বারো মাসই বর্ষা

পর্ব - ৪৪

🟢

(কার্টেসি ব্যতীত কপি করা নিষেধ)

গহন বাজার করতে যায়নি। রোজ যিনি বাজার করে দেন তাকেই পাঠিয়েছিল। বিকেলের দিকে আবার শম্পা এলো। চলে গিয়েছিল। তবে আবার একটা অজুহাত পেয়ে গেছে। কালকে বোনকে পাত্রপক্ষের লোকজন দেখতে আসবে, শম্পা না এলে হয় নাকি!

সালমা বেগম নিজেই সব বাজার মিলিয়ে মিলিয়ে দেখলেন যে ঠিক আছে কিনা। গহন নিজেই আগবাড়িয়ে ওনাকে জিজ্ঞেস করলো,

“সব ঠিক আছে মা? আর কিছু লাগবে?”

গহন ভেবেছিল সালমা বেগম হয়তো ওর সাথে কথা বলবে না কিংবা হয়তো গম্ভীর গলায় কথা বলবেন। তবে তেমন কিছুই হলো না। বরং তিনি বেশ স্বাভাবিক গলায় বললেন,

“হ্যাঁ বাবা সব ঠিকই আছে। শুধু মিষ্টি আনা হয়নি। কাল তুমি মিষ্টি নিয়ে এসো তাহলেই হয়ে যাবে।”

গহন কে কথাটা বলা শেষে সালমা বেগম এবারে নিধিকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“নিধি, মাছ মাংসগুলো ফ্রিজে তুলে রাখো।”

নিধি চুপচাপ মাথা নাড়িয়ে কাজটা করতে ধরলে সালমা বেগম ওকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,

“দাঁড়াও। আগে একটা কথা শোনো। ওনারা কিন্তু কালকে নাস্তা করবেন আবার দুপুরে খাওয়া দাওয়াও করে যাবেন। নাস্তায় কমপক্ষে কিন্তু পনেরোটা পদ থাকতেই হবে। আর দুপুরে কি কি রান্না করতে হবে সেসব তো তুমি জানোই। আসলে রাতেই একটু কাজ এগিয়ে রেখো। মিতার সাথে ঝামেলা হয়েছে।ও আর কিন্তু কাজে আসবে না।”

নিধির মাথাটা ঘুরে উঠলো সালমা বেগমের কথা শুনে। কিছু বলে উঠতে যাবে তার আগেই ওর কানে গহনের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।

“কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে মা মিতার সাথে?”

“ও জিনিসপত্র চুরি করতো বাবা। সেটা ওকে বলেছিলাম। কিন্তু অস্বীকার করেছে। কথা শুনিয়েছি তাই বলেছে আর কাজে আসবে না।”

“তো নিধি একা এতজনের রান্না কি করে করবে? এটা কি আদৌ সম্ভব?”

সালমা বেগম আলতো হেসে বললেন,

“কেন সম্ভব না? আমরা তো একসঙ্গে বিশ-ত্রিশ জনের রান্নাও করেছি। আর নিধিকে তো মাত্র পাঁচ ছয়জনের জন্য রান্না করতে হবে।”

“পাঁচ-ছয় জনের জন্য রান্নাও কম না মা। পনেরো পদের নাস্তাই বানাতে বললে। দুপুরের খাবার তো বাকিই রয়েছে। যাইহোক, বাড়িতে রান্না করার দরকার নেই। আমি বাইরে থেকে যা যা লাগবে খাবার আনিয়ে দেবো সব।”

গহনের শেষোক্ত কথাটা শুনে নিধি একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। নয়তো এত রান্নার কথা শুনে তো নিঃশ্বাসটাই আটকে যেতে ধরেছিল।

তবে নিধির সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টিকলো না। সঙ্গে সঙ্গে সালমা বেগম বলে উঠলেন,

“পাত্র পক্ষের লোকজনকে বাইরে থেকে আনা খাবার খাওয়াবো? এমন আতিথিয়তা

দেখালে ওরা সম্বন্ধে রাজি হবে বলে তোমার মনে হয়?”

