তোর পিরীতে পাগল হইলাম রে

পর্ব - ২৫

🟢

মুনতাসিরের ঘরে বিছানার উপর বসে আছে আরজু। ওর পাশে বসে আছে ইরা, আর দাঁড়িয়ে আছে মুনতাসির। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে মৃন্ময়ী আর রুবিনা খাতুন। সবার চোখ মুখেই একটা আতঙ্ক আর চিন্তা। তবে কারো আতঙ্কই আরজুর থেকে বেশি না। দুই হাঁটু মুড়ে চুপচাপ বসে আছে। সবাই বুঝতে পারছে যে আরজু এখনো ভয় পাচ্ছে।

মুনতাসির অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে কি হয়েছে কিন্তু আরজু পরিষ্কার ভাবে কোন উত্তর দেয়নি। বারবার শুধু একটা কথাই বলেছে মুনতাসির কে যেন তাড়াতাড়ি ওকে কোথাও একটা লুকিয়ে ফেলে। না হলে ওরা এসে ধরে নিয়ে যাবে।

একেই তো আরজুকে দেখে চিন্তা হচ্ছে তার উপর আরো বেশি চিন্তা হচ্ছে এটা ভেবে যে পাশের ঘরে আরমান আছে, যেটা আরজু এখনো জানে না। ইরার ফোনটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুনতাসির আরমানকে ফোন করেছিল। শুনেছে আরমানের থেকে কিছু ঘটনা তবে এখনো পুরোপুরি ভাবে বুঝে উঠতে পারেনি কিছু।

ফিরোজের সাথেই বা আরজুর কেমন সম্পর্ক, কতটা কি ঝামেলা কিছুই তো জানেনা। আরজু কে জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলছে না। সমানে একই কথার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছে।

যখনই কেউ আরমানের নাম বলছে তখনই যেন আরজুর ভয় আরো বাড়ছে। ফিরোজের নাম তুললে আরজুর মাঝে ঘৃণা দেখা যাচ্ছে, কোন ভয় না। তবে আরমানের কথা তুললে ভয় পাচ্ছে আরজু। তখনই আরও বেশি কাঁদছে।

ইরা মুনতাসিরের পাশে দাঁড়িয়ে চিন্তিত গলায় বলল,

“তুমি একটু আরজুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করো। এমন করতে থাকলে তো মেয়েটা অসুস্থ হয়ে যাবে।”

“ও তো আমাকেও কিছু বলছে না।”

“তুমি আরেকটু চেষ্টা করে দেখো। আমার মনে হয় ও তোমাকে বলবে। ও তোমাকে বিশ্বাস করে। তুমি একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করো, ও বলে দেবে।”

মুনতাসির ভাবলো একবার চেষ্টা করাই যাক।

ভয়ে ভয়ে আরজুর পাশে গিয়ে বসলো। এমনি সময়েই তো আরজু কে কিছু বলতে ভয় লাগে, সেখানে এখন আরজুর বেগতিক অবস্থা। যেকোনো কিছু জিজ্ঞেস করতে ভয় করছে। মনে হচ্ছে কি থেকে কি জিজ্ঞেস করে ফেলবে আরজু কে, যদি আবার আরমানের মতন ওকেও ভুল বোঝে। তখন কি করবে!

কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর অনেক সাহস সঞ্চয় করে মুনতাসির বলে উঠলো,

“আরমান ভাই কি করেছে আরজু?”

আরমানের নামটা শুনতেই আরজু কেঁপে উঠলো। ভয়ার্ত গলায় বলল,

“উনি… উনি এসেছেন নাকি? উনি এখানে চলে এসেছেন? উনি জানলেন কি করে যে আমি এখানে আছি?”

হঠাৎ করে আরজু অস্থির হয়ে উঠলো। মুনতাসির সান্ত্বনা দিয়ে বলল,

“আসেনি উনি। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করছি আরমান ভাই করেছেটা কি যে তুমি ওনাকে হুট করে অবিশ্বাস করছো?”

