অগ্নিকন্যা মহুয়া

পর্ব - ১১

🟢

মা আমার মহুয়া কোথায়? মহুয়া কি একবারও আমাকে দেখতে এসেছিল? মহুয়া এতো পাষাণ কি করে হলো মা । আমাদের তো বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তাইনা ? কিন্তু মহুয়া কি করে পারলো অন্য ছেলের সাথে.....

আহেরজান বিবি আরিয়ান এর কাছে এসে বললো ঐ মেয়েটার নাম যদি আর একবার মুখে আনিস তো তোর মুখ আমি থেঁতলে দিবো আরিয়ান । ঐ বেইমান মেয়ের নাম ভুলেও মুখে নিবি না বলে দিলাম। আমাদের মান ইজ্জত সব ধুলোই মিশিয়ে দিলো মেয়েটা! আত্নীয় স্বজন এর কাছে কিভাবে মুখ দেখাবো এখন। সবাই একটা কথায় বলবে তোমাদের হবু বউ পরপুরুষ নিয়ে রাত কাটায়। তখন কি উত্তর দেবো আমরা বল?

-আরিয়ান এর মা কাঁদতে কাঁদতে বলল আমার ছেলে সুস্থ হয়েছে এতেই আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া আদায় করুন মা , ঐসব কথা এখন বাদ দিন।আজ যদি আমার ছেলের কিছু হয়ে যেত তাহলে আমি কি নিয়ে বাচতাম বলেন।

-দাদিমা তুমি কখনো কাউকে ভালোবেসেছো? তাই বিচ্ছেদ এর যন্ত্রনা কি করে বুঝবে! আমার অন্তরে আগুন জ্বালিয়ে মহুয়া কি করে ভালো থাকবে? ও আবার আমার কাছে ফিরে আসবে দাদিমা তুমি দেখে নিও। মহুয়া শুধু আমার অন্য কারো নয়।

-আরে তোর দাদু মারা যাওয়ার পর থেকে আমি একাই থাকি এটা কি বিচ্ছেদ নয় ? এর যন্ত্রনা কি আমি ভোগ করছি না? ঐ মেয়েটা কে বাড়িতে আনলে তোর এই বাড়িতে স্থান হবে না বলে দিলাম।

-মা আপনারা একটু চুপ করুন । এখানে এসব কথা বলা বন্ধ করুন।

-বৌমা তুমি চুপ করো । তোমার ছেলে যে ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে সেদিকে খেয়াল রেখেছো?

-আমি সব দেখে নেবো মা আগে আমার ছেলে পুরোপুরি সুস্থ হউক।

-----------

বাবা রাহুল তুই তোর বাবার ফোন নাম্বার ব্লক লিস্ট এ রেখেছিস কেন ? তোর বাবা তোর সাথে কথা বলতে চায়। তুই বাড়ি ফিরে আয় রাহুল। সাথে বৌমাকেও নিয়ে আয় । কি ভেবেছিস একা একা বিয়ে করেছিস বলে আমরা তোকে পর করে দেবো ? কখনোই না । তুই আজ দুই দিন হচ্ছে বাড়ি নেই ,বাড়িটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে যে বাবা । আমরা তোকে কিছু বলবো না। তুই শুধু আমাদের কাছে ফিরে আয়।

ফোনের ওপাশ থেকে উত্তর এলো - আমরা একটু পরেই আসছি মা। তুমি তোমার নববধূকে বরণ করার জন্য তৈরি থেকো‌।

ফোন রেখে রওশন আরা বেগম মেয়েকে ডাকতে লাগল - নিপা এই নিপা আজকে কি তোর ডিউটি নেই তুই এতো বেলা অব্দি ঘুমাচ্ছিস কেন মা ? তোর কি শরীর খারাপ লাগছে?

