মিজান হোসেন খুশি হয়ে আরজু কে টাকা দিয়েছেন, আবার চা এর প্রশংসাও করেছেন এই কথাটা আরমান কে না জানালে আরজুর পেটের ভাতই হজম হবে না। তবে কথা হলো আরজু জানেনা আরমান কোথায় গিয়েছে। তবে তনুশ্রী বলল আরজু কে নিয়ে যাবে ওখানে।
আরজু কে নিয়ে বাইরে এলো। গ্রামের মানুষ সকাল সকালই উঠে পড়ে। ফলস্বরূপ উঠোনে অনেককেই দেখা গেল। তনুশ্রীর সাথে একটা নতুন মেয়েকে দেখে সবারই কপালে ভাঁজ সৃষ্টি হলো। দূর থেকে একজন তনুশ্রীকে নাম ধরে ডাকলো। আরজুকে একটু দাঁড়াতে বলে তার কাছে গেল তনুশ্রী।
আরজু কে একা পেয়ে একজন ভদ্রমহিলা ওর দিকে এগিয়ে এসে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আরজু কে পর্যবেক্ষণ করে বলল,
“তুমি কেডা? কার বাড়িত আইছো?”
আরজু আঙুলের ইশারায় আরমানের বাড়িটা দেখিয়ে বলল,
“ওই বাড়িতে এসেছি। আমি আরজু।”
“হেইডা না হয় বুঝলাম। তয় ওই বাড়ির কেডা হও তুমি? আগে তো কহনো দেহি নাই। আমেনা ভাবির কি লাগো তুমি?”
আরজু বেশ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,
“ওনার ছেলের বউ।”
ভদ্রমহিলার বিশ্বাস হলো না কথাটা। ভাবলো ভুলভাল কিছু বলছে।
“পোলার বউ হইতে যাবা ক্যান? আমাগো তাওসিফ আর তাশরীফ কি বিয়া করছে নাকি?”
আরজু উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে বলল,
“তাওসিফ বিয়ে করেছে। আমি তাওসিফের বউ।”
ভদ্রমহিলা চোখ বড় বড় আরজুর দিকে তাকালো। অবিশ্বাস্য গলায় বলল,
“কি কও? কহন করলো এই কাম? গেরামের কেউ তো আমরা জানি না।”
“করেছে তো বিয়ে। আমি তাওসিফের বউ। সত্যি বলছি।”
ভদ্রমহিলা মোটেও বিশ্বাস করলেন না। মিজান হোসেনের ছেলের বিয়ে আর গ্রাম শুদ্ধ মানুষ জানবে না এটা হতেই পারে না। তালুকদার বাড়ির বিয়ে মানেই এলাহি কাণ্ড। শুধু এই গ্রাম কেন, আশেপাশের গ্রামের মানুষরাও জেনে যাবে যে অমুক দিনে তালুকদার বাড়ির ছেলের বিয়ে। আর সেখানে ওনারা এত কাছাকাছি থেকেও জানতে পারবেন না এটা হতেই পারে না। মুখ ভেংচিয়ে বললেন,
“মূর্খ হইতে পারি তয় আমারে বোকা বানান এত সহজ না মাইয়া। আমাগো তাওসিফ বিয়া করবো আর আমাগোরে কইবো না এটা হইতেই পারে না। সত্যি কইরা কও তো তোমার উদ্দেশ্য খান কি? ক্যান আইছো গেরামে?”
আরজুর পছন্দ হলো না ভদ্রমহিলার কথা। ও কেন বোকা বানাতে চাইবে। বিয়ে করেছে আরমান আরজু কে তবে ওরা বিশ্বাস করে না কেন? কি সমস্যা?
মৃদু রাগী গলাতে বলল,
“বললাম তো আমি তাওসিফের বউ।”
ভদ্রমহিল এবারও বিশ্বাস করলেন না। উনি নিজে একা একা কি সব বলে গেলেন। আরজুর এবার রাগে দুঃখে কান্না পেল। এদিকে ততক্ষণে তনুশ্রী সেখানে এসে গেছে। আরজুর চোখে জল দেখে উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
“কি হয়েছে ভাবি? কাঁদছো কেন তুমি? চাচি কি বলেছো তুমি ভাবিকে?”
আরজু ভদ্রমহিলাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তনুশ্রী কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আরমান কোথায়?”