আরজু কিছুক্ষণ হা করে মুনতাসিরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো। তারপর হঠাৎ করেই আবারও ফুপিয়ে কেঁদে উঠে অভিযোগ করে বলল,

“উনি আমায় ঠকিয়েছেন ভাইয়া। আমার বিশ্বাস ভেঙেছেন। উনি খুব খারাপ মানুষ। আপনি ওনার সাথে একদম মিশবেন না। আপনি খুব ভালো। ওনার সংস্পর্শে চলে এলে আপনিও খারাপ হয়ে যাবেন। উনি আমার কথা ভাবেননি কারণ উনি স্বার্থপর। তবে আপনি ইরা আপুর কথা ভাববেন। ইরা আপুর জন্য হলেও ওই নোংরা, অমানুষটার সাথে কোন রকম কোন যোগাযোগ রাখবেন না।”

আরজুর দৃষ্টিতে আরমানের প্রতি ঘৃণা স্পষ্ট দেখতে পেলো মুনতাসির। চিন্তা বাড়লো মুনতাসিরের। কি করে সব ঠিক করা যায় বুঝতে পারছে না।

মুনতাসিরের থেকে কোন জবাব না পেয়ে আরজু সন্ধিহান গলায় বলে উঠলো,

“কিছু বলছেন না কেন ভাইয়া? আপনি কি ওনার সাথে সম্পর্ক রাখবেন?”

মুনতাসির ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলো। জোরপূর্বক একটু হাসার চেষ্টা করে বলল,

“আরজু শোনো, তুমি তো আমায় বিশ্বাস করো তাই না?”

আরজু উপর-নিচে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর জানালো। মুনতাসির আশ্বস্ত হল। আরজুর মাথায় কিছুক্ষণ হাত বুলিয়ে দিল। মুনতাসিরের থেকে সামান্য স্নেহ পেতেই আরজুর কান্নার বেগ আরো বাড়লো। আবারো অভিযোগ করে বলল,

“উনি আমায় খুব কষ্ট দিয়েছেন ভাইয়া। আমায় এতটা কষ্ট এর আগে কেউ দিতে পারেনি। আপনি ওনাকে ছাড়বেন না। আমি না আপনার বোন। আমাকে কষ্ট দিয়েছে উনি। ওনাকে খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দেবেন যে আমি আপনার বোন।”

মুনতাসিরের অপরাধবোধ বাড়লো। মেয়েটা খুব বেশি বিশ্বাস করে ফেলেছে মুনতাসির কে। আর মুনতাসির কিনা আরজুর বিশ্বাস নিয়ে খেললো।

আরমান তো আরজুর বিশ্বাস ভাঙেনি, বিশ্বাস ভাঙলো মুনতাসির। তবে যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। এখন হয়ত একমাত্র মুনতাসিরই পারবে আরজুর মনে আরমানের জন্য পুরনো বিশ্বাসটা আবার ফিরিয়ে আনতে। আরজু কে স্বাভাবিক করতে গেলে এটা করতেই হবে। আরেকটু সাহস সঞ্চয় করে মুনতাসির আরজু কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আমি জানিনা তুমি কি দেখে বলছো যে আরমান ভাই তোমার বিশ্বাস ভেঙেছে। তবে আমার মনে হয় তোমার একবার ওনার সাথে কথা বলা উচিত। দেখো তুমি কিন্তু শুধু নিজেই বলে যাচ্ছো ওনার থেকে কোন কিছুই শুনছো না। এটাতো ওনার সাথে অন্যায় করা হচ্ছে তাই না? আচ্ছা আমি মানছি উনি হয়তো অপরাধ করেছেন, কিন্তু তাও ওনাকে একবার ওনার পক্ষ থেকে কিছু বলার সুযোগ তো দেওয়া উচিত।”

আরজু উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

“কক্ষনো না। আমি আর কোনদিন ওনার সামনে যাবো না। আপনি বুঝতে পারছেন না ভাইয়া ওরা আমাকে খুঁজছে। একবার যদি ওরা আমাকে পেয়ে যায় আমার জীবনের এত বছরের সংগ্রাম সব মিথ্যে হয়ে যাবে। জন্মের পর থেকে আজ তেইশ বছর হলো আমি ওদের সাথে লড়াই করছি। আপনার কি মনে হয় আমার এই লড়াইটা সহজ ছিল?”

“কখনোই না। আমি সব বুঝতে পারছি কিন্তু আমি আরমান ভাইকে অনেকদিন হলো চিনি। উনি খারাপ না আরজু। উনি যদি সত্যিই খারাপ হতেন তাহলে আমি কি এতদিন কিছুই টের পেতাম না, বলো?”

“পেতেন না। আপনি ভালো মানুষ। ওনার ষড়যন্ত্র গুলো বোঝার ক্ষমতাই নেই আপনার। দেখুন আমি তো ভালো না, কিন্তু তারপরও আমি ওনার মত নোংরা মানুষের ষড়যন্ত্র ধরতে পারিনি। আপনি কি করে ধরতেন?”

