আরজু কে টেনে আরমান সোজা আমেনা বেগমের কাছে নিয়ে এলো। আমেনা বেগম তখন আরমানের বাইকের কাছে দাঁড়িয়ে আরজুর অপেক্ষা করছিলেন।
আরমানের সাথে একটা মেয়েকে দেখেই আমেনা বেগম আন্দাজ করতে পারলেন এটাই আরজু হবে। তবে আরজু এখনও কোন কিছুই আন্দাজ করতে পারছে না। আমেনা বেগমকে নিশ্চিত করতে আরমান নিজেই পরিচয় করিয়ে দিল,
“মা, ইনি হলেন আরজু, তোমাকে যার কথা বলেছিলাম। তোমার হবু ছেলের বউ। তোমাদের জন্য আরজু আর আমার জন্য আরু।”
আমেনা বেগম খুশিতে গদগদ হয়ে আরজুর গালে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদূরে গলায় বললেন,
“মাশাআল্লাহ। ভারী মিষ্টি দেখতে তো তুমি মা। তবে এত শুকিয়ে গেছ কেন? নিজের যত্ন নাও না মনে হয়। একটু যত্ন নিলে আরো কত সুন্দর লাগতো তোমায় দেখতে। অবশ্যই এমনিতে এখনই তুমি যে সুন্দর তাতে আমার ছেলে তোমার সাথে পারবেনা।”
আরজু মূর্তির মতন চুপচাপ শুনে গেলো আমেনা বেগমের কথাগুলো। এদিকে আরজুর এমন শান্ত ভাব আরমানকে চিন্তায় ফেলে দিল। একটু কথাও বলল না আমেনা বেগমের সাথে। রাগ করলো নাকি? পছন্দ হচ্ছে না এসব?
এদিকে আমেনা বেগম একা একা কথা বলতেই আছেন। মনে হচ্ছে আরজুর সাথে কতদিনের পরিচয় তার। অল্প সময়ের মাঝে কত কি গল্প বলে ফেললেন অথচ মেয়েটা চুপচাপ শুধু শুনেই গেল। কথার মাঝে মাঝে তিনি প্রায়ই আবার গালে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আরজু কে আদর করলেন।
বেশ অনেকক্ষণ পরেও যখন আরজু কোন কথা বলল না, তখন আরমানের চিন্তা বাড়লো। আমেনা বেগমকে থামিয়ে দিয়ে আরজুকে উদ্দেশ্য করে দ্বিধান্বিত গলায় বলল,
“আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন আরু?”
আরমানের কথার প্রেক্ষিতে আমেনা বেগম ওকে হালকা করে ধমক দিয়ে বললেন,
“মেয়েটার নামে অযথা একটা কথা বলছিস কেন? ও কি একবারও বলেছে যে বিরক্ত হচ্ছে? আর বিরক্ত হবে কেন আমি তাে আদর করছি। আমি কি আর পাঁচটা শাশুড়ির মতন নাকি যে আজেবাজে প্রশ্ন করবো? শোনো মা আমার বাড়িতেও একটা মেয়ে আছে তনুশ্রী, তোমার থেকে বোধহয় ছোটই হবে। ওর সাথে না আমার প্রায়ই ঝগড়া হয়। বাড়ির কেউ আমায় বোঝেনা। আমায় বোঝে শুধু আমার এই ছেলেটা। তুমি বাড়িতে এলে তুমিও আমায় একটু বুঝো কেমন? আমরা দুজন মিলে মিশে থাকবো। বাদবাকি ওরা যা পারে করুক গে।”
অনেকক্ষণ পর আরজুর যেন হুঁশ ফিরল। মনে হলো না এবারে কিছু একটা বলা দরকার। পরিচয় পর্বের দীর্ঘক্ষণ পরে আরজু সালাম দিল আমেনা বেগমকে উদ্দেশ্য করে।
এতক্ষণ পর আরজুর থেকে সালাম পেয়ে আমেনা বেগম নিজে যেমন অবাক হলেন ঠিক তেমনি আরমানও চিন্তায় পড়ে গেল। এবার তো নিশ্চিত যে আরজুর কিছু একটা হয়েছে।
তবে আমেনা বেগম কিছু বললেন না, কোন অভিযোগও করলেন না। আলতো হেসে সালামের উত্তর দিলেন।
আরজু এবার ইতস্তত গলায় বলল,
“আমি জানি অনেকক্ষণ পর সালাম দেওয়ায় আপনার হয়তো আমায় একটু পা’গল মনে হচ্ছে। আসলে আমি একটু ভাবনায় ডুবে গিয়েছিলাম। আমার মনে হলো আপনি আমায় আদর করছিলেন। তাই আপনার আদরের মাঝে বাধা দেওয়াটা উচিত হবে না বলে মনে হয়েছে, সেজন্য চুপ ছিলাম।”
আমেনা বেগম খুশি হলেন। আবারো আলতো একটু হেসে বললেন,
“বুঝতে পেরেছি মা। এত কিছু বলতে হবেনা তোমায়, আমি কিছু মনে করিনি। আর তোমায় পা’গল ভাবতে যাব কেন? আমি আমার ছেলেকে ভরসা করি। আমি জানি আমার ছেলে এমন কাউকেই পছন্দ করবে যাকে ওর পরিবারও পছন্দ করবে।”
আরজু আড়চোখে একবার আরমানের দিকে তাকালো। খুব তাড়াতাড়ি আবার নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিল। মনে মনে ভাবছে ছেলেটা কি সত্যি নিজের মাকে সব বলে দিয়েছে? বলে দিয়েছে যে আরজু কে ভালোবাসা?
