তোর পিরীতে পাগল হইলাম রে

পর্ব - ৬৯

🟢

“তাওকীর তোর খোঁজে এসেছিলো আকাঙ্ক্ষা। অনেকবার আমার কাছে তোর খোঁজে এসেছিলো, কিন্তু আমি ভয়ে ওকে কিছু বলতে পারিনি। আমি খুব স্বার্থপর হয়ে গিয়েছিলাম আকাঙ্ক্ষা। আমি নিজের স্বামী, সন্তানের জীবনের ভয়ে তাওকীরকে তোর কথাটা বলতে পারিনি। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিস।”

পুতুলের কথাটা বসার ঘরের আবহাওয়াটাই কেমন যেন বদলে দিল। ফিরোজ সবেমাত্র সেখানে এসেছে। পুতুল কে চিনতে একটুও অসুবিধা হলো না। কিন্তু তবুও একটা সন্দেহ রয়ে গেল মনের মাঝে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য এগিয়ে এসে পুতুলকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আপনি পুতুল না?”

পুতুল ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ফিরোজের দিকে। উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর জানাতেই ফিরোজ বলে উঠলো,

“কোথায় ছিলেন আপনি এতদিন? আমি কত খুঁজেছি আপনাকে জানেন? আর আপনি জানতেন আপা কোথায় ছিল?”

কোন উত্তর দেওয়ার আগে পুতুল শব্দ করে কেঁদে উঠলো। ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। দুহাতে মুখ ঢেকে খুব কাঁদলো। আকাঙ্ক্ষা বুঝে উঠতে পারছেনা কি বলবে। তবে একটা কথা শুনে অবাক হলো যে তাওকীর ওর খোঁজ করেছিল। অন্তত এতোটুকু তো আকাঙ্ক্ষা জানলো যে তাওকীর ওকে খোঁজার চেষ্টা করেছিল। অন্তত এই ব্যাপারে তো এখন সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হলো যে আকাঙ্ক্ষা এতদিন কোথায় ছিলো, কি অবস্থায় ছিলো সেসব তাওকীর জানতো না। তবে ঠিকঠাকভাবে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টাও করেনি।

আরজু আরমান কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আপনি ওনাকে কোথা থেকে নিয়ে এলেন?”

আরমান নির্জীব গলায় বলল,

“কাকার বাড়ি থেকে। উনি ছোট কাকির মামাতো বোন। উনি এতদিন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন আরু। সবশেষে গিয়ে কাকির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কাকার থেকে সাহায্য চেয়েছিলেম। যখন কাকা সব জানতে চাইলো তখনই ধীরে ধীরে বড় আব্বু, তাওকীর ভাই, আকাঙ্ক্ষা আপার নাম উঠে আসে। তারপরেই কাকা আমায় জানায়। আমি ওখান থেকেই ওনাকে নিয়ে এসেছি।”

আরজু ছোট্ট করে উত্তরে বলল,

“ওহ্।”

আকাঙ্ক্ষা পুতুলের পাশে গিয়ে বসলো। ওর কাঁধে হাত রেখে শান্ত গলায় বলল,

“তুই কি এমন কিছু জানিস পুতুল যেটা আমি জানিনা? যদি জেনে থাকিস তাহলে এখন বলে দে। নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারব অন্তত।”

পুতুল আকাঙ্ক্ষার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে অপরাধী গলায় বলল,

“তুই আমায় ক্ষমা করে দিস আকাঙ্ক্ষা। আমি চেয়েও কিছু করতে পারিনি। আমি সবটা জানা সত্ত্বেও তোকে বাঁচাতে পারিনি। আমার কাছে কোন উপায় ছিল না। আমার ছেলেটা তখন অনেক ছোট ছিল। আমি তো মা, আমি মা হয়ে কি করে আমার নিজের ছেলের মৃত্যুর কারণ হতাম বল? অথচ দেখ, এত কিছু করেও আমার সেই ছেলেটাকে বাঁচাতে পারলাম না।”

আকাঙ্ক্ষা আৎকে উঠে বলল,

“কিভাবে মা’রা গেল?”

