তোর পিরীতে পাগল হইলাম রে

পর্ব - ৭৩

🟢

ঘুম ভাঙতেই আরমান পাশে হাতরে আরজু কে পেল না। বেশ বিরক্ত হলো আরমান। এই সময়ে একটু বউকে জড়িয়ে না ধরলে কি হয়। কোথায় বউ কে জড়িয়ে ধরে আরেকটু ঘুমোবে তা না। আরমানের বউয়ের তো সেসব খেয়ালই নেই। কে জানে কোথায় গেছে আবার পাগলীটা।

আরমান ঘুমের ঘোরে বিরক্তিকর গলায় আরু বলে চেঁচালো কয়েকবার। কয়েকবার চেঁচানোর পর আরজুর গলা পাওয়া গেল।

“কি সমস্যা? আমি রান্না করছি।”

আরমান বিরক্তিকর গলায় বলল,

“রান্না করতে হবে না, এদিকে শুনুন।”

আরজু নিজেও পাল্টা বিরক্তিকর গলায় বলল,

“রান্নাই আগে করতে হবে। আপনি এদিকে এসে যা বলার বলে যান।”

বিরক্তি তে আরমান নাক মুখ কুঁচকে ফেলল। সেই সাথে এটাও বুঝলো আরজু কে এখানে আনা সম্ভব না, ওকেই যেতে হবে।

তবে সঙ্গে সঙ্গে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারল না। আরো কিছুক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি খেয়ে উঠে রান্না ঘরের দিকে গেল। রান্নাঘরে গিয়ে তাকের ওপর উঠে বসে ঘুমুঘুমু গলায় আরজু কে বলল,

“কি রান্না করছেন?”

আরজু নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ রান্নার উপরে নিবদ্ধ করে বলল,

“কিছু একটা।”

“কিছু একটা মানে? রান্নার নাম কি?”

“নাম আমি জানিনা। ফোনে দেখেছিলাম সেটাই রান্না করছি।”

আরমান সন্দিহান গলায় বলল,

“খাওয়া যাবে তো?”

আরজুর রান্নার হাতটা থেমে গেল। চিন্তিত ভঙ্গিতে আরমানের দিকে তাকিয়ে বলল,

“খাবেন না আপনি? আমি তো অনেক যত্ন করে, ভালোবেসে রান্না করছি।”

কথাটা বলতেই আরজুর মুখটা ভীষণ অসহায় দেখালো। আরমানের ঘুম ছুটে পালালো। তাড়াহুড়ো করে বলল,

“আরে নিশ্চয় খাব। আমার আরু ভালোবেসে বিষ দিলে বিষই খেয়ে নেব আমি।”

আরজু খুব বেশি সন্তুষ্ট হতে পারল না আরমানের কথায়। গম্ভীর গলায় বলল,

“এতটাও ভালোবাসতে হবে না। ফ্রেশ হয়ে আসুন, খেতে দেব। রান্নার নামটা আমি ভুলে গেছি, তবে কিছু একটা রান্না করেছি।”

আরমান আর কোন কথা বাড়ালো না। চলে গেল ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে এসে দেখল ডাইনিং টেবিলে আরজু খাবার বেড়ে রেখেছে। আরমান চেয়ার টেনে বসে পড়ে গলা উঁচিয়ে ডাকলো আরজু কে।

তাৎক্ষণাত আরজুর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো না। আরমান থেমে গেল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো আরজুর আসার জন্য। ভাবলো বোধহয় আরো কিছু রান্না করছে তাই ব্যস্ত আছে।

কিছুক্ষণ পরে আরজুর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। আর্তনাদ করে আরমানকে ডাকলো। আরমান ভয় পেল। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেল রান্নাঘরে। আতঙ্কিত গলায় বলল,

“কি হয়েছে আরু?”