আচ্ছা আদৌও এটা আরমানের মা তো নাকি আবার ঢপ দিচ্ছে? হতেই তো পারে। হয়তো আরজুর বিশ্বাস অর্জন করে ভালোভাবে নিজের জালে জড়াতে চাইছে।
যদিও আরজু প্রশ্নটা করতে চাইছিলো না তবে না করে থাকতেও পারলো না। শেষে সন্দেহী গলায় আমেনা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলেই ফেলল,
“আন্টি আপনাকে একটা প্রশ্ন করি কিছু মনে করবেন না কেমন। আপনি কি সত্যি ওনার মা নাকি উনি আপনাকে সাজিয়ে এনে আমাকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করছেন? আসলে আমি ওনাকে বিশ্বাস করিনা।”
আমেনা বেগম হা করে একবার আরমানের দিকে তাকালেন। লজ্জায়, অপমানে আরমানের ইচ্ছে করছিল মাটি ফাঁক করে ঢুকে যেতে। খুব করে বলতে ইচ্ছে করল কেন এমনটা করলেন আরু? এইভাবে কেউ অপমান করে? তাই বলে এতটা সন্দেহ করে কেউ? আমি কি এতই খারাপ যে অন্য একজনকে নিজের মা সাজিয়ে আনবো?
আরমান অসহায় গলায় বলল,
“উনি আমার নিজের মা আরু। প্লিজ আমার সম্মানের আর বারোটা বাজাবেন না।”
আরজু কাট কাট গলায় বলল,
“আমার মনে একটা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে আমি সেটা করেছি।”
আমেনা বেগম ইশারায় আরমানকে শান্ত হতে বলে আরজু কে উদ্দেশ্য করে কোমল গলায় বললেন,
“আমি ওর নিজেরই মা। কিন্তু তোমার হঠাৎ করে এত সন্দেহ হলো কেন আরজু? আমার ছেলেটা তো খারাপ না।”
আরজুর কণ্ঠস্বরের মাঝে বিস্তর পরিবর্তন এলো। আরমানের সাথে ঠিক যতটা রুক্ষ গলায় কথা বলছিল আমেনা বেগমের প্রশ্নের উত্তরটা ঠিক তার থেকে অনেক গুণ বেশি কোমল গলায় দিল,
“আসলে আপনি আমাকে অকারণে অনেক বেশি আদর করছিলেন ব্যাপারটা আমার কেমন যেন সন্দেহজনক লেগেছে। আপনি তো আমায় চেনেন না, আমিও আপনাকে চিনি না তবে কেন আপনি নিঃস্বার্থভাবে আমাকে এমনি এমনি আদর করবেন? যেখানে আমার মা-বাবা কখনো আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেনি সেখানে আপনি অপরিচিত একজন হয়ে কেন বাসবেন? সেজন্য মনে হলো উনি হয়তো সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন আপনাকে, সবটাই নাটক হচ্ছে। আমার কাছে ভালো হওয়া ওনার অনেক দিনের শখ।”
আরজুর বলা কিছু কথা আমেনা বেগমকে ভাবিয়ে তুলল। নিজের মা-বাবা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেনি এ কেমন কথা? এও সম্ভব নাকি?
