মহুয়া নিজের প্রতিফলনের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো -ওরা আদৌ মানুষ ? মানুষ হলে কেউ এমন করে?" ওরা তো মানুষ না... জানোয়ার। জানোয়ারেরা কি আদৌ ভালোবাসে? ওরা শুধু শিকার করতে জানে ,শুধু মেয়েদের শরীর ভোগ করতে জানে ,ভালোবাসতে নয়..."
ওয়াশরুমে ঢুকেই যেন সবকিছু একেবারে ভেঙে পড়লো মহুয়ার ভিতরে।
দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে সে আর এক মুহূর্তও নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না।
পাথরের মতো শক্ত হয়ে থাকা হৃদয়টা মুহূর্তেই গলে গেল জল হয়ে।
সে ঝট করে শাওয়ারের নিচে গিয়ে বসে পড়লো।
ঠান্ডা পানির ধারা পড়ছে তার শরীর জুড়ে, কিন্তু তার চেয়েও প্রবল এক স্রোত বইছে ভেতর থেকে , তার চোখের জল।
ননস্টপ, অনবরত কাঁদছে মহুয়া।
কান্নাটা যেন গলা টিপে ধরা কষ্টের একমাত্র মুক্তির রাস্তা। বুকের ভেতর জমে থাকা শত অভিমান, অপমান, লজ্জা আর হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস সবকিছু মিলিয়ে একটা অজানা দহন তাকে কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে।
সে বারবার নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করেছে, ভেতরে ভেতরে বুঝিয়েছে -
“না, আমাকে কাঁদা চলবে না… আমি দুর্বল না…”
কিন্তু মন আর কথা শুনছে না।
মনের ভাঙন এতটাই গভীর যে, চোখ থেকে জল বেরিয়ে আসছে থেমে থেমে নয়, বরং ঝড়ের মতো, বান ডাকা নদীর মতো।
পানির শব্দে চাপা পড়ে যাচ্ছে তার কান্নার আওয়াজ,
তবুও সেই কান্না যেন চারদিক কাঁপিয়ে দিচ্ছে ।
কত সময় কেটে গেছে সে জানে না।
পানি কবে গা থেকে ঝরতে ঝরতে ঠান্ডা হয়ে গেছে, শাওয়ারের নিচে বসে থাকা শরীর কাঁপছে শীতে ,
তবুও তার চোখে তখনো লালচে অশ্রু জমে আছে।
অবশেষে, ক্লান্ত হয়ে পড়ে মহুয়া।
নিজেকে টেনে তুলে, ধীরে ধীরে পানি বন্ধ করে। আয়নায় তাকায় ।
ভেজা চুল, ফোলা চোখ, মুখে ধুয়ে যাওয়া সব শক্তি।
তবুও, একটা বিষণ্ন নীরবতা নিয়ে সে কাপড় পরলো।
প্রতি পরতে যেন জড়িয়ে নিল নিজের ভেঙে পড়া সত্ত্বাকে।
ধীরে ধীরে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলো মহুয়া।
চোখে কোনো শব্দ নেই, মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই
শুধু একটা নিঃশব্দ যুদ্ধ শুরু হয়েছে তার ভেতরে।
মহুয়া ঘরের বাইরে পা দিতেই মনোয়ারা বেগমের চোখ আটকে গেল তার মুখে।
তিনি চমকে উঠলেন।
কী ভয়ানক বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে মেয়েটাকে!
চোখজোড়া ফোলা, মুখটা ফ্যাকাশে, চুল এলোমেলো ভিজে, চেহারায় এক অদ্ভুত স্থবিরতা যেন একটা কাঁচের পুতুল, ভেতরে ফাঁপা, বাইরে নিঃস্পন্দ।
মনোয়ারা বেগম থমকে তাকিয়ে রইলেন, চোখ সরাতে পারলেন না।
এই চেনা মুখটাই যেন হঠাৎ অচেনা হয়ে উঠেছে।
তার অভ্যন্তরে এক অজানা আশঙ্কা দানা বাঁধতে লাগল।
"এ মেয়ে এমন দেখাচ্ছে কেন? কান্না করেছে না তো? চোখ এমন লাল কেন? এত নির্বাক হলো কেন সে?"
মহুয়া কিছু বলল না, শুধু মায়ের চোখ এড়িয়ে পাশ কেটে ধীরে ধীরে চলে গেল অন্য ঘরের দিকে।
চলার ভঙ্গিতেও ছিল ক্লান্তি, যেন শরীরে আর শক্তি নেই। পায়ের শব্দও যেন চাপা একেবারে নিঃশব্দ।
মনোয়ারা বেগম: মহুয়া তোর কি হয়েছে মা?
