বাড়ি ফেরার পর নিধি ভাবলো একটু নিজের ঘরে গিয়ে জামা কাপড় গুলো বদলে বিশ্রাম করবে। তবে সেই সৌভাগ্য আর নিধির হলো না। বাড়িতে ঢুকতে না ঢুকতেই শম্পা আর সিনথিয়া ওকে টেনে সালমা বেগমের ঘরে নিয়ে গেল। নিধি কারণ জানতে চাইলো তবে আগেই ওরা কারণ বলল না। ঘরে নিয়ে গিয়ে নিধিকে বিছানায় বসালো। তারপরে ওর দুই পাশে বসলো দুজন। সিনথিয়া আগে বলে উঠলো,
“ভাবি জানো, আজ তুমি অনেক উপহার পেয়েছো। আজ কম করে হলেও ২০০ জন মানুষের দাওয়াত ছিল। অনেক ভালো ভালো উপহার পেয়েছো তুমি। টাকাও অনেক পেয়েছো।”
মন মেজাজ কোনটাই ভালো নেই নিধির। এখন এসব টাকা, পয়সা, উপহার কোন কিছুর প্রতিই বিন্দুমাত্র কোন আগ্রহ কিংবা উৎসাহ খুঁজে পাচ্ছে না। কিন্তু তবুও যেহেতু ওরা দুজন নিজ থেকে ডেকে আনলো তাই কন্ঠে অনিহা প্রকাশ করে ওদের আগ্রহকে অপমান করার কোন মানেই হয় না। একটা সম্পর্ক তৈরি করতে চাইলে শুধু বিপরীত পাশ থেকে চেষ্টা করলেই তো হয় না। নিজেকেও চেষ্টা করতে হয়। তাই মন মেজাজ খারাপ থাকা সত্ত্বেও নিধি জোর পূর্বক হাসার চেষ্টা করে বলল,
“আমি আসলে খেয়াল করিনি।”
এবারে পরবর্তী প্রশ্নটা নিধি কে শম্পা করল।
“আচ্ছা নিধি, বিয়েতে যে নগদ টাকাগুলো পেয়েছিলে সেগুলো সাবধানে রেখেছো তো? কোথায় রেখেছো?”
নিধি একটু মনে করার চেষ্টা করে বলল,
“আমিতো ওসব জানিনা। ওগুলো সব জারা আপু রেখেছে।”
“সে কি! ওকে রাখতে দিয়েছো কেন?”
“আসলে আমি তো তখন অনেক ব্যস্ত ছিলাম। আমার পক্ষে সামলানো সম্ভবও ছিল না। জারা আপু পাশেই ছিল তাই জারা আপু কে বলেছিলাম সবটা সামলাতে।”
“তুমিও যে কি করো না নিধি। আমরা হলাম তোমার নিজের ননদ। আর জারা হলো তোমার ফুফাতো ননদ। কে তোমার বেশি আপন তুমিই বলো?”
নিধি কে শম্পা প্রশ্নটা করলো ঠিকই। তবে ওর উত্তর দেওয়ার আগে নিজেই আবার বলে উঠলো,
“অবশ্যই আমরাই তোমার বেশি আপন। আর এসব টাকা-পয়সা কেউ নিজের মানুষ রেখে অন্যদেরকে দেখাশোনা করতে দেয়! এখন যদি কম বেশি হয়, তো বুঝবে কি করে?”
“কম বেশি হতে যাবে কেন? বরং জারা আপুর কাছে আছে এটা ভেবেই তো আরো নিশ্চিন্তে আছি আমি।”
এবারে পাশ থেকে আবারও সিনথিয়া বলে উঠলো,
“আরে না ভাবি। তুমি যেমন ভাবছো জারা তেমন না। এখন ওরাও তো নিজের মানুষ, তোমাকে কি আর খারাপ বলি। যাই হোক, তুমি কাল সকাল সকাল ওর থেকে সবকিছু নিয়ে নেবে বুঝেছো। আর তোমার সামলে রাখতে অসুবিধা হলে আমরা তো আছি। আমাদেরকে দেবে। তোমাকে তো আমাদের সাথেই থাকতে হবে তাই না? ওরা তো চলে যাবে কিছুদিন পর। তাই আমাদের সাথে মিল রাখাটাই ভালো। টিকতে পারবে না নাহলে এই বাড়িতে।”
কথাটা বলে দুই বোনই হো হো করে হেসে উঠলো। খুব স্বাভাবিক দেখাতে চাইলো কথাটা তারা। তবে নিধি ওদের স্বাভাবিক কথার মাঝে যেন একটা হুমকি খুঁজে পেল। নিধি একটা কথাই বুঝতে পারে না যে ও এসেছে কয়েকদিন হলো। তার মাঝেই বাড়ির সবাই যে কেন ওকে এত হুমকি দেয়! সবাই যে সংসারটা টিকিয়ে রাখা নিয়ে এত ভয় দেখায় কেন কে জানে! সত্যি কি এই বাড়িতে সংসার টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন নাকি এরা অযথাই ভয় দেখাচ্ছে?
