রাহুল মহুয়ার হাত ধরে বলল- এরকম স্ট্যাচু হয়ে বসে না থেকে একটু রোমান্স করো বেইবি।
মহুয়া রাহুলের হাত ঝাড়ি দিয়ে বলল - কি পেয়েছেন টা কি ? লজ্জা করে না এসব নোংরা কথা বলতে। তখন থেকে যা ইচ্ছা তাই বলে যাচ্ছেন।
রাহুল - আরে বেইবি লজ্জা কেন করবে ? আমার ডিকশনারিতে এসব লজ্জা -টজ্জা নেই।
মহুয়া:-জানোয়ারদের আবার লজ্জা থাকে নাকি?
রাহুল:- আমি জানোয়ার আর তুমি জানুয়ারি। এটাই হচ্ছে আসল সমীকরণ সুইটহার্ট।
মহুয়া :- আমার বাবা মা আমাকে আপনার মতো কুশিক্ষা দেয়নি । আমাকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছে। আমার বাবার অর্থসম্পদ কম হতে পারে কিন্তু আমি আপনার মতো অমানুষ নই মি . রাহুল।
রাহুল : ওহ সুইটহার্ট তুমি যখন আমাকে মি.রাহুল বলে ডাকো তখন আমার বুকের বাঁ পাশে একটু বেশিই লাফায়।
কিন্তু আজ থেকে এই অমানুষকে মেনে নিতে হবে তোমার । আমার থেকে পালানোর কোন উপায় নেই তোমার মহুয়া।
মহুয়া দাঁতে দাঁত চেপে মনে মনে বললো - তোকে মেনে নেবো ছাই ! তোকে খুন করবো খুন হা'রা'ম'জা'দা!
রাহুল: কি বললে সুইটহার্ট? আমাকে মারার প্ল্যান করছো নাকি?
মহুয়া: না কিছু না আপনাকে আদর করার প্ল্যান করছি।
রাহুল: আচ্ছা ঠিক আছে। মহুয়া তুমি হাঁটতে পারো?
মহুয়া : আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমার দুইটা পা আছে ,সুতরাং আমি হাঁটতে পারি!
রাহুল: অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হবে তো তাই বললাম।
গাড়িটা এসে থামলো তিন রাস্তার এক নির্জন মোড়ে। চারপাশে পুরোনো স্ট্রিটলাইটের হলদেটে আলোয় মোড়টা যেন রহস্যময় লাগছিল। রাহুল গাড়ির দরজা খুলে নামতেই মহুয়াও ধীরে ধীরে পা নামালো। দুজন নিঃশব্দে একটা সরু গলির ভেতর দিয়ে হেঁটে গেলো ।গলিটা ছিল অন্ধকার আর নীরব । শুধু দূরে কুকুরের ডাকে মাঝে মাঝে সেই নীরবতা ভেঙে যাচ্ছিল।
তারপর তারা পৌঁছালো একটা চিকন, বাঁকানো রাস্তার ভেতর। চারপাশে ঝোপঝাড় আর গাছের পাতার ভেতর দিয়ে হালকা বাতাস বইছে। মহুয়া হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো, “আহ্! আমার পায়ে কাটা বিঁধে গেছে!”
রাহুল মুহূর্তেই ঘুরে তাকালো। দেখে মহুয়া মাটিতে বসে পড়েছে, তার পায়ের পাতার নিচে লালচে রঙের রক্ত টলটল করছে।
রাহুল আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সে দৌড়ে গেলো গাড়ির দিকে। গাড়ির দরজা খুলে ফাস্ট এইড বক্সটা বের করলো, তারপর দৌড়ে আবার ফিরে এলো মহুয়ার কাছে।
রাহুল হাঁটু গেড়ে বসে খুব যত্ন করে মহুয়ার পা নিজের কোলে তুলে নিলো, কাটা জায়গাটা সাবধানে পরিষ্কার করলো। তারপর নরম তুলো দিয়ে রক্ত মুছে, ব্যান্ডেজ করে দিলো।
মহুয়া: এতো অল্প সময়ের মধ্যে কিভাবে আপনি আমার পায়ের ব্যাথা উধাও করে দিলেন? জাদু জানেন?
রাহুল: এই সামান্য ব্যথাই যদি দূর করাতে না পারি তাহলে ডাক্তারি পড়ে আমার কোন লাভ হলো ?
