বারো মাসই বর্ষা

পর্ব - ১২

🟢

সকালে আজও আগে গহনই ঘুম থেকে উঠলো। খুবই সাবধানতার সাথে ঘরে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ ফেলল যেন নিধির ঘুমের কোন সমস্যা না হয়। অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে বসার ঘরে গিয়ে দেখলো সোফায় সালমা বেগম বসে আছে। ছেলেকে আগেই তিনি খেতে না বলে ইশারায় নিজের পাশে বসতে বললেন। গহনও বসলো।

সালমা বেগমের অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছে খুব গুরুতর কিছু বলবেন তিনি। গহনও একটু চিন্তিত ভঙ্গিতেই বলল,

“কিছু বলবে মা? কিছু হয়েছে কি?”

সালমা বেগম বেশ গম্ভীর ভঙ্গিতে বললেন,

“সাবিতের বিয়ের সময় এক দেখাতেই ঋতুকে পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। আমি খুব বেশি চিন্তাতেও ছিলাম না এই ভেবে যে আদৌ মেয়েটা সাবিত এর যোগ্য হবে কিনা। তবে তোমার বিয়ে নিয়ে আমি খুব চিন্তায় ছিলাম। সব সময় এই চিন্তাটাই মাথায় এসেছে যে যাকে বাড়িতে আনবো সে আমার ছেলের যোগ্য হবে কিনা। শেষে গিয়ে নিধিকে পছন্দ হলো। তবে আমার এখন মনে হচ্ছে আমি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তোমার জন্য।”

হঠাৎ করে সালমা বেগমের এই কথার মানে ঠিক বুঝতে পারল না গহন। ফলস্বরূপ প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“হঠাৎ এই কথা মনে হওয়ার কারণ?”

সালমা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,

“নিধি তোমার সাথে সংসার করতে চায় না। পরিবারের চাপে বিয়েটা করেছে। একটা সুযোগ পেলেই তোমায় ছেড়ে হয়তো চলে যাব। ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছিল। খুব আজেবাজে কথা বলল তোমায় নিয়ে। বলল তুমি নাকি ওর গায়ে হাতে তুলেছো?”

গহন তড়িৎ গতিতে বলে উঠলো,

“কখনোই না মা। মেয়েদের গায়ে হাত তোলার স্বভাব আমার নেই। তুমি চেনো না তোমার ছেলেকে?”

সালমা বেগম দুঃখী ভঙ্গিতে বললেন,

“সে তো আমি চিনি আমার ছেলেকে। কিন্তু ও যাকে কথাগুলো বলছিল সে তো নিশ্চয়ই তোমাকে চেনে না। যাকে ও কথাগুলো বলছিল সে নিশ্চয় নিধির বিশ্বস্ত কেউ ছিল যে তোমার থেকে বেশি নিধির কথা কে বিশ্বাস করবে। যাইহোক, মেয়েটা কে আমার খুব একটা সুবিধার মনে হলো না। তোমাদের সম্পর্কটাও তো আমার মনে হয় খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। তাই বলছি যদি মনে করো একসাথে থাকতে পারবেনা তাহলে দেরি না করে আলাদা হয়ে যাও।”

সালমা বেগমের কথার প্রেক্ষিতে গহন আলতো একটু হেসে বলল,

“সবে মাত্র এক হলাম মা। এখনই আলাদা হওয়ার কথা ভাবা তো ঠিক না। আর তাছাড়া যদি নিধি কাউকে আমার সম্বন্ধে আজেবাজে কথা বলে তাহলে আমার তো সেটা নিধির থেকে জানতে হবে যে কেন বলল। তুমি চিন্তা করো না। রাতে আমি বাড়ি ফিরে নিধির সাথে এই নিয়ে আলোচনা করব।”

গহন কথাটা বলে উঠে চলে যেতে নিলে সালমা বেগম তড়িঘড়ি করে বললেন,

“না না বাবা। নিধির সাথে এই নিয়ে কোন আলোচনা করো না। তুমি তো তখন বাড়িতে ছিলে না। ও তাহলে বুঝে যাবে যে আমি তোমায় কথাগুলো বলেছি।”

গহন স্বাভাবিক গলায় বলল,

“বুঝলে বুঝবে মা। তুমি তো মিথ্যে কিছু বলোনি। নিশ্চয়ই সত্যিই বলেছো। বরং আমি যদি ওকে এই কথাগুলো বলি তাহলে ও বুঝবে নিজের ভুলটা।”

“না না তার কোন প্রয়োজন নেই। তুমি আমার ছেলে। আমি তোমাকে ভালোবাসি সেজন্য তোমাকে সাবধান করলাম। আগেই ওকে কথাগুলো বলো না। আগে ওর মতিগতি দেখো। তারপরে না হয় বলো।”

