অনেকগুলো দিন পর আজ পুরো পরিবার আবারো এক হয়েছে। রাতের খাওয়ার সময় ডাইনিং টেবিলে তাদের আড্ডার আসর জমে উঠেছে। যদিও এখনো খাওয়া কেউ শুরু করেনি। তার কারণ আরমান এখনও এসে উপস্থিত হতে পারেনি। অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর অবশেষে তানভীর বিরক্তিকর কণ্ঠে বলে উঠলো,
“ওর জন্য আরো কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে? ও কি কোন প্রধানমন্ত্রী নাকি যে ও না আসা অব্দি আমি খেতে পারব না?”
মুহিব হোসেন গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
“প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই, তোমার ভাই জন্য ও না আসা অব্দি খেতে পারবে না।”
তানভীর আরো কিছু বলতে চাইলো তবে তার আগেই মুহিব হোসেনের চোখ রাঙানিতে থেমে গেল। সাহস হলো না আর কিছু বলার। তবে মনে মনে ইচ্ছেমতো গালি দিল আরমানকে। সেই সাথে ভাবলো নিশ্চয়ই মুনতাসিরের সাথে সময় কাটাচ্ছে সেজন্য আসতে দেরি হচ্ছে।
শো রুম থেকে বেরিয়ে গেল তো মুনতাসির কে সাথে করে নিয়ে। কেন তানভীরও তো ওখানে ছিল ওকে নিয়ে যেতে পারত না? পারতো। কিন্তু না, মুনতাসিরকেই নিয়ে যেতে হবে। তানভীর তো আর আরমানের ভাই না, মুনতাসির আরমানের ভাই। তানভীর কে?
তানভীরের এসব ভাবনার মাঝে কলিং বেল বেজে উঠলো। কারোরই আর বুঝতে বাকি রইলো না যে আরমান এসে গেছে। হিমি গিয়ে দরজা খুলে দিল।
আরমানের হাতে অনেকগুলো খাবারের ব্যাগ। সেগুলো টেবিলের উপর রেখে সরাসরি আগে তানভীর কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তানভীর, আমি না সবার জন্যে তাদের পছন্দের খাবার নিয়ে এসেছি কিন্তু তোর কথা মনে ছিল না। তাই তোর জন্য আনতে পারিনি রে।”
তানভীর তাচ্ছিল্য গলায় বলল,
“তুই কখন খাবার আনবি আমি তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম নাকি? তুই আনলেও তো খেতাম না।”
আরমান স্বাভাবিক গলায় বলল,
“তাহলে তো ভালোই হলো আমার টাকাও বেঁচে গেল।”
তানভীর তেঁতে উঠে বলল,
“আমার বেলাতেই তো তোর টাকা বাঁচাতে হবে! এখনই মুনতাসির বলতো না কেন তুই বাংলাদেশের বাইরে থেকে হলেও ওর পছন্দের খাবার আনতি। অথচ আমার কথা তোর মনে নেই।”
তানভীরের বোকামি তে উপস্থিত প্রত্যেকে সত্যিই না হেসে পারল না। ছেলেটা মজাও বোঝেনা। তাওকীর কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর গলায় বলল,
“তোর কি বুদ্ধি নেই তানভীর? সবার জন্য আনলে তোর জন্য আনবে না কেন?”
“তো সেটা ওকে জিজ্ঞেস করে না ভাই। ও কেন আনেনি আমার জন্য?”
“এনেছে, শুধু তোকে রাগানোর চেষ্টা করছে আর তুইও রেগে গেলি।”
কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেল তানভীর। সত্যি কি তবে বোকামি করে ফেলল? যদি আরমান এনেই থাকে ওর জন্য খাবার তবে এমনটা বলল কেন? আর এখানে সবাই তানভীরের দোষটাই দেখল। আরমান যদি না রাগাতো তবে তো রাগতো না তানভীর।
তবে এখন আর কিছু বলার ইচ্ছে হলো না। থেমে গেল। আরমানও আর খোঁচাতে চাইলো না তানভীরকে। আপাতত চুপচাপ বসে পড়লো।
টুকটাক কিছু কথাবার্তা হতে হতে সবাই খাওয়া শুরু করলো।
খাওয়া-দাওয়ার এক পর্যায়ে আরমানের বাবা মিজান হোসেন আরমান কে উদ্দেশ্য করে গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
“এত রাত অব্দি কোথায় ছিলে? কি এমন কাজ করো তুমি?”
ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আরমান এখন বলতে পারল না যে আরজুর সাথে ছিল। খুব চটপট একটা অজুহাত বানানোর চেষ্টা করে বলল,
“মুনতাসিরের সাথে ছিলাম। আসলে ও আজ হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছে। তো অনেকদিন হলো ঘোরাফেরা করা হয় না তাই একটু ঘুরলাম ওকে নিয়ে।”
মিজান হোসেন এক কথাতেই বোধহয় বিশ্বাস করলেন। আরমানের পাশের চেয়ারে বসা আমেনা বেগম নিজের খাওয়া থামিয়ে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,
“এই ঠান্ডার দিনে এত রাত অব্দি বাইরে থাকতে নেই বাবা। একা থাকিস ঢাকা শহরে যদি একটা অসুখ-বিসুখ করে কে খেয়াল রাখবে?”
তানভীর ব্যঙ্গাত্মক গলায় বলে উঠলো,
“কেন চাচি ওর মুনতাসির আছে তো। ঠিক খেয়াল রাখবে। জানো তো আমার মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় দুটোকে, ওদের সম্পর্কটা ঠিক কোন পর্যায়ে আছে। এই সত্যি করে বলতো তুই আবার ছেলেদের কে পছন্দ করিস না তো? না হলে ওর সাথে এতো সারাদিন চিপকে থাকিস কেন?”
তানভীরের কথা শুনে আরমানের খাওয়াটা গলায় আটকে গেল। তাড়াহুড়ো করে পানি খেয়ে নিল। তাওকীর আবারও ধমক দিয়ে তানভীরকে বলে উঠলো,
“এখানে যে পুরো পরিবার বসে আছে সেটা কি ভুলে গিয়েছিস? এসব কোন ধরনের বেয়াদবি?”
তানভীর গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“তুমি একবার ওকে জিজ্ঞেস করে দেখো না ভাই আমি নিশ্চিত ও মেয়েদের কে না ছেলেদেরকে পছন্দ করে।”
তাওকীর এবার আর বলার মতন কোন শব্দ খুঁজে পেল না। এত বড় একটা ছেলে কে আর কত ধমক দিয়ে চুপ করানো যায় যদি সে নিজে চুপ করতে না চায়।
তবে এবারে আরমান চুপ থাকতে পারলো না। এতক্ষণে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তানভীরকে একটা ধমক দিয়ে বলে উঠলো,
“একটা চ'ড় লাগিয়ে আবার হাসপাতালে রেখে আসবো তোকে। মুনতাসির বিবাহিত। আর তুই কি বললি আমার ছেলেদেরকে পছন্দ? ছিঃ!”
তানভীর ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,
“সত্যি বিবাহিত ও? বিশ্বাস হচ্ছে না আমার।”
“আরে হ্যাঁ রে বাবা ও বিবাহিত। এমনি এমনি ওকে বিবাহিত বানাবো কেন? আমার তো ইচ্ছে ছিল তনুশ্রীর সাথে ওর বিয়ে দেওয়ার। তবে ওর বিয়ে হয়ে গেছে শুনে আমার মনটাই ভেঙ্গে গেছে।”
চুপচাপ মন দিয়ে খেতে থাকা তনুশ্রীর খাবার হাতটা থেমে গেল। বুঝতে পারলো ঝগড়া আরো ভালোভাবে লাগবে এবার। এবং হলোও তাই। তানভীর হুংকার ছেড়ে বলে উঠল,
“তুই বললেই বিয়ে দিয়ে দিতাম নাকি? ওই ছেলের সাথে আমাদের বংশের মেয়ের বিয়ে দেবো ভাবলি কি করে? তোর এত ভালো লাগে তুই বিয়ে করে নে। তনুশ্রী বিয়ে করবে না ওকে।”
আরমান বিরক্তিতে ‘চ’ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করে বলল,
“শুনলি তো বিয়ে হয়ে গেছে তবে এখন আর বিয়ে দেবো কি করে ওর সাথে তনুশ্রীর? তোর মাথায় কি সত্যি কিছু নেই?”