তিনি আবারো আরজুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
“বাবা-মা ভালোবাসবে না কেন মা? নিশ্চয়ই ভালোবাসে। হ্যাঁ হয়তো একটু বকাঝকা করে কিন্তু সেসব তোমার ভালোর জন্যই করে।”
আরজু নির্জীব গলায় বলল,
“না ভালোবাসে না, ভালোর জন্যও কিছু বলে না। মায়ের দিক থেকে হয়তো একটু একটু দুর্বলতা আছে আমার প্রতি। তবে বাবা চায় আমি যেন তাড়াতাড়ি ম’রে যাই। পারছে না শুধু আমায় গলা টিপে মা’রতে। আর আমার ভাই আমার জানাজা পড়ানোর জন্য বসে আছে। এক আমার আপা আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে। আর দ্বিতীয় আপনার ছেলেকে দেখি অযথা আমার পেছনে ঘোরে। হয়তো কোন কাজ নেই তাই।”
বেশ অনেকক্ষণ হলো আরমান নিজেই নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছে যে সে মুখ খুলবে না, কিচ্ছু বলবে না। এই মেয়ে যা ইচ্ছে তাই বলুক তবু আরমান ওর একটা কথারও প্রতিবাদ করবে না। তাই এবারেও চুপ থাকলো।
আরজু অপেক্ষা করছিল আমেনা বেগমের কিছু বলার। তবে আরজুকে অবাক করে দিয়ে এবার আমেনা বেগম ওকে দুহাতে জড়িয়ে নিল। পিঠে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদূরে গলায় বলল,
“তুমি একবার আমার বাড়িতে এসে দেখো আমি তোমায় অনেক ভালোবাসবো। তোমার শ্বশুরও তোমায় অনেক ভালোবাসবে। তোমার একটা ননদ আছে, একটা দেওর আছে ওরাও তোমায় অনেক ভালোবাসবে। তোমায় নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার অনেক মানুষ পাবে। আর আমার ছেলেটা খারাপ না। একটু চঞ্চল হতে পারে, হয়তো তোমায় একটু বেশি বিরক্ত করে তবে ও খারাপ না, মা।”
এবারেও আরজুর মনে প্রশ্ন সৃষ্টি হলো যে অযথা কেন আদর করছে এই মহিলা ওনাকে? এতে কি লাভ ওনার? উনি কি আরজুর কাছ থেকে কিছু চান? যদি কিছু নাই চেয়ে থাকেন তবে শুধু শুধু কেন এতটা ভালোবাসা দেবেন? কেন আরজু কে অযথা দুর্বল করে দিচ্ছেন?
এই যে আরজুর এখন কাঁদতে ইচ্ছে করছে, ইচ্ছে করছে পাল্টা আমেনা বেগমকেও একটু জড়িয়ে ধরতে তবে নিজের চিরাচরিত স্বভাব থেকে বেরিয়ে তা করতে পারলো না।
তবে আরমান খেয়াল করলো আরজুর চোখ দুটো জলে টইটুম্বুর হয়ে গেছে। বুঝতে পারলো আরজু চাইছে সেই জলটুকু আড়াল করতে তবে পারছে না। একপর্যায়ে আরজুর গাল বেয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। তবে আরজু মুছতে পারলো না।
হঠাৎ করে আরজু গালে কারো স্পর্শ অনুভব করলো। চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো আরমান সযত্নে ওর গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া জল মুছে দিলো। আরমান নিজের দৃষ্টি দ্বারা যেন আরজু কে অনেক কিছু বোঝাতে চাইলো। যেন বোঝালো যে আরজু কে আর দুঃখে কাঁদতে দেবে না আরমান। আরজুর জীবনের সব অপূর্ণতা পূরণ করে দেবে।
___________
আমেনা বেগমকে নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখলো কেউই এখনো বাড়িতে ফেরেনি। বাইরে আর বাকিদের সাথে দেখা করা হয়নি, এতোটুকু সময় আরজুর সাথেই কাটিয়েছে। আমেনা বেগম সোজা ঘরে চলে গেলেন। আরমানও ভাবলো ঘরে গিয়ে একটু বিশ্রাম নেবে। যাওয়ার পথে তাওকীরের ঘরটা পড়লো।
তাওকীর তখনই ঘর থেকে বের হচ্ছিলো। হঠাৎ করে আরমান সামনে এসে দাঁড়ানোতে দুজনেই চমকালো। তবে খুব তাড়াতাড়ি দুজনেই নিজেদেরকে স্বাভাবিক করে নিল। তাওকীর প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,
“তুই বাকিদের সাথে যাস নি?”
