"শুধু এখানেই থেমে যায়নি আঙ্কেল , আজ রাতে মুহিবদের বাসার সামনে যে ফাঁকা জায়গা টা আছে ওখানে মহুয়ার বিচার হবে । মহিদুল প্রধান সেখানে বিচার ডাকবেন । পুরো মহল্লার মানুষ যেনে গিয়েছে মহুয়ার লীলা খেলার কথা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা ।দেখি সম্মানিত মুরব্বি মহিদুল প্রধান এই বিচারের কি রায় দেন ।
এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে আরিয়ান একটু পানি খেয়ে নিল ।
মোখলেছুর রহমানের পায়ের নিচের মাটি সরে গেল । ছোটবেলা থেকে এই সোনার চাঁন্দ মেয়েটাকে সে বড় করেছেন। কতো শখ আহ্লাদ পূরন করেছে ।আবার এমনও অনেক আবদার আছে যেগুলো সে পূরণ করতে পারেন নাই টাকার অভাবে। কিন্তু তাই বলে আমার মেয়ে অন্যকে দেহ বিলিয়ে দেবে? না আরিয়ানের কথা আমার পুরোপুরি বিশ্বাস হচ্ছে না । আরিয়ানের কোথাও ভুল হচ্ছে। আমার মেয়ে.....…!
কথা শেষ না করতেই ঠাস ঠাস করে আরিয়ানের দুই গালে দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল মহুয়া ।
"নির্লজ্জ ! বাবা সমতুল্য মানুষের কাছে এসব কথা বলতে লজ্জা করে না? বেরিয়ে যাও বাড়ি থেকে। আর কখনো এই বাড়িতে পা রাখার অধিকার নেই তোমার।"
আরিয়ান গালে হাত দিয়ে বলতে লাগলো - "দেখেছেন আঙ্কেল সত্যি কথা বলেছি আর আপনার মেয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। এর একটা বিহিত না করে আমি এখান থেকে এক পাও নড়বো না। এতো দিনের ভালোবাসা আমি বৃথা যেতে দেব না।
আঙ্কেল আন্টি আপনারা ওকে কিছু বলছেন না কেন ? কালকে রাতে ও কার সাথে ছিল ? কোথায় ছিলো? "
ঘরের মধ্যে তখন পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে । মোখলেছুর রহমান এর মুখ দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না মনে হচ্ছিল সব শব্দ গলায় আটকে আছে। কি বলবে সে তার মেয়েকে ?
মনোয়ারা বেগম ও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পরছে। অথচ মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছিল না ।
নিরবতা ভেঙ্গে আরিয়ান আবার বলে উঠলো - "ঠিক আছে আপনাদের হয়ে আমি ওকে জিজ্ঞাসা করতেছি ।
আমার জিনিস আমি শুধরে নেবো।"
মোখলেছুর রহমান এখন আর চুপ করে থাকতে পারলেন না।
-"তোমার জিনিস মানে! মহুয়া তোমার জিনিস ? "
-"না মানে আঙ্কেল আর কয়েক দিন পর তো আমাদের বিয়েই হবে তাই না?"
এবার মহুয়ার রাগ যেন চরম সীমায় পৌঁছে গেলো । মনে মনে বললো এতো অপমানিত হওয়ার পরও আমি ওকে বিয়ে করব? কখনোই না!
-"বাবা আমি আরিয়ান কে বিয়ে করতে পারবো না । কারণ আমি একজন ধ'র্ষি'তা! কালকে রাতে আমি স্বেচ্ছায় কারো বিছানায় যাইনি বাবা , আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে রেপ করা হয়েছে।বাবা তোমার মেয়ে কি করে পারে স্বেচ্ছায় কারো সাথে ....... !
মহুয়া আর কথা বলতে পারলো না । বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লো।
মোখলেছুর রহমানের বুকের ভেতরেও তখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল এক অগ্নিঝড়। মেয়ের অসহায় কান্না তাঁর হৃদয়ের ভেতরটা যেন টুকরো টুকরো করে ফেলছিল। রক্ত গরম হয়ে উঠছিল প্রতিটি শিরা - উপশিরায় মনে হচ্ছিল এখনই যেন পৃথিবীকে ছিঁড়ে ফেলে দেন সেই নরপিশাচদের খুঁজে বের করার জন্য।
তবুও তিনি নিজেকে শক্ত করে সামলে নিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন - "কান্না করিস না রে মা ! সব ঠিক হয়ে যাবে অন্যের কথায় কান দিস না । আমি আমার মেয়েকে খুব ভালো করেই চিনি ,আমার মেয়ে কখনো কোন অন্যায় কে প্রশ্রয় দিতেই পারে না। যে যেটাই বলুক না কেন তুই সবসময় এটা মনে করবি যে তোর সাথে তোর বাবা আছে । আর আমিই সবকিছু সামলে নেবো। তুই নিশ্চিন্তে থাক।
আর আরিয়ান তুমি এখন আসতে পারো । আমার মেয়েকে নিয়ে তোমার কোনো কিছু ভাবতে হবে না । আমি মহুয়াকে তোমার সাথে বিয়ে দেবো না।এটাই ফাইনাল। যে ছেলে কোন কিছু যাচাই বাছাই না করে একজনের ওপর দোষ চাপাতে পারে তার হাতে আমি মেয়ে দেবো?"