তানভীর পূর্বের ন্যায় হুংকার ছেড়ে বলল,
“না নেই। দরকার নেই আমার মাথায় কিছু থাকার। ওর সাথে তনুশ্রীর বিয়ে হবে না, ইভেন তনুশ্রীর কারো সাথেই বিয়ে হবে না। ওর বিয়ে দেওয়ারই কোন দরকার নেই। এখনকার যুগের ছেলেদের কোন বিশ্বাস আছে নাকি? তার থেকে ভালো বাবা মায়ের কাছে থাকবে ভালো থাকবে সারা জীবন। তোর এত বিয়ে করার শখ তুই করে না। একদম তনুশ্রীর বিয়ের পেছনে লাগবি না।যত্তসব।”
কথাটা বলে তানভীর উঠে গেল। সিঁড়ি বেয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে সোজা নিজের ঘরে চলে গেল। পিছন থেকে তাওকীর, আরমান সহ সবাই অনেক বার করে ডাকলো তবে থামলো না। মুহিব হোসেন চোখ গরম করে কল্পনার দিকে তাকিয়ে থমথমে গলায় বললেন,
“ছেলেকে কেমন শিক্ষা দিয়েছো একবার দেখেছো? পিছন থেকে গুরুজনেরা এতবার করে ডাকলো অথচ তোমার ছেলে একবার পিছন ফিরে তাকিয়ে তাদের ডাকে সাড়া অব্দি দিল না? তোমার বংশের শিক্ষা কি ওর মাঝে ঢেলে দেওয়ার খুব দরকার ছিল?”
এত মানুষের সামনে এভাবে বলায় কল্পনা ভীষণ অপমানিত বোধ করলেন। এক এক করে সবার মুখের দিকে তাকালেন। দেখলেন জেবা ঠোঁট টিপে হাসছে। তবে আমেনা বেগমের অভিব্যক্তি ভীষণ স্বাভাবিক। তাকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি এই কথাটা শুনতেই পাননি। তবে সেটাও কল্পনার সহ্য হলো না। মনে হলো দয়া দেখাচ্ছে ওনাকে।
নিজের রাগ টুকু সামলাতে না পেরে রাগান্বিত গলায় মুহিব হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন,
“দরদ তো বেশি তোমার বংশের প্রতি তবে শিক্ষা আমার বংশ থেকে পেল কিভাবে? কাউকে তো সহ্যই করতে পারে না আমার বাড়ির।”
“তোমার বংশের শিক্ষা পাওয়ার জন্য তো তোমার বাড়ির সবাইকে দরকার নেই, তুমি একাই যথেষ্ট। ঘরে গিয়ে ছেলেকে ভালো করে বোঝাও। রোজ রোজ ওর এমন বেয়াদবি কিন্তু আমি সহ্য করব না।”
দুই ভাই মিলে মুহিব হোসেনকে থামালেন। খাওয়ার টেবিলে আর তেমন কোন কথা হলো না। খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই টুকটাক আড্ডা দিয়ে আরমান ওর মা-বাবাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে যেতে চাইলে মুহিব হোসেন বাধা দিলেন। কোনমতেই তিনি যেতে দেবেন না তাদের কে। সেই সাথে আজ মহিন হোসেন আর জেবাকেও থাকতে জোর করলেন।
আরমান ওনার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে চায় না। তাই পাল্টা কোন তর্ক করল না, নিজেও থেকে গেল।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে আরমান গেল তাওকীরের ঘরে। হিমি তখন তাহি কে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। এত রাতে আরমানকে নিজের ঘরে দেখে তাওকীর একটু অবাকই হলো। অনুমতি দিল ভিতরে আসার। আরমান ভিতরে এসে একটু ইতস্তত গলায় বলল,
“তাওকীর ভাই, তোমার সাথে কিছু কথা ছিল। এখন কি সময় হবে?”
“হ্যাঁ বল।”
“এখানে তো তাহি ঘুমোচ্ছে চলো আমার ঘরে যাই কিংবা বারান্দায় চলো।”
তাওকীর বুঝলো আরমান এমন কিছু ওকে বলতে চাইছে যা চায় না হিমি শুনুক। তবে যেহেতু আরমান কথাটা হিমির সামনেই তুলেছে তাই তাওকীর জানে হিমি না শুনে ছাড়বে না। তবে সেটা আরমানকে বুঝতে দেওয়ার দরকার নেই।
আরমান কে নিয়ে বারান্দায় গেল। তাওকীর নিজ থেকে এগিয়ে কোন প্রশ্ন করল না। আরমানই একটু সময় নিয়ে বলে উঠলো,
“অ্যাক্সিডেন্টের দিন তানভীর তোমার গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিল তাই না?”
তাওকীর বেশ স্বাভাবিক গলায় বলল,
“হ্যাঁ।”
“তবে কি ভাই ধরে নেওয়া যায় যে সেদিন ওদের উদ্দেশ্যে তানভীর কে না তোমাকে মা'রা ছিল?”