গহন বেশ স্বাভাবিক গলায় বলল,

“খাবারে তো লেখা থাকবে না মা যে খাবারটা কে রান্না করেছে, কোথায় থেকে আনা হয়েছে। ওনাদেরকে তো বলার প্রয়োজনও নেই যে খাবারগুলো হোটেল থেকে আনা হয়েছে। আর আমি তো তোমায় আগেও বলেছি যে আমি চাইনা নিধি একা এত কাজ করুক। বাড়ির বউ জন্যই যে সবকিছু করতে হবে তার কোন মানে নেই। শুধু নিধি কেন, কারোর পক্ষেই একা এত কাজ করা সম্ভব না। হয় তুমি কোন কাজের লোকের ব্যবস্থা করো নয়তো বাইরে থেকে খাবার আনা হবে।”

সালমা বেগম কিছু বলে উঠতে ধরলেন। তবে গহন ওনাকে সেই সুযোগ না দিয়ে নিজেই আবার গম্ভীর গলায় বলল,

“বললাম তো মা হয় তুমি কোন কাজের লোকের ব্যবস্থা করো নয়তো খাবার বাইরে থেকে আনা হবে। আমার যা বলার আমি বলে দিয়েছি। আমার স্ত্রীর পক্ষে একা এত কাজ করা সম্ভব না।”

কথাটা বলে গহন চলে যেতে ধরলে পিছন থেকে সালমা বেগম বলে উঠলেন,

“বেশ ঠিক আছে। একদিনের মধ্যে তো কাজের লোকও জোগাড় করা সম্ভব না, আবার বাইরে থেকে আনা খাবারও আমি ওনাদের কে দেবো না। তাহলে বরং আমিই সব রান্না করি কি বলো?”

গহন থেমে গেল। মাথাটা গরম হলো ঠিকই তবে তারপরও রাগটা প্রকাশ করলো না। পিছন ফিরে সালমা বেগমের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলাতেই বলল,

“আমি কিন্তু বলেছি মা কারো পক্ষেই একা এত রান্না করা সম্ভব না। যদি তোমরা সবাই মিলে মিশে কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিয়ে করো তাহলে ঠিক আছে। বাড়িতে নিধি আছে, শম্পা আছে, তুমি আছো। ঋতুও চাইলে টুকটাক সাহায্য করতে পারবে। তবে আমি চাইনা একা নিধি বা তুমি কাজগুলো করো। আমি আমার মুখ দিয়ে একবারও এই কথাটা উচ্চারণ করিনি যে আমার স্ত্রী করবে না, তোমরা করো তাই না?”

“তুমি আজকাল কেমন পরদের মতন আচরণ করছো। স্ত্রীর হয়ে কথা বলতে গিয়ে নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছো। মায়ের সামনে স্ত্রীর হয়ে এত কথা বলতে নেই বাবা। লোকে খারাপ বলবে।”

“যায় আসে না মা। লোকেরা শুধু কথাই বলবে। এর থেকে বেশি আর কিছু করতে পারবে না। আর আমার মনে হয় আমি এমন কিছু বলিনি যাতে কেউ আমাকে নির্লজ্জ বলতে পারে।”

বেশ অনেকক্ষণ থেকে শম্পা ধৈর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজকাল গহন কে দেখে একটু হলেও ভয় হয়। তবে এতটা সময় চুপ থাকা যায় না। শম্পা নিধিকে উদ্দেশ্য করে ব্যাঙ্গাত্মক গলায় বলল,

“নিধি, তাবিজ করেছো নাকি ভাইয়াকে? যে ছেলে এক সময় মায়ের কথায় উঠতো বসতো আজকাল সে বউয়ের কথায় উঠছে বসছে। কাকে দিয়ে তাবিজ করালে গো আমাকেও একটু বলো। আমিও আমার স্বামীকে তাবিজ করবো।”

নিধি সালমা বেগমকে কথা শোনানোর আগেই তাও যা একটু ভাবে। তবে শম্পা কিংবা সিনথিয়া কাউকে কথা শোনানোর আগে একবারও ভাবার প্রয়োজন মনে করে। গম্ভীর গলায় বলল,

“বউয়ের কথায় উঠছে বসছে মানে তাবিজ করা। তাহলে এতদিন যে মায়ের কথায় উঠতো বসতো তাহলে কি এতদিন মা তাবিজ করে রেখেছিলো?”

“মা তাবিজ করলে কি আর তোমার তাবিজে কাজ হতো?”