“তাওকীরের বাবার ভয়ে এখান থেকে ওখানে পালাতে পালাতে একদিন এক্সিডেন্ট হয় আমাদের। ঘটনাস্থলেই আমার ছেলেটা মা’রা যায়। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে আমার স্বামী হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আমিও খুব আহত ছিলাম। তখন আমাদের পাশে কেউ ছিল না। সেই দিনগুলো যে কিভাবে পার করেছি মনে হলে এখনো আমার গা শিউরে ওঠে। বিশ্বাস কর তাওকীর যতটা ভালো ছিল, ওর বাবা তার থেকে অনেক গুন বেশি খারাপ একটা মানুষ।”

পুতুল কথাটা বলতেই আরজু গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,

“তাওকীর যে ভালো সেটা আপনি কি করে বলছেন? আপনি কি জানেন না এখন ও সুখে শান্তিতে সংসার করছিল? ও তো ভুলেই গেছিল যে ওর জীবনে আকাঙ্ক্ষা নামক একটা মানুষের অস্তিত্ব ছিল। আর আপনি বলছেন তাওকীর ভালো ছিল?”

পুতুল নিজের কান্না থামিয়ে বলল,

“হ্যাঁ, আমি বলব তাওকীর ভালো ছিল। আমি বলছি না তাওকীর এখন ভালো আছে। আমি জানিও না এখন তাওকীর ভালো কি খারাপ, তবে শুধু আমি কেন আকাঙ্ক্ষাও এই কথাটা বলতে বাধ্য যে তাওকীর ভালো ছিল। সে সময়টা সবকিছুর ঊর্ধ্বে আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছিল। ও বিয়েটাও করেছিল আকাঙ্ক্ষাকে বাঁচানোর জন্য।”

পুতুলের কথাটা শুধু আরজুর কেন উপস্থিত কারোরই হজম হলো না। তবে সব থেকে বেশি কৌতুহল দেখা গেল আরমানের মাঝে। আরমান যেন খুব করে চাইছে কোনভাবে তাওকীর নির্দোষ প্রমাণ হয়ে যাক। আরমান শুধু চাইছে কোন মতে ওদের সবার চোখে তাওকীর আবার আগের মতন হয়ে যাক। ফলস্বরূপ প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“আকাঙ্ক্ষাকে বাঁচানোর জন্য মানে?”

পুতুল চোখের জলটুকু মুছে আকাঙ্ক্ষার দিকে তাকিয়ে বলল,

“তোর মনে আছে আকাঙ্ক্ষা তোর প্রেগনেন্সির খবরটা শুনে তাওকীর কত খুশি হয়েছিল?”

খুব অল্প সময়ের জন্য আকাঙ্ক্ষা অতীতে হারিয়ে যেতে চাইলো, তবে নিজেই নিজেকে বাধা দিল। নিজেকে কেমন যেন বেহায়া মনে হলো। যে লোকটা আকাঙ্ক্ষাকে ছুড়ে ফেলেছে আবার তার স্মৃতি মনে করতে চাইছে। ভালোবাসা আসলেও মানুষকে বেহায়া বানিয়ে দেয়।

“আমি সেসব মনে করতে চাই না। তুই বল কি জানিস।”

পুতুল জোর দেখিয়ে বলল,

“তোকে মনে করতে হবে। তুই একটা কথা ভেবে দেখতো যে মানুষটা তোকে এতটা ভালোবাসতো, তোদের বাচ্চা নিয়ে এতটা খুশি হয়েছিল, সে কিভাবে এতটা পাল্টে যেতে পারে কয়েকটা দিনের ব্যবধানে? আমি বলছি না তাওকীর নির্দোষ ছিল, তবে ও বোকামি করেছিল। ও তোদের দুজনকে বাঁচানোর জন্য খুব বড় বোকামি করেছিল আকাঙ্ক্ষা। ও ভেবেছিল সময় সুযোগ বুঝে ঠিক আবার তোদের কাছে ফিরে আসবে, তবে ও সে সুযোগটা পায়নি।”

“কি বলছিস, ভালো করে বল? আমি বুঝতে পারছি না কিছু। সুযোগ পায়নি মানেটা কি? আমি ওর অপেক্ষায় ছিলাম।”

“তাওকীর ঢাকায় চলে আসার পর তো ওর সাথে আমরা আর যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। তুই আমাদের বাড়িতে ছিলি। তারপর একদিন দুজন লোক এসে বলল যে ওদের তাওকীর পাঠিয়েছে। বলেছে যেন তুই তোর বাড়ি চলে যাস। এখানে থাকা নাকি তোর জন্য নিরাপদ না। ও ফিরে এসে তোকে নিয়ে আসবে। মনে আছে সেসব?”

