“আপনি কিন্তু এটা বেআইনি কাজ করছেন অফিসার।”
আরমানের কথার প্রেক্ষিতে সাব ইন্সপেক্টর রফিকুল করিম গম্ভীর গলায় বললেন,
“আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না।”
আরমান রাগান্বিত গলায় বলল,
“অবশ্যই শেখাতে হবে। আপনি এখনো আমাকে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট দেখাতে পারেননি। অপরাধীকে অ্যারেস্ট করতে নিজেরাই গেছেন রাতের অন্ধকারে চোরের মতন। কাউকে জানাতে তো দিন আমায়। এতোটুকু অধিকার তো আমার আছে।”
রফিকুল করিম ব্যঙ্গাত্মক গলায় বললেন,
“মানুষ খু'ন করে এখন অধিকার দেখাতে আসছেন। আগে হুঁশ ছিল না?”
আরমানের মেজাজ চটে গেল। কোথায় ফেঁসে গেলো আরমান! এখন মনে হচ্ছে কাল রাতে কাকার বাড়ি থেকে না আসলেই ভালো হতো। তাওকীর কে তো ফোন করে বলেছিল তবুও এতক্ষণে আসছে না কেন ওরা। থাকতে পারছে না আরমান এখানে। দম বন্ধ লাগছে।
জেলে আরমানের সাথে আরো কয়েকজন আছে। ওদেরকে দেখে আরো অস্বস্তি হচ্ছে। সারাটা রাত এখানেই থাকতে হয়েছে।
বেশ কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করলো, রাগারাগি করলো। তবে রফিকুল করিম সেসবের উত্তর দিলেন না। এরই মাঝে ওনার ফোনটা বেজে উঠলো। ওখানে রিসিভ করলেন না। নিজের ডেস্কে গেলেন।
এই সুযোগে একজন কনস্টেবল এগিয়ে এলো আরমানের দিকে। আরমানকে আশ্বস্ত করে বলল,
“চিন্তা করবেন না স্যার, চলে আসবে আপনার বাড়ির লোক। আর আপনি এখন স্যারের সাথে বেশি চেঁচামেচি করবেন না।”
আরমান অসহায় গলায় বলল,
“আমি থাকতে পারছি না এখানে। আরেকবার ফোন করুন না। নাম্বার আছে তো আপনার ফোনে।”
কনস্টেবল বুঝলো আরমানের অসহায়ত্ব। তিনি আশ্বস্ত করে বললেন কল করবেন। তবে কলটা করতে পারলেন না। তার আগেই রফিকুল করিম তার নাম ধরে হাঁক ছাড়লো।
কনস্টেবল নিজেও অসহায় গলায় বললেন,
“মাফ করবেন স্যার। এখন সাহায্য করতে পারছি না।”
আরমান বুঝলো ওনার অসহায়ত্ব। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“যান আপনি।”
কনস্টেবল পলক সোজা এলেন রফিকুল করিমের কাছে।
“স্যার,বলুন।”
“কি এত কথা বলছিলেন ওনার সাথে, পলক সাহেব?”
পলক সাহেব একটু ভয় পেলেন। তবে খুব দ্রুত নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বললেন,
“না স্যার কিছু না। এমনিতেই।”
রফিকুল করিম আবারো কিছু বলতে চাইলো তবে তার আগেই থানায় চেঁচামেচি করতে করতে তানভীর ঢুকলো। তানভীর কে এত চেঁচামেচি করতে দেখে রফিকুল করিম নিজেও পাল্টা চেঁচিয়ে উঠে বললেন,
“এটা থানা, আপনার বাবার বাড়ি না। এভাবে চেঁচামেচি করছেন কেন?”
তানভীর হিংস্র গলায় বলল,
“এইটা তোর বাপের জায়গাও না যে তোর কথা শুনে আমায় চলতে হবে। আমার ভাই কোথায়? কোথায় রেখেছিস ওকে? যদি ওর গায়ে আমি একটা আঘাতের দাগ দেখেছি তবে তোকে তোর থানাতেই পুঁ'তে রেখে যাব।”
“এখানে তো আর এমনি এমনি কাউকে আনা হয় না। নিশ্চয়ই তোর ভাই কিছু কুকাজ করেছে জন্যই এনেছি।”
তানভীরের তুইতুকারির ফলে রফিকুল করিমও আর নিজের ভদ্রতার মুখোশটা পরে থাকতে পারলেন না। তানভীর পুনরায় হিংস্র গলায় বলল,
“আগে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট দেখা আমায়? কিসের ভিত্তিতে অ্যারেস্ট করেছিস ওকে বল? সারারাত যোগাযোগ করতে দিস নি কেন আমাদের সাথে?”