“আচ্ছা ঠিক আছে মা। আসছি এখন।”

কথাটা বলে গহন বেরিয়ে গেল। ছেলেটা যে না খেয়ে গেল সেদিকে খেয়াল নেই সালমা বেগমের। আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন। এই প্রথম গহনকে একটা কাজ করতে বলে বিপদে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।

ছেলেটা আগে তো এমন করত না। হঠাৎ করে কি এমন হয়ে গেল যে মায়ের কথায় বিশ্বাস না করে আবার তদন্তে নেমে পড়তে চাইলো? আবহাওয়া কি তবে বদলাতে শুরু করে দিয়েছে নাকি?

__________

আজ নিধির ঘুম ভাঙতে ভাঙতে সকাল ন'টা বাজলো। ঘর থেকে বেরিয়ে ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখলো তখন শম্পা আর সিনথিয়া বসে খাচ্ছে। নিধি কে দেখতেই শম্পা মুখ ভেংচিয়ে বলল,

“যাক তোমার তাও ঘুম ভাঙলো। ভুলে গেছো কি যে তুমি শ্বশুরবাড়িতে থাকো এখন। বাপের বাড়ির বদ অভ্যাস ছাড়ো। তুমি সকাল দশটা পর্যন্ত ঘুমোবে আর আমরা তাড়াহুড়ো করে উঠে নাস্তা বানিয়ে খেয়ে আবার তোমার জন্য রাখবো নাকি!”

নিধি ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটিয়ে বলল,

“বেশ বানাতে হবে না আমার জন্য। নিজেদের জন্য বানিয়ে নিলেই হবে। আমাকে গহন বলে গেছেন আমি যতক্ষন ইচ্ছে ঘুমোতে পারি। উনি যদি আবার বলেন যে সকাল সকাল উঠতে হবে তাহলে উঠতে পারি। যদি আপনাদের আমার হাতে নাস্তা করার ইচ্ছে হয় তাহলে আরেকটু কষ্ট করে অপেক্ষা করতে হবে আপু। আমার একটু মাথাব্যথার সমস্যা আছে তো। তার মাঝে এই বাড়িতে আবার মানুষজন কথাও বেশি বলে। তাই সমস্যা বেড়েছে।”

একনাগাড়ে কথাগুলো বলে নিধি নিজেই জিভে কামড় বসালো। এই ভাবে কথা বলা উচিত হলো না। কি যে করেনা মেয়েটা! সব জায়গায় তো সব কথা বলা যায় না। তাও নতুন বউ হয়ে এভাবে বড় ননদের মুখে মুখে তর্ক করলো।

শম্পার দিকে তাকাতেই দেখলো শম্পা হা করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। নিধি জোরপূর্বক মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,

“মজা করছিলাম আপু। আপনার খাওয়া দাওয়া কতদূর? শেষ নাকি? একটা ডিম ভেজে এনে দেই?”

শম্পা মুখ ভেংচিয়ে বলল,

“লাগবেনা। আমার ইচ্ছে হলে আমি নিজেই ভেজে খেয়ে নিতে পারি। তুমি কতক্ষণে বলবে সে আশায় থাকতে হবে না।”

নিধি আর কোন কথা বাড়ালো না। সবাই খেয়ে-দেয়ে উঠে গেল। নিধি দেখলো ওর জন্য বেঁচে আছে একটা রুটি আর বাটিতে পড়ে আছে একটু সবজি। আজও সেই একই খাবার। এই বাড়িতে থাকলে মনে হয় নিধিকে না খেতে পেয়েই ম'র'বে। তবে কিছু করার নেই। আবারো সেই একি খাবারটাই কষ্ট করে গিলে নিল।

খাওয়া-দাওয়া শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেল নিধির ডাক। মাঝে মাঝে নিধির মনে হয় এই বাড়ির মানুষগুলো ওকে ভীষণ ভালোবাসে। ওকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না। কিচ্ছু করতে পারে না নিধি কে ছাড়া। সব সময় নিধি কে ডাকতেই থাকে। হয়তো ভালো লাগে না এক মুহূর্ত নিধি কে না দেখলে। নিজের শয়তানি ভাবনার উপরে নিধির নিজেরই হাসি পেল। একা একা হাসলোও।

বিজ্ঞাপন

নিধির হাসির মাঝেই আবারো ওর ডাক পরলো। দিনের বেলায় সালমা বেগম একের পর এক কাজ বলেই যায় নিধিকে। রাত হলেই আবার ওনার অভিব্যক্তি বদলে যায়। রাত হলে যে দরদটা দেখায় নিধির প্রতি দিনের বেলা তার একটু দরদ দেখালেই তো কাজটা একটু কমে যায়। অন্তত নিজের মেয়েদেরকে যদি একটু বলে নিজেদের কাজ নিজেদেরকে করে নিতে তবুও তো নিধি একটু শান্তি পায়।

