আজ সকালে আগে গহনের ঘুম ভাঙলো। ঘুম ভাঙতে একটু নড়াচাড়া করার চেষ্টা করতেই বুকের ওপর একটু ভারভার কিছু অনুভব করল। চোখ মেলে তাকাতেই গহন দেখলো গহনের বুকের উপরে নিধির হাত।
গহন কিঞ্চিত চমকালো। পাশফিরে তাকাতেই দেখলো নিধি একেবারে ওর গা ঘেষে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে আছে। মেয়েটার বরাবরের সঙ্গী কাঁথাও নেই ওর গায়ে। বোধহয় কাঁথা না পেয়ে ঠান্ডায় জমে গেছে। সেজন্যই গহন কে জড়িয়ে ধরে একটু ঠান্ডাটা কমানোর চেষ্টা করেছে। সেটাও যে ঘুমের ঘোরে করেছে গহন খুব ভালো করেই জানে। সজ্ঞানে এই মেয়েটা কোনদিনও গহন কে জড়িয়ে ধরতো না।
গহন ঘড়িতে সময় দেখলো। সকাল সাড়ে সাতটা বাজে। গহনের ঘুম থেকে ওঠার সময় পারই হয়ে গেছে বলা যায়। গহন উঠতে চাইলো বিছানা থেকে। তবে আবার থেমে গেল। ভাবলাে এখন যদি নড়াচাড়া করে তাহলে মেয়েটার ঘুমটা ভেঙে যাবে। তার উপরে আবার নিধি এভাবে জড়িয়ে ধরে আছে। ওঠা যায় নাকি!
গহন ওভাবেই শুয়ে থাকলো। বেশ কিছুটা সময় পর নিধি একটু নড়েচড়ে উঠলো। গহন বুঝলো মেয়েটার ঘুম ভাঙছে। তাই চটপট নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল। নয়তো মেয়েটা উঠে যদি দেখে যে গহন দেখে ফেলেছে ও এইভাবে গহন কে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে তাহলে ভীষণ লজ্জা পাবে। কি দরকার এভাবে লজ্জা দেওয়ার! হয়তো আজ লজ্জা দিলে এরপর থেকে নিধি সাবধান হয়ে যাবে। দরকার নেই তো এত সাবধানতা। মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে এমন একটু আকটু ভুল হয়ে যাওয়া ভালো।
নিধির ঘুম সত্যি সত্যি ভাঙলো। একটু নড়েচড়ে উঠতেই খুব কাছাকাছি গহনকে দেখতে পেল। সেই সাথে নিজের হাতটা গহনের বুকের ওপর দেখতেই ছিটকে দূরে সরে গিয়ে লাফ দিয়ে উঠে বসলো নিধি। নিধি বুঝতে পারলো রাতে ওর বালিশটা ওমনি পড়েছিল। আর ও ঘুমিয়েছিল গহনের বালিশে একেবারে গহনের গায়ের সাথে লেপ্টে।
নিধি নিজেই নিজের কপাল চাপড়ালো।এমন কেউ করে। ছিঃ ছিঃ। কে জানে গহন কি মনে করলো। আচ্ছা মানুষটা কি আদৌও টের পেয়েছিল যে নিধি ওর এত কাছাকাছি ঘুমিয়ে ছিলো? না, নিশ্চয় টের পায়নি। টের পেলে হয়তো নিজেই নিধি কে সরিয়ে দিত।
একটা স্বস্তির শ্বাস ছাড়লো নিধি। যাক অন্তত সম্মানটা ঠিক থাকলো। ঘড়িতে সময় দেখে নিয়ে নিধি বিছানা থেকে নামতে ধরে আবার থেমে গেল। গহনের চোখের সামনে হাত নাড়াচড়া করে বোঝার চেষ্টা করলো যে গহন ঘুমিয়েছে কিনা। গহন একটুও নড়াচড়া করলো না। তার মানে বেশ গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে।
নিধির বিছানা থেকে নামতে ইচ্ছে করলো না। কিছুক্ষণ ঘুমন্ত গহনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। আজকাল নিধির এই মানুষটাকে ভালোই লাগে। বিয়ের পরে তো তেমনভাবে খেয়ালই করা হয়নি মানুষটাকে। তবে এখন যখন নিধি গহন কে মাঝে মাঝে গহনের আড়ালে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে তখন বুঝতে পারে নিধির স্বামী দেখতে বেশ সুদর্শন। অন্তত নিধি কখনো এত সুদর্শন ছেলে দেখেছে বলে মনে পড়ে না।
স্কুল কলেজ জীবনে বহু ছেলের থেকে প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছে নিধি। সেটাও ওর নিজের সৌন্দর্যের কারণে। কিন্তু কখনো কারো প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। রাজি না হওয়ার সবথেকে বড় কারণ হলো সবগুলো ছেলে দেখতে গরুর মত। কখনো কোনো সুন্দর ছেলে নিধি কে প্রেমের প্রস্তাব দেয়নি। দিলে হয়তো নিধি রাজি হয়ে যেত।
