তোর পিরীতে পাগল হইলাম রে

পর্ব - ৭৪

🟢

আট বছর পরে,

“তুমি কি খাবে না আমান? আমাকে তোমার বাবা পাওনি যে সারাদিন রাত সব কাজ ফেলে তোমার পিছনে পড়ে থাকবো। তুমি জানো আমার এসব অপছন্দ। এক জায়গায় স্থির হয়ে বসো।”

আরজুর বলা কথাগুলো ওর সাত বছরের ছেলে আমানের কানে আদৌও গেল কিনা কে জানে। তবে আরজু যতদূর সন্দেহ করলো ছেলের কানে কথাগুলো যায়নি। আমানের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো ওর পুরো মনোযোগ টিভিতে। একদম টিভির সামনে গিয়ে বসেছে। মনে হচ্ছে শুধু পারছে না টিভির ভিতরে ঢুকে যেতে।

আরজু “আমান” বলে চেঁচিয়ে উঠল এবারে। ভয়ে কেঁপে উঠে আমান বলল,

“কি সমস্যা আম্মু?”

“সেটা তো আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করবো। সমস্যা কি তোমার? কি দেখছো টিভিতে এভাবে? তোমার বাবা যদি জিতে যায় সে খবর কি পাবে না? তাই জন্য কি এখন খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে ম’র’তে হবে?”

আরজু নিজে নিজে কথাগুলো বলে গেল। আশা করেছিলো এবার অন্তত আমানের মনোযোগ পাবে, তবে তেমন কিছুই হলো না। বরং খেয়াল করলো হঠাৎ করে আমান খুশিতে উল্লাস করে বলে উঠলো,

“আম্মু ওই দেখো, আব্বুর নাম দেখাচ্ছে। আব্বু এগিয়ে আছে।”

আরজু এবার টিভির দিকে তাকালো।

“তাই তো দেখছি। এগিয়ে আছে তোমার আব্বু।”

আমান ফের খুশিতে উল্লাস করে বলে উঠলো,

“দেখেছো, আমি বলেছিলাম আমার আব্বু জিতবে।”

“জিততে পারবে না তোমার আব্বু। রাজনীতিতে এত ভালো মানুষরা কখনোই টিকতে পারে না। তোমার মাথায় যদি ঘিলু থাকতো তাহলে তুমি বুঝতে। আছে তো শুধু গোবর, বুঝবে কি করে।”

কথাগুলো বলে আরজু রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ালো। বুঝলো ছেলেকে এখন হাজার চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারবেনা।

রাতের খাবার পেটে যায়নি আরজুর। রান্নাবান্না সবই করেছে, তবে খাওয়ার ইচ্ছেটাই নেই। রান্নাবান্না যা করেছে ভাবলো সেগুলো সব ফ্রিজে তুলে রান্নাঘরটা গুছিয়ে রাখবে। রাতে হয়ত আর আরমান ফিরবে না।

হঠাৎ করে আরজুর মাথাটা কেমন যেন গরম হয়ে গেল। কেন গরম হলো আরজু জানে না, তবে গরম হলো। আর সম্পূর্ণ রাগটা গিয়ে পড়লো আরমানের উপরে। হাড়ি-পাতিল, থালা-বাসন সবকিছু শব্দ করে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় শুধু ছুঁড়ছে যেন। রান্নাঘর থেকে এত শব্দ পেয়ে ছুটে এলেন নাসিমা। চার-পাঁচ বছর যাতৎ তিনি শহরেই থাকছেন। কখনো আরজুর কাছে থাকে তো আবার কখনো প্রার্থনার সাথেও থাকে। মাঝে মাঝে ফিরোজের বাড়িও যায়।

মেয়েকে উদ্দেশ্য করে আতঙ্কিত গলায় বললেন,

“কি হয়েছে? এভাবে কাজ করছো কেন?”