আরজু কাঁদো কাঁদো গলায় আরমানের দিকে তাকিয়ে বলল,

“রুটি পুড়ে গেছে, ফুলছেও না। দেখুন গোলও হচ্ছে না। আটাটাও নরম হয়ে গেছে অনেক। আমি কিচ্ছু পাচ্ছিনা। আমাকে দিয়ে কিছুই হয় না।”

আরজুর মুখটা দেখে মনে হলো যেকোনো সময় কেঁদে ফেলবে। আরমান তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে গেল। রুটির অবস্থা দেখে মনে হলো আরজুর কান্না করাটা স্বাভাবিক। রুটিটা যে ঠিক কোন দেশের মানচিত্র হয়েছে সেটা আরমান ধরতে পারল না, তবে এসব বুঝতে দিলে হবে না আরজু কে। প্রশংসার কন্ঠে বলল,

“সুন্দর হয়েছে তো রুটিগুলো আরু। আমি তো এমনও বানাতে পারিনা। আর রুটি গোল হলো না হলো না তাতে কি? পেটেই তো যাবে। রুটি একটু পুড়ে গেলেই ভালো লাগে খেতে। আর রুটি তো ফোলে না, লুচি ফোলে।”

আরজু অবুঝের মতন বলল,

“সত্যি রুটি ফোলে না? আমি ভুল জানি নাকি? মিথ্যে বলছেন আপনি আমাকে।”

আরমান হেসে উঠে বলল,

“আরে না আরু। মিথ্যা কেন বলবো? আমাদের ওদিকে কারো রুটিই ফুলতে দেখিনি। আমরা এমন রুটিই খাই। কারোর রুটি গোলও হয় না। আপনি একটা কাজ করুন, আপনি রুটিগুলো কোন রকম করে বানিয়ে দিন আমি ভাজছি।”

আরজু চুপচাপ মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো। আরমান তেল দিয়ে পরোটা ভেজে নিল। আরজু খেয়াল করলো আরমান খুব সুন্দর ভাবে পরোটা গুলো ভাজলো। একটুু পুড়ে গেল না।

আরজু অবাকই হলো দেখে। আরমানের সম্মান আরজুর চোখে একটু বেড়ে গেল। সেই সাথে ভাবলো আরমান অনেক কিছু পারে।

পরোটা ভাজা শেষে খেতে বসলো। মাংস রান্না করেছে আরজু তবে একটু নতুন রকম ভাবে। আরজু নিজে আগেই খেল না। আগে আরমানকে বেড়ে দিল। অধীর আগ্রহে আরমানের মুখ থেকে একটু প্রশংসা শোনার জন্য অপেক্ষায় রইলো। খাবারটা মুখে দিতেই আরমান প্রশংসার গলায় বলল,

“রান্না তো দারুণ হয়েছে আরু। নাম না থাকলে কি হবে, স্বাদ দারুন হয়েছে।”

আরজু সন্দেহী গলায় বলল,

“সত্যি ভালো হয়েছে?”

“হ্যাঁ সত্যি ভালো হয়েছে। এবারে গ্রামে গেলে সবাই কে এটা রান্না করে খাওয়াবেন। তাহলে সবাই আরমানের বউয়ের অনেক প্রশংসা করবে।”

আরজু উচ্ছ্বসিত গলায় বলল,

“ঠিক আছে। সবাইকে রান্না করে খাওয়াবো।”

আরজু নিজেও খাওয়া শুরু করলো। খাওয়া-দাওয়া শেষে আরমান বেরোবে। ভার্সিটিতে যাবে। হঠাৎ করে আরমানের মনে পড়ল আরজু তো অনেকদিন হলো ভার্সিটিতে যায় না। মেয়েটা তো পড়াশোনা কিচ্ছু করেনা। সামনে তো পরীক্ষা ছিল, কি হলো সেসবের?”

আরমান প্রশ্নাত্মক গলায় আরজু কে জিজ্ঞেস করল,

“আরু, আপনি তো আর পড়াশোনা করেন না। ভার্সিটিতেও যান না। কেন? আপনার মনে হয় পরীক্ষাও ছিল তাই না?”