নিধি ব্যাঙ্গাত্মক গলায় বলল,

“বুঝতে হবে আপু মায়ের তাবিজের থেকে বউয়ের তাবিজের ক্ষমতা বেশি। ওই যে কথায় বলে না মা হারিয়ে গেলে মা পাওয়া যায়। কিন্তু বউ হারিয়ে গেলে বউ পাওয়া যায় না। এই যেমন গহনের এক মা চলে গিয়েছিল, আরেক মা কে পেয়ে গেছে। কিন্তু একটা বউ চলে গেলে আর বউ পাবে না।”

শম্পা আর সালমা বেগম দুজনেই রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন নিধির দিকে। শুধুমাত্র গহন উপস্থিত জন্য কিছু বলতে পারলেন না। তবে সালমা বেগমের জন্য অবাক করার বিষয় হলো গহন একটা কথাও বলল না নিধিকে। কি সুন্দর বুঝিয়ে দেয় মেয়েটা বারবার যে সালমা বেগম গহনের সৎ মা। গহন তাও কিচ্ছু বলে না। এই মেয়েটা কি জাদু করলো! এখন তো সত্যি মনে হচ্ছে তাবিজ করেছে। কালো জাদু করেছে এই মেয়ে।

___________

নিধি তখন সবার জন্য রাতের খাবার রান্না করছে। এই নিয়ে নিধি কোন অভিযোগ করে না। আসলে সবকিছু নিয়ে অভিযোগ করাও যায় না। বিয়ে যখন হয়েছে এই সামান্য কাজটুকু তো করতেই হবে। সেজন্য চুপচাপ রান্না করছে।

হঠাৎ করেই সেখানে সালমা বেগম প্রবেশ করলেন। গহন তখন ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছে। সালমা বেগম এসেই গম্ভীর গলায় নিধিকে উদ্দেশ্য করে হুকুমের সুরে বললেন,

“তোমাকে সাহায্য করার জন্য কেউ আসবে না। ঠিক সময়ে যেন সব রান্না হয়ে যেতে দেখি। আর কথায় কথায় আমার ছেলের কানে বি'ষ ঢালা বন্ধ কর।”

সালমা বেগমের অতর্কিত হামলায় নিধি চমকে ওনার দিকে তাকিয়ে বলল,

“আপনার আবার হঠাৎ করে কি হলো? মামলাটা তো ঠান্ডাই হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে আপনি আবার গরম করছেন কেন সেটা?”

“মুখে মুখে তর্ক করা কে বেয়াদবি বলে। এসব বন্ধ কর। তোমায় বাপের বাড়িতে পাঠাতে কিন্তু আমার দু মিনিটও সময় লাগবে না।”

সালমা বেগমের কথায় নিধি শব্দ করে হেসে উঠে বলল,

“চার মিনিট সময় দিলাম। পাঠিয়ে দেখান।”

সালমা বেগম জ্বলজ্বল করতে থাকা চোখ দুটো নিয়ে নিধির দিকে তাকিয়ে বললেন,

“একটা কথা শুনেছো তো, পিপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। তোমার দশাও যেন তেমন না হয়।”

নিধি জোরে জোরে কয়েকটা শ্বাস টেনে আগে নিজেকে শান্ত করলো। গ্যাস বন্ধ করে দিয়ে সালমা বেগমের দিকে কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে বেশ শান্ত গলায় বলল,

“আমার সাথে আপনার শত্রুতাটা কি নিয়ে একটু বলবেন আমায় মা? আমি কি আগে তর্ক করা শুরু করেছি? আমি কি কখনো আগে আগে আপনার সাথে ঝগড়া করেছি মা? আপনি কেন আমাকে দু চোখে সহ্যই করতে পারেন না?”

সালমা বেগম দাঁত কিড়মিড়িয়ে বললেন,

বিজ্ঞাপন

“আমার ছেলেকে তুমি আমার থেকে দূরে করে দিয়েছো। দিনরাত আমার ছেলের কানে আমার নামে তুমি বি'ষ ঢালো। তোমার জন্য আজ আমার ছেলে আমার মুখে মুখে তর্ক করে। তোমার জন্য আমার ছেলে আমার কথা শোনে না।”

“সত্যি কি তাই মা? সত্যিই এই সবের জন্য আমি দায়ী? আপনার ছেলেকে তো আপনি খুব ভালোভাবেই চেনেন। যদি অকারণে আমি ওনার কানে আপনার নামে বি'ষ ঢালতাম উনি কি আমায় ছেড়ে কথা বলতো ? যদি সত্যিই আমি সারাটাক্ষণ আপনার নামে ওনার কাছে নিন্দেই করতাম, তাহলে কি উনি আমায় ভালোবাসত? একবার একটু ভালো করে ভেবে দেখুন তো আপনাদের দুজনের মাঝে হঠাৎ করে এই যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তার কারণ কি আপনি নিজে নন?”

