রবিন কাউকে কিছু না জানিয়ে কলেজ থেকে রাইশার ঠিকানা জোগাড় করল। মনটা সারাক্ষণ অস্থির হয়ে ছিল। কয়েক দিন ধরে রাইশাকে দেখতে পায়নি ,মনে হচ্ছিল কিছু একটা হয়েছে। বিকেলের শেষ আলোটা তখন ফুরিয়ে যাচ্ছে, আকাশের কোণে রক্তিম সূর্যটা ডুবে যেতে যেতে যেন একটা বিষণ্ণ ছায়া ফেলে রাখছে চারপাশে। সেই ছায়ার ভেতর দিয়েই রবিন হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল রাইশাদের বাড়ির সামনে।
বাড়িটার দরজা খোলা, উঠোনজুড়ে মানুষ। কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে, কেউ কাঁদছে। বাতাসে একধরনের শোকের ছায়া জমে আছে। আগরবাতির গন্ধে মিশে আছে কান্নার আওয়াজ। রবিনের বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। চোখে পড়ল রাইশা একটা খাটিয়ার পাশে বসে কাঁদছে, তার কাঁধ কাঁপছে, চুলগুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পিঠজুড়ে। চারপাশে কিছু মহিলা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
রবিনের মনে তীব্র খটকা জাগল। মনে মনে ভাবল, তাহলে কি রাইশার অসুস্থ মা মারা গেছেন?
তার পা নিজের অজান্তেই খাটিয়ার দিকে এগিয়ে গেল। কাছে গিয়ে আস্তে করে রাইশার কাঁধে হাত রেখে বলল-
তোমার কি হয়েছে, রাইশা?
রাইশা চোখ তুলে একবার রবিনের দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টি যেন পৃথিবীর সব কষ্ট এক মুহূর্তে ঢেলে দিয়েছে তার চোখে। কিছু বলার আগেই সে হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়ে গেল রবিনের সামনে।
চারপাশের মহিলারা চিৎকার করে উঠল আহারে, অজ্ঞান হইছে! পানি আনো, পানি আনো!
তারা সবাই মিলে রাইশাকে তুলে পাশের ঘরে নিয়ে গেল। রবিনও পিছন পিছন গেল, বুকের ভেতর কেমন যেন ভার লাগছিল।
মহিলাদের একজনকে রবিন কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল
-এই যে, যিনি মারা গেছেন, উনি রাইশার কে হন?
বয়স্ক এক মহিলা চোখ মুছতে মুছতে বললেন
ওর মা রে বাবা… আজ দুপুরে মারা গেছেন। সকাল হইতে অসুস্থ আছিলেন, বাঁচানো যায় নাই। ওর বাপ তো জন্মের আগেই মারা গেছিল। এখন মা ডাও গেল। দুনিয়াতে আর আপনা বলতে কেউ নাই।
এই কথাগুলো রবিনের কানে ঢুকতেই যেন মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। চারপাশটা অন্ধকার হয়ে আসছে, বাতাসে হালকা কাঁদুনি ভেসে বেড়াচ্ছে। রাইশার নিঃসঙ্গ মুখটা রবিনের মনে গভীর দাগ কাটল।
সে নিচু স্বরে বলল, কিন্তু কথাগুলো যেন আশেপাশের সবাই শুনে ফেলল
আমি আছি। আমি ওকে বিয়ে করে ওর দায়িত্ব নেব।
সবাই কিছুক্ষণ চুপ করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে এক বৃদ্ধ বললেন,
-ছেলে তো ভালোই মনে হইতেছে, যদি মন থেকে নিতে চায়, দোষ কী আছে!