“না, আমি মা কে নিয়ে একাই বেরিয়েছিলাম।”
“ও আচ্ছা। ঠিক আছে যা, বিশ্রাম নে।”
আরমান মাথা নাড়িয়ে চলে যেতে ধরলে তাওকীর ডেকে উঠলো। আরমান আবার পূর্বের জায়গায় এসে দাঁড়ালো। তাওকীরের মুখ চোখ দেখেই বুঝতে পারছে কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে চাইছে আরমান কে তবে পারছে না।
আরমান অভয় দিয়ে বলল,
“কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে করতে পারো। এত ভাবতে হবে না।”
তাওকীর বোধহয় একটু ভরসা পেল। তবে তাও ইতস্তত বোধটা গেল না।
“সেদিন ভার্সিটিতে যে মেয়েটার সাথে দেখা হয়েছিল ওর সাথে কি তোর কোন সম্পর্ক আছে? আশা করছি বুঝতে পেরেছিস আমি কোন সম্পর্কের কথা বলছি।”
তাওকীরের ইশারা না বোঝার মতন নয়। এতোটুকু বোঝার মতন যথেষ্ট বয়স হয়েছে আরমানের। আজ আর অস্বীকার করল না। সরাসরি বলল,
“হ্যাঁ ভাই আমি ওকে পছন্দ করি।”
তাওকীর অবাক হলো না। এই বয়সের ছেলেরা যে প্রেম করবে এটাই তো স্বাভাবিক। তাওকীরের এসবে যায় আসে না। তাওকীরের দরকার অন্য তথ্য। আবারও আরমান কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ওর বাড়ি কোথায়?”
“আমি শুনেছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে। নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছি না, একজনের থেকে শুনেছিলাম।”
আরমান খেয়াল করল কথাটা শোনার পর তাওকীরের অভিব্যক্তির মাঝে সামান্য হলেও একটু পরিবর্তন আসলো। বোধহয় একটু ঘাবড়ে গেল কিংবা চিন্তার মাঝে পড়ল। খুব ভালো ভাবে তাওকীর কে পর্যবেক্ষণ শেষে প্রশ্ন করল,
“হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”
তাওকীর স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে মুখে জোরপূর্বক একটু হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,
“আরে তুই পছন্দ করিস তো মেয়ের সম্বন্ধে খোঁজখবর জানতে হবে না? বাড়িতে কে কে আছে মেয়ের? ভাই বোন কে কে আছে?”
সত্যি বলতে আরজুর সম্বন্ধে এত কিছু জানে না আরমান। ওই কথায় কথায় মাঝে মাঝে আরজু নিজের বোন আর ভাইয়ের নাম তুলেছে। তারপরও ঠিক কয় ভাই বোন আরজুরা সেটা আরমান জানে না। পরিবারে আর কে কে আছে সে সবও জানে না। কখনো জিজ্ঞেস করার সাহসও হয়ে ওঠেনি ঠিক।
“নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছি না। বাবা, মা তো নিশ্চয়ই আছে, আর মাঝে মাঝে আরজু ওর এক বড় বোন আর ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেছে।”
এ পর্যায়ে আবারও তাওকীরের মুখ থেকে হাসিটা উধাও হয়ে গেল। নিজেই মনে মনে কিছু একটা সমীকরণ মেলালো। হঠাৎ করেই আরমানের বলা নামটা খেয়াল হলো, আরজু। তাওকীরের ভাবনার সাথে নামটা বেশ মিলল ।
নিজের অস্থিরতা কোনমতেই দমিয়ে রাখতে না পেরে তাওকীর আবারও প্রশ্ন করে উঠলো,
“যে মেয়ের সাথে দেখা হয়েছিল ওর নাম আরজু? ওর বোনের নাম কি?”
“এত কিছু আমি জানিনা। ওর নাম আরজু। ওর আপার নাম কখনো জিজ্ঞাসা করা হয়নি। কি হতে পারে আরজুর বোনের নাম?”
কথাটা বলে আরমান নিজেই ভাবতে শুরু করলো। হঠাৎ করে তাওকীর বলে উঠল,
“আকাঙ্ক্ষা নাকি?”
আরমান ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো তাওকীরের দিকে। সন্দেহ আরো বাড়লো, দৃষ্টি সূঁচালো হলো।
“তুমি কি করে জানলে? তোমার তো জানার কথা না। আর আকাঙ্ক্ষা নামটাই কেন বললে? কে আকাঙ্ক্ষা? তুমি চেনো আরজুকে? ওর পরিবারের সম্বন্ধে জানো কিছু?”