________
প্রায় এক থেকে দেড় ঘন্টার মতন সিনথিয়া আর শম্পা দুজনে নিধিকে নিয়ে বসেছিল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিধি কে বসে থাকতে হয়েছে। উঠতে পারেনি নিধি। খুব ভালো করেই জানতো যদি উঠে যেতে চাইত তবে ওরা দুজন আবার নতুন করে কোন ঝামেলা তৈরি করতে পারতো। আর নিধির মাঝে তর্ক করার মতন বিন্দুমাত্র কোন শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। তার থেকে বরং বসে বসে দুপাশ থেকে দুজনের কথায় কান ঝালাপালা করাটাই ভালো ভেবেছিল জন্য চুপচাপ বসে ছিল।
তাও নিধি ছাড়া পেয়েছে জুবাইদার জন্য। জুবাইদা এসে যখন নিধি কে ঘরে যেতে বললেন বিশ্রামের জন্য তখন শম্পা আর সিনথিয়া ওকে ছাড়লো। না হলে হয়তো সারারাতেও ছাড়তো না।
নিধি ঘরে এসে দেখলো গহন ততক্ষণে জামা বদলে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে। নিধিকে আসতে দেখে একবার মাথা তুলে তাকালো গহন নিধির দিকে। তবে নিধির সেদিকে কোন খেয়ালই নেই। আলমারি থেকে একটা সালোয়ার কামিজ বের করে ওয়াশরুমে গেল। গহন আবারও নিজের কাজে মনোযোগ দিল।
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে নিধি একবার ঘড়িতে সময় দেখল। রাত দশটা বাজতে চলেছে। বাড়ির বাকি সবাই হয়ত ঘুমিয়েও গেছে। কাল তো আবার সকাল সকাল উঠতে হবে। শাশুড়ি মা আগে থেকেই ভালোবেসে আদেশ দিয়ে রেখেছেন। নিধি তাই ভাবলো ওর একটু ঘুমোনো দরকার, একটু বিশ্রাম দরকার। নয়তো মন মেজাজ এর যে অবস্থা কখন যে কার রাগ কার উপর ঝাড়বে তার ঠিক নেই।
তবে ঘুমোনোর আগে অনুমতি নেওয়া বাকি আছে গহনের থেকে। গহন তখনো মনোযোগ দিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। নিধি ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
“আমি কি ঘুমোতে পারি এখন?”
প্রশ্নটা ভীষণ অদ্ভুত লাগলো গহনের কাছে। ল্যাপটপের উপর থেকে চোখ তুলে নিধির দিকে তাকিয়ে বলল,
“এটা কি করার মতন কোন প্রশ্ন? তোমার যখন ইচ্ছে হবে তুমি তখন ঘুমোবে। আমাকে জিজ্ঞেস করার কি আছে। তুমি তো এত বাধ্য না।”
“আমি আসলেই এতটা বাধ্য নই। আর আমি এতটা বাধ্য হতেও চাই না। আপনাকে জিজ্ঞেস করার অন্য একটা কারণ আছে।"
“কি কারণ?”
“দুই রাত আমায় ছাড় দিয়েছেন এতোটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট। আপনি যে অন্তত এই দুটো রাত আমার অস্বস্তির কথা ভেবে নিজেকে সামলে রেখেছিলেন এটাই আমাকে ভীষণ অবাক করেছে। তবে আজ আমি আর সেই আশাতে নেই যে আপনি আজও নিজেকে সামলাবেন। আমার আপনাকে আটকানোর কোন অধিকারও নেই, আবার ক্ষমতাও নেই। সেজন্য আত্মসমর্পণ করাটাই ভালো।”
নিধি যে কি করে অকপটে এই কথাগুলো বলল গহন জানেনা। গহনের নিজেরই একটু লজ্জা করলো। সেই সাথে এই ভেবেও একটু অস্বস্তি যে হলো নিধির মনে গহন সম্পর্কে ধারণাটা ঠিক কতটা নিচু পর্যায়ে চলে গেছে। যেখানে নিধি দেখছে অধিকার আর ক্ষমতা, সেখানে গহন ভাবছিল ইচ্ছের কথা, সম্মতির কথা। নিধি বলছে বাধ্য হয়ে আত্মসমর্পণের কথা। অথচ গহন ভাবছিলো ভালোবেসে কাছে আসার কথা।
এদিকে বেশ অনেকটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও গহনের থেকে কোন উত্তর না পেয়ে নিধি ফের বলে উঠলো,
“কি করবো তাহলে?”
