-আজিজুল তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে। আমি তোর কাছে একটা জিনিস চাইবো ।
বাগানের গাছগুলোতে পানি দিচ্ছেন আজিজুল ভুঁইয়া, তখনই আফজাল ভুঁইয়া সেখানে গিয়ে কথাগুলো বললেন।
আজিজুল পানির পাত্রটা নিচে রেখে বললো ভাইজান চলুন আমরা ঐ মাচায় গিয়ে বসি । দুজনে একসাথে মাচায় এসে বসলো ।
- আসলে আমি বলতে চাই তোর ছোট মেয়েকে আমি আমার ছেলে আকাশের বউ করে নিয়ে যাবো।তোর ছোট মেয়েকে কি আমার ছেলের হাতে তুলে দিবি ।
আজিজুল ভুঁইয়া খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলল- এটা খুবই ভালো কথা ভাই । আপনার ছেলের সাথে আমার মেঘলা মাকে বিয়ে দিলে আমাদের সম্পর্ক আরো মজবুত হবে । কিন্তু মেঘলা কি রাজি হবে আকাশকে বিয়ে করার জন্য।
- তুই একবার বলে দেখতে পারিস , রাজি হলে হবে না হলে জোর জবরদস্তি করার কোন প্রয়োজন নেই।
এই বলে তারা বাগানে ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো।
তখন সকাল দশটা।
ভুঁইয়া বাড়িতে সবাই সকালের খাবার খেতে বসেছে।
মেঘলা অনেক সকালে না খেয়েই কলেজে গিয়েছে।
আকাশও সকাল থেকে কিছুই খায়নি । তার মনের মধ্যে একটাই চিন্তা হচ্ছে বাবা কি আমার কথা রাখবেন?্
সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আফজাল ভুঁইয়া বলে উঠলো - আজকে সবার উদ্দেশে একটা কথা বলবো।
মেঘলার ফুফি বললো হুম ভাইজান বলেন আমরা তো একটু পরে মেয়ে দেখতে যাওয়ার জন্য রওনা দেবো ।
আফজাল ভুঁইয়া কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে বসে থেকে বলল- আমরা কোথাও মেয়ে দেখতে যাবো না । মেয়ে আমাদের বাড়িতে রেখে আমরা কেন দুরের যাবো মেয়ে দেখতে।
সেখানে উপস্থিত সবাই আফজাল ভুঁইয়ার দিকে অবাক হয়ে তাকালো ।
মনোয়ারা বেগম আগেই বুঝতে পেরেছে যে মেঘলার কথায় বলছে । কিন্তু সে চুপ করে আছে।
রেখা বেগম বলল- তুমি আসলে কি বলতে চাচ্ছো মেয়ে বাড়িতে আছে মানে?! কোন মেয়ের কথা বলছো তুমি?
আফজাল ভুঁইয়া একটু পানি খেয়ে নিয়ে বললো - আমি আমাদের মেঘলা মামনির কথা বলছি ।
রেখা বেগম বলল- এটা কি করে সম্ভব ? মেঘলার তো আর কয়েক দিন পর এক্সাম । আর আমার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে তো বউ এখানে রেখে যাবো না । আমরা বউমা নিয়েই আমেরিকা চলে যাবো ।তাহলে ওর এক্সাম এর কি হবে ।
আজিজুল ভুঁইয়া বললো - ভাইজান ভাবি তো ঠিক কথাই বলেছে । আমি এটা তো ভেবে দেখিনি ।মেঘলার তো আর কয়েক দিন পরই এক্সাম। তাহলে কিভাবে বিয়েটা হবে ?