তাওকীর বুঝলো অস্থিরতায় এমন কিছু কথা বলে ফেলেছে যা ওর বলা উচিত হয়নি। আপাতত চুপ করে যাওয়াটাই ভালো হবে। তবে যেই কথাটা মুখ থেকে বের করেছে আর তার জন্য যে পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে সেটা সামাল দিতে হবে। একটু নড়ে চড়ে উঠে ঝরঝরে গলায় বলল,
“আরে আন্দাজে বললাম। আরজু, আকাঙ্ক্ষা নাম দুটোর মিল আছে, অর্থের দিক থেকেও অনেকটা মিল পাবি।”
“না তাওকীর ভাই, এতটা স্বাভাবিক ভাবে তুমি বলোনি। তুমি কি কিছু লুকোচ্ছো আমার থেকে? তুমি চেনো আরজুকে?”
“আরে না আমি কি করে চিনবো। সেদিনই তো প্রথম দেখলাম। যদি আগে থেকে চিনতাম তবে তো ভার্সিটিতে যখন দেখা হলো তখনই ভালোভাবে কথা বলতাম তাই না? আর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে, আমি হলাম ঢাকার ছেলে, কি করে পরিচয় থাকবে বল তো? আমি কখনো গিয়েছি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়?”
তাওকীর কথাটা বলল ঠিকই তবে আরমানের সন্দেহটা যাচ্ছেই না। বিশেষ কর হঠাৎ করে বলে ওঠা আকাঙ্ক্ষা নামটা। কে আকাঙ্ক্ষা, কেনই বা বলল? এর পেছনে অন্য কোন ব্যাপার আছে কি?
আরমানকে দেখেই তাওকীর বুঝতে পারল আরমানের সন্দেহ যায়নি। আর এখন এখানে থাকলে আরমান আরো হাজারটা প্রশ্ন করবে। ব্যস্ততা দেখিয়ে বলল,
“আমি আসছি এখন। অফিসে যেতে হবে, একটা মিটিং আছে।”
তাওকীর আর আরমানকে কিছু বলার সুযোগই দিলােনা, চলে গেল। এতে যেন আরমানের সন্দেহ আরো বাড়লো। বুঝতে পারলো তাওকীর পালিয়ে গেল এখান থেকে। কিছুর উত্তর দেওয়ার ভয়ে পালিয়ে গেল।
কেন এমনটা করলো তাওকীর? কখনো তো এমন করে না। আরমানের সব প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দেয় তবে আজ কেন এমন হলো? তবে কি তাওকীর বড় কোনো সত্যি লুকোচ্ছে আরমানের থেকে?
____________
ভার্সিটিতে এসে আগে আরজু আরমানের খোঁজ করলো না। বরং খোঁজ করলো মুনতাসিরের। এবং খুব তাড়াতাড়ি পেয়েও গেল। জনপ্রিয় মানুষ। খুঁজে পেতে খুব একটা অসুবিধা হলো না। গুটি গুটি পায়ে মুনতাসির এর কাছে গেল।
এই সকাল সকাল আরজু কে দেখে মুনতাসির বেশ অবাক হলো। আরজু নিজ থেকে এসেছে তার মানে কি কোন বিপদ হলো নাকি? মুহূর্তের মাঝে মুনতাসিরের মনে হলো নিশ্চয়ই আবার কোন ঝামেলা হয়েছে। চিন্তিত গলায় বলল,
“কোন ঝামেলা হয়েছে নাকি আরজু?”
মুনতাসিরের মুখ থেকে প্রশ্নটা শুনে আরজুর মুখটা কেমন চুপসে গেল। নিজেকে ভীষণ স্বার্থপর মনে হলো। সত্যি কি আরজু কখনো ঝামেলা ছাড়া মুনতাসির এর কাছে আসেনি? আসেনি তো। কথাও তো বলে না ঠিক করে।
এদিকে হঠাৎ করে আরজুর মুখটা যে চুপসে গেল সেটা মুনতাসিরের দৃষ্টি এড়ালো না। তবে কারণটা ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না। মাত্র একটা বাক্যই তো বলেছে এর মাঝে কি এমন ভুল বলে ফেলল।
“আমি কি কিছু ভুল কথা বলে ফেললাম আরজু? তুমি কি মন খারাপ করলে?’