ধ্যান ভাঙলো গহনের। ল্যাপটপটা পাশে রেখে নিধি কে বলল,
“একটু অপেক্ষা করো।”
কথাটা বলে গহন উঠে গিয়ে দরজা বন্ধ করলো। নিধি ভাবলো ও আত্মসমর্পণ করেই ভালো করেছে। নয়তো জোরজবরদস্তি ব্যাপারটা খুবই বিরক্তিকর লাগে নিধির। হঠাৎ করে কি যেন একটা ভেবে নিধি আনমনে গহন কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
“জানেন, আমি এতটা নির্লজ্জ কখনো ছিলাম না। আমি বুঝতে পারছি না আমি লজ্জার কাছে হেরে গেছি নাকি বাস্তবতার কাছে।”
গহন শুনলো নিধির কথাগুলো। তবে খুব একটা বেশি পাত্তা দিল না। নিধি তখনও আনমনে কি যেন ভাবছে। হঠাৎ করে এসে গহন ওর হাতটা ধরতেই নিধি খানিক চমকে উঠলো। তবে গহনের থেকে দূরে সরে গেল না। গহন কে ওর হাতটাও ছাড়তেও বলল না।
এদিকে নিধি কে চমকে উঠতে দেখে গহন আরো শক্ত করে ওর হাতটা ধরল। যেন নিধি কে চেনাতে চাইলো ওর স্পর্শ। যেন আর কখনো হঠাৎ করে এসে গহন ওর হাত ধরলে নিধি এভাবে চমকে না ওঠে।
“ফুলশয্যার রাতেই উপহারটা দেওয়া উচিত ছিল আমার। তবে আসলে আমার মনে ছিল না। ফুপি বলল দিতে হয় সেজন্য আজকে এটা এনেছি।”
গহন কথাটা বলতে বলতে নিধির আঙুলে একটা আংটি পরিয়ে দিল। নিধি আংটিটার দিকে একবার তাকিয়ে ছোট্ট করে উত্তরে বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে।”
“ঘুমিয়ে পড়ো এখন গিয়ে। যে জায়গায় আত্মসমর্পণ করতে নেই সেই জায়গায় আত্মসমর্পণ করে বসে থাকো। কাজের জায়গায় মুখ বন্ধ রাখো, আর দোষারোপ করলেই দোষ হয়ে যায়। যাই হোক, আর কথা বাড়াতে চাই না আমি।”
নিধি এবারে সত্যি আর কোনো কথা বাড়লো না। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়তে চাইলো। তবে কি ভেবে যেন আবারও থেমে গেল। গহন ততক্ষণে গিয়ে আবারো ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে। নিধি চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে বিছানায় গহনের পাশে বসলো। নিধি কে বসতে দেখে গহন ল্যাপটপটা বন্ধ করে নিধির দিকে তাকিয়ে বলল,
“আরো কিছু বলার আছে?”
নিধি কোনো একটা গভীর ভাবনায় নিমগ্ন হয়ে নির্জীব কন্ঠে বলল,
“আমি এই প্রত্যাশাটা রাখছি না যে আপনি আমার আবদার রাখবেন। তারপরেও বলছি একটা জিনিস চাইবো, দেবেন?”