মহিলারা মাথা নেড়ে বলল, এই মাইডার যদি একটা ঠাঁই হয়, তাতেই আমাদের শান্তি।
এদিকে রাইশার জ্ঞান ফিরেছে। চোখ খুলতেই রবিনকে দেখতে পেল পাশে। আর নিজেকে সামলাতে পারল না হাউমাউ করে কেঁদে উঠল সে। রবিন এগিয়ে এসে তার মাথায় হাত রেখে, মৃদু স্বরে বলল,
শান্ত হও, রাইশা। আমি আছি… তুমি একা নও।
বাইরে তখন রাত নামছে। জানাজার আয়োজন শেষ হয়েছে, আজানের ধ্বনি মিশে যাচ্ছে ঠান্ডা বাতাসে। চাঁদের আলোয় গ্রামটা নিস্তব্ধ।
রাত আটটার দিকে, যখন জানাজা শেষে সবাই কবরস্থান থেকে ফিরে এলো, রবিন গ্রামের ক’জন বয়োজ্যেষ্ঠকে ডেকে নিল। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,-
এই মেয়েটাকে আমি এখনই বিয়ে করতে চাই। ওর যেন আর নিঃসঙ্গতা না থাকে।
প্রথমে অনেকে চুপ রইল, তারপর ধীরে ধীরে সমর্থনের সুর উঠল চারপাশে। কেউ বলল, আল্লাহর রহমত, একটা আশ্রয় তো পাবে মাইডা।
আর রাইশা চুপচাপ বসে শুধু রবিনের দিকে তাকিয়ে রইল চোখ ভিজে যাচ্ছে, তবু কোথাও একটা নিরাপত্তার আলো জ্বলছে তাতে।
রাত তখন প্রায় বারোটার কাছাকাছি। আকাশের বুকে একফালি চাঁদ পূর্ব দিগন্তে একটু একটু করে ফেলে যাচ্ছে।
রবিন আর রাইশা দুজন হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে ।রাইশা অনবরত কান্না করেই যাচ্ছে। রাইশাকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা জানা নেই রবিনের।
- আমি এখন কাকে ঔষধ খাওয়াবো রবিন ? কার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে আসবো ? কলেজ থেকে গিয়ে কার মুখ দেখবো । মা কেন আমাকে এমন একা করে চলে গেল । এই পৃথিবীতে আমার আপন বলতে আর কেউ রইলো না রবিন কেউ না ।
-আমি আছি রাইশা তুমি কোন চিন্তা করো না।
-তোমার পরিবার কি আমাদের মেনে নেবে? বলো? আমার মতো এতিম মেয়েকে কেউ আপন করবে না রবিন দেখে নিও ।
-আপাতত একটা রিসোর্টে চলো আজকে আর বাড়ি যাওয়া যাবে না । কারন আজকে মেঘলা আর আকাশ ভাইয়ার বিয়ে ।
এই বলে তারা একটা রিসোর্টের দিকে চলে গেল।
-------------
রাত তখন প্রায় একটা ছুঁইছুঁই। চারদিকে নিস্তব্ধতা শুধু দূরে কোথাও রাতজাগা কুকুরের মাঝে মাঝে ডেকে ওঠার শব্দ। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা হালকা চাঁদের আলো ঘরের এক কোণে ছায়ার মতো পড়ে আছে। বিছানায় মুখ গুঁজে কাঁদতে কাঁদতে কখন যে মেঘলার চোখ লেগে এসেছে, সে নিজেও জানে না। ঘুমের ভেতরও যেন বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠছে দুঃখ, অভিমান আর ভয়ের মিশ্র অনুভূতিতে ভারী হয়ে আছে চারপাশের বাতাস।
হঠাৎ একটা অচেনা স্পর্শ! মেঘলার শরীরটা যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে উঠলো। চমকে উঠে লাফিয়ে বিছানা থেকে নামলো সে। চোখ কচলাতে কচলাতে চারপাশে তাকালো। নিস্তব্ধ ঘরটা যেন আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল তার দৃষ্টিতে। বাতাসের মৃদু হাওয়ায় পর্দাগুলো কাঁপছে, যেন কেউ সদ্য সেগুলো সরিয়েছে। টেবিলের ওপর রাখা বাতিটা কাঁপা কাঁপা আলো ফেলছে দেয়ালে, যেন ছায়াগুলো নড়ছে, বেঁচে উঠছে ধীরে ধীরে।
মেঘলার বুকের ভেতর ঢিপঢিপ শব্দ হচ্ছিল। সে সাবধানে এক পা এক পা করে জানালার দিকে এগিয়ে গেল, নিঃশ্বাস বন্ধ করে। বাইরে তাকিয়ে দেখলো চারদিক ফাঁকা কোথাও কেউ নেই।
তারপর নিজেই মনে মনে বলল,
-না, হয়তো ভ্রম... অতিরিক্ত ভাবনা থেকেই এসব হচ্ছে।
এই বলে আবার ঘুমাতে যাবে তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে দরজা খুলে দিলো ,আরাফিয়া দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে।
-এতো রাতে কেন এসেছো আপু?
-ওমা তুমি কি ভুলে গেছো আজ তোমার বিয়ে হয়েছে ।
বাসর করবে না ? তোমার বর মশাই তোমার জন্য সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছে ।
-সত্যি আপু আমি ভুলেই গিয়েছিলাম ।
- এখন চলো এই বলে আরাফিয়া মেঘলার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল আকাশের রুমের দিকে ।
মেঘলা বলল- আপু এটা তো আকাশ ভাইয়ার রুমে এখানে কেন নিয়ে এলে ?
