অগ্নিকন্যা মহুয়া

পর্ব - ২৪

🟢

দুপুর দুইটার দিকে রওশন আরা বেগম এর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রোদের তীব্র আলো তখনো মাথার ওপর দাঁড়িয়ে, কিন্তু জানাজার মাঠজুড়ে নেমে এসেছে এক গভীর বিষাদের ছায়া।

দেখতে দেখতে, অতি দ্রুতই সব শেষ হয়ে গেল। রওশন আরা বেগম যেন প্রকৃতির নিয়মে, এই কোলাহলময় পৃথিবী ছেড়ে, আপনজনদের মায়া-মমতা ত্যাগ করে চিরকালের জন্য চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। মাটির বুকে মিশে গেল এক জীবনের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা। পেছনে পড়ে রইলো শুধু একরাশ অপূরণীয় শূন্যতা আর বিদায়ের গভীর ছাপ।

রাহুলের বুকের গভীরে তখন এক অসহ্য ঝড় বয়ে চলেছে। যা যেন কিছুতেই থামবার নয়, বরং প্রতি মুহূর্তে তার ভেতরের তছনছ হয়ে যাচ্ছে। তার শিরায় শিরায় বাবার প্রতি প্রচণ্ড, জমাট এক ক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। কিন্তু সেই রাগ যখনই বাবার দিকে ধেয়ে যেতে চায়, ঠিক তখনই নিজের বিবেকের কষাঘাত তাকে নিস্তব্ধ করে দেয়। নিজস্ব কৃতকর্মের বিভীষিকা মনে হতেই বাবার মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদ করার সব সাহস তার কর্পূরের মতো উবে গেল।

বাবা যে কাজটি করেছেন, যে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের ভার বহন করছেন, রাহুলও তো প্রায় একই পথে হেঁটেছে। যদিও তাদের দুজনের কাজের ধরনের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য ছিল। এই গভীর আত্মগ্লানি আর লুকানো অপরাধবোধের ভারে তার রাগ যেন একপ্রকার বৈধতা হারালো।

ভেতরে প্রচণ্ড আবেগিক সংঘাত থাকা সত্ত্বেও, প্রতিবাদ বা কথা বলার কোনো শক্তি না পেয়ে সে নীরবে সেই কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলো। তার পা দুটি তাকে টেনে নিয়ে গেল একমাত্র বোন নিপার কাছে। বোনকে কী বলে সান্ত্বনা দেবে, সেই ভাষাও যেন তার অভিধানে নেই। সব শব্দ, সব যুক্তি যেন এই মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে গেছে।

তবুও সে নিপার পাশে গিয়ে বসলো। অতি সন্তর্পণে বোনের তপ্ত কপালে হাত বুলিয়ে দিয়ে তার মাথায় হাত রাখল। সেই স্পর্শেই যেন ভাইয়ের হৃদয়ের সমস্ত নীরব আশ্বাসটুকু নিপার কাছে পৌঁছে গেল। গলা ধরে আসা এক স্বর এবং গভীর বিশ্বাসের সাথে সে শুধু বললো- কাঁদিস না, আমি আছি তো। সব ঠিক হয়ে যাবে।"

ভাইয়ের এই সামান্য উষ্ণ স্পর্শ আর আশ্বাসটুকুই ছিল নিপার বাঁধ ভেঙে দেওয়ার শেষ কারণ। সে আর এক মুহূর্তও নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। দু'হাতে রাহুলের বুকটা জাপটে ধরে সে যেন তার ভেতরের সমস্ত কষ্ট, ক্ষোভ আর যন্ত্রণা এক লহমায় ঢেলে দিলো ।হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়লো।

মহুয়াও এসে নিপার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো । কিন্তু মহুয়া একদম চুপচাপ। মহুয়ার অন্তর যেন তখন পাথরের মতো ভারী। তার শরীরটা সামনে উপস্থিত থাকলেও মনটা বহু দূরে, এক অবিশ্বাস আর শূন্যতার হিমশীতল রাজ্যে ডুবে আছে। নিছক চুপ থাকা নয়, মহুয়া যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।তার মুখ থেকে একটিও শব্দ বের হচ্ছে না, যেন গলার কাছে দলা পাকিয়ে থাকা অসহ্য যন্ত্রণা সব ভাষাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

মহুয়া কিছুতেই তার শাশুড়ির এই হঠাৎ চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না। এই মুহূর্তে পৃথিবী থেকে একটি মানুষ ,যিনি কালও জীবিত ছিলেন, হেঁটেছিলেন, কথা বলেছিলেন ।আকস্মিকভাবে, বিনা নোটিশে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। মহুয়ার কাছে এই সত্যটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, যেন এক নির্মম, অযৌক্তিক প্রহসন।