বিজ্ঞাপন

আরজু তখন ডাইনিং টেবিলটা পরিষ্কার করছিল। কিছু সময়ের জন্য কাজের হাত থেমে গেল। একটু সময় নিয়ে আবারো হাতটা চালু করে আরমান কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“পরীক্ষা তো হয়ে গেছে, আমি দেইনি।”

আরমান বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

“কিন্তু কেন? এক বছর লস গেল তো আপনার।”

আরজু একটু ভেবে সম্পূর্ণ দোষটা আরমানের কাঁধে দিয়ে বলল

“আমার কি দোষ? আপনি তো তখন বিয়ে করে আমায় গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি নিয়ে যেতে বলেছিলাম আপনাকে?”

“ও মা, আপনি তো বলেছিলেন ওই দিনই বিয়ে করতে হবে। আমার কি দোষ ছিল?”

“আমি বললেই আমার কথা শুনতে হবে? আপনার জানা উচিত ছিল না যে আমার পরীক্ষা শুরু হবে, এখন বিয়ে করলে সমস্যা হবে? আপনার আক্কেল নেই? আর তাছাড়া আমার পড়াশোনা আমি বুঝে নেব। আপনাকে কথা বলতে হবে না। আমি করবো না পড়াশোনা। কি করবেন? বের করে দেবেন বাড়ি থেকে?”

আরজুর অযৌক্তিক কথায় বিস্ময়ে আরমানের মুখ হা হয়ে গেল। আরমান নিজেই অসহায় গলায় বলল,

“আমি সেটা কখন বললাম? আপনার ভালোর জন্যই তো বলছিলাম। আপনিতো পড়াশোনার প্রতি অনেক বেশি মনযোগী ছিলেন। আমার জন্য কত ক্ষতি হয়ে গেল আপনার বলুন তো?”

“না, আপনার জন্য কোন ক্ষতি হয়নি। আপনি অনেক ভালো। আমার না বিয়ের পর থেকে আর পড়তে ইচ্ছে করে না। এখন তো আমাকে আর কোন খরচ করতে হয় না নিজের জন্য। আপনি তো সব এনে দেন, বাবাও টাকা পাঠায়। এখন আমি পড়াশোনা করে চাকরি করে আবার টাকা ইনকাম করব, কিন্তু এত টাকা দিয়ে কি করব? আপাও তো এখন ভালো আছে। তাহলে টাকাগুলো দেবো কাকে? আপনার লাগলে সেটা আলাদা কথা ছিল।”

“চাকরি করার জন্য পড়াশোনা করতে হবে তেমনটা তো না, আপনি পড়াশোনাটা শেষ করুন শুধু নিজের জন্য। চাকরি করতে হবে না।”

আরজু কন্ঠে একরাশ অনীহা সমেত বলল,

“ভালো লাগেনা পড়তে। পড়াশোনায় মন বসে না আমার। কেমন যেন পড়তে বসলে বমি পায়, মাথা ঘোরে। আমি যখনই পড়তে চেষ্টা করি বারবার শুধু আপনার চেহারাটা ভেসে ওঠে। আমার কি মনে হয় জানেন আরমান?”

“কি?”

“আমি আপনাকে একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেছি। সেজন্য আমি সব জায়গায় শুধু আপনাকে দেখি, আপনার কথাই ভাবি। আমি করবো না পড়াশোনা, আমার ভালো লাগেনা। ওটা তো বাধ্য হয়ে করতাম। এখন তো আপনি আছেন। আপনি আমার দায়িত্ব নিতে পারবেন না?”

“কিন্তু ধরুন যদি কখনো আমি না থাকি? তখন তো আপনাকে নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে তাই না?”