“ভাইয়া তো মনে হয় জমিতে গেছে।”
তনুশ্রীর কথা শুনে পাশে দাঁড়ানো ভদ্রমহিলা আবারো বলে উঠলেন,
“না তাওসিফ রে তো দেখলাম আমাগো উঠানে, ওর বড় চাচার বাড়ি গেছে। ওই হানে যাইয়া দেখ।”
আরজু তনুশ্রী কে জিজ্ঞেস করলো কোথায় সে বাড়ি। তনুশ্রী ইশারায় দেখালো।
আরজু আর একটা কথাও বলল না। সরাসরি সেদিকেই চলে গেল। তনুশ্রী ডাকলো পিছন থেকে তবে সারা পেল না। তনুশ্রী এবারে ভদ্রমহিলাকে উদ্দেশ্য করে মৃদু রাগী গলায় বলল,
“কি বলেছে তুমি ওনাকে?”
“তার আগে তুই ক এই মাইয়া কি সত্যি তাওসিফের বউ? তাওসিফের লগে আমার দেখা হইছিলো, ওই তো কিছু কইলো না।”
“হ্যাঁ ভাইয়ার বউ।”
ভদ্রমহুলা এবারে হায় হায় করে উঠে বলল,
“কি কস, কি কস তুই? তাওসিফের বিয়া হইয়া গেল অথচ আমরা জানি না। হায় আল্লাহ এইডা কি হইল।”
হায় হায় করতে করতেই চলে গেলেন তিনি। তনুশ্রীর আর বুঝতে বাকি রইলো না যে উনি যেহেতু জেনে গেছেন, এখন গ্রামের আর কারো জানতে বাকি থাকবে না। তবে তনুশ্রীর এখন দরকার আরজুর পেছনে যাওয়া।
________
“ফাল্গুনী চাচি কই তুমি?”
রান্নাঘর থেকে ভেসে এলো এক ভদ্র মহিলার কর্কশ কণ্ঠস্বর।
“সকাল সকাল নাম ধইরা কে ডাকে?”
আরমান রান্নাঘরে উঁকি দিয়ে বলল,
“আমি গো চাচি, আমি। তোমার আদরের তাওসিফ।”
“এ্যা তাওসিফ তুমি কহন আইলা?”
এবারে আর উঁকি দিলোনা আরমান। সরাসরি রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে গিয়ে হাস্যজ্জ্বল গলায় বলল,
“তোমাদের কথা খুব মনে পড়ছিল চাচি তাই দেখা করতে এলাম। শুনলাম কার ছেলে জানি আমার ভাইয়ের গায়ে হাত তুলেছে, আবার নাকি আমার বোনকেও বিরক্ত করে। কে করেছে গো এসব? তুমি তো সব খবরই রাখো গ্রামের। নাম গুলো বল তো।”
একটা শুষ্ক ঢোক গিলল ফাল্গুনী। আরমান যাদের খোঁজ করছে তারা তো ওনারই ছেলে। এখনো ঘরে ঘুমোচ্ছে। ভয়ে বুকটা কেঁপে উঠলো। উনি এটা খুব ভালো করেই জানে যে আরমান ছেলেগুলোর পরিচয় জেনেই এখানে এসেছে। এদিকে ঘরে ওনার স্বামীও নেই। এই ছেলেকে কোন বিশ্বাস নেই। তাশরীফের মতন ভদ্র সভ্য না। যদি মা'রপিট শুরু করে দেয় তবে কি হবে। কে বাঁচাবে ওনার ছেলেদেরকে।
ফাল্গুনী বুঝতে পারলেন এতদিন যা করার করেছেন। তবে এখন আরমানের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। একটু খাতির যত্ন করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে উঠে দাঁড়িয়ে আরমানকে বসার জন্য একটা চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বললেন,
“আরে বাবা খাড়ায়া আছো ক্যান? তুমি আগে বসো। আর এসব কথা পরে হইব। কাইল একটু দুধে পিঠা ভিজাইছিলাম, তোমারে দেই?”