রফিকুল করিম এবার নিজের রাগ আর কোনোমতেই সংযত করতে পারলেন না। চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সজোরে টেবিলের ওপর একটা আঘাত করে সাবধানী গলায় তানভীর কে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“আর একটা বাজে কথা বললে ঘাড় ধরে তোকেও জেলের ভেতরে তুলে দেব। দুই ভাই মিলে তখন একসাথে বসে থাকবি। দুই মিনিট সময় দিচ্ছি বের হ এখান থেকে না হলে কিন্তু তুইও জেলে ঢুকবি।”
তানভীর ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
“আমাকে জেলে তোলার ক্ষমতা তোর কোনো বাপের নেই। এমপির ছেলেকে জেলে তুলবি এত সাহস! তুই তোর নিজের কথা ভাব যে তোর কি হবে। চাকরি তো তোর গেলই জীবন থাকে কিনা সেটা ভাব।”
তানভীর আর কিছু বলার আগেই সেখানে মুহিব হোসেন আর তাওকীর এলেন। সঙ্গে এসেছে ওনার আইনজীবী আর দেহরক্ষীরা।
মুহিব হোসেনকে না চেনার কোনো কারণ নেই। এই এলাকার এমপি। তবে হঠাৎ ওনার আগমনের কারণটা বুঝতে পারলেন না। তবে এত কিছু ভাবার এখন সময় নেই। মুহিব হোসেন আসতেই রফিকুল করিম সালাম দিলেন।
মুহিব হোসেন সেসবে পাত্তা না দিয়ে সরাসরি গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করলেন,
“কিসের ভিত্তিতে অ্যারেস্ট করা হয়েছে আমার ছেলেকে?”
রফিকুল করিম একটু চমকালেন। বুঝলেন সামনে দাঁড়ানো তানভীর সত্যি এমপির ছেলে। তবে এখন পর্যন্ত তো উনি তানভীরের গায়ে হাত দেননি, জেলে তোলা তো দূরের কথা। তাহলে অযথা এই অপবাদটা দিচ্ছেন কেন? এমপির ছেলে কে গ্রেফতার করলে তো জানতেন।
যেহেতু ওনার সাথে তেজ দেখিয়ে কথা বলা যায় না তাই কন্ঠ নরম করে মিনমিনে গলায় বললেন,
“স্যার আমি তো আপনার ছেলেকে অ্যারেস্ট করিনি। ওনার গায়ে হাতও দেইনি।”
মুহিব হোসেন গর্জে উঠে বললেন,
“তাওসিফ আরমান আমার ছেলে। কে কেস করেছে ওর নামে? অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট বের করুন।”
গলাটা শুকিয়ে গেল রফিকুল করিমের। ওনাকে তো আগে জানানো হয়নি যে আরমান এমপির ছেলে। ওনাকে এতটুকু বলা হয়েছিলো যে আরমান সাধারণ ছাত্র নেতা। আর তাছাড়া ওনাকে তো আশ্বস্ত করা হয়েছিল যদি কোন ঝামেলা হয় তারা সামলে নেবে। ওনার চাকরির কিংবা জীবনের কোন ঝুঁকি নেই। কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে ওনার বাঁচা মুশকিল করে দেবে এই এমপি। চাকরি না হয় যাক তবে জীবন নিয়ে টানাটানি করলে তো সমস্যা।
রফিকুল করিমের থেকে কোন উত্তর না পেয়ে মুহিব হোসেন পুনরায় গর্জে উঠে বললেন,
“কি হলো অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট দেখান।”
রফিকুল করিম আমতা আমতা করে বললেন,
“স্যার ওনাকে তো আমরা অ্যারেস্ট করিনি। শুধু জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।”
“কি এমন গুরুত্বপূর্ণ কেস যার জন্য মাঝরাতে তুলে আনতে হয়েছে। আবার ওনাকে কারো সাথে যোগাযোগও করতে দেননি। এটা বেআইনি জানেন না?”
কথাটা এবারে মুহিব হোসেনের আইনজীবী বললেন।
দমলে চলবেনা। রফিকুল করিম তাই আবারো বলল,
“জরুরী ভিত্তিতে ওনাকে জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য আনা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুজন আসামি জানিয়েছেন যে উনিও জড়িত আছেন।”
তাওকীর, তানভীর আর মুহিব হোসেন তিনজনের কপালেই সুক্ষ্ম ভাঁজ পড়লো। তাওকীর চুপ ছিল এতক্ষণ। যেহেতু মুহিব হোসেন কথা বলছে এর মাঝে ওর কথা না বলাই ভালো হবে ভেবে। তবে এবার আর চুপ থাকতে পারলো না। প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলো,
“কাকে মার্ডারের কেস এটা?”
