“গহন, খেয়ে নিন।”
কথাটা বলে নিধি গহনের দিকে প্লেটটা বাড়িয়ে দিল। তবে কোন হেলদোল দেখা গেল না গহনের মাঝে। যেমন চোখ বন্ধ করেছিল এখনো তেমন ভাবেই আছে। নিধি ভাবলো ঘুমিয়ে পড়েছে হয়ত গহন। নয়তো উত্তর না দিলেও একটু নড়তো হয়তো।
গহনের দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর কাঁধ ধরে হালকা করে একটু ঝাঁকিয়ে বলল,
“ঘুমিয়ে গেছেন?”
“কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।”
গহন রাশভারি গলায় কথাটা বলল। নিধি বেশ বুঝতে পারলো যে গহন এখনো রেগে আছে ওর উপরে। যতই বলুক না কেন রেগে নেই কিন্তু তাও রেগে আছে। তবে রেগে থাকলে তো চলবে না। রাগ ভাঙাতে হবে নিধি কে।
একটু বিরতি নিয়ে নিধি আবারো বলে উঠলো,
“গহন জানেন, আপনি আসার আগে সবাই মিলে আরো অনেক অপমান করেছে আমায়। আপনি জানেন আমি সারাদিন কিচ্ছু খাইনি।”
গহন এবারও রাশভারী গলায় বলল,
“আমি তো নিষেধ করিনি খেতে। আর মানুষ কে সুযোগ তৈরি করে দিলে অপমানিত তো হতেই হবে।”
নিধি চোখমুখে একরাশ অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলে বলল,
“আচ্ছা মানলাম আমি দোষ করেছি। তাই বলে এত অপমান করবে? আপনি বলুন ওরা কি বাড়াবাড়ি করেনি? আমাকে অনেক খোঁটা দিয়েছে। বারবার বলছিল বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি গহন।”
আসলে নিধির এখন আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাকিরা নিধিকে কতটা কি কষ্ট দিয়েছে সেগুলো গহনকে বলে ওকে একটু নরম করবে। যেন গহন নিধির উপরে জমে থাকা রাগটা ভুলে যায়। তবে ঠিক কাজ হলো না। গহন চোখ মেলে নিধির দিকে তাকিয়ে বলল,
“একবার বলিনি, দুবার বলিনি, হাজার বার বলেছি অন্যের বিষয় থেকে দূরে থাকো। শুনেছিলে আমার কথা? আমার কথা যখন শোনোনি তাহলে কষ্ট তো পেতে হবেই। তাই এখন কে, কিভাবে, কতটা কি কষ্ট দিয়েছে সেসব আমাকে শোনাতে এসো না। দরকার ছিল তোমার এই কষ্টটা পাওয়া। আমার যেমন দেয়ালে পিঠ ঠ্যাকার পর হুশ ফিরেছে। তোমারও তেমন হলো। সত্যি দরকার ছিল এটা। যদি সত্যি নিজের ভুলটা বুঝতে পারো তাহলে আর কখনো কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলাবেনা। আর না আমি যে বিষয়ে নিষেধ করবো সেটা করবে।”
নিধির খুব খারাপ লাগলো গহনের মুখ থেকে এত কঠিন কঠিন বাক্যগুলো শুনতে। তবে চেষ্টা করলো খুব বেশি মনটা খারাপ না করার। কেননা এখন নিধিও অভিমান করে বসে থাকলে তো হবে না। দুজনেই যদি মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে তাহলে তো কোন সমাধানই হবে না।
নিধি জোরে জোরে কয়েকটা শ্বাস ফেলে নিজেকে আগে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল। তারপরে খাবার প্লেটটা টেবিলের উপর রেখে গহনের পাশে গিয়ে বসে হঠাৎ করে দুহাতে গহনের গলা জড়িয়ে ধরে গহনের গালের সাথে গাল ঘষে বলল,
“আর করব না তো। শিক্ষা হয়ে গেছে আমার। এবার থেকে দিনরাত শুধু আপনাকে ভালোবাসবো। যখন রাগ হবে আপনারই চুল টেনে দেবো। দরকার পড়লে আপনাকে
