ঘড়িতে সময় তখন রাত দশটার কাছাকাছি। তবুও বাড়ির পরিবেশ বেশ জমজমাট। আগামীকাল বৌভাতের অনুষ্ঠান। সেটারই তোরজোর চলছে। যদিও আয়োজন কমিউনিটি সেন্টারে করা হয়েছে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে বাড়ির মেয়েরা কি পরবে, কি সাজবে সেই নিয়ে চলছে আলোচনা।
সবাই অবশ্য এখন ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে নিধি কে। কেননা জুবাইদা নিধির জন্য যা এনেছেন সেসব দেখাচ্ছেন। আগামীকাল নিধি নিজের বৌভাতের অনুষ্ঠানে কি শাড়ি পরবে, কি গয়না পরবে সেসব তিনি ঠিক করে নিয়ে এসেছেন। আগামীকাল নিধি কে যিনি সাজাতে আসবেন তাকেও তিনিই ঠিক করে রেখেছেন আগে থেকে।
জিনিসপত্র গুলো দেখছে আর শম্পা, সিনথিয়া একটা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। নিধি চুপচাপ বসে আছে। এসবের প্রতি বিন্দুমাত্র কোন আগ্রহ খুঁজে পাচ্ছে না। মাঝে মাঝে জুবাইদা কে বোঝানোর জন্য যে ওর মন খারাপ না, সেজন্য একটু জোর করেই হাসছে। জুবাইদা বুঝতে পারছেন যে নিধির মন ভালো নেই, তবে তাও তিনি পরিবেশটা স্বাভাবিক রাখার জন্যই এখন জিনিসপত্র গুলো বের করলেন।
রাতের খাওয়া দাওয়া তখনো কারোরই হয়নি। রান্নাঘরে রান্না চলছে জোর কদমে। সালমা বেগম নিজে সব রান্না করছেন সবার জন্য। আর ওনাকে টুকটাক সাহায্য করছে ঋতু।
শম্পার স্বামী পিয়াল ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছে। শুয়ে শুয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পাঁচ বছরের মেয়ে শেফার সাজগোজ দেখছে। ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে শেফা একটা কানের দুল বের করে পিয়ালের দিকে এগিয়ে এসে বলল,
“বাবা, এটা আমাকে পরিয়ে দাও।”
পিয়াল হেসে উঠে বলল,
“তুমি তো এখন এটা পরতে পারবে না আম্মু। আরেকটু বড় হয়, তারপরে পরতে পারবে।”
শেফা জোর করেই কানের দুলটা পিয়ালের হাতে দিয়ে জেদ লাগলো পরিয়ে দেওয়ার জন্য। মেয়েকে বোঝানোর মাঝেই পিয়াল খুব ভালোভাবে কানের দুলটার দিকে লক্ষ্য করলো।
কানের দুলটা মনে হচ্ছে সোনার। আর এমন কোন কানের দুল তো শম্পার নেই। তাহলে এই কানের দুলটা ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে এলো কোথা থেকে? সিনথিয়ার কি হতে পারে? যদি সিনথিয়ার হয়ে থাকে তাহলে এভাবে সোনার জিনিস এত অবহেলায় কেউ ফেলে রাখে! তাও যেখানে বাড়িতে ছোট বাচ্চা আছে।
পিয়াল ভাবলো নিজেই সেটা যত্ন করে রাখবে। বিছানা থেকে নামলো। হঠাৎ করে কি ভেবে যেন আবারও থেমে গেল। নিজের স্ত্রীর স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই অবগত পিয়াল। মনে পড়ে গেল সন্ধ্যের ঘটনা। এমনই কোনো সোনার ঝুমকো নিয়েই তো অশান্তি হলো বাড়িতে। তাও আবার অশান্তিটা হলো সিনথিয়ার সাথে। আর সিনথিয়াকে সমর্থন করলো শম্পা।
আগে পিছে অনেক কিছুই ভেবে পিয়াল গলা উঁচিয়ে নিজের স্ত্রীকে ডাকলো। এদিকে সবেমাত্র জুবাইদা সোনার কি কি গয়না এনেছেন নিধির জন্য সেসব দেখাচ্ছিলেন। এর মাঝে পিয়ালের ডাক কানে ভেসে আসায় ভীষণ বিরক্ত হলো শম্পা। একবার ভাবলো যাবে না। তবে দেখলো পিয়ালের ডাক থামছেই না। পরে বাধ্য হয়ে ঘরে এসে বিরক্তিকর গলায় বলল,
“ম’রি’নি তো এখনো। কি হয়েছে? এভাবে ডাকছো কেন?”