“জামাতের নেতা আব্দুস সালাম। দুদিন আগে ওনাকে মার্ডার করা হয়েছে সেই ঘটনার ভিত্তিতে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা জানিয়েছে এই ঘটনার পেছনে তাওসিফ আরমানের হাত রয়েছে।”
কথাটা বলে রফিকুল করিম এবারে মুহিব হোসেনের দিকে তাকিয়ে আবারও মিনমিনে গলায় বললেন,
“স্যার বুঝতেই পারছেন এটা গুরুত্বপূর্ণ একটা কেস। ওপর মহল থেকে চাপ আসছিলো। আবার সাক্ষীরাও সাক্ষ্য দিয়েছে ওনার বিরুদ্ধে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনতেই হতো।”
“কে সাক্ষ্য দিয়েছে? প্রয়োজনের সাক্ষীরা থাকবে না তবুও আমার ছেলে জেলে থাকবে না। আর আপনার ওপর মহল আসছে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা যেহেতু আমার ছেলেকে অ্যারেস্ট করা হয়নি তবে ও কোথায়? দেখতে পাচ্ছি না কেন এখানে?”
এবারে পড়লেন রফিকুল করিম মহা বিপাকে। কি উত্তর দেবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তবু উত্তর তো দিতেই হবে।
“আসলে স্যার, ওনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য লকাপে রাখা হয়েছে।”
“কখন থেকে?”
“গতকাল রাত থেকে?”
মুহিব হোসেন হাসলেন। ওনার সেই হাসিটা দেখে রফিকুল করিম ভীষণ ভয় পেল। যেন হাসির মাধ্যমে ওনাকে সাবধান করে দিলেন মুহিব হোসেন। হয়তো হুমকিও দিলেন। মুহিব হোসেন কে আর কিছু বলতে হলো না। ওনার পাশে দাঁড়ানো আইনজীবী বলে উঠলো,
“শুধুমাত্র গ্রেফতার না করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আপনি কাউকে লকাপে রাখতে পারেন না। অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট নেই অথচ বেআইনিভাবে আপনি ওনাকে জেলে রেখে দিয়েছেন। ভাবতে পারছেন এর শাস্তি কি হতে পারে? এই মুহূর্তে ওনাকে সসম্মানে ছেড়ে দিন। আর আপনার ব্যবস্থা পরে করা হবে।”
রফিকুল করিম তাড়াহুড়ো গলায় বললেন,
“এখনই আনার ব্যবস্থা করছি ওনাকে। কনস্টেবল নিয়ে আসুন ওনাকে।”
মুহিব হোসেন আপত্তি জানিয়ে বলল,
“উঁহু। আপনি গিয়ে নিয়ে আসবেন ওকে।”
একবারের জন্যও রফিকুল করিম দ্বিমত পোষণ করলেন না। সঙ্গে সঙ্গে আরমান কে আনতো গেলেন। ওনার পেছন পেছন তানভীর আর তাওকীরও গেল।
কনস্টেবল এসে একটু আগে আরমান কে খবর দিয়ে গিয়েছিল যে ওর বাড়ির লোক চলে এসেছে। আরমান হাসফাঁস করেছিল শুধু সবাইকে দেখার জন্য। এতক্ষণে তানভীর আর তাওকীর কে দেখে শান্তি পেল। তাড়াতাড়ি বেরোনোর জন্য উতলা হয়ে উঠলো।
জেল থেকে বেরোতেই আরমান সোজা গিয়ে আগে তাওকীর কে জড়িয়ে ধরল। আরমান জানতোই ওকে বেশিক্ষণ এখানে আটকে রাখতে পারবে না। সেই আত্মবিশ্বাস তো ছিল। তবে এতোটুকু সময় জেলের ভেতর থাকতেই বিরক্ত লাগছিলো।
এই প্রথমবার জেলে ঢুকলো আর জেলের অনুভূতিটাও ভীষণ বাজে। তার উপরে আবার রফিকুল করিমের বাজে ব্যবহার। নিশ্চয়ই এতক্ষণে সবাই জেনে গেছে যে আরমান জেলে ঢুকেছে। কেমন একটা অসম্মানজনক ব্যাপার।
ভার্সিটিতে গেলে এখন একে একে এসে সবাই জিজ্ঞেস করবে কেন জেলে গিয়েছিল, ছাড়া পেলো কি করে, সত্যি কোনো অপরাধ করেছিল নাকি ক্ষমতার জোর দেখিয়ে বেরিয়ে পড়লো। ব্যাপারগুলো মনে হতেই ভীষণ বিরক্ত লাগছে আরমানের।
আরমান তো সবসময় সম্মানের সাথে রাজনীতি করতে চেয়েছে। প্রত্যেকটা পদক্ষেপ এই সম্মানের জন্য ভেবেচিন্তে নিয়েছে। অথচ আজ কি থেকে যে কি হয়ে গেল। কে যে ফাঁসিয়ে দিল কিছুই বুঝতে পারছে না আরমান।
তাওকীর বুঝতে পারলো ব্যাপারটা। পাল্টা জড়িয়ে ধরে বলল,
“কিচ্ছু হয়নি। ক্ষমতার জোর দেখিয়ে না, তুই নির্দোষ বলে তোকে বের করেছি।”
