আরজুদের বাড়ির পিছন দিকটায় মস্ত বড় একটা পুকুর আছে। পুকুরটা যদিও এখন আর কোন কাজের না। পুকুরের পানিতে শ্যাওলা জমেছে। আগে মাছ চাষ করা হতো কিন্তু এখন আর সেসব করা হয় না। সে পানিতেই এখন সাপের দেখাও পাওয়া যায়। অযত্নে অনেক গাছ বেড়ে উঠেছে যার ফলে জায়গাটা দেখতে জঙ্গলের থেকে কম মনে হয় না।
নাসিমার এমন একটা জায়গায় ফিরোজকে ডাকার যৌক্তিক কোনো কারণ ফিরোজ খুঁজে পেল না। বিরক্ত হয়েছে ঠিকই তবে না এসে উপায় নেই। কিছু জায়গায় ফিরোজের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঠিক তেমন একটা মানুষ নাসিমা যার ডাক উপেক্ষা করার ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে ফিরোজের নেই।
পুকুর পাড়ে এসে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো ফিরোজ তবে নাসিমার দেখা পেল না। দুপুরের এই সময়টাতে ফিরোজ সচরাচর ঘুমোয় তবে আজ নাসিমার ডাক পড়ায় ঘুমোতে পারেনি। পরনে তার ঘরে পরার সাধারণ লুঙ্গি আর সাদা স্যান্ডোগেঞ্জি। চুলগুলো বরাবরের মতো এলোমেলো। সেগুলো লম্বা হয়ে ঘাড় ছুঁয়েছে। কাটতে হবে ফিরোজ সেটা নিজেও জানে তবে সেলুনে যাওয়াই হচ্ছে না।
প্রায় আধা ঘন্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর অবশেষে নাসিমা কে আসতে দেখল ফিরোজ। কেমন চোরের মতন ঘোমটা টেনে নিজের মুখটা কে আড়াল করে আসছে। ফিরোজ ভ্রুঁ কোঁচকালো নাসিমা কে এভাবে আসতে দেখে।
নাসিমা কাছাকাছি আসতেই কপাল কুঁচকে বলল,
“এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে আসার কি আছে? আমার সাথে দেখা করতে এসেছো, কোন অসুবিধা হলে আমি বুঝে নেব।”
নাসিমা গম্ভীর গলায় বললেন,
“না থাক তোকে ভাবতে হবেনা আমার কথা। কিছু দরকারি কথা ছিল তোর সাথে।”
“সেটা শোনার জন্যই এসেছি, বলো।”
“আজ সকালে প্রার্থনা কে দেখলাম। ওর শরীরের অনেক জায়গা মা'রের দাগ, মেয়েটা কেমন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল এর কারণ কি?”
ফিরোজ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“স্বামীর হাতে হয়ত মা'র খেয়েছে।”
ফিরোজের থেকে এর বেশি কিছু আশা করা যায় না। নাসিমা আশা করছেনও না। ফিরোজ সহানুভূতি দেখানোর মতন মানুষ না। ফিরোজ কেবল বোঝে নিজের স্বার্থ টুকু। এর থেকে বেশি আর কিছু বোঝে না। নাসিমা তাই ঠিক করেই এসেছে ফিরোজের সেই স্বার্থটুকুই কাজে লাগাবে।
“আজকের পর থেকে যেন আমার মেয়ে ওর স্বামীর হাতে মা'র না খায় সেই বিষয়টা তুই দেখবি, তোর দায়িত্ব এটা।”
ফিরোজ ব্যাঙ্গাত্মক গলায় বলল,
“তোমার সত্যি মনে হয় আমি এই দায়িত্বটা নেব? প্রার্থনা ম'রলো কি বাঁচলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার ভাই যদি ওকে মে'রে পুঁতেও রাখে তাও আমি কিছু করবো না। কারণ ওর সাথে আমার কোন স্বার্থ জড়িয়ে নেই।”
নাসিমা ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বলল,
“সত্যি তোর কোন স্বার্থ জড়িয়ে নেই? একবার ভালো করে প্রশ্ন করে দেখ তো নিজেকে কি উত্তর আসে ভেতর থেকে?”