পিয়াল উঠে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে কানের দুলটা শম্পার সামনে ধরে বলল,
“এটা কার?”
কানের দুলটা দেখতেই শম্পা চোখ দুটো বড় বড় করে তাকালো। খপ করে পিয়ালের হাত থেকে কানের দুলটা খামচে নিয়ে পরলো,
“আমারই। তুমি কেন নিয়েছো এগুলো?”
“আমি তোমাকে কবে এই কানের দুল কিনে দিলাম?”
“তুমি কেন কিনে দিতে যাবে। আমার মা আমাকে দিয়েছে।”
“কবে দিয়েছে? আগে তো কখনো দেখিনি?”
শম্পা আমতা আমতা করে বলল,
“এইবার দিয়েছে। এত প্রশ্ন করছো কেন? তাছাড়া আমার কি কি গয়না আছে সেসব তুমি জানো নাকি। আরো অনেক গয়না আছে আমার যেগুলো তুমি চেনো না। বেশি কথা বলো না তো।”
কথাটা বলে শম্পা চলে যেতে ধরলে পিয়াল ওর বাহু টেনে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে বলল,
“এটা গহনের বউয়ের তাই না? এই কানের দুলটার জন্যই তো ঝামেলা হলো সন্ধ্যায়। এখন সত্যি করে বলো এটা তুমি চুরি করেছো নাকি তোমার বোন?”
ভয়ে শম্পার গলাটা শুকিয়ে গেল। কিন্তু তবুও মিথ্যাটা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কিছু একটা বলতে চাইলো, তবে তার আগেই পিয়াল ওকে থামিয়ে দিয়ে শাসিয়ে বলল,
“ভুল করেও আর মিথ্যে বলার চেষ্টা করবে না। চোর ধরা পড়ে গেলে যে তার চোখ মুখের অবস্থা কেমন হয় সেটা আমার জানা আছে। লজ্জা করল না তোমাদের? নতুন বউ বাড়িতে এসেছে একটা দিনও হয়নি। আর তার গয়না চুরি করলে! তোমরা নিজেদের সংসারে তো শান্তি বজায় রাখতে জানোই না, তাই বলে অন্যের সংসারেও অশান্তি বাধিয়ে দেবে? কেন চুরি করেছো? তোমাকে কি আমি গয়না কিনে দেই না? তোমার কোনো শখ কি আমি অপূর্ণ রাখি? তারপরও চুরির স্বভাব যায় না কেন?”
শম্পা মিনমিনে স্বরে বলল,
“আমি করিনি তো। সিনথিয়া এনে দিয়েছে।”
“ও দিলো আর তুমি নিয়ে নিলে? তোমার ছোট বোন চুরি করলো আর তুমিও তাতে সমর্থন করলে? বাহ্।”
“ও বলেছিল কয়েকদিন পরে আমায় দিয়ে দেবে।”
পিয়াল ঘৃণা ভরা কন্ঠে বলল,
“ছিঃ। এই শিক্ষা তুমি আমাদের মেয়েকে দিচ্ছো। তোমার জন্য যে আর কত জায়গায় আমায় লজ্জিত হতে হবে কে জানে।”
শাম্মি অপরাধী গলায় বলল,
“ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না এমনটা। তুমি কাউকে বলো না দয়া করে।”
“আমি বলবো না, তুমি বলবে। তুমি এক্ষুনি এই কানের দুল নিয়ে গিয়ে গহনের হাতে দেবে। কি অজুহাত দেবে নাকি সত্যিটা বলবে সেটা সম্পূর্ণ তোমার ব্যাপার। আর যদি তুমি নিজে এই কাজটা না করছো তাহলে কিন্তু আমি গিয়ে এটা গহনের হাতে দিয়ে সত্যিটা জানিয়ে আসবো।”
শম্পা আতঙ্কিত গলায় বলল,
“কি বলছো এসব? এটা করতে পারবো না। ভাইয়ার চোখে খারাপ হয়ে যাবো তো।”
“শেষবারের মতন জিজ্ঞেস করছি তুমি যাবে নাকি আমি যাব?”