আরমান নিজে চেয়ারটায় পায়ের উপর পা তুলে বসলো।
“আরেকটা চেয়ার আনুন আমার ভাইয়ের জন্য। আর পিঠা খাওয়ার জন্যই তো এলাম। না খেলে হয় নাকি। আনুন।”
ফাল্গুনী আগে তাড়াহুড়ো করে গিয়ে তাশরীফের জন্য একটা চেয়ার আনলো। একটু পর তিনি দুটো বাটিতে করে দু ভাইয়ের জন্য পিঠা এনে দিলেন। তাশরীফ বাটিটা হাতে নিল ঠিকই তবে ভয় আর চিন্তায় গলা দিয়ে খাবারটা নামছে না। পাশে তাকিয়ে দেখলো আরমান বেশ খুশি মনে পিঠা খেয়ে যাচ্ছে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আরমান প্রশংসার গলায় বলল,
“পিঠেটা কিন্তু দারুন হয়েছে চাচি। এর পরের বার শীতে আবার আসবো পিঠে খেতে।”
ফাল্গুনী মেকি হেসে বললেন,
“আচ্ছা বাবা আইসো।”
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আরমান চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মৃদু গম্ভীর গলায় এবারে ফাল্গুনীকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ছেলেরা কোথায় আপনার? ডাকুন।”
আরমান ওনার ছেলেদের খোঁজ করতেই পুরনো ভয়টা আবারো ফিরে এলো। এতক্ষণ আরমানের হাসি হাসি মুখ দেখে ভেবেছিলেন হয়তো কিছু করবে না কিংবা এমনও হতে পারে হয়তো সত্যিই জানে না যে কারা তাশরীফকে মে'রেছিল, আর কারাই বা তনুশ্রীকে বিরক্ত করেছে।
উনি আশা করেছিলেন মিজান হোসেন হয়তো বড় ছেলেকে এসব কিছু বলবে না। যেহেতু নিজের ভাইদের কেও জানায়নি ঝামেলার ভয়ে তারমানে আরমানও জানে না। তবে আরমান যে জেনে গেছে সেটা ওনার বুঝতে বাকি রইল না।
“পোলা রে ডাইকা কি হইবো বাবা? কোন কাম আছিলো? ওরা তো বাড়িত নাই।”
ফাল্গুনী কথাটা বলতে না বলতেই ওনার কানে ভেসে এলো ওনার ছেলের ডাক।
“আম্মা, কখন ঘুম থেকে উঠছি ভাত দাও।”
ফাল্গুনীর ইচ্ছে করলো গিয়ে ছেলের গালে চড় বসাতে। এখনই ঘর থেকে বের হতে হলো? উনি তো সামলাচ্ছিলেন পরিস্থিতিটা তবে এবারে আর হলো না। আরমান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে তাকালো ফাল্গুনীর ছেলের দিকে। ঘরের সামনে ছোট মাটির বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।
আরমান গলা উঁচিয়ে ডাকলো,
“কিরে সানি, কি খবর?”
সানির চোখে তখনো হালকা একটু ঘুম বেঁচে ছিল। তবে এই কন্ঠটা কানে যেতেই ঘুমটা উড়ে গেল। এদিক ওদিক তাকিয়ে খোঁজার চেষ্টা করলো কোন দিক থেকে ডাকটা ভেসে এলো। তখনই চোখে পড়লো আরমানকে। একটু চমকাল আরমানকে এখানে দেখে। আরমান এসেছে সেই খবর তো পায়নি।
আরমান ইশারায় সানিকে কাছে ডাকলো। সানির আর বুঝতে বাকি রইল না আরমান এখানে কেন এসেছে সকাল সকাল। তবে যাই হয়ে যাক না কেন ভয় পেলে তো চলবে না। কি করবে? হয়ত মা'রবে। সানিও উল্টো দুটো লাগিয়ে দেবে।
এগিয়ে এসে আরমানের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“তুই এখানে? কখন এসেছিস?”
“গতকাল রাতে। আজেবাজে কথা না বলে আগে সরাসরি কাজের কথা আসি। তাশরীফকে মে'রে'ছি'স কেন?”
সানি গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“ইচ্ছে হয়েছে তাই মে'রে'ছি।”
আরমান আবারো ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো। আরমানের হাসির কারণ ঠিক আন্দাজ করতে পারল না সানি। এদিকে পিছনে দাঁড়ানো ফাল্গুনীও অস্থির হয়ে উঠেছেন। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। এখন যে ক্ষেত থেকে স্বামীকে ডেকে আনবেন তারও উপায় নেই। যেতে আসতেই এখানে কান্ড ঘটে যাবে।
এদিকে সানি ভাবছে আরমান এখনো কিছু বলল না কেন। আবার ওর কথা শুনে হাসলেই বা কেন।
সানির এসব ভাবনার মাঝেই হঠাৎ করে আরমান কষিয়ে একটা চড় বসালো ওর গালে। ফাল্গুনী নিজের ছেলের নাম ধরে চেঁচিয়ে উঠলেন। বসা থেকে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো তাশরীফ।
সানি চ'ড় খাওয়া গেলে হাত দিয়ে দাঁত পিষে বলল,
“তুই আমাকে মা'র'লি কেন?”
আরমান স্বাভাবিক গলায় বলল,
“ইচ্ছে হলো তাই মে'রে'ছি।”
সানি কিছু বলতে নিল তবে আরমান আবারও একটা চ'ড় বসালো। তবে এবারে আরমান এত জোরে চ'ড়টা বসালো যে তাল সামলাতে না পেরে মাটির উপরে মুখ থুবড়ে পড়ল। ফাল্গুনী এবার তাড়াহুড়ো করে গিয়ে ছেলের সামনে বসে বললেন,
“মা'র'তাছো কেন আমার পোলাডারে? বাড়িত আইসা গুন্ডামি করতাছো। এই কারণে কি তোমারে পিঠা খাওয়াইলাম?”