অবশ্য সালমা বেগম যতই ভালো হোক না কেন মেয়েদের থেকে তো আর ছেলের বউকে বেশি ভালোবাসবেন না। এটাই স্বাভাবিক।

নিজের মনকে নিজেই বুঝ দিতে দিতে কাজগুলো করল নিধি। আজ আবারো ঘর মুছতে বলেছে। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও নিধিকে মুছতে হলো। এই কষ্টের কথাগুলো আর কাকেই বা বলবে। বিয়ে যখন করেছে সংসারের কাজ তো করতেই হবে। নিজের মা কে যদি এই বিষয়ে কোন অভিযোগ করে নিধির মা ও তো এই কথাটাই বলবে।

নিধির কাজের মাঝেই কলিং বেল বেঁজে উঠলো। নিধি ভাবলো হয়তো অন্য কেউ গিয়ে দরজাটা খুলে দেবে। তবে দেখল কলিং বেল বেজেই যাচ্ছে কিন্তু কেউ নিজের ঘর থেকে বের হচ্ছে না। মানে দরজাটাও গিয়ে নিধিকেই খুলতে হবে। বাহ! খুব ভালো।

হাতে থাকা ঘর মোছার কাপড়টা মেঝেতে ছুঁড়ে মারলো নিধি। ওড়নাটা ঠিকঠাক করে গিয়ে দরজা খুলল। দরজা খুলতেই দেখলো আবিদ দাঁড়িয়ে আছে। চিনতে ভুল হলো না নিধির। গহনের বন্ধু। অনুষ্ঠানের দিন দেখেছিল তো। তবে আবিদের নিধিকে দেখে চিনতে ভুল হলো।

বুঝলো যে এটা নিধি। তবে নিধির অবস্থা দেখে চমকে উঠলো। অনুষ্ঠানের দিন যে মেয়েটাকে এত পরিপাটি ভাবে সাজগোজ করা দেখলো আর আজকে সে মেয়ের এ কি বেহাল দশা। মনে হচ্ছে নিধির উপর দিয়ে কোন ঝড় বয়ে গেছে। পরনের জামা কাপড়ও হালকা একটু ভেজা। মাথার চুলগুলো এলোমেলো। চোখে মুখে ফুটে উঠেছে ভীষণ রকমের ক্লান্তি।

“আরে ভাবি, এ কি অবস্থা আপনার? কি হয়েছে আপনার সাথে?”

নিধি জোর পূর্বক হাসার চেষ্টা করে বলল,

“বাড়ির বউদের যা অবস্থা হয় আর কি ভাইয়া। খুব ভয়ানক কিছু হয়নি আমার সাথে। যাই হোক, ভিতরে আসবেন? আপনার বন্ধু বাড়িতে নেই।”

আবিদ হেসে উঠে বলল,

“আরে আমি তো বন্ধুর সাথে দেখা করতে আসিনি। আমার কাজ তো আপনার সাথে। চলুন ভাবি ভিতরে যাই। “

নিধি দরজার সামনে থেকে সরে দাঁড়ালো। দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে নিধি ভিতরে এসে দেখলো আবিদ সোফায় বসেছে। নিধি বুঝলো না আবিদের ওর সাথে কি কাজ থাকতে পারে। আবার আগবাড়িয়ে কিছু বলতেও পারলে না। নিধি কে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবিদ নিজেই বলে উঠলো,

“দাঁড়িয়ে আছেন কেন ভাবি? বসুন।”

“না বসতে হবে না। আপনি বলুন কি বলবেন?”

আবিদ একটা খাম নিধির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

“আপনাদের বিয়েতে এটা আমার পক্ষ থেকে উপহার ভাবি। সাত দিনের হানিমুন প্যাকেজ।”

নিধি আমতা আমতা করে বলল,

“ইয়ে মানে আমাকে না দিয়ে আপনার বন্ধুকে দিলেই হত।”

“ওকে দিতাম। কিন্তু ওর আবার এত কিছু মনে থাকে না। শেষে দেখবেন তারিখ পার হয়ে যাবে। সেজন্য আপনাকে দিলাম। এটা নিন ভাবি। বিয়ের পরে একটু ঘুরতে হয়। আপনি তো একদম শুরু থেকেই দেখছি উঠে পড়ে লেগেছেন সংসারের পিছনে। এত চাপ নিতে নেই।”