কা ম ড়ে দেব। যখন একটু আহ্লাদ পেতে ইচ্ছে করবে আপনার কোলে উঠে বসে থাকবো। আর যখন আমার ভেতরের নির্লজ্জ সত্তাটা জেগে উঠবে তখন আপনার সাথে একটু উল্টোপাল্টা কাজ করবো। এসব করেই সময় কাটাবো। তাও অন্যের ব্যাপারে কথা বলবো না।”
নিধির এত মিষ্টি মিষ্টি কথা গুলোর প্রেক্ষিতেও গহনের মাঝে একটুও পরিবর্তন দেখা গেল না। বরং আলগোছে নিধির হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল,
“এত ভালোবাসা দেখানোর প্রয়োজন নেই। সম্পর্কটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করো। অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না।”
নিধির ধৈর্য খুবই কম। একটানা খুব বেশিক্ষণ কোন কিছু করতেই পারে না। নিজের মন মেজাজ ঠান্ডাও রাখতে পারে না। ফলস্বরূপ মাথাটা গরম হয়ে গেল। দুহাতে গহনের মাথার চুল খামচে ধরে গহনের মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে রাগান্বিত গলায় বলল,
“কি সমস্যা আপনার? ভুল করেছি দরকার হলে দুটো চ ড় মা রু ন, দু এক ঘন্টা সামনে বসিয়ে রেখে গালাগালি করুন। তারপরও যদি ঠান্ডা না হতে পারেন বউকে দুটো চুমু খান। তাও এতো কঠিন কঠিন কথা বলতে হবে কেন? আমার সবকিছু অতিরিক্তই। আমি ভালোবাসলে অতিরিক্তই ভালোবাসি। আবার ঘৃণা করলেও অতিরিক্তই ঘৃণা করি। মাঝামাঝি পর্যায়ে আমার কোন কিছু পোষায় না। আমি ভালোবাসলে একেবারে ঠেঁসে ধরে ভালোবাসবো, আর যদি ভালো না বাসার হয় তাহলে লা থি দিয়ে দূরে সরিয়ে দেবো। বুঝতে পেরেছেন?”
গহন ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে বলল,
“কি করছো? লাগছে তো। চুল ছাড়ো।”
“তার আগে মুখ ঠিক করে হাসুন। বউকে দেখে হাসতেই হবে। এইসব আঁকাবাকা গাড়ির চাকা মার্কা মুখ বাইরের মানুষকে গিয়ে দেখাবেন। এক্ষুনি হাসবেন। নয়তো এবার কা ম ড়ে দেব।"
“আরে অদ্ভুত তো। জোর করে হাসা যায় নাকি? স্বাভাবিক মুহূর্তেই তো আমি হাসতে পারি না। আর এখন তো মন মেজাজের অবস্থা খারাপ।”
নিধি এবারে গহনের মাথার চুল ছেড়ে দিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে অভিমানী গলায় বলল,
“ভুল করেছি সেটা তো আমি জানি। মেনেও নিয়েছি। বলেওছি যে আর কখনো করবো না। তাও হাসছেন না আপনি। তাও ভালোবাসছেন না আমায়। আমার কি কষ্ট হয় না নাকি? আজ সারাদিন শুধু ঝাড়িই খেয়ে গেলাম সবার কাছে। নিধিকে বোকা পেয়ে আজ সবাই বকা দিল। এখন নিধির স্বামীও ভালোবাসছে না। অবশ্য ভালোবাসবেই বা কি করে? আমার তো স্বামী ভালো না।”
নিধি মোটেও মজা করে কথাগুলো বলল না। বরং মনের কষ্ট থেকে কথাগুলো বলেছে। কথাগুলো বলা শেষ হতে না হতেই ওর গাল বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়লো। নিধি সমানে নিজের গাল মুছছে। আবার সমানে গালটা ভিজে যাচ্ছে।
এক পর্যায়ে গিয়ে নিধি বিরক্ত হয়ে নিজেকে আর নিজের কান্না কে বলল,
“কাঁদছিস কেন? এই চোখের জল, তুই পড়ছিস কেন? তুই চোখের জল চোখে থাকবি। আমার স্বামী ভালো না যে তুই আমার চোখ দিয়ে গাল বের গড়িয়ে পড়লে উনি তাকাবেন আমার দিকে। না আমাকে ভালোবাসবে বুঝেছিস?”
