আকাশ আজ মেঘলা ভীষণ

পর্ব - ১৩

🟢

আকাশ এক মুহূর্তও দেরি করল না। কাঁপা কণ্ঠে পুলিশের নম্বরে ফোন করতেই দশ মিনিটের মধ্যেই সাইরেনের শব্দ ভেসে উঠল বাইরে।

দরজা খুলতেই দু’জন অফিসার দ্রুত ভেতরে ঢুকে পরিস্থিতি বুঝে সেই উন্মাদ মেয়েটিকে শক্ত করে ধরে নিয়ে গেল।

মেঘলার সারা শরীর তখনও কাঁপছে; হাত দুটো আকাশের হাত চেপে ধরে আছে।

পুলিশ চলে যেতেই আকাশ তার হাত ধরে বলল,

“চলো, বাড়ি যাই।”

বাসায় ফিরে…দুজন দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই গভীর নীরবতা তাদের গ্রাস করলো।

ঘরের বাতাস ঠান্ডা, সোফা-চেয়ার সব ঠিকঠাক কিন্তু কোথাও মানুষের কোনো শব্দ নেই। ঘরে যেন এক অদ্ভুত খালি অনুভূতি।

মেঘলা অবাক হয়ে চারদিকে তাকিয়ে বলল

-“বড়ো আব্বু… বড়ো আম্মু… আর আরাফিয়া আপু কেউ নেই কেন?”

আকাশ ধীরে ধীরে তার কাছে এসে দাঁড়াল বলল

-এখানে তুমি আর আমি থাকবো, জান।

বাবা-মা আর আরাফিয়া অন্য বাসায় চলে গেছে।

মেঘলার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।

-কিন্তু… কেন আপনি অন্য বাসা নিলেন?

আকাশ মৃদু নিঃশ্বাস ফেলে মেঘলার দু’হাত নিজের হাতে নিয়ে বললো -একই পরিবারে সবাই থাকলে মা-বাবা দু’জনই অফিসে যায়।

তুমি একা বাসায় থাকলে ছোটখাটো কাজ করতে বলতে পারে… আর তোমার এখন একটুও কষ্ট করা চলবে না।

তোমার জন্যই আলাদা বাসা নিয়েছি।

এখানে তুমি সারাদিন বেড রেস্টে থাকবে, তোমার কোনো কাজ করতে হবে না।

শুধু তুমি… আর আমাদের ছোট্ট অস্তিত্বটা সেফ থাকবে।

বলতে বলতে সে আলতো করে মেঘলার পেটে হাত বুলিয়ে দিল।

একটু থেমে আবার বলে উঠলো

-আমি চাই না তোমার… আর আমাদের এই ছোট্ট অস্তিত্বের কোনো ক্ষতি হোক।

তোমরা দুজন আমার পৃথিবী, জান পাখি।তোমাদের কিছু হলে আমি বাঁচবো না।

মেঘলা চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল

-এতো ভালোবাসলে… যদি একদিন হারিয়ে যাই?

এক মুহূর্তে আকাশের মুখ শক্ত হয়ে গেল।

সে মেঘলার মুখ দুই হাতে তুলে তার ঠোঁটে আঙুল রেখে বললো -এইসব কথা আর কখনো বলবে না, মেঘলা।

তুমি আমার জীবন।

আমি তোমাকে কখনো হারাতে দেব না।

তুমি সব সময় আমার পাশে থাকবে… ঠিক এখানে। এই বলে বুকের বাঁ পাশে হাত রাখলো।

তারপর সে ধীরে ধীরে মেঘলাকে নিজের দিকে টেনে নিল।

তার কপালে এক গভীর, নিশ্চিন্ত করা চুমু এঁকে বলল -

“চলো, বসো। তুমি খুব ক্লান্ত।”

মেঘলাকে সোফায় বসিয়ে নরম একটা বালিশ পিঠের পিছনে গুঁজে দিল।

তারপর নিজের হাত দিয়ে মেঘলার চুলগুলো ঠিক করে দিল।

নিঃশব্দে কিছুক্ষণ তাকে দেখার পর আকাশ বলল-আমি একটু রান্নাঘরে যাচ্ছি। তুমি নড়বে না, ঠিক আছে?