বারবার তার চোখ ভিজে উঠছিল, কিন্তু সে যেন কান্নার অধিকারও হারিয়ে ফেলেছে। তার ভেতরে কেবলই একটা প্রশ্ন বাজছে: এত দ্রুত, এত সহজে কি কেউ মুছে যেতে পারে? এই গভীর, শ্বাসরুদ্ধকর শূন্যতা আর অমোঘ সত্য মেনে নিতে তার বড্ড বেশি কষ্ট হচ্ছে। তার সমস্ত সত্তা যেন এই তিক্ত বাস্তবতার কাছে নত হতে অস্বীকার করছে।

তবুও চির সত্য নিয়ম মেনে নিতেই হবে । ভাগ্যের লিখন মানতেই হবে। বুকের ভেতর যত ঝড়ই উঠুক না কেন, প্রকৃতির যে অমোঘ নিয়ম, তাকে মাথা হেঁট করে স্বীকার করতেই হবে। এই বিদায় আসলে এক অপরিবর্তনীয় বিধান, যেখানে জন্ম মৃত্যু বিবাহ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

এত বড় একটা বিপর্যয়ের পরেও, রায়হান চৌধুরী একবারের জন্যও ফিরে এসে ছেলেমেয়ের খোঁজটুকু পর্যন্ত নিলো না। রওশন আরা বেগম এর মৃত্যুতে পুরো পরিবার যখন শোকের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন তার এই নিষ্ঠুর নীরবতা যেন এক নতুন আঘাত হানলো ।

মনে হচ্ছে, মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বাবা নামের আশ্রয়টিও যেন চিরতরে পর হয়ে গেছে। তাদের মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে গেছে, আর যে মানুষটি ছাদ ধরে রাখার কথা ছিল, সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। রায়হান এখন তাদের কাছে কেবলই এক বিগত দিনের স্মৃতি। তাদের এই দুর্দিনে তিনি মত্ত হয়ে আছেন অন্য নারীর মোহে। যে হাত ধরে সংসার সাজানোর কথা ছিল, সেই হাত আজ অন্যের হাতে বাঁধা। এই চরম অবহেলা আর নির্লজ্জ স্বার্থপরতা শুধু ছেলেমেয়েদের কষ্ট দিচ্ছে না, এটি প্রমাণ করছে যে তাদের কাছে মায়ের স্থানটি যেমনই হোক, বাবার কাছে তাদের মূল্য ছিল শূন্যের কোঠায়। এই অপ্রত্যাশিত বিশ্বাসঘাতকতা শোককে আরও বিষাক্ত করে তুলছে।

তামিমা মেয়েটাও যেন একেবারে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।

তার মুখাবয়বে কোনো ভাষা নেই, চোখগুলো শুধু এক গভীর, অব্যক্ত শূন্যতা নিয়ে তাকিয়ে আছে। যেন তার ভেতরের সব অনুভূতি, সব শব্দ একটি বরফের আস্তরণের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

রায়হান চৌধুরী বার বার তাকে কাছে ডাকছে কিন্তু সে এই শোকে একদম স্তব্ধ হয়ে গেছে । এই চরম বাস্তবতার কাছে প্রণয় যেন বিষের মতো মনে হচ্ছে।

রওশন আরা বেগম এর মৃত্যুর জন্য বারবার সে নিজেকে দায়ী করছে।তার কাছে এই মৃত্যু কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, এটি যেন তারই ভুলের ফল।

মেয়েটির মনের ভেতর প্রশ্নবাণ যেন তীব্র যন্ত্রণায় তাকে আঘাত করছিল। তার চোখ-মুখ জুড়ে এখন কেবলই অবিশ্বাস আর মর্মাহত বিস্ময়। একটি মাত্র প্রশ্ন তার সমস্ত চেতনা জুড়ে বিদ্যুৎ-চমকের মতো ঝলসে উঠছিল:

"এ কী করে সম্ভব? যার জীবনসঙ্গিনী এইমাত্র, আজই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন, যার শেষকৃত্যের শীতলতা এখনও বাতাসে মিশে আছে , আর এই লোকটি কি করে এতটুকু অনুশোচনা বা শোকের লেশ ছাড়াই এই মুহূর্তে প্রণয়মগ্ন হতে পারেন? আজকেই তাঁর হৃদয় অন্য কারও প্রতি সাড়া দিচ্ছে?