নিধি এতগুলো কথা বলল কিন্তু তারপরেও গহন কিচ্ছু বলবো না। নিধি উঠলোও না সেখান থেকে। ওখানে বসে থেকে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে আরো কিছুক্ষণ কাঁদলো। হঠাৎ করে খেয়াল করল ওর পিঠে গহন নিজের মাথাটা এলিয়ে দিয়েছে। নিধি কিছু বলতে যাবে তার আগেই গহনের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো ওর কানে।
“আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তুমি সবার সামনে ঋতু আর সাবিতের ব্যাপারে কথা তুলেছিলে। এই নিয়ে আমি যতটা না রেগে আছি তার থেকেও বেশি রেগে আছি আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় তুমি সবাইকে জানিয়েছো এই ব্যাপারটা নিয়ে। অন্তত আমাদের দুজনের মাঝে স্বাভাবিক স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক আছে কি নেই এই ব্যাপারটা অন্যদেরকে জানানো আমার খুবই আত্মসম্মানে লেগেছে। প্রচন্ড দৃষ্টিকটু এই ব্যাপারটা নিধি। তুমি বুঝতে পারছো?”
নিধি ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল,
“না বুঝে বলে ফেলেছি। আমি তো সরল মনে বলে দিয়েছিলাম। উনি যে এই কথাটার এত বড় সুযোগ নেবেন সেটা তো আমি বুঝিনি। তখন তো ওনাকে ভালোই ভাবতাম।”
“ঋতু ভালো হোক কিংবা খারাপ সেটা আসল কথা না। আসল কথা তুমি কেন আমাদের ব্যক্তিগত বিষয় গিয়ে ওকে বলবে? আমাদের সম্পর্কে কি চলছে, কত দূর এগিয়েছে এগুলো তুমি কেন সবাইকে বলে বেড়াবে?”
নিধি তাড়াহুড়াে করে এবার গহনের দিকে ঘুরে বসে ক্রন্দনরত গলায় বলল,
“বিশ্বাস করুন, আমি শুধুই এই একটা কথাই বলেছিলাম। কিন্তু আমি জারা আপু আর আপনাকে নিয়ে কোন কথা বলিনি। বরং উনি সবসময় বলেছেন। আমার মনটা একটু ঘুরে গিয়েছিল। সন্দেহ হয়েছিল। সেটা স্বাভাবিক নয় কি? আপনি তো আমার স্বামী। আমি তো ভালোবাসি আপনাকে। হারানোর ভয় কি থাকবে না?”
“তুমি হয়তো এই ব্যাপারে কিছু বলোনি। কিন্তু ঋতু বললে তুমি ওকে থামাওনি নিধি। প্রশ্রয় তো সেই জন্যেই ঋতু পেয়েছে। আমাদের সংসারের শুরুর দিকে মা একদিন আমায় ডেকে বলেছিল যে তুমি নাকি বলেছো সুযোগ পেলে তুমি সংসার ছেড়ে চলে যাবে?”
