কলেজে ছুটির ঘন্টা বাজতেই সবাই যখন হাসিঠাট্টা করতে করতে দল বেঁধে বেরিয়ে যাচ্ছে, তামিমা তখন নিঃশব্দে ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিল। চোখেমুখে একরকম অজানা উত্তেজনার সাথে সামান্য ভয়ও হচ্ছিল তার।আজ বাসায় না গিয়ে সোজা স্যারের দেওয়া ঠিকানার দিকে রওনা দেবে সে। রোদের শেষ আলোয় কলেজের গেটটা পেরিয়ে আসার সময় তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধকধক করতে লাগল।
রাস্তার মোড়ে রিকশায় উঠতেই বাতাসে ওড়া চুলগুলো বারবার মুখে এসে পড়ছিল। শহরের কোলাহলের মাঝেও তার কানে শুধু নিজের হৃদস্পন্দনের আওয়াজ দ্রুত বাজতে লাগলো। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল, ঠিকানা অনুযায়ী সে কোথায় যাচ্ছে তা সে নিজেই ঠিক জানে না তবুও পা দুটো যেন থেমে থাকতে চাইছে না।
অবশেষে তামিমা সেই অফিসে এসে পৌঁছালো।আজ প্রথম বার সে কোনো অফিসে আসছে ।
মনের ভেতর অজানা এক ভয় কুঁকড়ে ধরছে তামিমার বুক। তবুও সাহস সঞ্চয় করে সে ধীরে ধীরে এক পিয়নের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-রায়হান চৌধুরী স্যার এর রুমটা কোন দিকে?
পিয়নটা মাথা তুলে তাকাল। বয়স হবে আটাশ-ত্রিশের মাঝামাঝি। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টিটা তামিমার শরীরের ওপর এমনভাবে বুলিয়ে গেল, যেন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে চোখ দিয়ে কিছু অন্য উত্তর খুঁজছে। তামিমা সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করল সেই অস্বস্তিকর, কামুক চাহনি যেটা তার ভেতরের ভয়কে আরও গভীর করে দিল।
তামিমা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে একটা মহিলা কর্মচারীকে বলল- ম্যাডাম আপনি কী জানেন রায়হান চৌধুরী স্যার এর রুম টা কোন দিকে ?
মহিলাটি তামিমার দিকে তাকিয়ে বলল - কি কাজে আসছো ? স্যারের সাথে কথা বলতে হলে সবার আগে স্যার এর পি. এ. এর সাথে কথা বলতে হবে । আর এখানে তোমার কথা শোনার জন্য কেউ বসে নেই । এখানে সময়ের মূল্য বোঝে সবাই । একটা সেকেন্ড সময়ও কেও অন্য কাজে ব্যায় করবে না ।
- আপনি শুধু বলুন স্যার এর রুম টা কোন দিকে।
- ১২৮ নাম্বার রুমে যাও।
এই বলে মহিলাটি চলে গেল।
এতো বিশাল এক বিল্ডিং চারপাশে লম্বা করিডর, সারি সারি দরজা, প্রতিটিতে ভিন্ন নাম্বার ঝুলছে এর মধ্যে ১২৮ নাম্বার রুমটা সে কীভাবে খুঁজে বের করবে?
একবার ডান দিকে, আবার বাঁ দিকে তাকায়; কোথাও যেনো ঠিক রাস্তা মিলছে না। ছাদের ফ্যানের ঘূর্ণি থেকে বাতাস নামছে গরম ধোঁয়ার মতো, তার সঙ্গে মিশে আছে পুরনো দেয়ালের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। দূরে কোথাও অফিসের ফাইলের পাতা ওল্টানোর শব্দ, আবার কোথাও কারো হাসি সব মিলিয়ে এক অচেনা বিশৃঙ্খলা।
তামিমার মনে হলো, এই অজানা ভবনটা যেন একটা গোলকধাঁধা, আর সে তার ভেতরে পথ হারানো এক অচেনা মেয়ে, যে মরিয়া হয়ে খুঁজছে সেই ১২৮ নাম্বার দরজাটা।
অবশেষে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তামিমা সেই রুমটা খুঁজে পেলো।
দরজার গায়ে ছোট্ট পিতলের প্লেটে লেখা -Room 128।
তামিমার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে দুলে উঠল ভয়, কৌতূহল আর এক অজানা অনুভূতির মিশ্রণে। হাত বাড়িয়ে দরজার নবটা ছুঁতেই ঠান্ডা ধাতব স্পর্শে শরীরটা কেঁপে উঠল তার। মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়াল, তারপর গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো।
ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেল রায়হান স্যার কে । সালাম দিয়ে স্যারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো । কাঁপা কাঁপা গলায় বলল- স্যার আমি এসেছি ।
রায়হান চৌধুরী চেয়ার টেনে তামিমাকে বসতে বললো।
-তোমার সম্পর্কে আমি আগে থেকেই খোঁজখবর নিয়েছি । তোমার মা বাবা কেউ নেই । আর তোমার চাচাও তোমার খবর রাখে না । এম আই রাইট?