বরাবরই গহনের ধৈর্য শক্তি এমনিতেই বেশি। তবে আজ যেন সেটা আরো বেশি হয়ে গেছে। ফলস্বরূপ নিধির আজেবাজে কথা শুনেও রাগ হচ্ছে না। সেই দুপুর থেকেই সহ্য করে যাচ্ছে নিধির অপমান। কিন্তু তবুও ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না।
এখনও একটা লম্বা শ্বাস টেনে বলল
“ঠিক আছে বলো শুনি কি এমন জিনিস যেটা আমি দিতে পারবো না।”
নিধির বুক চিরে এক একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। তৎক্ষনাত বলতে পারল না কিছু। কিছুক্ষণ নিজেই আনমনে কি সব যেন ভাবল। তারপরে মাথা তুলে গহনের দিকে তাকালো। গহন খেয়াল করুন নিধির চোখ দুটো টলমল করছে।
নিধি যেন কিছু বলতে চাইছে, তবে বলতে পারছে না। হয়তো কান্নারা গলায় দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। তবুও খুব কষ্টে নিধি নিজের কান্না আটকে আকুতির কন্ঠে গহন কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আমাকে কখনো আমার বাপের বাড়িতে যেতে বলবেন না। আমাদের মাঝে যতই ঝগড়া হোক না কেন, আমি যত বড় ভুলই করি না কেন আমাকে তাও এই বাড়িতেই রেখে দেবেন। কিন্তু কখনো আমাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলবেন না। কখনো আমাকে গিয়ে আমার বাবার বাড়িতে রেখেও আসবেন না। আমাদের মাঝে যতই ভুল বোঝাবুঝি হোক, ঝগড়া হোক মোটকথা যাই হয়ে যাক না কেন তবুও আমি এখানেই থাকতে চাই। এই সংসারই করতে চাই।”
খুব বেশি সময় নিলো না গহন উত্তরটা দিতে। চটপট বলল,
“বের করে দেওয়ার হলে নিয়ে আসতাম না নিশ্চয়ই? আর তোমার বাবার বাড়িতে তোমার ইচ্ছে হলে তুমি যাবে, না ইচ্ছে হলে যাবে না। এখানে আমার জোর করার কিছু নেই। না তুমি যেতে চাইলে আটকাতে পারবো, আর না তুমি না যেতে চাইলে জোর করে পাঠাতে পারবো। কিন্তু তুমি যেতে চাও না কেন? সব মেয়েরাই তো যেতে চায়। আমার বোনই তো আমাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে চায় না। তবে তুমি এর ব্যতিক্রম কেন?”
গহনের বিন্দুমাত্র আন্দাজ ছিল না যে ওর এই সামান্য একটা প্রশ্নে নিধি এভাবে হাউমাউ করে কেঁদে উঠবে। ফলস্বরূপ একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেলো গহন। ল্যাপটপটা পাশে রেখে ব্যতিব্যস্ত গলায় বলে উঠলো,
“কাঁদছো কেন? আমি তো বলিনি চলে যেতে। আরে বাবা, ঠিক আছে না গেলে যাবে না। জোর করে কেউ পাঠাচ্ছে না তোমাকে। আমি বের করে দেব না তো কখনো।”
নিধি ক্রন্দনরত গলায় বলে উঠলো,
“আমি ওই বাড়িতে কোনদিনও যাবো না। ওরা আমাকে জোর করে এখানে পাঠিয়েছে তো ঠিক আছে, আমি এখানেই থাকবো। আমার ভালো কেউ চায় না। কেউ একটু আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে দিল না। কেউ একটু আমার ইচ্ছের মূল্য দিলোনা। কেউ বুঝলোই না যে আমি যা চেয়েছিলাম সেই সব আমার বাবা-মা কে ভালো রাখার জন্যই চেয়েছিলাম। আজ ওরা আমাকে আমার বাড়িতে যেতে নিষেধ করে গেল। আমার বাবা মাকে আসতে পর্যন্ত দিল না অনুষ্ঠানে। ওই বাড়িতে আমি আর কোনদিন যাব না। আমি যদি কখনো ম'রেও যাই আমার জানাজায় ওই বাড়ির কাউকে থাকতে দেবেন না। আপনার যেখানে ইচ্ছে হবে আমায় সেখানে কবর দিয়ে দেবেন। ওদের কথা শুনবেন না। এই অধিকার আমি আপনাকে দিলাম।”