আরজু গম্ভীর গলায় বলল,

“যেভাবে ইচ্ছে হবে সেভাবে কাজ করবো। দরকার হলে কাজ করবোই না, তবে করার হলে এভাবেই করব।”

নাসিমা কিঞ্চিত বিরক্তিকর গলায় বললেন,

“সব সময় এমন ত্যাড়ামো করবে না তো। তোমার গুণ পেয়েছে ছেলেটা। মা ভালো হলে তবে না সন্তান ভালো হবে।”

আরজু মাথা তুলে নাসিমার দিকে তাকিয়ে ফের গম্ভীর গলায় বলল,

“তাহলে আমি এমন হলাম কি করে? নিশ্চয়ই তোমার জন্যই হয়েছি। নাকি আবার বলবে আমি তোমার মেয়েই নই।”

হাল ছেড়ে দিলেন নাসিমা। বুঝলেন মেয়েকে বোঝানো ওনার পক্ষে সম্ভব না। এই মেয়েকে এখন কেউ সামলাতে পারলে একমাত্র আরমানই পারবে।

নাসিমার এসব ভাবনার মাঝেই ড্রয়িং রুম থেকে আবারও আমানের উচ্ছ্বসিত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে আরজুকে ডেকে বলছে,

“আম্মু, আব্বু জিতে গেছে। এই দেখো টিভিতে খবর দেখাচ্ছে। আব্বু আমার কথা শুনেছে। আমি এখন এমপির ছেলে হয়ে গিয়েছি। এখন আব্বুকে বলবো আমার পড়াশোনা করে দেওয়ার জন্য একটা লোক রাখতে। আমি আর পরীক্ষা দেবো না।”

খবরটা কানে যেতেই নাসিমা নিজেও ভীষণ খুশি হলেন। উচ্ছ্বসিত গলায় আরজু কে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“আরজু জিতে গেছে আরমান। কথা বলো ওর সাথে একবার। না হলে ফোনটা আনো, ও কল করবে তোমায় আমি জানি।”

আরজুর অভিব্যক্তির কোন পরিবর্তন ঘটল না। একটু খুশিও হতে দেখা গেল না। নাসিমার কথার কোন উত্তরও দিল না।

আরজুকে এভাবে গম্ভীর হয়ে থাকতে দেখে নাসিমার হাসিটাও মিলিয়ে গেল। এগিয়ে গেলেন মেয়ের দিকে। আরজু তখন বাসন মাজছে। মেয়ের কাঁধে হাত রেখে শান্ত গলায় বললেন,

“কি হয়েছে তোমার? আরমানের এতদিনের কষ্ট সার্থক হলো আজ, তুমি খুশি হওনি?”

আরজুর কাজের হাতটা থেমে গেল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“ওনার এই পেশা যে ওনাকে ধীরে ধীরে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আজ এক সপ্তাহ হলো ওনার মুখটা অব্দি দেখতে পারি না। আমি সারাটা দিন ভয়ে থাকি কখন না জানি কি দুঃসংবাদ আসে আমার কানে। যার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে সে ওর অনেক পুরনো শত্রু। এত চিন্তার মাঝে খুশি হই কি করে বলতে পারো আমায়?”

“তুমিই তো অনুমতি দিয়েছো। তুমি নিষেধ করলে তো করতো না।”

“আমি তো কখনো মানা করবোও না মা। আমি জানি এর সাথে ওনার আনন্দ জড়িয়ে আছে। কিন্তু আমার সম্পূর্ণ আনন্দ যে ওনার সাথে জড়িয়ে আছে। যদি ওনার কিছু হয়ে যায়।”

নাসিমা মেয়েকে আশ্বস্ত করে বললেন,

“চিন্তা করো না, কিছু হবে না। আরমান অনেক ভালো ছেলে। ওর সাথে খারাপ কিছু হবে না।”

“উনি ভালো সেটাই আমার সব থেকে বড় চিন্তা। আমি ওনাকে আর পাই না। আমার মন খারাপ হলে আমি ওনাকে আর পাই না, আমার শরীর খারাপ হলেও আমি আর ওনাকে পাই না। আমি সময় মতো ওনাকে আর পাইই না।”