নিধি নিল খামটা। একটু যে ধন্যবাদ জানাবে সেই সুযোগটাও পেল না। তার আগেই কানে ভেসে এলো শম্পার কণ্ঠস্বর। একনাগারে নিধি নিধি বলে ডাকতেই আছে তো ডাকতেই আছে। থামার কোন নামই নিচ্ছে না। নিধি আবিদ কে একটু অপেক্ষা করতে বলে গেল শম্পার কাছে। একটু পর আবার এল। এবারে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ পেল নিধি। তবে ধন্যবাদ এর বাইরে একটা বাড়তি শব্দও উচ্চারণ করার সুযোগ পেল না। তার আগেই এবার আবার কানে ভেসে এলো সিনথিয়ার কণ্ঠস্বর।

এমন না যে নিধির রাগ হলো না। তবে আবিদ যেহেতু বাইরের মানুষ তাই ওর সামনে রাগারাগি করে কোন লাভ নেই। আবার আবিদ কে অপেক্ষা করতে বলে গেল সিনথিয়ার ঘরে। সিনথিয়া তখন বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছে। মেয়েটার এমন নবাবি ভাব দেখলেই নিধির গা পিত্তে চলে যায়। রাগী গলায় বলল,

“কি হয়েছে? ডাকছো কেন?”

“ভাবি, টেবিলের উপর চার্জার আছে। দাও তো।”

নিধি অবিশ্বাস্যকর গলায় বলল,

“তুমি চার্জার নেওয়ার জন্য আমায় এত দূর থেকে ডাকলে!”

“হ্যাঁ। দাও। সমস্যা কি? আমি উঠতে পারছি না বিছানা থেকে। এতোটুকুই করতে পারবে না!”

“ঠিকই বলেছো। এতোটুকুই আমি করতে পারবো না।”

নিধির কথাটা শুনে সিনথিয়া লাফ দিয়ে উঠে বসলো। ভেবেছিল নিধি কে কড়া কিছু কথা শোনাবে। তবে সেই সুযোগটা নিধি ওকে দিল না। তার আগেই ঘর থেকে বেরিয়ে ঠাস করে দরজাটা বন্ধ করে দিল। সিনথিয়া হা করে তাকিয়ে রইল দরজার দিকে। কত বড় সাহস মেয়েটার যে সিনথিয়ার কথার অমান্য করে!

সিনথিয়ার ঘর থেকে বেরিয়ে নিধি আগেই আবিদের কাছে গেলো না। আগে গেল রান্নাঘরে। আবিদ অনেকক্ষণ হলো এসেছে। একটু তো নাস্তা দেওয়া দরকার। ফ্রিজ থেকে মিষ্টি বের করে প্লেটে সাজিয়ে নিয়ে গেল আবিদের সামনে।

নিধি দেখলো এবারে আবিদের মুখে কোন হাসি নেই। বরং কেমন যেন অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। নিধি টেবিলের উপরে নাস্তার বাটি রেখে ঠোঁটে অল্প হাসি ফুটিয়ে তুলে বললো,

“অনেকক্ষন বসিয়ে রেখেছি আপনাকে ভাইয়া। একটু মিষ্টি খান। আর কিছু মনে করবেন না। আসলে বারবার সবাই ডাকছে জন্য সময় দিতে পারছিনা।”

আবিদের মিষ্টি খাওয়ার কোন ইচ্ছে হলো না। উঠে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘশ্বাক ছেড়ে নিধিকে বলল,

“জীবনসঙ্গী হিসেবে খুব ভালো একটা ছেলেকে পেয়েছেন আপনি ভাবি। যাকেই জিজ্ঞেস করবেন সেই আপনাকে এই কথাটাই বলবে। তবে এই পৃথিবীর সব থেকে জঘন্য শ্বশুরবাড়ি পড়েছে আপনার কপালে। আসলে আপনার জন্য আফসোস করতেও খারাপ লাগছে। যাই হোক, আমি আসি। এমনিতেই আপনি যথেষ্ট ব্যস্ততার মাঝে আছেন। আর আপনার কাজ না বাড়াই।”

কথাটা বলে আবিদ বেরিয়ে গেল। মিষ্টি আর খেল না। আবিদ বেরিয়ে যেতেই নিধি মনে মনে ভাবলো যে একটা মানুষ অন্তত ওর কষ্ট বুঝেছে। সত্যি বলতে আবিদের থেকে তো এই বাড়ির মানুষগুলোর আপন হওয়ার কথা ছিল৷ অথচ ওর বাড়ির লোক গুলো নিধির কষ্ট বুঝলো না। তবে আরেকটা প্রশ্ন এলো নিধির মনে। সত্যিই কি নিধি খুব ভালো একজন জীবনসঙ্গী পেয়েছে?

বিজ্ঞাপন
বারো মাসই বর্ষা গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্প