মহুয়া : আচ্ছা আপনি কি করেন? আপনার পরিচয়টাই তো জানলাম না।
রাহুল: তোমার হাসব্যান্ড একজন এমবিবিএস ডাক্তার। নিজের সম্পর্কে বলার কোন আমার নেই মহুয়া। আমি এই এক দিনে শুধু তোমাতে আসক্ত হয়ে গেছি ।
আমরা পৌঁছে গেছি আমাদের ঠিকানায়। রাহুল ব্ল্যাকথর্ন হাউসের দিকে দেখিয়ে দিয়ে বললো , এটা কিন্তু তোমার শশুর বাড়ী নয় । এটা তোমার অমানুষ হাসব্যান্ড এর নরক রাজ্য।
রাহুল দরজার সামনে গিয়ে কলিং বেল বাজাতেই ভেতর থেকে রাহুলের বন্ধুরা দরজা খুলে দিয়ে সবাই একসাথে হো হো করে বলে উঠল ওয়েলকাম রাহুল ,ওয়েলকাম মিস ।
সেখানে শুধু রাহুলের বন্ধুরা জনি, সাইমুন, মুহিব ,সাইফ ,ফারাজ, ফাহাদ, শুভ , আরো অনেকে আছে ।
সাইফ রাহুলের কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল - কিরে রাহুল এই মালটা তুই কই পাইলি ? এতো সুন্দরী তো পুরো বগুড়ায় নেই ।এটা তো পুরাই আগুন।
রাহুল সাইফের কলার ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলল - মাল না বল ভাবি । রেসপেক্ট ইওর ভাবি। মাইন্ড ইট?
সাইফ বললো ঠিক আছে কিন্তু আজ আমরা ভাবির জন্য একটা খেলার আয়োজন করেছি ।
এদের এসব কথা মহুয়ার একটুও ভালো লাগছিল না তাই সে লাগেজ নিয়ে একটা রুমের দিকে চলে যেতে লাগলো ।
রাহুল বললো -:-সুইটহার্ট তোমার এতো তাড়া কিসের। আমার বন্ধুরা একটা খেলার আয়োজন করেছে সেই খেলাটা খেলবে না? ওরা আজকে একটু এনজয় করুক ,আমরা না হয় কালকে থেকে করবো।
রাহুলের কথা শুনে সবাই আবার হো হো করে হেসে উঠলো।
শুভ বললো : ঠিক আছে তাহলে আমরা এখন খেলা শুরু করে দেই ।
ভাবি এইযে এই সিঁড়ি দিয়ে তোমাকে ওপরে উঠতে হবে ।আর প্রতিটা সিঁড়িতে দুইটা করে বিয়ারের বোতল রাখা আছে।
এখন শর্ত হলো এই বিয়ারের বোতল গুলো তোমাকে তুলতে হবে এবং যেকোনো এক পা দিয়ে তোমাকে এই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হবে।
মহুয়ার রাগ এখন চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। এতো গুলো ছেলের সামনে সে লাফিয়ে লাফিয়ে উপরে উঠবে আর তার হাসব্যান্ড সেটা চেয়ে চেয়ে দেখবে? কেমন মানুষ সে ?
ফাহাদ বলল-কি গো ভাবি ,কি এমন ভাবছো তারাতাড়ি খেলা শুরু করে দেও।
মহুয়া শাড়ির আঁচল কোমরে পেঁচিয়ে নিয়ে এক পা দিয়ে লাফ দিয়ে দুইটা বিয়ারের বোতল তুলে নিয়ে রাহুলের হাতে দিলো।
রাহুলের বন্ধুরা সবাই বলে উঠলো - ভাবি তুমি আমাদের সাথে চিট করছো কেন? বোতল রাহুলের হাতে দিচছো কেন?
মহুয়া ওদের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল- তোমরা তো শর্ত দেওয়ার সময় বলো নি যে বোতল গুলো অন্য কারো হাতে দেওয়া যাবে না।
সবাই তখন একে অপরের দিকে ভ্যাবলাকান্তের মতো তাকিয়ে আছে।
রাহুল বাঁকা হাসি দিয়ে বোতল গুলো শুভর দিকে ছুড়ে দিলো।
এদিকে মহুয়া পাঁচটা সিঁড়ি পর্যন্ত উঠে গিয়েছে ।
রাহুল মহুয়ার পিছনেই ছিলো। হটাৎ করে মহুয়াকে কোলে তুলে নিলো। আর বিয়ারের বোতল গুলো পা দিয়ে ফেলে দিয়ে, মহুয়াকে কোলে নিয়েই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল।
মহুয়া দাঁতে দাঁত চেপে বললো -কি করছেন? নামিয়ে দিন আমাকে। আপনার কোলে ওঠার চেয়ে এরকম লাফিয়ে যাওয়া অনেক ভালো। সবাই কি ভাববে?