তামিমা মাথা নেড়ে বললো হুম ঠিক।
- “আজ থেকে তোমার দায়িত্ব আমি নেবো… Will you marry me?”
একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মুখে এমন কথা শুনে তামিমা যেন মুহূর্তেই আকাশ থেকে পড়লো। তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল, ঠোঁট শুকিয়ে এলো, আর হাত-পা কাঁপতে শুরু করল অজান্তেই।
রায়হান চৌধুরী স্যার ধীরে ধীরে চেয়ারে হেলান দিয়ে ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত হাসি টেনে বললেন,
- “আর তোমার চাকরি হবে… তুমি আমার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট। তোমাকে আমি মোটা অংকের টাকা স্যালারি দেবো।”
তামিমা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। মনে হলো যেন কেউ তার আত্মমর্যাদায় ছুরি চালিয়ে দিল।
স্যার এবার গলাটা একটু ভারী করে বলল-
- “তবে হ্যাঁ, যদি আমার কথায় রাজি না হও… তাহলে কলেজ থেকে তোমাকে বহিষ্কার করা হবে। আমি কলেজে বলে দিবো । কারন আমি ঐ কলেজ কমিটির সভাপতি।
এক মুহূর্তে তামিমার চারপাশটা যেন ঝাপসা হয়ে গেল।
এতো দিন ধরে কষ্ট করে পড়াশোনা করে আজ অজানা কারণে স্যার কলেজ থেকে বহিষ্কার করে দিবে?
তাহলে আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো।
এসব ভাবনার মাঝে রায়হান চৌধুরী আবার বলতে লাগলো -কালকে কলেজে একটা প্রোগ্রাম আছে তোমাকে সেখানে পার্টিসিপেট করতে হবে ।
-কিসের প্রোগ্রাম স্যার?
-যেটাই হোক না কেন তুমি পার্টিসিপেট করবে ব্যাস। এখন তুমি আসতে পারো।
তামিমা আর এক মুহূর্তও দেরি না করে ১২৮ নাম্বার রুম থেকে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে গেল।
মনে মনে ভাবতে লাগলো - কি থেকে কি হয়ে গেল! স্যারকে এতদিন ভদ্র, মার্জিত, শিক্ষিত মানুষ ভেবে শ্রদ্ধা করত, সেই মানুষটাই আজ এমন একটা কুপ্রস্তাব দিলো! তার বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।
স্যার যেভাবে ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করতেন সবকিছু এখন ভয়ঙ্কর এক ভণ্ডামির মুখোশ বলে মনে হচ্ছে।
তামিমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে স্যারের সেই দৃষ্টি যেটা সে আগে বুঝতে পারেনি আজ হঠাৎই যেন সেই চোখ দুটোতে লুকানো কুৎসিত ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠলো।
নিজের ওপরই রাগ হচ্ছে কেন আগে বুঝতে পারেনি সে?
তার মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কি করে এমন নোংরা হতে পারে?
এসব ভাবতে ভাবতে সে কখন যে বাসার সামনে এসে পড়েছে, তা টেরই পেল না। চোখের পানি এতবার মুছে ফেলেছে যে চোখ দুটো এখন জ্বালাপোড়া করছে, লাল হয়ে উঠেছে রক্তাভ ফুলের মতো। নিঃশব্দ কান্নার দাগ গাল বেয়ে শুকিয়ে গেছে, চুলগুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
মেসের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো পা দুটো কাজ করছে না ।ভেতরে ঢোকার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। বুকের ভেতর ভারি একটা পাথরচাপা কষ্ট, আর চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্যারের সেই বিকৃত হাসি আর কুপ্রস্তাবটা। তবুও ধীরে ধীরে সে পা বাড়ালো দরজার দিকে, ভেতরে ঢোকার আগেই আবার চোখ বেয়ে নেমে এলো নিঃশব্দ অশ্রুধারা।
_________________________
মহুয়ার বুকের ভেতর যেন কাঁটার মতো বিঁধে যায় ।
মহুয়া দাঁতে দাঁত চেপে বললো- এদের এই পাপের খেলা বন্ধ করবো আমি ।
- কি ভাবছো সুইটহার্ট? রাতে কেমন সুখ দিলাম সেটাই ভাবছো বুঝি?