আরমান তাওকীর কে ছেড়ে দিয়ে কটমটে দৃষ্টিতে রফিকুল করিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ক্ষমতার জোর তো এবারে দেখাতে হবে তাওকীর ভাই। উনি আমাকে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট না দেখিয়েই গ্রেফতার করেছেন, সারারাত তোমাদের কারো সাথে যোগাযোগ করতে দেয়নি। আমি একজন কনস্টেবল এর থেকে ফোন নিয়ে তোমায় কল করেছিলাম। ওনার প্রত্যেকটা কাজ বেআইনি ছিল। আইনিভাবে তো ওনাকে শাস্তি দিতে হবেই সেই সাথে আরো অনেক ভাবে ওনার ব্যবস্থা করতে হবে।”
আরমানের কথা শুনে ওর পাশে দাঁড়ানো তানভীর ব্যাঙ্গাত্মল গলায় বলে উঠলো,
“কি রে অফিসার, এবার তোর কি হবে। তুই নাকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছিলি, তাহলে ওকে কেন বলেছিস যে গ্রেফতার করেছিস? দাঁড়া বাবাকে গিয়ে বলছি এখনই।”
কথাটা বলে তানভীর আগে আগে চলে গেল, ওর পিছনে আরমান আর তাওকীর গেল।
আরমান কে দেখতেই মুহিব হোসেন আগে ওকে জড়িয়ে ধরলো। আদুরে গলায় বলল,
“তুমি ঠিক আছো বাবা? তোমার গায়ে হাত দেওয়ার দুঃসাহস তো করেনি কেউ?”
“না বড় আব্বু। চিন্তা করোনা আমি ঠিক আছি।”
“আমি কি আসতে খুব বেশি দেরি করে ফেললাম বাবা আসতে? খুব বেশি কষ্ট হয়েছে কি তোমার?”
আরমান আলতো হেসে বলল,
“তোমাদের দেখেই আমার সব খারাপ লাগা শেষ হয়ে গেছে। আমি ভালো আছি বড় আব্বু।”
এদিকে রফিকুল করিম এখন কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। আরমানরা চলে যেতেই পকেট থেকে ফোনটা বের করে এই পুরো ঘটনাটা যার ইশারায় হয়েছে তাকে ফোন করলেন।
অপর পাশ থেকে ফোনটা রিসিভ হতেই রফিকুল করিম আতঙ্কিত গলায় বলে উঠলেন,
“স্যার, আপনি তো আমায় বলেননি উনি এমপির ছেলে। আগে জানলে তো আমি এই সবে জড়াতাম না। আপনি তো বলেছিলেন সাধারণ ছাত্রনেতা। এখন তো হুমকি দেওয়া শুরু করেছে। চাকরি তো থাকবে না সেটা বুঝতেই পারছি, মনে হচ্ছে জীবনটাও থাকবে না। বাঁচান আমাকে।”
রফিকুল করিম বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে ওনাকে বাঁচানো হবে। এমনটাই তো ওনাকে বলা হয়েছিল। তবে তেমন কিছুই হলো না। বরং অপর পাশ থেকেও তার জন্য ভেসে এলো হুমকি।
“ওদের হাত থেকে বেঁচে গেলেও যেতে পারিস। তবে যদি ভুলেও আমার নাম নিয়েছিস তবে বাঁচার কোন সম্ভাবনা নেই। তুই তো ম'র'বি সেই সাথে তোর পুরো পরিবারকে জ্যান্ত ক'ব'র দেব। আর একটা কথা যে দুটো ছেলে আরমানের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছে যদি প্রয়োজন পড়ে ওদেরকেও শেষ করে দিবি। মুখ দিয়ে যেন আমার নাম না বের হয়।”
ভয়ে অন্তরাত্মা শুকিয়ে গেল রফিকুল করিমের। এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। উনিতো সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন তবে এখন তো মনে হচ্ছে বিপদ আরো বাড়ল।
অনুরোধের স্বরে কিছু একটা বলতে চাইলেন তবে খেয়াল করলেন ফোনটা ইতোমধ্যে কেটে দিয়েছে অপর পাশ থেকে। উনি আবার কল করলেন সেই নাম্বারে তবে রিসিভ হলো না। আবার কল করলে নাম্বারটা বন্ধ পেলেন।কেমন যেন পা'গল পা'গল লাগছে নিজেকে।
এখন উনি কি করবেন? ওনার এসব ভাবনার মাঝেই কনস্টেবল এসে হাঁপানো গলায় রফিকুল করিম কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“স্যার তাড়াতাড়ি চলুন। ডিআইজি স্যার এসেছে।”
রফিকুল করিমের চোখ দুটো মার্বেল এর আকার ধারন করলো। চিৎকার করে উঠে বললেন,
“কি বলছেন এইসব? ডিআইজি স্যার কেন আসতে যাবেন?”