নিধি হয়তো একটু সহানুভূতি আশা করেছিল গহনের থেকে। ভেবেছিল অন্তত ওকে কাঁদতে দেখে হয়তো গহন একটু হলেও নরম হবে। তবে তেমন কিছুই হলো না। বরং গহন মৃদু ধমকের সুরে বলে উঠলো,
“ম’রা’র এত ইচ্ছে কেন তোমার? সারাদিন খালি ম'রা ম'রা করতেই আছো তো করতেই আছো। মৃত্যু যদি সব কিছুর সমাধান হতো, মৃত্যুই যদি আমাদেরকে সব অশান্তি থেকে মুক্তি দিতে পারতো তবে এই পৃথিবীতে আর কেউই বেঁচে থাকত না।”
নিধির কান্নার বেগ কমলো না। বরং আরো বাড়লো। গহন ওকে থামালো না। কাঁদতে দিল। সে তখনকার মতন এখনো নিধি কে কাঁদতে দিল। বেশ কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করার পর নিধি এখনও আবার একা একাই থেমে গেল। খুব তাড়াতাড়ি নিজের চোখের জল মুছে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“অযথা বিরক্ত করলাম আপনাকে। ঘুমিয়ে পড়ুন। আমিও ঘুমোবো।”
কথাটা বলে নিধি উঠে চলে যেতে ধরলে গহন ওর হাত টেনে ধরে বলল,
“কোথায় যাচ্ছ ঘুমোনোর জন্য? বিছানাতেই তো বসে ছিলে।”
“ওহ্। ভুলে গিয়েছিলাম।”
নিধি বিছানায় উঠে জানালার ধারেই শুয়ে পড়লো। গহন একবার বলে উঠতে চাইলো যে আজ ভয় করবে কিনা। তবে বলল না।
চোখের উপর হাত দিয়ে নিধি ঘুমোনোর চেষ্টা করল। আর গহন আবারও নিজের কাজ শুরু করলো।
বেশ কিছুটা সময় কাজ করার পর গহন হঠাৎ করেই নিধি কে ডেকে উঠলো একবার। নিধি তখনও ঘুমোয়নি। চোখের উপর থেকে হাতটা নামিয়ে বলল,
“আমি তো চুপ করেই শুয়ে আছি। কোন তো অসুবিধা করিনি।”
গহনের এখনো বিরক্ত হওয়ার কথা ছিল, তবে বিরক্ত হলো না। খুব গভীর ভাবনার জগতে ডুবে গিয়ে নিধি কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“কারো জীবনই সহজ না। যার যার জায়গায় দাঁড়িয়ে তার জীবন কঠিন মনে হয়। কিন্তু কখনো ম’রা’র কথা ভাববে না। অন্যের জন্য বাঁচবে, আবার অন্যের জন্যই ম’র’বে তাহলে নিজের জন্য কি করলে? নিজেকে একটু ভালোবাসার চেষ্টা করবে। আর যে মানুষগুলো তোমায় ভালোবাসে তাদেরকে ভালোবাসার চেষ্টা করবে।”
“আর যদি এমন কেউ নাই থাকে আমাকে ভালোবাসার মতো তাহলে?”
“এমন নিষ্ঠুর ভাগ্যের দুটো মানুষ কখনো এক হতে পারে না। জীবনসঙ্গী মানেই হলো একজন আরেকজনের জীবনের কমতি দূর করা। সেখানে তুমি আমি দুজনেই যদি এমন ভাগ্যের হই তাহলে তো হবে না।”
গহন কথাটা বলতেই নিধি বলে উঠলো,
“আপনার ভাগ্য এমন হতে যাবে কেন? আপনাকে ভালোবাসার কত মানুষ আছে। আমার তো কেউ নেই। একটা ভালো জামাই ও পেলাম না যে আমায় একটু ভালোবাসবে। এই নিধির কপালটা যে কি দিয়ে বানানো কে জানে!”
নিধি একা একা আরো কি সব বিরবির করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো। গহন কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো অদ্ভুত মেয়েটার দিকে। মাঝে মাঝে ভাবে মেয়েটা কি পাগল! মাথার সমস্যা আছে নাকি সব বোঝে ঠিকই। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে আজেবাজে কথাগুলো বলে। কোথায় কখন কাকে কি বলতে হয় সেই জ্ঞানটুকু নেই। আবার এসেছিল গহনের কাছে আত্মসমর্পণ করতে। বয়সে পুঁচকে আর নিজেকে বড় দেখাতে চাইলে যা হয় আরকি!