একেই বলে ভাগ্য। প্রেমিক হিসেবে সুদর্শন কোনো ছেলেকে না পেলেও জীবনসঙ্গী হিসেবে ঝাক্কাস একজন কে পেয়ে গেছে।
নিধি চটপট মনে মনে ঠিক করলো যে কখনো সময় করে গহন কে নিয়ে গিয়ে ওর বান্ধবীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। ওর কিছু বান্ধবী তো নিজেদের স্বামীদেরকে দেখিয়ে এমন ভাব দেখায় যেন বিশ্ব সুন্দর ছেলেকে বিয়ে করেছে। তাহলে গহন কে দেখলে তো ওদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। খুব জ্বালিয়েছে এতগুলো দিন নিধির জীবনে কেউ না থাকার কারণে। সামান্য একটা প্রেম না করার কারণে। এবার নিধি ওদেরকে দেখিয়ে দেবে যে নিধির কাছে কি আছে।
কথাগুলো ভেবে একা একাই হাসলো নিধি। যেহেতু গহন বেশ গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে তাই ভাবলো নিধি কিছু করলেও নিশ্চই ছেলেটা টের পাবে না। তাই গহনের ঘুমের সুযোগ নিয়ে নিধি হালকা করে গহনের গাল টেনে দিয়ে বলল,
“আপনি খুবই কিউট। তবে একটু রোমান্টিক হলেও পারতেন। শুধু ওয়ালপেপারে বউয়ের ছবি রেখে কি হবে বলুন? একবার ভাবুন তো আমার জীবনে কত কষ্ট যে ঘুমের ঘোরে ভুল করে আপনাকে জড়িয়ে ধরতে হয়। আজ যদি আপনি আমার ভালো স্বামী হতেন তাহলে আমাকে জড়িয়ে না ধরে আপনার ঘুমই হতো না। এই যে মাঝে মাঝে শুধু জড়িয়ে ধরেন আমায়। টপাটপ কয়েকটা তো চুমুও দিয়ে দিতে পারেন। তাহলে তো একটু বুঝতে পারি যে না আপনি আসলেই রোম্যান্টিক। এমন রসকষহীন মানুষের সাথে সংসার করা যায় বলুন! আপনার নাহয় অনেক বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু আমার তো কম বয়স। প্রেম করার বয়সে বিয়ে করে নিয়েছি। এখন প্রেমের অনুভূতিটা কেমন হয় সেটা তো আমায় বোঝাতে হবে তাই না? বুড়ো কোথাকার! কিন্তু কি আর করার আমার স্বামী তো ভালো না যে আমায় একটু ভালোবাসবে।”
শেষের দিকে নিধির কন্ঠে একটু বিরক্ত ভাব আর একটু হতাশা প্রকাশ পেল। বিরক্তই বেশি হলো গহনের প্রতি। আর কথা বলার ইচ্ছে হলো না। আবারো বিছানা থেকে নেমে যেতে ধরে ফের থেমে গেল। কি যেন মনে করে আবারও নিজে নিজেই হাসলো। আবার নিজের পূর্বের জায়গায় এসে গহনের দিকে একটু ঝুঁকে গিয়ে বলল,
“তবে যতই বুড়ো হন না কেন মানুষটা আপনি খুব একটা খারাপ না। কয়েকদিন ধরে যেভাবে আমার পাশে থাকছেন এভাবেই থাকুন। তাহলে আপনি ভালো স্বামী হতে পারবেন। সেই সাথে আমারও আপনার প্রেমে পড়া কনফার্ম।”
কথাটা বলে নিধি এবারে সত্যি বিছানা থেকে নেমে ফ্রেশ হতে চলে গেল। বাথরুমের দরজা লাগানোর শব্দ পেতেই গহন চোখ খুলে লাফ দিয়ে উঠে বসলো। নিঃশ্বাস একদম আটকে আসছিলো এতক্ষণ নিধি কথাবার্তা শুনে। মেয়েটা এতটা ঠোঁটকাটা সেটা তো গহন কখনো আন্দাজও করতে পারেনি। আজ নাহয় গহন ঘুমের ভান ধরে শুয়েছিল। কিন্তু অন্যান্য দিন যখন গহন ঘুমিয়ে থাকে তখনও কি মেয়েটা এমন কিছুই বলে গহনকে? আজই তো কত আজেবাজে কথা বলে গেল গহন কে। বুড়ো বলে গেল, আনরোম্যান্টিক বলে গেল, আবার চুমু খাওয়ার কথাও বলে গেল। এমনকি জড়িয়ে ধরার কথাও বলে গেল। কি সাংঘাতিক মেয়ে রে বাবা।
_________
অফিস যাওয়ার আগে আজ গহন সালমা বেগমের ঘরে গেল। সালমা বেগম তখন বিছানায় হেলান দিয়ে বসে থেকে ফল খাচ্ছেন। গহন গিয়ে ওনার পাশে বসে কপালে হাত রেখে আগে দেখলো জ্বর আছে কিনা।
“যাক জ্বর নেই। শরীর এখন ভালো আছে তো মা?”