আজ থেকে তুমি শুধু বসে থাকবে… আর আমি সব সামলে নেব।

এ কথা বলে সে ধীরে ধীরে রান্নাঘরের দিকে হাঁটা দিল।

যেতে যেতে একবার ফিরে তাকাল।

মনে মনে বললো -তোমাকে আমি সারা জীবন আগলে রাখবো।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ রান্না শেষ করে ট্রে ভরে ভাত, ডাল, সবজি আর সামান্য মুরগির ঝোল নিয়ে ঘরে এলো।

ট্রেটা টেবিলে রেখে প্রথমেই মেঘলার দু’হাত ধরে আস্তে করে বলল

-চলো জান… আজ আমি তোমাকে নিজের হাতে খাওয়াবো।”

মেঘলা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল, গাল দুটো হালকা লাল হয়ে উঠল।

আকাশ নরম হাসি হেসে চামচে একটু ভাত-মুরগির ঝোল তুলে মেঘলার সামনে ধরল।

“মুখ খুলো…”

মেঘলা ধীরে মুখ খুলতেই সে খুব যত্ন করে খাবারটা খাইয়ে দিল।

চামচটা ঠোঁটে ছোঁয়ানোর সময় আকাশ যেন নিজের নিঃশ্বাসও সাবধানে আটকে রাখছিল একবারও যেন মেঘলা অস্বস্তি না পায়।

“আরো একটু নেবে?”

সে জিজ্ঞেস করতেই মেঘলা নীরবে মাথা হেলালো।

আকাশ আবার চামচে তুলে এনে খাওয়াতে লাগল।

মেঘলার গালে গরম ভাপ লেগে গেলে ফিসফিস করে বলল

“সরি, জান… গরম ছিল?”

মাঝে মাঝে মেঘলার চুলটা কানের পেছনে সরিয়ে দিচ্ছিল সে।

তার চোখ দুটো একদম মেঘলার ওপর নিবদ্ধ ছিল

যেন এই মুহূর্তে পৃথিবীর একমাত্র কাজ তার,

মেঘলাকে খাওয়ানো… তাকে আগলে রাখা।

শেষে এক গ্লাস গরম জল এগিয়ে দিয়ে বলল

“এইটা খেয়ে নাও। শরীর ভালো থাকবে।”

মেঘলা পুরো সময়টায় শুধু একটাই জিনিস টের পেলো

আকাশ তাকে শুধু খাইয়ে দিচ্ছে না,প্রতিটি চামচে তার প্রতি নিজের অচিন্তনীয় ভালোবাসাটা ঢেলে দিচ্ছে।

--------

দেখতে দেখতে কেটে গেল পুরো নয়টি মাস।

সময় যেন মেঘলার শরীরের ভেতর ধীরে ধীরে একটি নতুন পৃথিবী গড়ে তুলছে।

সেদিন ভোরে বিছানায় শোয়া অবস্থায়ই মেঘলার শরীরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল।

পেটের ভেতর টান ধরা ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।সব মিলিয়ে আজকের সকালটা অন্যরকম।

মেঘলা কাঁপা গলায় বলল-“আকাশ… আমার শরীরটা আজ খুব খারাপ লাগছে…”

আকাশ হঠাৎ চমকে উঠল।তার চোখের সামনে সব যেন ঝাপসা হয়ে গেল এক মুহূর্তের জন্য।একটুও দেরি না করে সে মেঘলাকে আলতো করে কোলে তুলে নিল।

যেন তার হাতের সামান্য কাঁপনেও শিশুটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

“চলো জান, এখনই হাসপাতালে যাই,”

এই বলে কোলে করেই হসপিটালে নিয়ে এলো ।

ডাক্তাররা দ্রুত মেঘলাকে চেকআপে নিয়ে গেলেন।

আকাশ বাইরে দাঁড়িয়ে ঘামতে লাগল, দু’হাত পেছনে জড়ানো।প্রতিটা সেকেন্ড যেন তার কানে বোমার মতো বাজছে।

বিজ্ঞাপন

কিছুক্ষণ পর ডাক্তার বের হয়ে গম্ভীর স্বরে বললেন-

“এখনই অপারেশন করতে হবে। একটুও দেরি করা যাবে না…নয়তো বাচ্চাটাকে বাঁচানো কঠিন হবে।”

আকাশের গোটা দুনিয়াটা যেন এক মুহূর্তে থেমে গেল।

সে শুধু মাথা নাড়ল… কোনো কথা বের হলো না।

স্ট্রেচারে শুয়ে মেঘলাকে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল,সে আকাশের হাত চেপে ধরল এত জোরে যেন ছেড়ে দিলে সে সমুদ্রে ডুবে যাবে।

“আকাশ… তুমি বাইরে থাকবে তো?