সালমা বেগম কপাল কুঁচকে নিধির দিকে তাকিয়ে বললেন,

“কি বলতে চাইছো?”

“আমি শুধু আপনাকে বোঝাতে চাইছি আপনি যে পুরোপুরি গহন কে ভালোবাসেন না সেটা কিন্তু গহন নিজেও খুব ভালো করে বোঝে। কিন্তু চুপ থাকে কেন জানেন? তার কারণ কৃতজ্ঞতা জমা হয়ে আছে আপনার প্রতি। আমি অনেক কিছু শুনেছি আপনার অতীতের ব্যাপারে, আপনার সংসারের ব্যাপারে। সেসবের জন্য কি সত্যি গহন দায়ী মা? ওই ছেলেটা তো নিজেই সবকিছু হারিয়ে আপনাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু আপনি কখনোই ওকে নিজের ছেলে হিসেবে ভালোবাসতেই পারেননি। সবটাই আপনার নাটক।”

“ভুল বললে। গহনের প্রতি ভালোবাসা নাটক না। আমি ওকে ভালো বাসতে চেয়েছি, আমি ওকে ভালোবাসি।”

“তবে পরিস্থিতি আপনাকে ওকে ভালোবাসতে দেয়নি তাই তো?”

একটু থতমত খেলেন সালমা বেগম। নিধি কিভাবে যে ওনার আসল কথাটা ধরে ফেলল সেটা বুঝে উঠতে পারলেন না। তবে নিধির কাছে তো হারা যাবে না। তাড়াহুড়ো করে নিধির কথায় আপত্তি জানিয়ে বললেন,

“না। আমি ওকে আমার বড় ছেলের মতন ভালোবাসি।”

নিধি আলতো হেসে বলল,

“ঠিকই বলেছেন। ভালোবাসেন আপনি ওনাকে। তবে বড় ছেলের মতন না, সৎ বড় ছেলের মতন। যদি আমি একবার আপনাকে দেখাতে পারতাম উনি আপনাকে ঠিক কতটা ভালোবাসেন, কতটা শ্রদ্ধা করেন, কতটা সম্মান ওনার মনের মাঝে আছে আপনার জন্য। আমি নিশ্চিত আপনি কখনো ওনাকে এভাবে নিজের থেকে দূরে রাখতে পারতেন না। একবার ঘরে গিয়ে দেখুন তো মানুষটা কতটা অসুস্থ। জ্বরে বালিশ থেকে মাথা তুলতে পারছেন না মা। ওষুধ খাইয়েছি তাও জ্বর কমতে চাইছে না৷ আমি ওনার স্ত্রী হয়ে সেবা করবো ঠিকই। কিন্তু স্ত্রী আর মায়ের জায়গাটা তো সম্পূর্ণ আলাদা হয়। একবার একটু ওনার পাশে গিয়ে বসে ওনার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিলে খুব ক্ষতি হয় আপনার? ওনাকে একটু ভালোবাসা দিলে কি সত্যিই খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে মা? ওই মানুষটা শুধুমাত্র আপনার থেকে একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য সবকিছু বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে। আপনিও তেমনি সবকিছু বুঝেও না বোঝার ভান করে বারবার ওনাকে কষ্ট দিয়ে যান।”

খুব অবাক করার বিষয় হলো নিধি এতগুলো কথা বলে গেল কিন্তু তারপরেও সালমা বেগমের মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হলো না। উনি নিজেও জানেন না উনি কেন চুপ করে আছেন। উনি অনেক কিছুই বলতে চাইলেন। উনি আবারও নিধির কথার তীব্র বিরোধিতা করতে চাইলেন। তবে বলতে পারলেন না।

অনেকটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন সালমা বেগমের থেকে কোন উত্তর পেল না নিধি তখন একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। বুঝলো এনাকে বোঝানো আর না বোঝানো দুটোই সমান।

“আপনার আমাকে নিয়ে সমস্যা তো? আপনি আমাকে খাটাতে চান তো ঠিক আছে। সব রান্না করে দেব। আপনার মেয়েকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসছে জন্য আমায় যা যা কাজ করতে হয় সব করব। কিন্তু তাও দয়া করে ওনার সামনে আর অশান্তি করবেন না। আমি শুধুমাত্র আমার স্বামীর মানসিক শান্তির জন্য, আমার স্বামীকে ভালো রাখার জন্য, দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখার জন্য এই কাজগুলো করবো। তবে একটা কথা মনে রাখবেন। যদি এত কিছু সহ্য করার পরেও আমার স্বামীর মানসিক শান্তি আপনি কিংবা আপনার ছেলে মেয়ের জন্য নষ্ট হয়েছে। তাহলে কিন্তু আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।”