আকাঙ্ক্ষা একটু মনে করার চেষ্টা করে বলল,

“হ্যাঁ মনে আছে। ওর কথামতোই তো আমি আমার গ্রামে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও বেশিদিন থাকতে পারিনি। তারপরেই তো শহরে ফিরে এসে খবর পেলাম তাওকীর বিয়ে করেছে।”

“ভুল খবর পেয়েছিলাম আমরা। তাওকীর তখনও বিয়ে করেনি। তারও একমাস পর তাওকীরের বিয়ে হয়েছিল। আর সবথেকে অবাক করার বিষয় কি জানিস, তাওকীর বিয়ে করার পরেও তোকে শহরে ডেকে পাঠিয়েছিলো অন্যের মাধ্যমে আর আমরা সেটা বিশ্বাসও করেছিলাম। আর কারণ হিসেবে তোকে জানিয়েছিলো ও সব ঠিক করে দেবে, তোদের স্বীকৃতিও দেবে তাই।”

আকাঙ্ক্ষার ধীরে ধীরে সবটাই মনে পড়লো। মনে পড়লো ঠিক কিভাবে তাওকীরের মিথ্যের জালে আটকে গিয়েছিল। মনে পড়ে গেল তাওকীর কে বিশ্বাস করে ঠিক কতটা বাজে ভাবে ঠকেছিল আকাঙ্ক্ষা।

তবে এই কথাগুলো শুনে খুব বিরক্ত হলো আরজু। বিশ্বাসই করতে পারছে না যে আকাঙ্ক্ষা কি করে তাওকীরের মতন মানুষকে এতটা বিশ্বাস করে নিল। মৃদু বিরক্তিকর গলায় আকাঙ্ক্ষা কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তুমি ওনার কথায় বিশ্বাস করে চলেও গেলে ওনার সাথে দেখা করতে আপা? একটাবার খোঁজ নিলে না, যে মানুষটা তোমায় বারবার ওনার খবর দিচ্ছে আদৌ সে ভালো না খারাপ, ঠিক না ভুল খবর দিচ্ছে?”

আকাঙ্ক্ষা চোখ তুলে আরজুর দিকে তাকিয়ে নির্জীব গলায় বলল,

“কি করে অবিশ্বাস করতাম, ওই লোকটাকে যে আমি চিনতাম। ভার্সিটিতে সর্বক্ষণ তাওকীরের সাথে থাকতো। ও যে তাওকীরের সব খবর জানবে এটাই তো স্বাভাবিক তাই না? ওই ছেলেটার সাথে তো আমারও বেশ ভালোই পরিচয় ছিল, সেজন্য ওকে ভরসা করেছিলাম। আর সেই ভরসাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। এক বুক আশা নিয়ে এই শহরে পা রেখেছিলাম। আমার মেয়েটাকে সাথে আনিনি আমি। আমার মন যেন জানতে পেরেছিলো যে কিছু একটা খারাপ হতে চলেছে আমার সাথে। সেই জন্যই তো ওকে আবিরের কাছে রেখে এসেছিলাম। ভয় করছিলো, তবুও বিশ্বাস করেছিলাম।”

“তারপরে কি হলো আপা?”

“তারপরে আর কি। আমি যার ভরসায় এই শহরে পা রাখলাম, সে আমার ভরসা ভাঙ্গলো। পরে জানতে পারলাম সে আমাকে তার সঙ্গে সংসার করার জন্য এখানে ডাকেনি, বরং ডেকেছে নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য। আমি এসেছিলাম আমার সন্তানটা যেন স্বীকৃতি পায়, ও যেন মাথা উঁচু করে এই সমাজে বাঁচতে পারে, আমি যেন তাওকীরের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে পারি। অথচ দেখ আমার পরিচয় কি হয়ে গেল।”

আকাঙ্ক্ষা কথাটা বলতেই পুতুল বলে উঠলো,

“তাওকীর এসবের কিছুই জানতো না। ও ঢাকায় আসার পর ওর বাবাকে তোর ব্যাপারে জানিয়েছিল। কিন্তু ওর বাবা অন্য জায়গায় ওর বিয়ে ঠিক করে রেখেছিল। ওর বাবার খুব ভরসা ছিল তাওকীরের উপর, যে উনি তাওকীরকে যা বলবেন তাওকীর সেটাই শুনবে। সবাই জেনে গিয়েছিল নাকি ওদের বিয়ের কথাটা। তখন যদি বিয়েটা ভাঙতেন তবে ওনার বাবার নাকি অনেক সম্মানহানী হবে। ওনার নতুন ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন, সেটাও নাকি শেষ হয়ে যেত, রাজনীতিতেও সমস্যা হতো সেজন্য উনি নিজের ছেলের জীবনটা শেষ করে দিয়েছিলেন। উনি তাওকীরকে ভয় দেখিয়েছিলেন যে যদি তাওকীর ওনার কথা না শোনে তাহলে তোর ক্ষতি করে দেবে। জানতে চাইবি না আমি কি করে এসব জানলাম?”