এক লোকমা খাবার মুখে দিয়ে আকাশ বলল- তোমাদের কোন চিন্তা করতে হবে না মেঘলাকে আমি আমার কলেজে ভর্তি করাবো । এটা একটা সিম্পল ব্যাপার । জটিল কোন ব্যাপার থাকলে সেটা বলতে পারো।
মনোয়ারা বেগম বলল- আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে তুমি ওখানকার ভার্সিটির টিচার। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি যে মেয়েটা শশুর বাড়ী চলে যাবে এটা ভেবে তো আমার খুব টেনশন হচ্ছে বাবা । ওকে আমি এখনো ভাত তুলে না খাওয়ালে ও খায় না । আর মেয়েটা শশুর বাড়ী গিয়ে কিভাবে সব সামলে নিবে ।
- চিন্তা করতে হবে না চাচি আপনার মেয়েকে সামলে নেওয়ার দায়িত্ব আমার ওপরই ছেড়ে দিন । আমি সামলে নিবো মেঘলাকে।
মনোয়ারা বেগম আকাশের প্লেটে খাবার দিতে দিতে বলল - বাবা আমি মেঘলার সাথে কথা বলে দেখি ও যদি রাজি থাকে তাহলে আজকেই ঘরোয়া ভাবেই বিয়েটা সম্পন্ন হবে । আর মেঘলা যদি না বলে দেয় তাহলে তুমি ওর চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিও বাবা ।
মনোয়ারা বেগমের কথায় সবাই সম্মতি জানালো।
আকাশ মনে মনে মুচকি হেসে বলল -আপনার মেয়ের মনে আমার নামের বসন্তের হাওয়া বইছে, চাচি…
তার চোখে তখন এক ধরনের নিশ্চিন্ত দৃষ্টি, যেন সবকিছু আগেই বুঝে ফেলেছে। আকাশের বুকের ভেতরটা কেমন উষ্ণ হয়ে উঠছে মেঘলার চোখে দেখা সেই দিশাহারা লজ্জা, থরথরানো নিঃশ্বাস, ঠোঁটের কোণে আটকে থাকা বাক্যহীন উত্তেজনা সব যেন তাকে কোনো অদৃশ্য দৃঢ়তায় ভরিয়ে দিচ্ছে।
সে মনে মনে আবারও বলল-আপনার মেয়ের হৃদয়ে আমার নামটাই এখন ঋতু পরিবর্তনের কারণ, চাচি। তার চোখের কাঁপন, তার অদ্ভুত অস্থিরতা… সবই তো বলে দিচ্ছে তার মনে বসন্ত এসে গেছে। আর সেই বসন্ত আমি… শুধু আমি।
আকাশের হৃদয়টা কেঁপে উঠলো গোপন আনন্দ আর উ"ত্তে"জনা"য়।
খাওয়া শেষে যে যার মতো উঠে গেল ।
_______
"সুন্দরী চলেছে একা পথে.....
সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে .........."
- আমি আপনাকে নিষেধ করে দিয়েছি না । রাস্তাঘাটে এরকম বিরক্ত করবেন না আমায় । তারপরেও কেন এমন করেন বাড়িতে কি মা - বোন নাই ?
আজকে একটা খবর শুনলাম আপনার বোন মেঘলা আছে না ওকে নাকি একদল লোক এসে তুলে নিয়ে গেছে খামারবাড়ির দিকে।
-কি বললে তুমি ?
রবিনের চোখ দিয়ে মনে হচ্ছে আগুন বের হবে এমন অবস্থা। নিজের বোনের অপহরণের কথা শুনে কেউ ঠিক থাকতে পারবে না ।
রাইশা বললো - জ্বি মি. রবিন । আমি ঠিক বলেছি ।
- ওরা মেঘলাকে কখন নিয়ে গেছে । শালা শু'য়ো"রে"র বাচ্চাদের আজ কি বেহাল দশা করবো তা ওরা নিজেও টের পাবে না । আমার বোনের সাথে লাগতে আসছে কেন । ওরা কি জানেনা মেঘলা রবিনের বোন।
-জানলে কি করবেন ?
-ওদের অন্তরে কি এতোটুকুও ভয় হলো না যে তারা রবিনের বোনের ওপর হামলা করলে এর ফল কি হতে পারে? একেক জনের ক'লি'জা বে'র করে ভু'না করে কু'কু'রকে খাওয়াবো ।
- এতো উ'ত্তে'জি'ত হচ্ছেন কেন রবিন? চলুন না আমরা ওদিকটায় গিয়ে বসি?
- আমার বোনকে ওদের হাত থেকে রক্ষা না করা পর্যন্ত আমি বসবো না রাইশা তুমি আজকে চলে যাও ।
-কিন্ত রবিন আমার যে ভীষণ প্রেম প্রেম ফিল হচ্ছে । চলুন না একটু গল্প করি । আর আজকে একটা সারপ্রাইজ দিবো । যেটা আপনি আমার থেকে রোজ রোজ চাইতেন।
- আমাকে যেতে দাও রাইশা, আমার বোনকে না জানি ওরা এখন কি করছে। প্লিজ আমাকে যেতে দাও । কালকে আমি তোমার সব কথা শুনব । আজকে আমাকে যেতে হবে প্লিজ আর না কারো না ।
রাইশা এবার হিহি করে হেসে উঠলো।
-আপনার বোনের কিছু হয় নি রবিন , আমি আপনাকে মিথ্যা কথা বলছি।
রাইশার কথা শেষ না হতেই গালে সজোরে পর পর দুইটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল রবিন।
কেন মিথ্যা বললে আমার বোনকে নিয়ে বলো? আসলে থার্ড ক্লাস মেয়েরা এরকমই হয়।
রাইশা এবার চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলো না । তেড়ে এসে রবিনের শার্ট এর কলার ধরে বললো - আমি থার্ড ক্লাস? আমি যদি থার্ড ক্লাসই হই তাহলে এক বছর ধরে আমার পেছনে পেছনে ঘুরছেন কেন আপনি বলুন?