“আপনার কোন দোষ নেই। আমি বোধহয় মানুষটা একটু বেশি স্বার্থপর। বিপদ ছাড়া কখনো আপনার কাছে আসিনি জন্য আপনি সবসময় ভাবেন আমি মনে হয় বিপদে পড়ে এসেছি আপনার কাছে। আপনার ভাবাটা অস্বাভাবিক না।”
মুনতাসির একটা শুষ্ক ঢোক গিলে হাসার চেষ্টা করে বলল,
“না না আমার ভাবাটাই অস্বাভাবিক। আর তুমি স্বার্থপর হতে যাবে কেন? হাসপাতালেও তো আমায় দেখতে গেছো কতবার। আসলে আমি তোমায় নিয়ে চিন্তায় থাকি তো সেজন্য এই প্রশ্নটা করলাম।”
মুনতাসিরের বলা শেষের বাক্যটা আরজুর পছন্দ হলো। তারমানে আরমান ব্যতীত আরেকজন আরজু কে নিয়ে চিন্তায় থাকে। মুহূর্তের মাঝে আরজুর খারাপ মনটা ভালো হয়ে উঠলো। প্রশ্নাত্মক গলায় মুনতাসির কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আমি কি আপনাকে মুনতাসির ভাইয়া বলে ডাকতে পারি? আপনি বা আপনার বোন কি এতে রাগ করবেন?”
মুনতাসির সম্মতি জানিয়ে বলল,
“অবশ্যই ডাকতে পারো। আমি বা আমার বোন রাগ করবো কেন? তুমিও তো আমার বোন।”
আরজু হাস্যজ্জ্বল গলায় বলল,
“ধন্যবাদ ভাইয়া। আসলে আমি আজ আপনার প্রশংসা করার জন্য এসেছি। যদিও আমার কাছে বরাবরই আপনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন তবে গতকাল ইরা আপুর থেকে আপনার বিষয়ে অনেক কিছু শুনেছি। তারপর আপনার সম্বন্ধে আমার ধারণা একদম পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে আর কোন সন্দেহ নেই। তবে আপনার কাছে একটা প্রশ্ন, আরমানও কি আপনার মতন ভালো মানুষ? আমি যেহেতু আপনার বোন আশা করছি আমায় মিথ্যে বলবেন না।”
মুনতাসির আলতো হাসলো। অনেক সাহস করে আরজুর মাথায় স্নেহের হাত রেখে বলল,
“মিথ্যে বলবো কেন? ভাই হয়ে কখনো বোনের জীবন নষ্ট করতে পারি? আরমান ভাই নিঃসন্দেহে একজন ভালো মানুষ আরজু। আমি জানিনা তুমি ওনাকে কেন খারাপ ভাবো। খুব কম মানুষই নিজের ভালোবাসার মানুষটার জন্য নিজেকে পরিবর্তন করতে চায়। আরমান ভাই তাদের মাঝে একজন। উনি তোমার সামনে নিজেকে তোমার মনের মতন দেখানোর জন্য সব করতে পারেন। উনি নিজেকে বদলাতে রাজি তোমার জন্য।”
একেই তো মুনতাসিরের মাথায় হাত রাখা তার উপর আবার আরমানের সম্বন্ধে এত ভালো ভালো কথা বলা, সবমিলে আরজু যেন একটা ঘোরের মাঝে চলে গেল। তার মানে সত্যি আরমান ভালো।
তবে তার থেকেও এখন বড় যে বিষয়টা আরজুর কাছে লাগছে সেটা হচ্ছে মুনতাসিরের স্নেহ। ভাইয়েরা সত্যি এভাবে স্নেহ করে আরজুর জানা ছিল না। কখনো ভাইয়ের স্নেহ পায়নি। নিজের ভাই থাকা সত্ত্বেও পায়নি। কত ভালো হয় ভাইয়েরা। তবে প্রিথুল বোধ হয় সত্যি আরজুর ভাই না। ও ভাই হতেই পারে না। ভাই তো হবে মুনতাসিরের মতন।
আরজু মুগ্ধ নয়নে মুনতাসিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি আপনার কথা বিশ্বাস করলাম ভাইয়া। আমি বুঝতে পারি উনি খুব চেষ্টা করেন আমার নজরে ভালো হওয়ার জন্য, আমি বুঝতে পারি উনি আমায় খুব গুরুত্ব দেন যেটা খুব কম মানুষ আমায় দেয়। উনি আর আপনি বাদে আর কেউ আমায় গুরুত্বই দেয় না। তবে ওনাকে আমি প্রশ্রয় দিতে চাই না। কেননা আমি নিজেকে নিয়ে কোন নিশ্চয়তা দিতে পারি না। অল্পতেই আমি মানুষকে অবিশ্বাস করে ফেলি। আবার মনে হয় আমার এই অগোছালো জীবনের সাথে ওনাকে জড়িয়ে নেব? ওনার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে হয়তো।”
