আরজুদের গ্রামে ঢুকতেই আরমান বাইক থামালো। হঠাৎ করে বাইক থামানোর কারণটা আরজু ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না। ফলস্বরূপ প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,
“থামলেন কেন? আমরা তো এখনো পৌঁছাইনি। আরো দশ মিনিটের মতন সময় লাগবে যেতে।”
আরমান ঘাড় কাত করে আরজুর দিকে তাকিয়ে বলল,
“আচ্ছা ফিরোজ কি সত্যি সন্ত্রাসী? মানে ওর কি দল বল আছে, দলের অনেক লোকজন আছে?”
আরজু উপর-নিচ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর জানিয়ে বলল,
“হ্যাঁ সত্যি সন্ত্রাসী। ও অনেক ধরনের অনৈতিক ব্যবসার সাথে জড়িত। কার সাথে যেন মা'রা'মা'রি করতে গিয়ে আহত হয়েই তো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই ভাই।”
আরমান বেশ কিছুক্ষণ ভাবনা চিন্তা করে আরজু কে বলল,
“আপনার ওড়নাটা দিয়ে মুখটা ঢেকে নিন। আমায় তো কেউ চিনবে না, কিন্তু আপনাকে চিনলে সমস্যা আছে।”
আরমানের কথার গুরুত্ব বুঝতে পেরে আরজু তাই করল। এই সুযোগে আরমান পকেট থেকে ফোনটা বের করে মহিন হোসেনের নাম্বারে কল করল। প্রথমবার তিনি কলটা রিসিভ করলেন না। আরমান ঘড়িতে সময়টা দেখে নিল। সময় তখন রাত একটার কাছাকাছি। ফোন রিসিভ না করাটাই এখন স্বাভাবিক।
আরমান সময় ব্যয় না করে আরো একবার ফোন দিল। এবারে কলটা রিসিভ হলো। অপর পাশে থেকে ঘুমুঘুমু কন্ঠে মহিন হোসেন বলে উঠলেন,
“এত রাতে কেন জ্বা'লাতে ফোন করেছিস? কোন ঝামেলা করেছিস নাকি?”
আরমান তাড়াহুড়ো গলায় ফিসফিস করে বলল,
“আমি তোমাকে আমার লোকেশন পাঠাচ্ছি। কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার নাম্বারে কল করবে। যদি দেখো ফোন বন্ধ পাচ্ছো তবে লোক-জন নিয়ে এখানে চলে এসো। মানে বলতে চাইছি পুলিশ নিয়ে। আমার খোঁজ না পেলে এখানে চলে আসবে ঠিক সময়। না হলে কিন্তু মা'রাও পড়তে পারি।”
মুহূর্তের মাঝে মহিন হোসেনের চোখ থেকে ঘুম উড়ে গেল। শোয়া থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসে আতঙ্কিত গলায় আরমানকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“কোথায় গিয়েছিস তুই?”
“বললাম তো লোকেশন পাঠাচ্ছি তোমায়।”
“শুধু ঠিকানা জেনে আমি কি করবো। কোথায় গিয়েছিস, কার সাথে গিয়েছিস, কি কাজে গিয়েছিস সেসব আমায় ডিটেলসে বল? সঙ্গে কেউ আছে নাকি একা গিয়েছিস?”
“আরু আছে।”
“তুই একটা মেয়েকে নিয়ে এত রিস্কি জায়গায় গিয়েছিস কোন আক্কলে? মেয়েটার সেফটির দায়িত্ব কে নেবে?”
“ওর সেফটির দায়িত্ব আমার, আর আমার সেফটির দায়িত্ব তোমায় দিলাম। এত কথা বলার সময় নেই, যা বললাম মনে রেখো। আর এখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ো।”
মহিন হোসেন তেঁতে উঠে ঝাঁঝালো গলায় বললেন,
“এমন একটা সংবাদ দিয়ে ঘুমোতে বলছিস? বেয়াদব কোথাকার। আমাকে ঠিক করে বল তাওসিফ কোনো বিপদের মাঝে পরিস নি তো? আমি কি এখনই যাবো? নাহলে ওখানকার থানায় কল করি?”