মহুয়া স্বাভাবিক ভাবে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বললো,
কি আবার হবে মা ? আমার বড্ড খিদে পেয়েছো।খেতে দাও তো।
মনোয়ারা বেগম:-মহুয়া আমাকে মিথ্যা বলিস না।তোর চোখ ফুলে গেছে।তার কারণ হলো তুই এতোক্ষণ কেঁদেছিস।তবে কেন ? আর তোর মুখে এগুলো কিসের দাগ? সেটা আমি জানতে চাই।
মহুয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে হাসি দিয়ে বললো,
আরে মা তুমি-ও না কি যে বলো!আমি কাঁদবো কিসের জন্য? আর আমার মুখে এই দাগগুলো দেখছো এগুলো এমনি ।আসলে কি হয়েছে জানো ......।
মনোয়ারা বেগম:-আচ্ছা ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়। আরিয়ান আর তোর বাবা বসে আছে তোর জন্য।
মহুয়া চমকে উঠলো।
চোখ দুটো বিস্ফারিত হয়ে গেল, যেন মনের ভেতরে কোনো বিস্ফোরণ ঘটে গেছে। কণ্ঠস্বর কাঁপছে, কিন্তু রাগে আগুন জ্বলে উঠেছে গলায়।
"আরিয়ান কেন এসেছেন মা?" গলাটা একেবারে কেঁপে উঠল।
"ওকে এখনই এই বাড়ি থেকে বের করে দাও। এখনই! নয়তো আমি... আমি জানি না কী করে ফেলব!"
মহুয়ার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত ছন্দে। চোখে জল চকচক করছে ।
মনোয়ারা বেগম গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বললেন -
"তুই তো সবটাই জানিস, মা,"
"আর কতই বা দিন বাকি? সাতাশ দিন পর তোদের বিয়ে। এই সময়টায় ভালোবাসার টানটা আরও বেশি হয়। আরিয়ান তো তোকে সত্যিকারের ভালোবাসে, তাই তো এসেছে।"
একটু থামলেন। চোখ দুটো আকাশের দিকে তাকিয়ে গেল, যেন বহু বছর আগেকার কোনো দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন।
"জানিস মহু, তোর বাবাটাও ঠিক এমন ছিল। আমরাও খুব ভালোবাসতাম একে-অপরকে। বিয়ের ঠিক দুইদিন আগে, হঠাৎ এক রাতে... তখন প্রায় বারোটা বাজে, সবাই গভীর ঘুমে। হঠাৎ জানালায় টোকা পড়লো। আমি তো আতঙ্কে অজ্ঞান প্রায়! জানালার কাছে গিয়ে দেখি তোর বাবা দাঁড়িয়ে। আমি তো ওকে ভূত ভেবে ঝাঁটা নিয়ে পিটিয়ে দিলাম! কিন্তু সে কিছু বলেনি রে মা... শুধু চুপচাপ তাকিয়ে ছিল আমার দিকে, একটা ভালোবাসায় ভরা চোখ। তারপর চলে গেল চুপচাপ।"
মনোয়ারা বেগমের চোখে জল চিকচিক করে উঠলো।
"আরিয়ানের চোখেও আমি সেই একই ভালোবাসা দেখতে পাই। সেই একই পাগলামি, ভালোবাসার সেই একই ব্যাকুলতা। নানা অজুহাতে আসে এখানে, শুধু তোকে একঝলক দেখার জন্য। তুই জানিস না, তোর জন্য সে কী করতে পারে।
মহুয়া:-মা তুমি আরিয়ানের সাফাই গাওয়া বন্ধ করো! আমি ওকে বিয়ে করব না ।
আর ওকে এক্ষুনি এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলো নয়তো আমি ওর ঘাড় ধরে বের করে দেবো।
মনোয়ারা বেগম: কেন মহু কি হয়েছে ? ও কি কিছু করেছে ? ও নাকি তোর বাবার সাথে বিশেষ কিছু কথা বলতে আসছে। কথা বলেই চলে যাবে। হঠাৎ করে আরিয়ান এর উপর এতো ক্ষোভ কেন মা?
মহুয়া:-আমি যেটা বলতেছি সূটা করো মা । ওর নামটাও আমার সহ্য হচ্ছে না।
মনোয়ারা বেগম : - দেখ মহু আরিয়ান এখন আমাদের বাড়ির অতিথি । ওকে কি করে তাড়িয়ে দেয় বল । তোর সাথে আরিয়ানের মনোমালিন্য হতেই পারে তাই বলে আমরা তো আর ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারি না! তুই তাড়াতাড়ি নিচে আয়।
মহুয়া:- ওকে আমি যাচ্ছি তুমি যাও।
মনোয়ারা বেগম ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
মহুয়া স্তব্ধ দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। বুকের ভেতরটা যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে আছে। মুখে লেগে আছে রাগ, অপমান আর অপার কষ্টের ছাপ । সেই ক্ষতবিক্ষত মুখ দেখে নিজেকেই চিনতে কষ্ট হচ্ছে তার। আয়নার সামনে দাঁড়ালেই মনে হয়, এ কি সেই মহুয়া?