রাহুল:- ওরা যা ভাবার ভাবুক । তোমার কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না সুইটহার্ট।
এই বলে রুমে নিয়ে এসে মহুয়াকে শুইয়ে দিয়ে একদম মহুয়ার মুখের ওপর ঝুঁকে পড়লো রাহুল।
রাহুল: সুইটহার্ট তোমার এই মিষ্টি ঠোঁটে একটা চুমু দিই?
মহুয়া রাহুলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বললো - আপনার ঐ জঘন্য চেহারা নিয়ে আমার সামনে থেকে চলে যান।
রাহুল: যাবো তো , তার আগে আমার পাওনা আদায় করে যাবো।
মহুয়া: আপনার মনের আশা পূরণ হবে না মি. রাহুল!
রাহুল : ঠিক আছে তাহলে ড্রেস চেঞ্জ করে নাও কুইক।
মহুয়া: আপনার সামনে তো আমি চেঞ্জ করবোই না ।
রাহুল :- ঠিক আছে তুমি না করলে না করো , আমি করি তুমি দেখো।
মহুয়া: বেলজ্জা পুরুষ কোথাকার ।
রাহুল গায়ের শার্ট খুলতে খুলতে বললো-কোন ক্লাসে থাকতে প্রথম প্রেমের বাতাস লেগেছিলো সুইটহার্ট?
মহুয়া - সেটা আপনাকে বলার প্রয়োজন মনে করি না আমি ।
কথা বলতে বলতে রাহুল শার্ট খুলে ফেলল।
রাহুলের অর্ধনগ্ন শরীরের দিকে তাকিয়ে মহুয়া মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বলল - এভাবে হুটহাট শরীর থেকে কাপড় না খোলায় ভালো মি. রাহুল।আর আপনাকে বলেই বা কি হবে ! যার সামান্যটুকুও লজ্জা নেই তাকে নীতিবাক্য বলে কোন লাভ নেই।
রাহুল মহুয়ার মুখের ওপর ঝুঁকে বলল- আমাকে কখনো পরিবর্তন করার চেষ্টা করো না । আর সেটা করেও লাভ নেই।
এই বলে শাওয়ার নিতে চলে গেল রাহুল আর মহুয়া ওখানেই শুয়ে রইলো।
_______
রাত একটার দিকে জনি ফোন দিয়ে রাহুলের মাকে বলে দিয়েছে যে রাহুল বিয়ে করেছে। সেই শুভ সংবাদ টা শোনার পর রওশন আরা বেগম যেন একেবারে পাথর হয়ে গেলেন। দৌড়ে গিয়ে মিনিকে খবর টা জানাতেই মিনিও যেন কান্নায় ভেঙে পড়লো।
মিনি কাঁদতে কাঁদতে বললো,
“মামি… আমি কোন দিক থেকে কমতি ছিলাম বলো? সৌন্দর্যে, ঐশ্বর্যে, শিক্ষায় সব কিছুতেই তো আমি কারো চেয়ে কম নই। তবুও কেন পারলাম না রাহুলকে আটকাতে?”
কাঁদতে কাঁদতে মিনি ধপাস করে ফ্লোরে বসে পড়লো, মেয়েটার মুখের মেকআপ ধুয়ে গিয়েছে চোখের পানিতে, চোখের নিচে কালচে ছাপ পড়েছে। হাত থেকে কাঁচের চুড়িগুলো এক এক করে খুলে ফেলতে ফেলতে বলল- কার জন্য আমি সাজাবো ? যার জন্য আমি সাজলাম সে আমার মন ভেঙ্গে দিলো।
“মামি, আমি যখন সাজতাম… বলো না, আমাকে কি সুন্দরী লাগতো না? রাহুলের চোখে কি একবারও পড়তো না আমার এই রূপটা?”
মেযেটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলো -
“আজ থেকে আমার রাহুল অন্য কারো হয়ে গেল, মামি। অন্য এক মেয়ের নাম এখন তার জীবনে লেখা থাকবে। আমি তার কিছুই রইলাম না… কিছুই না…”
এই বলে মিনি হঠাৎ মুখ নিচু করে বসে পড়লো বিছানার কোণে। তার চুলের খোঁপা খুলে গিয়ে এলোমেলো হয়ে ঝুলে পড়লো কাঁধে।
রওশন আরা বেগম শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে মিনির পাশে বসে তার মাথায় হাত রেখে বললেন - কাঁদিস না রে মা , ধৈর্য ধর।
তুই যখন ছোট্ট ছিলি, তখন থেকেই তোকে আমার রাহুলের বউ করার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু হায়… স্বপ্ন যে সবসময় পূরণ হয় না মা। আল্লাহ নিশ্চয়ই ভালো কিছু রেখেছেন তোর জন্য। রাহুলের চেয়ে তোর জন্য আরও ভালো, আরও স্নেহভরা একজন মানুষ আল্লাহ মিলিয়ে দেবেন… তুই শুধু ধৈর্য ধর।”
মিনি হাঁটু গেড়ে মেঝেতে বসে বললো
“মামি… আজ থেকে আমার মন ভেঙে গেল, আমার স্বপ্ন ভেঙে গেল। আমি তো রাহুলকে ঘিরেই জীবন সাজিয়েছিলাম। আমি এখন কাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবো মামি? কাকে?”
মিনি:-ঐ মেয়েটা কি আমার চেয়ে বেশি সুন্দরী, মামি? বলো না! ওর চুল কি আমার চুলের চেয়েও লম্বা? ওর মুখে কি এমন জাদু আছে, যা আমার মুখে ছিল না?
বিয়ে করার সময় একবারও আমার কথা মনে পড়েনি তোমার ছেলের, মামি?”
রওশন আরা বেগম:-“জানি না রে মা… জানি না কেন রাহুল এমনটা করলো। হয়তো ভাগ্য এমনটাই লিখে রেখেছিল। তোর কষ্ট আমি বুঝতে পারছি, কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর এই জীবনে মেলে না।হয়তো পাগলপারা কোনো মেয়ের মায়ায় পড়ে গেছে।”
মিনি চোখ মুছে বলে উঠলো
“পাগলপারা? আমি কি কম পাগল ছিলাম ওর জন্য মামি? আমি তো ওর প্রতিটি আদেশ মেনে চলতাম, ও যেমন টা চাইতো আমা সেভাবেই চলতাম ,ওর পছন্দের রঙে কাপড় পরতাম। তবুও ও এমনটা করলো আমার সাথে?”
রওশন আরা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন -
“পুরুষজাত বড় অদ্ভুত রে মা। কখন কার মনে কী ভালো লাগে, কেউ বোঝে না। মানুষ যেমন ভাবে, ভাগ্য তেমন চলে না রে মা।”
মিনি দাঁতে দাঁত চেপে বললো- ভাগ্য? না মামি, এটা ভাগ্য না… এটা বিশ্বাসঘাতকতা! আমি যার জন্য জীবনটাকে সাজিয়ে রেখেছিলাম, সে আজ অন্য কাউকে আপন করে নিলো।
রওশন আরা বেগম:- ছোট বেলাতেই তুই তোর মাকে হারিয়েছিস, মা। বড় হতে না হতেই তোর ভালোবাসার মানুষটিকেও হারাতে হলো। তোর কপালে কি কখনো সুখ লেখা নেই রে? আল্লাহ কি তোর কপালে একটুও সুখ রাখেননি?”
মিনি রওশন আরা বেগম কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।
মিনি:- মামি… আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো? রাহুল কে ছাড়া সবকিছু আমার কাছে শূন্য মনে হচ্ছে। আমার তো আর কেউ নেই।”
রওশন আরা বেগম মিনির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন:-“মা, আমরা আছি তো তোর পাশে। তুই একা নোস। মানুষ যত কষ্টই পাক, একদিন আল্লাহর রহমত আসে।”
মিনির কান্নার শব্দে ঘরটা ভারি হয়ে উঠলো , চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল- কিন্তু মামি, রাহুলের জন্য তো আমি আর কিছুই নই। সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেলো। সবাই স্বার্থপর।
রওশন আরা বেগম:
“মানুষের ওপর আস্থা না থাকলে চলবে না মা। একজন ঠকালে কি সবাই ঠকাবে ? এমনটা হবে না । যতই কষ্ট হোক, তুই বেঁচে থাকবি। আল্লাহ তোর কপালে নিশ্চয়ই সুখ রেখেছেন। দেখিস তোর জন্য রাজপুত্র আসবে।
মিনি:-কোথায় আছে সেই সুখ মামি? আমি তো চারিদিকে শুধু দুঃখ দেখি।
রওশন আরা বেগম মিনিকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে বললেন -দুঃখের পরেই সুখ আসে মা। তুই শুধু ধৈর্য ধর।
মিনি চুপ করে মামির বুকের ভেতর মুখ লুকিয়ে রাখলো