রাহুলের কথা শুনে মহুয়ার রাগ আরো দ্বিগুন বেড়ে গেল।
- এই মুহূর্তে আপনার ঐ নোংরা মুখ দিয়ে আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করুন।
রাহুল মহুয়াকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল - তোমার অ্যাটিটিউড একটু কম করে করো সুইটহার্ট কারণ কিছুদিন পর তুমি মা হবে ।
মহুয়া বিরক্তি আর ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিল।
-আমাকে স্পর্শ করবেন না। এই বলেই সে রাহুলকে জোরে ধাক্কা দিলো।
রাহুল সামান্য দুলে গেলেও চোখে-মুখে কোনো অনুতাপ নেই, বরং আরও একধরনের উগ্র তৃপ্তি নিয়ে মহুয়াকে আরো কাছে টেনে নিলো।
মহুয়ার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পুরো পিঠ জড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রাহুল আলতো করে এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে কপালে একটা চুমু খেলো।
মহুয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রাহুলের শক্ত পোক্ত হাতের বাঁধন থেকে কিছুতেই ছাড়া পাচ্ছে না।
-"ছাড়ুন! আপনি এমন করছেন কেন?
রাহুল বিন্দুমাত্র কথা না বলে মহুয়াকে জোরে কোলে তুলে নিল।
মহুয়ার হাত-পা ছটফট করছে, চুল মুখে এসে পড়েছে, তার চোখে ভয়ের সঙ্গে মিশে আছে তীব্র ঘৃণা।
রাহুলের পেশিবহুল বাহুতে মহুয়া নিজেকে অসহায় অনুভব করল । যেন এক শিকারি তার শিকারকে আঁকড়ে ধরেছে।
রাহুল ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে সোফার দিকে নিয়ে গিয়ে সেখানে শুইয়ে দিলো।
- এই দুই দিনেই এরকম হাঁপিয়ে গেছো কেন সুইটহার্ট? তোমার সাথে আরো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি আছে । তোমার বাচ্চার বাবা হবো । তুমি যদি এরকম তিরিংবিড়িং করে লাফাও তাহলে আমি অভিশাপ দিচ্ছি তোমার সন্তানও ঠিক তোমার মত হবে । তারপর তোমরা দুজন মিলে লাফাবে।
এই বলে মহুয়ার সামনে ঝুঁকে পড়লো। রাহুল তার মুখের এতটা কাছে চলে এলো যে, দুজনের নিঃশ্বাস মিশে গেল একে অপরের সাথে।
তার গরম নিঃশ্বাস মহুয়ার গালে ছুঁয়ে গেল, হৃদপিণ্ডটা যেন হঠাৎ করেই থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য।
আর কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই রাহুল মহুয়ার ঠোঁটের উপর ঝুঁকে পড়ল।
- সুইটহার্ট আমি ফ্রেশ হয়ে নিচ্ছি তুমি নাস্তা তৈরি করো।
এই বলে রাহুল তখন গা থেকে শার্ট খুলে আলতোভাবে বিছানার ওপর রেখে শাওয়ার নিতে চলে গেল।
মহুয়া সোফা থেকে উঠে রান্না ঘরের দিকে পা বাড়াতেই দেখতে পেল মিনি রাহুলের জন্য নাস্তার ট্রে সাজাচ্ছে।
মহুয়া এক ঝাটকায় মিনির হাত থেকে নাস্তার ট্রে ছিনিয়ে নিয়ে রুমে চলে গেল।
রুমে গিয়ে দেখলো রাহুল বাথরুম থেকে বের হয়ে এসেছে তেলছাড়া চুল আর ভিজে গা থেকে পানি ঝরছে।
মহুয়া এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়াল, নিজের মন অচেনা আনন্দে দুলতে লাগল।
রাগটা তখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি, কিন্তু রাহুলকে দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র নিষ্পাপ মানুষ এটা।
কিন্তু তার ভেতরে যে পড়েছে সে কখনো তাকে ভালোর তালিকায় নাম দিবে না।
- সুইটহার্ট তুমি আমার জন্য নাস্তা এনেছো ? এইনা হলো আমার দায়িত্বশীল বউ। তুমি আমার কতো খেয়াল রাখো তাইনা?
মহুয়া মুখ ভেংচে অন্য দিকে হয়ে বলল- আপনার নাস্তা আমি কোনকালেই নিয়ে আসতাম না কিন্তু এই মিনির বাচ্চা মিনি খুব জ্বালাচ্ছে। ও কেন আপনার ব্যাপারে এতো কেয়ারফুল? কেন ও সব সময় আপনার পেছনে লেগে থাকে ? খেয়েদেয়ে ওর কি আর কোন কাজ নেই? অন্যের হাসব্যান্ড এর পিছনে লাগতে আসে ! থার্ড ক্লাস মেয়ে কোথাকার!