আরিয়ান এই অপমান সহ্য করতে না পেরে বললো -"দেখা যাবে আপনার এই ধর্ষিতা মেয়েকে কে বিয়ে করে ? আমি ছাড়া ওকে আর কেউ বিয়ে করতে রাজি হবে না । দিনশেষে এই আরিয়ানের পায়ের নিচে পড়তেই হবে আপনাদের।আর কোন পথ খোলা নেই আঙ্কেল।"
এই বলে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে।
মোখলেছুর রহমান মেয়েকে বললেন -" চল মা, তুই আমার সাথে থানায় চল। আমি এই নরকীয় ধর্ষণের বিরুদ্ধে মামলা করবো। কাল রাতে তোকে যে ভয়ঙ্কর অন্যায়ের শিকার হতে হয়েছে, তুই সব খুলে বলবি ওখানে।"
এই বলে মেয়েকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন সে ।
কিন্তু মানুষের মুখ কি আর রোধ করা যায়? আগুনের মতো খবর ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। মহল্লার অলিগলি জুড়ে ইতিমধ্যেই কানাঘুষা শুরু হয়ে গেছে।
বাবা-মেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে, এমন সময় দু’একজন মহিলা আড়চোখে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল-
"এই যে আসতেছে নষ্ট মাইয়া… নিজের লজ্জা সামলাতে পারে নাই, আবার থানায় গিয়া মামলা করবেও! একটা স্কুল শিক্ষক এর মাইয়া যদি এমন হয় তাহলে আমাগো মাইয়ারা কি হবে? ওর চেয়ে তাও ভালোই আছে।
আরেকজন বলল-
"হ, এলাকার নামই তো মাটিতে মিশাইছে। কারে মুখ দেখামু এখন? ছেলে-পোলা লইয়া কেমনে বাজারে যামু কও দেখি? সবাই কইবো এই এলাকায় মাইয়ারা টাকার লোভে দেহ বিলিয়ে দেয়।"
কিছু পুরুষ দূরে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করতে লাগল-
"দেখ দেখ রাতে দেহব্যবসা আর দিনে থানায় মামলা।
আরেকজন ধূর্ত হেসে বলে উঠল-
"হইতে পারে ভাই। কপাল খারাপ হইলে যা হয় আর কি। তবে এইবার এলাকার মানুষ শান্তি চায় । মহিদুল প্রধান তো আজকে বিচার ডাকছে।"
পাশের বাসার নুরজাহানের মা তার মেয়েকে বললো -
"দেখিস না, ওর দিকে তাকাস না! নষ্ট হইছে, ওর ছায়াও যেন তোর গায়ে না লাগে।"
সবাই যখন ফিসফিস করে বিষ উগরে দিচ্ছে, তখন মোখলেছুর রহমান মাথা উঁচু করে হাঁটতে লাগলেন।
মহুয়া ভয়ে বাবার হাত আরও শক্ত করে ধরে রাখল। চারপাশের কটূক্তি, বিদ্রূপ, তাচ্ছিল্য সবকিছু ছাপিয়ে তিনি বললেন -
"চল মা, তুই ভয় পাস না। আমি আছি তো!
বিকেলের ফিকে আলোয় থানার সামনে এসে দাঁড়ালেন মোখলেছুর রহমান। আকাশে সূর্যটা তখন পশ্চিমে হেলে পড়েছে, চারদিকে কমলা-লাল আলো ছড়িয়ে পড়েছে। থানার বারান্দায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল, আশেপাশে সাধারণ মানুষও নানা কাজে ভিড় জমিয়েছে।
মোখলেছুর রহমান মহুয়ার হাত শক্ত করে ধরে ভেতরে ঢুকলেন।
ডিউটি অফিসার গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন-
"কি চান? মামলা করতে এসেছেন?"