এ মুখ নিয়ে?
এই জর্জরিত মুখ, ফ্যাকাশে চোখ আর অনিশ্চিত দৃষ্টি নিয়ে সে কীভাবে বাবার সামনে দাঁড়াবে?
কিন্তু কোনো উপায় নেই। সাহস জোগাড় করে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলো মহুয়া। পায়ে যেন সীসার ওজন , প্রতিটি ধাপে কাঁপছে তার শরীর, কিন্তু মাথা নিচু করে নেমেই এলো।
ড্রয়িং রুমে পৌঁছাতেই দৃশ্যটা আরও বিব্রতকর হয়ে উঠলো।
সামনে সোফায় বসে আছেন মোখলেসুর রহমান, মহুয়ার বাবা।
তার পাশেই বসে আছে আরিয়ান, ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আছে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকা মহুয়ার দিকে। ঘরে এক অস্বস্তিকর, থমথমে নিস্তব্ধতা।
মোখলেসুর রহমানের মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, শুধু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছেন মেয়ের দিকে যেন উত্তর খুঁজছেন, অথচ প্রশ্নই করছেন না।
আর মহুয়া কিছুটা দূরে, চোখ নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়ল , বুক ধুকপুক করছে। কিছু বলার সাহস হচ্ছিল না তার।
এই নিরবতা ভেঙে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটালো আরিয়ান।
তীক্ষ্ণ কণ্ঠে, ঘরে জমে থাকা ভারী বাতাস ছেঁড়ে দিয়ে সে বলল-
“এই যে, আপনার সতী-সাবিত্রী মেয়ে এসে গেছে!”
তার কণ্ঠে ছিল উপহাস, বিদ্রুপ, আর চাপা ঘৃণার সুর।
“যে কিনা গতকাল রাতে এক রিসোর্টে ছিল… অন্য একটা ছেলের সাথে! রাতভর। ভাবা যায়?”
বাক্যগুলো যেন ছুরির মতো ছুটে এসে বিঁধলো মহুয়ার বুকে।
সে চমকে উঠলো এইভাবে, এতটা প্রকাশ্যে, বাবার সামনে?
চোখ বড় হয়ে গেল মোখলেসুর রহমানের, তিনি ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকালেন মেয়ের দিকে। চোখে প্রশ্ন, রাগ আর বিস্ময় মিশে এক অদ্ভুত নিরব বিস্ফোরণ।
মনোয়ারা বেগমও স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
আর মহুয়া?
সে শুধু দাঁড়িয়ে রইল, অসহায়ভাবে। গলা শুকিয়ে গেছে, চোখ ভিজে উঠছে, কিন্তু তবুও সে চুপ কারণ তারও কিছু বলার ছিল, অনেক কিছু, কিন্তু এই মুহূর্তে ভাষা হারিয়ে ফেলেছে সে।
___________
"এই জনি, মাল দে তো! মাথা আর কাজ করছে না—" গলাটা কাঁপছে রাহুলের, চোখদুটো লাল হয়ে আছে, যেন রাগ, হতাশা আর ক্লান্তি একসাথে মিশে ধোঁয়া হয়ে বেরোচ্ছে।
সে এক হাতে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে, আরেক পা পায়ের ওপর তুলে, সোফার কোণে গা হেলিয়ে বসে আছে। ঠোঁটের কোণে ধোঁয়ার কুন্ডলী খেলছে, কিন্তু মুখে তীব্র এক কঠিনতা।
"মাথা আর কাজ করছে না রে ভাই... দে কিছু, একটু শান্তি দরকার আমার।"
এটা সেই জায়গা যেখানে মানুষ তো দূরের কথা, কোনো কাকপক্ষীরও সাহস হয় না উঁকি দেওয়ার। দূর থেকে দেখলে ব্ল্যাকথর্ন হাউস যেন কোনো রাজকীয় প্রাসাদ মার্বেল-ঢাকা সিঁড়ি, ঝকঝকে কাঁচের দরজা, সোনালি ঝাড়বাতির আলোয় আলোকিত বিশাল হলরুম, আর দেয়ালে ঝোলানো ঐশ্বর্যময় চিত্রকর্ম। চারপাশে চাকচিক্যের ছটা, অভিজাত পরিবেশ তবুও ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এখানে এক ভিন্ন দুনিয়া চলছে।
কারও চোখে এই বাড়ি গোপন বিলাসের প্রতীক হলেও, রাহুলের কাছে এটি একেবারেই অন্যরকম। এখানে সে আসে একমাত্র নেশার জন্য। মখমলের সোফায় হেলান দিয়ে বসে হাতে সিগারেট, টেবিলে ছড়িয়ে রাখা দামি মদের বোতল এই বাড়ির নিস্তব্ধ চাকচিক্যের ভেতরেই সে ডুবে যায় নিজের একান্ত নেশার জগতে। বাইরের দুনিয়ার কোলাহল, অস্থিরতা আর দায়িত্ব এ বাড়ির দরজার বাইরে গিয়ে থেমে থাকে। ভেতরে কেবল থাকে রাহুল, তার ধোঁয়ার আবরণ আর নেশার গভীর নিস্তব্ধতা।
জনি থেমে গেল এক মুহূর্ত। তারপর চেনা ভঙ্গিতে ঠোঁট টিপে হেসে গ্লাসটা তুলতে তুলতে বলল,
"কেন বস, কি হইছে? কালকের মাইডা তো একেবারে অস্থির ছিলো, তাই না? আগুন ছিল রে বস!"