“এমপির পরিবারে হাত দিয়েছেন ডিআইজি আসবে এটাই তো স্বাভাবিক। ঘুষ নিবেন ভালো কথা স্যার, একটু বুঝেশুনে তো নেবেন। এখন তাড়াতাড়ি চলুন।”
কোন কিছু ভাবার কিংবা দেরি করার আর সুযোগ নেই। ছুটেই গেলেন রফিকুল করিম। ডিআইজিকে দেখামাত্র ঠিকঠাক হয়ে দাঁড়িয়ে স্যালুট দিলেন।
“সালাম স্যার।”
নওশাদ হোসেন এগিয়ে এসে গম্ভীর গলায় বললেন,
“তাওসিফ কে বলেছেন গ্রেফতার তাও আবার অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ছাড়া। আবার ফ্যামিলিকে বলেছেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবার লকআপে তুলেছেন একজন সম্মানিত এমপির ভাতিজাকে? বুদ্ধি কি মাঠে ঘাস খেতে গেছে আপনার?”
শেষের কথাটা এতটাই জোরে বললেন যে রফিকুল করিম কেঁপে উঠলেন। তোতলানো গলায় বললেন,
“না স্যার। আসলে হয়েছেটা কি..... "
“শাট আপ। দায়িত্বে অবহেলা করার জন্য আপনাকে সাসপেন্ড করা হলো। তদন্ত করা হবে আপনার বিরুদ্ধে। চাকরিটাকে ছেলে খেলা পেয়েছেন? ভেবেছেন যা ইচ্ছে তাই করবেন ক্ষমতা হাতে পেয়ে?”
রফিকুল করিম নিজের হয়ে কিছু বলতে চাইলেন। তবে ওনাকে সেই সুযোগও দিলেন না নওশাদ হোসেন। উনি আর কোন কিছু বলারই প্রয়োজন মনে করলেন না রফিকুল করিমকে।
ওনার সাথে আসা মহিন হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“এত দেরিতে জানালি কেন আমায়? রাতে জানালেই তো আর এতক্ষন থাকতে হতো না তাওসিফ কে এখানে।”
“আরে আমিই তো জানতাম না। এই অফিসার কিছু জানাতে অব্দি দেয়নি।”
নওশাদ হোসেন আরেকবার আড় চোখে তাকালেন রফিকুল করিমের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে উনি নিজের দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন। নওশাদ হোসেন এবারে আরমানের পিঠ চাপড়ে বলল,
“এই ঘটনাটা ভুলে যাও ইয়াং ম্যান। রাজনীতিতে যখন নেমেছো এমন দু একবার জেলে উঠবেই। ভাববে তুমি ভালো কাজ করছ সেজন্যই তোমার শত্রু বেড়েছে। আর যদি কখনো কোন প্রয়োজন হয় আমাকে জানাবে। তোমার কাকা আর আমি খুব ভালো বন্ধু। তোমার পরিবারের সবাই আমাকে চেনে।”
“ঠিক আছে আঙ্কেল জানাবো। ধন্যবাদ আপনাকে সাহায্য করার জন্য।”
________
আরমান জেলে আছে সেই খবর পাওয়ার পর আরজু কোনমতেই আর বাড়িতে থাকতে পারেনি। জেবার মানা করা সত্ত্বেও বেরিয়েছে। অবশ্য একা বেরোয়নি, মুনতাসির কে কল করেছিল। ওর সাথেই থানায় এলো। মুনতাসিরও জানতো না এই খবরটা। আরজুর থেকে জেনেছে।
থানায় এসে ওদের আর থানার ভেতরে যাওয়ার প্রয়োজন হলো না। তার আগে আরমানকে বের হতে দেখলো। আরজু সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যেতে ধরলো, তবে আবার থেমেও গেল। আরমানের সাথে অনেক মানুষজন। এদের মধ্যে তাওকীর আর তানভীর কে চেনে আরজু্। মহিন হোসেন কেও চেনে তবে আরেকজন আছে সাথে তাকে আরজু চিনতে পারল না।
মুনতাসির কে দেখিয়ে বলল,
“উনি কে ভাইয়া?”