তাওকীর কে বিচলিত হতে দেখা গেল না। বরং বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
“দেখ তাওসিফ, সেই দিন আসলে কার কাকে মা'রার উদ্দেশ্য ছিল এ ব্যাপারে নিশ্চিত না আমি। তবে আমার এখন যতদূর মনে হচ্ছে ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃতভাবে করানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবে যেমন অ্যাক্সিডেন্ট হয় তেমনভাবেই অ্যাক্সিডেন্টটা হয়েছিল। কেননা ধর ওদের উদ্দেশ্য যদি আমাকে মা'রার হত তবে তানভীর কে আধমরা অবস্থায় ফেলে রেখে যেতনা। ট্রাকটা পিষে দিয়ে চলে যেত।”
তাওকীরের কথায় যুক্তি খুঁজে পেল আরমান। তবে তাও মন থেকে খচখচানিটা যাচ্ছেনা। সন্দেহ হচ্ছে। অন্তত এই কথাটা মেনে নিতে পারছে না যে অ্যাক্সিডেন্টটা স্বাভাবিক ছিল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবারও প্রশ্ন করল,
“সত্যি কি স্বাভাবিক ছিল ভাই নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে তোমাকে মা'রার উদ্দেশ্য ছিল ওদের?”
তাওকীর একটু হেসে উঠে বলল,
“আমাকে মা'রার উদ্দেশ্য কার থাকবে বল তো? আমার কার সাথে এমন শত্রুতা আছে? শত্রুতা তৈরি হতে পারে এমন কোন কাজ তুই আমাকে কখনো করতে দেখেছিস?”
“প্রশ্নটা তো আমার ওখানেই, হয়তো আমাদের আড়ালে কিছু করেছো। এমন কি কোন কথা আছে যেটা আমি কিংবা আমরা কেউই জানিনা?”
আরমান এবার সরাসরি তাকালো তাওকীরের দিকে তাওকীরের অভিব্যক্তি বোঝার জন্য। যেন মুখে অস্বীকার করলেও যদি সত্যিই এমন কোন ব্যাপার থেকে থাকে তবে তাওকীর কে দেখে সেটা আরমান যেন বুঝতে পারে।
তবে তেমন কিছুই হলো না। কিংবা তাওকীর হয়তো আরমানকে সে সুযোগটাই দিল না। বরাবরের ন্যায় স্বাভাবিক ভঙ্গীতে বলল,
“আমার জীবনে এত গোপনীয়তা নেই। আমি মানুষটা যেমন তেমন ভাবেই তোদের সামনে থাকি সব সময়। যদি আমার কোন কিছু করার দরকার হয় তবে আমি সেটা আড়ালে করার প্রয়োজন মনে করি না। কেননা সবার থেকে আড়াল করতে হয় এমন কোন কাজ আমি কখনো করবোই না।”
না এবারে আর সন্দেহ করা যাচ্ছে না তাওকীর কে। আরমান আর করার মতনও কোন প্রশ্ন পেল না। আরো টুকটাক কিছু কথাবার্তা বলে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়ে আবারো থেমে গেল। পিছন ফিরে তাওকীর কে উদ্দেশ্য করে অপরাধী গলায় বলল,
“আমার কোন কথায় যদি তোমার খারাপ লেগে থাকে তবে আমি ক্ষমা চাইছি তোমার কাছে ভাই। তোমায় কষ্ট দেওয়া কিংবা অপমান করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।”
তাওকীর আলতো হেসে আরমানের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“কোন ব্যাপার না। তোর মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল তুই সেগুলোকে সন্দেহে রূপান্তরিত হতে দেওয়ার আগেই যে আমায় প্রশ্নগুলো করে ফেলেছিস এতে আমি খুশি হয়েছি। শোন, এই ছোট ছোট প্রশ্নগুলোকে কখনো সন্দেহে পরিণত হতে দিবি না। বরং সরাসরি এসে আমাকে জিজ্ঞেস করে উত্তর চাইবি। তাহলে কখনো সম্পর্ক নষ্ট হবে না।”
আরমান মাথা নাড়িয়ে চলে গেল সেখান থেকে। তবে তাওকীর সেখান থেকে তৎক্ষণাৎ গেল না। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো বারান্দায়। বেশ অনেকক্ষণ পর কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করলো। পাশে তাকিয়ে দেখল হিমি।
হিমিকে দেখে মুখে হাসি ফুটে উঠল তাওকীরের। হিমির কোমরের পিছন দিয়ে হাত দিয়ে জড়িয়ে নিল নিজের সাথে। হিমি কিছু বলে ওঠার আগেই তাওকীর বলল,
“তাওসিফ কি জিজ্ঞেস করলো সেটাই জানতে চাইবে তাই তো?”