“এখনো এমন কিছু হয়নি কাকা যে এমপি মন্ত্রী কে ডাকতে হবে। যা বললাম শুধু সেটুকু করো। ফজরের সময়ই ফোন দিও। বেশি দেরি করলে আবার সমস্যা আছে। জানাযার সময় খোঁজ নিয়ে আর কি করবে তাই না? রাখছি। এখন আর কল করলেও রিসিভ করব না। সুতরাং কল দিয়ে লাভ নেই, চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ো।”
কথাটা বলে আরমান ফোনটা কেটে দিয়ে সাইলেন্ট করে আবার পকেটে ঢুকিয়ে রাখলো।
আরমান ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখলো আরজু ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে আছে। মাথা-মুখ সবকিছু পেঁচিয়ে নিয়েছে ওড়না দিয়ে শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। কি ভয়ংকর লাগছে চোখ দুটো দেখতে। দৃষ্টিটা ভীষণ ধারালো। অদ্ভুত সুন্দর লাগছে আরজুর চোখ দুটো । মুগ্ধ না হওয়ার কোনো কারণই নেই।
আরমান মোহাবিষ্টের ন্যায় বলল,
“আপনার চোখ দুটো দেখে বারবার একটা লাইনই মনে হয় আমার আরু, ❝চোখ তার চোরাবালি, মন যে পাথর।❞ আপনার চোরাবালির ন্যায় চোখে আমি বারবার ডুবে গেছি, আর আপনার পাথরের মতন হৃদয়ে ধাক্কা খেয়ে বারবার আঘাত পেয়েছি। তবুও বারবার আমি আপনাকেই ভালোবাসি।”
আরমানের এত সুন্দর মন-মেজাজ কিংবা কথা কোনোটাই আরজুর পছন্দ হলো না। আরমানের কথায় বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“আপনার থেকে ফিরোজ অনেক বেশি সাহসী। ও যদি এভাবে আমাকে আনতে যায়, তাহলে এত মানুষকে কল করবে না। ও নিজেই তুলে নিয়ে চলে আসবে।”
আরমান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“ও সন্ত্রাসী। আমি তো আর সন্ত্রাসী না। মা'রা'মা'রি করা ওর স্বভাব, আমার না।”
“রাজনীতিবিদরাও সন্ত্রাসীর থেকে কোন অংশে কম না। অযথা নিজেকে ভালো দেখানোর দরকার নেই।”
আরমান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
“ভুলে যাবেন না আপনার মুনতাসির ভাইয়াও রাজনীতি করে।”
থেমে গেল আরজু। কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটা যুক্তি সাজালো। যুক্তি সাজানো শেষে আরমান কে বলল,
“সবাই হয়তো এমন হয় না।”
আরমান এবারও হার মেনে নিল। আর কোন যুক্তি তর্কে যেতে চাইলো না আরজুর সাথে। কেননা জানে পেরে উঠবে না। আরমান বেশি কিছু বললে মেয়েটা রেগে যেতে পারে। শেষে দেখা গেল হয়তো আর গ্রাম থেকে যেতেই চাইল না।
আবারো বাইকটা স্টার্ট দিলো।
আরজুদের বাড়ির আগে একটা পুকুর পড়ে। এই পুকুর পাড়টার সাথে আরজুর বেশ খারাপ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে প্রার্থনা কে কেন্দ্র করে। তবে আজ এই জায়গাটা আরজুর কাজে লাগবে।
আরজু জানে এই জায়গাটা নিরিবিলি হওয়ায় মানুষজন আসে না। এমনকি বখাটেরা নেশা করার জন্যও এই জায়গায় আসেনা।
পুকুরের কাছাকাছি আসতেই আরজু আরমানকে বাইকটা থামাতে বলল। বাইক থামাতেই আরজু নেমে গিয়ে আরমান কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“এখান থেকে হেঁটে বাড়ি যেতে আর দু তিন মিনিট মতন লাগবে। বাইক নিয়ে যাওয়ার কোন দরকার নেই। শব্দে অনেকে সজাগ হয়ে যেতে পারে। আর বাইক নিয়ে তো আমাদের বাড়ির উঠোনে প্রবেশ করা অসম্ভব। কারণ ওখানে শুধু আমাদের আর ফিরোজদের বাড়ি আছে। আমার বাবা যদি জেগে যায় সমস্যা হবে। বাইক এখানেই রেখে যাই।"
আরমান তাই করলো। রাস্তা থেকে নেমে একটু ভেতরের দিকে বাইকটা রাখল। তারপর আরজুর সাথে হাঁটা দিল।
আরজু আরমানকে রেখে আগে আগে হাঁটা শুরু করলো। চেনা পথঘাট। অপছন্দ হোক তবুও তো ছোটবেলা থেকে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছে এখানে, জন্মস্থান আরজুর। তারপরে আবার বুঝতে পারছে আর একটু হাঁটলে আপাকে দেখতে পাবে।
আরমানও আটকালো না আরজু কে। একা একাই হাঁটতে দিল। নিজে ধীরে ধীরে পা ফেলে পিছন পিছন এলো।
বাড়ির উঠোনে এক কদম রাখতেই আরজু থেমে গেল। খুব ভালোভাবে জায়গাটা দেখে নিল।
রাত অনেক হয়ে গেলেও এখানে ফিরোজের ছেলেরা থাকে। অনেক রাত অব্দি সবাই বসে থেকে নেশা করে। কাজ নেই তো আর। তবে আজ কেউ নেই। ফিরোজ হাসপাতালে জন্যই বোধহয় কেউ নেই। আরজু একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আরমানকে ফিসফিস করে বলল,
“কেউ নেই। চুপচাপ আমার পিছন পিছন আসুন। আস্তে ধীরে হাঁটবেন, শব্দ যেন না হয়। আমার বাবাও কিন্তু সন্ত্রাসী শ্রেণীর, ধরে ফেলবে।”
আরমান চমকে উঠে বলল,
“আপনি সন্ত্রাসীর মেয়ে?”