“আমাদের এলাকার এমপি। আরমান ভাইয়ের বড় আব্বু।”
আরজু ছোট্ট করে উত্তরে বলল,
“ওহ্।”
মুনতাসির ডাকতে চাইলো আরমানকে, এগিয়ে গিয়ে দেখাও করতে চাইলো তবে আরজু বাধা দিল। এমনকি ডাকতেও দিল না। আরমানও আজ খেয়াল করল না। এবং আরজু মুনতাসির কে নিয়ে এমন জায়গায় দাঁড়ালো যেন আরমান দেখতে না পায়। মুনতাসির বুঝতে পারল না আরজুর এমন কাজের মানে।
পরপর দু তিনটে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। মুহিব হোসেনের আশেপাশে বেশ কয়েকজন লোকও ঘিরে আছে, ওনার দেহরক্ষী। ব্যাপার-স্যাপারই আলাদা। আরজুর মনে হলো খুব বেশি অসুবিধা হয়নি আরমানের জেলে। আবার এত তাড়াতাড়ি ছাড়াও পেয়ে গেল।
আরজু জানতো না এতদিন যে আরমানের পরিবারে একজন এমপিও আছে। আরজুর মনে হলো এখানে ওর প্রয়োজন নেই। আরমানের প্রয়োজন নেই আরজু কে।
কিইবা করতে পারবে আরজু! সমবেদনাও তো জানাতে পারবে না। অযথা গিয়ে কোন লাভ নেই। আরমান অনেক বড় পরিবারের ছেলে, অনেক বড় বড় মানুষের সাথে ওর ওঠাবসা। এইতো এখন আশেপাশে কত বড় মাপের মানুষ ঘিরে ধরে আছে ওকে।
“দেখা করলে না কেন আরজু?”
আরজু মলিন হেসে বলল,
“ওখানে আমাদের প্রয়োজন নেই ভাইয়া। আপনি আর আমি সাধারণ মানুষ। কি করব ওখানে গিয়ে বলুন?”
“তাই বলে দেখা করবে না?”
“করবো তো। এখন উনি হচ্ছেন ভিআইপি মানুষ। এমপির ভাতিজা। যখন উনি আবার সাধারণ মানুষ হয়ে আমার সামনে আসবেন তখন ওনার সাথে কথা বলবো। আমার অস্বস্তি হয় এত বড় মাপের মানুষদের সাথে কথা বলতে।”
_________
অনেক চেষ্টা করেও মুহিব হোসেন নিজের সাথে আরমানকে নিয়ে যেতে পারলেন না। তাওকীরও অনেক চেষ্টা করলো, এমন কি তানভীরও অনেক বার করে বলল তবে তাও আরমান গেল না। কারণ জিজ্ঞেস করলে ওনাদেরকে কিছু বলল না। তবে মহিন হোসেন ঠিকই বুঝতে পারলেন কারণটা। কেননা একটু আগেই আরমান ওনাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে আরজু জানে কিনা এ ব্যাপারে। এতক্ষণে জেনে যাবে যে এটাই স্বাভাবিক।
আরমান জানে এখন যদি ও মুহিব হোসেনের বাড়িতে যায় তবে বাকি সবাই ওর সাথে দেখা করতে আসতে পারলেও আরজু পারবেনা। আর আরজু যে আরমানকে নিয়ে চিন্তা করছে এটা আরমান জানে। তবে মেয়েটা সেসব বলবেও না। হয়তো নিজ থেকে একটা কল করে জিজ্ঞাসাও করবে না যে আরমান ঠিক আছে কিনা। সেজন্য আরমান ভাবলো নিজেই যাবে।
তাওকীররা চলে গেল। তানভীর আরমানের সাথে আসতে চাইলো তবে তাও আসতে দিল না।
ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে। ব্যাক সিটে আরমান আর মহিন হোসেন বসলো। সারারাত ঘুম হয়নি আরমানের। ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। গায়ে মনে হচ্ছে ধুলোবালি লেগে গেছে, যার ফলে আরো বিরক্ত লাগছে। বাড়ি গিয়ে আগে গোসল করবে না হলে আরমানের শান্তি হবে না।
মহিন হোসেনের কাঁধের উপর মাথাটা এলিয়ে দিল। মহিন হোসেন মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
“তোকে আর কখনো জোর করে বের করে দেবো না আমার বাড়ি থেকে। কাল রাতে আমি আমার বাড়িতে থাকতে দিলে এমনটা হতো না। আমার বাড়িতেই থাকিস বাবা। আর কখনো তোকে এমন কিছু বলবো না। আর পারলে আমায় ক্ষমা করে দিস।”