- এই রুমেই তুমি আর তোমার বর মশাই থাকবে আজকে ।
বাড়িটা তখনও অন্ধকারে ডুবে আছে। যেন গভীর রাতের নিঃশ্বাসে থেমে আছে সময়। দূরে কোথাও থেকে শোনা যাচ্ছে রাতের ঝিঁঝিঁ পোকার একঘেয়ে ডাক। ঘরে কারেন্ট আসেনি এখনো, চারদিকে শুধু ছায়া আর নীরবতা। মাঝেমধ্যে জানালার ফাঁক দিয়ে হালকা বাতাস ঢুকে মোমবাতির শিখাটা দুলে উঠছে আলোর সাথে ছায়াও যেন নাচছে ঘরের দেয়ালে।
আরাফিয়া মেঘলার হাত ধরে সাবধানে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে চলে গেল।
মেঘলা কিছু বুঝে ওঠার আগেই, পেছন দিক থেকে হঠাৎ দুটো শক্ত, পুরুষালি হাত তার কোমর জাপটে ধরলো। মুহূর্তের মধ্যে মেঘলার সারা শরীর জমে গেল ভয়ে ও বিস্ময়ে। তার নিঃশ্বাস যেন বুকের ভেতর আটকে গেল।
ঘরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে খুব কাছে, একদম কানের পাশে, এক মোলায়েম অথচ খুনসুটিভরা কণ্ঠস্বর ফিসফিস করে উঠলো।
-"সারপ্রাইজটা কেমন দিলাম, মেঘলা রানী?"
মেঘলা হঠাৎ ঘুরে দাঁড়াতেই চোখ পড়লো সেই পরিচিত মুখে।
মোমবাতির আলোয় অর্ধেক ছায়ায় ঢাকা মুখটা যেন স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। চোখদুটোয় খেলার ছোঁয়া, ঠোঁটে চেনা সেই দুষ্টু হাসি।
মেঘলার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো। সে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
আ... আকাশ ভাইয়া আপনি?
এক মুহূর্তের জন্য নীরবতায় ছেয়ে গেল ঘরটা।
মোমবাতির আলোতে তাদের দু’জনের মুখ একদম কাছাকাছি।
-ভাইয়া নয় জান ডাকো বোকা মেয়ে।
-জান না ছাই , আমাকে এভাবে কাঁদালেন কেন ।
আকাশ মেঘলাকে নিজের বুকের দিকে টেনে নিলো যেন পৃথিবীর সবকিছু থেকে তাকে আড়াল করে রাখতে চায়। তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা মিশে গেল মেঘলার চুলের গন্ধে। মুহূর্তটা যেন নিঃশব্দে থমকে দাঁড়ালো।
আকাশ মেঘলার কানের কাছে মুখ নিয়ে নরম গলায় ফিসফিস করে বলল-“Are you ready to accept my love?”
মেঘলার চোখে তখন একরাশ লজ্জা, একটুখানি দুষ্টুমি। ঠোঁটের কোণে খেলা করছে এক চিলতে হাসি। ধীরে ধীরে সে মাথা নিচু করে মৃদু স্বরে বলল,
“হুম… ভাইয়া।”
এই বলে দুজনের মাঝে দূরত্বটা যেন মিলিয়ে গেল এক নিঃশ্বাসে। আকাশের বাহুতে জড়িয়ে পড়লো মেঘলা, তার মাথাটা ঠাঁই নিলো আকাশের কাঁধে। বাইরে তখন বাতাসে দুলছে রাতের নরম চাঁদের আলো, জানালার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছে এক মায়াবী আলোছায় যেন প্রকৃতিও সেই আলিঙ্গনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দে।
বেলা নয়টার দিকে মেঘলার ঘুম ভেঙ্গে গেল । ঘুম ভেঙ্গে নিজেকে আকাশের ঘরে দেখে চমকে উঠলো পরবর্তীতে রাতের কথা মনে পড়তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেলো ফর্সা গাল দুটো। কিন্তু আকাশকে কোথাও দেখলো না । মনে মনে ভাবলো হয়তো আরো আগেই উঠেছে । কিন্তু একটু পরে বাথরুম থেকে পানি পরার শব্দ শুনে নিশ্চিত হলো যে আকাশ ঘরেই আছে।
আস্তে আস্তে মেঘলাও গোসলের জন্য উঠে গেল ।
প্রায় ত্রিশ মিনিট পর আকাশ আর মেঘলা বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো। (কি শরম)
- জান পাখি আমার তুমি কখনো আমাকে ছেড়ে যেও না । প্রথম যেদিন তোমাকে দেখেছি সেদিন থেকে মন শুধু তুমি তুমি করছে । আর কোন কিছুতেই মন বসছে না । তোমাকে কাছে পাওয়ার বাসনা আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল। মাথায় শুধু একটাই চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগলো কি করে তোমাকে পাওয়া যায় । প্রথম আমি তোমার ভালোবাসা পরিক্ষা করলাম তুমি কি আমাকে ভালোবাসো কিনা । তারপর বাবাকে ডেকে তোমাকে চাইলাম তোমার বাবাও রাজি হয়ে গেলো । এরই মধ্যে মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি এল তোমাকে না জানিয়ে বিয়েটা করবো । জীবনে সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ দিবো তোমাকে।তাই বাড়ির সবাইকে বললাম যে তুমি যেন এই বিয়ের ব্যাপারে না জানো। তাই কেউ তোমাকে এই ব্যাপারে কিছু বলেনি।
আর আজকে রাতে যে কারেন্ট চলে গেল এটাও আমারই পরিকল্পনা । যাতে তুমি আমাকে দেখতে না পাও।
কথা বলতে বলতে আকাশ মেঘলার কোমর জড়িয়ে ধরলো।
-এই বয়সে মানুষ ম্যাচিউর হয় আর আপনি এমন বাচ্চামো করলেন কেন আকাশ.....