“হ্যাঁ বলেছিলাম। কিন্তু কোন প্রেক্ষিতে বলেছিলাম সেটা তো শুনুন। উনি আমাকে বলেছিলেন আপনি আমার গায়ে হাত তোলেন কিনা। আমি তখন বলেছিলাম যে না, তোলেন না। কিন্তু যদি আপনি শারীরিক অত্যাচারও শুরু করেন তখন আমি চলে যাব বাড়ি ছেড়ে। ভুল বলেছিলাম কি? আপনি কোন কারণ ছাড়া যদি আমার গায়ে হাত তোলেন তাও আমি আপনাকে ভালোসাববো নাকি? এতটা ভালো আমি না সেটা আপনি জানেন না? আপনি সব জানেন, আমাকে বোঝেন কিন্তু তারপরও আমার সাথে এমন করছেন। আপনি আর একটুও ভালোবাসেন না আমায়।”
কথাটা বলে নিধি নিচের দিকে তাকিয়ে কাঁদলো। গহনের মনে হলো এবার একটু মেয়েটাকে সান্ত্বনা দেওয়া দরকার। একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে নিজেকে আগে শান্ত করল। দু হাতের আঁজলায় নিধির মুখটা নিয়ে শান্ত গলায় ওকে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলল,
“আর কখনো কারো বিষয়ে কথা বলতে যাবে না। আমাদের সম্পর্ক কতদুর অব্দি এগিয়েছে সেগুলোও কাউকে বলবে না। দেখেছো তো নিজেই বিপদে পড়লে।”
নিধি এবারে শব্দ করে কেঁদে উঠে বলল,
“করবো না তো। আর কিচ্ছু করবো না। আপনি যা বলবেন তাই শুনবো, যা করতে বলবেন তাই করবো। কিন্তু আপনি মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন কেন? আপনি আমার উপরে রেগে আছেন কেন? আমার ভালো লাগছে না। বাকিরা আমায় কেউ কিছু বললে আমি তাদেরকে দুটো কথা শুনিয়ে দিলে শান্তি পাই। কিন্তু আপনি তো আমার সাথে কথা না বললে আমি শান্তি পাই না। আমি তো ছোট মানুষ। ভুল করে ফেলেছি। আমি জানি সংসার নিয়ে আমার অতটা জ্ঞান নেই। শুধু যে যেটা ভুল করে তখনই সেটা তাকে ধরিয়ে দিতে চাই। এটা হয়ত আমার ভুল। কিন্তু তাই বলে আপনি এমন করবেন আমার সাথে? আমার কি কষ্ট হয় না? আমার তো খারাপ লাগে। দেখুন আমি কাঁদছি তো। আপনি আমাকে একটুও আদর করলেন না। একটু জড়িয়েও ধরলেন না। একটু চুমু খেলেন না।”
কথাটা বলে নিধি এবারে বাচ্চাদের মতন শব্দ করে কেঁদে উঠলো। গহন হাসবে না কাঁদবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। তবে নিধির কান্নার ভঙ্গিটা দেখে বুঝতে পারলো যে সত্যি ওর বউটা ছোট মানুষ। এখনো ছোটই আছে মেয়েটা। এত কম বয়সে আসলে নিধির থেকে এত কিছু আশা করাও যায় না। এত জটিলতা মেয়েটার মাথায় এখনো ধরবেই না।
গহন দুহাতে নিধি কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
“আচ্ছা ভুল হয়ে গেছে। আর এমন করবো না ঠিক আছে।”
নিধি পাল্টা গহন কে জড়িয়ে ধরে বলল,
“হলো না তো। এত আস্তে ধরেছেন কেন। মনে হচ্ছে কম ভালোবাসেন। শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন। এমন ভাবে জড়িয়ে ধরুন যেন আমি বুঝতে পারি আপনি চাইছেন আমি কোথাও চলে না যাই। আমি যেন বুঝতে পারি আপনি আমাকে আপনার কাছে রেখে দিতে চাইছেন।”
এবারে আর গহন নিজের হাসি কোন মতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। নিধির কথা অনুযায়ী শক্ত করেই জড়িয়ে ধরলো। কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে নিধিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ওর কপালে, গালে আলতো করে চুমু খেয়ে বলল,