- মা আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে প্লিজ আমাকে এখন বিরক্ত করো না ।

একটু পরে রাহুল আর তোর ভাবী আসবে রে মা । একটু তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে নে। বিয়ে করেছে , দোয়া করি ছেলেটা যেন এখন ভালো হয়ে যায় ।

ঘুম ঘুম কন্ঠে নিপা বলল- তোমার ছেলে আবার একটা মেয়েকে রেপ করেছে মা । মহুয়া নামের একটা মেয়ে। তারা থানায় গিয়ে মামলা করে আসছে তোমার ছেলের বিরুদ্ধে। ভাগ্যিস সেদিন আমার নাইট ডিউটি ছিলো তাই মেয়েটার ফরেনসিক টেস্ট আমি করেছি আর রিপোর্ট ও আমিই তৈরি করেছি , নয়তো আজকেই ওকে জেলে যাওয়া লাগতো। তোমার ছেলের এই মেয়ের নেশা আর কতোদিন থাকবে মা বলো । এসব মিথ্যা রিপোর্ট আমি আর কতোদিন তৈরি করবো বলো আমিও তো একটা মেয়ে । আজ আমাদের ডিরেক্টর স্যার বললো ও নাকি ঠিকমতো ডিউটিও করে না।

এভাবে চললে কিকরে হবে বলো তো মা । ওকে একটু বুঝাও মা তুমি।

রওশন আরা বেগম চোখ মুছতে মুছতে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। চোখের কোনে লোনাজল জমে ঝাপসা হয়ে গেছে দৃষ্টি, তবুও চোখের জল লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টায় আঁচলটা বারবার চোখে ঠেকাচ্ছেন। বুকের ভেতরটা যেন কেউ মুঠি করে চেপে ধরেছে ।ছেলেটাকে মানুষের মতো মানুষ করতে না পারার কষ্টে তার প্রাণটা জ্বলছে। যত ভালোবাসা, যত ত্যাগ, যত প্রার্থনা সবই যেন ব্যর্থতায় মিশে গেছে আজ।

রওশন আরা বেগমের নির্দেশে বাড়ির সব সার্ভেন্টরা কাজে লেগে পড়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির প্রতিটি কোণা ঝকঝকে হয়ে উঠলো, যেন বহুদিনের ক্লান্তি ধুয়ে গেছে এক নিমিষে।

কলিং বেলের শব্দে রওশন আরা বেগম গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে দেখলেন রাহুল দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। আর মিনি রাহুলের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।

রাহুল তুই এসেছিস? বৌমা কই বাবা ?

রাহুল সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল - তোমার বৌমা গাড়িতে বসে আছে।

রওশন আরা বেগম যখন রাহুলকে বললো- বৌমা কোথায় । মিনি তখন দাঁতে দাঁত চেপে মনে মনে বললো- বৌমা বৌমা বৌমা ! এদের এসব আলগা পিরিতি আমার একদম সহ্য হচ্ছে না। এতো দিন আমি এ বাড়ির নয়নমণি ছিলাম ,আর আজ বৌমা এসেছে । আমিও দেখে নেবো এই মহুয়া এ বাড়িতে কদিন টিকতে পারে।

এই বলে সে গটগট করে ভেতরে চলে গেল।

রওশন আরা বেগম গাড়িতে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিতেই মহুয়াকে দেখে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা।তার ছেলে এতো সুন্দরী একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে? এই মেয়ে তো আগুন সুন্দরী। একদম পরি। রওশন আরা বেগম মহুয়াকে নিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলো।

নিপা এই নিপা দেখ তোর ভাবি এসেছে, আমার রাহুলের বউ এসেছে।

নিপা ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে মহুয়ার মুখের দিকে চোখ পরতেই আতকে উঠলো। মনে মনে বললো- এই মেয়েই তো সেদিনের সেই মেয়েটা! নাকি আমি চোখে কম দেখেছি। আরো একটু এগিয়ে গিয়ে নিশ্চিত হলো এটাই সেই মেয়েটা যার সেদিন রাতে ফরেনসিক টেস্ট করেছি আমি ।