“ভয় পেলেন নাকি?”
“না, অবাক হলাম।”
“ভয় পাওয়ার দরকার নেই, অবাক হওয়ারও দরকার নেই। যদি পছন্দ না হয় এখান থেকে যাওয়ার পর ছেড়ে দেবেন আমায়। আমি এমন স্বভাবের না যে জোর করে আপনার গলায় ঝুলে পড়বো। আবার এমনও না যে আপনি রাখতে চাইলেই থেকে যাব। যদি আপনি রাখতে চান এবং যদি আমার থাকতে ইচ্ছে করে তবেই আমি থাকবো। এখন কথা না বলে আমার পিছন পিছন আসুন।”
দুটো বাড়ি পাশাপাশি, দেখতেও প্রায় একই রকম। আরজু নিজের বাড়ির দিকে না গিয়ে সোজা গেল ফিরোজের বাড়ির দিকে। কে জানে কত বছর পরে ফিরোজের বাড়ির দরজায় পা রাখলো। এই বাড়িটা দেখলেই তো ঘৃণা হয়। কেননা এই বাড়িতে থাকে আরজুর সব থেকে অপছন্দের দুজন মানুষ।
দরজার সামনে আসতেই আরজুর হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে গেল। কাঁপা কাঁপা হাতে কলিং বেল বাজালো। দু-তিনবার বাজিয়ে থেমে গেল। রাত অনেক হয়েছে। ঘুম থেকে উঠে এসে দরজা খুলতেও তো একটু সময় লাগবে।
পাঁচ মিনিট হয়ে গেল তাও কেউ দরজা খুলল না। আরমান আরজুর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“আরু ঠিক বাড়িতে এসেছি তো? আবার এমন যেন না হয় ফিরোজ এসে দরজা খুলে দিল।”
আরজু বেশ স্বাভাবিক গলায় বলল,
“খুললে সমস্যা কি? অনেক রাত হয়ে গেছে, এখন থাকলে ও বাড়িতে একাই থাকবে। আর এমনিতেও ও আমাকে মা'রবে না। মা'রলে আপনাকেই মা'রবে। তাও যদি খুব বেশি বাড়াবাড়ি করে ওকেই মে'রে দেবো। সন্ত্রাসীর মেয়ে তো আমি। খুব একটা অসুবিধা হবে না।”
এমন গা ছমছমে পরিবেশে এই কথাটা কি না বললেই হতো না? আরমানের মতন রাজনীতিবিদেরও এ মেয়ের কথা শুনে ঘাম ছুটে যায়। সারাদিন শুধু খু'নো'খু'নির কথা। অবশ্য যেহেতু সন্ত্রাসীর মেয়ে র'ক্তই তো ভয়ংকর। আজ আরমান খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারছে, আরজুর এত খু'নো'খু'নির কথা বলার কারণ।
আরমানের এসব ভাবনার মাঝে দরজার ওপর পাশ থেকে একটা মেয়েলী গম্ভীর স্বর ভেসে এলো।
“কে?”