পুতুলের কথাটা শুনতেই আকাঙ্ক্ষার মনে পড়ে গেল সত্যিই তো পুতুল এত কিছু কি করে জানলো। ওর তো এত সব জানার কথা না। আকাঙ্ক্ষা নিজেও তো এত কিছু জানতো না। কৌতূহলি গলায় বলল,

“সত্যিই তো, তুই এত কিছু কি করে জানলি?”

“তার কারণ তাওকীরের বাবা আমার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল। উনি জানতেন যে সবকিছু আমি জানি। তুই চলে যাওয়ার পরের দিনই উনি আমার বাড়িতে আসেন আকাঙ্ক্ষা। উনি আমায় দিয়ে আরো একটা জঘন্য কাজ করাতে চেয়েছিলেন। উনি চেয়েছিলেন আমি যেন নিজ থেকে গিয়ে তাওকীর কে জানাই যে তুই তাওকীরের অনুপস্থিতিতে অন্য কারো সাথে সম্পর্ক জড়িয়ে তার সাথে দূরে চলে গিয়েছিস। উনি আরো চেয়েছিলেন যেন আমি তাওকীর কে বলি যে তুই নিজের জীবনের ভয়ে তাওকীরের বাবার থেকে টাকার বিনিময়ে তাওকীর কে ছেড়ে দূরে চলে গিয়েছিস অন্য কারো সাথে।”

আকাঙ্ক্ষা খিঁচে দু চোখ বন্ধ করে নিল। মস্তিষ্কে এই কথাটা এলো না যে কি করে মুহিব হোসেন এই জঘন্য কথাটা বলতে পারলেন। বরং সবার আগে মস্তিষ্কে একটা কথা এলো, যদি উনি এই কথাটা তাওকীর কে বলে দিতেন তবে কি তাওকীর বিশ্বাস করতো? তাওকীর কি জানতো না আকাঙ্ক্ষা ওকে কতটা ভালোবাসে?

আকাঙ্ক্ষা অনেক কষ্টে নিজের কান্না নিয়ন্ত্রণ করে ফের পুতুলকে বলল,

“আর কি বলেছিলেন উনি?”

“আমি ওনার কথায় রাজি হইনি। পরের দিন উনি আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে এসে খুব মা'রধর করেন, ভয় দেখান আমাদেরকে। আমায় এসে বলেন যে যদি আমি ওনার কথা না শুনি উনি আমার স্বামী সন্তানকে মে'রে ফেলবে, আর আমাকে সেই জায়গায় পাঠাবেন যেখানে তোকে পাঠিয়েছে। আমি নিরুপায় ছিলাম আকাঙ্ক্ষা। উনি হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন যে এইবারে আমি ওনার কথা মত চলবো। তারপরেও উনি আমাকে দুটো দিন সময় দিয়ে গিয়েছিলেন। আর এই সুযোগে আমরা ওখান থেকে পালিয়ে যাই। সেই থেকে শুরু হলো আমাদের পালিয়ে বাঁচার যাত্রা। বিশ্বাস কর সেইদিন থেকে আজ পর্যন্ত একটা মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে পারিনি। সব সময় একটা ভয় তাড়া করে বেড়াতো। কয়েক মাস আগে ওনার লোকজন প্রায় ধরেই ফেলেছিলো। আমরা তখন ঢাকার একটা বস্তিতে ছিলাম। ভাগ্যিস ঠিক সময় পালাতে পেরেছিলাম নয়তো এখন তোর সামনে থাকতে পারতাম না। মাঝে এতগুলো বছর কেটে যাওয়ার পরেও ওনার এই ভয়টা ছিল যে যদি আমি কখনো গিয়ে ওনার ছেলেকে সব সত্যিটা বলে দেই। আর সেজন্য উনি আমাকে একেবারে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন।”

পরিবেশটা হঠাৎ করে কেমন যেন শান্ত হয়ে গেল। ঘটনাটা ঠিক কতটা জটিল সেটা এখনো পুরোপুরি সবার মাথার ভেতরে যাচ্ছেনা। আরমান এখন খুব বেশি অবাক হয়নি। কেননা ও আগেই সবটা শুনে এসেছে, শুধু নতুন করে আরো একবার শুনে কষ্টটা বাড়লো।

তবে আরমান ভীষণ অবাক হচ্ছে এটা ভেবে যে মুহিব হোসেন এত কিছু করেছে। শুধুমাত্র নিজের ক্ষমতার জন্য কতগুলো মানুষের জীবন নষ্ট করেছে।

বিজ্ঞাপন

উপস্থিত সকলেই তাকিয়ে আছে আকাঙ্ক্ষার দিকে। ওর অভিব্যক্তি বোঝার চেষ্টা করছে, তবে আকাঙ্ক্ষা কে ভীষণ স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। আরজু আকাঙ্ক্ষা কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আপা ঠিক আছো তুমি? কষ্ট হচ্ছে খুব বেশি?”