আরমান কথাটা বলতেই আরজু অগ্নিদৃষ্টিতে আরমানের দিকে তাকালো। আরজুর ভয়ংকর দৃষ্টি দেখেই আরমানের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল। ভীষণ ভয় পেলে। তড়িঘড়ি করে নিজের ভুলটা সংশোধন করে নিয়ে বলল,

“না মানে আমি আসলে বলতে চাইছিলাম যে আমি তো সারাদিন বাড়িতে থাকি না। পড়াশোনা করলে আপনার সময়টা কাটতো।”

আরজু স্বাভাবিক হলো। ফের পড়াশোনার প্রতি তীব্র অনিহা প্রকাশ করে বলল,

“না, ভালো লাগেনা। পড়বো না আমি। আপনি বাড়িতে না থাকলে গ্রামে চলে যাব। গ্রামে মা আছে, বাবা আছে, তাশরীফ - তনুশ্রী সবাই আছে। ওখানে গেলে আপনাকেও লাগবে না।”

আরমান হাল ছেড়ে দিলো। বুঝলো এই মেয়েকে দিয়ে বোধহয় পড়াশোনা করানো যাবে না। তবে ভাবল শেষ একবার চেষ্টা করা যাক। আরো একবার আরজু কে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলল,

“আরু, অনার্সটা কমপ্লিট করুন। তারপরে আর পড়তে হবে না। আপনি কত ভালো স্টুডেন্ট ছিলেন। এভাবে পড়াশোনাটা ছেড়ে দেবেন?”

আরজু সঙ্গে সঙ্গে কোন উত্তর দিলো না। কিছুক্ষণ বিজ্ঞের ন্যয় কিছু একটা ভেবে বলল,

“আরমান চলুন, আপনার সাথে একটা চুক্তি করি।”

আরমান ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,

“কিসের চুক্তি?”

“চুক্তিটা হলো আপনি কখনো আমায় পড়াশোনা নিয়ে কিছু বলবেন না। আর এর বিনিময়ে আমি আপনাকে রোজ একটা করে চুমু খেতে দেব। যেদিন আপনি পড়াশোনার কথা তুলবেন সেদিন আপনার আমাকে চুমু খাওয়া বাদ। ঐদিন চুমু খাওয়া তো দুর আমার ধারে কাছেও আসতে দেবো না। ঠিক আছে না?”

কথাটা বলে আরজু খুব সুন্দর করে হাসলো। আরমান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল আরজুর কথায়। পড়াশোনার সাথে চুমু খাওয়ার কি সম্পর্ক? এখন চুমু খাওয়ার প্রসঙ্গে এলোই বা কোথা থেকে? আচ্ছা, আরজু কি আরমানের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে চাইছে? আরজু কি তবে আরমানের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে?

আরমান ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,

“ব্ল্যাকমেইল করছেন আমায়?”

আরজু একটু কঠোর হয়ে বলল,

“সেটা বলতে পারবো না। আপনি জানেন আমি যেটা বলি সেটাই করি। একবার যদি আমি ভেবে নেই যে আমি আপনাকে চুমু খেতে দেবো না তবে দেবো না। তাই বলছি যদি আমাকে চুমু খেতে চান তবে আর পড়াশোনার কথা তুলবেন না। নয়তো আমি রেগে যাব। রেগে গিয়ে আপনাকে চুমু খেতে দেবো না। বলা যায় না শেষে হয়তো এতটাই রেগে গেলাম যে আপনাকে আবার সোফায় ঘুমোতে হলো। আরো বেশি রেগে গেলে আপনাকে ঘর থেকে বের করে দেব। আর তার থেকেও বেশি রেগে গেলে বাড়ি থেকেই বের করে দেব। তার থেকে ভালো আপনি পড়াশোনার কথাই বাদ দিন। আমাকে খুশি রাখুন, তাহলে চুমু খেতে পারবেন।”

আরমান চোখ ছোট ছোট করা আরজুর দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ সেভাবেই আরজুর দিকে তাকিয়ে থেকে হুট করে এগিয়ে গেল আরজুর দিকে। আরজু কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে টপাটপ গালে কপালে কয়েকটা চুমু খেয়ে নিল। আরজু বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

“চুমু খাচ্ছেন কেন?”