মহুয়া ও দ্বিধায় পড়ে গেল , মনে মনে বললো এটাই কি সেই ডাক্তার নাকি যে আমাকে ফরেনসিক টেস্ট করেছিলেন।নিপার মুখে সেদিন মাস্ক থাকার কারণে মহুয়া পুরোপুরি ভাবে চিনতে পারছে না ।

ভাবনার মাঝে নিপা এসে মহুয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল - আমিই সেই ডাক্তার । কিন্তু এই কথা কাউকে প্রকাশ করো না।কারণ এটা তোমার শশুর বাড়ী। মিনি ভাবি জানলে ভীষণ কষ্ট পাবে।

মহুয়া নিপার মুখে মিনি ভাবি নামটা শুনে চমকে উঠলো, মনে মনে ভাবলো,তারমানে মিনি রাহুলের প্রথম বউ আর আমি দ্বিতীয়? হলেও হতে পারে এতে আমার কোন মাথাব্যাথা নেই । আমার উদ্দেশ্য তো ওর সাথে সম্পর্ক গড়া নয় । আমার বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই হলো প্রতিশোধ নেয়ার। তাহলে ওর আরেকটা বউ থাকলেই কি আর না থাকলেই কি ।

নিপা মহুয়ার হাত ধরে বললো চলো ভাবি ঘরে চলো , এসব আজেবাজে কথা মনে করে আর কষ্ট পাওয়ার দরকার নেই। জনি আমাকে সব বলেছে তোমাদের বিয়ের ব্যাপারে।

এই বলে মহুয়াকে ঘরে নিয়ে গেল।

নিপা মহুয়ার সাথে আরো নানা বিষয়ে কথা বলছে বয়স কত? কোন ক্লাসে পড়?পড়াশোনা শেষ করে কি হওয়ার ইচ্ছা আছে? আর মহুয়া উত্তর দিচ্ছে।

আগে থেকেই মহুয়ার ইচ্ছে ছিল শিক্ষক হওয়ার কিন্তু এখন আর সেটা সম্ভব নয় ।

নিপা হাসতে হাসতে বলল ভাবি তুমি কি ডাক্তার হবে ? তাহলে আমাদের পরিবারের সবাই ডাক্তার হবে ।

তুমি একবার মেডিকেল এ চান্স নিতে পারো । আর এই বিষয়ে ভাইয়া তোমাকে হেল্প করবে। জানো ভাবি আমার বন্ধু বান্ধব সবাই যখন কোচিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলো তখন আমি আমার ভাইয়ার কাছে পড়াশোনা করেছি । ভাইয়া খুবই ব্রিলিয়ান্ট কিন্তু একটাই বদ অভ্যাস ,,,,,,থাক সেই কথাগুলো আর না বলি ।

একটা কথা বলবো ভাবি? তুমি কি আমার ভাইয়াকে সামলাতে পারবে? অর্থাৎ তুমি ওকে আবার আগের মত হাসি খুশি রাখতে পারবে?

মহুয়া বললো -তোমার কথা আমি বুঝলাম না আসলে তুমি কি বলতে চাচ্ছো?

তোমাকে আমি একদম শুরু থেকে বলি।

বিজ্ঞাপন

রাহুল ভাইয়া খুব হাসি খুশি একটা ছেলে ছিলো।আমরা প্রায় সমবয়সী ছিলাম তিন বছরের ছোট আমি । তারপরেও আমরা ফ্রেন্ড এর মতো ছিলাম । মারামারি খুনসুটি ভালোবাসা এভাবেই দিন কাটত। বাবা আমাকে ভাইয়ার চেয়ে বেশি ভালোবাসো, আর মা ওকে বেশি ভালোবাসতো । এটা নিয়েও অনেক ঝগড়া করতাম আমরা দুই ভাইবোন।