কন্ঠটা চিনতে পারলো আরজু। এটা প্রার্থনার কন্ঠ না, ওর মায়ের কণ্ঠ। আজ মায়ের কন্ঠটা শুনেও ভালো লাগলো। আরজু নিজের পরিচয় বলতে যাবে তার আগেই অপর পাশ থেকে আবারও নাসিমার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
“কি ভেবেছিস ফিরোজ বাড়িতে নেই আর তোরা যা ইচ্ছে তাই করবি? প্রার্থনা একা বাড়িতে আছে এই সুযোগ নিবি? ভুল দিনে এসেছিস। ফিরোজ অসুস্থ হতে পারে তবে ও বাড়িতেই আছে। খোঁজ পেলে সবকটাকে শেষ করবে।”
আরমান চমকে উঠল। এখানে সবাই খু'নো'খু'নির কথা বলে কেন এত? ভয়ংকর একটা পরিবেশে চলে এসেছে আরমান। তারওপর আবার বলছে ফিরোজ নাকি বাড়িতে আছে। ভুল করে ফেলল আরমান বোধহয় এখানে এসে। এতটা রিস্ক নেওয়া উচিত হয়নি। নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভয় আরজুকে নিয়ে। আরজু কে তো কথা দিয়েছে যে আবার ঠিকভাবে ঢাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তবে আরমান কি পারবে কথাটা রাখতে?
এদিকে মহিন হোসেন কেও বলেছে সকালে ফোন দিতে। কিন্তু আরমানের তো মনে হচ্ছে ততক্ষণে আরমানের খেল খতম হয়ে যাবে। আরমান যতই সাহসী হোক না কেন এটা ফিরোজের এলাকা। এখানে ফিরোজের কথাই চলবে। আরমানের একা পেরে ওঠা সম্ভব না।
ফিরোজ যেমন ঢাকায় গিয়ে গরম দেখাতে পারতো না ঠিক তেমনি আরমান ফিরোজের এলাকায় এসে ওকে গরম দেখাতে পারবে না।
তাড়াহুড়ো করে পকেট থেকে ফোনটা বের করতে করতে বলল,
“আমরা তো ফেঁসে গেলাম পা'গ'লি। আজ বোধহয় আপনার হাতে একটা খু'ন হয়েই যাবে আরু। ভয় পাবেন না। আমি কাকাকে ফোন করছি। এখানকার থানায় ফোন করে দিলে ওরা চলে আসবে।”
আরজু তাড়াহুড়ো করে আরমানের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে বিরক্তিকর গলায় বলল,
“কিচ্ছু বোঝেন না আপনি। ফিরোজ নেই বাড়িতে। মা ভয় দেখালো শুধু। এই বুদ্ধি নিয়ে রাজনীতিতে নেমেছেন, আবার ফিরোজ কে হুমকি দেন? ও তো আপনাকে ধরবে আর আছাড় মা'রবে।”
অপমানিত হলো আরমান। গম্ভীর গলায় বলার চেষ্টা করল,
“আমি তো আর সন্ত্রাসী না। আপনারা সবাই শুধু খু'নো'খু'নির কথা বলেন। আমি একটা স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে এসেছি।”
“হয়েছে চুপ করুন। বাড়তি একটা কথাও বলবেন না।”
আরজু দরজার অপর পাশে দাঁড়ানো নাসিমা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আমি আরজু।”
দরজার ওপর পাশে দাঁড়ানো নাসিমা আর প্রার্থনা দুজনেই থমকে গেল। আরজু এসেছে কথাটা বিশ্বাসযোগ্য না, তবে কন্ঠটা তো আর ভুল না। দুজনেই তো পরিষ্কার বুঝতে পারলো যে এটা আরজুরই কন্ঠ। নাসিমা তাড়াহুড়ো করে দরজাটা খুলে দিলেন।
ভুল শোনেননি। সামনে আরজুই দাঁড়িয়ে আছে। শুধু চোখ দুটো বের হয়ে আছে, বাকি মুখ সম্পূর্ণ ঢাকা। আরজুর চোখ দুটো দেখেই নাসিমা চিনতে পারলেন নিজের মেয়েকে। আরজুর দৃষ্টিতে সব সময় একটা অদ্ভুত তেজ থাকে। একটা দৃঢ় ভাব থাকে। বেশ অদ্ভুত লাগে নাসিমার কাছে আরজুর চোখ দুটো।
আরজু দেখল নিজের মা কে। তবে একবার জিজ্ঞেস করতে পারলো না কেমন আছে। দৃষ্টি গেল সরাসরি নাসিমার পিছনে দাঁড়ানো প্রার্থনার দিকে, যে ছল ছল চোখে আরজুর দিকে তাকিয়ে আছে।
আরজু এক মুহূর্ত দেরি না করে নাসিমা কে পাশ কাটিয়ে সোজা গিয়ে প্রার্থনাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। নাসিমা বোধহয় ভেবেছিলেন ওনাকে জড়িয়ে ধরবে আরজু, হাতটাও একটু বাড়িয়েছিলেন। তবে ওনার ধারনা ভুল।
খুব তাড়াতাড়ি নাসিমা নিজেকে স্বাভাবিক করলেন। দরজাটা বন্ধ করতে ধরলেন তখনি নজরে পড়লো আরমানকে। চেনেন না আরমানকে, তাই বুঝতে পারলেন না এই ছেলেটা আরজুর সাথে এসেছে নাকি আবার ফিরোজের লোক।
শরীরের পোশাক আশাক, ভাবভঙ্গি দেখতে তো বেশ ভদ্রই লাগছে। ফিরোজের লোক হওয়ার কথা না। তবুও সন্দেহী গলায় বললেন,
“তুমি আরজুর সাথে এসেছো?”