মুনতাসির এবারে হাল ছেড়ে দিল। সম্ভব না আরজু কে বোঝানো। অন্তত এই মুহূর্তে তো কিছুতেই না। দরজায় দাঁড়ানো মৃন্ময়ী ইশারায় মুনতাসির কে বোঝালো আরমান ডাকছে।

মুনতাসির আরজু কে রেখে উঠে চলে যেতে ধরলে আরজু উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

“কোথায় চলে যাচ্ছেন ভাইয়া?”

“পাশের ঘরে যাচ্ছি।”

“আসবেন না আবার? আপনি বাড়ির বাইরে যাবেন না আমাকে একা রেখে। ওরা কিন্তু খুব খারাপ। ইরা আপু একা আমায় বাঁচাতে পারবে না।”

মুনতাসির একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আরজুকে আশ্বস্ত করে বলল,

“কোথাও যাচ্ছিনা তোমায় রেখে। আর এখানে কেউ আসবে না তোমায় নিতে।”

কথাটা বলে মুনতাসির ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। পাশের ঘরে যেতেই আরমান আগে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

“এই মুনতাসির, আরু এমন করছে কেন? বারবার আমাকে নোংরা বলছে, অমানুষ বলছে। আমার ভালো লাগছে না।”

মুনতাসির চিন্তিত গলায় বলল,

“আমি তো নিজেই কারণটা বুঝতে পারছি না ভাই। পরিষ্কার করে কিছু বলছেও না। ওর মানসিক অবস্থা প্রচন্ড খারাপ। আপনার নাম শুনলেই ভয়ে কেঁপে উঠছে।”

আরমান অসহায় গলায় বলল,

“কি করবো আমি? কত কষ্ট করে পা’গলিটার মনে একটু নিজের জন্য জায়গা তৈরি করেছিলাম। আমার কি এমন ভুলে সব নষ্ট হয়ে গেল মুনতাসির? আমায় কারণটা না বললে নিজের ভুলটা শোধরাবো কি করে? উনি যে আমাকে সহ্যই করতে পারছেন না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।”

মুনতাসির একটু সময় নিয়ে ভাবল। বেশ অনেকক্ষণ অনেক কিছু ভাবনা চিন্তার পর আরমান কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ভাই আমার মনে হয় আপনার আরজুর সাথে সরাসরি কথা বলা উচিত। যা হওয়ার হবে, যত চেঁচামেচি করার করবে, আমাকে অবিশ্বাস করার হলেও করবে কিন্তু আপনার ওর সাথে সরাসরি কথা বলা উচিত।”

আরমান আঁৎকে উঠে বলল,

“পা’গল হলে? ও কথা বলবে না আমার সাথে।”

“সেটা আমিও জানি কিন্তু আপনাকে বলতে হবে। আরজুর মুখ থেকে কিছু শোনার দরকার নেই, আপনাকে শুধু বলে যেতে হবে। আপনি ওকে ভালোবাসেন, আপনি ওর ভালো চান, ওর খারাপ চান না এসব বোঝাতে হবে। আমি জানি ও শুনতে চাইবে না, কিছু বুঝতেও চাইবে না কিন্তু আপনাকে বোঝাতে হবে। ওকে জোর করে ধরে হলেও বোঝাতে হবে। এটাই একমাত্র উপায়।”

“কিন্তু আমি বললে কি বিশ্বাস করবে?”

মুনতাসির আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,

“যেহেতু আমার কথাও বিশ্বাস করছে না তারমানে একমাত্র করলে আপনার কথাই করবে। জানেন ভাই ইরা আমার ওপর রেগে গেলে আমাকেই গিয়ে ওকে শান্ত করতে হয়। আর কেউ ওকে শান্ত করতে পারে না। আশা করছি আর কিছু বলতে হবে না।”

আরো বেশ কিছুক্ষণ টুকটাক কিছু আলোচনা করার পর আরমান সিদ্ধান্ত নিলো যাই হয়ে যাক না কেন এক্ষুনি আরজুর ঘরে গিয়ে ওর সাথে কথা বলবেই।

মুনতাসির আগে আরজুর ঘরে এলো। ইরার কানে কানে কিছু একটা বলল। দুজনে মিলে পুরো ঘর থেকে ফুলদানি, জগ, গ্লাস, শো-পিছ সবকিছু বের করে নিয়ে গেল। মোটকথা যেগুলো দিয়ে আরজু নিজেকে কিংবা আরমান কে আঘাত করতে পারে সেগুলো সরালো।

আরজুর এখন হিতাহিত জ্ঞান নেই। নিজের ক্ষতি করতে যেমন দুবার ভাববে না ঠিক তেমনি আত্মরক্ষার জন্য আরমানের উপর আক্রমণ করতেও দুবার ভাববে না।

ভয়ে ইরার হৃদ স্পন্দনের গতি বেড়ে গেছে। এদিকে ঘরে যে এত কিছু হয়ে গেল সে সবে আরজুর কোন খেয়াল নেই। ও আপন মনে কেঁদেই যাচ্ছে। বারবার শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছে, কি করে আরমান ওকে ঠকালো? এভাবেও ভালোবাসার নাটক করা যায়?