আরমান আঙ্গুল উঁচিয়ে শাসিয়ে বলল,
“প্রথম চ'ড়টা ছিল আমার ভাইয়ের গায়ে হাত তোলার জন্য, আর দ্বিতীয় চ'ড়টা ছিল আমার বোনের দিকে চোখ তুলে তাকানোর জন্য। প্রথমবার ভুল করেছিস সেজন্য অল্পের উপর দিয়ে বেঁচে গেলি। মনে রাখিস বারবার কিন্তু তোদেরকে শাসানোর জন্য আমি শহর থেকে গ্রামে আসতে পারবো না। আর যদি কখনো এমন হয়েছে তবে জ্যান্ত কবর দিয়ে তোদের ঝামেলা একেবারের জন্য মিটিয়ে তবে শহরে ফিরব। আর তোর ছোটটাকেও সাবধানে থাকতে বলিস।"
কথাটা বলে আরমান তাশরীফ কে নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলো। তবে দেখল আরজু একপ্রকার ছুটতে ছুটতে ওর খোঁজ করতে করতে আসছে। আবার আরমানের নাম ধরে ডাকছেও। আরজুকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে অস্থির হয়ে গেছে। চোখ দুটো কেমন টলমল করছে। আরমানের আর বুঝতে বাকি রইলো না যে ওর পা'গলির মাথার তারটা কে'টে গেছে।
তাড়াহুড়ো করে নিজেই আরজুর দিকে এগিয়ে গেল। দু হাতের আজলায় আরজুর মুখটা নিয়ে চিন্তিত গলায় বলল,
“কি হয়েছে আরু? আমায় খুঁজছেন কেন?”
“আমি আপনার বউ না?”
হঠাৎ করে আরজুর এমন প্রশ্নে আরমান একটু বিব্রত হলো। তবে উত্তর দিল।
“হ্যাঁ আপনিই তো আমার বউ।”
“তবে ওরা কেউ বিশ্বাস করছে না কেন? আমি ওদেরকে বললাম যে আমি আপনার বউ কিন্তু ওরা বিশ্বাসই করল না।”
“কে বিশ্বাস করেনি? আর তাছাড়া গ্রামের কেউ তো জানে না যে আমি বিয়ে করেছি।”
আরজু হালকা একটু চিৎকার করে উঠে বলল,
“না জানলে কি? আমি তো বলেছি যে আপনি বিয়ে করেছেন আমায়। আমার কথা বিশ্বাস করলো না কেন? কেন বিশ্বাস করলো না যে আমি আপনার বউ?”
আরমান আরজুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে। এবার করবে বিশ্বাস। চলুন দেখি কে বিশ্বাস করে নি।”
“হ্যাঁ এক্ষুনি চলুন। ওনাকে বলবেন যে আমি আপনার বউ। সবাইকে বলে দেবেন।”
কথাটা বলে আরজু আরমানের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল। গিয়ে দেখল সেখানে শুধু তনুশ্রী আছে। আশেপাশে খুঁজেও সেই ভদ্রমহিলা কে আর পেল না। আরজু তনুশ্রী কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ওই মহিলাটা কোথায় গেল যিনি বিশ্বাস করলেন না যে আমি আরমানের বউ?”
তনুশ্রী বলল,
“বিশ্বাস করেছে ভাবি। আমি বলেছি ওনাকে। উনি এখন গেছে গ্রাম শুদ্ধ সবাইকে জানাতে।”
“তোমার কথা বিশ্বাস করলো তাহলে আমার কথা বিশ্বাস করলো না কেন? আমিও তো বলেছিলাম যে আমি আরমানের বউ।”
তনুশ্রী একটু হেসে বলল,
“আসলে ভাবি উনি তোমাকে চেনে না তো সেজন্য হয়তো বিশ্বাস করেনি। আর তাছাড়া সবাই জানে যে ভাইয়ার বিয়ের আয়োজন বাবা ধুমধাম করে করবে। এখন হঠাৎ করে এসে তুমি বলেছ তো বিয়ে করেছে ভাইয়া সেজন্য বিশ্বাস করেনি।”
আরজু নিজে নিজে কিছুক্ষণ কি যেন একটা ভাবলো। হঠাৎ করে আরমানের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বায়না ধরে বলল,
“আরমান, আমরা আবার বিয়ে করবো। আমরা এবার ধুমধাম করে আয়োজন করে বিয়ে করবো। আপনার কাছে টাকা আছে না আয়োজন করার? এমনভাবে বিয়ে করবো যেন সবাই জেনে যায় আমি আপনার বউ। যেন কেউ সন্দেহ না করে। ওদের সাহস হয় কি করে আমার কথা অবিশ্বাস করার? ওদের সাহস হয় কি করে বলার যে আমি আপনার বউ না?”