আরমান বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কথা বলার মতন অবস্থা নেই। তার কারণ হলো নাসিমার হাতে থাকা কা'টা'রি আর তার ঠিক পিছনে প্রার্থনার হাতে থাকা ব'টি। আরমানের বারবার শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছে কোথায় চলে এলো আরমান। এই জায়গাটা তো সুস্থ না। এখানকার সবাই বোধহয় খু'নি। একবার মনে হলো জেলখানার ভিতরে চলে এলো কি আরমান? তবে ওখানে তো কয়েদিদের হাতে এমন ভয়ানক অস্ত্র থাকে না। ভাগ্যিস আরজু দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, নয়তো এরা তো আরমানকে চিনতে না পেরে একটা কো'প মে'রেই দিত।
এদিকে আরমানের থেকে কোন উত্তর না পেয়ে নাসিমা পুনরায় বলে উঠলেন,
“তুমি আরজুর সাথে এসেছো নাকি ফিরোজের লোক?”
আরমানের ধান ভাঙলো। ব্যস্ত গলায় বলল,
“আমি আরুর সাথে এসেছি।”
“তাড়াতাড়ি ভিতরে এসো। দরজা বন্ধ করতে হবে।”
আরমান বাধ্য ছেলের মতন তাড়াতাড়ি ভিতরে এলো। নাসিমা দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। এরপরে তিনি একে একে বাড়ির সব জানালা বন্ধ করে দিলেন। বারান্দার দরজা গুলোও বন্ধ করলেন, অন্যান্য সব রুমের দরজা গুলো বন্ধ করলেন যেন শব্দ কোনমতেই বাইরে যাওয়ার সুযোগ না পায়।
ফিরে এসে আরজু আর প্রার্থনা দুজনকে উদ্দেশ্য করেই গম্ভীর গলায় বললেন,
“আস্তে কাঁদো। কেউ টের পেয়ে গেলে আর কখনো কাঁদার সুযোগ পাবে না।”
প্রার্থনা থামলো তবে আরজু থামল না। এমন শক্ত করে প্রার্থনা কে জড়িয়ে ধরেছে যেন মনে হচ্ছে আর ছাড়বেই না। হয়তো ছাড়লে আর কখনো জড়িয়ে ধরার সুযোগ পাবে না। নাসিমা একবারে আড়চোখে সে দিকে তাকালেন। আফসোস হলো হয়তো ওনার।
তবে হয়তো আফসোস করা উচিত না। উনি তো এমনটাই চেয়েছিলেন। উনি ঠিক যেমন ভাবে আরজু কে তৈরি করতে চেয়েছিলেন আরজু তেমন ভাবেই নিজেকে গড়ে তুলেছে।
নাসিমার দৃষ্টি পড়লো এবারে আরমানের ওপর। আরমান খেয়াল করলো নাসিমার দৃষ্টি আর আরজুর দৃষ্টি প্রায় একই, ধা'রা'লো ছু'ড়ি'র মতন। নাসিমা যদি ওড়না দিয়ে মুখটা বেঁধে শুধু চোখটুকু বের করে রাখে তবে আরজু আর ওনার চোখের মাঝে পার্থক্য করা মুশকিল হয়ে পড়বে। আজ আরমান বুঝতে পারল আরজুর চোখ দুটো আসলে ওর মায়ের থেকে পাওয়া।
আরমানের এসব ভাবনার মাঝে নাসিমা গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
“নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতদূর আরজু কে নিয়ে কেন এসেছো? কি স্বার্থ তোমার? এর বিনিময়ে কি চাও ওর থেকে?”