_______
সকাল সাতটা নাগাদ গহনের ঘুম ভাঙলো। নিধি তখনও গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। বেশি দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গহনের নেই। অনেক আগে থেকেই একদম সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস। তবুও প্রতিদিনের তুলনায় আজকে যেন একটু দেরিই করলো।
ঘুম থেকে উঠে বসে আগে নিধির মুখের দিকে তাকালো। জানালা খুলে রাখার জন্য তেমন একটা গরম লাগে না। বরং ঠান্ডাই লেগে যায়। তবে নিধির বোধহয় একটু বেশিই ঠান্ডা লাগে। সেজন্যই তো একেবারে কাঁথা গায়ে দিয়ে গুটি হয়ে ঘুমোচ্ছে। কি সুন্দর শান্ত দেখাচ্ছে মেয়েটাকে। এখন এই মেয়েটাকে দেখলে কেউ কি বলবে যে জেগে থাকলে সারাক্ষণ বকবক করতেই থাকে। কেউ বুঝতেও পারবে না যে মেয়েটা ঠিক কতটা বাচাল প্রকৃতির।
কি একটা ভেবে যেন গহন একা একাই হাসলো। গহনের হাসির শব্দ হয় না। ঠোঁট দুটো খুব বেশি প্রসারিতও হয় না। কিঞ্চিত একটু প্রসারিত হয় আরকি। কেউ দেখলে হয়তো বুঝতেও পারবে না যে আদৌ মানুষটা হাসছে কিনা।
বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে গেল ফ্রেশ হতে। আজ কয়েক দিন হলো কাজে যাওয়া হয় না। বেশ কিছুদিন অফিসে যায়নি। কিন্তু আজ যেতেই হবে। একটা মিটিং আছে। সেখান থেকে আবার দুপুরের দিকে একটা জরুরী কাজে যেতে হবে গহন কে।
একেবারে তৈরি হয়ে ঘর থেকে বেরোলো গহন। খুব আস্তে ধীরে কাজ করলো যে কোন প্রকারের শব্দ না হয়। মেয়েটা সারারাত মাথা যন্ত্রণায় ছটফট করেছে। গহন দেখেছে অনেক রাত করে ঘুমিয়ে ছিল। এখন এত তাড়াতাড়ি জেগে গেলে আবার মাথা ব্যাথা করতে পারে। সেই জন্য নিধিকে একটু ঘুমোতে দিল।
ঘর থেকে বেরিয়ে গহন সোজা গেল সালমা বেগমের ঘরে। অফিসে যে যাচ্ছে সেটা জানিয়ে যেতে হবে ওনাকে। দরজায় দাঁড়িয়ে আগে ভিতরে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলো।
সালমা বেগম তখন আলমারি থেকে কিছু কাপড়চোপড় বের করে সেগুলো আবার সুন্দর করে ভাঁজ করে তুলে রাখছিলেন। বড় ছেলের কন্ঠ কানে যেতেই তিনি দরজার দিকে তাকালেন। সকাল সকাল ছেলে মুখ দেখে তার নিজের মুখেও হাসি ফুটে উঠলো। আলমারিটা বন্ধ করে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“ভিতরে এসো বাবা।”
“শরীর ভালো আছে তো মা?”
সালমা বেগম ছেলের দিকে এগিয়ে এসে গালে হাত রেখে আদুরে ভঙ্গিতে বললেন,
“হ্যাঁ বাবা। আমি ভালো আছি। তুমি কি অফিসে যাচ্ছো?"
“হ্যাঁ মা। আসলে অনেক কাজ পড়ে আছে, যেতেই হবে। সেখান থেকে আবার সাবিত কে আনতে যাব।”
“আচ্ছা ঠিক আছে। সে বেশ ভালো কথা। নাস্তা করে যাও। আর নিধি কোথায়? তুমি গিয়ে বসো আমি ওকে ডেকে বলছি তোমাকে নাস্তা দিয়ে দিতে।”
সালমা বেগম যেতে ধরলে গহন ওনাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“ওকে ডেকো না মা। আসলে সারারাত মাথা যন্ত্রণায় ছটফট করেছে। অনেক দেরি করে ঘুমিয়েছে। এখন একটু ঘুমোক। আরাম পাবে। নাস্তা তৈরি থাকলে বলো আমি খেয়ে নিচ্ছি।”