নাসিমা যে ঠিক কোন দিকে ইঙ্গিত করল সেটা ফিরোজ বুঝলো ঠিকই তবে নিজের দুর্বলতা দেখাতে চাইলো না। পূর্বের মতনই গা ছাড়া ভাব দেখিয়ে বলল,
“আমার কোন স্বার্থ জড়িয়ে নেই।”
“আমি জানি ফিরোজ প্রার্থনা কে প্রাণে মা'রতে দিবি না তুই। কিন্তু রোজ রোজ এই শারীরিক আর মানসিক অত্যাচার হোক আমার মেয়ের উপর সেটা আমার ভালো লাগবে না। তাই বলছি আজ থেকে যেন তোর ভাই আমার মেয়ের গায়ে হাত না তোলে।”
ফিরোজ এবারে চোখ গরম করে নাসিমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি বললাম তো আমি পারবো না।”
“আমাকে মুখ খুলতে বাধ্য করিস না। তুই জানিস আমি একবার মুখ খুললে অনেক কিছু বদলে যাবে, অনেকে অনেক নতুন রহস্যের খোঁজ পাবে। তাই বলছি আমায় মুখ খুলতে বাধ্য করিস না।”
ফিরোজের মাথায় র'ক্ত চড়ে গেল। তবে নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ফিরোজকে। ফিরোজের জীবনের এমন এক গোপন অধ্যায়ের সন্ধান নাসিমা জানে যা ফিরোজ আর কাউকে জানাতে চায় না। নাসিমা ব্যতীত আর কেউ জানেও না ফিরোজের সবথেকে দুর্বল জায়গাটা সম্বন্ধে।
ফিরোজ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল,
“আমার দুর্বল জায়গায় আঘাত করো না। এমন ভাবে এর শোধ তুলবো তোমার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠবে কিন্তু!”
“আমার অন্তর কি তোরা নরম রেখেছিস যে সেটা কেঁপে উঠবে? পাথর বানিয়েছিস তো। পাথর যখন বানিয়েছিস সেই পাথরের দেয়া আঘাত সহ্য করবি না তা কি করে হয়? মনে রাখিস যদি আর কখনো প্রার্থনার গায়ে ছোট্ট একটা আঁচড়ের দাগও দেখেছি তবে অনেক কিছুই বদলাবে।”
কথাটা বলে নাসিমা চলে যেতে নিলে ফিরোজ পিছন থেকে ডাকলো। নাসিমা থামতেই ফিরোজ সন্দেহী গলায় বলল,
“এতদিন যদিও এই বিষয়ে সন্দেহ হয়নি আমার তবে আজ সন্দেহ হচ্ছে। সত্যি করে বলো আরজু কে পালাতে তুমি সাহায্য করেছিলে তাই না?”
ফিরোজের প্রশ্নে নাসিমার অভিব্যক্তি তে বিশেষ কোন পরিবর্তন দেখা গেল না। বরং বেশ স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“তোর কি আমাকে পা'গল মনে হয়? নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এতদিন অনেক লড়াই করেছি। এমন কোন কাজ আমি করিনা যাতে আমার নিজের জীবনের প্রতি কোন হুমকি তৈরি হয়। প্রার্থনার ব্যাপারটা বললাম কারণ এটা আমার হাতের মাঝে ছিল। আর শোন আরজুর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। নিজের জন্য ও নিজেই যথেষ্ট।”
“তবে প্রার্থনার বিয়েটা আটকালে না কেন?”
“তোকে দিয়ে তো আর সব করানো সম্ভব না। তুই বল সম্ভব হতো কি?”