“ভালোবাসি তোমায়। যতটা আমি বলতে পারিনি, যতটা আমি বোঝাতে পারিনি তার থেকেও বেশি ভালোবাসি তোমায়। তুমি যতটা কল্পনা করতে পারবে না ঠিক ততটা ভালোবাসি তোমায়।”
“আমিও ভালোবাসি তো।”
গহন আবারো চুমু খেল নিধির কপালে। চুমু খেয়ে এবারে গহন অপরাধী গলায় বলল,
“আমাকেও ক্ষমা করে দিও। তুমি হয়তো দোষ করেছিলে। কিন্তু আমার হয়তো সবার সামনে ওভাবে তোমাকে কথাগুলো বলা ঠিক হয়নি। আমি ঘরে এনে তোমাকে বোঝাতে পারতাম। আসলে কি করবো বলো মাথা ঠিক ছিল না। তুমি আমাকে এমন একটা পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিলে যে আমি কিছু বলার মতন অবস্থাতে ছিলাম না। আমার না করা সত্ত্বেও তুমি ঐ কথাগুলো তুলে আমায় ছোট করেছিলে। তারমধ্যে আমি জানতাম এমন কিছুই হবে। মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমি তোমায় ভুল বুঝিনি। কে সত্যি বলছে কে মিথ্যে বলছে সেটা তো আমি বুঝেছি। আমি ওখানে বলেও ছিলাম। আমার রাগ হয়েছিল তোমার প্রতি এই কারণে যে তুমি আমার কথা শোনোনি। আমাদের সম্পর্কের কথা সবাইকে বলে বেড়িয়েছো।”
“না আপনি ভুল করেননি। ঠিকই আছে। আমার একটু ছ্যাঁকা খাওয়া দরকার ছিল।”
“সে না হয় বুঝলাম। কিন্তু তারপরও আমার তোমার সাথে অত উঁচু গলায় কথা বলা ঠিক হয়নি। কিন্তু তার মানে এটা ভেবোনা যে আমার ভালোবাসা কমে গিয়েছে। তোমায় যতটা ভালোবেসেছি ততটা কখনো কাউকে বাসিনি।”
নিধি শুধু আলতো হাসলো গহনের কথাগুলো শুনে। গহন কে ছেড়ে দিয়ে বালিশের সাথে হেলান দিয়ে বসলো। গহনও ওর পাশে হেলান দিল। নিধি এবারে বালিশ থেকে মাথাটা তুলে গহনের বুকের ওপরে নিজের মাথাটা রেখে এক হাতে জড়িয়ে ধরলো গহন কে।
হঠাৎ করেই একটা অদ্ভুত বিষয় এলো নিধির মাথায়। কৌতূহলী গলায় গহন কে জিজ্ঞেস করলো,
“আচ্ছা, আপনি তো এই সময় অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন না? আজ কেন ফিরেছিলেন? এমনটাও তো না যে আমার জন্য খারাপ লেগেছিল বলে ফিরেছিলেন। কারণ আপনি তো রেগে ছিলেন। ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছিলেন। আজ তো আপনার আরো দেরি করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তাহলে ঠিক সময়ে একদম হিরোর মতন এন্ট্রিটা নিলেন কিভাবে?”
গহন তৎক্ষনাত কোনো উত্তর দিলো না। কিছুক্ষণ ভাবনা চিন্তা করে আজ গহন কে একটা মিথ্যে বলতে হলো।
“অফিসে তেমন কাজ ছিল না। তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছিলাম।”
নিধি সন্দেহী গলায় বলল,
“সত্যি এটাই কারণ?”
“হুম, এটাই কারণ।”
নিধি বিশ্বাস করে নিল। অবিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। নিধি থেমে যেতেই গহন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। নিধি কে সত্যিটা বলা যাবে না। নয়ত বোকা মেয়েটা আবারো ভালো-খারাপ গুলিয়ে ফেলে বোকামি করতে পারে।