“আচ্ছা ঠিক আছে সব হবে। তার আগে আপনি শান্ত হন। বুঝতে পেরেছি ওদের সাহস বেড়ে গেছে।”
আরজু জেদ দেখিয়ে বলল,
“না না না আমি শান্ত হবো না। আগে আপনি বলুন সবাইকে জানাবেন যে আমি আপনার বউ? আমরা আবার বড় করে আয়োজন করে বিয়ে করবো?”
আরমান আরজুকে আশ্বস্ত করে বলল,
“ঠিক আছে আপনি যা চাইছেন তাই হবে। অনেক ধুমধাম করে আমরা বিয়ে করব। শুধু এই গ্রাম কেন পুরো বাংলাদেশের মানুষকে জানিয়ে দেবো যে এই পা'গলিটা আমার বউ। তাওসিফ আরমানের বউ নীরাঞ্জনা আরজু।”
_________
ভিডিও কলে তিন ভাইয়ের বৈঠক বসেছে। যদিও মহিন হোসেন একেবারেই নিরব। ভাইপো সব দোষ তার ঘাড়ে চাপিয়েছে। এখন তো তিনি মুখ ফুটে আর বলতেও পারছেন না ভয়ে। এখন যদি উনি কিছু বলেন তাহলে আবার মিথ্যে বলার জন্য আরমান বকা খেতে পারে। দরকার নেই আরমানের বকা খাওয়ার। তার থেকে বরং তিনি নাহয় ভাইয়ের কাছে একটু বকা খেয়ে নিলেন। বেশ কিছুক্ষণ বকাবকির পর মুহিব হোসেন মিজান হোসেনকে থামতে বললেন। গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
“তাওসিফের থেকে এমন হটকারিতায় কোন সিদ্ধান্ত আশা করা যায় না। তবে যেহেতু বিয়েটা হয়ে গেছে এখন তো আর রাগারাগি করে কোন লাভ নেই। ছেলে আমাদেরই। গ্রামে কি বলেছো সবাইকে?”
মিজান হোসেন চিন্তিত গলায় বললেন,
“আমি তো সেটাই ভাবছি ভাইজান যে গ্রামের মানুষকে কি জবাব দেব আমি। সবাই যদি জানতে পারে যে আমার ছেলে পালিয়ে বিয়ে করছে তবে কি আমার মান সম্মান থাকবে?”
“তো তুমি বলতে যাবে কেন? ঘরের ছেলে কি করেছে সেটা সবাইকে জানানোর প্রয়োজন মনে করছি না। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবে কিছুদিন আগে তো তোমরা শহরে এসেছিলে তখন ছেলের বিয়ে দিয়ে রেখেছিলে। আমাদের সবার সম্মতিতেই ওদের বিয়েটা হয়েছে।”
মিজান হোসেন ভেবে দেখলো যে এটা বলাই ভালো হবে। মাথা নাড়িয়ে সায় জানালেন।
একটু থেমে মুহিব হোসেন আবারো বলে উঠলেন,
“এখন বিয়ের তো অনুষ্ঠান করতে হবে বড় করে। এতদিন পর বাড়িতে একটা বিয়ে হতে চলেছে আয়োজন অবশ্যই ধুমধাম করে হতে হবে। তুমি একটা কাজ করো মিজান, মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে রাজি করানোর ব্যবস্থা করো। তুমি কথা বলে দেখো যদি রাজি না হয় তারপরে দরকার পড়লে আমরা সবাই মেয়ের বাড়িতে যাব।”
মিজান হোসেনের পাশেই তখন আরমান বসে আছে। মুহিব হোসেনের বলা এই কথাটা শুনে আরমান একটু নড়েচেড়ে উঠলো। আরজু ওর পরিবারকে তো জানাতে দেবে না। আর এই কথাগুলো আরজুর সামনে তোলার কোন প্রয়োজন নেই। সরাসরি মিজান হোসেন কে উদ্দেশ্য করেই বলল,
“বাবা, এই অনুষ্ঠানে আরজুর পরিবারের লোকজন থাকবে না। আরজু চায় না ওনার পরিবারের কেউ থাকুক।”
“মেয়ের পরিবার না থাকলে কি করে হবে? আমরা কথা বলে দেখি?”
আরমান ওনার কথায় তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলল,
“না বাবা কোন দরকার নেই। যা আরজু চায় না আমি সেটা করবো না। ওনার কোন অস্বস্তি হোক আমি চাই না বাবা। এখন আমার পরিবার মানেই আরজুর পরিবার। তোমরা সবাই উপস্থিত থাকা মানেই ওনার পরিবার উপস্থিত থাকা। প্লিজ ওনার পরিবার নিয়ে আর কোনো কথা তুলো না।”
মিজান হোসেন আরমানের বলা কথা গুলো মুহিব হোসান কে বুঝিয়ে বললেন। প্রথমে তিনি আপত্তি জানালেন তবে ওনার পাশে শুরু থেকে তানভীরও বসে ছিল। এদিকে আরমান যেমন মিজান হোসেনকে রাজি করালেন ঠিক তেমন অন্যদিকে তানভীর মুহিব হোসেনকে রাজি করালো।
আরমান তানভীরের এমন কর্মকাণ্ডের কারণ বুঝতে পারছে না। কয়েকদিন হলো তানভীরের কি হয়ে গেল কে জানে!