আরমান আলতো হেসে বলল,
“তোমার ওপরে রাগ করেছি নাকি আমি যে ক্ষমা করে দেবো? আমি নিজেও থাকতাম না কাল রাতে।”
“তুই না থাকলে সে আলাদা কথা ছিল কিন্তু আমি তো তোকে থাকতে দেইনি। তোর কাকি দেখিস বাড়িতে গেলে আমার সাথে কথাই বন্ধ করে দেবে।”
“চিন্তা করো না আমি বুঝিয়ে বলব কাকি কে। আমার জন্য তোমার সাংসারিক জীবনে কোন অসুবিধা হবে না। আমি জানি তুমি তোমার বউয়ের সাথে কথা না বলে থাকতে পারবে না।”
মহিন হোসেন একটু লজ্জা পেয়ে গেলেন। আর কোন কথা বাড়ালেন না। বুঝতে পারলেন এই ছেলে ঠোঁট কাটা স্বভাবের হয়ে গেছে। কখন কি বলে দেবে উনি নিজেই লজ্জা পেয়ে যাবেন।
________
আরমান কে নিয়ে বাড়ি ফিরতেই জেবা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। খুশিতে তো কেঁদেই ফেললেন। ওনার কান্না থামাতে আরমানের বেশ অনেকটা সময় লেগে গেল। কান্না থামতেই আরমানের গালে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদুরে গলায় বললেন,
“তুমি ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হও। আমি তোমার জন্য তোমার পছন্দের খাবার গুলো রান্না করেছি। যাও বাবা ফ্রেশ হয়ে এসো।”
“কাকি আরু কোথায়? ওকে দেখছি না যে?”
“আরজু তো বেরিয়েছিল। ও বলেছিল থানায় যাবে।”
“ও তো যায়নি।”
“গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার ওখানে দরকার ছিল না জন্য দেখা করিনি আপনার সাথে।”
পিছন থেকে আরজুর কন্ঠটা ভেসে এলো। আরমান পিছন ফিরে তাকাতেই দেখল দরজায় দাঁড়িয়ে আছে আরজু। স্যান্ডেল খুলে ভিতরে এলো।
“গিয়েছিলেন তবে দেখা করেননি কেন? আর একা একা গিয়েছিলে কেন আরু?”
“মুনতাসির ভাইয়াকে নিয়ে গিয়েছিলাম। আর বললাম তো ওখানে আমার কোন প্রয়োজন ছিল না সেইজন্য দেখা করিনি আপনার সাথে। আমি তো আপনার সাথে দেখা করে কোন সাহায্য করতে পারতাম না। আপনি জানেন আপনাকে সহানুভূতিও জানাতে পারতাম না, সান্ত্বনাও দিতে পারতাম না। আর আপনাকে জেল থেকে বের করার ক্ষমতা তো নেই। তবে দেখা করে কি করতাম? বরং তেমন পরিবেশে যদি কেউ আপনাকে সাহায্য করতে না পেরে অযথা দেখা করতে যেত তবে আপনার রাগই হতো হয়ত।”
“এই চিনলেন আমাকে আরু?”
আরজু আলতো হেসে বলল,
“যান ফ্রেশ হয় নিন। আমিও ঘরে যাই।”
কথাটা বলে আরজু সোজা নিজের জন্য বরাদ্দ ঘরটাতে চলে গেল। আরজুর ব্যবহারটা উপস্থিত তিনজনের কাছেই বেশ অদ্ভুত লাগল। তবে জেবা আর মহিন হোসেন খুব একটা বেশি পাত্তা দিলেন না সেদিকে। জেবা চলে গেলেন রান্নাঘরে, মহিন হোসেন চলে গেলেন নিজের ঘরে। কথামতো আরমানেরও নিজের ঘরে চলে যাওয়ার কথা ছিল ফ্রেশ হওয়ার জন্য, তবে আরমান গেল না। আরমান গেল আরজুর ঘরে।
গিয়ে দেখলো আরজু চুপচাপ বসে আছে বিছানার উপর। আরমান ঘরে গিয়ে দরজাটা আস্তে ধীরে বন্ধ করলো যেন শব্দ না হয়। শব্দ হলে আবার মহিন হোসেন কিংবা জেবা জেনে যেতে পারে তখন ব্যাপারটা একটু অস্বস্তিকর লাগবে।
আরজু টের পেল তবে আরমানকে দরজা বন্ধ করতে দেখেও কোন প্রশ্ন করল না। চুপচাপ নিজের জায়গায় বসে থাকলো। আরমান সরাসরি আরজুর পাশে বসলো।
“কিছু কি হয়েছে আরু?”
আরজু বেশ স্বাভাবিক গলাতেই বলল,
“না তো। কি হবে?”