আরজুর এসব ভাবনার মাঝেই হঠাৎ করে কানে একটা ডাক ভেসে এলো। যে ডাকটা শুনে আরজু কেঁপে উঠলো।

“আরু!”

আরমানের কণ্ঠে একরাশ কাতরতা প্রকাশ পেল। চোখ মুখে তার অসহায়ত্ব। আরজু দরজার দিকে তাকিয়ে আরমানকে দেখতেই আঁৎকে উঠলো। মুনতাসির এর নাম ধরে চেঁচিয়ে উঠে বলল,

“মুনতাসির ভাইয়া, ভাইয়া দেখুন উনি এসে গেছেন। ভাইয়া কোথায় গেলেন? ভাইয়া?”

মুনতাসিরের কষ্ট হলো। চেষ্টা করেও আরজুর ডাক উপেক্ষা করতে পারল না। ছুটে গিয়ে আরমানের পাশে দাঁড়িয়ে আরজু কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আরজু আমি ডেকেছি ওনাকে। একটু কথা বলো। একটু ওনাকে কিছু বলার সুযোগ দাও।”

আরজুর চোখ মুখ থেকে এবার ভয়ের ছাপটা হারিয়ে গিয়ে বিস্ময় ফুটে উঠলো। কি বলল মুনতাসির? ওই আরমান কে ডেকেছে? তাহলে কেউই আরজুর ভালো চায় না। সবাই আরজুর বিপক্ষে, সবাই মিলে ষড়যন্ত্র করছে। বিস্ময় ভরা কন্ঠে মুনতাসির কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আপনিও ঠকালেন ভাইয়া? এই লোকটা যখন এসেছে তার মানে ফিরোজও তো এসেছে। মানে আপনারা কেউ আমায় বাঁচতে দেবেন না। আমার মতন নিঃস্ব একটা মানুষকে মে’রে কি লাভ আপনাদের? কি পাবেন আপনারা?”

আরমান কোনমতেই সহ্য করতে পারছে না আরজুর চোখে নিজের জন্য এত ঘৃণা। চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। আরজুর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,

“দুটো মিনিট সময় দিন আমায় আরু, আমি সব বুঝিয়ে বলব আপনাকে। শুধু দুটো মিনিট সময় দিন আমায়।”

বিজ্ঞাপন

আরমান কে কাছে আসতে দেখে আরজু লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়ল। হাতের কাছে এমন কিছুই খুঁজে পেলো না যেটা দিয়ে নিজের আত্মরক্ষা করতে পারে। আরমান কে এগিয়ে আসতে দেখে ক্রমেই ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে আরজু।

অবিশ্বাস তৈরি হোক মুনতাসিরের ওপর তাও এই বিপদের মাঝে মুনতাসিরকেই সমানে ডেকে চলল। মুনতাসিরের খুব কষ্ট হলো কিন্তু চেয়েও আরজু কে সাহায্য করতে পারল না। চলে গেল সেখান থেকে। ওর পিছন পিছন ইরাও চলে গেল।

পেছাতে পেছাতে আরজু দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেল। আর পেছানোর জায়গা নেই। আরমান খেয়াল করলো আরজুর পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে, সেই সাথে অসহায়ের মতন চিৎকার করে কাঁদছে।

এক পর্যায়ে আর যখন আরজু পেছানোর জায়গা পেল না তখন ওখানেই মেঝেতে বসে পড়ে দুই হাতজোড় করে অনুনয়ের স্বরে আরমানকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“দয়া করে ছেড়ে দিন আমায়। কি পাবেন আমাকে মে’রে ফেলে? বিশ্বাস করুন আমি এমনিতেই ম’রা মানুষ। ছেড়ে দিন না আমায়। আমায় একটু বাঁচতে দিন।”