মেয়েটি যেন এক অদৃশ্য কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে; এবং সে নিজেই তার অভিযুক্ত, বিচারক ও সাক্ষী। রায়হানের দুর্বোধ্য আচরণ দেখার পর থেকে তার মন শান্তি পাচ্ছিল না। সে বারবার নিজের বোধবুদ্ধিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছিল, কিন্তু সঠিক উত্তরটি তার আয়ত্তের বাইরে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু রায়হান চৌধুরীর এখন তামিমাকে লাগবেই লাগবে।

বাধ্য হয়ে মেয়েটা রায়হান চৌধুরীর মনোরঞ্জন করতে গেলো । কিন্তু ইদানিং তার শরীর টা বেশ দূর্বল মনে হচ্ছে, তিন মাসের প্রেগন্যান্ট মেয়েটা । তবুও পাষান মানুষটা সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করে না ।

_____

সময় তার অবিচল, নিজস্ব গতিতে বয়ে চলেছে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে গেল নিঃশব্দে, আর প্রকৃতির নিয়মে একে একে ঝরে গেল তিনটি মাস। বাইরে সবকিছু আপন ছন্দে চললেও পরিবারের ভেতরের ঘড়িটা যেন সেই দিনেই থেমে আছে যেদিন রওশন আরা বেগমের হাসিমুখটি শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল।

মায়ের চলে যাওয়াটা রাহুলের জীবনে এসেছিল এক প্রচণ্ড অভিঘাত হয়ে। যে রাহুল একসময় কেবল বিশৃঙ্খলা আর ভুল পথে হেঁটে অভ্যস্ত ছিল, আজ সে সম্পূর্ণ অন্য মানুষে পরিনত হয়েছে। মায়ের আকস্মিক মৃত্যু তার ভেতরের সব অন্ধকার দূর করে, যেন এক আত্মিক জাগরণ ঘটিয়েছে।

যে হাতগুলো এককালে কেবল ভুল কাজ করত, সেই হাতগুলো এখন ভালো কাজের সন্ধানে ব্যস্ত। পুরোনো দিনের সব ভুল, সব খারাপ অভ্যাস সে স্থির প্রতিজ্ঞায় পিছনে ফেলে এসেছে। মায়ের স্মৃতিই যেন তার জীবনের নতুন দিকনির্দেশক‌ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাকে আলোর পথে টেনে এনেছে।

রাহুলের এই গভীর, আমূল পরিবর্তন মহুয়ার হৃদয়ে এক নতুন বসন্ত নিয়ে এসেছে। তার প্রতি মহুয়ার ভালোবাসা কেবল বৃদ্ধিই পায়নি, এটি বহুগুণে স্ফীত হয়েছে, যা এখন একটি অগাধ, নির্মল ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে।

মহুয়া দেখছে, রাহুল যেন ছাই থেকে উঠে আসা ফিনিক্স পাখির মতো। যে মানুষটি একসময় তার মনকে উদ্বেগে রাখত, সেই মানুষটিই আজ দায়িত্বশীলতা ও আলোর প্রতীক হয়ে গেছে।রাহুলের অতীতের ভুলের জন্য যেটুকু নীরব অভিমান মহুয়ার মনে ছিল, তা এখন গর্ব ও গভীর শ্রদ্ধায় রূপান্তরিত হয়েছে।

কিন্তু রাহুলের প্রতি তার এই গভীর, সুশান্ত অনুরাগ বেশিদিন স্থায়ী হতে পারল না। সেই ভালোবাসা ছিল যেন শিশিরভেজা ভোরের স্নিগ্ধতার মতো, যা প্রথম সূর্যের স্পর্শেই বাষ্পীভূত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। ঠিক তেমনই, অপ্রত্যাশিতভাবে একদিন এক দমকা হাওয়া এসে পড়ল সেই শান্ত জীবনে। যেন কালবৈশাখীর রুদ্রমূর্তি, যা নিমিষেই ভালোবাসার যত্নে গড়া কাঁচের দেয়াল, বিশ্বাসের ভেজা মাটি আর স্বপ্নের সবুজ লতা-পাতা তছনছ করে দিয়ে গেল।

রোজকার মতো আজো রাহুল হসপিটালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল । কিন্তু মনের ভেতর অস্থিরতা টের পাচ্ছিল। বুকের পাজরে সেই অস্বস্তিটা ঠিক যেন একটা ক্ষুদ্র কম্পনের মতো অনুভব করছিল সে ।একটা সতর্ক সঙ্কেত, যার উৎস সে খুঁজে পাচ্ছিল না। তবুও, অভ্যাসবশত সেসবে তেমন একটা পাত্তা না দিয়ে, মনের দরজাটা দ্রুত বন্ধ করে দিল।

হসপিটালে গিয়ে একের পর এক রোগী দেখায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ল।

নিপাও হসপিটালে চলে গেছে অনেক্ষণ আগেই । রায়হান চৌধুরী আজ বাড়িতেই আছেন। কারণ সে নাকি আজ তামিমাকে চেকাপ করতে নিয়ে যাবেন ।