সালমা বেগম আলতো হেসে বললেন,
“হ্যাঁ বাবা ঠিক আছি। তোমাদের তো ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। যাওনি যে? আমি অনুমতি দেইনি জন্য যেতে পারোনি তুমি?”
গহন আলতো হেসে বলল,
“এই ব্যাপারে তো তোমার অনুমতির অপেক্ষায় আমি ছিলাম না মা। আসলে কি বলতো আজকাল কেউ আমায় না বুঝলেও নিধি খুব ভালোভাবে আমায় বুঝতে পারে। নিধি চায় না সংসারে কোন অশান্তি হোক। ও চায় না আমি কোন মানসিক অশান্তিতে থাকি। ও আমার দিকটা খুব ভালোভাবে বোঝে। আমি জোর করেছিলাম ওকে ঘুরতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ও যেতে চায়নি। ও সংসারে শান্তি বজায় রেখে তারপরে ঘুরতে যেতে চেয়েছে।”
সালমা বেগম আলতো হেসে বললেন,
“যাক ভালোই হয়েছে। এখন আমি না থাকলেও আর আমায় কোন চিন্তা করতে হবে না। আমার ছেলেকে বোঝার মানুষ এসে গেছে।”
“সেজন্য আমিও নিধি কে বোঝার চেষ্টা করছি মা। আমিও আর এখন যেতে জোর করলাম না তার কারণ কিছুদিন পর এমনিতেই আমার অফিস থেকে একটা ট্যুরের আয়োজন করা হয়েছে। ওখানে তো যেতেই হবে।”
“ওহ্ তার মানে যাবেই তোমরা?”
"যেতে তো হবেই মা। সব সময় তো শুধু নিধিই ত্যাগ করতে পারেনা। মাঝে মাঝে আমাকেও করতে হবে। আমাদেরকেও করতে হবে। তুমি বিশ্রাম নাও। আমি এখন আসছি।”
কথাটা বলে গহন ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। গহন সেখান থেকে চলে যেতেই সালমা বেগম ওনার গাল বেয়ে গড়িয়ে পরা অশ্রু মুছে নিলেন। কেন যেন খুব অস্থির লাগছে। বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠছে। খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে ওনার। ছেলের এই আমূল পরিবর্তনে ওনার কাঁদতে ইচ্ছে করছে। খুব কষ্ট পাচ্ছেন সালমা বেগম। ছেলে আর আজকাল তাকে গ্রাহ্যই করছে না। মায়ের অনুমতির, ইচ্ছের, ভালোলাগার কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। বরং ইঙ্গিতে বিভিন্নভাবে কথা শোনাচ্ছে ওনাকে। সালমা বেগম যা কল্পনাও করেননি কখনও সেসব দেখতে হচ্ছে ওনাকে। কে জানে সামনে আরও কি কি অপেক্ষা করছে ওনার জন্য।
__________
অফিসে যাওয়ার জন্য বেরোতে ধরেছিল গহন। তখনই মনে পড়ে গেল সকালে নিধির বলা কিছু কথা। আর বেরোতে পারল না। রান্নাঘরে গিয়ে উঁকি দিয়ে দেখল নিধি সেখানে নেই। আবার নিজের ঘরেই গেল। নিধি তখন চুল আচড়াচ্ছে। পিছন থেকে ওর কানে ভেসে এলো গহনের কণ্ঠস্বর।
“নিধি!”
নিধি পিছন ফিরে তাকিয়ে গহন কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,
“আপনি এখনো যাননি? কোন কিছু ফেলে রেখে গেছেন নাকি?”
“হ্যাঁ একটা কাজ বাকি আছে।”
নিধি ফের ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,
“কি কাজ?”