সালামা বেগম ছেলেকে কপট রাগ দেখিয়ে বললেন,
“সে কি কথা! তুমি কি ভেবেছো তোমার বউ এসেছে জন্য তোমার মা একেবারের জন্য তোমার সব দায়িত্ব পালন করা ছেড়ে দেবে? নিধির মাথা যন্ত্রণা করছে তো বেশ ও ঘুমোক। সমস্যা কি। তোমার মা আছে তো। চলো আমি খাবার দিয়ে দিচ্ছি।”
গহন আলতো হাসলো ওনার কথায়। সেই সাথে ভীষণ সন্তুষ্টও হলো গহন নিজের মায়ের প্রতি। নিধির কথাটা বলার আগে একটু সংকোচের মাঝে ছিল এই নিয়ে যে সালমা বেগম না আবার এই নিয়ে রাগারাগি করেন কিংবা অসন্তুষ্ট হন। তবে গহন সত্যি আন্দাজ করেনি যে ওর মা ওকে এতটা ভালো করে বুঝবে।
ডায়নিং টেবিলে গিয়ে গহন নিজেই নিজের প্লেটে খাবার তুলে নিল। সালমা বেগম তুলে দিতে চাইলেন তবে গহন আপত্তি জানালো। একা একাই খাবার বেড়ে নিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গহনের। তাই হঠাৎ করে অন্যের সাহায্য নিতে অস্বস্তি হতো।
গহনের পাশের চেয়ারে সালমা বেগম বসলেন। সচরাচর এভাবে ছেলেকে পাশে বসিয়ে খাওয়ানো হয় না। ওনাদের সবার খাওয়ার সময়ই এক হয় না। আজকাল তো গহন বেশিরভাগ দিনই সকালের নাস্তা না করেই অফিসে চলে যায়। দুপুরেও বাইরে খেয়ে নেয় আর রাতে গহন যখন বাড়ি ফেরে তখন বাকি সবার খাওয়া-দাওয়া শেষ হয়ে যায়। অনেকদিন তো সবাই ঘুমিয়েও পড়ে।
গহন চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সালমা বেগম খাওয়ার মাঝেই গহন কে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“শোনো বাবা, তোমায় একটা কথা বলি। জ্বর, সর্দি, মাথা যন্ত্রণা এসব খুবই ছোট খাটো অসুখ। এগুলোকে না ধরলে নাও ধরা যায়। আজ হয়তো নিধির মাথা যন্ত্রণাটা মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। কিন্তু ওকে দায়িত্ববোধ শেখাতে হবে। আমরা তো অনেক বছর ধরে সংসার করছি বাবা। স্বামীর যত্নের সামনে এসব ছোটখাটো মাথা যন্ত্রণা কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তোমার বাবা যখন অফিসে বেরিয়ে যেতেন আমি যত অসুস্থই থাকি না কেন বিছানায় শুয়ে থাকতে পারতাম না। ওনার পাতে ভাত না বেড়ে দিলে আমার নিজেরই কেমন অস্থির লাগতো।”
“জ্বী মা। দেখেছি আমি।”
ছেলের থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে সালমা বেগম ফের বলে উঠলেন,
“আমি চাই আমার ছেলের বউয়েরা আমার ছেলেদেরকে তেমন যত্নই করুক। ঋতু কে নিয়ে আমার কোন চিন্তা নেই। ও তো স্বামী অন্তঃপ্রাণ। তবে নিধিকে নিয়ে আমি একটু চিন্তায় আছি। একেই তো মেয়েটার বয়স কম। তার ওপর ওর যেন আমাদের সংসারের প্রতি একটা অনীহা কাজ করে। তোমার প্রতি অনীহা কাজ করে। আমি এর কারণ জানিনা। হয়তো সেটা তোমাদের ব্যক্তিগত। কিন্তু রোজ রোজ এভাবে ছাড় দিলেও চলবে না বাবা। ওকে বোঝাতে হবে এই সংসারের প্রতি, তোমার প্রতি, আমাদের সকলের প্রতি ওর দায়িত্ব কি। যতই হোক ও এই বাড়ির বড় বউ। ওর দায়িত্ব তো সবার থেকে বেশি হবে তাই না?”
