স্বামীর নির্যাতন থেকে ছোট্ট মেয়েকে বাঁচাতে এক নারী ঘর ছেড়ে অজানা পথে পা বাড়ায়। ঠিক তখনই তার জীবনে এসে দাঁড়ায় এক মানুষ, যে ভালোবাসা আর নিরাপত্তার নতুন মানে শেখাতে চায়।
গল্পটি লেখিকার অনুমতিক্রমে ১২ মে, ২০২৬ তারিখে গল্পের বাহার এ প্রকাশিত হয়।
📖 গল্প সম্পর্কে
স্বামীর নির্যাতন থেকে ছোট্ট মেয়ে বেলিকে নিয়ে পালিয়ে যায় শুভ্রতা। জীবনের সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তে তার পরিচয় হয় রৌদ্দুর নামের এক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে। অচেনা এই মানুষটি ধীরে ধীরে শুভ্রতা ও বেলির জীবনে নিরাপত্তা, স্নেহ ও বিশ্বাসের নতুন আলো নিয়ে আসে। অতীতের ক্ষত ভুলে নতুন জীবন শুরু করার সংগ্রাম গল্পটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বেলির নিষ্পাপ উপস্থিতি গল্পজুড়ে আবেগের বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। রৌদ্দুরের দায়িত্ববোধ, সাহস এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়। গল্পে রয়েছে পারিবারিক টানাপোড়েন, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং সম্পর্কের পুনর্জন্মের অনন্য উপস্থাপন। অতীতের অন্ধকার এবং ভবিষ্যতের আশার মধ্যে দোদুল্যমান থাকে চরিত্রগুলোর জীবন। ভালোবাসা এখানে শুধু রোমান্স নয়, বরং আশ্রয়, সম্মান এবং গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক। শেষ পর্যন্ত গল্পটি শেখায়—প্রকৃত আপনজন সেই, যে কঠিন সময়েও হাত ছেড়ে যায় না।
✍️ লেখক পরিচিতি
নবনীতা চৌধুরী সমকালীন বাংলা গল্পসাহিত্যের একজন জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান লেখিকা। রোমান্টিক, পারিবারিক এবং থ্রিলারধর্মী গল্প রচনায় তিনি নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেছেন। তাঁর গল্পে ভালোবাসা, অভিমান, আত্মত্যাগ ও মানবিক সম্পর্কের গভীরতা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। বাস্তবধর্মী চরিত্র নির্মাণ এবং আবেগঘন বর্ণনা তাঁর লেখার অন্যতম শক্তি। পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে এমন গল্প নির্মাণে তিনি বিশেষ পারদর্শী। পারিবারিক বন্ধন, সম্পর্কের জটিলতা এবং জীবনের নানা বাস্তবতাকে তিনি দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপন করেন। একইসঙ্গে রহস্য, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও নাটকীয়তার সমন্বয়ে তাঁর কাহিনিগুলো হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়। সহজ, সাবলীল এবং হৃদয়ছোঁয়া ভাষাশৈলী তাঁর লেখাকে সকল বয়সী পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো পাঠকের অনুভূতির সঙ্গে সহজেই মিশে যায় এবং গল্প শেষ হওয়ার পরও মনে রয়ে যায়। সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও গল্প বলার অনন্য দক্ষতার কারণে নবনীতা চৌধুরী বাংলা গল্পপ্রেমীদের কাছে একটি প্রিয় নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
📝 সম্পাদকীয় মন্তব্য
‘সে আমার আপন জন’ শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং ভাঙা জীবন থেকে নতুন করে বাঁচতে শেখার গল্প। লেখিকা নবনীতা চৌধুরী এখানে একজন নির্যাতিত নারীর সংগ্রাম, মাতৃত্বের শক্তি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষাকে হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরেছেন। শুভ্রতা, বেলি এবং রৌদ্দুর—এই তিনটি চরিত্র গল্পের আবেগকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রতিটি অধ্যায়ে পাঠক অনুভব করবেন ভালোবাসা, দায়িত্ব ও আত্মত্যাগের গভীরতা। গল্পটি দেখায়, প্রকৃত সম্পর্ক জন্মসূত্রে নয়, হৃদয়ের বন্ধনে গড়ে ওঠে। একজন মানুষের সহানুভূতি কিভাবে অন্য মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, সেটিও এখানে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। পারিবারিক আবেগ, সামাজিক বাস্তবতা ও রোমান্টিক অনুভূতির ভারসাম্য গল্পটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। সেনাবাহিনীর পটভূমি গল্পে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা ও গাম্ভীর্য। পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রয়ে যাওয়ার মতো বহু স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে এতে। ‘সে আমার আপন জন’ ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আশ্রয়ের এক মর্মস্পর্শী উপাখ্যান।