গহন কোন উত্তর দিলো না। নিধির দিকে এগিয়ে এলো আগে। নিধি কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গহনের দিকে জানার জন্য যে গহনের এখনো কি কাজ বাকি রয়ে গেছে যার জন্য আবার ফেরত এলো।
নিধির একেবারে কাছাকাছি এসে গহন থামল। নিধির গালে আলতো করে হাত রেখে ওর কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে মৃদু হেসে বলল,
“আসছি।”
কথাটা বলে গহন সেখানে এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না। চলে গেল ঘর থেকে। নিধির হাতে থাকা চিরুনীটা পরে গেল মেঝের ওপর। এখনো হা করে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে নিধি। কিছুক্ষণের জন্য কথা বলতে ভুলে গেল। চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেল। নিঃশ্বাস যেন আটকে গেল। এটা কি হয়ে গেল নিধির সাথে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। হঠাৎ করে এই অতর্কিত আক্রমণের মানেটা কি সেটাও বুঝলো না। কেনই বা গহন এমন করলো তাও বুঝলো না।
হুট করেই আবার নিধির ধ্যান ভাঙলো। বদ্ধ ঘরে চার দেয়ালের মাঝে একা একাই লজ্জা পেল নিধি। হঠাৎ করে যে নিধির কি হয়ে গেল বুঝে উঠতে পারছে না। গহন তো তেমন কিছু করেনি। সামান্য একটু তো চুমু খেয়েছে। তাতে এত লজ্জা পাওয়ার কি আছে! মনটা এত উরু উরু করারই বা কি আছে।
নিধি পিছে ঘুরে আয়নার দিকে তাকালো। অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের কাছেই নিজের গাল দুটো লাল মনে হচ্ছে। নিশ্চয়ই লজ্জার কারণে লাল হয়ে গেছে। নিধি লজ্জায় দুহাতে নিজে নিজের মুখ ঢেকে একা একাই বিরবির করল,
“আমার স্বামী মনে হয় ধীরে ধীরে সত্যি ভালো হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে রোম্যান্টিকও।”
____________
“হ্যালো মা! বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি, পেয়েছো?”
অপর পাশ থেকে নীলা যেন একটু ফিসফিসিয়ে বললেন,
“হ্যাঁ পেয়েছি। তুই এত টাকা কোত্থেকে পেলি মা? জামাইয়ের থেকে চেয়েছিস নাকি?”
“না। টাকাটা আমারই। তোমার জামাই আমাকে দিয়েছে আমি সেটা আমার ভাইকে দিয়েছি।”
নীলা এবারে হা হুতাশ করে উঠে বললেন,
“তুই যে কি করিস না মা। জামাই তোকে শখ করে টাকা দিয়েছে তোর প্রয়োজনে। তুমি কেন ওটা আমাকে পাঠাতে গেলি? এখন জামাই পরে যদি জিজ্ঞেস করে টাকা দিয়ে কি করেছিস তাহলে কি উত্তর দিবি?”
নিধি কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর গলায় বলল,
“আরে বাবা আমাকে যখন টাকাটা দিয়েছে তাহলে সেটা আমার ব্যাপার আমি কি করবো। আর এমনিতেও উনি এমন না যে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে আবার জিজ্ঞেস করবেন। ধুর বাদ দাও তো।’
“বাদ দাও বললেই বাদ দেওয়া যায় না। যাই হোক, এইবার ভুল করেছিস ঠিক আছে। আর এমন করবি না। সংসার সম্পর্কে বুঝতে শেখ মা। ওটা এখন তোর সংসার। জামাই, তোর শ্বশুর বাড়ির লোকজন সব সময় চাইবে তুই যেন ওই সংসারে মন দেস। আর তুই কিনা ওই সংসারে টাকা এই সংসারে পাঠাচ্ছিস। এমন আর করিস না। বিয়ে হয়েছে তোর। এবার তো একটু বড় হ।”
হঠাৎ করে নিধির কি হলো কে জানে। অভিব্যক্তিতে বেশ বদল এলো। কেমন যেন একটু উদাস দেখালো। আনমনে একটু হেসে নীলা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“এই বয়সে যতোটুকু বোধবুদ্ধি থাকার কথা ততটুকুই তো থাকবে তাই না মা? বয়স অনুযায়ী আর কত পরিস্থিতি বুঝতে বলছো? পরিস্থিতি বুঝতে বুঝতে তো এই বয়সেই শখ, স্বপ্ন সব শেষ করে ফেললাম। আরো কতটা বড় হতে বলছো?”
কথাটা বলে নিধি নীলার থেকে কোন উত্তরের অপেক্ষাতেও রইল না। কলটা কেটে দিল। হঠাৎ করে মেয়েটার কেমন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেল। কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বললে নিধির মত চঞ্চল মেয়েটাও কেমন যেন শান্ত হয়ে যায়। এক অদ্ভুত বিষন্নতায় ডুবে যায়। এই যেমন এখন ডুবে আছে।