স্নিগ্ধ শান্ত চেহারার তামিমা এখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার উদরের বক্রতা এখন বেশ স্পষ্ট‌ হয়ে উঠেছে।বয়ে চলেছে এক নতুন প্রাণের স্পন্দন। কিন্তু এই আসন্ন মাতৃত্বের আনন্দটুকু যেন রায়হান চৌধুরীর দূর ব্যবহারে কারণে ম্লান হয়ে যায়। সব সময় তিনি মেয়েটার সাথে এমন দূরত্ব রেখে কথা বলেন এবং এমন রূঢ় ব্যবহার করেন, যেন সে কেবল একজন দায়িত্ব বহনকারী মানুষ ,সে শুধু তার মনোরঞ্জকারী, ভালোবাসার পাত্রী নয়। তার প্রতিটি ব্যবহারে থাকে এক আড়ষ্টতা ও ঔদাসীন্যের ছাপ, যা তামিমাকে নীরবে কষ্ট দেয়। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর প্রতি যত্ন বা কোমলতার ছিটেফোঁটাও সেখানে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

একসময় তামিমার রূপে যিনি বিভোর থাকতেন, যাঁর চোখে তামিমা ছিলেন এক আলো ঝলমলে দেবী, যাঁর কণ্ঠস্বর ছিল তামিমার সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসায় মুখর ,আজ তাঁর হৃদয় সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।

গর্ভধারণের কারণে এই সম্পর্ক এমন চরম বিদ্বেষে মোড় নিয়েছে।

পূর্বের সেই তীব্র মুগ্ধতা, গভীর আকর্ষণ এবং আন্তরিক প্রশংসা আজ এক ভয়ঙ্কর বিতৃষ্ণা, অসহনীয়তা এবং সুস্পষ্ট বিদ্বেষে রূপান্তরিত হয়েছে। তামিমা এখন তাঁর কাছে কেবলই এক বিরক্তির প্রতিচ্ছবি, যাকে তিনি তাঁর দুই চোখে বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারেন না।

রায়হান চৌধুরীর মন এখন আর একমুখী নেই। তাঁর অন্তরের অন্দরমহলে এখন আরেক নারীর নীরব উপস্থিতি শুরু হয়েছে, যা একসময়কার নিবেদিত প্রেমকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে।তার চোখ যেন এখন তাঁর নিজের বশ মানে না। অলক্ষ্যে, প্রায় এক অভিশাপের মতো, সেই দৃষ্টি বারবার পশ্চিম দিকে অবস্থিত ঘরের দিকেই নিবদ্ধ হয়। তাঁর ইচ্ছাশক্তি সম্পূর্ণ ব্যর্থ, যেন কোনো অদৃশ্য চুম্বক তাঁকে সেই দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

। তিনি যা দেখতে পাচ্ছেন না, সেই না-দেখা নারীর উপস্থিতি তাঁকে তীব্রভাবে ব্যাকুল করে তুলছে। বুকের ভেতরে এক তপ্ত অবদমিত ইচ্ছা বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে ,একবার, শুধু একবার যদি সেই ঘরের ভেতরের দৃশ্য বা মানুষটিকে দেখা যেত!

কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা তাঁকে বন্দী করে রেখেছে। প্রতিবার উঁকি দেওয়ার পরই রায়হান দ্রুত চোখ সরিয়ে নেন ধরা পড়ার ভয়। সময় এবং সুযোগ নামক দুই প্রহরী কঠিন বাঁধ সেধেছে। হয়তো স্ত্রীর কাছাকাছি অবস্থান, নয়তো বাড়ির অন্য সদস্যদের আনাগোনা । সেই একান্ত আকাঙ্ক্ষা পূরণের সামান্যতম ফুরসত তিনি কিছুতেই পাচ্ছেন না।

তাঁর ভেতরে এখন যুদ্ধে লিপ্ত দুটি সত্তা হয়ে গেছে।একদিকে কর্তব্য ও ভয়, অন্যদিকে নিষিদ্ধ আকর্ষণের তীব্র উন্মাদনা।

এতো দিন ধরে সে শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো যে কিভাবে পশ্চিমের ঘরে যাওয়া যায়। আর আজ সেই সুযোগটা পেয়েও গেলো । মহুয়ার ঘরের দরজা অর্ধেক খোলা দেখে তার হৃদয়ে যেন মুহূর্তেই এক অব্যক্ত আবেগ ও উত্তেজনা ঢেউ তুলল। সে নিজের বউকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে সেই নিষিদ্ধ অনুভূতির ডাকে সাড়া দিতে লাগলো।

বিজ্ঞাপন
অগ্নিকন্যা মহুয়া গল্পটি আজেরিন হিরানুর-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সামাজিক ও থ্রিলারভিত্তিক গল্প