আরমান বিস্ফোরিত নয়নে নাসিমার দিকে তাকালো। এ যেন পুরো আরজু কথা বলল আরমানের সাথে। সেই একই ধরনের প্রশ্ন, সেই একই গলার স্বর। আর দৃষ্টির কথা না হয় নাই বলল। ওই চোখের দিকে তাকাতেই আরমানের ভয় করছে। নিজেকে বড্ড অসহায় লাগলো।
এখানকার মেয়ে মানুষই যতটা ভয়ংকর আরমান বোধহয় নিজেও ততটা ভয়ংকর না। আসার সময় সাথে করে মুনতাসির কে আনলে বোধহয় ভালো হতো। অন্তত ঝাড়ফুঁক করে এদেরকে একটু ঠান্ডা করা যেত।
এদিকে প্রত্যেকটা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এমন দীর্ঘ সময় ধরে আরমানের নীরবতা নাসিমার একদমই পছন্দ হলো না। এবার একটু ঝাড়ি দিয়ে বলে উঠলেন,
“কথা বলতে পারো না?”
আরমানের ধ্যান ভাঙলো। তড়িঘড়ি করে নম্র গলায় বলল,
“আমি তাওসিফ আরমান। আরু.... আরু কে বিয়ে করবো। আরুর ভাষায় আমি ওর পিছন পিছন ঘুরি।”
নামটা শুনতেই নাসিমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এই ছেলেটার কথাই ফিরোজ বলছিল। সঙ্গে সঙ্গে নাসিমার দৃষ্টি আরো তীক্ষ্ম হলো। যতটুকু সময় পাবেন ততটুকু সময় আরমানকে ভালোভাবে পরখ করে দেখতে হবে। বুঝতে হবে আরজুর সিদ্ধান্ত ভুল না ঠিক।
বেশ অনেকক্ষণ পর আরজুর কন্ঠ পাওয়া গেল। আরমান সেদিকে তাকালো। আরজু ভালো কীরে প্রার্থনা কে দেখে নিল। হাত-পা, গলা, গাল, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়ে আছে। গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ বসে গেছে।
আরজুর মোটেই কান্না পেলে না। বরং শরীরের র'ক্ত টগবগ করে ফুটে উঠলো। রাগে চোখ দুটো লাল টকটকে বর্ণ ধারণ করল। রাগে কটমট করে বলল,
“ওই কু'ত্তার বাচ্চা তোমায় মে'রে'ছে তাইনা আপা? কোথায় জা'নো'য়া'র'টা? আমার আপার গায়ে হাত দেওয়ার শাস্তি আজ আমি ওকে দিয়ে তবেই ঢাকা ফিরব। তাতে আমি বাঁচলে বাঁচবো ম'রলে মর'বো আফসোস নেই। তবু ওকে আজ আমি শেষ করবোই।”
নাসিমার মনোযোগ এবার আরমানের উপর থেকে সরে গিয়ে আরজুর উপর পড়লো। গম্ভীর গলায় বললেন,
“এতদিন পর ওকে খু'ন করার জন্য এসেছো এখানে?”
আরজু অগ্নি দৃষ্টিতে নাসিমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুমি তো এখানে ছিলে, তুমি কি করেছো? তুমি থাকতে ওরা কোন সাহসে আপার গায়ে হাত দেয়। আমি নাহয় বেয়াদব, অসভ্য, আমাকে ভালোবাসা যায় না কিন্তু আপা তো তোমাদের বাধ্য মেয়ে, তোমাদের সম্মানের জন্য বুড়োটাকে বিয়েও করে নিল, তবে ওকে বাঁচাও নি কেন?”
“ওকে না বাঁচালে এখন এসে আপাকে জড়িয়ে ধরতে পারতে না। আপার কবরের উপর গিয়ে কাঁদতে হতো।”
“ম'রার আর বাকি কি আছে?”
“লা'শ আর জীবন্ত মানুষের মাঝে পার্থক্য করতে শেখো আরজু। মানুষটা আজ জীবিত আছে জন্য ওকে জড়িয়ে ধরে তুমিও কাঁদতে পারছো, ও কাঁদতে পারছে তোমায় দেখে। যদি লা'শকে দেখতে তবে তুমিও পাথর হয়ে যেতে।”
আরজু মৃদু ব্যাঙ্গাত্মক গলায় বলল,
“তোমার হঠাৎ এতোটুকু দয়া হওয়ার কারণ কি জানতে পারি মা? কখনো তো বাঁচাওনি আমাদেরকে। তবে শেষবার আমাকেও বাঁচিয়ে দিলে, আবার আপাকেও বাঁচাচ্ছো কেন? কোন স্বার্থ আছে কি?”