গহন বেশ ভালোই বুঝতে পারল যে সালমা বেগম ওকে আসলে কি বোঝাতে চাইছেন। তর্ক বিতর্কে যাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই গহনের। খাবার শেষ করে হাত ধুঁতে ধুঁতে সালাম বেগমকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“চিন্তা করো না মা। নিধি যথেষ্ট ম্যাচিওর। দায়িত্ববোধ নিয়ে কোন অসুবিধা হবে বলে আমি মনে করি না। আর আমাদের প্রতি ওর কোন অনীহা নেই। একটা নতুন পরিবেশে এসে মানিয়ে নিতে হয়ত সমস্যা হচ্ছে। একটু সময় লাগবে ওর। ওকে একটু সময় দাও। ওকে অনুভব করাও যে এটা ওরও বাড়ি। ওকে বোঝাও আমরা ওর নিজের। দেখবে সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর আমি ওর উপরে কোন ধরনের চাপ তৈরি করতে চাই না। ওকে স্বেচ্ছায় মন থেকে সবটা করতে দাও।”
ছেলের কথা একেবারে অপছন্দ হলো সালমা বেগমের। ভীষণ মনঃক্ষুন্ন হলেন তিনি ছেলের প্রতি। তবে নিজের সেই অসন্তুষ্টিটুকু প্রকাশ করা আর হয়ে উঠলো না। কেননা তিনি বেশ বুঝতে পারলেন তার চাওয়া আর তার ছেলের চাওয়া এই বিষয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত। এখন যদি তিনি ছেলের চাওয়াটাকে বদলে নিজের চাওয়া পূরণ করতে চান তাহলে হয়তো ছেলে তার কথা শুনলেও শুনতে পারে। তবে মনে মনে ওনার প্রতি ছেলের একটা ভিন্ন ধারণা তৈরি হবে।
এমনও হতে পারে হয়তো ছেলে বউয়ের ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে গিয়ে উল্টো সালমা বেগমের চাওয়াটা না রেখে ওনার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে গেলেন।
সালমা বেগমের এসব ভাবনার মাঝেই গহন বলে উঠলো,
“আমি এখন আসছি মা। নিজের খেয়াল রেখো।”
ধ্যান ভাঙলো সালমা বেগমের। আলতো হেসে পাল্টা ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“তুমিও নিজের খেয়াল রেখো।”
গহন নিজেও পালটা হেসে চলে যেতে ধরে আবারো থেমে গেল। পিছন ফিরে তাকালো সালমা বেগমের দিকে। ছেলের চোখ মুখ দেখে তিনি বুঝতে পারলেন যে গহন কিছু একটা বলতে চাইছে। তবে অস্বস্তি হচ্ছে। গহনের ব্যাপারটা ওনার মোটেই ভালো লাগলো না। প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
“তুমি কি এই সংশয়ে আছো যে, যা বলতে চাইছো সেটা আমার অপছন্দ হবে?”
সালমা বেগমের এই অভ্যাস পুরনো। খুব ভালোভাবে গহনের মন পড়তে পারে, চোখের ভাষা বুঝতে পারে। গহন কিঞ্চিত অস্বস্তি জড়ানো গলায় বলল,
“মা, আমার মনে হয় সাবিত কে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে আবার আমাদের থেকে দূরে কোথাও পাঠানো ঠিক হবে না। আমাদের সাথে থেকে, আমাদের শাসনের মাঝে থেকেই যদি বিপথে যেতে পারে তাহলে আমরা আশেপাশে না থাকলে তো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে তাই না?”
গহনের এই কথাটাও পছন্দ হলো না সালমা বেগমের। তবে তিনি সেটুকুও ছেলেকে বুঝতে দিলেন না। বরং ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে বললেন,
“দেশে থাকলে অসৎ সঙ্গে ও বিগড়ে যাবে। তুমি ভেবোনা। আমি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটাই সঠিক। তুমি বোধহয় টাকা পয়সার চিন্তা করছো? টাকা পয়সা নিয়ে ভেবো না। তোমাদের বাবা যথেষ্ট সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন। দরকার পড়লে ওর ভাগের সম্পত্তি বিক্রি করে ওকে বিদেশ পাঠাবো। তোমার ফুফুর সাথেও আমি কথা বলবো এই নিয়ে।”
সালমা বেগম কথাটা বলতেই গহন তড়িঘড়ি করে বলল,
“আমি টাকা পয়সার কথা ভাবছি না মা। আমি শুধু তোমাকে বোঝাতে চাইছি ওর আশেপাশে আমরা থাকা সত্ত্বেও ওকে সামলাতে পারিনি। তাহলে ও একা থাকলে তো আরো বিগড়ে যাবে।”
সালমা বেগম এবারেও আলতো হেসে বললেন,
“চিন্তা করো না। কিচ্ছু হবে না। দেশে আমি আর তোমার ভাই কে রাখবো না।”
আর কোন কথা বাড়ালো না গহন। বুঝলো এই নিয়ে এখন আর কথা বাড়ালে সালমা বেগম ওকে ভুল বুঝতে পারেন। হয়তো আবারো বলবেন যে টাকা পয়সার কথা চিন্তা করে গহন বলছে যে ওকে বিদেশ পাঠানোর দরকার নেই।
কিন্তু উনি তো এটা বোঝার চেষ্টাই করলেন না যে গহন সাবিতের ভালোর জন্যই কথাটা বলল। গহন কথাটা বলল তার কারণ গহন একটু হলেও সাবিতের ভবিষ্যতের পরিণতি সম্পর্কে আন্দাজ করতে পারছে। ভয়াবহ ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছে চোখের সামনে নিজের ছোট ভাইয়ের।