এতক্ষণে মহিন হোসেনও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছেন। অন্তত ভাইয়ের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছেন। আলোচনা শেষে ঠিক করা হলো আগামী সপ্তাহের শুক্রবারে আরমানদের বিয়ের অনুষ্ঠান বড় করে করা হবে। এবং ঠিক করা হলো আগামীকালই বাকিরা সবাই গ্রামে আসবে।
আরমান তাড়াহুড়ো করে গেল ওর ঘরে থাকা আরজুর কাছে। আরজু তখন চুপচাপ বিছানায় বসে আছে।
আরমান বিছানায় গিয়ে আরজুর পাশে বসে উৎফুল্ল গলায় বলল,
“আরু, আপনি বলেছিলেন না যেন খুব ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করি। সেটার ব্যবস্থা করে ফেলেছি। সামনের শুক্রবার আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হবে। কাল আমার বাড়ির সবাই আসছে।”
আরজু চোখ তুলে আরমানের দিকে তাকিয়ে বেশ স্বাভাবিক গলায় প্রশ্ন করল,
“সবাই আসছে?”
“হ্যাঁ সবাই আসছে।”
আরজু আপাতত আর কোন প্রশ্ন করল না, থেমে গেল। দৃষ্টি নামিয়ে একা একা কি যেন ভাবলো। বিছানার উপরে কি সব আঁকিবুকি করল। আরমান বুঝতে পারল না কিছু। বোধহয় কোন হিসাব করছে আরজু। একটা সময় পরে আরমান আর নিজের মনের মাঝে তৈরি হওয়া প্রশ্নটা দমিয়ে রাখতে পারল না।
“কিছু ভাবছেন আরু?”
আরজু দৃষ্টি উঠিয়ে আরমানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,
“ধরুন আমি আপনাকে জড়িয়ে ধরলাম, তখন আশেপাশে অনেক মানুষ আছে। তো আপনি কি নিজের থেকে আমাকে ছাড়িয়ে দেবেন নাকি লজ্জা পাবেন?”
আরজু ভেবেছিলো এই প্রশ্নের উত্তরটা দিতে আরমান কে বোধহয় অনেক ভাবতে হবে। উত্তরটা এমনই আসবে যে আরমান লজ্জা পেয়ে ছাড়িয়ে নেবে। নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেবে আরজু কে। তবে তেমন কিছু হলো না।
“দূরে সরিয়ে দেবো কেন? পাল্টা নিজেও জড়িয়ে ধরবো। বউকেই তো জড়িয়ে ধরবো, লজ্জা পাবো কেন?”
আরজু পুনরায় সন্দেহী গলায় বলল,
“সত্যি লজ্জা পাবেন না?”
“না আরু লজ্জা পেতে যাব কেন? আর আপনি ভাবলেন কি করে আপনি আমার কাছে আসবেন আর আমি আপনাকে দূরে সরিয়ে দেবো? এটা হয় নাকি?”