শম্পা অসহায় দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে থাকলো পিয়ালের দিকে। বুঝলো পিয়াল আজ একটুও দয়া করবেনা।
___________
বসার ঘরে বেশ একটা থমথমে পরিবেশ বিরাজমান। সবাই নিজেদের কথা হারিয়ে ফেলেছে। একটা কোনার দিকে চোরের মতন গুটিসুটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শম্পা। সিনথিয়া কানের দুলটা নিধির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে অপরাধী গলায় বলল,
“চুড়ির সাথে ভুলে চলে এসেছিল ভাবি। আসলে আমি বুঝতে পারিনি।”
নিধি কে বেশ স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। সিনথিয়ার প্রতি বিন্দু পরিমাণ কোন রাগ কিংবা ক্ষোভ বোঝা যাচ্ছে না। সিনথিয়ার হাত থেকে কানের দুলটা নিয়ে ঠোঁটে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে সিনথিয়া কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তখন তো তোমায় এই কথাটাই বলেছিলাম যে দেখো চুড়ির সাথে ভুলে চলে এসেছে কিনা। এর বাইরে তাে আমি আর দ্বিতীয় কোন কথা বলিনি সিনথিয়া। আমি ভুল করেও আমার মুখ দিয়ে চুরি শব্দটা উচ্চারণ করিনি তাই না?”
“আমি ভুল বুঝে নিয়েছিলাম। আমি আসলে বুঝতে পারিনি যে তুমি ওভাবে কথাটা বলোনি। আমার মনে হয়েছিল যে তুমি সন্দেহ করছো আমায়। সেজন্য ওভাবে বলেছিলে।”
সিনথিয়া কথাটা বলতেই গহন গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,
“এখন বলছো মনে হয়েছিল। তাহলে তখন কেন বলেছিলে যে নিধি তোমায় চুরির অপবাদ দিয়েছে? তখন কেন বলোনি যে ওর কথার ভঙ্গিতে তোমার মনে হয়েছে যে নিধি তোমায় সন্দেহ করছে?”
কোনো উত্তর দিতে পারলো না সিনথিয়া। তার আগেই নিধি গহন কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“থাক। এই ব্যাপারে আর আপনাকে কথা বলতে হবে না। শুধু ওর একার দোষ দিচ্ছেন কেন? অপরাধী তো আপনিও। শুধুমাত্র আমি পরের বাড়ির মেয়ে জন্য আমার কথা না শুনেই তো আপনি নিজের বোনের কথা বিশ্বাস করে নিয়েছিলেন। এখন আবার এই কঠোরতার নাটকটা না করলেই খুশি হবো।”
থেমে গেল গহন৷ হয়ত অপমানে নয়ত নিজের ভুলটা উপলব্ধি করতে পেরে।
গহন কে কথাটা বলা শেষে নিধি আবারো সিনথিয়া কে বলল,
“শুধুমাত্র মনে হয় এর বশে এত বড় একটা অশান্তি বাঁধিয়ে দিলে! একবার নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করো যে কাজটা তুমি ঠিক করেছো নাকি ভুল করেছো?”