“এটা বোঝানোর জন্য যে আমার যখন ইচ্ছে হবে তখনই আপনাকে চুমু খেয়ে নেব। আর শুনুন, পড়াশোনা করতেই হবে। এখন ছাড় দিলাম, রাতে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে আমাদের মাঝে। এখন আমি আসছি।”

কথাটা বলে আরমান চলে গেল। আরজু বিরবির করে বলল,

“পড়বো না। কোনমতেই পড়বো না। একবার যখন বলেছি পড়বো না তার মানে পড়বো না, পড়বো না পড়বো না।”

______

ঘুম থেকে উঠতে আজ বেশ ভালোই দেরি হলো প্রার্থনার। চোখ মেলে পাশে তাকাতেই দেখলো সাহিত্য নেই। সাহিত্যের পাশে বিছানার চাদরটা একদম টানটান হয়ে আছে। একটুও এলোমেলো হয়নি। প্রার্থনা বুঝলো ছেলেটা রাতে ঘুমোয়নি। সারারাত ধরে শুধু লিখেই গেছে।

প্রার্থনা উঠে পাশের রুমে এলো যেখানে সাহিত্য লেখালেখিটা মূলত করে। ঘরে ঢুকতেই দেখলো সাহিত্য টেবিলের উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। একটু রাগই হলো প্রার্থনার। যদি ঘুমোনোরই ছিল তাহলে এখানে কষ্ট করে ঘুমোনোর কি দরকার। ঘরে গিয়ে ঘুমোলে কি হতো? তাই বলে সারা দিন রাতে জেগে শুধু লিখেই যেতে হবে? কোন মানে হয় এসবের?

প্রার্থনা এগিয়ে এলো সাহিত্যের দিকে। তবে সাহিত্যর ঘুমন্ত চেহারাটা দেখে আর কিছু বলতে পারলো না। রাগ করেও থাকতে পারলো না। শুধু প্রার্থনা সাহিত্যকে ভালোবাসে জন্য আজ সাহিত্য বেঁচে গেল। নয়তো আজ সাহিত্য বেশ ভালোই বকা খেত প্রার্থনার কাছে। ছেলেটা চশমাটা খুলেও ঘুমোয়নি। ফ্যানটাও চালায়নি, ঘেমে গেছে।

প্রার্থনা বুঝে উঠতে পারে না সাহিত্য এতটা ছন্নছাড়া কি করে হয়ে গেল। মানুষটা আগেও গা ছাড়া স্বভাবের ছিল, তাই বলে তো এতটা উদাসীন ছিল না নিজের প্রতি। এখন কেমন যেন হয়ে গেছে।

বিয়ের পর থেকে শুধু প্রার্থনার যত্ন করে, নিজের কোন যত্ন করে না। প্রার্থনাও তেমনি হয়েছে। শুধু সাহিত্যের যত্ন করে, নিজের দিকে নজর দেয় না। এভাবেই দুজনের ছোট্ট সংসারটা বেশ ভালো মতোই কাটছে।

প্রার্থনা খুব সাবধানতার সাথে সাহিত্যর চোখ থেকে চশমাটা খুলে পাশে রেখে দিল। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বইগুলো একপাশে সুন্দর করে গুছিয়ে রেখে যাওয়ার সময় ফ্যানটাও চালু করে দিয়ে গেল।

একবার ভাবলো ডেকে তুলে না হয় বিছানায় গিয়ে ঘুমোতে বলবে। তবে পরক্ষণেই আবার ভাবলো যদি এখন ডাকে তবে আর ঘুমোবেই না। তার থেকে ভালো যেভাবে বিশ্রাম নিচ্ছে সেভাবেই নেক।

ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে প্রার্থনা আরেকবার তাকালো ঘুমন্ত সাহিত্যর মুখের দিকে। একা একাই কি ভেবে যে হাসলো। বিড়বিড় করে আওড়ালো,

“ভাগ্যিস তুমি আবার এসেছিল আমার জীবনের সাহিত্য। নয়তো সংসারের আসল মানে আমি বুঝতামই না। জীবনটা আমার অর্থহীনভাবেই কেটে যেত।”

বিজ্ঞাপন
তোর পিরীতে পাগল হইলাম রে গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় চমৎকার একটি সামাজিক গল্প