আমাকে ছেড়ে যেও না… প্লিজ…”

তার চোখ বেয়ে টপটপ করে অশ্রু পড়ছিল।

আকাশ তার মাথার কাছে ঝুঁকে কণ্ঠটা থরথর করে বলল

“আমি এখানেই আছি, জান পাখি…

শ্বাস নাও, চোখ বন্ধ করো… কিছু হবে না, আমি আছি।”

মেঘলা ভিডিও কল করতে বললো বাড়িতে

মা, বাবা, রাইশা, বড়ো আব্বু, বড়ো আম্মু

সবার মুখ স্ক্রিনে ভেসে উঠল।

সবাই কাঁদছে, কিন্তু শক্ত থাকার চেষ্টা করছে।

কাঁদতে কাঁদতে মেঘলা বলে উঠলো -

“দোয়া কোরো আমার জন্য,”

মেঘলা বলে উঠতেই ওদের চোখ ভিজে গেল।

স্ট্রেচারটা ভেতরে ঢুকে যাওয়ার সময় আকাশ নিজের হাত উঁচু করে শেষবারের মতো মেঘলার আঙুল ছুঁয়ে দিল।

অপারেশন থিয়েটারের লাল আলো জ্বলে উঠল।

আকাশ বাইরে বসে একদম নিস্তব্ধ চোখ দুটো দরজার ওপর স্থির, যেন নজর সরালেই বিপদ হবে।

আরাফিয়া এসে তার কাঁধে হাত রাখল।

রেখা বেগম আর আকাশের বাবা দৌড়ে এসে পৌঁছালেন।

হাসপাতাল করিডোর ভরে গেল উৎকণ্ঠায়, দোয়ায়, আর অলক্ষ্যে ঝরে পড়া কান্নার শব্দে।

এক ঘণ্টার দীর্ঘ, দমবন্ধ করা অপেক্ষার পর অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলে গেল।

একজন নার্স হাসিমুখে বেরিয়ে এসে বলল,

“অভিনন্দন! বাচ্চাটা ঠিক আছে। কিন্তু......

আরাফিয়া অবাক হয়ে চোখ বড় করে তাকাতেই

নার্স তার হাতে ছোট্ট, মোড়া সাদা কম্বলে জড়ানো শিশুটাকে দিয়ে গেল।

শিশুটি নরম গাল দুটো টলটলে গোলাপি, ছোট্ট মুঠি শক্ত করে চেপে আছে।

আরাফিয়ার চোখ ভিজে গেল আনন্দে।

সে বাচ্চাটাকে বুকে চেপে ধরে বলল“আল্লাহ… কী সুন্দর!”

আকাশ দৌড়ে এগিয়ে এসে বাচ্চার দিকে তাকাতেই

তার ঠোঁট কেঁপে উঠলো, চোখ ভিজে উঠল কাঁপা কাঁপা গলায় বলল-

“আমার… আমার সন্তান…”

কিন্তু পরক্ষণেই আকাশের মাথায় এক ঝটকা খেল।

মেঘলার এখন কি অবস্থা।

শিশুর কোমল মুখের দিকে তাকিয়েই হঠাৎ তার বুকের ভিতরটা ভেঙে পড়ল।

“মেঘলা কোথায়? মেঘলা কেমন আছে?”

হাতদুটো কাঁপতে শুরু করল।এক মুহূর্তও আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। ছুটে দৌড়ে গেল অপারেশন থিয়েটারের দিকে। করিডোরের সাদা আলো, জীবাণুনাশকের গন্ধ, ডাক্তার-নার্সদের তাড়াহুড়ো সবকিছুই যেন তার কানে বধির হয়ে গেল। হৃদপিণ্ডের প্রতিটা ধুকধুক শব্দ যেন পা থেকে রক্ত শুষে নিচ্ছিল।

আকাশ ওটির দরজার কাছে পৌঁছাতেই দরজাটা হালকা চাপা শব্দে খুলল।একজন নার্স ধীরে বেরিয়ে এল। আকাশ তার কাছে ছুটে গিয়ে শ্বাস কাঁপা গলায় বলল-

“মেঘলা কোথায়?সে ঠিক আছে তো?আমাকে তার কাছে নিয়ে যান… প্লিজ…”

নার্স প্রথমে মাথা নিচু করে রইল।তার চোখের কোণে একটা দীর্ঘশ্বাসের ভার জমে উঠল।ধীরে ধীরে সে মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকাল।

“সরি, মি. আকাশ…”

তার এই দুই শব্দই আকাশের বুকের ভেতর বরফের মতো ঢুকে গেল।

নার্স আবার বলল, গলাটা যেন ভারে আটকে আছে

“আমরা…

আমরা খুব চেষ্টা করেছি…

কিন্তু… আমরা মেঘলাকে বাঁচাতে পারিনি।”

সেই মুহূর্তে আকাশের চারপাশের পৃথিবী থেমে গেল।করিডোরের আলো নিভে এলো, দেয়ালগুলো কাঁপতে লাগল যেন।সে এক পা পিছিয়ে এসে দরজার ফ্রেম ধরে দাঁড়াল।শরীরটা যেন কারও ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে।।তার ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেছে। না কান্নায়, না ব্যথায়…বরং এক অসহ্য শূন্যতায়।

মেঘলার হাসি, তার নরম কণ্ঠ,তার হাতের উষ্ণতা সবকিছু একসাথে যেন বজ্রপাতের মতো মনে ভেসে উঠল।

“না… না… না…” আমি বিশ্বাস করি না!