মোখলেছুর রহমান বললেন -
"হ্যাঁ, আমি মামলা করতে চাই। আমার মেয়েকে গতকাল রতে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।আমরা ন্যায়বিচার চাই, স্যার।"
অফিসার কলম হাতে নিয়ে রেজিস্টারে লিখতে শুরু করলেন।
"নাম, ঠিকানা, ঘটনার সময় সব বলবেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নামও পরিষ্কারভাবে লিখতে হবে।"
মোখলেছুর রহমান বললেন- কে বা কারা এই ঘটনার পিছনে দায়ী আমরা সেটা জানি না । আপনারা এটা খুঁজে বের করুন।
ডিউটি অফিসার মাথা নেড়ে আশ্বাস দিয়ে বললেন-
"ভয় পাবেন না। মামলা নেয়া হবে। মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে, তারপর তদন্ত শুরু হবে।"
হাসপাতালের ফরেনসিক কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো মহুয়াকে । একজন অল্পবয়সী মহিলা ডাক্তার মহুয়াকে বললেন
তুমি কোন ভয় পেয়ো না আমরা সবসময় যত্নসহকারে কাজ করি। আমি শুধু পরীক্ষার জন্য কিছু জিজ্ঞেস করব। যদি অস্বস্তি লাগে, আমাকে জানাতে পারো।”
ডাক্তার প্রথমে মহুয়ার মুখ এবং গলার পরীক্ষা শুরু করলেন, তার চোখে আঘাতের চিহ্ন বা লাল ভাব আছে কি না তা লক্ষ্য করলেন। তারপর ধীরে ধীরে হাত, পা এবং পুরো শরীর পরীক্ষা করলেন।
“সব ঠিক আছে, কেবল আমরা প্রমাণ সংগ্রহ করব,” ডাক্তার বললেন, “কিছু চুল, কাপড়ের টুকরা আর সোয়াব নেবো, যাতে আদালতে সত্য প্রমাণ করতে পারি"
ডাক্তার ধীরে ধীরে যৌ'না'ঙ্গের পরীক্ষা শুরু করলেন,।“আমরা শুধু সত্য বের করব, তোমার জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করব।"
পরীক্ষা শেষে ডাক্তার বললেন, “সব প্রমাণ সংরক্ষিত হয়েছে। আমরা এখন তোমাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেব, আর পুলিশের জন্য রিপোর্ট তৈরি হবে।”
মোখলেছুর রহমান মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন-“ভয় পাস না মা।
--------------
রাহুল:-জনি তুই শুধু আমাকে ওর পরিচয় জোগাড় করে দে ।
জনি: -কিন্ত বস আমি তো ওর সম্পর্কে কিছুই জানি না কি করে আমি ওর পরিচয় জোগাড় করে দেবো?
রাহুল:- ওর নাম মহুয়া মাহী। কলেজের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই নাম সার্চ কর। আর সেটা বাবার ল্যাপটপ থেকে করতে হবে ।
জনি:- বস আমি তো আঙ্কেলের ল্যাপটপ এর পাসওয়ার্ড জানি না ।
রাহুল জনিকে ল্যাপটপ এর পাসওয়ার্ড টা লিখে দিলো।
জনি ব্ল্যাকথর্ন হাউস থেকে বেরিয়ে ,বাইক নিয়ে সোজা রাহুল দের বাসায় এসে ল্যাপটপ টা অন করে মহুয়া মাহী লিখে সার্চ দিতেই , মাহুয়ার নিষ্পাপ চেহারা ভেসে উঠলো ল্যাপটপ এর পর্দায়।
সেখান থেকে বেরিয়ে আবার ব্ল্যাকথর্ন হাউসের দিকে রওনা দিলো , ঝড়ের গতিতে সেখানে এসে পৌঁছালো।
জনি:- বস ওর সম্পর্কে সবকিছু তথ্য নিয়ে এসেছি।
রাহুল সবকিছু দেখে বেড়িয়ে পরলো ।
রাহুল:- আমাদের এখান থেকে অনেক দূরে হবে।
জনি : আপনি শুধু বাইকের পিছনে উঠে বসুন। আমি যাচ্ছি।
এই বলে তারা দু’জন বাইকে চেপে রাতের অন্ধকার ছিঁড়ে ছুটে গেল জ্বলেশ্বরীতলার দিকে—যেখানে মহুয়াদের বাসা।
রাত তখন প্রায় দশটা ছুঁইছুঁই। রাস্তায় ছায়া নেমেছে, চারপাশের দোকানপাট অর্ধেক বন্ধ, হালকা বাতাসে শুকনো পাতার খসখস শব্দ। তারা পৌঁছে গেল জ্বলেশ্বরীতলায়, কিন্তু সমস্যাটা হলো—মহুয়াদের বাসা তারা কোথাও চিনতে পারছে না।
রাহুল কিছুটা অস্থির ভঙ্গিতে সিগারেট ধরিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বলল:- "জনি, লোকদের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে। অন্য কোনো উপায় নেই।"