-তুমি কি চাও যে মিনি এ বাড়িতে না থাকুক? যদি এটাই চাও তাহলে আমি ওকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সব ব্যবস্থা করে ফেলবো।
মহুয়া কোন কথা না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
কোন মেয়েই তো চাইবে না, তার স্বামীর আশেপাশে আরেকটা মেয়ে আঠার মতো লেগে ঘুরে বেড়াক।
সেটা চোখে পড়লে বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেমন চুপসে যায়, একটা জ্বালাময় কষ্ট বুকের গভীর থেকে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।
রাহুল মহুয়ার কাছে এসে বললো-
- আমি তোমার জন্য সব করতে পারি, মহুয়া... সবকিছু ত্যাগ করতে পারি। সমাজ, পরিবার, এমনকি নিজের আত্মসম্মানও। বিনিময়ে তুমি শুধু এই পাপিষ্ট মানুষটাকে একটুখানি ভালোবাসা দিও।
-আপনি আমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য নন, মি. রাহুল! যে ভালোবাসা নিজেকে কলুষিত করে, সেটার কোনো মর্যাদা নেই।
-জানি, আমি যোগ্য নই… তবু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার কাছে এই ভালোবাসাটুকু চেয়ে যাবো। হয়তো তুমি দেবে না, কিন্তু আমার প্রার্থনা থামবে না কখনো।
ভালোবাসা ভিক্ষা চেয়ে পাওয়া যায় না, রাহুল। সেটা আসে মন থেকে, না হয় আসে না।
-হয়তো তুমি ঠিকই বলছো। কিন্তু আমি তো চাওয়া ছাড়তে পারছি না। তোমার চোখের দিকে তাকালে মনে হয়, পৃথিবীতে এখনও কিছু পবিত্রতা বেঁচে আছে। আমি শুধু সেই পবিত্রতার ছোঁয়া চাই।"
-আপনার এই কথা গুলো একদিকে কষ্ট দেয়, আরেকদিকে ভয় জাগায়। আপনি জানেন, এই পথটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে?
-শেষ কোথায় হবে তা জানি না, মহুয়া। আমি শুধু জানি তোমাকে ছাড়া আমার এক সেকেন্ড ও চলবে না।
মহুয়া ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে নিলে রাহুল মহুয়ার হাত ধরে বললো - আজকে আমার বাবা বাড়িতে আসবেন । বাবার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে। আর আমি হসপিটাল থেকে না ফেরা পর্যন্ত তুমি এই ঘরেই থাকবে । এখান থেকে এক পাও নড়বে না । মাকে বলে যাবো তোমাকে খাবার দিয়ে যাবে এখানে।
- আপনার বাবা আমার শশুর হয় । আর তার কাছে থেকে আমি দূরে থাকবো কেন ? শ্বশুরের সাথে পরিচিত হবো না ? এটা কি করে হয় বলুন?
- আমি যেটা বলছি সেটা মানার চেষ্টা করবে নয়তো এর পরিনতি কিন্তু ভীষণ খারাপ হবে।
-আমি আপনার কথা মানবো না।
- তোমাকে মানতেই হবে সুইটহার্ট । এই বলে রাহুল ঘর থেকে বেরিয়ে গেল আর বাহির থেকে দরজা লক করে দিল।
মুহূর্তেই ঘরটা অন্ধকার আর নিঃশ্বাসরুদ্ধ হয়ে গেল।
মহুয়া দরজার কাছে গিয়ে মরিয়া হয়ে ধাক্কা দিল,
- রাহুল! দরজা খুলে দিন! এটা আপনি কি করছেন?
কিন্তু বাইরের দিক থেকে কোনো উত্তর এল না।
শুধু করিডোরের মৃদু আলো ফাঁক গলে এসে পড়ল তার মুখে।
সে ধীরে মাটিতে বসে পড়ল, বুকের ভেতরটা কাঁপছে, ঠোঁট কাঁপছে তবুও অস্ফুট স্বরে বলল
-আপনি এমন মানুষ হতে পারেন, ভাবিনি রাহুল... কেন আপনি আমায় আটকে রাখলেন ? আপনার বাবার বাড়িতে আসার সাথে আমার কি সম্পর্ক ? উত্তর দিন রাহুল!
মহুয়া দরজার দিকে তাকিয়ে উঠতে চাইল, কিন্তু পা দুটো ভারী মনে হলো। এক অজানা আতঙ্ক তাকে চেপে ধরেছে। তবুও সে উঠে গিয়ে দরজার হাতল নাড়ল কিন্তু দরজাটা নড়ল না।
দরজার ওপাশে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে।
সে হতাশায় দরজায় ঠেস দিয়ে বসে পড়ল, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল।
আবার ফিসফিস করে বলল-;রাহুল… আপনি কি জানেন, আমি এখন কতটা ভয় পাচ্ছি? কেন আপনি এমন করলেন?