এইটুকু বলে সে বোতল থেকে ধীরে ধীরে এক গ্লাস বিয়ার ঢেলে রাহুলের দিকে এগিয়ে দিল।
কিন্তু গ্লাসটা হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন কিছু একটা বিস্ফোরিত হলো রাহুলের ভেতরে।
এক মুহূর্তে সে উঠে দাঁড়িয়ে, কোনও কিছু না ভেবেই পুরো গ্লাসটা জনির মুখে ছুড়ে মারলো!
ছপ করে বিয়ারের গ্লাস জনির গালে লাগতেই কাঁচের ঠোকাঠুকি আর ছলকে পড়া তরলের শব্দে ঘরটা থমকে গেল।
রাহুলের চোখে আগুন জ্বলছে। দাঁতে দাঁত চেপে, গর্জে উঠলো সে-
"খবরদার জনি! ঐ মেয়েটার সম্পর্কে একটাও কথা বলবি না! ওর নামও মুখে আনবি না তুই!
ও শুধু আমার। ওর সম্পর্কে বলার অধিকার যদি কারও থেকে থাকে তাহলে সেটা আমি। শুধু আমি।"
জনি হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে ঠান্ডা বিয়ার আর ঘামের ফোঁটা। মুখে আর হাসি নেই। ঘরের ভেতর গুমোট নীরবতা।
আর রাহুল? তার চোখে লাল শিখা, যেন নিজের জ্বালায় নিজেই পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
রাহুল সোফায় হেলান দিয়ে বসেছিল, চোখে লালচে ক্লান্তির ছাপ, তবু ভেতরে এক অদম্য তৃষ্ণা। ঠোঁটের কোণে আধভাঙা সিগারেট জ্বলছিল, আর ধোঁয়ার আস্ত আবরণ তার চেহারাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। হঠাৎ সে দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল-
রাহুল: “ওকে আমি আমার করেই ছাড়বো। শান্তি নেই মনে… প্রতিটা মুহূর্তে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। একবার… শুধু একবার ওকে দেখার জন্য মনটা পাগলের মতো ছটফট করছে আমার।”
জনি বিস্মিত চোখে রাহুলের দিকে তাকিয়ে রইল। এতদিনের পরিচয়ে কখনোই সে তার বন্ধুকে এমন অস্থির, এমন অসহায়ভাবে দেখেনি। ধোঁয়ার আড়াল ভেদ করে কণ্ঠে অবিশ্বাস মেশানো স্বর ভেসে এলো ,
জনি: “বস, এতদিন তো কোনোদিন কোনো মেয়ের জন্য আপনাকে এভাবে ছুটতে দেখিনি… আজ হঠাৎ কেন এই পাগলামি? কী হচ্ছে আপনার ভেতরে?”
রাহুল তখন চোখ রক্তিম করে সোজা হয়ে বসল। তার কণ্ঠে অদ্ভুত কঠোরতা, যেন প্রতিটি শব্দে গর্জন লুকিয়ে আছে...
রাহুল: “এই রাহুল চৌধুরী কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নয়! আমার ইচ্ছা, আমার সিদ্ধান্ত… এর জবাব কেবল আমিই জানি।”
কথাগুলো বলেই রাহুল গ্লাসে থাকা বিয়ার এক ঢোকে শেষ করল। জনি নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল, বুঝে গেল রাহুলের ভেতরে শুরু হয়েছে এমন এক যুদ্ধ, যেখানে কেউ হেরে গেলে আর জেতার সুযোগ থাকে না।