আরমান হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো আরজুর সামনে। আরজুর কাছে আর জায়গা নেই আরমানের থেকে দূরত্ব বাড়ানোর। আবারো চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“দূরে সরে যান না আমার থেকে। আপনাকে দেখে আমার ভয় করছে। আমাকে ছেড়ে দিন। আমি চলে যাবো এই শহর থেকে, অনেক দূরে। আমি আর কোনদিন আপনাদের কারো জীবনে আসবো না। আমি তো কখনো বিরক্ত করিনি আপনাদের। আপনারাই তো আমার পিছে পড়েছিলেন। ছেড়ে দিন না আমায়।”

আরমান হুট করে একটা ভয়ংকর কাজ করে বসলো। যা কোনদিন করার সাহস পায়নি তা আজ করলো। জোর করে আরজুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আরজু হাত পা ছোড়াছুড়ি করে আরমানের থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করলো, দু একটা কিল ঘুষিও খেল আরমান তবে ছাড়লো না। আরজুর মাথাটা শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে রেখে ভরসা দিয়ে বলল,

“আমি থাকতে কে মা’রবে আমার পা’গলি কে? কার এত বড় সাহস? যতক্ষণ আপনি আমার বুকের মাঝে আছেন কেউ আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না আরু। শুধু আমায় একটু বিশ্বাস করুন।”

আরজু এখনো আরমানের থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কান্নার বেগটা আগের তুলনায় আরো বেড়ে গেছে। অভিযোগ করে আরমান কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আপনি খুব খারাপ মানুষ। আপনাকে আমি প্রথম দিন যেমন ভেবেছিলাম আপনি তেমনই। আপনি ফিরোজের লোক।”

আরমান কন্ঠ কোমল করে বলল,

“আমি ফিরোজের লোক না আরু। হ্যাঁ আমি ফিরোজ কে চিনি। কিভাবে চিনি, ওর সাথে আমার বর্তমানে কি সম্পর্ক আমি সব আপনাকে খুলে বলবো। তবে আপনি একটু শান্ত হন। আর আমায় একটু ভরসা করুন। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আরু আপনার চোখে আমার জন্য ঘৃণা দেখতে। এতটা ঘৃণা তো সেই শুরুর দিনেও আমি দেখিনি আপনার চোখে আমার জন্য।”

“আপনি ছাড়ুন আমায়। আপনি খারাপ। আমার ভয় করছে আপনাকে দেখে।”

“ভালোবাসি আপনাকে আরু। আমি ভালো হই বা খারাপ হই কিন্তু আপনাকে আমি সত্যি ভালোবাসি, ভীষণ ভালোবাসি। আমার আপনাকে ভালোবাসার সাথে ফিরোজের কোন সম্পর্ক নেই। আমি তো জানতামই না আপনি ফিরোজের চেনা।

আমি ফিরোজের বোনের খোঁজ পেতে ওকে সাহায্য করছিলাম। ফিরোজের বড় বোন আজ বহু বছর হলো নিখোঁজ। আপনি নিশ্চয়ই জানবেন? ওনাকে খুঁজে বের করতেই আমি ফিরোজকে সাহায্য করছি, এর বেশি আর কিচ্ছু না।”

হঠাৎ করে আরজুর অস্থিরতা কমে গেল। সত্যিই তো ফিরোজ ওর বড় বোনকে খুঁজছে বহু বছর হলো, আরজুর বড় আপা। আরজু জানে ফিরোজ ওর বড় বোনকে খোঁজার জন্য কতটা কষ্ট করে। তার মানে আরমান সত্যি বলছে। সত্যি ভালোবাসে আরজু কে।

আরজুর অস্থিরতা কমে যেতে দেখে আরমান যেন একটু ভরসা পেল। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে আবারো বলল,

“তখন ফিরোজ আপনার হাতটা ধরতে চাইলে দেখলেন না আমি ওকে আটকালাম। ওকে আপনার পিছনেও আসতে দেই নি আমি তাহলে কি করে আমি ফিরোজের লোক হলাম বলুন? ঝামেলাও করে এসেছি ফিরোজের সাথে। ওকে বলে এসেছি ও যদি এক বাপের ছেলে হয়ে থাকে তবে যেন আমার আরু কে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে দেখায়। আমিও দেখবো ওর কত বুকের পাটা যে আপনাকে আমার থেকে কেড়ে নিয়ে যায়।”

আরমান ভাবতেও পারেনি যে এত তাড়াতাড়ি কাজ হয়ে যাবে, তবে হ্যাঁ কাজটা হয়ে গেল, তাও খুব তাড়াতাড়ি। এবং আরমানকে অবাক করে দিয়ে আরজু দু হাতে আরমান কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।