বিজ্ঞাপন

নাসিমা খেয়াল করলেন আরজুর চোখ দুটো ছলছল করে উঠেছে। বুঝলেন মেয়ের মনে অনেক অভিমান জমে আছে। আরজুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদূরে গলায় বললেন,

“এখন ব্যস্ততা কেটে যাবে। ছেলেটা তো চেষ্টা করে সময় দেওয়ার মা, কিন্তু পেরে ওঠে না। কি করবে বলো। ও বাড়ি ফিরলে তো তুমি নিজেও আবার বাড়িতে থাকতে দাও না। বারবার বলো প্রচারনার কাজে যেতে, না হলে হেরে যাবে। এখন আবার ওর দোষ দিচ্ছো কেন?”

“তো কি করবো? হেরে গেলে ভালো লাগবে না। উনি অনেক কষ্ট পাবেন।”

নাসিমা এবারে শব্দ করে হেসে উঠে বললেন,

“পাগলী মেয়ে একটা। নিজেই সব বলে। এখন ঘরে গিয়ে বিশ্রাম করো। আমান আমার সাথে ঘুমোবে। বেশি চিন্তা করো না।”

কথাটা বলে নাসিমা চলে গেলেন সেখান থেকে। আরজু নিজেই অভিমানি গলায় বিড়বিড় করে বলল,

“একটাও চুমু খেতে দেবো না আজ ফিরলে। সাতদিন মনে পড়েনি আমার কথা। সাত দিনে যখন আমার চুমুর দরকার হয়নি, আর কখনো দেবোও না।”

_________

রাত তখন বেশ অনেকই হয়েছে। আরমান তানভীর এর সাথে তানভীরদের বাড়িতেই গেল। কলিংবেল বাজাতেই ভেতর থেকে তনুশ্রী এসে দরজা খুলে দিল। আরমান কে দেখতেই তনুশ্রীর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার খুশিতে মিষ্টি দিতে এসেছে বোনকে। তনুশ্রীর হাতে মিষ্টির প্যাকেটটা দিয়ে আগে নিজের ভাগ্নির খোঁজ করলো। জানতে পারলো সে মামার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে। আরো টুকটাক কিছু কথা বলে আরমান তাওকীরের খোঁজ করতেই তনুশ্রী বলল,

“ঘরে আছে। একটু আগেই ঘর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছিল। জিনিসপত্রও ভাঙা শুরু করেছিলো। আমি গিয়ে ডাকলাম অনেকবার করে, তবে দরজা খুললো না।”

আরমান চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল,

“এতদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল, একটু হলেও তো সুস্থ হওয়ার কথা। কোনো তো উন্নতি তাহলে হয়নি।”

“উন্নতি হয়নি জন্যই তো আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হলো। হাসপাতাল থেকে কল করে বলেছিলো সেখানে থাকলে নাকি আরো বেশি সমস্যা হচ্ছে।”

“আচ্ছা ঠিক আছে। আমি দেখা করে আসি। দেখি দরজা খোলে কিনা।”

আরমান সিঁড়ি বেয়ে উপরে তাওকীরের ঘরের সামনে গেল। দরজার নিচ দিয়ে আলো আসছে। বুঝলো তাওকীর তার মানে ঘুমোয়নি। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আরমান তাওকীর কে একবার ডাকলো,

“তাওকীর ভাই!”

ভিতর থেকে তাওকীরের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। আরমান দরজায় করাঘাত করল আরো বেশ কয়েকবার, তাওকীরের নাম ধরে ডাকলোও তারপরেও ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না।

বেশ অনেকটা সময় ধরে তাকে ডাকার পরেও যখন কোন সাড়াশব্দ পেল না তখন আরমান হাল ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে ধরলো। আর ঠিক সেই সময়ই আরমানের কানে দরজা খোলার শব্দ এলো।