সিনথিয়া মাথা নামিয়ে নিল। নিধির মনে হলো সিনথিয়া নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে। এবারে আদুরে গলায় বলল,
“আমার কোন জিনিস যদি তোমার পছন্দ হয় কিংবা পরতে ইচ্ছে করে নির্দ্বিধায় আমায় গিয়ে বলো। আর যদি আমায় বলতে সংকোচ হয় তবে নিজে আলমারি খুলে নিয়ে এসো। শুধু দেখো এমন ভুল বোঝাবুঝি যেন আর কখনো তৈরি না হয়। আর দেখো পরবর্তী তে কখনো যেন সত্যিই আমায় তোমায় চোর ভাবতে নাহয়।”
কথাটা বলে নিধি ঘরে চলে গেল। সিনথিয়া এখন বুঝতে পারছে না ওর এখানে আরো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা উচিত নাকি চলে যাবে। শুধু ভয় হচ্ছে এটা ভেবে যে না জানি গহন আবার কখন কি বলে। সালমা বেগমও এসবের কিছুই জানতেন না। ঘরে যাওয়ার পর নিশ্চয়ই ওনার কাছেও ভালো মতো বকা খেতে হবে।
সিনথিয়ার এসব ভাবনার মাঝে ওর কানে ভেসে এলো জুবাইদার গম্ভীর কণ্ঠস্বর,
“যার সম্মান নষ্ট করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল সে কি সুন্দর ভাবে তোমার সম্মান বাঁচিয়ে দিয়ে গেল বুঝতে পারলে? উপলব্ধি করতে পারলে নিজের ভুল?”
এবারেও কোন উত্তর দিলো না সিনথিয়া। জুবাইদা তাচ্ছিল্য গলায় বললেন,
“অবশ্য তোমার দোষ দিয়ে লাভ নেই। র’ক্তে’র দোষ। এক সময় এই বাড়িতে যে আমারও কত কিছু হারিয়েছে তার কোন হিসেব নেই। চোর ধরাও পড়েছে। তবে এখন আর তখন এর মাঝে একটা ছোট্ট পার্থক্য আছে। তখন চোর ধরা পড়লে আমার ভাই শাস্তি দিতো তাকে, উপযুক্ত বিচার করতো। তবে এখন আমার ভাই এই বাড়ির দায়িত্ব যার উপরে দিয়ে গেছেন সে নির্বাক মূর্তির মতন দাঁড়িয়ে সবটা দেখছে। তার অভিব্যক্তি দেখে আমি দ্বিধার মাঝে পড়ে গেছি যে সে আদৌ কোন মানুষ নাকি কোন জড় পদার্থ।”
জুবাইদার কথা বলা শেষ হতেই গহন সেখান থেকে চলে গেল। জুবাইদাও আর সেখানে দাঁড়ালেন না। তিনি নিজেও চলে গেলেন নিজের ঘরে।
ভয়ে ভয়ে সিনথিয়া তাকালো ওর মায়ের দিকে। দেখলো তিনি অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন মেয়ের দিকে। ভয়ে সিনথিয়ার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। সালমা বেগম ঘরে যাওয়ার আগে গম্ভীর গলায় মেয়েকে ঘরে আসতে বললেন। সিনথিয়া ভাবলো কে জানে পর কপালে আজ কি আছে।
____________
রাতে গহন ঘরে এসে দেখল নিধি শুয়ে পড়েছে। দরজা খোলার শব্দ পেতেই নিধি কাঁথা মুড়ি দিলো যেন গহনের মুখটাও না দেখতে হয়। গহন দরজা বন্ধ করে লাইটটা অফ করে বিছানার দিকে গেল। দেখল গতকাল গহন যে পাশে ঘুমিয়েছিল নিধি আজ সে পাশে ঘুমিয়েছে। গহনের মনে হলো নিধি ইচ্ছে করেই এপাশে ঘুমিয়েছে, যেন গহন আগে আগে ওর সাথে কথা বলে, অন্তত সরে ঘুমোনোর জন্য হলেও কথা বলে।
গহন হালকা একটু কেশে নিধির মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করলো। তবে দেখল নিধি নড়াচড়াও করলো না। গহন আবারও একটু কাশলো। এবারে নিধি হালকা একটু নড়েচড়ে উঠলো। ওকে নড়তে দেখে গহন গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,
“এপাশে আমি ঘুমোই। তোমার পাশে যাও।”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিধি কে কথা বলতে হলো।
“ওপাশে ঘুমোবো না। আমি এখানেই ঘুমোবো। আপনি ওপাশে যান।”
“একেক দিন একেক পাশে ঘুমোলে ঘুম ঠিকভাবে হয় না। তুমি তোমার জায়গায় যাও। আমাকে আমার জায়গায় ঘুমোতে দাও।”
“বললাম তো আমার সমস্যা আছে। আমি ওই পাশে ঘুমোবো না।”
গহন কিঞ্চিত রাগী গলায় বলল,
“অদ্ভুত তো! একই বিছানার এপাশে সমস্যা নেই, ওপাশে কি সমস্যা? আবারো কি ঝামেলা করতে চাইছো?”