__________

গহনের ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সালমা বেগম। দরজার কাছে দাঁড়িয়েই দেখতে পেলেন বিছানার উপর শুয়ে আছে গহন। চোখ দুটো বন্ধ। ঘুমোচ্ছে কিনা কে জানে। কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। বোধহয় খুব ঠান্ডা লাগছে। জ্বর হয়ত খুব বেশি এসে গেছে। সালমা বেগম জানে গহন যতই অসুস্থ হোক না কেন তবুও মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের করবে না। যতই অসুবিধা হোক না কেন তবুও কাউকে কিছু বলবে না। খুব ভালোভাবে অবগত সালমা বেগম গহনের সমস্ত অভ্যাস সম্পর্কে। এটাও খুব ভালো করেই জানেন অসুস্থতার সময় যদি উনি একটু গিয়ে পাশে বসেন, একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেন গহন ঠিক কতটা শান্তি পায়।

তবে আজ কেন যেন উনি ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ঘরের ভেতরে পা রাখতে পারলেন না। পারলেন না গহনের মাথার কাছে গিয়ে বসে একটু ওকে আদর করতে।

অনিচ্ছাকৃতভাবেই ওনার গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। খুব তাড়াহুড়ো করে উনি দুহাতে নিজের চোখে জলটুকু মুছে নিলেন। তবে সঙ্গে সঙ্গে আবারো গাল দুটো ভিজে উঠলো। এবারে আর সালমা বেগম চোখের জল মোছার বৃথা চেষ্টা করলেন না। কেননা জানেন মুহুর্তের মাঝে আবারও তা ভিজে উঠবে। চোখ দুটো বন্ধ করে পুরনো কিছু স্মৃতির পাতায় তিনি ডুব দিলেন।

অতীত……..

সবেমাত্র বিশের কোঠায় পা রেখেছেন সালমা বেগম। কলেজ শেষ করেছেন। অনার্সে ভর্তি হতে পারেননি টাকার অভাবে। ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াবেন তেমন কোন স্বপ্নও কেউ তাকে দেখায়নি। তাই কষ্টও হয়নি। বরং একটু বয়স হতে না হতেই মা সংসারের কাজ শিখিয়েছিল।

নিজেকে সংসারের জন্যই তৈরি করেছিলেন তিনি। দুচোখ ভরতি স্বপ্ন ছিল। ইচ্ছে ছিল নিজের সংসারে রানী হয়ে থাকার। এক ঝলক দেখেই গফুর আহম্মেদ কে নিজের স্বামী হিসেবে বড্ড পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। তার সাথে সারাটা জীবন কাটানোর জন্য কতই না স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভেবেছিল ভয়ানক দারিদ্রতার হাত থেকে এবারে অন্তত মুক্তি পাবেন। তিন বেলা খাবার নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না। জামা কাপড় নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না। সব শখ পূরণ হবে এখন অনায়াসে। আর সেই শখগুলো পূরণ করবেন তার স্বামী।

তবে শ্বশুর বাড়িতে পা রাখতেই যখন নিজের সৎ ছেলেকে দেখতে পেলেন মুহূর্তের মাঝে তার সব স্বপ্ন যেন এক মুঠো বিষাদে পরিণত হয়েছিল। যখন তিনি জানতে পারলেন যে তার আগেও তার স্বামীর জীবনে অন্য কোন নারী ছিল, তার সংসারটা ছিল অন্য কারো, তিনি যে ঘরে থাকবেন সেই ঘরটা অন্য কারো ছিল। মুহূর্তের মাঝে যেন তার ভিতরের সত্তাটা ম'রে গিয়েছিল।

যখন তিনি বুঝলেন এই সংসারে তার আগমনই হয়েছে তার সতীনের ছেলের দেখাশোনা করার জন্য। তখনই যেন তিনি সংসারের উপর থেকে পুরা আগ্রহই হারিয়ে ফেললেন। প্রথম দিনেই তার স্বামী আর শাশুড়ি তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে এই সংসারে তাকে আনা হয়েছে তার সতীনের ছেলের দেখাশোনা করার জন্য। তার দেখাশোনায় যেন বিন্দুমাত্র কোন গাফিলতি না করা হয়। কেননা গহনের প্রতি তিনি যতটা সদয় আচরণ করবেন বিনিময়ে তিনি নিজেও ঠিক ততটাই সদয় আচরণ পাবেন।