আমার একটা বান্ধবী ছিলো ওর নাম রিয়া। একদিন রাতে হঠাৎ ভাইয়া আমার রুমে এসে বললো নিপা রিয়ার সাথে একটু প্রেম করাইয়া দিবি । আমি বললাম না ভাইয়া আসলে ও আমার বান্ধবী আমি এটা করতে পারবো না । ভাইয়া আমাকে ভয় দেখালো আমি যদি তাকে ওর সাথে প্রেম না করে দিতে পারি তাহলে ও আব্বুকে বলে দেবে আমার আর সাদিক এর কথা।

-সাদিক কে নিপা?

-ওহ সাদিক আমার বয়ফ্রেন্ড ছিলো। একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো এক বছর আগে মারা গিয়েছে।

পরের দিন আমি রিয়াকে বললাম ভাইয়ার কথা ।রিয়া তো এক বাক্যে রাজী হয়ে গেল। তারপর থেকে শুরু হলো তাদের প্রেম কাহিনী। তাদের কথা দুজনের পরিবারের সবাই জানতাম। আমার বাবার সাথে রিয়ার বাবার কথা হলো ওদের বিয়ের পাকা কথা হয়ে গেল । বিয়ের দুই দিন আগে মেয়েটা তার মামাতো ভাইয়ের সাথে পালিয়ে যায়।

সেদিন থেকে শুরু হয়ে গেল আমার ভাইয়ার পাগলামী।

গভীর রাতে মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে। মেয়ে নিয়ে রিসোর্টে যাওয়া । এসব দেখে বাবা প্রথম প্রথম ভীষণ মারতো ভাইয়াকে । মা শুধু আড়ালে চোখের পানি ফেলতো । কিন্তু এতো কিছুর পরেও ভাইয়া পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে। একটা সময় এসে এগুলো নেশায় পরিনত হয়ে গেল। কোন ভাবেই আর ছাড়ানো গেল না ।

হটাৎ করে একদিন শুনলাম রিয়া সুইসাইড করেছে।

-কি করছো সুইটহার্ট?

রাহুলের কথায় মহুয়া আর নিপা দুজনই চমকে উঠলো।

আমতা আমতা করে নিপা বললো কিছু না ভাইয়া নতুন ভাবির সাথে একটু গল্প করছি।

রওশন আরা বেগম এর ডাকে সবাই খাবার খেতে চলে এলো।

রওশন আরা বেগম রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানি নিয়ে এসে টেবিলের মাঝখানে রাখলেন। ঘরজুড়ে ভেসে গেল বিরিয়ানির ঘ্রাণ।টেবিলের চারপাশে সবাই বসে গেছে । রাহুল আর মহুয়া পাশাপাশি, দু’জনের মাঝে এক অদৃশ্য দূরত্ব টানটান হয়ে আছে। মহুয়ার পাশে বসেছে নিপা, আর চোখেমুখে একরাশ দুষ্টুমি নিয়ে রাহুলের পাশে বসেছে মিনি।

রওশন আরা বেগম সবার প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছেন।

“সুইটহার্ট, আমার গ্লাসে পানি ঢেলে দাও তো।”

কথাটা শুনেই মুহূর্তের জন্য টেবিলের পরিবেশ থমকে গেল। নিপা লজ্জায় চোখ নিচু করে রাখল, রওশন আরা বেগম মৃদু হেসে বলল আমাকে বল আমি দিচছি, কিন্তু মিনি যেন কথার অপেক্ষাতেই ছিল। রাহুলের দিকে তাকিয়ে সে বলল-

“ওকে কেন বলতে হবে? আমি তো আছি তোমাকে হেল্প করার জন্য। ও এখন নতুন বউ, একটু বিশ্রাম নিক না!”