নিধি মুখের উপর থেকে কাঁথাটা নামিয়ে শান্ত দৃষ্টিতে গহনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“জানালার পাশে ঘুমোলে আমার ভয় লাগে। মনে হয় কেউ জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে আমার চুল টেনে ধরবে। আপনার দিকে মুখ করে ঘুমোলে মনে হয় আমার পিছনে কেউ বসে আছে। জানালার দিকে মুখ করে ঘুমোলে মনে হয় জানালার উপরে কেউ বসে আছে। এটাই আমার সমস্যা। এখনো কি আপনার ওপাশে ঘুমোতে সমস্যা? যদি তারপরও আপনার সমস্যা হয় আমি মেঝেতে ঘুমোতে যাচ্ছি। যতই হোক এটা আপনার বাড়ি, আপনার ঘর, আপনার বিছানা। আপনি যা চাইবেন সেটাই হবে। আমি জোর খাটাতে পারি না।”
“যথেষ্ট বলেছো। থামো এবার।”
“বলতে আর পারলাম কোথায়। প্রয়োজনের সময়েই তো ব'ল'দের মতন চুপ করে ছিলাম।”
গহন ফোঁশ করে একটা শ্বাস ছেড়ে বলল,
“ঘুমোও তুমি। আমি ওপাশে ঘুমোচ্ছি।”
গহন কথাটা বলতেই নিধি আর এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করলো না। আবারও কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো। গহনও চুপচাপ গিয়ে শুয়ে পড়লো।
গহন বারবার শুধু ঘাড় কাত করে নিধির দিকে তাকাচ্ছে। মেয়েটা এখনো কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। কে জানে ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা। গহনের একবার মনে হলো নিধির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বোধহয়। কেননা গহন একটা ভুল করেছে।
ক্ষমা চাইবে ভেবে একবার ডাকতেও নিল, তবে কি ভেবে যেন আবারও থেমে গেল। আবারো হয়তো গহনের ভেতরে অধিক আত্মসম্মানী পুরুষ সত্তারা ওকে বাধা দিল। নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া হলো না নিধির কাছে। পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়লো।
গহন অন্য পাশ ফিরতেই নিধি মুখের উপর থেকে কাঁথাটা সরালো। অশ্রুসিক্ত নয়নে একবার গহনের দিকে তাকালো। খুব অভিমান হলো গহনের প্রতি। সবার সামনে না হয় নিজের অপরাধটা শিকার নাই করল। অন্তত ঘরে এসে কি একবারের জন্য বলতে পারত না নিধি কে যে ও নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত।
ভুলটা যখন নিধির মনে করেছিল তখন তো সবার সামনে বেশ ভালোভাবেই অপমান করলো। তাহলে সেই ভুলটা যখন নিজের বোনের বলে প্রমাণিত হলো তখন চুপ থাকলো কেন? পুরুষ মানুষ বুঝি এমনই হয়? নিজের বাড়ির মেয়ের কদর ঠিকই থাকে। কিন্তু পরের বাড়ির মেয়ের কদর কি করে করতে হয় সেটা জানে না।