হিমি হেসে উঠলো। কি করে যে এই মানুষটা হিমির মনের কথা বুঝে যায় কে জানে।
“হ্যাঁ। এখন বলো কি জিজ্ঞেস করলো তাওসিফ?”
“সেটাই, যার জন্য তুমি আজ দুদিন হলো আমার বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছো।”
হিমি আতঙ্কিত গলায় বলে উঠলো,
“তাওসিফ কি কিছু জানতে পেরেছে? সত্যি কি ওরা তোমায় মা'রতে চেয়েছিল?”
“আরে না। বললাম তো তোমায় ওটা একটা স্বাভাবিক অ্যাক্সিডেন্ট ছিল। আমার এমন কোন শত্রু নেই হিমি যে আমায় প্রাণে মা'রতে চাইবে।”
“সত্যি নেই তো? আমি ভয় পাব জন্য লুকোচ্ছো না তো কিছু আমার থেকে?”
তাওকীর এবারও স্বাভাবিক গলায় বলল,
“আমি তো তোমার কাছ থেকে বিয়ের পর থেকে কখনো কিছু লুকোয়নি। তুমি বলো এমন কোন ঘটনা কি তুমি জানো? এতোটুকু তো ভরসা আছে আমার উপরে যে আমি তোমার থেকে কিছু লুকোইনি?”
হিমি অল্প কিছুক্ষণ ভেবে উত্তরে বলল,
“তবে বিয়ের আগের কোন কাহিনী কিন্তু আমি জানিনা। হয়তো তখন কোন শত্রু ছিল তোমার?”
তাওকীর এবার শব্দ করে হেসে উঠে হিমির কথাটা হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে বলল,
“আরে এতদিন কেউ শত্রুতা মনে রাখে নাকি? তখনকার তৈরি হওয়া কোন শত্রুর যদি আমার কিছু করার হতো তবে অনেকদিন আগেই করে দিত।”
“তাও ঠিক।”
হিমি কথাটা বলল ঠিকই তবে তাওকীর জানে এখনও হিমির মন থেকে সন্দেহ দূর হয়নি। মেয়েটা খুবই ভীতু। অবশ্য ভীতু হওয়াটাই স্বাভাবিক। হিমির বাপের বাড়ি তো আর রাজনৈতিক পরিবার না যে ছোটবেলা থেকে এত ঝামেলা দেখে বড় হয়েছে। বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে এসেই যত রাজনীতির ঝামেলা দেখেছে। যদিও তাওকীর রাজনীতিতে খুব একটা বেশি সক্রিয় না। ব্যবসার দায়িত্বটাই বেশি ভালোভাবে পালন করে। তবে ওই আর কি মুহিব হোসেনের সাথে মাঝে মাঝে যাওয়া হয় বিভিন্ন সভা সমাবেশে।
বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ করে হিমি দু হাতে জড়িয়ে ধরল তাওকীর কে। তাওকীর বুঝলো হিমি আরও ভয় পেয়ে গিয়েছে। নিজেও দু তো হাতে পাল্টা জড়িয়ে ধরল। হিমির চুলের ভাঁজে আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে ভরসা দিয়ে বলল,
“চিন্তা করে না এতো। তোমার এত ভালোবাসা ছেড়ে আমি কোথায় পালাবো?”
হিমি ফুপিয়ে কেঁদে উঠে বলল,
“কেউ যদি কেড়ে নেয় তোমায়?”
তাওকীর হিমি কে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
“কারো সেই সাধ্য নেই। তোমার ভালোবাসা আমাকে বদলে দিয়েছে হিমি। তোমার ভালোবাসা আমার জীবনের অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। যে আমাকে এত কিছু দিয়েছে আমি তাকে নিঃস্ব করে দিয়ে চলে যাব না।”
________
ঘরে বসে এখনো সমানে আরমানকে গালাগালি করছে তানভীর। গালাগালি করতে করতেই দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দ হলো। তানভীর চেঁচিয়ে উঠে বলল,
“কে? তাওসিফ নাকি? তুই হলে আগেই বলে দে তোর জন্য এতদূর কষ্ট করে গিয়ে দরজা খুলবো না।”
তবে তানভীরের সন্দেহ অনুযায়ী দরজার বাইরে থেকে আরমানের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো না। একটা মেয়েলি গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো যে নিজের পরিচয় হিসেবে শুধুমাত্র ‘আমি’ শব্দটাই উচ্চারণ করলো।
এতোটুকুই তানভীরের জন্য যথেষ্ট ছিল। খোঁড়াতে খোঁড়াতে তাড়াহুড়ো করে গিয়ে দরজা খুলে দিল। দরজার অপর পাশে দাঁড়ানো তনুশ্রী কে দেখতে মুহূর্তের মাঝে তানভীরের সব বিরক্তি, রাগ হাওয়া হয়ে গেল। তবে তানভীরের সেসব অভিব্যক্তি কে খুব একটা পাত্তা দিল না তনুশ্রী। তানভীর কে পাশ কাটিয়ে চুপচাপ ঘরের ভিতরে এসে গম্ভীর গলায় আদেশ করে বলল,
“দরজা বন্ধ করো।”
তনুশ্রীর আদেশ মোতাবেক তানভীর তাই করলো।
তনুশ্রী ততক্ষণে এসে বিছানার উপর বসেছে। তানভীর খোড়াতে খোঁড়াতে এসে বিছানায় বসলো।
“এত রাতে এসেছো কেন? কেউ দেখেনি তো?”