আরমানের পিঠের পাঞ্জাবি খুব শক্ত করে খামচে ধরলো, মনে হচ্ছে যেন আরমান পালিয়ে যাবে। আরমান সেটা বুঝতে পেরে আরজু কে আরেকটু শক্ত করে ধরল। আরজু ক্রন্দনরত গলায় অভিযোগ করে বলল,

“আপনি কেন ওই ফিরোজের বন্ধু হলেন? আপনি জানেন ও আমাকে কত কষ্ট দিয়েছে, আমাকে কত অপমান করেছে? ওর জন্য আমি আমার নিজের বাড়িতে প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে পারতাম না। ওর জন্য আমি আমার নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসেছি। ও কত নোংরা নোংরা কথা বলে আমায় জানেন? আমার চরিত্রের উপর আঙ্গুল তোলে। ও বলে ঢাকায় আমি নোংরামি করার জন্য থাকি। ও আমার আপার জীবন শেষ করে দিয়েছে। একটা চল্লিশ বছরের বুড়োর সাথে জোর করে আমার আপার বিয়ে দিয়েছে। ওর সাথে আপনি কেন মিশলেন?”

আরমান অপরাধী গলায় বলল,

“ভুল হয়ে গেছে আমার আরু। কথা দিচ্ছি এমন ভুল আর কক্ষনো হবে না। সেই সাথে আপনাকে এটাও কথা দিচ্ছি আপনার সাথে করা প্রত্যেকটা অন্যায়ের বদলা আমি নেব। আপনি আমাকে যা শাস্তি দেওয়ার দিন তবে আমার থেকে দূরে যাবেন না। আর আমার ভালোবাসায় কখনো সন্দেহ করবেন না। বিশ্বাস করুন আমি সত্যিই ভালোবাসি আপনাকে। আপনি আমার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা, আমার পা’গলি আপনি।”

আরজু আরেকটু শব্দ করে কেঁদে উঠে বলল,

“কিন্তু আপনি কেন ওর সাথে মিশলেন? ও খুব খারাপ, ও একটা জা’নো’য়া’র। ওর চোখে মেয়েদের কোন সম্মান নেই, ও একটা চরিত্রহীন। যত ধরনের অবৈধ ব্যবসা আছে সব কিছুর সাথে ও জড়িত, নিয়মিত পতিতালয়ে ওর যাতায়াত আছে। এমন একটা অমানুষের সাথে আপনি কেন সম্পর্ক রাখবেন? ওই জা’নো’য়া’র’টার সাথে কেন আপনি হেসে হেসে কথা বলছিলেন? ও যখন আপনার সামনে আমায় বলল বউ বানাবে আমাকে তখন আপনি কেন ওকে কিছু বললেন না, কেন ওকে ছেড়ে দিলেন?”

আরমান আরজুর মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

“সবকিছুর প্রতিশোধ নেব আমি কথা দিলাম। যে জিভ দিয়ে ও আমার আরু কে নোংরা কথা বলেছে ওই জিভ আমি টেনে ছিড়ে ফেলবো। বিশ্বাস করুন আরু আমি সত্যিই জানিনা ফিরোজ কি করে, কেমন মানুষ। ও শুধু আমার থেকে সাহায্য চেয়েছিল ওর বোনকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আর আমি শুধু এতোটুকুই করেছি।”

আরজু আর কিছু বলল না। চুপচাপ আরমানকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলো।

বেশ অনেকক্ষণ যাবৎ আরমানকে জড়িয়ে ধরে থাকার পর আরজুর কান্না থামলো। হঠাৎ করেই আরজু অনুভব করলো আরজু অনেক বড় ভুল করে ফেলেছে। এভাবে আরমানকে জড়িয়ে ধরা ঠিক হয়নি। তৎক্ষণাত আরমানকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসলো। হালকা তুতলিয়ে বলল,

“আমি এখনও আপনাকে বিশ্বাস করিনি।”

আরমান এবার একটু হেসে উঠলো। মেঝের উপর ভালো করে বসে আরজুর দুই গাল টেনে দিয়ে বলল,

“পাগ’লিটা আমার একদম বোকাদের মতন কথা বলে।”

আরজু বিস্ময় ভরা কণ্ঠ বলল,

“এটা কি করলেন?”