“কখনোই না।”
“তবে এই প্রশ্নটা করে তুই নিজের মূর্খামির পরিচয় দিলি। যা বললাম সেটা মনে রাখিস। আরো একটা কথা, আরজু কে বিয়ে করার স্বপ্ন আর দেখিস না। ওর শরীরে তোদের বংশের র'ক্তই বইছে। ও হয় নিজে ম'রবে নয়তো তোকে মা'রবে, তবুও তুই ওকে পাবি না।”
কথাটা বলে নাসিমা চলে গেলেন। ফিরোজ হাসল। নিজের উপর এক অন্যরকমের আত্মবিশ্বাস ফিরোজের যে ও আরজু কে নিজের করেই ছাড়বে।
_________
চুপচাপ আপন মনে খাবার খেয়ে যাচ্ছে আরমান। অপর পাশের চেয়ারে মহিন হোসেন গালে হাত দিয়ে বসে আছে। কেমন মনমরা দেখাচ্ছে ওনাকে। আরমান খাবার ফাঁকে একবার আড় চোখে ওনাকে দেখে নিলো, তবে কিছু বলল না।
একটু পর জেবা বাটিতে করে মাংস নিয়ে এসে আরমানের সামনে রাখলো। চামচে করে নিজেই আরমানের পাতে তুলে দিলেন সেটুকু। আরমান খেয়ে প্রশংসার কন্ঠে বলল,
“কাকি, তোমার হাতে কিন্তু সত্যি জাদু আছে। আর সেজন্যই খাবারটা খেয়ে মনে হয় কাকা বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।”
জেবা ঠোঁট টিপে হাসল। তবে এবারও মহিন হোসেনের মাঝে বিশেষ কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। জেবা ইশারায় আরমান কে জিজ্ঞেস করলো যে হয়েছেটা কি। আরমান বলল যে ও নিজেও জানেনা।
জেবা এবার মহিন হোসেনের নাম ধরে ডেকে উঠতেই ওনার ধ্যান ভাঙলো। জেবা প্রশ্নাত্মক গলায় বলল,
“কি ভাবছো এত? খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো?”
মহিন হোসেন গা ছাড়া ভাব দেখিয়ে বললেন,
“যাক ঠান্ডা হয়ে। জীবনে তাে আ'গুন লেগে গেছে। সেই আ'গুনের তাপে খাবার এমনিতেই গরম হয়ে যাবে আবার।”
অল্পের জন্য আরমানের মুখ থেকে খাবারটুকু বেরিয়ে গেল না। খুব কষ্টে মুখের অবশিষ্ট খাবারটুকু গিলে শব্দ করে হেসে উঠে বলল,
“আমি একটু পেট্রোল ঢালবো নাকি কাকা?”
মহিন হােসেন রাগান্বিত গলায় বললেন,
“তুই একদম চুপ থাকবি। নিজে তো ঝামেলা পাকিয়ে পরে ফোন বন্ধ করে রাখিস আর যত জ্বা'লা হয় আমার। তুই জানিস কাল থেকে তোর বাবার গালি খেতে খেতে আমার পেট ভরে গেছে? আর ঐদিকে বড় ভাবির ফ্যাচফ্যাচ করে কান্না তো আছেই। কি আর করব বয়সে বড় অসম্মানও করতে পারি না, কিছু বলতেও পারিনা। চুপচাপ শুধু শুনে যেতে হয়।”
আরমান গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
“ফোনটা রিসিভ করে এক পাশে রেখে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে, হয়ে গেল। উনি ওনার মতন বলবে, তোমাকে যে শুনতে হবে তেমনটা তো না।”
“এবার কিন্তু আমি রেগে যাচ্ছি তাওসিফ। তুই আগে আমায় একটা কথা বল, যদি তানভীর কে কোন শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছে নাই থেকে থাকে তোর তবে ওদেরকে বলতে গেলি কেন এসব? তোর কি মনে হয় এতে তানভীরের উন্নতি হবে? মোটেও না। বরং আরো প্রশ্রয় পেয়ে যাবে।”
আরমান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“আমি ওকে বাঁচাইনি কাকা। মুনতাসির ওকে আমার জন্য ক্ষমা করে দিয়েছে আর এটা ওর কপাল ভালো। না হলে কিন্তু মুনতাসিরের হাতে বেশ শক্ত-পোক্ত প্রমাণই ছিল। তবে জানো আমার একটা বিষয় ভালো লাগেনি।”
“কি?”