আসলে ব্যাপারটা এমন না যে ওনার স্বামী ওনার থেকে ব্যাপারটা লুকিয়েছিলো। আসলে ব্যাপারটা সালমা বেগমের থেকে লুকিয়ে ছিলো ওনার পরিবার। সংসারে তখন ভীষণ টানাটানি। তিন মেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে সালাম বেগমের বাবার নাজেহাল অবস্থা। তিন বেলা খাওয়ানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। এমন সময় এত বড় ঘর থেকে মেয়ের জন্য বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে। তা সে যতই ছেলের আগের বউ থাকুক না কেন, যতই আগের পক্ষের একটা সন্তান থাকুক না কেন তাতে কি! এত বড় বাড়ির ছেলে যে ওনাদের মতন গরীব ঘরের মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে তাই তো অনেক।

কিন্তু মেয়ে এই কথা শুনলে বেঁকে বসতে পারে সেজন্য তারা মেয়েকে কিছু জানায়নি। যেদিন ওনাকে পাত্রপক্ষ দেখতে গিয়েছিল সেই দিনই বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। ফলস্বরূপ তিনিও আর হবু স্বামীর সাথে আলাদা করে কথা বলার কোন সুযোগ পাননি।

সালমা বেগমের বিয়ের তখন চার মাস পেরিয়েছে। গহনের সাথে তার সম্পর্কটা খুবই স্বাভাবিক। কথাবার্তা হয় না তাদের মাঝে খুব একটা। ওনার কাজ শুধু গহনের দেখাশোনা করা।

একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন সালমা বেগম। গহনের প্রতি অবহেলা করলেও মুখ ফুটে কাউকে নালিশ করে না ছেলেটা। এমনকি ওনার সাথে মোটেই খারাপ ব্যবহার করেনা। বরং যথেষ্ট সম্মান করে। গফুর আহম্মেদের অনুরোধে ততদিনে গহন তাকে মা বলেও ডাকা শুরু করেছে। তবে কেন যেন সালমা বেগম গহনকে নিজের ছেলে হিসেবে মানতেই পারছিল না।

এমন সময় হঠাৎই একদিন সালমা বেগম বুঝতে পারলেন ওনার নিজের সন্তান আসতে চলেছে এই পৃথিবীতে। উনি অন্তঃসত্ত্বা। সে কি খুশি! সে কি আনন্দ সালমা বেগমের! সেদিন মনে হয়েছিল এই প্রথম ওনার নিজের কেউ আসতে চলেছে।

উনি ভেবেছিলেন হয়তো ওনার স্বামীও ঠিক একইভাবে খুশি হবে। তবে তেমনটা মোটেই হয়নি।

গহনের বাবা তখন শহরের বাইরে ছিলেন। বাড়িতে তখন থাকতেন সালমা বেগম, গহন আর গহনের দাদি। খুশির সংবাদটা নিজের স্বামীকে দেওয়ার জন্য কল করলেন। প্রথমবার রিং হয়ে গেল কিন্তু গফুর আহম্মেদ ফোনটা রিসিভ করলেন না। দ্বিতীয়বার রিং হয়ে গেল উনি তাও ফোনটা রিসিভ করলেন না। তৃতীয়বার ফোনটা রিসিভ করে খুব দুর্ব্যবহার করলেন সালমা বেগমের সাথে। ওনাকে সাবধান করে দিলেন যেন কাজের সময় বিরক্ত না করে।

সালমা বেগম কে একটা শব্দও বলার সুযোগ না দিয়ে উনি নিজে নিজেই সব কথাগুলো বলে কলটা কেটে দিয়েছিলেন।

সালমা বেগম কষ্ট পেয়েছিলেন ঠিকই। তবে তাও নিজেকে সামলে নিয়ে ভাবলেন নিজের শাশুড়িকে এই খবরটা আগে দেওয়া যাক। শাশুড়িকে দিলে উনি ঠিক ছেলের কান অব্দি পৌঁছে দেবেন।