এই বলে মিনি নিজের কোমল হাতে রাহুলের গ্লাসটা টেনে নিয়ে ভরতে শুরু করল। পানির ফোঁটা গ্লাসের গায়ে পড়ে টুংটাং শব্দ তুলছে, কিন্তু সেই শব্দ যেন মহুয়ার হৃদয়ে কাঁটার মতো বিঁধল। তার মুখের হাসিটা নিঃশব্দে মিলিয়ে গেল, চোখেমুখে এক অদ্ভুত কষ্টের ছায়া পরে গেল ‌।

কোনো কথা না বলেই সে ধীরে ধীরে চেয়ারটা ঠেলে মাথা নিচু করে রুমের দিকে চলে গেল। পেছনে রওশন আরা বেগম ডেকে উঠলেন,

“মহুয়া মা, খাওয়া শেষ করোনি যে! এখনি উঠে গেলে কেন?

কিন্তু ততক্ষণে মহুয়া সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেছে।

-ভাইয়া তুমি নাকি ঠিকমতো ডিউটি করছো না ? নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এতো অবহেলা করলে হবে বলো?

নিপার কথায় রাহুল গম্ভীর মুখে বললো- আজ থেকে সব ঠিকঠাক ভাবেই হবে?

এই বলে হাত ধুয়ে চলে গেল রুমে।

রাহুল ধীরে ধীরে দরজাটা ঠেলে রুমে ঢুকে দেখলো বিছানার কোণে বালিশে মুখ গুঁজে মহুয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মনে হচ্ছে বুকের ভেতর জমে থাকা সব কষ্ট চোখের জলে ধুয়ে ফেলছে।

রাহুল কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে বিছানার পাশে গিয়ে বসল। আলতো করে হাতটা বাড়িয়ে দিলো মহুয়ার মাথার ওপর।

-কান্না করছো কেন, সুইটহার্ট? আমি কি তোমাকে কিছু বলেছি?

মহুয়া মুখ তুললো না, শুধু বালিশে চোখ মুছলো ।

রাহুল একটু থেমে আবার বলল,

তুমি তো আমায় ভালোই বাসো না, তাই না? তাহলে কান্নাটা কিসের জন্য বলো তো?

মহুয়া ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকালো রাহুলের দিকে। চোখদুটো ফুলে লাল হয়ে গেছে। গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। তার সেই চোখে রাহুল প্রথমবারের মতো নিজের তৈরি করা যন্ত্রণা দেখতে পেল । একটা গভীর ক্ষত,যা প্রতিশোধ আর অভিমান মিশে থাকা যন্ত্রণায় দগ্ধ।

কাঁপা গলায় মহুয়া বলল,

আমার জীবনটাকে কেন নরক বানিয়ে দিলেন, মি. রাহুল? আমার অপরাধটা কি ছিল? আমি তো কাউকে কষ্ট দিইনি… কতো সুন্দর একটা জীবন ছিল আমার, আপনি একে একে সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। সবকিছু নরকে পরিণত করে দিলেন।

মহুয়ার কথা শুনে রাহুল কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার মুখের দিকে, তারপর হঠাৎ এক ঝাঁকুনিতে মহুয়াকে নিজের দিকে টেনে নিল। তার হাতের মুঠোয় মহুয়ার সারা শরীর কেঁপে উঠল।

-“তুমি কি চাও, সুইটহার্ট?”

-“আ… আমি আপনার থেকে মুক্তি চাই…”

এক মুহূর্তের জন্য ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। বাতাসও যেন থেমে গেল । রাহুল মহুয়ার বাহু শক্ত করে চেপে ধরল, আঙুলের চাপে ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে গেল । রাহুল ।দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

-“সেটা কখনোই সম্ভব নয় মহুয়া… ।

মহুয়া নিঃশব্দে চোখ বন্ধ করে ফেলল তার বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত কাঁপন ধরে গেল।

বিজ্ঞাপন
অগ্নিকন্যা মহুয়া গল্পটি আজেরিন হিরানুর-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সামাজিক ও থ্রিলারভিত্তিক গল্প