“হবে না। যদি আল্লাহ তোমাদের জুটি সত্যি বানিয়ে থাকেন তবে তোমরা দুজনে দুজনের জন্য খারাপ হবেনা। আরমান ভাই তোমার জীবন গুছিয়ে দেবে, তুমি আরমান ভাইয়ের জীবন গুছিয়ে দেবে। আমি তোমায় বলবো শুধু নিজেকে একটু সুযোগ দাও। আর বাদবাকি সব কিছু আল্লাহর হাতে ছেড়ে দাও।
فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
অর্থ: আর যখন তুমি দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।”
আরজু মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় শুনে গেল মুনতাসিরের কথাগুলো। কি অদ্ভুত সুন্দর শোনালো মুনতাসিরের কন্ঠে আয়াতটা টুকু। আলতাে হেসে বলল,
“ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া। নিঃসন্দেহে আপনি একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ।”
আর কোন কথা বাড়াতে চাইলো না আরজু। মুনতাসিরকেও আর কিছু বলার সুযোগ দিলো না। তবে চলে যেতে ধরে আবার নিজ থেকেই থেমে গেল। পিছন ঘুরে মুনতাসিরের দিকে তাকিয়ে আলতো একটু হেসে বলল,
“আপনি যদি আমার নিজের ভাই হতেন তবে আমি কাউকে আপনাকে ভাইয়া বলে ডাকতে দিতাম না। মৃন্ময়ী কেও না। আপনি শুধু আমার ভাই থাকতেন। তবে আফসোস আপনি আমার নিজের ভাই না।”
__________
আরজুর মন মেজাজ আজ ভীষণ ভালো। একটার বেশি ক্লাস করতে পারলো না, মনই টিকলাে না ক্লাসে। বারবার শুধু আরমানের কথা মনে পড়ছিল।
আরজু মনে মনে ঠিক করেছে আজকে আর ছেলেটার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। আজ রাগও করবে না। অনেক অপমান সহ্য করেছে ছেলেটা চুপচাপ। আজ একটু ভালো ব্যবহার করবে আরজু।
ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে আরমানকে খুঁজতে খুঁজতে নিচে এলো। আগে অডিটোরিয়ামে গেল। আরমান কে এই জায়গাটাতেই আরজু বেশি পেয়েছে। তবে আজ সেখানে পেল না। ধীরে ধীরে আরজুর মনটা খারাপ হয়ে যেতে লাগলো। আরমান কি বুঝতে পারছে না যে আরজু ওকে খুঁজছে? এমনি দিন তো ছেলেটা নিজে নিজে পিছু পিছু ঘোরে তবে আজ যখন আরজু খোঁজ করছে তখন আসছে না কেন সামনে?
আজ তো আর আরজু বকবে না, আরমানের খারাপ লাগে এমন কোন কথাও বলবে না। বরং গতকালের কিছু ঘটনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাবে। আমেনা বেগমের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাবে।
খুঁজতে খুঁজতে আরমানকে মাঠের এক কোনাতে দেখতে পেল। আরমানের সামনে যে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে সেটা আরজু বুঝতে পারলো। আরমান কে সেই ব্যক্তির সাথে কথা বলতে দেখে আরজুর মনে অভিমান জমলো। ভার্সিটিতে এসে আগে আরজুর সাথে দেখা না করে কার সাথে গল্প করতে লেগে গেছে।
আরজুর মন খারাপ হলো ঠিকই তবে আরজু চাইলো না সেই মন খারাপটা দীর্ঘস্থায়ী হোক। নিজেই নিজের মনকে বোঝালো।
আরমানের দিকে এগিয়ে গেল। দূরত্ব তখন কয়েক হাত। আরজুর কানে আরমানের হাসির শব্দ আসছে। বুঝতে পারছে বেশ হেসে হেসে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার সাথে গল্প করছে।
আরজুর জানার ভীষণ উৎসাহ হলো যে কে দাঁড়িয়ে আছে যার সাথে আরমান এত হেসে হেসে কথা বলছে? সেই সাথে বোধহয় একটু হিংসেও হলো।
পিছন থেকে একবার আরমানের নাম ধরে ডাকলো,
“আরমান!”