তবে শাশুড়িকে যখন গিয়ে তিনি এই খবরটা দিলেন সে আরেক বিভীষিকাময় অবস্থা । প্রচন্ড গালাগালি করলেন তিনি সালমা বেগমকে। সালমা বেগমের অন্তঃসত্ত্বা হওয়াটাকে তিনি একটা পাপ হিসেবে যেন দাঁড় করালেন। সেই সাথে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন যে সালমা বেগমকে এ বাড়িতে আনা হয়েছে শুধুমাত্র গহনের দেখাশোনা করার জন্য। এত তাড়াতাড়ি এসব বাচ্চা-কাচ্চার ঝামেলা কখনোই সম্ভব না। সালমা বেগম যেন বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলে তা স্পষ্ট ভাষায় তাকে জানিয়ে দিলেন।

গহন তখন ওর দাদির পাশেই বসে ছিলো। সমস্ত কথাগুলোই ওর কানে গিয়েছিল। সেই সাথে ছেলেটা ছোট হলেও বুঝেছিল ওর সৎ মা কতটা ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে সেদিন ওর দিকে তাকিয়ে ছিল। সালমা বেগম কান্নাকাটি করে নিজেকে ঘর বন্দী করে নিয়েছিলেন। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল, দুপুর গড়িয়ে রাত হয়ে গেল কিন্তু তারপরও তিনি মুখে কিছু তুললেন না।

এর মাঝে গহন বেশ কয়েকবার সালমা বেগমের ঘরে উঁকি দিয়ে গিয়েছিল। তিনি মেঝেতে বসে গগন বিদারী চিৎকার করছেন আর কাঁদছেন। তিনি নিজের দুর্ভাগ্যের কথা হা হুতাশ করতে করতে বলছেন।

সময় তখন রাত নয়টা। সালমা বেগমের এমন অবস্থা দেখে গহনের দাদি নিজেই গহনের প্লেটে খাবার বেড়ে দিয়ে ওকে বসিয়ে দিয়ে নিজে ঘরে গিয়েছিলেন ওষুধ খেতে। কেন যেন গহনের খাওয়ার ইচ্ছে ছিল না। তখনও কানে সালমা বেগমের কান্নার শব্দ ভেসে আসছিলো।

কি ভেবে যেন গহন নিজের খাবারের প্লেটটা নিয়ে সালমা বেগমের ঘরে গেল। প্লেটটা হাতে নিয়ে চুপচাপ গিয়ে সালমা বেগমের পাশে বসলো। সালমা বেগম খেয়াল করেছেন গহনকে। কিন্তু তবুও ওর দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করলেন না। ওনার কান্নাও থেমে গেল হঠাৎ করে।

গহন প্লেটটা ওনার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,

“মা, খেয়ে নাও।”

সালমা বেগম প্রথমবারে কোন উত্তর দিলেন না। গহন ফের একই কথা বললে এবারে সালমা বেগম গম্ভীর গলায় বললেন,

“খাব না। তুমি খাও।”

গহন শুনলো না সালমা বেগমের কথা। গহনের মনে ততদিনে একটা কৃতজ্ঞতা তৈরি হয়েছে সালমা বেগমের প্রতি। মানুষটা তিন বেলা গহনের জন্য রান্না করে ওকে সময় মত খেতে বসায়। নিজে প্লেটে খাবার বেড়ে দেয়। খাওয়ার সময় পাশে দাঁড়িয়েও থাকে। গহনের মনে হয়েছিল যে মানুষটা ওর খাবারের খেয়াল রাখে তার খাবারের খেয়াল গহন রাখবে না এমনটা তো হতে পারে না।

ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,

“তুমি এই খাবারটা খেয়ে নাও। আমি গিয়ে খেয়ে নিচ্ছি। আর না খেয়ে থেকো না। দুজনেই খাই হ্যাঁ! আর কেঁদোনা।”

কথাটা বলে গহন হাত বাড়িয়ে যেই না সালমা বেগমের চোখের জলটা মুছে দিতে ধরলেন অমনি সালমার বেগম গহনের অন্য হাতে থাকা খাবারের প্লেটটা ছুঁড়ে মারলেন। শুধু খাবারের প্লেট ছুঁড়ে মেরে তিনি ক্ষান্ত থাকলেন না। তিনি গহনকেও ধাক্কা দিলেন। গহন হুমড়ি খেয়ে একটু পিছিয়ে গিয়ে উপুড় হয়ে পড়লো। ব্যথায় মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো। সালমা বেগম চিৎকার করে বলে উঠলেন,

“আমার জীবনটা জা'হা'ন্না'ম বানিয়ে দিয়ে এখন দরদ দেখাতে এসেছিস! চলে যা আমার চোখের সামনে থেকে। তোর মায়ের সাথে তুইও চলে যেতে পারিসনি? নয়তো ম'র'তে পারিস না? হয় তুই নিজে ম'র, নয়তো আমায় মে'রে ফেল। তবু তোর খেদমত করার জন্য আর বেঁচে থাকতে পারবো না আমি। তোর জন্য আমার বাচ্চাটার ম'রা'র কথা উঠছে। তুই ম'রি'স না কেন? তোর ম'র'ন হয় না কেন? এত মানুষ ম'র'ছে রোজ তুই কেন ম'রি'স না?”