এতক্ষণে তো আরমান বুঝে গেছে যে নাসিমা আরজুর মা তবে আশ্চর্য হচ্ছে এদের দুজনের কথাবার্তা দেখে। মানে এমনভাবে কথা বলছে যেন জনম জনমের শত্রু।
প্রার্থনা কে দেখে বুঝতে বাকি নেই মেয়েটা নিতান্তই সহজ, সরল, কোমল। আরজু যে ওকে ভালোবাসে সেটাও জানে আরমান। তবে এতদিন পর দেখা হলো মায়ের সাথে এভাবে কথা বলবে কেন? একটু ভালো করে কথা বলাই যায়। আরমান আগ বাড়িয়ে আরজু কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আরু রাগটা একটু কমান। ফিরোজের রাগ মায়ের উপর দেখাচ্ছেন কেন? আপাকে জড়িয়ে ধরলেন মা কে তো জড়িয়ে ধরলেন না?”
আরমানের কথাটা শুনে আরজু আর নাসিমা দুইজনের বুকের ভেতরটাই যেন মোচড় দিয়ে উঠলো। ইচ্ছে তো দুজনেরই করছে জড়িয়ে ধরতে তবে কোথাও একটা যে ওদের সম্পর্কের মাঝে এক বিশাল বড় দেয়াল আছে। যার জন্য কেই কাউকে জড়িয়ে ধরতে পারছে না।
পরিবেশটা হঠাৎ করে কেমন থমথমে হয়ে উঠল। গুমট ভাবটা কাটল প্রার্থনার উদ্বিগ্ন কন্ঠে।
“তুই এখানে কেন এসেছিস আরু? ভাবতে পারছিস যদি একবার ফিরোজ ভাই জেনে যায় তবে কি হবে? ফিরতে পারবি না তুই ঢাকায়।”
আরজু ইশারায় আরমানকে দেখিয়ে বলল,
“আরমান আছে তো। উনি আমায় কথা দিয়েছেন যে আমাকে আবার ঠিকভাবে ঢাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।”
আরজুর আরমানের প্রতি এত ভরসা দেখে আরমান, নাসিমা, প্রার্থনা তিনজনেই অবাক হলো। তবে এতক্ষণে নাসিমা এতটুকু নিশ্চিত হলেন যে ছেলেটাকে ভরসা করা যায়। যেহেতু আরজু ভরসা করছে। কেননা উনি আরজু কে এমন শিক্ষাই দেননি যে খুব সহজে কাউকে বিশ্বাস করে নেবে।
অবাক হলো প্রার্থনাও কোন একজন ছেলের প্রতি আরজুর এতো গভীর বিশ্বাস দেখে। সেই সাথে অবাক হলো আরমান নিজেও। আরজু ওকে এতটা বিশ্বাস করে সেটা আরমান নিজেও জানত না।
আরজু এবার হাস্যজ্জ্বল গলায় আরমানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।
“আরমান এটা হলো আমার আপা, প্রার্থনা।”
আরমান আলতো হেসে প্রার্থনাকে সালাম দিয়ে বলল,
“ভালো আছেন আপা?”
আরজু গম্ভীর গলায় বলল,
“আমার আপা বুড়ি না। আপনার ছোট হতে পারে আবার আপনার সমবয়সীও হতে পারে। এমন ভাবে কথা বলছেন যেন আমার আপার অনেক বয়স।”
“বয়সে না হোক আরু সম্পর্কে তো উনি বড়। আপনার বড় আপা মানে আমারও বড় আপা।”
আরজু আর কিছু বলল না। আরমান এবারে নাসিমা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আসসালামু আলাইকুম আন্টি। আসলে প্রথমে পরিবেশটা এমন ছিল যে সালাম দেওয়ার কথা মনে ছিল না। আপনার হাতে কা'টা'রি'টা দেখে আমার গলা শুকিয়ে গিয়েছিল।”
নাসিমা ব্যাঙ্গাত্মক গলায় বললেন,
“এই সাহস নিয়ে এই গ্রামে পা রেখেছো? ফিরোজের মুখোমুখি হবে কি করে?”
আরমান আলতো হেসে বলল,
“সেই সক্ষমতা আছে জন্যই নিশ্চয় এখানে এসেছি। ফিরোজের মতন মানুষ মে'রে হাত নোংরা করার স্বভাব আমার নেই। আসলে রাজনীতি করি তো, বুদ্ধি খাঁটিয়ে চলতে হয়। আমার এক ডাকে এমন কিছু মানুষ সাড়া দেবে যাদের দেখলে ফিরোজ পালাতে বাধ্য।”
“এগুলো তো অন্যের ক্ষমতার বড়াই করছো। নিজে কি পারো?”