তানভীরের প্রশ্নে তনুশ্রী কপাল কুঁচকে বলল,
“দেখলে সমস্যা কি? বলতে পারবে না কেন এসেছি? সেই সাহসও নেই নাকি? মানে তোমার যত দম সব শুধু আমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করার সময়ই থাকে?”
তানভীর মিনমিনে কন্ঠে বলল,
“সেটা আমি কখন বললাম। তুমি বলো বিয়ে করবে এখন? তুমি যদি বলো আমি এক্ষুনি গিয়ে বাবাকে বলবো।”
তনুশ্রী হাত উঠিয়ে তানভীর কে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“থাক, এতো ভালোবাসা দেখানোর দরকার নেই। একটা জরুরী কথা বলতে এসেছি সেটা বলেই চলে যাব। তুমি ভাইয়ার সাথে ওভাবে কথা বলো কেন সব সময়? কি ক্ষতি করেছে আমার ভাইয়া তোমার? এই শেষবারের মতন সাবধান করে দিচ্ছি একদম আমার ভাইয়ের সাথে ওভাবে কথা বলবে না, সম্মান দেবে।"
“বাহ্ তনু বাহ্! তুমি শুধু আমার ব্যবহারটাই দেখলে আর তোমার ভাইয়া আমার সাথে কেমন ব্যবহার করে সেসব দেখলে না? তোমার ভাই যে আমার থেকে বেশি মুনতাসিরকে প্রাধান্য দেয় সেসবে তোমার কিচ্ছু যায় আসে না তাই তো? বাকি সবার মত তুমিও শুধু আমার দোষটাই দেখলে।”
তনুশ্রী কিঞ্চিত রাগান্বিত গলায় বলল,
“তোমার মাথায় কি আসলেও কিছুই নেই? ভাইয়া তোমায় কতটা ভালোবাসে তুমি সেটা জানো? কবে বুঝবে তুমি এটা তানভীর যে নিজের মানুষ সব সময় নিজেরই হয়।”
তানভীরও এবারে ঝাঁঝালো গলায় বলল,
“তোমার ভাইয়া আমাকে একটুও ভালোবাসে না। আমাকে দুচোখে সহ্য করতে পারে না ও। পারে না শুধু আমায় গলা টিপে মা'রতে।”
তানভীরের আরো অনেক কিছু বলার ইচ্ছে ছিল, আরমানকে অনেক গালাগালি করারও ইচ্ছে ছিল তবে সেসব সম্ভব হলো না। তনুশ্রীর রাগে লাল টকটকে দুটো চোখই তানভীর কে থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
তানভীর বুঝে উঠতে পারে না সে কি করে এই মেয়ের জালে ফেঁসে গেল। ফাঁসলো তো এমন ভাবেই ফাঁসলো যে নিজের পুরো ব্যাক্তিত্বই বদলে ফেলল। এই মেয়ের সামনে এলে তানভীরের রাগ, ত্যাড়ামি কিচ্ছু খাটেনা।
এমনটা না যে তনুশ্রী জোর করে। বরং তানভীর নিজেই বদলে গেছে তনুশ্রীর জন্য। আর নিজের এই বদলে তানভীরের কোন অভিযোগও নেই।
তানভীরকে চুপ করে যেতে দেখে তনুশ্রী কথা বলার সুযোগ পেল। তানভীরকে শাসিয়ে বলল,
“শোনো তানভীর, শেষবারের মতন বলছি আমার ভাইয়ার সাথে খারাপ ব্যবহার করবেনা। আমার ভালো লাগেনা। এই যে তুমি এখন ভাইয়ার সাথে এমন ব্যবহার করছো একবার ভেবে দেখেছো আমাদের বিয়ের সময় এই নিয়ে কত ঝামেলা হতে পারে? ভাইয়া কি করে তোমার হাতে নিজের বোনকে তুলে দেবে?”