আরমান পিছন ফিরে তাকাতেই ছন্নছাড়া তাওকীর কে দেখতে পেল। তাওকীরের জামা কাপড়ের ঠিক নেই। পরনের টি-শার্টটা ময়লা হয়ে গিয়েছে। কাউকে বদলাতেও দেয় না। নিজের যখন ইচ্ছে হয় নিজেই বদলায়। চুল কাটতে চায় না, দাঁড়ি কাটতে চায় না, খাবার খেতে চায় না, ঘর থেকে বেরোতে চায় না। স্মৃতিশক্তিরও ভীষণ সমস্যা হয়েছে।

প্রায় সময় ভুলে যায় যে ওর জীবনে আকাঙ্ক্ষা নামে কারোর আগমন ঘটেছিল। আবার কখনো ভুলে যায় যে ওর জীবনে হিমি নামক কারও অস্তিত্ব ছিল। মাঝে মাঝে ভুলে যায় কিছু বছর আগে আবারো আকাঙ্ক্ষার আগমন, আর হিমির প্রত্যাবর্তন। কখনো আবার সেই ঘটনাগুলো মনে করে নিজে একা একাই কাঁদে। কখনো ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে, এলোমেলো করে ফেলে পুরো ঘরটা।

এলোমেলো করার পরপরই আবার নিজেই সবকিছু গোছায়। একাএকাই বিড়বিড় করে বলে,

“একটু পরে হিমি এসে ঘরের এমন হাল দেখলে রেগে যাবে। হিমি আসার আগেই সব গোছাতে হবে।”

তাওকীর হিমি আসবে সেকথা ভেবে সবকিছু গোছায়,অথচ হিমি তাহি কে নিয়ে ছয় বছর আগেই দেশ ছেড়েছে। কোনো রকম যোগাযোগ রাখেনি তাওকীরের সাথে আর না তাহিকে রাখতে দিয়েছে। শুরুর দিকে তাহি খুব কান্নাকাটি করতো তবে এখন অনেকটা বড় হয়েছে। বুঝতে শিখেছে সবকিছু। তাহি জানে না ওর বাবা কি অন্যায় করেছিলো, তবে জানে কিছু একটা অন্যায় করেছিলো। এখনও মনে পড়ে বাবার কথা, তবে কান্নাকাটি আর করে না।

“নিজেকে এভাবে কষ্ট দিলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে তাওকীর ভাই?”

আরমানের প্রশ্নটা শুনে তাওকীর কিছুক্ষণ হা করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো। বেশ অনেকটা সময় পর তাওকীর বলল,

“কে আপনি? আমায় চিনলেন কিভাবে?”

আরমানের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। আজ নতুন নয় যখন তাওকীর ওকে চিনতে পারলো না। মাঝেমধ্যেই এমন হয়, অনেক কে চিনতে পারেনা আবার অনেক অপরিচিত কে পরিচিত ভেবে ভুল করে। খুব কষ্ট হয় আরমানের যখন তাওকীর ওকে চিনতে পারেনা। মনে পরে যায় আগেকার কথাগুলো। কি সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো। পরিবারের সবাই একসাথে বসে কত গল্প করতো, হইচই করতো। আর এখন সেসব কিছুই হয় না।

“আমায় চিনতে পারছো না? আমি তাওসিফ, তোমার ভাই।”

তাওকীর বোধহয় তাও চিনলো না। ওকে চুপ করে থাকতে দেখে আরমান নিজেই আবারো বলে উঠলো,

“তোমার তাওসিফ এখন এমপি হয়ে গেছে। সবকিছু যদি স্বাভাবিক থাকতো আমি জানি আমার থেকে বেশি তুমি খুশি হতে। অথচ আজ তুমি আমায় চিনতেও পারছোনা।”

আরমানের কথাগুলো তাওকীরের মাথায় ঢুকলো বলে মনে হয় না। আর কোনো কথাও বাড়াতে ইচ্ছে হলো না তাওকীরের। চুপচাপ আবার ভেতরে চলে যেতে ধরলে পিছন থেকে আরমান বলে উঠলো,