আকাঙ্ক্ষা মলিন হেসে বলল,

“নতুন করে কষ্ট পাওয়ার মতো কিছুই নেই আরু। এই ঘটনা গুলোর পেছনে যেই থাকুক না কেনো দিন শেষে জীবনটা নষ্ট হয়েছে আমার। হ্যাঁ, তাওকীর হয়তো সব কিছু জানতো না, তবে ঠিকভাবে আমাকে খোঁজার চেষ্টাও করেনি। ওর বোকামি বা অবহেলা যেটাই বল না কেন, ওর জন্যই সব কিছু হয়েছে। দিনশেষে তো সব দিক থেকে আমি হেরে গেলাম, তাই না?”

________

রাতে আরমান এলো তাওকীরের কাছে। এক সময় যে বাড়িতে আসার খবর শুনলে খুশিতে মেতে উঠতো, খুব শান্তি পেত যেই বাড়িতে আজ সেই বাড়িতে পা রাখতে অস্বস্তি হচ্ছে। একপ্রকার বাধ্য হয়ে এসেছে আরমান।

কলিং বেল বাজাতেই ভেতর থেকে কল্পনা এসে দরজাটা খুলে দিলো। অন্য সময় হলে হিমি খুলে দিতো দরজাটা। শুরুতেই বুকটা কেমন যেন হু হু করে উঠলো।

আরমানকে দেখে একটু চমকালেন কল্পনা। উনি বোধহয় আশা করেননি যে আরমান আবার কখনো এই বাড়িতে আসবে।

“ওহ্ তুমি। ভিতরে এসো।”

“তাওকীর ভাই আছে?”

“আছে হয়তো। ঘরে গিয়ে দেখো, আমি বলতে পারছি না। ও কখন বাড়িতে থাকে, কখন বাইরে থাকে সেসব কিছুই জানি না।”

আরমান ভিতরে আসতেই দেখলো ড্রয়িং রুমে সোফায় মুহিব হোসেন বসে আছে। কিছুক্ষণের জন্য থমকালো আরমান। মুহিব হোসেন আরমানকে দেখে আলতো করে হাসলেন। আরমানও পাল্টে একটু হাসতে চাইলো, তবে তৎক্ষণিক মনে পড়ে গেল একটু আগের ঘটনা গুলো, পুতুলের বলা কথাগুলো। আরমানের মুহিব হোসেনের প্রতি পুরনো শ্রদ্ধা আর আসে না। আবার যে মন থেকে ঘৃণাও করতে পারছে না। কি এক দোটানের মাঝে পড়লো আরমান।

আরমান কে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মুহিব হোসেন একবার হাত বাড়িয়ে আরমানকে কাছে ডাকলেন,

“তাওসিফ, এখানে এসো বাবা।”

আরমানের খুব করে যেতে ইচ্ছে করলো, তবে যেতে পারলো না। ভেতর থেকে কেউ যেন একটা বাধা দিল। মুখ ফুটে একটা বাক্যও বিনিময় করলো না মুহিব হোসেনের সাথে। সরাসরি সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল।

নিজের হাতটা গুটিয়ে নিলেন মুহিব হোসেন। কল্পনা খেয়াল করলেন সবটা। তারও এখানে থাকার কোন ইচ্ছে নেই। ঘরে যাওয়ার আগে মুহিব হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“তুমি যেমন সবার থেকে সম্মান পাওয়ার অধিকার হারিয়েছো, ঠিক তেমনি সবাইকে স্নেহ করার অধিকারও হারিয়েছো।”

______

বেশ অনেকগুলো দিন হলো তাওকীরের ঘরটা আর গোছানো হয় না, পরিষ্কারও করা হয় না। শেষ হিমি যেভাবে গুছিয়ে রেখে চলে গিয়েছিল তেমনি আছে। না তাওকীর নিজে পরিষ্কার করেছে, আর না তাওকীর কাউকে পরিষ্কার করতে দিয়েছে। সবকিছুর মাঝে এখনো যেন হিমির ছোঁয়া খুঁজে পায়।

আরমান আসার পরে খেয়াল করেছে ঘরটা। প্রায় পাঁচ মিনিট হলো তাওকীরের ঘরে এসেছে। তাওকীর শুধু একবার চোখ তুলে তাকিয়েছিলো আরমানের দিকে, কোন কথা বলেনি।

তবে এখন আরমানের এই ঘরে দম বন্ধ লাগছে। আগে যতবারই ঘরে এসেছে সব সময় হিমিকে পেয়েছে, তাহিকে পেয়েছে। কত স্মৃতি জমে আছে এই ঘরটাতে।আরমানের মনে হলো দরকারী কথাটুকু তাড়াতাড়ি শেষ করাই ভালো।

“বড় আব্বু তোমাকে কি এমন ভয় দেখিয়েছিল যে তুমি হিমি ভাবিকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলে? আর যখন বিয়ে করবেই আকাঙ্ক্ষা আপাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলে কেন?”