আকাশ নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না।

তার বুকের ভিতরটা কেউ ছিঁড়ে ফেলছে যেন।

নার্স আস্তে বলল।-“উনি আপনাকে অনেক ডাকছিলেন… শেষ মুহূর্তে।”

এই বাক্যটা আকাশকে পুরোপুরি ভেঙে দিল। চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু করল

এক ফোটা অশ্রুও নামল না, কারণ ব্যথাটা এতটাই তীব্র যে অশ্রু বের হওয়ার পথও যেন বন্ধ হয়ে গেছে।

তার জীবন, তার শ্বাস, তার অস্তিত্ব সবসময় যে মেয়েটির জন্য ছিল…সে আর নেই।

আকাশ শুধু ফিসফিস করে বলতে লাগল -

“মেঘলা… তুমি আমাকে এভাবে একা রেখে চলে গেলে?”

----------------

রোজকার মতো আজও আকাশ দাঁড়িয়ে ছিল মেঘলার কবরের পাশে। সে একেবারে স্থির অচল, নীরব, হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া কোনো পাথরের মূর্তি। চারপাশে হালকা বাতাস বইছে, গাছের পাতা সেঁসেঁ শব্দ তুলছে, আর ডুবে যাওয়া সূর্যের কমলা আলো সাদামাটা মার্বেলের ওপর পড়ে এক ধরনের গভীর বিষণ্ণতার ছায়া তৈরি করেছে।

কবরের ওপর রাখা শুকনো গোলাপের পাপড়িগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়, কতদিন ধরে এখানে কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। পাপড়িগুলো নিস্তেজ, রঙহীন ঠিক আকাশের চোখের মতো। সে ধীরে ধীরে কবরের ফলকের দিকে তাকিয়ে আছে। সেখানে খোদাই করা নাম-মেঘলা - নামটা যেন তার হৃদয়ের একটি অংশ যা কবরের নিচে শুয়ে আছে।

মাঝে মাঝে তার দৃষ্টি কেঁপে ওঠছে, আবার কখনো দীর্ঘক্ষণ স্থির হয়ে আছে। মনে হয়, সে এখনো ঠিক বিশ্বাস করতে পারে না যে মেঘলা সত্যিই চলে গেছে। ঠান্ডা মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছে সেই মানুষটি, যার হাত ধরে জীবনের অর্ধেক পথ সে হেঁটেছিল।

এমন সময় পিছন থেকে ছোট দুটি পায়ের দৌড়ানোর শব্দ ভেসে এল। আকাশ ধীরে ধীরে পিছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পেল তার পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে তাকে ডাকছে।

“বাবা…”

শিশুটির কণ্ঠে ছিল ক্লান্তি, অভিমান আর সরল মায়া। মেয়েটি দৌড়ে এসে আকাশের হাত ধরে ফেলল। চুল এলোমেলো, চোখে মেঘলার মতো কোমলতা একদম নির্ভেজাল শিশুসুলভ আকুলতা।

সে বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে বলল,

“বাড়ি চলো বাবা… আমার খুব খিদে পেয়েছে। চলো, তুমি রান্না করবে।”

কথাগুলো এমন সরল, এমন স্বাভাবিক কিন্তু আকাশের বুকের ভেতর কেমন যেন হু হু করে উঠল। কিছুক্ষণ আগেও সে সম্পূর্ণ একাকী ছিল, ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে ছিল মেঘলার স্মৃতির সামনে। আর সেই গভীর শূন্যতার মাঝেই ছোট্ট এই হাতটি যেন তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনলো।

আকাশ নিচে তাকাল। ছোট্ট হাতটি তার বড় হাতকে শক্ত করে ধরে আছে ঠিক যেমন করে মেঘলা একসময় তাকে টেনে জীবনে ফিরিয়ে আনত। মুহূর্তেই তার মনটা নরম হয়ে গেল; শোকের মাঝে হালকা একটা উষ্ণতা জেগে উঠল।

আকাশ ধীরে মাথা নাড়ল এবং মেয়েটার হাতটা আরও শক্ত করে ধরল। তারপর কবরের দিকে শেষবার তাকিয়ে নিঃশব্দে বলল,

“চললাম, মেঘলা… তোমাকে ছাড়া‌ এই আকাশ ভালো নেই। আকাশের মনে মেঘ জমেছে ভীষণ।

ছোট্ট মেয়েটি বাবাকে টেনে নিয়ে হাঁটা শুরু করল। আকাশও তার পিছু পিছু হাঁটতে লাগল কবরের নিস্তব্ধতা ছেড়ে বাড়ির দিকে।

বিজ্ঞাপন
আকাশ আজ মেঘলা ভীষণ গল্পটি আজেরিন হিরানুর-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্প