“গাল টেনে দিলাম আমার পাগ’লির, আদর করলাম।”

আরজুর মুখ ভঙ্গি গম্ভীর হয়ে উঠলো। গম্ভীর গলায় আরমান কে উদ্দেশ্য করে বলল

“ফিরোজের সাথে পরিচয় কি করে হলো আপনার? কতদিনের পরিচয়, কি কি সাহায্য করেছেন ওকে, আপনাদের বন্ধুত্ব কতটা গভীর, আপনি ওকে কতটা ভালো মানুষ ভাবেন সব বলুন?”

আরমান একটা লম্বা শ্বাস টেনে বলা শুরু করল,

“একদিন রাতে আমার বড় আব্বুর বাড়ি থেকে আমি আমার বাড়িতে ফিরছিলাম। বাইক নিয়ে এসেছিলাম। তো গেটের বাইরে আসার পর একটু দূরে যেতেই দেখি একজন লোককে কয়েকজন মিলে মা’রধ’র করছে। লোকটাও পাল্টা মা’রার চেষ্টা করছে তবে এত মানুষের সাথে ঠিক পেরে উঠছে না। তারপরে আমি গিয়ে হিরোদের মতন টুকটাক মা’রা’মা’রি করে লোকটাকে বাঁচালাম এবং সেই লোকটাই ছিল ফিরোজ। বেশ ভালোই আঘাত পেয়েছিল এবং ওকে ছু’ড়িও মা’রা হয়েছিল। ওকে হাসপাতালে ভর্তি করালাম, সারারাত ছিলাম ওখানে, রক্তের ব্যবস্থা করে দেই, সব ফরমালিটিস পূরণ করি হাসপাতালের।”

আরজু গম্ভীর গলায় বলল,

“তারপর?”

“তারপর আর কি। সুস্থ হওয়ার পর যখন জানলো আমি এত কিছু করেছি আমার উপর ভীষণ কৃতজ্ঞ হলো। মানে ওর কৃতজ্ঞতার কোন সীমা ছিল না।”

আরজু নাক মুখ কুঁচকে বলল,

“কি দরকার ছিল ওকে বাঁচানোর? ম’রতে দিতেন।”

“এভাবে কি করে ম’রতে দিতাম আরু?”

আরজু কপাল কুঁচকে বলল,

“দরদ উতলে পড়ছে? আপনি জানেন ও সেদিন ম’র’লে কত মানুষের জীবন বেঁচে যেত? আমার জীবনটা কতটা সহজে উঠতো? কত মেয়ের সম্মান রক্ষা হতো? কিছু জানেন না আপনি। কি ভাবছেন ওকে বাঁচিয়ে মহান হয়ে গেছেন? এই সমাজের একটা আবর্জনা বাড়িয়েছেন আপনি। আসলে আপনার থেকে ভালো কিছু আশা করাই যায় না।”

আরমান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

“ভুল হয়ে গেছে। পরেরবার আর বাঁচাবো না।”

“তারপর বলুন।”

“তারপরে আর কি। ফিরোজের নজরে আমি ভালো মানুষ হয়ে যাই, যেটা আজ পর্যন্ত আপনার নজরে হতে পারিনি আর কি। ফিরোজ আমার থেকে আরেকটা সাহায্য চায় ওর বড় বোনের ব্যাপারে যিনি দীর্ঘ দশ বছরেরও অধিক সময় হলো নিখোঁজ।”

আরজু আনমনে বলে উঠলো,

“আমার বড় আপা। অনেক ছোট তে দেখেছিলাম। বড় হওয়ার পর ছবিতে দেখেছি। জানিনা কোথায় চলে গিয়েছিল, কেউ খোঁজ পাইনি আমরা।”

আরমান ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,

“আপনার আপা কি করে?”

“ফিরোজ আর আমি চাচাতো ভাই বোন। ঐ কু’লা’ঙ্গার জা’নো’য়া’র আমার বড় আব্বুর ছেলে। অমানুষ কোথাকার। ওর থেকে রাস্তার কুকুর হাজার গুণ ভালো আছে। আমি যদি কখনো দেখি ও রাস্তায় পড়ে ম’রে যাচ্ছে, মৃ'ত্যু'র আগে ও এক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার করছে তবুও আমি ওর মুখে পানি দেবো না। সবাই বলে কেউ মা’রা গেলে নাকি তাকে ক্ষমা করে দিতে হয় কিন্তু আমি ওকে তাও ক্ষমা করব না। আমি ওকে এতটা ঘৃণা করি যে ওকে মৃ'ত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখলে আমি হাসবো। যদি কখনো কোনদিন শুনি ও হুট করে মা’রা গেছে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাবো। জানেন আমি আমার মোনাজাতে চেয়েছি যেন ও খুব তাড়াতাড়ি মা’রা যায়। আমি দুজন মানুষের মৃ'ত্যু কামনা করি, এক ও আর এক আমার নিজের ভাই। এরা যেদিন মা’রা যাবে সেদিন আমি খুব খুশি হব। আমার নিজের মৃ'ত্যুতে কোন আফসোস নেই কিন্তু আমি এদের দুজনের মৃ'ত্যু নিজ চোখে দেখে যেতে চাই।”