“ও আচ্ছা।”
আরমানের মনে আর কোন প্রশ্ন নেই তবে ইচ্ছে করছে না এখান থেকে যেতে তাই বসে রইল কিছুক্ষণ। একটু পরে আরজু বলে উঠলো,
“কেন গ্রেফতার করেছিল আপনাকে?”
আরজুর এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আরমানের একটু চিন্তা হলো। কি বলবে, কি উত্তর দেবে আবার যদি আরজু ভুল বুঝে যায়। আরজু কি বুঝবে যে আরমানকে ফাঁসানো হচ্ছে? আরমানকে চুপ করে থাকতে দেখে আরজু নিজেই বলে উঠলো,
“মুনতাসির ভাইয়ের থেকে শুনেছি কারণটা। ভুল বুঝিনি আপনাকে। তারপরও আপনার মুখ থেকে শুনতে ইচ্ছে করছিল জন্য প্রশ্নটা করলাম। থাক আর উত্তর দিতে হবে না। অন্য একটা প্রশ্ন করি?”
“করুন।”
“শুনেছি পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে নাকি মা'রে, আপনাকে কি মে'রে'ছে?”
আরমান পাল্টা প্রশ্ন করলো,
“আমাকে মা'রলে আপনার কষ্ট হবে?”
“কষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। যে কাউকে মা'রা'র কথা শুনলেই কষ্ট হবে, তার মাঝে আপনি তো নির্দোষ।”
“না মা'রেনি। এবার আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন তো, আপনি কি কোন কারণে রেগে করে আছেন আমার উপরে? দেখা করলেন না কেন?”
আরজু হাসলো। তৎক্ষণাত উত্তর দিল না আরমানের প্রশ্নের। আরমান আরজুর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করলো। বেশ অনেকটা সময় আরমানের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়ার পর আরজু বলে উঠলো,
“আপনি অনেক বড় বাড়ির ছেলে আরমান। আমার মতন একটা মেয়েকে কেন ভালোবাসলেন বলুন তো? আমার পরিবারের ঠিক নেই, বাড়ি ঘরের ঠিক নেই, আমার নিজের ঠিক নেই, তার ওপর আবার নতুন করে জানলেন আমি সন্ত্রাসীর মেয়ে। আপনার পরিবার অনেক সম্মানীয়। আপনার পরিবার যদি আমার ব্যাপারে জানতে পারে তবে কখনোই কিন্তু মেনে নেবে না। আমার পেছনে পড়তে গেলেন কেন? কষ্ট পাবেন তো।”
আরমান এবার একটু একটু বুঝতে পারছে ব্যাপারটা। আরজু আরমানের উপর রাগ করেনি বরং আরজু আছে চিন্তায়। আরজু কে এই কথাটা ভীষণ ভাবাচ্ছে যে আরমান কি করে আরজু কে ভালোবেসে ফেলল? কি করে ভালোবেসে ফেললো সেটা তো আরমান নিজেও জানে না। তবে ভালোবেসে ফেলেছে। আর যেহেতু ভালোবেসেছে তবে ছাড়ার তো প্রশ্নই আসছে না।
আরমান আজ আবারও খাট থেকে নেমে দু হাঁটু গেড়ে মেঝেতে আরজুর সামনে বসলো।আরজুর হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
“আপনার আমার ভালোবাসার মাঝে উঁচুনিচু বিভেদ কোনদিন আসতে পারবে না আরু। আপনার একবার বলাতে আমি সব ছেড়ে দেবো। সব মানে সব।”
“যেমন?”
“আমার জীবনে বিদ্যমান যা কিছু আপনার অস্বস্তির কারণ হবে সেই সবকিছু ছেড়ে দেব। যা কিছু আমার আপনার ভালোবাসার মাঝে বাধা তৈরি করবে সেই সব ছেড়ে দেব। যে বা যারা আমার আরু কে ছোট করার চেষ্টা করবে তাদের অস্তিত্ব নিঃশেষ করে দেব এই পৃথিবী থেকে।”
“রাজনীতি ছাড়তে পারবেন আমার জন্য যেটা আপনার রক্তের সাথে মিশে আছে?”
“দিলাম ছেড়ে। আপনি চাইছেন তো, বেশ। আজ এই মুহূর্তে আমি আপনাকে কথা দিলাম ছেড়ে দেব রাজনীতি। শুধু এই ঝামেলাটা শেষ করতে হবে।”
আরজু বিস্ময় ভরা কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
“কতটা ভালোবাসেন আমায় যে সব ছেড়ে দিলেন আমার জন্য?”
আরমান আলতো হেসে বলল,
“সব যখন ছেড়েই দিলাম তাহলেই ভাবুন কতটা ভালোবাসি আপনাকে। বলেছি তো আরু সব করবো আপনার জন্য। শুধু আপনি আমার হয়ে থাকুন আজীবন।”