-উহু আর ভাইয়া ডাকবে না ।
-তো কি ডাকবো?
-জানো না?
-না আপনি শিখিয়ে দিন।
-ময়না , সোনা,জান পাখি,কলিজা ব্লাব্লা.....
দুজনই হাসছে। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
-কি যেন বলছিলে? এই বয়সে এসেও বাচ্চামো করছি?
জীবনে প্রথমবার কারো প্রেমে পড়েছে এই আকাশ ভুঁইয়া। বাচচামো তো করবেই। যার জীবনে প্রেম আসে সেই বোঝে । প্রেমে পড়লে মানুষ আর ম্যাচিউর থাকে না। তখন মানুষের কাজগুলো সব উল্টা পাল্টা হয়ে যায়।
চলো বাহিরে সবাই মনে হয় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
- অনেক বেলা হয়ে গেছে আজ আমাকে কলেজে যাওয়া মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট ছিলো কিন্তু.....
-কিন্ত শরীরে প্রচুর ব্যাথা তাইনা? আজকে আর তোমাকে যেতে হবে না কোথাও।
- ঠিক আছে আমি যাবো না । চলুন এবার বাহিরে।
এই বলে দুজন ঘরের দরজা খুলতেই আচমকা দু’জনের পা থমকে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে পুরো বাড়ির লোকজন আরাফিয়া আপু , বাবা, মা, বড়আব্বু ,বড়আম্মু চাচা চাচী,দাদী, এমনকি দোতলার বারান্দা থেকে কৌতূহলী মুখে উঁকি দিচ্ছে কাজের মেয়েরাও। মুহূর্তেই মেঘলার গাল লালচে হয়ে উঠলো।
আহেরজান বিবি এবার লাঠি ঠকঠক করে এগিয়ে এলেন। চোখে মুখে দুষ্টু হাসি, ঠোঁটে একরাশ খুনসুটি মেশানো স্নেহ।
-এই দিকেই আসো দাদুমনি, বাসর রাত কেমন কাটলো? কাল রাতে তো মুখ ভরা কান্না, গাল বেয়ে জল ঝরছিল নদীর মতো! আর আজ দেখি মিটমিট করে হাসছো কেন? কাল জামাই পছন্দ হয়নি, না কি এক রাতের মধ্যে আমার দাদুভাই এমন কোন জাদু করে ফেললো যে হাসি থামতেই চায় না? বলো না দাদুমনি, ঘটনা কি?”
আহেরজান বিবির কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।
আরাফিয়া বলল- আহা, দেখি দেখি, বউয়ের গাল টকটকে লাল!
আহেরজান বিবি আবার বলে উঠলেন দেখে তো মনে হচ্ছে দাদুভাই পরীক্ষায় ফুল মার্কস পেয়েছে!
মেঘলার মুখ এখন পাকা পেয়ারার মতো লাল হয়ে গিয়েছে। হাত-পা কোথায় রাখবে বুঝতে পারছে না। মাথায় ইয়া বড় একটা ঘোমটা টেনে মুখ ঢাকার বৃথা চেষ্টা করছে। কিন্তু ঘোমটার আড়াল থেকেও চোখের কোণে মৃদু লজ্জা আর হাসির ঝিলিক লুকিয়ে রাখতে পারছে না।
আকাশ তখন একপাশে দাঁড়িয়ে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে চুপচাপ সব দেখছে। মনে মনে ভাবছে এমন লজ্জা পেতে থাকা মেয়েটাকেই না সে সারারাত ধরে বারবার নিজের বুকে টেনেছে!