তানভীর ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
“ও কখন তুলে দেবে সেই অপেক্ষায় আমি থাকবো নাকি? তুলে নিয়ে আসব।”
“তোমার এই কথাগুলো বলা অব্দিই। তুমি নিজেও খুব ভালো করে জানো ভাইয়া যদি না চায় এই বিয়ে হবে না। আমি কিন্তু তোমায় আগেই বলেছিলাম যে আমার পরিবার রাজি হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।”
তানভীর অল্প কিছুক্ষণ ভাবনা চিন্তা করে বলল,
“ধরো তোমার ভাইয়া রাজি হলো না তবে তুমি আমায় ছেড়ে দেবে? ওর পছন্দ মত ছেলেকে বিয়ে করে নেবে?”
“বিয়ে করলে তো তোমাকেই করব। যদি আমায় ভাইয়ার কথা রাখতে গিয়ে তোমায় ছাড়তে হয় তবে ভাইয়াকেও আমার কথা রাখতে হবে। অন্য কোথাও আমার বিয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু আমি এটা খুব ভালো করে জানি তুমি দুদিনের মাঝে আমায় ভুলে গিয়ে নতুন কাউকে বিয়ে করে নেবে।”
কথাটা বলে তনুশ্রী ভেংচি কাটলো। তানভীর আলতো হেসে বলল,
“জীবনে প্রথম কোন বিষয় নিয়ে যদি সিরিয়াস হয়ে থাকি তবে সেটা তুমি তনু। জানো আমার মতন মানুষদের এই একটা জ্বা'লা, আমরা কোন বিষয় নিয়ে জীবনে সিরিয়াস হই না। তবে যদি হই তবে সেটা আমরা পেয়েই ছাড়বো। সেটা কোনমতে আমরা হাতছাড়া হতে দেব না। তুমি আমার জীবনে ঠিক তেমনি যাকে আমি হারাতে পারবো না।”
তনুশ্রী সন্তুষ্ট হলো। নিজের সমস্ত রাগ অভিমান ভুলে গেল। তানভীরের মাথার ব্যান্ডেজে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“এখনো ব্যথা করে? খুব লেগেছিল তাই না?”
তানভীর আলতো হেসে বলল,
“এখন আর ব্যথা করছেনা। এই যে তুমি হাত বুলিয়ে দিলে, এটারই অভাব ছিল।”
তনুশ্রী আবারো কিছু বলতে চাইলো তবে সেই সুযোগ পেল না। তার আগেই আবারো দরজায় কারো করাঘাতের শব্দ হলো। দুজনেই লাফ দিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। তনুশ্রী আতঙ্কিত গলায় বলল,
“এখন আমি কোথায় যাবো? কোথায় লুকোবো?”
“তার আগে বলো আমি কোথায় লুকোবো? তোমার ভাই হলে আমি শেষ। আর আমার বিশ্বাস এত রাতে ওই আমাকে জ্বা'লাতে এসেছে।”
“তুমি কিন্তু আবার ভাইয়ার নামে আজেবাজে কথা বলছো। আমি নিষেধ করেছি।”
তানভীর মৃদু বিরক্তিকর গলায় বলল,
“বাদ দাও তো তোমার ভাইয়ার কথা। এখন শোনো, আপাতত তুমি শুধুমাত্র আমার চাচাতো বোন। এর থেকে বেশি আর কিচ্ছু না। তোমার ভাই অসুস্থ, কথা বলতে আসতেই পারো তাই না? এতদিন পর দেখা হয়েছে গল্প করতেই পারি আমরা। স্বাভাবিক থাকো।”
তনুশ্রী জোরে জোরে কয়েকটা শ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো। তারপর তানভীর কে বলল দরজা খুলে দিতে। তানভীর গুটিগুটি পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে খুবই সাবধানে ছিটকিনিটা খুলে দিল যেন একটুও শব্দ না হয় এবং সৌভাগ্য ক্রমে শব্দ হলোও না।
দরজা খুলে সামনে তাওকীর কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। ভয়টা আরো বাড়লো। তবে না, এখন ভয় পেলে চলবে না। নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,
“দরজা তো খোলাই ছিল ভাই ধাক্কাচ্ছিলে কেন? ভিতরে চলে আসতে। তোমার অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই।”
তৎক্ষণাৎ তাওকীরের চোখ পড়লো ঘরের ভিতরে বিছানার ওপরে বসে থাকা তনুশ্রীর দিকে যার হাতে তানভীরের ফোন। ফোনে কি যেন দেখছে আর হাসছে। তাওকীর কপাল কুঁচকে তানভীর কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“দরজা খোলাই ছিল?”