“বড় আব্বু খুব অন্যায় একটা আবদার করেছিল আমার কাছে যা আমি বড় আব্বুর থেকে আশা করি না।”
“হ্যাঁ শুনলাম।”
পাশে বসা জেবা নাক মুখ কুঁচকে বলল,
“জানো তো তাওসিফ বড় ভাইজানকে আমার না কেমন যেন সন্দেহ হয়। সেই সাথে তাওকীর কেও। মানে মেজো ভাইজানকে যেমন আমি চোখ বন্ধ করে বলতে পারি উনি একজন নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ তেমনটা বড় ভাইজানের ক্ষেত্রে বলতে পারিনা। আর বাকি রইল বড় ভাবির কথা। ওনার সম্পর্কে আমি কিছু বলতেই চাই না। আমি আমার জীবনে এমন মেয়ে মানুষ দেখিনি।”
আরমান আবারও শব্দ করে হেসে উঠে বলল,
“তা ঠিক বলেছ কাকি। আমিও দেখিন ওনার মত মেয়ে মানুষ। তবে হ্যাঁ আমার দেখা আরেকজন অদ্ভুত মেয়ে হলো আমার আরু।”
সবে মাত্র এক লোকমা ভাত মুখে তুলেছিলেন মহিন হোসেন। এর মাঝে আরমানের মুখ থেকে 'আমার আরু' সম্বোধনটা শুনে কাশি উঠে গেল। জেবা তাড়াহুড়ো করে পানি এগিয়ে দিলো।
তবে আরমানের সেদিকে কোন খেয়াল নেই। নিজের ভাবনার জগতে নিজের আরু কে নিয়ে ভাবতে ব্যস্ত। পানিটুকু খেয়ে নিজের কাশি নিয়ন্ত্রণ করে মহিন হোসেন তাকালেন আরমানের দিকে। আরমান মুচকি মুচকি হাসছে। মহিন হোসেন নিজেও একটু লজ্জা পেয়ে গেলেন। আরমানের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেন তবে কোন লাভ হলো না। এবার একটু চেঁচিয়েই উঠলেন তিনি।
“তাওসিফ!”
আরমানের ধ্যান ভাঙ্গলো। বুঝলো বোধ হয় এতক্ষণ ঠিক কি সব বোকামি করেছে।
“হ্যাঁ কাকা, বলো।”
“আমি তোর কাকা হই। একটু তো লজ্জা কর।”
“লজ্জা পাওয়ার কি আছে এখানে? তুমিও কাকি কে ভালোবাসো সেটা তো আমি জানি তবে আমি আমার আরু কে ভালোবাসি এটা বলতে সমস্যা কি?”
আরমানের কথায় সায় জানিয়ে জেবা বলল,
“একদম ঠিক বলেছো তাওসিফ। যাকে ভালোবাসো তাকে ভালোবাসার কথাটা বলতে একদম ভয় পাবে না। তোমার কাকা তো ভীতু। ওর ভালোবাসা সব এই ঘরের মাঝেই। বাইরে গেলে তো হাত ধরে হাঁটতেও লজ্জা পায়। এই ভীতু নাকি আবার মেজর।”
জেবার থেকে প্রশ্রয় পেয়ে আরমান কথা বলতে আরো আগ্রহ খুঁজে পেল। জেবার দিকে ঘুরে বসে বলল,
“জানো কাকি এর আগের দিন আরু আমার হাত ধরে রাস্তা পার করিয়ে দিয়েছে।”
মহিন হোসেন বিস্ময় ভরা কন্ঠে বললেন,
“প্রেমে পড়ে তুই রাস্তা পার হতেও ভুলে গেলি তাওসিফ? কই আমার বেলায় তো এমন হয়নি। জেবা আমি কি এসব করেছি?”
জেবা কটমট করে বলল,
“মাথার চুল আর তোমার এমনি এমনি পাকে নি। আসলেই তুমি বুড়ো হয়ে গেছো।”
“ও মা! আমি তো তোমায় একটা সহজ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলাম।”
জেবা বিরক্তিকর গলায় বলল,
“চুপ করো তো তুমি। তাওসিফ তুমি বলো তারপর কি হলো?”