কথাটা বলে আরমান মুচকি হাসলো। আরমানের সেই হাসিটাই যেন প্রমাণ করে দিল যে ও মিথ্যে কথা বলছে না। আরমানের সেই হাসিটা আরজু কে সন্তুষ্ট করলো। নিজেও হাসলো।
তবে আরজুর পরের পদক্ষেপটা আরমানের জন্য ছিল অকল্পনীয়। আরমানের ভাবনার ত্রিসীমানায় এই খেয়ালটা আসেনি।
আরজু বসা অবস্থাতেই হঠাৎ করে দুহাতে আরমানকে জড়িয়ে ধরল। আরমান জানেনা হঠাৎ করে আরজুর কি হলো, কি কারণেই বা ওকে জড়িয়ে ধরল। তবে আরমানের ধ্যান ভাঙ্গার সঙ্গে সঙ্গে নিজেও পাল্টা আরজুকে জড়িয়ে ধরলো। এই মেয়ের বিশ্বাস নেই। যদি জড়িয়ে ধরতে দেরি করে তবে বলা যায় না হয়তো আবার রেগে মেগে ছেড়ে চলে যাবে। জড়িয়ে ধরা তো দূর কোনোদিন হয়তো একটু আঙ্গুল দিয়ে ছুঁতেও দেবেনা।
আরমান জড়িয়ে ধরতেই আরজু একটু প্রশ্রয় পেয়ে গেল। কেমন যেন একটা কান্নার সুরে বলল,
“তখন তো রাগের মাথায় বলে ফেলেছিলাম অনুষ্ঠানের কথা তবে এখন আমার অস্বস্তি হচ্ছে। আপনার পুরো পরিবার আসবে বিয়েতে, না জানি আরো কত মানুষকে আপনারা দাওয়াত দেবেন। অথচ আমার পরিবারের কেউ নেই, আমার পক্ষের কোন লোকজন নেই। আমার অস্বস্তি হবে আপনাদের সবার মাঝে। কত সুন্দর আপনার পরিবারটা। আমার নিজেকে সেখানে বেমানান লাগবে। চলুন না আমরা আবার পালিয়ে যাই এখান থেকে শহরে। এসব অনুষ্ঠানের দরকার নেই।”
আরমান ভরকালো পালানোর কথা শুনে। সেই সাথে আজ থেকে আরমানের এই বিষয়ে কোনো সন্দেহে রইলো না যে সে আসলেও একটা পা'গলী কে বিয়ে করেছে। না হলে কি আর এমন কথা বলে। যে মেয়েটা এক ঘন্টা আগেও বলল ধুমধাম করে বিয়ে করতেই হবে সে আবার নিজে এখন সেই বিয়েতে আপত্তি জানাচ্ছে। তবে এখন আর আপত্তি জানিয়ে লাভ নেই। আরমান কে যে করেই হোক আরজু কে মানাতে হবে। কালকে সবাই আসছে গ্রামে। এর মাঝে যদি আবার এসব কথা শোনে তবে বাকিরা আবার রেগে যেতে পারে। আর আরমানকে তো সব দিক সামলাতে হবে।
আরজুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদুরে গলায় বলল,
“কেন অস্বস্তি হবে আরু? এটা তো আপনারও পরিবার। আমার পরিবারের কেউই খারাপ না, কেউই আমাকে আপনাকে কষ্ট দিয়ে কোন কথা বলবে না। আর ধরুন যদি বলেও ফেলে আমি কি নেই? আমি কি ম'রে গেছি?”
আরমান কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে আরজু ওর বুক থেকে মাথা তুলে অগ্নিদৃষ্টিতে আরমানের দিকে তাকিয়ে বেশ শান্ত গলায় বলল,
“ম'রার কথা মুখে তুললে আমিই মে'রে ফেলবো। ছেড়ে যাওয়ার হলে বিয়ে করলেন কেন? আগেই বলে দিতেন যে সারা জীবন আমাকে ধরে রাখার ক্ষমতা আপনার নেই।”
“আরে পা'গলি ভুল বুঝলেন তো। মানে আমি আপনাকে বোঝাতে চাইছিলাম যে আমি তো আছি।”
আরজু শান্ত হলো। আবার আরমানের বুকে মাথা রেখে একটু কান্নার গলাতে বলল,
“আর যদি কেউ আমার পরিবারের ব্যাপারে কোন কথা তোলে আমি কি উত্তর দেব? যদি কেউ বলে আমার বাবা মার সাথে কথা বলবে আমি কি বলবো ?”
“আরে আরু, এ বিষয়ে কোনো চিন্তাই করতে হবে না। আমি কথা বলে নিয়েছি আপনার বাড়ির বিষয়ে, কোনো কথাই উঠবে না। আপনি আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন। আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।”
আরজু আবারো আরমানের বুক থেকে মাথা তুলে আরমানের দিকে তাকালো। এবার ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে বলল,
“আপনি খুব ভালো। আপনি আমাকে যতটা বোঝেন এতটা কেউ কখনো বোঝেনি। জানেন আমার খুব ভালো লাগে যখন আপনি আমার হয়ে কথা বলেন। যখন আপনি আমাকে ভরসা দিয়ে বলেন যে আপনি আছেন তখন আমার খুব ভালো লাগে।”
আরমান আলতো করে আরজুর কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
“সারা জীবন এভাবেই বলে যাব। শুধু মুখে বলব না, আপনার পাশে থেকে দেখাবো। না আপনি কখনো আন্দাজ করতে পারবেন, না আমি আপনাকে কখনো বোঝাতে পারবো আরু যে আমি আপনাকে কতটা ভালোবাসি। শুধু বলবো ভালোবাসি কথাটার কোন সীমা নেই আমার কাছে। আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা অসীম। আচ্ছা আপনি আমায় ভালোবাসেন না?”
