার।

"কি রান্না করছো তোমরা? মিষ্টি ঘ্রাণ.."

ইন্দুর কথায় হাসলো চার কর্তীই। আরশি মির্জা চেয়ারে বসে সবজি কাটতে লাগলো মুখ বেকিয়ে।

"পায়েস রান্না করেছি। "

সাবিহার কথায় উচ্ছাসিত কন্ঠে ইন্দু বললো...

"কাজু কিসমিস দিয়ে? "

সাবিহা হেঁসে বললো...

"হ্যা,চেরি,কাজু, কিসমিস সব দিয়েছি। "

বলতে বলতেই ছোট চামুচে একটুখানি পায়েস তুলে নিয়ে ফু দিয়ে ঠান্ডা করে ইন্দুর মুখের সামনে ধরে বললো...

"টেস্ট করে দেখ কেমন হয়েছে? "

ইন্দু হেঁসে পায়েসটুকু মুখে নিয়ে বললো...

"দারুন হয়েছে মেঝো মা। "

কান্তা বললো...

"বাটিতে করে দিই তোকে?"

ইন্দু না করে বললো...

"এখন না বড় মা। এক কাজ করি, সবার জন্য বাটিতে তুলে রাখি,তারপর গরম ভাপটা কমলে ১০-১৫ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিলে আরো টেস্টি লাগবে এটা। রাখবো? "

"আচ্ছা। "

ইন্দু হেঁসে রান্নাঘরের কোনায় থাকা কেবিনেট থেকে কাঁচের বাটি সেট বের করে ধুয়ে নিলো। মিশি বললো...

"হুম, আর এখন সকাল সকাল মিষ্টি জিনিস খেয়ে এমনিই সবার পেট খারাপ করবে, এর থেকে ভালো সবাই হালকা নাস্তা করে নিক, তারপর পায়েস খাওয়া যাবে। "

ইন্দু বাটি গুলো রেখে গরম পায়েসের চামচ ধরতে গেলেই সাবিহা বাঁধা দিয়ে বললো...

"এই রাখ তুই, গরম জিনিস হাতে পড়লে পুরে যাবে।। আমি করে নিচ্ছি। "

ইন্দু শুনলো না। মেয়েটা উল্টো দু হাতে সাবিহার দু গাল টেনে মিষ্টি স্বরে বললো...

"তোমাকে করতে হবে না, এমনিতেই এতো কষ্ট করে রান্না করেছো, দেখো তাপে কেমন ঘেমে গেছো,,একটু জিরিয়ে নাও তুমি। আর এই টুকু আমি করে নিতে পারবো,,অভ্যাস আছে চিন্তা করো না। "

দূর থেকে রাত নীরবেই রান্নাঘরের কান্ড দেখে তৃপ্তিময় হাসলো। ইন্দুর আচরনে বরাবরই মুগ্ধ সে,এমন কি সাবিহারাও। ইন্দুকেই কাজটা করতে দিয়ে সরে দাঁড়ালো সাবিহা। ইন্দু পায়েস বাটিতে তুলে রাখতে রাখতেই বললো...

"জানো,,আরজুর জন্মদিনে প্রতিবার আন্টি এমন পায়েস বানায়, তখন আমার জন্যও বক্স ভর্তি করে পাঠিয়ে দেয় উনি। যা টেস্টি হয় না পায়েসটা।"

লিয়ানা পাশেই দাঁড়িয়ে চা বানাতে বানাতে বললো...

"আর তোর জন্মদিনে বানায় না? "

সাথে সাথেই ইন্দু হেঁসে বললো...

"আমার জন্মদিন কবে সেটাই তো জানি না আমি, তার আবার পায়েস। "

মেয়েটা আপন চিত্তেই কথাখানা বলে কাজ করতে লাগলো। কিন্তু তার এই এমকি কথাই টনক নাড়িয়ে দিলো উপস্থিত বাকিদের। রাত চিন্তিত হলো। মেয়েটার সম্পর্কে এখনো অনেক কিছু জানা বাকি। নাহ,খোঁজ নিতে হবে তার তিয়াসের ব্যপারে।

----------------

বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। কাল রাতে আ লং ট্যুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলো তট ও তার নিজস্ব বন্ধুমহল। এখন ফিরছে সেখান থেকে ছয়জন ছয়টা বাইক নিয়ে। আর এক- দেড় ঘন্টা পাড়ি দিলেই নিজেদের নীড়ে ফিরবে তারা। ট্রাফিকে আটকেছে তারা, রেড সিগনাল ছাড়িয়ে গেলেই আবার চলবে বাইক। তটের বাইকের পাশাপাশিই তার বন্ধু প্রহরের বাইক। চোখে কালো সানগ্লাসটা ঠিক করে উপরে সূর্যের দিকে একবার তাকিয়ে বললো...

"আমাদের কপাল দেখ দোস্ত। প্রেমের তাপে পোড়ার সময়ে সূর্যের তাপে পুড়তে হচ্ছে।"

তট প্রহরের দিকে কোনা চোখে একবার তাকিয়ে বললো...

"এই গরমে হিরো হিরো লুক নিতে কালো শার্ট পরেছিস,কালো কাপড়ে গরম বেশি জানিস না? আরো নে ভাব তুই। "

প্রহর হাপ ছেড়ে বললো...

"ঠিকই বলেছিস ভাই। শান্তিতে তো আছে ঐ মাইয়াডা। উপর থেকে নিচ সবটা সাদায় মোড়ানো, পার্ফেক্ট বিধবা লাগে মাইরি কলেজের মাইয়াগুলারে। "

প্রহরের কথায় তটও স্বাভাবিক ভাবেই তাকালো সেদিকে। রাস্তার ধারের ফুটফাতের বেঞ্চে একটি মেয়ে বসে আছে। তার পাশে আরো দু তিনজন ছেলেও রয়েছে। হুট করেই কেমন যেন সন্দেহ লাগলো তটের। চোখের কালো সানগ্লাসটা খুলে তাকাতেই অবাক হয়ে গেলো সে। মুখ দিয়ে অস্ফুটস্বরে বেরিয়ে এলো..

"তিয়াস? "

রেখো তোমার বাহুডোরে গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে ঘেরা রোমান্টিক ও থ্রিলার গল্প