বরাবরের ন্যায় সেই মিষ্টি ডাকটা আরমানের কানে ভেসে আসতেই চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। আরজু কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই মুখে হাসি ফুটে উঠলো। আরমানের সেই হাসি দেখে আরজুও পাল্টা হেসে কিছু বলতে চাইলো তবে তার আগেই আরমানের পিছন থেকে একজন বেরিয়ে এলো যার চোখে মুখে চরম বিস্ময়।
আরমানের পেছন থেকে ফিরোজ বেড়িয়ে এলো। মুহূর্তের মাঝে আরজুর মুখ থেকে হাসিটা উড়ে গেল।
ফিরোজের থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকালো একবার আরমানের দিকে। আরমানের মুখে এখনো হাসি লেপটে আছে। মুহূর্তের মাঝে আরজুর সব বিশ্বাস যেন ভেঙে গেল।
তবে প্রথমে যেটা সন্দেহ করেছিল সেটাই ঠিক। আরমান ফিরোজের ঠিক করা লোক। তারমানে এতদিন ইচ্ছে করে আরমান আরজুর সাথে ভালো সম্পর্ক রেখেছে যেন আরজুর সম্পর্কে সব খোঁজ ফিরোজকে দিতে পারে।
আরজুর এসব ভাবনার মাঝে ফিরোজের কন্ঠ ভেসে এলো ওর কানে,
“তুই ঢাকায় লুকিয়ে ছিলি আরজু? আর আমি তোকে সারা চট্টগ্রাম খুঁজে বেড়ালাম। তুই আমার নাগালের ভিতরে থাকতে আমি এত কষ্ট করলাম তোকে খুঁজে পাওয়ার জন্য।”
ফিরোজের মুখ থেকে কথাটা শুনতেই আরমান চমকে ফিরোজের দিকে তাকালো। পরমুহূর্তে তাকালো আবার আরজুর দিকে। আরজুর দৃষ্টির মানে আরমানের কাছে এখন পরিষ্কার না, পড়তে পারছে না আরজুর চোখের ভাষা।
আরমান আরজু কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আপনি চেনেন ফিরোজ কে আরু? কি হলো কথা বলুন?”
আরজুর কানে একটা কথাও গেল না। বারবার শুধু কানে ভাসছে আরমানের সেই হাসির শব্দ। যদি ফিরোজ পরিচিত না হতো, ওদের মাঝে ভালো সম্পর্ক না হতো তবে তো এভাবে কথা বলতো না ওর সাথে আরমান। আর ফিরোজের মতন জা’নো’য়া’রের সাথে তো কোনো ভালো মানুষের যোগাযোগ থাকতেই পারেনা। তারমানে আরমানও ফিরোজের দলেরই লোক।
এদিকে আরজুর থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে আরমান ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লো। ফিরোজ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,
“পাখি জালে আটকা পড়ে গেছে যে, কথা বলবে কি করে? তোমাকে ধন্যবাদ আরমান সাহায্য করার জন্য। তুমি ভাবতেও পারবে না আমার কত বড় উপকার করলে আজ।”
আরমান সত্যিই বুঝতে পারছে না কিভাবে ফিরোজের উপকার করলো। কিন্তু সে বেশি চিন্তিত আরজুর নিশ্চুপতায়।
এবারে আরজুর দিকে তাকাতেই দেখল টপ টপ করে আরজুর গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।
এই প্রথম বোধহয় আরমান আরজুকে কাঁদতে দেখল। আরজুর সেই চোখের জল আরমানকে অস্থির করে তুলল। আরমান একটু এগোলো আরজুর চোখের জলটা মুছে দেওয়ার জন্য। তবে তৎক্ষনাত আরজু দু কদম পিছিয়ে গেল।
আরজুর পেছানোর কারণটা আরমান ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। অস্থির গলায় প্রশ্ন করল,
“এমন করছেন কেন আরু? কিছু বলুন?”
আরজু কম্পিত গলায় বলল,
“দিনশেষে আপনিও আমায় ঠকালেন, আরমান? সবে তো আপনাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম, আপনার ভালোবাসায় ভরসা করতে শুরু করেছিলাম। সেই আপনিও এভাবে আমার বিশ্বাস ভাঙলেন? বিশ্বাস তো তবে আর রইলো না, আর না রইলো ভালোবাসা। আমার এলোমেলো জীবনটা আপনি আরো এলোমেলো করে দিলেন। কোনোদিনও ক্ষমা করবো না আমি আপনাকে।”