হঠাৎ করে আরমানের কাছ থেকে এই প্রশ্নটা আরজু আশা করেনি। বলা যায় একদম অপ্রত্যাশিত একটা প্রশ্ন। ফলস্বরুপ হুট করে আরজুর ঠোঁটে ঝুলে থাকা হাসিটা কেমন যেন হাওয়ায় মিশে গেল। অদ্ভুত একটা অভিব্যক্তি ফুটে উঠলো আরজুর চোখে মুখে।
আরজু যেন নিজেও জানেনা এই প্রশ্নটার উত্তর। আরমান তো বলেছিল কিছু বৈশিষ্ট্যের দ্বারা এটা প্রমাণ হয় যে আরজু আরমানকে ভালোবাসে। তবে ভালোবাসার অনুভূতিটা আসলে হয় কেমন এটা আরজুর জানা নেই।
আরজু বোকা বোকা কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
“আচ্ছা আরমান, ভালোবাসার অনুভূতিটা হয় কেমন? আমি কখন বুঝবো যে আমি আপনাকে ভালোবাসি?”
আরজুর মাথাটা আরমান আবারও নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো। কোন এক গভীর অনুভূতির সমুদ্রে ডুব দিয়ে চোখ দুটো পরম আবেশে বন্ধ করে ঠোঁটে মুচকি হাসি ঝুলিয়ে বলল,
“ভালোবাসার অনুভূতিটা একদম আলাদা আরু। যখন দেখবেন হুট করে মনের মাঝে কারো একটা কথা মনে করে অস্থিরতা শুরু হয়ে গেল তখন বুঝবেন আপনি তাকে ভালোবেসে ফেলেছেন। যখন সেই মানুষটার উপর আপনি ধীরে ধীরে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন তখন বুঝবেন তাকে ভালোবেসে ফেলেছেন। তার থেকে পাওয়া খুব সামান্য অবহেলায় যখন আপনার বুক ফেটে কান্না আসবে তখন বুঝবেন আপনি তাকে ভালোবেসে ফেলেছেন। সেই মানুষটার ছোঁয়ায় যখন আপনি স্বস্তি পাবেন তখন ভাববেন তাকে ভালোবেসে ফেলেছেন। কারো চোখের দিকে তাকিয়ে যখন আপনি কোন এক অজানা জগতে হারিয়ে যাবেন, কারো ঠোঁটের হাসিতে যখন আপনার হৃদয় কেঁপে উঠবে, কারো কণ্ঠস্বরে যখন আপনি থমকে যাবেন তখন বুঝবেন আপনি সেই মানুষটাকে ভালোবেসে ফেলেছেন।”
আরজু আনমনে বলে উঠলো,
“আমার শুধু আপনার সাথে সময় কাটাতে ইচ্ছে করে। আমার ইচ্ছে করে আপনার কথা শুনতে। আমার আপনাকে রাগাতে ভালো লাগে, আমার আপনাকে বিরক্ত করতে ভালো লাগে। আমার সব সময় আপনার থেকে গুরুত্ব প্রয়োজন। আবার আপনার সাথে জেদ করতেও ভালো লাগে, আপনার সাথে বায়না করতেও ভালো লাগে। আপনার সাথে পালিয়ে বিয়ে করতেও ভালো লাগে।”
আরজুর শেষের কথাটা শুনে আরমান হেসে উঠে বলল,
“তাহলে আবার পালিয়ে বিয়ে করবেন নাকি?”
আরমান আশা করেছিলা আরমানের এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আরজুর পক্ষ থেকে এমন কিছু কথা আসবে যা শুনে আরমানের ভালো লাগবে। তবে তেমন কিছু হলো না। আরজু কন্ঠে একরাশ অনীহা সমেত বললো,
“আপনাকে আর কখনো বিয়ে করব না। একবার বিয়ে করেই ফেঁসে গিয়েছে। সেদিন যখন আপনাকে কল করে বললাম যে আজকে বিয়ে করবো আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আপনি আসবেন না। আপনি কখনো আমাকে বিয়ে করবেন না জানতাম আমি। তবে আপনি এলেন আর আমি ফেঁসে গেলাম। খুব বাজে ভাবে ফেঁসে গেলাম।”
আরমান এবারে হো হো করে হেসে উঠলো। বুকের সাথে মিশিয়ে রাখা আরজু কে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আরজুর চুলের ভাঁজে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল,
“ফেঁসে তো আমি গেছি আরু। আমার পা'গলির ভালোবাসায় আমি ফেঁসে গেছি। কি যে জাদু করলো আমার পা'গলিটা কে জানে! কেন যে এত ভালোবাসি পা'গলহটাকে জানি না। শুধু ইচ্ছে করে ভালোবেসেই যাই। কোন রাগ আসে না, কোন বিরক্তি আসে না শুধু ইচ্ছে করে ভালোইবেসে যাই। এতো ভালোবাসি, এতো ভালোবাসি তবুও আমার মন ভরে না। শুধু মনে হয় ভালোবেসেই যায়।”