আরমানের গলাটা শুকিয়ে উঠলো। মাঝে মাঝে আরজু কেমন ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর কথা বলে, শুনে মনে হয় কত নির্দয় মেয়েটা। তবে আদৌ কি আরজু এতটা নির্দয়? যার মৃ'ত্যু কামনা করছে আদৌও কি সেই মানুষটার মৃ'ত্যুতে এতটা কঠিন হয়ে থাকতে পারবে? হয়তো পারবে। আরজুর দ্বারা হয়তো সবই সম্ভব।

হুট করে আরমানের মনে একটা প্রশ্ন এলো। যদি আরমান মা’রা যায় তবে কি আরজু খুশি হবে, না কষ্ট পাবে? নিজের প্রশ্নটা মনের মধ্যে দাবিয়ে রাখতে না পেরে করেই ফেলল,

“আচ্ছা আরু যদি কখনো খবর পান আমি আর নেই, যদি কখনো খবর পান আমি আর কখনো আপনাকে পা’গলি বলে ডাকবো না, আদর করে আপনার গাল দুটো টেনে দেওয়ার জন্য আমি আর থাকব না তবে কি আপনি কষ্ট পাবেন?”

এমন একটা প্রশ্ন আরজু আশা করেনি। এ বিষয়ে কখনো ভাবেওনি তাই উত্তরটা আরজু জানে না। কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে আরমানের দিকে তাকিয়ে থাকলো। আরমানের হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে গেছে। কে জানে আরজু কি উত্তর দেবে। কোন কঠিন উত্তর কি দেবে আরজু যা শুনে আরমান কষ্ট পাবে?

আরমানের এসব ভাবনার মাঝেই আরজু আনমনে বলে উঠলো,

“আমাকে কাঁদানো খুব কঠিন আরমান। তবে আজ সারাটা দিন আমি আপনার জন্য কেঁদেছি। আমি কেন কেঁদেছি জানেন? কারণ আমার বারবার মনে হচ্ছিল আপনি আমায় ঠকিয়েছেন। আমি নিতে পারছিলাম না এসব। আপনি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এই ব্যাপারটা আমি কোনমতেই মানতে পারছিলাম না। কেন মানতে পারছিলাম না বলুন তো?”

আরমান অবুঝের ন্যায় পাল্টা প্রশ্ন করল,

“কেন?”

আলতো হাসলো আরজু। আরমান যেহেতু নিজেও জানে না তাই আরজু এই প্রশ্নের উত্তর আর দেবে না।

“যেদিন আপনি নিজে এই প্রশ্নের উত্তরটা বুঝতে পারবেন সেদিনই আমি দেবো।”

“এতোটুকু তো বলুন যে আমি মা’রা গেলে কাঁদবেন কিনা?”

“কাঁদবো কিনা জানিনা। তবে আমি খুঁজবো আপনাকে। আপনি না থাকলে আমি আপনাকে খুঁজবো। সারা দুনিয়া খুঁজে যখন আপনাকে আমি পাব না, যখন আর কেউ আমায় পাগ’লি বলে ডাকবে না, আমার গাল দুটো টেনে দেবে না তখন হয়তো কাঁদবো। আবার এমনও হতে পারে হাসবো। হয়তো ভালো লাগবে যে এখন আর আমার জীবনে আমায় বিরক্ত করার মতন কোনো ঝামেলা নেই।”

আরজুর শেষের কথাটায় আরমানের ভালোলাগা নিমেষের মাঝে হারিয়ে গেল। আরমান বুঝলো আরজু ইচ্ছে করেই শেষের কথাগুলো বলল আরমানকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। মেয়েটা মোটেও সুবিধার না। আরমানকে কষ্ট দিলেই যেন শান্তি পায়। কি ভেবেছে এর প্রতিশোধ আরমান নেবে না? একদিন আরমানও হারিয়ে যাবে। দেখবে তখন কি করে এই মেয়ে না কেঁদে থাকে।

বিজ্ঞাপন
তোর পিরীতে পাগল হইলাম রে গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় চমৎকার একটি সামাজিক গল্প