গহন ব্যথায় সেই যে একটু আর্তনাদ করে উঠেছিল আর কোনো শব্দ বেরোলো না ওর মুখ দিয়ে। একটু কাঁদেওনি। গহনের চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জলও বের হয়নি। গহন ভেবেছিল ওকে বোধহয় একাই উঠে দাঁড়াতে হবে। তবে তেমনটা হলো না। খেয়াল করলো কেউ একজন ওকে দাঁড়াতে সাহায্য করছে। মাথা তুলে তাকাতেই দেখলো ওর বাবা। চোখ দুটো তখন ছলছল করছে গফুর আহম্মেদের। ছেলের গালে হাত বুলিয়ে দিয়ে আদুরে গলায় বললেন,

“খুব ব্যথা পেয়েছো বাবা?”

গহন তো ব্যথা পেয়েছে ঠিকই। তবে মুখ ফুটে সে ব্যথার কথাটা বাবাকে বলল না। দু দিকে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“না।”

গফুর আহম্মেদ অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালেন সালমা বেগমের দিকে যিনি এখনো রাগে হিশহিশ করছেন। নিজের দৃষ্টি ঘুরে আবারও গহনের দিকে তাকিয়ে বললেন,

“তুমি এখন ঘরে যাও বাবা। দাদি তোমায় খাইয়ে দেবে। খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ো। কাল তোমায় নানু বাড়ি নিয়ে যাবো।”

গহন বরাবরই বাধ্য ছেলে। সেজন্য বাড়তি একটা কথাও না বলে চুপচাপ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। গহন ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই গফুর আহম্মেদ আগে দরজাটা বন্ধ করলেন। ওনার চোখ দুটো রাগে জ্বলজ্বল করছে। সালমা বেগমের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললেন,

“ফকিন্নির বাচ্চা, তোর এত বড় সাহস তুই আমার ছেলের গায়ে হাত দেস। তোর এত বড় সাহস যে যার জন্য তুই খেতে পাচ্ছিস, এই বাড়িতে থাকতে পাচ্ছিস তার গায়ে হাত দেস। তোর সাহস হলো কি করে আমার ছেলের ম'রা'র কথা মুখে তোলার? আর তুই ভাবলি কি করে এই কথা তোর মুখ দিয়ে বের করার পর আমি তোকে বাঁচতে দেব?”

বর্তমান…….

হঠাৎ করে কিসের যেন একটা শব্দ হতেই সালমা বেগমের ধ্যান ভাঙলো। পুরনো স্মৃতির পাতা থেকে তিনি বেরিয়ে চোখ খুলে তাকালেন। সালমা বেগমের এখনো স্পষ্ট মনে আছে সেই দিন কি জঘন্য নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল তাকে। ঐ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই গায়ে হাত তুলেছিল ওনার স্বামী। তারপরে সে কি জ্বর এসেছিল। অথচ ওনার খেয়াল রাখার জন্য কেউ ছিলো না। না ওনার স্বামী ওনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন, না ওষুধ খাইয়েছিলেন। দুদিন না খাইয়ে রেখেছিলেন গহনের হাতের খাবারটা ছুঁড়ে ফেলার জন্য। গহনের মৃ'ত্যু কামনার জন্য।

কথাগুলো ভাবতেই আরেক দফা সালমা বেগমের দু'চোখে দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। উনি খুব তাড়াতাড়ি নিজের চোখের জল মুছে নিলেন। তাকিয়ে রইলেন বিছানায় জ্বরে কাতরাতে থাকা গহনের দিকে। বিন্দুমাত্র আর কোন ইচ্ছে হলো না গহনের কাছে গিয়ে বসতে, ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে। কেননা আজও সালমা বেগম নিজের দুর্ভাগ্যের জন্য এই ছেলেটাকেই দায়ী করেন। সালমা বেগমের জীবনের প্রথম সন্তানের মৃ'ত্যু'র জন্যও তিনি গহনকেই দায়ী করেন।

বিজ্ঞাপন
বারো মাসই বর্ষা গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্প