“তারপর আর কি হবে। আরু আমার হাত ধরে রাস্তা পার করলো আর আমি ওর হাতের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আর তারপর...…”
থেমে গেল আরমান। বলতে ধরেছিল তারপর আরজুর গালটা টেনে দিয়েছে। তবে কেন যেন একটু লজ্জা লাগলো এই কথাটা বলতে। না এটা বোধহয় বলা ঠিক হবে না, বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।
আরমান কে থেমে যেতে দেখে জেবা আগ্রহী গলায় বলল,
“কি হলো বলো তারপর কি?”
“তারপরে কিছু না কাকি। আমার আরু আবারো আমাকে ত্যাড়া, ব্যাকা দু'চারটে কথা শুনিয়ে চলে গেল নিজের রাস্তায় আর আমি চলে এলাম আমার রাস্তায়।”
মহিন হোসেন এবারে বিরক্তিকর গলায় বলল,
“তোর প্রেম কাহিনীটা কিন্তু ঠিক জমছে না তাওসিফ। মানে রোজ রোজ কেমন একই কাহিনী না?”
“রোজ রোজ সেই একই কাহিনী যে ঘটছে এতেই শুকরিয়া করো কাকা। আমি সত্যি ভেবে পাইনা আরু আমার সাথে কথা বলে কেন? সত্যি বলছি তোমরা যদি একবার ওকে দেখতে তবে বুঝতে ও ঠিক কতটা অদ্ভুত।”
জেবা বলে উঠলো,
“তবে নিয়ে এসো একদিন ওকে এখানে।”
আরমান হো হো করে হেসে উঠে বলল,
“ওকে যদি আমি এই কথা বলি ও ভাববে আমি ওকে কিডন্যাপ করতে চাইছি।”
আরমানের কথা শুনে জেবা আর মহিন হোসেন দুজনেই হেসে উঠলো। ওদের হাসি ঠাট্টার মাঝেই মহিন হোসেনের ফোনটা বেজে উঠল। পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখল তাওকীরের নাম্বার থেকে কল এসেছে। মুহূর্তের মাঝে তার অভিব্যক্তিটা বদলে গেল। গুরুতর ভঙ্গিতে আরমান আর জেবা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“চুপ করো। তাওকীর কল করেছে।”
থেমে গেল দুজনে। মহিন হোসেন ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরলেন। ওপাশ থেকে তাওকীর কিছু বলতেই উনি বসা থেকে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আতঙ্কিত গলায় বললেন,
“এখন কেমন আছে?”
অপর পাশ থেকে তাওকীরের কি উত্তর এলো সেটা আরমান কিংবা জেবা কারোরই জানা নেই। মহিন হোসেন হাসপাতালের নাম জিজ্ঞেস করলো। নামটা বলার সাথে সাথে ফোনটা রেখে দিলেন তিনি। ফোনটা রাখতেই এবার আরমান ব্যস্ত গলায় বলল,
“কি হয়েছে কাকা? কে হাসপাতালে?”
“তানভীর। ওর নাকি অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। অবস্থা খুব একটা ভালো না।”
আরমান চমকে উঠে বলল,
“কি বলছো? কখন হয়েছে অ্যাক্সিডেন্ট?”
“দুপুরের একটু আগে হয়েছে। তাড়াতাড়ি চল।”
জেবা চিন্তিত গলায় আরমান কে বলল,
“তুমি বরং যেও না তাওসিফ।”
আরমান ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,
“কিন্তু কেন?”
“ওখানে বড় ভাবিও আছে। আর ওনার আচরণ কেমন সেটা তো খুব ভালো করেই জানো। অযথা আবার তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারে।”
“সে উনি কবে আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে কাকি? আর আমিও তো চুপ থাকি না। চিন্তা করো না, চলো। তাই বলে আমার ভাইয়ের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে আর ওনার ভয়ে আমি বসে থাকবো এটা হয় না। খারাপ হোক, ভালো হোক আমার ভাই তো। ভালো তো আমি ওকে বাসিই শুধু ও গা'ধা জন্য বোঝেনা।”