তাওকীর জানতো আরমান এই বিষয়ে কথা বলতেই এসেছে। তাই ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করছিলো। আরমানের প্রশ্নটা শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,

“হিমির সাথে যে আমার বিয়ে ঠিক করেছে বাবা আমি তো সেটাই জানতাম না। আকাঙ্ক্ষাকে বিয়ে করেছিলাম, আমাদের সন্তান আসতো কিছুদিন পর। ওকে অপেক্ষা করতে বলবো না আমি?”

আরমান এবারে রাগান্বিত গলায় বলল,

“তাহলে যখন অপেক্ষা করতে বলেছিলে ফিরে গেলে না কেন?”

“তুই বিশ্বাস করবি আমার কথা তাওসিফ? বিশ্বাস কি আছে আমার উপরে এখনো?”

তাওকীর অসহায় গলায় কথাটা বলল। আরমান তো চায় তাওকীরকে এখনো বিশ্বাস করতে, তবে সবকিছু যে ওর বিপরীতে চলে যায়। তবে আরমান একটুও নরম হলো না। নিজেকে যথাসম্ভব শক্ত রাখার চেষ্টা করে বলল,

“যদি বিশ্বাসযোগ্য হয় তবে বিশ্বাস করব। আশা করছি সত্যিটা বলবে।

“বাবা কখনো চায়নি আমি আকাঙ্ক্ষার সাথে সংসার করি। হিমির সাথে যে বিয়ে ঠিক করেছিল শুধুমাত্র এটাই তার কারণ ছিল না, আকাঙ্ক্ষার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড শোনার পর বাবার পছন্দ হয়নি। বাবার মনে হয়েছিল আমাদের স্ট্যাটাসের সাথে আকাঙ্ক্ষা ঠিক মানানসই না। বাবার সম্মানহানি হবে। সবাই যখন বাবাকে জিজ্ঞেস করবে বাবার বড় ছেলের বউয়ের পরিবার সম্বন্ধে তখন বাবা কোন উত্তর দিতে পারবে না।”

আরমান সন্দেহী গলায় বলল,

“এই কথাটা আমি ঠিক বিশ্বাস করতে পারলাম না তাওকীর ভাই। আকাঙ্ক্ষা আপা আর আরজু তো একই পরিবার থেকে আসছে। বড় আব্বু তো আরজু কে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছিল। এমনকি বড় আম্মু যেন খোঁচাতে না পারে সেই ব্যবস্থাও করেছিল, তবে আকাঙ্ক্ষা আপার সাথে এই সমস্যাটা কেন হবে?”

তাওকীর তাচ্ছিল্য গলায় বলল,

“আমরা সব সময় চোখে যেটা দেখি সেটা সত্যি হয় না। আমাদের আড়ালে অনেক এমন ঘটনা থেকে থাকে যেগুলো সত্যি হয়। আরজু কে মেনে নিয়েছিল তার কারণ বাবার কাছে আর কোন উপায় ছিল না, আর না তুই বাবার নিজের ছেলে। আর তার থেকেও বড় কথা বাবা খুব ভালো করেই জানতো তোকে বললেও তুই মানবি না। সবাই কি তাওকীর হয় নাকি রে, যে বোকামি করবে। তোর কি মনে হয় বাবা সত্যি মেনে নিয়েছে আরজু কে ?চাচাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করে দেখিস আরজু কে নিয়ে কি কি বলেছে চাচার কাছে। তোর বিয়ে কোন যেন এমপি না মন্ত্রীর মেয়ের সাথে ঠিক করেছিলো। শুধু হঠাৎ করে তুই বিয়ে করেছিস বলে আর আরজুর প্রতি তোর ভালোবাসা দেখে তোকে কিছু বলার সাহস পায়নি। তুই হাত থেকে বেরিয়ে যাবি বলেও চুপ ছিল। আমার বাবাকে আমি যতটা চিনি ততটা আমার বাবা নিজেও নিজেকে চেনেনা,শুধু এই একটা কথা মাথায় রাখিস।”

কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেল আরমান। ধীরে ধীরে আরমানের সব ধারনা কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। আরমানের নিরবতার মাঝে তাওকীর ফের বলে উঠলো,

“রাজনীতিবিদরা কখনো সাধু হতে পারে না তাওসিফ। যত দিন যাবে তোকেও অনৈতিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়তে হবে। কারণ তোর ক্ষমতা দরকার, না হলে তুই টিকতে পারবি না। আমার বাবা কোথায় কি অনৈতিকতার সাথে জড়িত ছিল, কতটা নৃশংস ছিল সেসব তুই জানিস না, আমি জানি। আমি জানি আমার বাবা ক্ষমতা আর সম্মানের জন্য কত দূর অব্দি যেতে পারে। আমাদের সবার কাছে আমার বাবা যেমন ছিল, রাজনীতির ময়দানে ছিল তার বিপরীত। বিশ্বাস কর আকাঙ্ক্ষাকে মা’রতে বাবার একবারের জন্য হাত কাঁপতো। কত সময় লাগতো বাবার আকাঙ্ক্ষাকে মা’রতে? আর আমিই বা কি করতে পারতাম? কিচ্ছু না।”

“বড় আব্বু খু’নি না তাওকীর ভাই্ এটা অন্তত বলো না।”

তাওকীর আলতো হেসে বলল,

“তুইই তো শুনতে চাইলি সবটা, সত্যিটাই বলছি। আমি বলবো না আমি ভালো ছিলাম। আমিও জড়িয়ে পড়েছিলাম অস্ত্র ব্যবসার সাথে। মনে আছে মাঝে একবার তানভীরের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল। মা’রা’র উদ্দেশ্য ছিল আমায়, কারণ আমি বেরিয়ে এসেছিলাম সেখান থেকে। আমার মেয়েটা যত বড় হচ্ছিল আমি নিজেকে তত সব ঝামেলা থেকে দূরে রাখতে চাইছিলাম। সেই রাগ থেকে আমায় মা’রতে চেয়েছিল, তবে পারেনি। বাবা কিন্তু সবটাই জানতো। আমায় কে মা’রতে চেয়েছিল, কেন মা’রতে চেয়েছিল সবকিছু জানতো। মাঝে মুনতাসির এর ওপরে যে অ্যাটাক হয়েছিল তুই তো মারধর করলি তানভীর কে, অথচ ওই বেচারা কিছু জানতোই না। বাবার ছেলে কে কেউ বিরক্ত করছে, বাবার ছেলের থেকে অন্য কারো ক্ষমতা বেশি, অন্য কারো প্রশংসা করছে মানুষজন বেশি সেটা বাবা ঠিক সহ্য করতে পারেনি। মুনতাসির কে একেবারে মা’রতো না শুধু তানভীরের ক্ষমতাটা দেখিয়ে ছেড়েছিল। আকাঙ্ক্ষা কে কেন খুন না করে বিক্রি করেছিল জানিস?”

আরমান কৌতুহলী গলায় বলল,

“কেন?”

“তার কারণ বাবা আকাঙ্ক্ষাকে বোঝাতে চেয়েছিল ও ঠিক কত বড় ভুল করেছে আমাকে ভালোবাসে। যদি আকাঙ্ক্ষা কে মে’রে ফেলতো তাহলে তো আকাঙ্ক্ষা এতো কিছু উপলব্ধি করতে পারত না। সেজন্য ওকে বাঁচিয়ে রেখে শাস্তি দিতে চেয়েছিলো।”

“তুমি তাই বলে কোন চেষ্টা করোনি আবার আপার কাছে ফিরে যাওয়ার?”

“গিয়েছিলাম ফিরে। হিমি কে বিয়ের আগে সবকিছু ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম আকাঙ্ক্ষার কাছে। পাইনি ওকে খুঁজে। ওকে আমার একটা বন্ধুর বাড়িতে রেখে এসেছিলাম, ওর নাম পুতুল। ওরও কোন খোঁজ পাইনি আর। অনেক চেষ্টা করেছি, ওকে খুঁজে পাইনি। সবকিছু হারিয়ে যখন নিঃস্ব হয়ে আমি আমার বাড়ি ফিরে এলাম, তখন আমার বাবা আমায় কি বলল জানিস? বলল, বাবা জানে আকাঙ্ক্ষা কোথায় আছে। যদি আমি বাবার সম্মান রক্ষা না করি তবে আমার বাবা আকাঙ্ক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিতে পারবে না। আমি বুঝেই গিয়েছিলাম বাবা আমাকে কি বোঝাতে চাইছে। আমি হয়তো তোকে খুব সহজে কথাগুলো বলে দিলাম তাওসিফ, তবে তখন যদি তুই আমার জায়গায় থাকতি বুঝতি আমি ঠিক কোন পরিস্থিতির মাঝে ছিলাম। আকাঙ্ক্ষা কে তো ভালোবাসতাম, আমার স্ত্রী সন্তান কারো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ওদেরকে বাঁচানোর একটাই রাস্তা ছিল আমার কাছে, সেটা বিয়ে করা। তাই করে নিয়েছিলাম।”

“আর দেখা পাওনি আপার?”

