
পর্ব ১
সম্পূর্ণ পড়ুন

পর্ব ২
সম্পূর্ণ পড়ুন

পর্ব ৩
সম্পূর্ণ পড়ুন

পর্ব ৪
সম্পূর্ণ পড়ুন

পর্ব ৫
সম্পূর্ণ পড়ুন

পর্ব ৬
সম্পূর্ণ পড়ুন

পর্ব ৭
সম্পূর্ণ পড়ুন

পর্ব ৮ (সমাপ্ত)
সম্পূর্ণ পড়ুন
দেয়ালের ভেতর জমাট বাঁধা যে অন্ধকার এতদিন কেবল ভয়ের পদধ্বনি শুনিয়েছে, তার গভীরে আসলে লুকিয়ে ছিল বিস্মৃত স্মৃতির এক অদ্ভুত আর্তনাদ। রাতের নিস্তব্ধতায় রুদ্ধ দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসা চেনা অথচ অচেনা ডাক মানুষকে দাঁড় করিয়ে দেয় আত্মপরিচয়ের সবচেয়ে জটিল ধাঁধার সামনে। যখন অতীতের মিথ্যাগুলো একে একে খসে পড়তে শুরু করে, তখন ভয়ের কুয়াশা ভেদ করে বেরিয়ে আসে এক নির্মম অথচ রক্তক্ষয়ী সত্যের ইতিহাস।
"পরিত্যক্ত বাড়ি" গল্পটি লেখক নিলয় মাহমুদ রাকিব-এর অনুমতিক্রমে ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গল্পের বাহার-এ প্রকাশিত হয়েছে।

সম্পূর্ণ পড়ুন

সম্পূর্ণ পড়ুন

সম্পূর্ণ পড়ুন

সম্পূর্ণ পড়ুন

সম্পূর্ণ পড়ুন

সম্পূর্ণ পড়ুন

সম্পূর্ণ পড়ুন

সম্পূর্ণ পড়ুন
‘পরিত্যক্ত বাড়ি’ গল্পটি আপাতদৃষ্টিতে একটি গা ছমছমে ভৌতিক পরিবেশ দিয়ে শুরু হলেও দ্রুতই তা রূপ নেয় গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক রহস্যে। রাফি, তানভীর ও মেহরিন নামের তিন তরুণের একটি পুরোনো বাড়ি পরিদর্শনে যাওয়া এবং সেখানে ঘটে চলা একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে কাহিনীর সূত্রপাত ঘটে। দেয়ালে গোপন কুঠুরি, অদ্ভুত পায়ের ছাপ, বন্ধ মিটারের রহস্য এবং সময়ের ধাঁধা পাঠককে শুরু থেকেই তীব্র উত্তেজনায় বেঁধে রাখে। গল্পের আসল সৌন্দর্য প্রকাশ পায় যখন বোঝা যায়—ভয় দেখানো কোনো অপশক্তির কাজ নয়, বরং অতীতের এক গোপন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যমজ ভাইয়ের স্মৃতি পুনরুদ্ধারের আবেগঘন প্রয়াস। ভৌতিক উপাদানের চমৎকার যৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর সুনিপুণ মেলবন্ধন গল্পটিকে অনন্য করে তুলেছে। প্রতিটি পর্বের শেষে থাকা ক্লাইম্যাক্স ও রহস্যের উন্মোচন পাঠককে পরবর্তী অংশ পড়ার জন্য ব্যাকুল করে তোলে। অতীতের নিখোঁজ স্মৃতি, বাবার আত্মত্যাগ এবং দুই ভাইয়ের অটুট ভালোবাসার মনস্তাত্ত্বিক প্রকাশ অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে চিত্রিত হয়েছে। ঘটনার টানটান প্রবাহ, নিখুঁত বর্ণনারীতি এবং চরিত্রগুলোর বুদ্ধিমত্তা গল্পটিকে এক আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। সর্বোপরি, ভয়ের চেয়েও সত্য ও আত্মপরিচয় খোঁজার গভীর মানবিক অনুভূতিই এই গল্পটিকে অত্যন্ত সুন্দর ও সার্থক করে তুলেছে।
রহস্য ও রোমাঞ্চপ্রেমী পাঠকদের জন্য ‘পরিত্যক্ত বাড়ি’ একটি অসাধারণ সংযোজন হতে চলেছে। আপাতদৃষ্টিতে গল্পটিকে চেনা কোনো ভূতুড়ে বাড়ির উপাখ্যান মনে হলেও এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক সত্যের বিস্ময়কর জাল। লেখক নিলয় মাহমুদ রাকিব প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে লজিক্যাল ও থ্রিলিং প্লট তৈরিতে যে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি দৃশ্যের আবহ তৈরি এবং সংলাপের বলিষ্ঠতা পাঠকদের এক মুহূর্তের জন্যও দৃষ্টি সরাতে দেবে না। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, স্মৃতি বিলোপের অপচেষ্টা এবং রক্তের অদৃশ্য বন্ধন—এই ত্রিমাত্রিক মেলবন্ধন গল্পটিকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক থ্রিলার ধারায় শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। গল্পের বাঁকে বাঁকে যুক্তি ও রহস্যের যে যুগলবন্দি ঘটেছে, তা বর্তমান প্রজন্মের পাঠকদের তৃষ্ণা মেটাতে পুরোপুরি সক্ষম। আমাদের দায়িত্ব ছিল এই গভীর অথচ তীব্র আবেগময় সৃষ্টিকে নিখুঁতভাবে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা। আশা করি, রাফির আত্মপরিচয় সন্ধানের এই রোমাঞ্চকর জার্নি প্রতিটি পাঠকহৃদয়ে গভীর দাগ কাটবে। সাহিত্যের পাতায় এমন অভিনব ও চিন্তাশীল গল্পের প্রকাশনা আমাদের সম্পাদনার পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাঠকদের মুগ্ধতা ও গঠনমূলক প্রতিক্রিয়াই হবে এই পরিশ্রমের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।