“আমাকেও কি আপনি ফিরোজের মতন ছু'রি, ব'ন্দু'ক হাতে নিতে বলছেন আন্টি? তবে তো সন্ত্রাসী আর রাজনীতিবিদের মাঝে পার্থক্য থাকলো না। আর আমার ক্ষমতা আছে জন্যই অন্যরা আমার কথায় সাড়া দেবে।”
নাসিমা একটু হলেও শান্তি পেলেন। ছেলেটাকে দেখতে সহজ সরল মনে হলেও আসলে তেমন না।
আরো টুকটাক কিছু কথাবার্তা বলে আরজু প্রার্থনা কে নিয়ে গিয়ে সোফায় বসলো। অনেক কিছু বলার আছে। নাসিমা দুই বোনের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। আরজু কি সুন্দর মন খুলে গল্প করছে প্রার্থনার সাথে। কি কি বলছে কে জানে।
আরজুর সাথে নাসিমার এমন সম্পর্ক কখনোই ছিল না। কোন মেয়ের সাথেই তার এমন সম্পর্ক নেই। তবে আজ হঠাৎ করে একটু আফসোস হলো তার। মনে হলো আরজুকে বোধ হয় এতটা কঠিন না বানালেও পারতেন।
আরমান কিছুক্ষণ নাসিমা কে খেয়াল করলো। বুঝতে পারলো যে ওনার বোধহয় একটু আফসোস হচ্ছে। এর আগে আরজুর থেকে যতটুকু শুনে ছিল তাতে তো বুঝতে পেরেছিল মা-বাবার সাথে খুব একটা ভালো সম্পর্ক নেই আরজুর। এক ভালো সম্পর্কই আপার সাথে।
“আরুর কিন্তু আপনাকে নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে আন্টি। এই অভিযোগগুলোর জন্য চেয়েও আপনাকে ভালোবাসতে পারে না।”
হঠাৎ করে কথাগুলো বলায় নাসিমা চমকে উঠলো। বেশ স্বাভাবিক দৃষ্টিতে আরমানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“জানি আমি সব। আমার মেয়ে, আমি ওকে বড় করে তুলেছি। ওর প্রত্যেকটা স্বভাব সম্পর্কে আমি অবগত।”
“কেন এমন করে তৈরি করলেন যে আপনাকে অপছন্দ করে? কি এমন কারণ যে নিজের মেয়ের কাছে খারাপ সেজেছেন?”
শেষের প্রশ্নে নাসিমা কিঞ্চিত চমকালো। এই ছেলেটা কি করে বুঝলো যে নাসিমা ইচ্ছে করে আরজুর কাছে খারাপ হয়েছে? আরজু নিজেও তো এটা বোঝেনা। ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,
“তুমি কি করে বুঝলে?”
“আপনার দৃষ্টিতে থাকা আফসোস দেখে। মা তার মেয়েকে ভালোবাসবে না এটা কি হতে পারে? তবে আমার কৌতুহল হচ্ছে একটা বিষয় জানার জন্য, আপনার কি এমন অপারগতা ছিল যে নিজের মেয়ের শত্রু হয়ে উঠতে হয়েছে?”
“অপারগতা ছিল না কোন, স্বেচ্ছায় এমনটা করেছি। ছোটবেলায় প্রার্থনা কে অনেক ভালোবাসা দিয়েছি সেজন্য ও কোমল হয়েছে। তবে আমি চাইনি আরজু কোমল হোক। আমি ওর হৃদয়টাকে বরাবরই পাথরের মতন শক্ত বানাতে চেয়েছি। আমি জানতাম ও যদি আমার থেকে বিন্দুমাত্র ভালোবাসা কিংবা সহানুভূতি পায় তবে ও প্রার্থনার মতন কোমল হবে যাবে। ওর জীবনটাও নষ্ট হয়ে যাবে।”
আরমান জোরপূর্বক হেসে বলল,
“তাই বলে এতটা পাথর বানায় কেউ আন্টি! আমার তো অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে।”
নাসিমা অল্প বিস্তর হেসে বলল,
“জানি ওর বিশ্বাস অর্জন করা খুব কঠিন কাজ। তবে একবার যদি অর্জন করতে পারো তবে কিন্তু তুমি সফল। আমার মেয়ে খাঁটি সোনা। তবে আর একটা কথা, যদি কখনো ওর বিশ্বাসে বিন্দুমাত্র কোন ফাটল ধরে ও কিন্তু দ্বিতীয় বার আর তোমায় সুযোগ দেবে না।”
আরমান আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,
“চিন্তা করবেন না, ফাটল ধরবে না।”