“না। পরে বাবা বলেছিল আকাঙ্ক্ষা কে নাকি অনেক দূরে কোথাও পাঠিয়ে দিয়েছে। ও নাকি ভালো আছে। আর আমি যখন আমার সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করি তখন বলে ও নাকি জন্মের সময়ই মারা গেছে। আমার কাছে আর করার মতন কি ছিল আমায় বল? সব রকম ভাবে চেষ্টা করেছি আকাঙ্ক্ষা খোঁজ নেওয়ার।

ভেবেছিলাম আমার থেকে দূরে নিশ্চয়ই ভালোই আছে। এতগুলো বছর পার হয়ে গিয়েছে হয়তো আবার নতুন করে নিজের জীবনটাও শুরু করেছে। এর মাঝে আমি হিমি কে ভালোবেসে ফেললাম। আমাদের জীবনে এলো তাহি। আমি আকাঙ্ক্ষা ভুলিনি। ও সুখে আছে এটা ভাবার পরেও আমি ওর খোঁজ চালিয়েছে, কিন্তু পাইনি। কি করে পেতাম? আকাঙ্ক্ষা যে জায়গায় ছিলো আমি তো সেই জায়গায় খোঁজ নেইনি। কখনো মাথাতেই আসেনি আমার এই কথাগুলো।”

“কোন কি অপরাধবোধ নেই তোমার ভেতরে? নিজেকে কি অপরাধী মনে হয় না? মনে হয় না যে তোমার জন্য আকাঙ্ক্ষা আপার জীবনটা শেষ হয়ে গেছে?”

তাওকীর অসহায় গলায় বলল,

“বুক চিরে তো আর দেখাতে পারব না আমার ভেতরের অপরাধবোধ? তুই দেখতে পারবে কি? তাহলে দেখ। আমি তো কোন দিকেই যেতে পারছি না। হিমিকে ভালোবেসে ফেলেছি, আকাঙ্ক্ষা জন্য কষ্টে আর অপরাধবোধে বুক ফেটে শুধু কান্না আসে। আমি কাকে দেখাবো আমার কষ্ট? তোরা সবাই বুঝতে পারছিস ওরা দুজন অসহায়, তবে আমি তার থেকেও বেশি অসহায় ছিলাম তাওসিফ। আমি তো আকাঙ্ক্ষার থেকে ঠিক করে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটুকুও পেলাম না। তখন হিমি চলে গেল আমায় ছেড়ে, মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন তো আর আকাঙ্ক্ষার সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর সাহসটুকুও হয় না। আমি জানতে পারলাম আমার মেয়ে বেঁচে আছে, তবে আমার এই সাহসটাও নেই যে ওকে জিজ্ঞেস করবো কে আমার মেয়ে। একবার আমি তাকে দেখতে চাই।”

আরমান শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো তাওকীরের দিকে। নিজেই কি যেন ভাবলো। তারপর হঠাৎ করে বলে উঠলো,

“তুমি তোমার মেয়েকে দেখেছো। ফারিহা তোমার মেয়ে।”

তাওকীর চমকে উঠে বলল,

“ফারিহা মানে যে মেয়েটা আরজুর বোনের সাথে এসেছিল?”

আরমান উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর জানালো। এবারে খুব বেশি অসহায় দেখালো তাওকীর কে। নিজেই দুহাতে নিজের মাথার চুল খামচে ধরে ক্রন্দনরত গলায় বলল,

“কিচ্ছু পেলাম না আমি। আমার মেয়ে আমার বাড়িতে এসে ঘুরে গেল অন্যের মেয়ের পরিচয়ে। আমার মেয়ে আমার সামনে ওর বাবা হিসেবে অন্য কারোর নাম বললো। আমার মেয়েকে জানাতেও পারলাম না যে এটা ওর নিজেরই বাড়ি,আমি ওর বাবা। আমার থেকেও অসহায়, হতভাগ্য কেউ আছে কি?”

বিজ্ঞাপন
তোর পিরীতে পাগল হইলাম রে গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় চমৎকার একটি সামাজিক গল্প