তানভীর বেশ স্বাভাবিক গলায় বলল,
“হ্যাঁ খোলাই ছিল।”
“ওহ্। তাহলে বোধহয় আমি বুঝতে পারিনি। চল ভিতরে যাব।”
তানভীর চুপচাপ সরে দাঁড়ালো দরজার সামনে থেকে। এতক্ষণে তনুশ্রী তাওকীর কে দেখলো এমনই ভাব করলো। হাতে থাকে ফোনটা বিছানার উপর রেখে তানভীর কে উদ্দেশ্যে করে বলল,
“তানভীর ভাইয়া আমি তবে এখন আসি। আবার কাল এসে লুডু খেলব কেমন? তুমি এখন ঘুমিয়ে পড়ো।”
তাওকীর আবারো ভ্রুঁ কুঁচকে সন্দেহী গলায় বলল,
“তোরা লুডু খেলছিলি?”
তনুশ্রী হাস্যোজ্জ্বল গলায় বলল,
“হ্যাঁ ভাইয়া। তানভীর ভাইয়া একা একা বোর হচ্ছিল তাই আমাকে ডাকলো। তাশরিফ ও ছিল এতক্ষন। একটু আগেই চলে গেল, ও তো আবার ঘুম কাতুড়ে।”
অবিশ্বাস করার কোন কারণ নেই সেজন্য আর তাওকীর অবিশ্বাস করল না। ওদের থেকে বিদায় নিয়ে তনুশ্রী চলে গেল।
তানভীর বিছানার ওপরে বসে তাওকীর কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“এত রাতে তুমি হঠাৎ ভাই? কিছু বলবে?”
তাওকীর বিছানায় তানভীরের পাশে বসে মাথার ব্যান্ডেজ হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“ব্যাথা কমেছে? ওষুধ খেয়েছিস রাতে?”
“হ্যাঁ খেয়েছি। ব্যথা অনেকটা কমেছে, তবে এখনও আছে।”
“শোন, কয়েকদিন বাইরে বেরোনোর দরকার নেই। আর অযথা কারো সাথে ঝামেলা করবি না।”
তানভীর মাথা নাড়িয়ে সায় জানাতেই তাওকীর আবারও তানভীরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদূরে গলায় বলল,
“শোন তানভীর, তোর বয়সটা খুব ভয়ঙ্কর। আমি নিজে পেরিয়ে এসেছি এই সময়টা তাই আমি জানি। তাই বলছি যা করবি ভেবেচিন্তা করবি। যদি কোন কিছু নিয়ে চিন্তা হয় আমাকে এসে সরাসরি জানাবি। যদি কখনো মনে হয় যে কোন ভুল করে ফেলেছিস আগে আমাকে জানাবি। আমার ভুলগুলো ঢাকার জন্য যেমন বাবা ছিল তেমনি তোর ভুলগুলো ঢাকার জন্য আমি আর বাবা দুজনেই আছি।”
তানভীর সন্দিহান গলায় বলল,
“তোমার কি অন্যায় বাবা ঢেকেছিল?”
“না তেমন কোন অন্যায় ছিল না আমার। আমি শুধু তোকে বোঝাতে চাইছি যে আমার জন্য যেমন বাবা ছিল তোর জন্য আমি আর বাবা দুজনেই আছি। আবারো বলছি তোকে, এই বয়সটা খুব খারাপ। কখন কিভাবে কোন অন্যায়ের সাথে জড়িয়ে যাবি বুঝতেও পারবি না। আর আমি জানি তুই খুব বোকা।”
তাওকীরের শেষের কথায় তানভীর তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলল,
“আমি বোকা না। তোমাদের চোখে তো শুধুমাত্র তাওসিফকেই চালাক মনে হয়। আমার মনে ওর মতন এত প্যাঁচ নেই।”
তাওকীর হেসে উঠে বলল,
“সেই জন্যই তোকে বোকা বললাম। তাওসিফ তোর ভালো চায়। সব সময় ওর সাথে সাথে থাকবি, ও যা বলে সেটা শুনবি। যদি কখনো তোকে উপদেশ দেওয়ার জন্য, তোর ভুলগুলো ঢাকার জন্য আমি না থাকি তবে দেখিস তাওসিফ তোকে বাঁচাবে।”
ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তানভীর আর কিছু বলতে পারলো না। তানভীরকে কেউ এই কথাটা বিশ্বাস করাতে পারবে না যে আরমান ওকে বাঁচাবে।