জনি মাথা নেড়ে উত্তর দিলো:- "ঠিক আছে বস, ঐ সামনেই কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কাছে খোঁজ নেই। কেউ না কেউ নিশ্চয়ই জানবে মহুয়াদের বাসা কোন দিকে।"
রাহুল সিগারেটের শেষ টান দিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে দিয়ে ফিসফিস করে বলল:- "তুই যা, আমি এদিকে সিগারেটটা শেষ করছি।"
জনি এগিয়ে গেল ভিড়ের দিকে, আর রাহুল অন্ধকার গলির পাশে দাঁড়িয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ভেতরে খুঁজতে লাগল সেই নাম "মহুয়া মাহী।"
মহিদুল প্রধান গম্ভীর কণ্ঠে বললেন -
“আজকের অভিযোগ অত্যন্ত জঘন্য। আমার কাছে যারা এই অভিযোগ তুলে ধরেছেন, তারা সামনে আসুক।”
আবুল আর বাবলু দুজন আস্তে আস্তে এগিয়ে এলো মহিদুল প্রধান এর দিকে। আবুল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে বলল-
“প্রধান সাহেব, আমরা মহুয়াকে বিধ্বস্ত অবস্থায় রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছি , আর ঐ রিসোর্টে মানুষ অবৈধ মেলামেশা করার জন্য যায়।
মহিদুল প্রধান কড়া চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন-
“তোমরা কি ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছ?”
বাবলু ইতস্তত করে বলল
“হুজুর, আমরা শুধু ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছি… ভেতরে কি হয়েছে সেটা তো আমরা দেখিনি।”
ভিড়ের মধ্যে থেকে হটাৎ করে আরিয়ান বলে উঠলো -
"মহুয়া স্বেচ্ছায় টাকার লোভে সেখানে গিয়েছিলো।"
আরিয়ানের কথা শুনে মহুয়ার হাত পা থরথর করে কাঁপতে লাগলো। মনে মনে বললো -এতো যাকে নিজের সবটা দিয়ে ভালোবেসেছি আজ সেই মানুষটি সবার সামনে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে? সেকি সত্যিই আমাকে ভালোবাসতো নাকি শুধু শুধু নাটক করেছিলো এতো দিন ধরে।?
মহিদুল প্রধান সবার উদ্দেশে বললেন
“সবাই আমার কথা শুনো , অনুমান দিয়ে কারো ইজ্জতহানি করা যায় না। শরীয়তে চারজন সাক্ষী ছাড়া যীনা প্রমাণ হয় না। এখন অভিযুক্ত মহুয়া, তুমি কি নিজের দোষ স্বীকার করবে ?
কান্নাভেজা কণ্ঠে মহুয়া কাঁপতে কাঁপতে বলল-
“না, প্রধান সাহেব। আমি নির্দোষ। আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে ।
প্রধান সাহেব, আমার উপর জঘন্য অত্যাচার করা হয়েছে… আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আমি লড়াই করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা… তারা আমাকে ধর্ষণ করেছে। আমি নির্দোষ।”
তার পাশে বসা বাবা মোখলেছুর রহমান হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।
“আমার মেয়েকে কেউ ফাঁসাতে চাইছে।
সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মহিদুল প্রধান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বই বন্ধ করে বললেন-
“তাহলে আল্লাহর নামে ঘোষণা করছি, যীনা প্রমাণ হয়নি। আবুল আর বাবলু তোমরা প্রমাণ ছাড়া এই অপবাদ তুলেছো। শরীয়ত অনুযায়ী এটি ‘কাজফ’-এর অপরাধ। তোমাদের সতর্ক করা হলো, আর কখনো যেন এমন অন্যায় করো না।”
আরিয়ান আবার বলে উঠলো - "আঙ্কেল আপনার এই ধর্ষিতা মেয়েকে বিয়ে করবে কে । আজ নাহয় বিচারে জিতে গেলেন কিন্তু মেয়ে বিয়ে দিবেন কি করে?"
-------
"আমি বিয়ে করবো মহুয়াকে! আর সেটা এখনি এই মুহূর্তে! "
বাক্য টা শুনে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলো। পিছনে তাকিয়ে সবাই আরো অবাক হয়ে গেল! এটা তো রায়হান চৌধুরীর এর ছেলে রাহুল চৌধুরী।