“কেন এতগুলো মানুষের জীবন নষ্ট করেছিলে তাওকীর ভাই? দোষ তো তোমারও ছিল। কারো ক্ষতি করে যে নিজে ভালো থাকা যায় না সেটা কি তুমি জানতে না? আজ তোমার একটা ভুলের জন্য আমাদের পুরো পরিবারটা এলোমেলো হয়ে গেছে। দুটো মেয়ে, দুটো বাচ্চার জীবন নষ্ট হয়ে গেছে, তুমি নিজে ধুকে ধুকে ম'রছো। এইসব কিছু তোমার প্রাপ্য তারপরেও তোমায় দেখে আমার কষ্ট হয় ভাই। আমার এটা মানতে খুব কষ্ট হয় যে আমার তাওকীর ভাই এতগুলো মানুষকে ঠকিয়েছ।”

তাওকীর থামলো কিছু সময়ের জন্য, তবে পিছন ফিরে আর তাকালো না। ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। আরমান বুঝলো সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে আর লাভ নেই। নিচে নামার আগে গেল মুহিব হোসেনের ঘরে, যে ঘরটা অনেকদিন যাবৎ খোলা হয় না।

কল্পনা শহরে থাকেন না। আগে তাও মাঝেমধ্যে আসতেন, এখন আর আসেন না। সবাই যেন নিজের দুঃখ নিয়ে ব্যস্ত। কারোরই অন্যের প্রতি কোনো খেয়াল নেই।

দরজা খুলেই আরমানের নাকে কেমন যেন একটা ভ্যাপসা গন্ধ এসে লাগলো। এতো বড় বাড়ি অথচ সদস্য মাত্র চারজন।

ঘরে ঢুকে আরমান আগে লাইট জ্বালালো। এখনও মুহিব হোসেনের একটা ছবি আছে সেই ঘরে। আরমান সেই ছবিটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেই ছবির দিকে।

মূহুর্তের মাঝে না চাইতেও আরমানের দু চোখ ছলছল করে উঠলো। পাঞ্জাবির হাতায় নিজের চোখের জল মুছে নিয়ে ছবির দিকে তাকিয়ে একা একাই বিরবির করে বলল,

“তুমি অন্যদের জন্য যেমনই হও না কেন, আমার জন্য আমার বাবার মতন ছিলে। তুমি অনেক অন্যায় করেছো আমি জানি, তবে আমি কখনো এটা অস্বীকার করতে পারবো না যে তুমি আমায় নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবেসেছো বড় আব্বু। শুধু আফসোস একটাই তুমি খুব বড় অন্যায় করেছিলে। সেই অভিমানেই তো শেষবার যখন তুমি আমায় তোমার কাছে ডেকেছিলে আমি চেয়েও তোমার কাছে যেতে পারিনি বড় আব্বু। আর সেই আফসোস এখনো আমার হয়। শুধু মনে হয় তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে কেন নিজের অভিমান তোমার কাছে প্রকাশ করলাম না। মনে হয় আর একটাবার যদি তোমায় একটু জড়িয়ে ধরতে পারতাম।”

আরমান থামলো। একটু বিরতি নিয়ে ফের বলা শুরু করল,

“তোমার স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে বড় আব্বু। আজ তোমার তাওসিফ তোমার মতনই এমপি হয়েছে। শুধু একটাই আফসোস আজ তুমি নেই আমার পাশে। দেখো, তুমি নেই আর আমাদের পরিবারটা এলোমেলো হয়ে গেছে। তুমি এতগুলো বছর ধরে কি সুন্দর সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছিলে। অবশ্য এলোমেলো হওয়ার কারণটাও তুমি। তুমি তাওকীর ভাইয়ের ভালো করতে চেয়ে ওর জীবনটা একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছো। যার ফলস্বরূপ আজ ও ভালো নেই। আমাদের সুন্দর পরিবারটাও শেষ।”

বিজ্ঞাপন
তোর পিরীতে পাগল হইলাম রে গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় চমৎকার একটি সামাজিক গল্প